পাকিস্তানে অর্ধেকের বেশি আসনে এগিয়ে ইমরান সমর্থিতরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের অর্ধেকের বেশি আসনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৬৫ আসনের মধ্যে ১৩৯টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৫৫ আসনে জয় পেয়েছেন।

অন্যদিকে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ পেয়েছে ৪৩টি ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৩৫ আসনে জয় পেয়েছে। ৬টিতে জয় পেয়েছে অন্যান্য। এখনো ১২৬ আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। স্থগিত রয়েছে একটি।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নানা দিক থেকে প্রশ্ন উঠছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ভোট গণনা শুরু হলেও স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ১০৬টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া প্রথম দিকে যেসব প্রার্থী অনেক বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন এখন শেষ দিকে দেখা যাচ্ছে তারা হেরে যাচ্ছেন।

নির্বাচনের ফলাফল ম্যানুপুলেটিং বা কারসাজি করা হচ্ছে কি না তা নিয়েও সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। যদি তাই হয় তবে সেটি হবে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি বড় তামাশা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাকিস্তানের গণতন্ত্র, নষ্ট হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

ব্যাপক ধরপাকড়, অত্যাচার ও নিপীড়নের পরেও সবশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে ইমরান খানের সমর্থিত প্রার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন।

ফলে অনেকেই মনে করছেন এবারের নির্বাচনে কেউ সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। তাই জোট সরকার নিয়ে নানা জল্পনা ছড়াচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা




পটুয়াখালীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় চেয়ারম্যানসহ আহত ৮

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হবার পরই স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের উপর একের পর এক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটছে । নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত মহিপুর উপজেলার ৭নং লতাচাপলী ইউনিয়নের ৮ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম  করা হয়েছে ।

সর্বশেষ হামলার শিকার হয়েছে লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আনসার উদ্দিন মোল্লা (৫৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪৫)। আহত দু’জনই বর্তমানে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ হামলার ঘটনার পর থেকেই পটুয়াখালী-৪ আসনের অনান্য ইউনিয়নে নেতা কর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাকি আহতদের মধ্যে কেউ স্থানীয় চিকিৎসার কেউ উন্নত চিকিৎসা সেবা নিয়েছে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে নৌকার মনোনীত প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা অধ্যক্ষ মো: মহিব্বুর রহমান মহিব নির্বাচিত হয়। একই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল মার্কা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তিনবারের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার।

আ.লীগের কেন্দ্রীয় ঘোষণা ছিল, দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলেও দলের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সেই নিয়ম মেনে এলাকার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করেন লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আনসার উদ্দিন মোল্লা
তিনি জানান , এমপি থাকা অবস্থায় ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগ তেমন ভালো না রাখায় দলের নিয়ম যেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়। তার ইউনিয়ন থেকে নৌকার পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয় তরুণ দল ও ছাত্র দলের নেতাদের বেশ কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গরা। বর্তমানে ছাত্রলীগের তকমা লাগিয়ে তারা সকলে মিলে এলাকায় সন্ত্রাসীর রাজত্ব কায়েম করছে।

বুধবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর গ্রামের বাড়ি থেকে শহরের বাড়িতে মোটরসাইকেলযোগে যাবার পথে আলিপুর বাজার সংলগ্ন অগ্রণী ব্যাংকের সামনে পৌঁছামাত্রই ওৎ পেতে থাকা ওই সকল ব্যক্তিরা হাতুড়ী দিয়ে হামলা চালায়। হাতুড়ী ও রডের আঘাতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা আনসার উদ্দিন মোল্লার বাম-ডান পায়ের ৩-২ স্থান ভেঙ্গে যায়। এবং ডান কাঁধ, বাহু ও পিঠে মারাক্তক জখম হয়। অপরদিকে হাতুড়ীর আঘাতে খাদিজা বেগমের বাম পা ভেঙ্গে যায়। বেশ কয়েকজন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলাসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত বলে জানান তিনি।

মোটরসাইকেল চালক মো: সোহেল রানা বলেন, এটা পরিকল্পিত হামলা। কারণ হঠাৎ হামলা করা হয়েছে। প্রথমে তার শরীরে তারপর পায়ে আঘাত করেছে। জ্যাকেট পরে থাকায় শরীরে বেশি আঘাত না পেলেও পায়ে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে তিনি পড়ে যায়। তখন হামলাকারীরা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করেছে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলটিও ভাংচুর করেছে।

