দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নদের মানুষ আর ভোট দেবে না: নায়েবে আমীর জামায়েত ইসলামী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে গুণবতী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়নদের দেশের মানুষ আর ভোট দেবে না, ।

দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায় উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো মেধাবীদের জায়গা। মেধাবীরা কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়, দেশের মানুষের চিন্তার পরিবর্তন হয়েছে। দেশের মানুষের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে, রুচির পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো মাস্তানকে ভোট দেবে না, চাঁদাবাজকে ভোট দেবে না, দখলবাজদের ভোট দেবে না। মানুষ এখন জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

বাংলার মানুষ আর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেবে না উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় আমার পাশের চেয়ারটিতে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব। তাঁরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে হঠাৎ করে বলছেন, যে সনদে স্বাক্ষর করেছেন, সেটা তাঁরা মানেন না। তাঁরা সংস্কার চান না। সংস্কার না চাওয়ার মানে হচ্ছে আবার অন্যায়ভাবে ভোট ডাকাতি করে এবং ভোটবিহীন নির্বাচন করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের একটা পথ এবং জানালা খোলা রাখা। এটা জুলাই শহীদদের প্রতি বেইমানি। আমরা বলছি, বাংলাদেশকে আর পেছনে নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে আবার জুলাই যোদ্ধাদের ডাক দেওয়া হবে, আবার ৫ আগস্টের আবির্ভাব হবে।’




‘গণভোটে চারটির কোনো একটি প্রশ্নে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগ কই’, প্রশ্ন রিজভীর

গণভোটে অংশ নিতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের মতামত জানানোর সুযোগ কোথায়—এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব  তিনি বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটির সঙ্গে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগই নেই। এতে নাগরিকদের প্রকৃত মতামত জানানোর পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, ‘গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন রাখা হয়েছে, সেখানে অসম্মতির সুযোগ নেই। মানুষ যদি একমত না হয়, সেই মতামত কীভাবে দেবে—সেটা গণভোটে উল্লেখ নেই।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে, সেইভাবে প্রশ্নগুলো সাজানো উচিত ছিল।

রিজভী অভিযোগ করেন, সারাদেশে মানুষ নানা দুর্ভোগে থাকলেও তা লাঘবে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই জনসেবামূলক কাজে রাষ্ট্রের নজর কম ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গণভোট বা পিআর-ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

বিএনপির সমর্থিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সনদটি জাতির সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

ভারত থেকে বিপুল অর্থ এনে দেশে নাশকতার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। শেখ হাসিনার বিচার আদালতের বিষয়, মানুষ শুধু ন্যায়বিচারই চায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোলাটে করে তোলা হচ্ছে। ‘পতিত স্বৈরাচার’ প্রতিবেশী দেশে বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পোড়ানো ও সহিংসতার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো সংস্কৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেলতে পারলে এসব ঘটনা ঘটত না।

অনুষ্ঠানে আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি মুখে এক, ভেতরে আরেক

গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি মুখে স্বাগত জানালেও দলটি ভেতরে ভেতরে নাখোশ। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেও ভেতরে ভেতরে সন্তুষ্ট। সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তারা মেনে নিয়েছে। কোনো দলই আদেশ-গণভোট প্রত্যাখ্যান বা আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে না।

দল তিনটির সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এটি জাতির উদ্দেশে ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আদেশ অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন এবং গণভোট হবে। এটিই ছিল বিএনপির প্রধান দাবি। এ দাবি পূরণ হওয়ায় আট সংস্কার প্রস্তাবে থাকা দলটির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) গণভোটে না রাখার বিরোধিতা করতে পারছে না বলে বিএনপি সূত্র জানায়। দলটি আদেশ জারি এবং আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনেরও বিপক্ষে ছিল।

সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আটকে যেতে পারে আশঙ্কায় আদেশ জারি এবং পরিষদ গঠনের বিধানের বিরোধিতা না করে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত হয় বৃহস্পতিবারের বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে।
জামায়াতের প্রধান দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে গণভোট। এটি পূরণ না হওয়ায় দলটি সমমনাদের নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নোট ডিসেন্ট উপেক্ষা করে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের মতো সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে দেওয়ায় জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে জামায়াত সূত্র। সমমনা আট দলের মূল্যায়ন, বিএনপির তুলনায় তাদের দাবি বেশি পূরণ হয়েছে। না ভোটের প্রচার চালালে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে ভোটের মাঠে তুলে ধরে নির্বাচনে সুবিধা আদায় করা যাবে। আবার বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলেও গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারবে না।

এনসিপি আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আদেশ জারির বিরুদ্ধে ছিল। তাদের দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা বলে আদেশ জারি করতে হবে। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় দলটি প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখালেও, আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান থাকায় এনসিপিও সন্তুষ্ট। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে যাওয়ায় এ দলটি ভেতরে ভেতরে উচ্ছ্বসিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

মেনে নিয়ে ধন্যবাদ দিতে হয়েছে বিএনপিকে
প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সমালোচনা করেছিল। সরকারপ্রধান নিজের স্বাক্ষরিত সনদ থেকে সরে গেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয় লিখিত বক্তব্যে। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য পাঠ করে উঠে যান বিএনপি নেতারা। কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তারা। এই বক্তব্যে ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত সনদে থাকা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী গণভোট আয়োজনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বিএনপি।
সংবিধান সংস্কার করতে হবে এমন ৪৮ সংস্কার প্রস্তাব যাচ্ছে গণভোটে। এর মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুদকে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগসহ ১৫ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। দলটির দাবিতে তা সনদে যুক্ত করা হয়। বিএনপি অবস্থান ছিল, যে দল যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে সেভাবে সংস্কার করতে পারবে।

কিন্তু সনদ বাস্তবায়নে তা পুরো রাখা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না– এই সংস্কার প্রস্তাবেও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। গণভোটের ব্যালটে থাকবে, এটিসহ মোট ১০টি সংস্কার প্রস্তাব দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসংক্রান্ত আট সংস্কার প্রস্তাব সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

বিএনপি এর ঘোর বিরোধী। তারপরও কেনো বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ দিয়ে আদেশ ও গণভোট মেনে নিয়েছে– এ প্রশ্নে দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, এসব নিয়ে নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভ থাকলেও নির্বাচনের স্বার্থে মানতে হয়েছে।
বিএনপি গণভোটেরও বিপক্ষে ছিল শুরু থেকেই। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংলাপে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলটির অবস্থান ছিল, আগামী সংসদ প্রতিশ্রুত সংস্কার করবে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপিকে প্রতিনিধিত্ব করা নেতারা দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো গণভোট মেনে নেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এ কারণেই পরের বিষয়গুলোও মানতে হয়েছে। এসব জামায়াতের অনুকূলে গেছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন সদস্য বলেছেন, আদেশ ও গণভোট প্রত্যাখ্যান করলে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী আখ্যা দিয়ে জামায়াত ভোটের মাঠে ফায়দা তুলত কিংবা এই ইস্যুকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করত। বিএনপি মনে করছে– কোনোভাবেই নির্বাচন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। তাতে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, গণতন্ত্র ব্যাহত করবে। এই সুযোগ না দিতেই বিএনপি আদেশ এবং গণভোটে রাজি হয়েছে বলে দাবি এই নেতার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের পথ বাধাহীন রাখতে আদেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান ধরে রাখতে স্বাক্ষরিত সনদের ওপর গণভোটের আহ্বান জানিয়েছে।
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট থাকা আট এবং ঐকমত্য হওয়া ৩০ সংস্কার প্রস্তাব আগামী সংসদ বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে বলে বিধান রয়েছে আদেশে। গতকাল শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আরোপিত আইন বা আদেশ দিয়ে সংসদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নির্বাচন ও গণভোট একদিনে আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করা হয়ে যাবে না, সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে না।

