মানসিক সমস্যায় ভুগছে গাজার শিশুরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দখলদার ইসরায়েলের হামলায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আহত ও নিহত হচ্ছেন শত শত মানুষ। সেখানে প্রতি মুহূর্তে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। একটু পরপরই বোমা ফেলছে তারা। আর তাদের এসব বর্বরতার কারণে গাজার প্রায় সব শিশু মানসিক সমস্যায় ভুগছে। যাদের সবার মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।



সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এগিয়ে যারা

দলীয় নেতাদের আড্ডায় ও নানা ইঙ্গিতে অনেকের নাম উঠে আসছে, যাদের অনেককেই দেখা যেতে পারে সংসদে। এর মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী, সহযোগী সংগঠনের নেত্রী এবং বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেত্রীদের বিবেচনায় রাখা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এর বাইরেও জোট শরিকদের দু-তিনটি আসন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে পুরোনোদের সিংহভাগ এবার মনোনয়ন পাবেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এবার নারী আসনে জায়গা পেতে পারেন- আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা সম্পাদক বেগম শামসুন নাহার (চাঁপা), কার্যনির্বাহী সদস্য পারভিন জামান কল্পনা ও মারুফা আক্তার পপি। এর বাইরে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আখতার জাহান, মেরিনা জাহান, সফুরা বেগম, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াও আসতে পারেন।

পেশাগত অঙ্গনে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রথম নারী সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন থাকতে পারেন এবারের সংসদে। আইন অঙ্গনে সাফল্যের জন্য সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানাকেও রাখার হতে পারে। গত সংসদের সদস্য আরমা দত্ত ও খালেদ মোশাররফের কন্যা মাহজাবীন খালেদ এবারও থাকতে পারেন।

যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল, সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিনও আছেন আলোচনায়।

ধানমন্ডি থানা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ মিলি, নৌকা নিয়ে হেরে যাওয়া কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী সানজিদা খানমের নামও আছে আলোচনায়। এর বাইরে নৌকার মনোনয়ন পেয়েও নাগরিকত্ব জটিলতায় নির্বাচন না করতে পারা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও আছেন দৌড়ে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বরাবরের মতো দেশ, রাজনীতি ও আওয়ামী লীগে অসামান্য অবদান রাখা পরিবারের সন্তান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রথিতযশা নারীদের আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।- জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

বরাবরের মতো এবারও আঞ্চলিক নেতা বা জেলা নেতাদের মধ্যে অনেকেই আসবেন সংরক্ষিত আসনে। পাশাপাশি পেশাগত অঙ্গনে সফল, প্রয়াত বাবা-মায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক বা পেশাগত জীবনের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের সন্তানদের কয়েকজনও আসবেন এই সংসদের সংরক্ষিত আসনে।

জোট নেতাদের মধ্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার স্ত্রী, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর স্ত্রী আফরোজা হক আসতে পারেন এই সংসদে। এছাড়া জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পরিবারের কাউকে আনা হতে পারে।

এ নিয়ে যুব মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল  বলেন, ‘নেত্রী যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই করবেন। আমরা তার কর্মী, তার সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিই।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা  বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের নানা প্ল্যাটফর্মে দলীয় কার্যক্রম করে আসছি। বিশেষ করে, আইনজীবীদের নিয়ে আমার উল্লেখযোগ্য কাজ আছে। এরই মধ্যে করোনার সময়ে করোনা মোকাবিলা ফান্ড গঠন করে আইনজীবীদের পাশে ছিলাম। তাদের সহায়তা করেছি। আমার এলাকা চাঁদপুরেও করোনার সময় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি সংসদ সদস্য হতে পারি, আইন প্রণয়নে সুন্দর ভূমিকার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ভিশন- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করবো।’

নারী আসনে মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন  বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বরাবরের মতো দেশ, রাজনীতি ও আওয়ামী লীগে অসামান্য অবদান রাখা পরিবারের সন্তান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রথিতযশা নারীদের আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহিলা সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়ন নেওয়ার বা চাওয়ার যে হিড়িক, সেই তুলনায় আমাদের দেওয়ার সুযোগ খুব কম। আমরা আমাদের পরীক্ষিত, ত্যাগীদের গুরুত্ব দেবো। যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যারা আমাদের দুঃসময়ের পরীক্ষিত কর্মী, তাদের ব্যাপারটা আমরা অগ্রাধিকার দেবো।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ ২২৩, ১৪ দলীয় শরিক জাসদ একটি ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, স্বতন্ত্র ৬২ আসন পেয়েছে। কল্যাণ পার্টি পেয়েছে একটি আসন। জাতীয় পার্টি ১১টি আসন পেয়েছে। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নারী আসনের ৫০টির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৮টি, জাতীয় পার্টি দুটি ও স্বতন্ত্ররা ১০টি আসন পায়।

