অতি দ্রুত শেখ হাসিনাকে এনে রায় কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম  বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।

নাহিদ বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম খুনি-রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনা পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে শেখ হাসিনার বিচার শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে যত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শাসক রয়েছেন, তার বিচার এর এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। খুনি স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তাঁর দল স্বাগত জানাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের হাজারো শহীদ এবং কয়েক হাজার আহত যোদ্ধার ওপর যে জুলুম করা হয়েছিল, সেই জুলুমের রায় আজকে হয়েছে।

এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘তবে যেদিন এ রায় কার্যকর হবে, সেদিনই আমরা সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হব। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধারা শান্তি পাবে।’

রায় কার্যকরের জন্য অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এর জন্য সরকারকে যথাযথ ভূমিকা ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পেয়েছি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারত সফর করছেন। আমরা দাবি জানাব, তিনি শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন।’




শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ের বিষয়ে ভারত অবগত হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।’

দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুজনকে হস্তান্তর করাটা ‘ভারতের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্বও বটে’ বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।




আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে বিএনপির জোট প্রার্থীদের নাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশে  বইছে নির্বাচনী হাওয়া আর এই  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপি ২৩৭ আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে থেমে আছে। গুঞ্জন রয়েছে বাকি ৬৩টি আসনে বিএনপির সাথে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকা দলগুলোর সাথে আলোচনা করে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির সাথে থাকা দলগুলোর সাথে আসন নিয়ে বিএনপির আলোচনা শেষপর্যায়ে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আসনগুলোর বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে বিএনপির পক্ষ থেকে। এরপরই চূড়ান্ত করা হবে বিএনপির মোট ৩০০ আসনের প্রার্থী।

সূত্রটি জানায়, বিএনপির সাথে যেসব দল নির্বাচনে যাবে তাদের মধ্যে যাদের নিবন্ধন নেই তারা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হবেন। যাদের নিবন্ধন আছে তারা নিজ দলের প্রতীক নিয়ে লড়বেন। তবে নিবন্ধন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকে আবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে চান। এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানায় সূত্রটি।

বিএনপির কাছে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে ৫০টির মতো আসন চাওয়া হয়েছে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হবে কয়টি হচ্ছে।

১২দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমাদের ১২ দল থেকে তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেটা হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, বিএনপির সাথে আলোচনার কথা রয়েছে। কয়টি আসন নিয়ে আলোচনা হবে সেটা বিএনপিকেই বলব।

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর  বলেন বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। কিন্তু সম্মানজনক আসন বিএনপির পক্ষ থেকে ছাড় দেয়া হলে বিএনপির সাথে জোট হতে পারে। তবে গণমাধ্যমে দু-তিনটি আসন ছাড় দেয়ার যে খবর ছাপা হয় তা অবাস্তব।

তিনি জানান, গতকাল শনিবার আমাদের দলের মিটিং হয়েছে। যেহেতু উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। সেহেতু সম্মানজনক আসন ছাড় না পেলে আমরা এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, গত বুধবার আমাদের সাথে বিএনপির আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ৯টি আসন চেয়েছি। এখন আল্লাহ ভাগ্যে কী রাখছেন আল্লাহ ভালো জানেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে গ্রিণ সিগন্যাল দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরো জানান, মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা অনেক ত্যাগী নেতা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন।

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় যেসব দল আমাদের সাথে রাজপথে ছিল তাদের বিষয় আমাদের কমিটমেন্ট রয়েছে। সেই কমিটমেন্ট অনুযায়ী অবশ্যই তাদের আসন ছাড় দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সম্ভব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভুয়া ফোন রেকর্ডসহ নানা অপপ্রচার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এআইয়ের যুগে নানান পক্ষ থেকে এরকম অপপ্রচার অস্বাভাবিক না। এসব অপপ্রচার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।




ভারতের দালালি করে আর ক্ষমতার মসনদে বসা যাবেনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   শনিবার বিকালে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ভারতের দালালি করে কেউ আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না, থাকতেও পারবে না। তিনি বলেন, ভারতের প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। যারা বা যে দল ভারতের দালালি করবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।

‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জ্ঞানচর্চাভিত্তিক সংগঠন প্রাচ্যসংঘ যশোর।

সংগঠনটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য আখতার ইকবাল টিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হামিদ ও প্রাচ্যসংঘ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা লেখক-গবেষক বেনজীন খান।

মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় ড. মাহমুদুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সরকারই নির্বাচনে কারচুপি করে না, রাজনৈতিক দলও করে। আপনারা জনগণের কাছে ওয়াদা করেন যে আপনারা কারচুপি করবেন না।

একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লি থেকে দেশকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চলছে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়ে গেলে তারা আর ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ পাবে না।

