সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৮টি পাচ্ছে আওয়ামী লীগ, জাপা ২টি

অনলাইন ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসন বণ্টনের হিসাবে স্বতন্ত্র ৬২ জন সংসদ সদস্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ৫০ সংরক্ষিত আসনের মধ্যে সব মিলিয়ে পাচ্ছে ৪৮টি। আর বাকি দুটি পাবে জাতীয় পার্টি।

আজ বুধবার (৩১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের ১৪ দলীয় শরিক ও স্বতন্ত্র এমপিদের সমর্থন-সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দ্বাদশ সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের নেতৃত্বে একদল প্রতিনিধি ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের কাছে চিঠি হস্তান্তর করেন।




প্রথমবার সংসদ অধিবেশনে ফেরদৌস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন চিত্রনায়ক ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ। গতকাল (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় সংসদ অধিবশেন শুরু হয়েছে।

অন্যান্য সংসদ সদস্যদেরর সঙ্গে ফেরদৌস আহমেদও প্রথম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সংসদের অধিবেশ কক্ষে গিয়ে সেলফি তুলে তা তার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। ফেরদৌস ছবি পোস্ট করে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। এতে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ সকল ভালোবাসার মানুষের দোয়া চাই।’

নায়ক ফেরদৌস আহমেদ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন তিনি।

ফেরদৌস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে নাম লেখান ঢাকাই চলচ্চিত্রে। প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টির’ কল্যাণে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি। এরপর অভিনয় করেছেন দুই বাংলার অনেক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সোমবার লন্ডনে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। এদিকে পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ছদ্মবেশী ইসরাইলি সেনারা।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া প্রশ্নে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সোমবারের বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতমুখর পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির ন্যায্যতা, নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ইসরাইলের ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। মন্ত্রী জানান, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘেও ভূমিকা রাখবে ব্রিটেন ও তার মিত্ররা। অনুষ্ঠানে ক্যামেরন বলেন, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেব এবং এ ইস্যুকে আরও গতিশীল করতে জাতিসংঘেও কাজ করব। আমাদের মিত্ররা এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বলে আশা করছি। কারণ, যদি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতিকে নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে গত কয়েক দশকের অপেক্ষা শেষ হওয়ার পথ সুগম হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে আরব লীগের সম্মেলনে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং সেই রাষ্ট্রের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে স্বীকৃতি দেয় আরব লীগ। ১৯৬৬ সাল থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে আন্দোলন করে আসা গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত জোট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) শুরুর দিকে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেয়; তবে ১৯৮২ সালে ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ বা ইসরাইলের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও মেনে নেয় পিএ। এই প্রক্রিয়া অবশ্য শুরু হয় গত শতকের ষাটের দশক থেকেই। ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল দুই রাষ্ট্রের সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরাইল কখনো দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি, উপরন্তু প্রায় নিয়মিত প্রস্তাবিত সীমানা লঙ্ঘন করে নিজেদের রাষ্ট্রের সীমানা বৃদ্ধি করে চলেছে।

ক্যামেরন বলেন, নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ফিলিস্তিনের জনগণ যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে পরিণত হয়েছে। এখন একে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া তাদের এই আন্দোলন ন্যায্য এবং ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য আন্দোলনকে সমর্থন দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর দীর্ঘ ঐতিহ্য আমাদের রয়েছে। তাছাড়া আরও কারণ রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কেবল একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদেরও বিদায় ঘণ্টা বাজাবে। আমাদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি কারণ হলো আমরা ঐ অঞ্চল থেকে সন্ত্রাসবাদ স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে চাই। এই অঞ্চলটিকে আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা প্রয়োজন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ব্যাপারটি সহজ করবে। বর্তমানে সেখানে যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, অস্থায়ী বিরতি তার কোনো সমাধান নয়। সেখানে প্রয়োজন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। বক্তব্যে ইসরাইলেরও কঠোর সমালোচনা করেন ক্যামেরন। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল হয়তো তার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছে, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পেরেছে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনীও গড়ে তুলেছে; কিন্তু নাগরিকদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা এবং ইসরাইলের গত কয়েক দশকের ইতিহাস মূলত এই ব্যর্থতার ইতিহাস। বর্তমানে গাজায় মানবিক বিরতির আলোচনা চলছে। আমরা মনে করি, এই আলোচনা সফল হওয়ার ওপর আসলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বাস্তবায়ন অনেকাংশ নির্ভর করছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ছদ্মবেশে তিন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের একটি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহতদের একজন একটি আসন্ন হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এবং অপর দুজন ইসরাইলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত ছিল।