এরই মধ্যে নারী আসন বণ্টনের সুবিধার্থে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্রদের কাছে ৩০ জানুয়ারি মধ্যে দলে যোগদান বা জোট করার বিষয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ৩১ জানুয়ারি জোটবদ্ধভাবে ৪৮ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়ে সবার সই নিয়ে ইসিতে চিঠি জমা দেয় আওয়ামী লীগ।




মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক




প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১২ দেশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশকে অতি দারিদ্র্যমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে এ মেয়াদের মধ্যে দেশে অতি দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ১২টি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি এ কথা বলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকার একেবারে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন নিশ্চিত করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সারাদেশ উন্নত হবে এবং জনগণ তার সুফল পাবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্যের হার কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অতি দারিদ্রের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশের বেশি ছিল।

দুস্থ নারী বিশেষ করে স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা নারীসহ সমাজে অসহায় মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় সহায়তাসহ দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের নারীরা সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন।

সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিকের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রান্তিক জনগণ স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পূর্ণ তার সরকারের ব্রেইন চাইল্ড এবং এই প্রচেষ্টার ফলে দেশে মা ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

সারাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করেন।

বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এখানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সাক্ষাতের শুরুতে বতসোয়ানা, কম্বোডিয়া, গাম্বিয়া, হাঙ্গেরি, জ্যামাইকা, মেসিডোনিয়া, মঙ্গোলিয়া, লুক্সেমবার্গ, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, স্লোভেনিয়া, পেরু এবং ভেনিজুয়েলার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনাররা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টানা চতুর্থ মেয়াদ এবং পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রদূতরা বলেন, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে অভিভূত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

সৌজন্য সাক্ষাতকালে অন্যদের মধ্যে অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।




ফিরে দেখা একুশ: শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা দেখে উত্তাল পটুয়াখালী

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবদুস সালাম। তার রক্তামাখা জামা পটুয়াখালীতে নিয়ে আসা হয়। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে আয়োজিত গণজমায়েতে রক্তামাখা জামা মানুষকে দেখানোর পরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। এতে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের ঢেউ পটুয়াখালীতেও আছড়ে পড়ে।
তৎকালীন ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের অনেকেই এখন জীবিত নেই। এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া ও মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ নামের দুই ভাষা সৈনিকের সঙ্গে কথা হয়।

তারা জানান, তখন পটুয়াখালী ছিল বরিশাল জেলার একটি মহকুমা। ঢাকায় যখন ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল ঠিক সেই সময় পটুয়াখালীতে ‘পটুয়াখালী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের’ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে কবি খন্দকার খালেককে আহ্বায়ক ও জালাল উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। পরে এ কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন আজহার উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু মিয়া, অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী, বীরেশ্বর বসু, অতুল চন্দ্র দাস, ধ্রুবজ্যোতি দত্ত, অ্যাডভোকেট গোলাম আহাদ চৌধুরী, এটিএম ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
ওই কমিটিতে না থাকলেও ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পটুয়াখালীর বাউফলের সন্তান সৈয়দ আশরাফ হোসেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কমিটির উদ্যোগে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও পটুয়াখালী শহরে হরতাল পালন করা হয়। পটুয়াখালীতে খবর আসে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলিবর্ষণ ও শহীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। অন্যদের সঙ্গে শহীদ হন সালাম। তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ আশরাফের বড় ভাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ ফজলুল হক। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা নিয়ে সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালীতে আসেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা আন্দোলন কমিটির প্রথম প্রকাশ্য জনসভা। এমদাদ আলীর সভাপতিত্বে ওই সভায় বিডি হাবিবুল্লাহ, এবিএম আব্দুল লতিফ, আব্দুল করিম মিয়া, সৈয়দ আশরাফসহ ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারীরা বক্তব্য দেন। ছাত্র-জনতা ছাড়া ওই সভায় তেমন লোক ছিল না। শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি দেখানোর পরে পটুয়াখালীর মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা।