এজন্য সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জেগে উঠেছে। যারা জুলাই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এই পলিটিক্যাল পাওয়ারের অংশ। এদেরকে কেউ ইগনোর করতে পারবে না।

‘জুলাই জেনারেশনে’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন পলিটিক্যাল স্ট্রাগল বিজয়ী হবে না, যদি না কালচারাল স্ট্রাগলে বিজয়ী হতে পারি। হিন্দুত্ববাদী সিস্টেম আমাদের বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শিখতে দেয়নি। ভারতীয়দের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা বই-পুস্তক লিখেছি। সেইসব বই-পুস্তকে বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য স্থান পায়নি।

লেখাপড়ার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে আনতে পারলে ব্রাম্মন্যবাদী সাংস্কৃতিক আধিপত্য পরাজিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো ভারতীয় দালালকে ভোট দেবেন না। আমরা দল বুঝি না। আমরা শুধু বুঝি ভারতীয় কোনো দালাল যেন সংসদে যেতে না পারে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৮ কোটির বাংলাদেশে দিল্লি আর কোনদিন আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।




মজলুমরা এখন জালিমে পরিনত হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর বিস অডিটরিয়ামে ‘উইমেন ইন ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতাকালে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বলেন, ‘যারা নিজেরা একদিন মজলুম ছিল, তারা জামিন করাতে গেছে কেন? এরা যে মজলুম থেকে জালিম হচ্ছে, কেন, সেটা ভাবতে হবে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো সরকার নয়, এটা একটা পরিষদ।

তবে সব রাজনৈতিক দলের সমর্থনেই তো এই সরকার গঠন হয়েছিল। যদি সব রাজনৈতিক দল চাইত, সব ধরনের সমস্যার সমাধান করা যেত।’

তিনি জানান, নতুন প্রশাসন গঠনের আগে প্রথম আট মাস বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে সরকারকে ব্যস্ত থাকতে হয়, এবং ঈদের পর পুরনো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আবার জেঁকে বসে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘একটা দ্যোদুল্যমান শক্তি পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।রাজনৈতিক দলগুলোরও এখানে একটি দায়িত্ব রয়েছে।’

উপদেষ্টা মাহফুজ উল্লেখ করেন, ‘সরকারের সফলতার বিষয়টা যতটা না জনগণের ব্যর্থতা তার থেকে যাদের উপর ভরসা করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বেশি। সবার ভূমিকাসহ সবকিছুর মূল্যায়ণ করে এক জায়গায় আসতে হবে।

তথ্য উপদেষ্টা দাবি করে বলেন, ‘বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ উৎপাটন করতে পেরেছি সারফেস লেভেলে, কিন্তু সামাজিক ফ্যাসিবাদ এখনো উপড়ে ফেলতে পারিনি।

রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের পলিটিক্যাল সেটলমেন্ট যত দিন না বদলাবে, তত দিন কোনো পরিবর্তন আসবে না।

 




দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নদের মানুষ আর ভোট দেবে না: নায়েবে আমীর জামায়েত ইসলামী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে গুণবতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়নদের দেশের মানুষ আর ভোট দেবে না, ।

দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো মেধাবীদের জায়গা। মেধাবীরা কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়, দেশের মানুষের চিন্তার পরিবর্তন হয়েছে। দেশের মানুষের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে, রুচির পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো মাস্তানকে ভোট দেবে না, চাঁদাবাজকে ভোট দেবে না, দখলবাজদের ভোট দেবে না। মানুষ এখন জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

বাংলার মানুষ আর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবে না উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় আমার পাশের চেয়ারটিতে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব। তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে হঠাৎ করে বলছেন, যে সনদে স্বাক্ষর করেছেন, সেটা তাঁরা মানেন না। তাঁরা সংস্কার চান না। সংস্কার না চাওয়ার মানে হচ্ছে আবার অন্যায়ভাবে ভোট ডাকাতি করে এবং ভোটবিহীন নির্বাচন করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের একটা পথ এবং জানালা খোলা রাখা। এটা জুলাই শহীদদের প্রতি বেইমানি। আমরা বলছি, বাংলাদেশকে আর পেছনে নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে আবার জুলাই যোদ্ধাদের ডাক দেওয়া হবে, আবার ৫ আগস্টের আবির্ভাব হবে।’




‘গণভোটে চারটির কোনো একটি প্রশ্নে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগ কই’, প্রশ্ন রিজভীর

গণভোটে অংশ নিতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের মতামত জানানোর সুযোগ কোথায়—এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব  তিনি বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটির সঙ্গে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগই নেই। এতে নাগরিকদের প্রকৃত মতামত জানানোর পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, ‘গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন রাখা হয়েছে, সেখানে অসম্মতির সুযোগ নেই। মানুষ যদি একমত না হয়, সেই মতামত কীভাবে দেবে—সেটা গণভোটে উল্লেখ নেই।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে, সেইভাবে প্রশ্নগুলো সাজানো উচিত ছিল।