এ সংসদ নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না: জিএম কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সংসদ সদস্যের সংখ্যার বিচারে বর্তমান সংসদে ভারসাম্য রক্ষা হয়নি- এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।

তিনি বলেন, ‘আসন সংখ্যার বিচারে এবার সংসদে ৭৫ শতাংশই সরকার দলের। স্বতন্ত্র ২১ শতাংশ। তারাও প্রায় সরকারদলীয়। ৩ থেকে ৪ শতাংশ শুধু বিরোধীদলীয় সদস্য। এ সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এ সংসদ কখনো নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না।’

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথমদিনে স্পিকার নির্বাচনের পর নতুন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

জি এম কাদের ১৯৯৬ সাল থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্পিকারের দায়িত্ব প্রশ্নে জি এম কাদের বলেন, ‘তারা দলীয় আনুগত্যে স্পিকার হলেও বাহ্যিকভাবে চেষ্টা করতেন নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করার। আমি আপনার কাছে প্রত্যাশা করছি আপনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন।’

স্পিকারের ডান দিকে সরকার দলের আসন এবং বাম পাশে বিরোধী দলের আসন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দুপক্ষই সামান হবে। একটা হলো সরকারি দল, আরেকটা হলো বিপক্ষ। তারা সংখ্যায়ও কাছাকাছি থাকবে। তাহলে তাদের মধ্যে সমানে সমানে লড়াই হবে, নিজেদের মতামতকে প্রধান্য দিয়ে তর্ক-বিতর্ক, ঝগড়াঝাটি হবে। সংসদে জনগণের পক্ষে সিদ্ধান্ত হবে। এটাই ছিল সংসদ তৈরি করার উদ্দেশ্য।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘জাতীয় সংসদ দলমত সবার মিলনস্থল। সেখানে সরকারি দল এক পক্ষ, সরকারের বিপরীত দল আরেক পক্ষ। নির্বাচন পরবর্তী আসন সংখ্যায় ৭৫ শতাংশই সরকার দলের। ২১ শতাংশ স্বতন্ত্র। তারাও প্রায় সরকার দলীয়। ৩ থেকে ৪ শতাংশ শুধু বিরোধী দলীয় সদস্য। এখানে আসন বণ্টনে ভারসাম্যের.. যতই সিমিট্রিক্যাল হলেও আসন বণ্টন সিমিট্রিক্যালের অভাব হয়েছে। তাই এটাকে সম্পূর্ণভাবে সুন্দর বলা যাবে না।’

লাল ও সবুজের জাতীয় পতাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধু লাল নয়, শুধু সবুজ নয়। যদি সরকারি দলকে লাল বলি তাহলে এ সংসদ সম্পূর্ণ লালময়। সবুজটা শুধু ছিটেফোঁটা। এ সংসদে সম্পূর্ণ জাতিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। বর্তমান সংসদ জাতিকে কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে তা আশঙ্কার বিষয়। ভালোভাবে বললে বলতে হবে বিতর্কের বিষয়। দুই অংশের কর্মকাণ্ডের ব্যবধান কমাতে পারলে- অর্থ্যাৎ সরকার ও বিরোধীদের সংসদ কর্মকাণ্ডের ব্যবধান কমাতে পারলে- যতটা কমবে ততুটুক সংসদ কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।’

জিএম কাদের বলেন, ‘এ আশঙ্কা অবাস্তব নয়, যদি বলি এ সংসদ কখনো নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না। সরকার বিরোধীরা যতবেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে বা করবেন, ততটুকু হবে।’

এসময় সংসদকে কার্যকর ভূমিকায় পরিচালিত করতে কিছু দাবি তুলে ধরেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘বিরোধীদের মতামতকে সংসদে তোলার সুযোগ দেবেন। সংসদের ভারসাম্যের ত্রুটি কমানোর প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত রাখবো।’ তাই স্পিকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।




দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ঘটনাবহুল প্রথম দিন

অনলাইন ডেস্ক : বিদায়ী সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচন করা হয়। স্পিকার পদে শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চিফ হুইপ নূর–ই–আলম চৌধুরী এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা দেন স্পিকারের আসনে থাকা শামসুল হক টুকু।

এরপর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। এ সময় সংসদ ভবনের ৭ তলায় রাষ্ট্রপতির কক্ষে স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আবারও অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ডা. দীপু মনি এবং বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদের।

পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদের নির্বাচন হয়। বিদায়ী সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক এবারও এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য এবি তাজুল ইসলাম ডেপুটি স্পিকার পদে শামসুল হকের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের মকবুল হোসেন ওই প্রস্তাব সমর্থন করেন। অন্য কোনো মনোনীত প্রার্থী না থাকায় স্পিকার কণ্ঠভোটে টুকুকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

এরপরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য ৫ সদস্যদের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করা হয়। তাঁরা হলেন—এবি তাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, আ ফ ম রুহুল হক, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, উম্মে কুলসুম। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নামের অগ্রবর্তিতা অনুসারে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা সংসদের বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন।

এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাবটি পেশ করেন। শোক প্রস্তাবে কুয়েতের আমির শেখ নাওয়াফ আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য ড. মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

পরে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর ভাষণের পর সংসদের অধিবেশন আগামী রোববার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। দেশের বিশিষ্টজন ও ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা সংসদে উপস্থিত হয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।




পৌরসভা নির্বাচন: পটুয়াখালীতে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের লড়াই

বরিশাল অফিস :: এখনো রেশ রয়ে গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। তার মধ্যে ২৪ জানুয়ারি বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই ঘোষণার পরপরই পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদপ্রত্যাশীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন এই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হলেও পৌরসভায় তা হবে। বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এদিকে আন্দোলনে থাকা বিএনপি কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অনড়।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান ও সাবেক মেয়র ছাড়া আরও দুজন মেয়র প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জানান দেওয়ার পাশাপাশি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন।

পটুয়াখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। ২০১৯ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সেই সময় দল থেকে বহিষ্কার করলেও নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে তিনি মেয়র হন। তফসিল ঘোষণার পরপরই দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হওয়ার লক্ষ্যে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, ‘গত ৫ বছরে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি। বাংলাদেশের কোনো পৌরসভায় এত কাজ হয়নি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ছোঁয়া মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। আশা করি, আগামী ৯ মার্চ আমাকে সাধারণ মানুষ ভোট দেবেন।’

মহিউদ্দিনকে ঠেকাতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। ২০১১ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেননি। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে নামলেও শেষ পর্যায়ে কাজী আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান।

শফিকুল বলেন, ‘বর্তমান পৌরসভার উন্নয়নের অধিকাংশই আমার সময়ে রেখে যাওয়া কাজ। বর্তমান মেয়র আসার পরে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ নানা জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু কোনো সত্যতা পায়নি। আগের ভুল শুধরে কাজ করতে চাই। এবং মানুষ আমাকে চাইছে।’

ভোটের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী মো. এনায়েত হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, এবার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হলে এবং ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে মহিউদ্দিন আবারও মেয়র হবেন। তবে ক্ষমতাসীন দল যদি কাউকে সমর্থন করে, সে ক্ষেত্রে তাঁকে ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে পারে। তখন শফিকুল বাড়তি সুবিধা পাবেন। তবে দলীয়ভাবে কাউকে সমর্থন না দিলে অধিকাংশ নেতা-কর্মী মহিউদ্দিনের সঙ্গে থাকবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কাউকে সমর্থন জানানোর নির্দেশনা পাইনি। যদি কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয় তাহলে জানাব।’

ভোটের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশ সরকার কুট্টি বলেন, ‘আমরা এখনো এক দফা আন্দোলনে আছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না।’




পিরোজপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির কুড়িয়ানা বাজারে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদারকে (৫৫) হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যানের মদদে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ক্রীড়ানুষ্ঠানে অতিথি হওয়াকে কেন্দ্র করে মতবিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান।