অনুসন্ধানকালে বেড়িয়ে এসেছে, নির্বাচনের ২ দিন পর দুপুরে আলিপুর চৌ রাস্থায় হামালার শিকার হয়েছিল আহত আনসার উদ্দিন মোল্লার ছোট ভাই মো: মোশারেফ মোল্লা (৪০)। এর দু’দিন পর ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে হামলার শিকার হয় ইউপি শ্রমিক লীগের সদস্য মো: মালেক হাওলাদার (৫৫), আলীপুর বাজারে বসেই হামলার শিকার হয় জাহিদ হাওলাদার (২০),। পর্যায়ক্রমে বটতলা নামক স্থানে হামলার শিকার হয় মো: আসাদ মোল্লা (২৩), অপু গাজী (২৬) ও তার মা, ইসমাইল মাঝি (২৫)। এছাড়া মাস কয়েক আগে আলীপুর বাজারে বসে হালিম হাওলাদারের পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়।

অপর এক সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী-৪ আসনের কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১৮ ইউনিয়নের মধ্যে ১৬ ইউপি চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগলের সমর্থক ছিলেন। এ সব ইউনিয়নে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পটুয়াখালী-৪ আসনজুড়ে নানা অপরাধমূলক কার্যক্রমের অনুসন্ধান চলছে।




পাকিস্তানে ফল গণনা শুরু: ইমরান-নওয়াজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : এতো দমনপীড়নের পরেও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ ১১-১২ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও ফলাফল ঘোষণা বন্ধ ছিল। অবশেষে আজ (৯ ফেব্রুরারি) সকাল থেকে ভোটের ফলাফল আসতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের লাইভ প্রতিবেদনে এখন পর্যন্ত ১২টি আসনের ফলাফল জানানো হয়েছে। এরমধ্যে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) চারটি আসন পেয়েছে।

এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পাঁচটি আসন পেয়ে এগিয়ে আছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র পার্থীরা। এ ছাড়া পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) তিনটি আসনে জয় পেয়েছে।

ডনের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৫ আসনে ভোট হয়। নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন প্রার্থী নিহত হওয়ায় একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়।

দেশটিতে কোনো দলকে এককভাবে সরকার গঠন করতে চাইলে ১৩৪টি আসনে জিততে হবে। এর আগে পিটিআই দাবি করে, নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতেই বিলম্ব করা হচ্ছে।




৫৪৯ জন নারী হতে চান সংরক্ষিতে আসনে এমপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দলীয় ফরম কিনেছেন এক হাজার ৫৪৯ জন নারী। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন উপলক্ষে মোট সাত কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে সংরক্ষিত আসনে ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ। এ কার্যক্রম চলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শেষ দিনেও ২১৭ জন নারী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর বিপরীতে আয় হয়েছে এক কোটি আট লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এর আগে বুধবার দ্বিতীয় দিন ৫২২টি ফরম বিক্রি করা হয়। এ থেকে আয় হয় দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা। মঙ্গলবার প্রথম দিন বিক্রি হয়েছিল ৮১০টি ফরম, যা থেকে আয় হয়েছিল চার কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ভোট হয় ২৯৯টি আসনে। তার মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৩টি, ১৪ দলীয় শরিক জাসদ একটি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি, কল্যাণ পার্টি একটি আসন পেয়েছে। জাতীয় পার্টি ১১টি আসন পেয়ে আবারও প্রধান বিরোধী দল হয়েছে। তবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২টি আসন পেয়েছেন স্বতন্ত্র এমপিরা।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচনের ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে।

ফলে আওয়ামী লীগ নিজ দলের এবং স্বতন্ত্রদের মিলে মোট ৪৮ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য দিতে পারবে। বাকি দুটি আসনে নারী সংসদ সদস্য দিতে পারবে জাতীয় পার্টি (জাপা)।




পাকিস্তান নির্বাচন : দুই আসনে এগিয়ে পিটিআই প্রার্থীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন শেষে এখন ভোট গণনা চলছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।



আবার হাসপাতালে খালেদা জিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টায় খালেদা জিয়ার গাড়ি তার গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।




পাকিস্তানের নির্বাচন, ক্ষমতার নাটাই কি সেনাবাহিনীর হাতেই?