ভাষা সৈনিক মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে নিয়ে আসা শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি বিভিন্ন সভায় জনতাকে দেখান সৈয়দ আশরাফ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে উপস্থিত জনতা, আন্দোলন – সংগ্রামে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। জনসভায় ঘোষণামতে ৩ মার্চ পটুয়াখালী শহরে পালন করা হয় সর্বাত্মক হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিল। এর আগে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণজমায়েতে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায়ও রক্তমাখা জামাটি দেখানো হয়। রক্তমাখা জামাটি ছুয়ে আমরা সবাই শপথ নিই বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার। পরে জুবিলী স্কুলের মাঠ থেকে আমাদের ‘রক্ত শপথ’ গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পরে।’
তবে স্থানীয় প্রশাসন জুবিলী স্কুলের মাঠের গণজমায়েতকে পণ্ড করতে নানা কৌশল নেয় বলে জানান দলিল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। জনসভায় বিতরণের জন্য আন্দোলনকারীদের অন্যতম কবি খন্দকার খালেক রচিত ‘রক্ত শপথ’ লিফলেট আর্ট প্রেস নামক ছাপাখানায় ছাপিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শহরে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঢল নামে পটুয়াখালী শহরের সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে। গণজমায়েত স্মরণকালের বৃহৎ জনসভায় রূপ নেয়। এতে গ্রাম থেকেও নৌকায় ছুটে আসেন ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। জনস্রোত দেখে দাঙ্গা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়। এদিকে ‘রক্ত শপথ’লিফলেট ছাপানোর কারণে তৎকালীন প্রশাসন সরকারি কাজের ক্ষেত্রে আর্ট প্রেসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যা পরের পাঁচ বছর বলবৎ ছিল।’

ভাষা সৈনিক এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া জানান, পরে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে পটুয়াখালীতে একটি পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে ১৭ এপ্রিল পটুয়াখালীর পুরান বাজার স্টিমার ঘাটের একটি বাড়ির দোতলায় প্রথমে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ স্মৃতি পাঠাগার এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন যুক্তফ্রন্টের এমপি আব্দুল করিম মিয়া ও সম্পাদক হন জালাল উদ্দিন আহমেদ। পরে কয়েকটি স্থানে স্থানান্তরের পর শহরের এসডিও অফিসের পুকুরের পশ্চিম উত্তর কোণে নিজস্ব ভবনে নির্মিত হয় পটুয়াখালী শহীদ স্মৃতি পাঠাগার যার কার্যক্রম এখনও সচল।

আবু মিয়া আরো জানান, ২৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন পাঠাগারের। বর্তমানে ৩৬ জন আজীবন সদস্যসহ ১০০ জন সদস্য রয়েছেন। পাঠাগারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা বর্ষবরণ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন লেখক-কবিদের বই পড়েন।
ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ চত্বরে ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে স্থাপিত হয় শহীদ মিনার। পটুয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে মাথা উঁচু করে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই কাঠামোটি। যেখানে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।




গাজায় নিহত ২৭ হাজার ছুঁইছুঁই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজায় লাশের সারি বাড়ছেই। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। সেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিসের আল-আমাল হাসপাতালে তীব্র হামলা চালিয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই গাজায় হামাসকে নির্মূলের অজুহাতে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় চার মাস ধরে সেখানে সংঘাত চলছেই।

এদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনে লোহিত সাগারে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সেখানে এই হামলা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি। তবে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে।

হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগ্রাসনে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যুদ্ধ জাহাজ তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু।

ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির ওপর এখন পর্যন্ত অন্তত নয়বার হামলা চালিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এতে বৈশ্বিক শিপিং ইন্ডাস্ট্রিতে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। কাজে আসছে না মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সও। হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা চালানো হবে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্য সংঘাত শুরুর পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলা চালাচ্ছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী। যদিও এসব হামলার অধিকাংশই ভূ-পাতিত করা হয়েছে। কিন্তু জর্ডানে সবশেষ হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৪ জন আহত হয়েছেন।

সিরিয়া ও ইরাকে মার্কিন বাহিনী লক্ষ্য করে অব্যাহত হামলার জন্য বাইডেন শুরু থেকেই ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলেকে দায়ী করছেন। ইরান তাদের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো ড্রোন ও রকেট দিয়ে হামলা পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আটবার প্রতিশোধমূলক হামলা করেছে। বেশি হামলা করা হয় ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে।