এ ঘটনায় স্বাধীন হালদার নামে একজনকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম সরোয়ার। তিনি বলেন, ‌‘ক্রীড়ানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ ছাড়াও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার ও নিহত সাবেক চেয়ারম্যান শেখর সিকদারের মধ্যে কোন্দল ছিল। বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় থেকেই এই কোন্দল শুরু হয়। আটক স্বাধীন হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা করা হবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, নিহত শেখর কুমার সিকদার কুড়িয়ানা সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় কুড়িয়ার বাজারের রাস্তায় একদল যুবক শেখরের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে বেদম মারধর করে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলটির ক্রীড়ানুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় স্কুল-কলেজ ও বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।




বরিশালে ‘কালো পতাকা’ মিছিল করেনি বিএনপি

বরিশাল অফিস :: পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পূর্ব ঘোষিত দলীয় কার্যালয় থেকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা কালো পতাকা মিছিল বের করেননি।

বিএনপির নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনের পূর্বে মঙ্গলবার ভোর থেকে দলীয় কার্যালয় ও তার পাশ্ববর্তী এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এমনকি তাদের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে গ্রেপ্তার এড়াতে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোঃ ফজলুল করিম জানান, কোনো রকম বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।




পটুয়াখালীতে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের লড়াই, পৌরসভা নির্বাচন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: এখনো রেশ রয়ে গেছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। তার মধ্যে ২৪ জানুয়ারি বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই ঘোষণার পরপরই পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদপ্রত্যাশীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন এই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক না হলেও পৌরসভায় তা হবে। বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এদিকে আন্দোলনে থাকা বিএনপি কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অনড়।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বর্তমান ও সাবেক মেয়র ছাড়া আরও দুজন মেয়র প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়েছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের জানান দেওয়ার পাশাপাশি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করছেন।

পটুয়াখালী পৌরসভার বর্তমান মেয়র শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। ২০১৯ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। সেই সময় দল থেকে বহিষ্কার করলেও নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে বিপুল ভোটে হারিয়ে তিনি মেয়র হন। তফসিল ঘোষণার পরপরই দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হওয়ার লক্ষ্যে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন তিনি।

এ বিষয়ে মহিউদ্দিন বলেন, ‘গত ৫ বছরে আমি নিরলসভাবে কাজ করেছি। বাংলাদেশের কোনো পৌরসভায় এত কাজ হয়নি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ছোঁয়া মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি।
আশা করি, আগামী ৯ মার্চ আমাকে সাধারণ মানুষ ভোট দেবেন।’

মহিউদ্দিনকে ঠেকাতে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলাম। ২০১১ সালে বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেননি। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে নামলেও শেষ পর্যায়ে কাজী আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে তিনি সরে দাঁড়ান।

শফিকুল বলেন, ‘বর্তমান পৌরসভার উন্নয়নের অধিকাংশই আমার সময়ে রেখে যাওয়া কাজ। বর্তমান মেয়র আসার পরে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ নানা জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু কোনো সত্যতা পায়নি। আগের ভুল শুধরে কাজ করতে চাই। এবং মানুষ আমাকে চাইছে।’

ভোটের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী মো. এনায়েত হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, এবার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হলে এবং ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে মহিউদ্দিন আবারও মেয়র হবেন। তবে ক্ষমতাসীন দল যদি কাউকে সমর্থন করে, সে ক্ষেত্রে তাঁকে ঠেকাতে জেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষ ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে পারে। তখন শফিকুল বাড়তি সুবিধা পাবেন। তবে দলীয়ভাবে কাউকে সমর্থন না দিলে অধিকাংশ নেতা-কর্মী মহিউদ্দিনের সঙ্গে থাকবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কাউকে সমর্থন জানানোর নির্দেশনা পাইনি। যদি কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেয় তাহলে জানাব।’

ভোটের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশ সরকার কুট্টি বলেন, ‘আমরা এখনো এক দফা আন্দোলনে আছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনে অংশ নেব না।’




মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলায় আগে পঙ্কজের, এখন শাম্মী সমর্থকরা আক্রান্ত