জামায়াত ওপরে নাখোশ ভেতরে খুশি
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আট দল গতকালও দাবি জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হবে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে দলটি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ করেছে, বিএনপিকে খুশি করতে সরকার ১০টি সংস্কার প্রস্তাব গণভোটের পরও নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুযোগ রেখেছে।

গতকাল জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার এবং নির্বাচন চেয়েছিল জাতি। কিন্তু একটি দলের স্বার্থে সরকার আঁতাত করে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা আদেশে পরিবর্তন এনেছে। তার পরও জামায়াতসহ আট দল আদেশকে গ্রহণ করছে।

নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি পূরণ না হলেও আদেশ প্রত্যাখ্যান করছেন না জানিয়ে ডা. তাহের বলেছেন, জাতির আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের পরিবেশের স্বার্থে জামায়াত আদেশকে গ্রহণ করছে। আদেশ জারির মাধ্যমে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে অসন্তোষ থাকলেও জামায়াত তা মেনে নিচ্ছে।

জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, গণভোট যখনই হোক পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিশ্চয়তা আদেশে থাকায় তারা সন্তুষ্ট। বিএনপির বিরোধিতার পরও সরকার আদেশ জারি করেছে, তা স্বস্তির। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট না রাখা এবং সাংবিধানিক আদেশ জারি জামায়াতের জন্য বড় বিজয়।

ক্ষোভ দেখালেও এনসিপি সন্তুষ্ট
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে আদেশ জারিতে রাগ দেখালেও, সনদের আইনি ভিত্তিতে এনসিপিও খুশি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার আদেশে বিএনপি এবং জামায়াতকে ভাগ দিয়েছে। জনগণকে কিছু দেয়নি। আর রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সই করিয়ে আদেশকে অপবিত্র করেছে।

তবে সংলাপে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করা দুই নেতা বলেছেন, আদেশ অনুযায়ী আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এটি এনসিপির প্রধান দাবি ছিল। এই দাবি পূরণের মাধ্যমে এনসিপির বিজয় হয়েছে। উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাবে থাকা বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করে এগুলো গণভোটে দেওয়াও এনসিপির জন্য জয়। তবে রাজনৈতিক কারণে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের বিরোধিতা করছে।




‘আ.লীগ এখন ভাড়াটে টোকাইদের ওপর নির্ভরশীল’

আওয়ামী লীগ এখন ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শফিকুল আলম লেখেন, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দলটি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে।

‘প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।’

প্রেস সচিব লেখেন, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও সংগঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়—পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা জাতির প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।




লৌহজঙে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকার লৌহজং উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হলো আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি। শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ৩টায় লৌহজং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার–ফেস্টুন হাতে মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ থেকে কনকসার কাঠপট্টি পর্যন্ত বিশাল র‌্যালি বের হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টংগিবাড়ী) আসনের গনমানুষের নেতা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি বক্তৃতায় বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা সর্বস্তরের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় এ দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে। বর্তমান প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানতে ও দেশগঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ, যিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন লৌহজং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আলহাজ্ব কোহিনুর শিকদার। তিনি বলেন, দীর্ঘ পাঁচ দশক পরও বিপ্লব ও সংহতি দিবস সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানমঞ্চ ছিল সরব। র‍্যালির পুরো পথজুড়ে ছিল স্লোগান, ব্যানার, জাতীয় পতাকা এবং আন্দোলনের চেতনা স্মরণে নানা শ্লোগানধ্বনি। লৌহজং উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এই আয়োজনটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে দিনব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবারও নির্বাচন করতে পারবো তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি: লুৎফুজ্জামান বাবর

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দীর্ঘ ১৭ বছর পর  জালিমের কারাগারের বন্দিদশা থেকে কারামুক্ত হয়ে আমি আবারও নির্বাচন করতে পারবো কখন স্বপ্নেও ভাবিনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