চন্দ্রদীপ অনলাইন: মুসলিম লীগের নেতা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। দিনটি ছিল মঙ্গলবার। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁকে কারাবন্দী স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খানের সরকার।

সেই ঘটনার ঠিক ৬২ বছর পর, একই তারিখ ও একই দিনে কারাগারে বিশেষ আদালত বসিয়ে পাকিস্তানের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুটি ঘটনার সাযুজ্য নিয়ে ফরাসি লেখক জ্যঁ ব্যাপতিস্ত আলফনসে কা’র একটি উক্তি মনে পড়ে যায়। তিনি বলেছিলেন, ‘বিষয় যতই পরিবর্তিত হোক, ঘুরে ফিরে আগের মতই থাকে।’ ধরা যাক, আপনি ভাবলেন, নিজেকে অনেক পরিবর্তন করে ফেলেছেন। কিন্তু, দেখা গেল আপনি আগের মত করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং আগের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

পাকিস্তানেও যেন একই পরিস্থিতি। আপাতদৃষ্টে দেশটি যতই গণতন্ত্রের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করুক, ঘুরে ফিরে স্বৈরশাসন টিকে থাকছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ তোলা হলেও সোহরাওয়ার্দী ও ইমরান খানকে কারাবন্দী করার কারণ ছিল ভিন্ন। তা হলো, স্বৈরশাসনের কবল থেকে পাকিস্তানের মুক্তির পক্ষে কথা বলা। গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলে পরিচিত সোহরাওয়ার্দী সব সময় চেয়েছেন, পাকিস্তান স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পাক। ইমরান খানও তাঁর ক্ষমতার শেষ দিকে এসে সেনাবাহিনীর বিরাগভাজন হয়েছেন একই কারণে। তবে সেনাবাহিনীর প্রিয়পাত্র হিসেবেই ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইমরান খানের দলের প্রতীক ‘ব্যাট’ কেড়ে নিয়েছে। সরকার দলটির নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারেও নামতে দেয়নি সেভাবে। বিপরীতে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে দেশের বাইরে থেকে ডেকে এনে সাজা স্থগিত করে নির্বাচনে ব্যাপক সুবিধা দিয়েছে দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিশ্লেষকেরাও মনে করছেন, পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন নওয়াজ শরিফ।

তবে এই নির্বাচনে যেই জয়ী হোক না কেন, পাকিস্তানের ক্ষমতার নাটাই সেনাবাহিনীর হাতেই থেকে যাবে। দেশটির কার্যত শাসক কিংবা কিংমেকার হিসেবে ভূমিকা রয়েই যাবে তাদের। পাকিস্তানের ইতিহাসজুড়েই এর প্রমাণ মেলে। অন্তত ৪ দফায় সামরিক শাসন জারি করা হয় এই দেশে। স্বাধীনতার পর দেশটির বেশিরভাগ সময় কেটেছে স্বৈরশাসকদের হাতে।

সামরিক শাসনের বাইরেও বাকি সময় দেশটির শাসনকাজে সেনাবাহিনী সরাসরি না হোক, পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। কখনো সমর্থিত রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে, কখনো নেতার মাধ্যমে। আবার কখনো কখনো সেনাবাহিনীর প্রিয়রা তাদেরই বিরুদ্ধে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন- ইমরান খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো। বিনিময়ে ভুট্টোকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ইমরান খানও জেলে বন্দী। তবে নওয়াজ শরিফের মতো অনেকেই আবার সমঝোতা করে ক্ষমতার মসনদে ফিরে এসেছেন বারবার।

চীনের কিংবদন্তি নেতা মাও সে তুং বলেছিলেন, ‘দলই সব সময় বন্দুকের নল নিয়ন্ত্রণ করবে, বন্দুকের নল যেন কখনো দলকে নিয়ন্ত্রণ না করে’। কিন্তু পাকিস্তানের বেলায় বিষয়টি উল্টে গেছে। বন্দুকের নলই দলকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। পাকিস্তানের কয়েক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, বন্দুকই সব সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই বন্দুকের ওপর নিজেদের প্রাধান্য কায়েম করতে পারেনি। ইমরান খান পরিস্থিতির চক্রে বন্দুকের নলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলাফল হিসেবে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত তো বটেই, কারাভোগও করতে হয়েছে।

গত বছরের আগস্টে দেওয়া তোশাখানা মামলার রায়ের পর জানুয়ারির শেষ দিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে ইমরানের বিরুদ্ধে তিন মামলায় যথাক্রমে ১০, ১৪ ও ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত পাকিস্তানের কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর গভীর কারসাজি। বিচারব্যবস্থায় সেনাবাহিনী ও দোসরেরা গভীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাই হোক না কেন, ক্যাঙারু আদালত তাড়াহুড়ো করে যে রায় দিয়েছে তা ইমরান খানের নির্বাচনী ভাগ্য সম্পূর্ণ ও অপরিবর্তনীয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং এটি সেনাবাহিনীর ইচ্ছারই প্রতিফলন।