বরিশাল অফিস ::আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধে হানাহানির কারণে আলোচিত বরিশালের দুই উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা। সেখানকার সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের পক্ষ-বিপক্ষ ঘিরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ২০১৬ সালে সংঘাতের সূচনা। এর জেরে পঙ্কজ দলীয় পদ হারান এবং মনোনয়নবঞ্চিত হন। এবার স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে বিরোধীদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত থামছে না দুই উপজেলায়। মেঘনাতীরে মাছঘাটের দখল-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব ঘটনা ঘটছে। ঘাট দখলে থাকলে অবৈধভাবে আয় হয় কোটি কোটি টাকা।

ভোটে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদকে নৌকার প্রার্থী ঘোষণার পর (পরে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল) পঙ্কজ সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর এবং দখল করে বিরোধীরা। ভোটের পর একই অভিযোগ উঠেছে পঙ্কজ সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সবশেষ রোববার হিজলার গৌরবদী ইউনিয়নে সংঘর্ষ হয়।

রোববার রাতে হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দাবাজারে পঙ্কজবিরোধী গ্রুপের মিরাজ সরদার ও ইউসুফ মিয়াকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ। ভাঙচুর করা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মাঝির দোকান। হামলাকারী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ফখরুল বেপারি, জসিম সিকদার, কাশেম হাওলাদার, চান শরিফ পঙ্কজ এমপির অনুসারী বলে জানা গেছে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মোজাম্মেল বেপারি, হোসেন মাঝি, হানিফ হাওলাদার ও রুবেল মাঝিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত সপ্তাহে একই ইউনিয়নের খালিসপুর, ওরাকুল ও গঙ্গাচরণে তিনটি মাছঘাটের পাশে নতুন ঘাট স্থাপন করেছেন পঙ্কজ সমর্থক হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হাওলাদার ও ফখরুল বেপারি। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ধুলখোলা ইউনিয়নের মাইট্টালায় হামলা করে একটি মাছঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নেতৃত্ব দেন আমির সরদার। আহত হন অন্তত পাঁচজন।

পঙ্কজবিরোধী হিসেবে পরিচিত হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বেপারি বলেন, ১১ জানুয়ারি থেকে নৌকার কর্মীদের ওপর হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করছে এমপির লোকজন। মাছঘাট দখলের ঘটনায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ নেয়নি।

পঙ্কজ সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বেপারি বলেন, কারও মাছঘাট দখল হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে পাঁচটি নতুন ঘাট করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পঙ্কজবিরোধী আরেক নেতা হিজলার গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, তিনি বর্তমানে এলাকায় নেই, তবে ঘটনাগুলো জানেন। গত শনিবার হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে হামলায় আহত হন চারজন। আহত ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ওপর পঙ্কজ সমর্থক সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মাতুব্বরের অনুসারীরা হামলা করেছে।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, তিনি হামলার কথা শুনেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা দীপু সিকদার (পঙ্কজবিরোধী) ঝামেলা করেছেন। দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এমপিকে গালাগাল করা হয়। তিনি দাবি করেন, গোটা উপজেলায় কোনো মাছঘাট দখলের ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া ২৫ জানুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার চরহোগলা এলাকায় বাসায় ঢুকে সৌরভ দাস নামে পঙ্কজবিরোধী কর্মীকে পাইপ দিয়ে পেটানো হয়।

সোমবার মেহেন্দীগঞ্জে মতবিনিময় সভা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় রোববার পর্যন্ত হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে ১৫টি মামলা হয়েছে। বরিশালের অপর আট উপজেলা মিলিয়েও এত মামলা হয়নি। দুই উপজেলায় কিছু মানুষ খুব হিংস্র। তারা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে সহিংসতা ছড়ায়। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এমপি পঙ্কজ নাথ বলেন, গৌরবদী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন মেঘনাতীরে ২৪টি মাছঘাট স্থাপন করে মেঘনা নিয়ন্ত্রণ করছেন। জাটকা নিধন করে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করছেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও চরের মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এসব কাজে বাধা দিলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা চালান। যা ঘটেছে সব নাটক।

মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলার চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী ইলিশের অভয়াশ্রম। তীরে গড়ে ওঠা মাছঘাটে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। চরে আছে নানামুখী বাণিজ্য। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাছঘাট ও চরের বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক হন। এভাবে অর্থের জোরে হন জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। পঙ্কজবিরোধী অংশটি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।