তিনি বলেন, এজন্য মহান আল্লাহর কাছে পাশাপাশি আমার দল, আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও নেতা তারেক রহমানের কাছে  শুকরিয়া আদায় করছি। আবারও তারা আমাকে এই ভাটি বাংলার মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।

বিএনপির মনোনয়নপত্র ঘোষণার পর শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো নিজ এলাকায় ফেরার পথে নেত্রকোণা সদরের চল্লিশায় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি  বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা (নেত্রকোণা-৪) মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরির ভাটি বাংলার মানুষের ঋণ আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। আমি আমার পুরো জীবন তাদের জন্য যতটুকু পারি করে যাবো। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের মধ্যে হাওর বিস্তৃত তিন উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরি নিয়ে নেত্রকোণার ৪ আসন গঠিত। এ আসনেই দীর্ঘ ১৭ বছর পর লুৎফুজ্জামান বাবর কে ধানের শীষের  মনোনীত প্রার্থী করেছে বিএনপি।




বিএনপির প্রার্থী মনোনায়ন নিয়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  : আসন্ন সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে  রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৪টিতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে আসনগুলোয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রার্থী বদলের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও তারা পালন করছেন।

মনোনয়নপ্রাপ্ত ও মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীদের পালটাপালটি কর্মসূচি পালনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। কেন্দ্র থেকে কোনো হস্তক্ষেপ না করায় কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠছে। তবে মনোনীতদের কেউ কেউ বলছেন, মনোনয়নবঞ্চিতরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দলে বিভক্তি-বিভাজন সৃষ্টি করছেন। দলীয় প্রার্থীর ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এসব বন্ধে দলীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থীরা সুবিধা পেয়ে যাবেন।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের প্রার্থী শফিকুল হক মিলনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সোমবার রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন মনোনয়নবঞ্চিত রায়হানুল হক ও ও নাসির হোসেনের অনুসারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করায় সড়কে এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে নজরুল ইসলাম মণ্ডলের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেন মনোনয়নবঞ্চিত বাকি চার প্রার্থীর অনুসারীরা। মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শিবপুরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সড়ক অবরোধে দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক শাজাহান মিয়ার পরিবর্তে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতকে প্রার্থী করার দাবিতে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন। মঙ্গলবার শওকতের অনুসারীরা মশাল মিছিল নিয়ে কয়লাবাড়ী এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ স্থলবন্দর সড়কে অবরোধ করেন। এর আগে রোববার একই সড়কের কানসাটে সড়ক অবরোধ করা হয়। মনোনয়ন না পেয়ে কয়েকদিন আগে সৈয়দ শাহীন শওকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। দলে তার অবদান ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে আমিনুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নাচোল ডাকবাংলা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বঞ্চিত ইঞ্জিনিয়ার ইমদাদুল হক মাসুদের সমর্থকরা। আমিনুলকে ফ্যাসিস্টের দোসর অ্যাখ্যা দিয়েছেন তারা।

নওগাঁর ছয়টি আসনের মধ্যে ঘোষিত পাঁচটির মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।




নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার পক্ষে নয় জামায়াতসহ ৮ দল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জুলাই জাতীয় সনদ জারির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দল।

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করার যে সিদ্ধান্ত, সেটির নিন্দা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

আজ বৃহস্পতিবার রাতে সমমনা আট দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, জুলাই সনদ জারির জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ। তবে এই সনদের কার্যকারিতার জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট অপরিহার্য। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে হবে বলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। দলগুলো এর নিন্দা জানাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা যেন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছে দলগুলো।




অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসাবে নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিশেষ সহকারী পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন তিনি উপদেষ্টার পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক রীয়াজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান পদে দায়িত্ব পান। এরপর গত ফেব্রুয়ারিত তাকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি করা হয়।

 




নিজের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ নিজেই লঙ্ঘন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা : সালাহউদ্দিন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে পূর্বে  স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ নতুন ধারণা। ঐকমত্য কমিশনে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি।’

গণভোটে চারটি প্রশ্ন রাখাকে জনগণের ওপর জবরদস্তি বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।