রিজভী অভিযোগ করেন, সারাদেশে মানুষ নানা দুর্ভোগে থাকলেও তা লাঘবে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই জনসেবামূলক কাজে রাষ্ট্রের নজর কম ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গণভোট বা পিআর-ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

বিএনপির সমর্থিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সনদটি জাতির সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

ভারত থেকে বিপুল অর্থ এনে দেশে নাশকতার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। শেখ হাসিনার বিচার আদালতের বিষয়, মানুষ শুধু ন্যায়বিচারই চায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোলাটে করে তোলা হচ্ছে। ‘পতিত স্বৈরাচার’ প্রতিবেশী দেশে বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পোড়ানো ও সহিংসতার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো সংস্কৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেলতে পারলে এসব ঘটনা ঘটত না।

অনুষ্ঠানে আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি মুখে এক, ভেতরে আরেক

গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি মুখে স্বাগত জানালেও দলটি ভেতরে ভেতরে নাখোশ। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেও ভেতরে ভেতরে সন্তুষ্ট। সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তারা মেনে নিয়েছে। কোনো দলই আদেশ-গণভোট প্রত্যাখ্যান বা আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে না।

দল তিনটির সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এটি জাতির উদ্দেশে ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আদেশ অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন এবং গণভোট হবে। এটিই ছিল বিএনপির প্রধান দাবি। এ দাবি পূরণ হওয়ায় আট সংস্কার প্রস্তাবে থাকা দলটির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) গণভোটে না রাখার বিরোধিতা করতে পারছে না বলে বিএনপি সূত্র জানায়। দলটি আদেশ জারি এবং আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনেরও বিপক্ষে ছিল।

সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আটকে যেতে পারে আশঙ্কায় আদেশ জারি এবং পরিষদ গঠনের বিধানের বিরোধিতা না করে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত হয় বৃহস্পতিবারের বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে।
জামায়াতের প্রধান দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে গণভোট। এটি পূরণ না হওয়ায় দলটি সমমনাদের নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নোট ডিসেন্ট উপেক্ষা করে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের মতো সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে দেওয়ায় জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে জামায়াত সূত্র। সমমনা আট দলের মূল্যায়ন, বিএনপির তুলনায় তাদের দাবি বেশি পূরণ হয়েছে। না ভোটের প্রচার চালালে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে ভোটের মাঠে তুলে ধরে নির্বাচনে সুবিধা আদায় করা যাবে। আবার বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলেও গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারবে না।

এনসিপি আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আদেশ জারির বিরুদ্ধে ছিল। তাদের দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা বলে আদেশ জারি করতে হবে। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় দলটি প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখালেও, আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান থাকায় এনসিপিও সন্তুষ্ট। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে যাওয়ায় এ দলটি ভেতরে ভেতরে উচ্ছ্বসিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

মেনে নিয়ে ধন্যবাদ দিতে হয়েছে বিএনপিকে
প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সমালোচনা করেছিল। সরকারপ্রধান নিজের স্বাক্ষরিত সনদ থেকে সরে গেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয় লিখিত বক্তব্যে। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য পাঠ করে উঠে যান বিএনপি নেতারা। কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তারা। এই বক্তব্যে ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত সনদে থাকা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী গণভোট আয়োজনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বিএনপি।
সংবিধান সংস্কার করতে হবে এমন ৪৮ সংস্কার প্রস্তাব যাচ্ছে গণভোটে। এর মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুদকে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগসহ ১৫ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। দলটির দাবিতে তা সনদে যুক্ত করা হয়। বিএনপি অবস্থান ছিল, যে দল যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে সেভাবে সংস্কার করতে পারবে।

কিন্তু সনদ বাস্তবায়নে তা পুরো রাখা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না– এই সংস্কার প্রস্তাবেও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। গণভোটের ব্যালটে থাকবে, এটিসহ মোট ১০টি সংস্কার প্রস্তাব দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসংক্রান্ত আট সংস্কার প্রস্তাব সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