এই রায়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ইমরান খানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একইসঙ্গে তাঁকে আর্থিক ও নৈতিকভাবেও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে প্রমাণের প্রয়াস পেয়েছে। একগুচ্ছ রায়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও তার দোসরেরা পাকিস্তানের গণপরিষদ নির্বাচনে ইমরান খানের জন্য সামান্যতমও সুযোগও রাখেনি।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান যখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছিলেন তখন তাঁর প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরিফের দল গোপনে ও নীরবে সেনাবাহিনীর আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছিল। দেশে ফিরে নওয়াজ শরিফও সেনাবাহিনীর কোনো সমালোচনাই করেননি। কেবল নওয়াজ নন, পাকিস্তানের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপিও সেনাবাহিনীকে চটানোর বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনীকে ‘নির্বাচনের ফলাফলের নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে মেনেই নিয়েছে দলগুলো।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদ স্যামুয়েল ফাইনার তাঁর বই ‘দ্য ম্যান অন হর্সব্যাক: দ্য রোল অব দ্য মিলিটারি ইন পলিটিকস’ বইয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে সামরিকবাহিনী সব সময়ই দুটি ভয়াবহ দুর্বলতায় ভোগে। এই দুর্বলতা দুটি তাদের বেসামরিক সহযোগিতা ছাড়া নিজ নামে প্রকাশ্যে শাসন চালানো থেকে বিরত রাখে। তবে এ ক্ষেত্রেও কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে।’

স্যামুয়েল ফাইনার বলছেন, ‘সেনাবাহিনীর দুটি দুর্বলতার একটি হলো— প্রশাসন বা রাষ্ট্র পরিচালনায় সশস্ত্রবাহিনীর কারিগরি দক্ষতার অভাব। তাদের যে দক্ষতা তা দিয়ে কেবল একটি আদিম সম্প্রদায়কেই শাসন করা সম্ভব। দ্বিতীয়টি হলো—বৈধতার অভাব। অর্থাৎ, শাসন করার ক্ষেত্রে তাদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’ পাকিস্তানে মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূতও স্যামুয়েল ফাইনারের মতো করেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাঁর বোধ ছিল, পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে সেনাবাহিনীর ‘বুদ্ধু জেনারেলরাই’ যথেষ্ট।

গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো- পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজেদের দেশপ্রেম, জাতীয় স্বার্থ, পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতির চূড়ান্ত প্রণয়নকারী এবং নির্বাহক বলে মনে করে। একইসঙ্গে ক্ষমতা ও শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি নিজেদের কবজায় নিতে তারাই ইমরান খান ও সর্বশেষ পিডিএম জোটের হাইব্রিড শাসনব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে। অথচ ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান যখন দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন, তখনো এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।

সরকার ও শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনী এমনভাবে জেঁকে বসেছে, শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে পিডিএম সরকার সেনাবাহিনীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে শাহবাজের পিডিএম সরকার। ফলে, এখন পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ২০১৮ সালের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

যদিও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা প্রচারণার সময় নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি দেশের বিভিন্ন বিষয় যেমন, সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক, বৈদেশিক নীতি, বেলুচিস্তানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, বেশ কয়েকটি পশতু অঞ্চলে বিপর্যয়কর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু আগামী দিনে কোনো সরকারই এই বাস্তবতা এড়িয়ে যেতে পারবে না। কোনো সুযোগই নেই।

ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য, বাজেটে সামরিক বরাদ্দ বৃদ্ধির আগ্রাসী ক্ষুধা, অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে সাংবিধানিক অবস্থান ইত্যাদি কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতেও সেনাবাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এই অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দলগুলো দেশটির সংকট নিরসনে কোনো ইশতেহারই ঘোষণা করেনি। যাও করেছে, সেগুলো যতটা না নীতি নির্ধারণী, তার চেয়ে বেশি ‘ইচ্ছাপূরণ’ বলেই বেশি প্রতিভাত হয়। ফলে, সরকার যেই আসুক না কেন পাকিস্তানের সরকার পরিচালনার নির্দেশনা আসবে সেনাবাহিনী থেকেই।

পাকিস্তানের ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ খান জুনেজো ও মীর জাফরুল্লাহ খান জামালির মতো দুর্বলতম প্রধানমন্ত্রীরাও যথাক্রমে প্রতাপশালী স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউল হক ও জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে মতভেদ করেছিলেন। সাংবিধানিক কর্তৃত্ব জাহিরের চেষ্টা করায় নওয়াজ শরিফকেও সেনাবাহিনী তিনবার ক্ষমতাচ্যুত করে। সর্বশেষ, দেশের গণতন্ত্র থেকে ইমরান খানকে নির্বাসিত করতে গণতন্ত্রকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ রয়েছে। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে শত্রুতো বটেই, এমনকি বন্ধুদেরও তিনি ছাড় দেননি। কিন্তু তারপরও পাকিস্তান সরকারের উচিত ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

ইমরান খানকে দূরে রাখার জন্য সেনাবাহিনী যেভাবে নির্বাহী বিভাগ, সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাচনী যন্ত্র নিয়ে কারসাজি করেছে তা যে কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা নয়, ভবিষ্যতে অস্থিতিশীল ও রাজনৈতিকভাবে বিশৃঙ্খল পাকিস্তান সৃষ্টির মঞ্চও তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় অকার্যকর গণতন্ত্র অনেক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন, ‘বিপজ্জনক বুদ্ধুরাই’ দেশটিতে রাজত্ব করবে।

দ্য ওয়্যার । 




স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়: সৌদি আরব

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: অনেক দিন ধরেই ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

তবে এর আগের দিন মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সৌদি আরব ও ইসরাইল আগ্রহী বলে তারা জানতে পেরেছেন।

এরপরই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিবৃতি দিল। এতে বলা হয়েছে, কিরবির ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনের বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা ওয়াশিংটনকে পরিষ্কার করতে এ বিবৃতি দেওয়া হলো।

এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনও সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সৌদি যুবরাজ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে তার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি চান গাজায় যুদ্ধের অবসান হোক।

গত সোমবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের বৈঠক হয়। এর পরদিন মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন এসব কথা বলেন।




পটুয়াখালীতে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি,আটক ১

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে লোহালিয়া ইউনিয়নের ইদ্রাকপুর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী কামরুল ইসলাম তালুকদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডাকাতদের মারধরে সুজন তালুকদার নামে একজন আহত হয়েছে। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুয়েত প্রবাসী কামরুল তালুকদারের আপন ছোট ভাই ফিরোজ তালুকদার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াই টার দিকে ভাতিজা শুভ ফোন দিয়ে যে বাড়িতে ডাকাত এসে আমার হাত পা বেধে ২১ ভরি স্বর্ন ও নগদ আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায়।

পরে সদর থানায় ফোন দিয়ে পুলিশকে জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওদের বাড়িতে চলে যাই। গিয়ে আহত সুজনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

আহত সুজন জানান, রাত আড়াইটার দিকে বাসার জানালার গ্রিল কেটে ১০/১২ জনের মতো ডাকাত দল বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। পরে আমাদের হাত পা বেধে মারধর করে তোষকের ভেতরে আটকিয়ে রাখে। ডাকাতদল প্রায় ঘন্টা খানেক সময় বাসার ভেতরে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন আলমারি, শোকেজ ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে জিনিসপত্র তছনছ করে।

এসময় বাসায় থাকা ২১ ভরি স্বর্নালঙ্কার ও দোকানের বেচাকেনার আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায় তারা। পরে ৯৯৯ পুলিশকে কল দিলে পুলিশ এসে তদন্ত করে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জসিম জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাতেই আমরা ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেছি। আমাদের কাছে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে।




কুয়াকাটায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হাতুড়িপেটা

মো: আল-আমিন, (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরের লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

আহত ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ, স্থানীয় যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ফকিরের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

বুধবার রাত ৮টার দিকে আলীপুরে রাস্তায় আনছার উদ্দিনের ওপর হামলা হয়। তিনি লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার স্ত্রীও এ সময় সঙ্গে ছিলেন। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত থেঁতলে দিয়েছে। এ ছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়। এ সময় তার স্ত্রীও আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়রা আনছার উদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন বলেন, আলীপুরে বাড়িতে ফেরার পথে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম ফকিরের নেতৃত্বে আলম ফকির, সোহেল ফকির, সেলিম ফকির, শাহীন, সুমন, রাজুসহ আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন বলে তার অভিযোগ।

কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক মুমসাদ সায়েম পুনাম বলেন, তার দুই পা ও কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রচুর রক্ত ক্ষরণও হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাকে।

আহত ইউপি চেয়ারম্যানের বড় ভাই কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, হামলার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।