ঝিনাইদহ-১ : আব্দুল হাইয়ের সংসদ সদস্য পদ হাইকোর্টে স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  নৌকা প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য পদে জয়ী আব্দুল হাইয়ের সংসদ সদস্য পদ স্থগিত করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নির্বাচনে অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি আসাদুজ্জামানের একক বেঞ্চ নির্বাচনী গেজেট স্থগিত করেছেন।

আদেশের বিষয়টি আজ নিশ্চিত করেন আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান মিয়া।




বরিশালের সঙ্গে রেল যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: বরিশালের সঙ্গে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে ঢাকায় অবস্থানরত বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

জাহিদ ফারুক বলেন, ‘যখন আমি এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করি, তখন তিনি আমাকে বলেন যে, আগের পরিকল্পনায় কিছু সমস্যা ও ত্রুটি শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে এই অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাটির অবস্থা এবং সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উপযোগী বিকল্প রুট খুঁজছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরিশালের সঙ্গে ছয় লেন হাইওয়ে নেটওয়ার্ক সম্পন্ন করার জন্য দ্রুতগতিতে কাজ এগুচ্ছে। আর এটি হবে দক্ষিণবঙ্গের জনগণের অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক উন্নয়ন। এই রেলওয়ে নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও ছয় লেন হাইওয়ে নির্মাণের পর উপকূলীয় পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীসহ দক্ষিণাঞ্চলের শতাব্দী প্রাচীন যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে।’

প্রতিমন্ত্রী দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের কথা জানান।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল বিভাগ সাংবাদিক সমিতির (বিবিএসএস) এর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মামুন আবেদীন (ভারপ্রাপ্ত), সহসভাপতি হেমায়েত হোসেন, আসাদুজ্জামান সম্রাট, কিশোর সরকার, শেখ জামাল, হরলাল রায় সাগর।




অবশেষে গ্রেপ্তার মুখ্যমন্ত্রী সোরেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সভাপতি হেমন্ত সোরেন। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে দেশটির আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তকারী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে । খবর এনডিটিভি।

জেএমএমের সংসদ সদস্য মহুয়া মাঝি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইডি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি ইডি দলের সঙ্গে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন পদত্যাগপত্র জমা দিতে।

২০০২ সালের আইন প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) ৫০ ধারার অধীন একটি জমি কেলেঙ্কারির মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোরেনকে গত মাসে তলব করেছিল ইডি। রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে অবৈধ খনন ও জমি কেলেঙ্কারির দুটি মামলা ইডিতে তদন্তাধীন।

আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ইডি হেমন্ত সোরেনকে ৯ বার তলব করেছে। প্রতিবারই তিনি সেই তলব এড়িয়ে গিয়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে দিল্লি থেকে ২৭ জানুয়ারি রাঁচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রচারিত হয় গণমাধ্যমে। পরে ২৯ জানুয়ারি সকাল থেকেই সোরেনের দিল্লির বাড়িতে ১৩ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।




দ্রব্যমূল্য রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ হবে না: কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্রব্যমূল্য রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এ নিয়ে সরকার কাজ করছে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার শুধু কথা নয়, কাজও করে যাচ্ছে। সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দিয়েছেন। সে অনুসারে কাজ শুরু করে দিয়েছে। রাতারাতি নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে না। সরকার শুধু কথা বলছে এমন নয়। সরকার অ্যাকশনে আছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা আইন ভঙ্গ করবে তারা যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পুলিশ অনুমতি দেয়নি। অনুমতি ছাড়া ফ্রিস্টাইল কর্মসূচি নেওয়ার সুযোগ নেই। অনুমতি নেবে না, আর রাস্তায় ফ্রি স্টাইল কর্মসূচি করবে আমরা মেনে নেব তা মনে করার কোনো কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেউ ত্রুটিপূর্ণ বলেনি। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নয়। নির্বাচনের ফলাফলের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। সংসদের প্রথম অধিবেশনেও যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করি। এর মানে কী দাঁড়ায়? আমাদের নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ বলেনি। সবাই একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেবে আওয়ামী লীগ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা জিএম কাদেরের সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে বক্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পার্লামেন্ট ফাংশনাল না হলে তিনি কেন এলেন? স্পিকারকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি যা বলেছেন মনে হয় তুলকালাম কাণ্ড ঘটাবেন। নিয়ম লংঘন করে তিনি কথা বলেছেন। তার কথা বলার যথেষ্ট সুযোগ ছিল সামনে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।