বিএনপি এর ঘোর বিরোধী। তারপরও কেনো বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ দিয়ে আদেশ ও গণভোট মেনে নিয়েছে– এ প্রশ্নে দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, এসব নিয়ে নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভ থাকলেও নির্বাচনের স্বার্থে মানতে হয়েছে।
বিএনপি গণভোটেরও বিপক্ষে ছিল শুরু থেকেই। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংলাপে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলটির অবস্থান ছিল, আগামী সংসদ প্রতিশ্রুত সংস্কার করবে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপিকে প্রতিনিধিত্ব করা নেতারা দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো গণভোট মেনে নেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এ কারণেই পরের বিষয়গুলোও মানতে হয়েছে। এসব জামায়াতের অনুকূলে গেছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন সদস্য বলেছেন, আদেশ ও গণভোট প্রত্যাখ্যান করলে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী আখ্যা দিয়ে জামায়াত ভোটের মাঠে ফায়দা তুলত কিংবা এই ইস্যুকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করত। বিএনপি মনে করছে– কোনোভাবেই নির্বাচন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। তাতে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, গণতন্ত্র ব্যাহত করবে। এই সুযোগ না দিতেই বিএনপি আদেশ এবং গণভোটে রাজি হয়েছে বলে দাবি এই নেতার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের পথ বাধাহীন রাখতে আদেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান ধরে রাখতে স্বাক্ষরিত সনদের ওপর গণভোটের আহ্বান জানিয়েছে।
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট থাকা আট এবং ঐকমত্য হওয়া ৩০ সংস্কার প্রস্তাব আগামী সংসদ বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে বলে বিধান রয়েছে আদেশে। গতকাল শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আরোপিত আইন বা আদেশ দিয়ে সংসদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নির্বাচন ও গণভোট একদিনে আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করা হয়ে যাবে না, সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে না।

জামায়াত ওপরে নাখোশ ভেতরে খুশি
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আট দল গতকালও দাবি জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হবে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে দলটি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ করেছে, বিএনপিকে খুশি করতে সরকার ১০টি সংস্কার প্রস্তাব গণভোটের পরও নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুযোগ রেখেছে।

গতকাল জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার এবং নির্বাচন চেয়েছিল জাতি। কিন্তু একটি দলের স্বার্থে সরকার আঁতাত করে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা আদেশে পরিবর্তন এনেছে। তার পরও জামায়াতসহ আট দল আদেশকে গ্রহণ করছে।

নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি পূরণ না হলেও আদেশ প্রত্যাখ্যান করছেন না জানিয়ে ডা. তাহের বলেছেন, জাতির আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের পরিবেশের স্বার্থে জামায়াত আদেশকে গ্রহণ করছে। আদেশ জারির মাধ্যমে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে অসন্তোষ থাকলেও জামায়াত তা মেনে নিচ্ছে।

জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, গণভোট যখনই হোক পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিশ্চয়তা আদেশে থাকায় তারা সন্তুষ্ট। বিএনপির বিরোধিতার পরও সরকার আদেশ জারি করেছে, তা স্বস্তির। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট না রাখা এবং সাংবিধানিক আদেশ জারি জামায়াতের জন্য বড় বিজয়।

ক্ষোভ দেখালেও এনসিপি সন্তুষ্ট
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে আদেশ জারিতে রাগ দেখালেও, সনদের আইনি ভিত্তিতে এনসিপিও খুশি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার আদেশে বিএনপি এবং জামায়াতকে ভাগ দিয়েছে। জনগণকে কিছু দেয়নি। আর রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সই করিয়ে আদেশকে অপবিত্র করেছে।

তবে সংলাপে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করা দুই নেতা বলেছেন, আদেশ অনুযায়ী আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এটি এনসিপির প্রধান দাবি ছিল। এই দাবি পূরণের মাধ্যমে এনসিপির বিজয় হয়েছে। উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাবে থাকা বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করে এগুলো গণভোটে দেওয়াও এনসিপির জন্য জয়। তবে রাজনৈতিক কারণে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের বিরোধিতা করছে।




‘আ.লীগ এখন ভাড়াটে টোকাইদের ওপর নির্ভরশীল’

আওয়ামী লীগ এখন ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শফিকুল আলম লেখেন, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দলটি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে।

‘প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।’

প্রেস সচিব লেখেন, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও সংগঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়—পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা জাতির প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।




লৌহজঙে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকার লৌহজং উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হলো আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি। শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ৩টায় লৌহজং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন হাতে মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ থেকে কনকসার কাঠপট্টি পর্যন্ত বিশাল র‌্যালি বের হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টংগিবাড়ী) আসনের গনমানুষের নেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি বক্তৃতায় বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা সর্বস্তরের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় এ দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে। বর্তমান প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানতে ও দেশগঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ, যিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলহাজ্ব কোহিনুর শিকদার। তিনি বলেন, দীর্ঘ পাঁচ দশক পরও বিপ্লব ও সংহতি দিবস সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানমঞ্চ ছিল সরব। র‍্যালির পুরো পথজুড়ে ছিল স্লোগান, ব্যানার, জাতীয় পতাকা এবং আন্দোলনের চেতনা স্মরণে নানা শ্লোগানধ্বনি। লৌহজং উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এই আয়োজনটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম