গলাচিপায় নতুন গেজেটভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় ২০২৪ সালের গেজেটভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ১২ (ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মো.নুরুল ইসলাম ধলা মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পানপট্টি ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মেলকার, রতনদ তালতলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খাঁন।

অনন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২০২৪ সালে গেজেটভূক্ত ১৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

গেজেটভূক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, স্বাধীনতার অনেক বছর পরে হলেও আমাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত করায় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।




মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে: ওবায়দুল কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ভি মান্টিটস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।

মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ছে, এমন একটা কথা শোনা যাচ্ছে, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন। তবে এখানে সময় মতো কিছু জায়গায় যেমন শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় (যেখানে এখনও মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি) এগুলোতে কোনো না কোনো সময় মন্ত্রী আসবে।’

তিনি বলেন, ‘এটা আমার মনে হয় সংরক্ষিত মহিলা আসনগুলো আসার পরে, মন্ত্রী আসতে পারে। সেই হিসেবে এরপরে চিন্তা-ভাবনা। প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারে তিনি এটা করবেন।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি, স্বতন্ত্র ৬২ এবং জাতীয় পার্টি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে।

গত ১১ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

খালি রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আরও নতুন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২টি গাড়ি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, ভোট হবে আগামী ১৪ মার্চ। অবশ্য সংরক্ষিত নারী আসনে সাধারণত নিজেদের প্রাপ্য আসনগুলোয় একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় দল বা জোটগুলো। ফলে এখানে ভোটের প্রয়োজন হয় না।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।




তিন মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :  রমনা মডেল থানার পৃথক তিন মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে গ্রেফতার দেখান।

অসুস্থ থাকায় আলতাফকে শুনানিতে ভার্চুয়ালি কারাগার থেকে উপস্থিত দেখানো হয়। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি তার গ্রেফতার ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এরপর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালত শুনানির জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

গত ২৮ অক্টোবরের বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় চারটি মামলা হয়। গত ৫ নভেম্বর ভোরে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। ওইদিন তাকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে নাশকতা ও ভাঙচুরের এক মামলায় আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবু আনছার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ২৯ নভেম্বর এ মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে এ মামলাটিতে জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

 




১৪ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত আসনের জন্য সাক্ষাৎকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেবে আওয়ামী লীগ। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গণভবনে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ওইদিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফরম বিক্রি শুরু হয়।

সংসদের সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দলীয় ফরম কেনেন এক হাজার ৫৪৯ জন নারী। মোট সাত কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটি।




পটুয়াখালীতে আলোচনায় অনেকে, মাঠে তিনজন

বরিশাল অফিস :: মনোনয়নপত্র জমার আগেই নির্বাচনী হাওয়ায় সরব পটুয়াখালী শহর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে পৌরশহর। রাস্তা, অফিসসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগের পাশাপাশি উঠান বৈঠক ও মিছিলও চলছে। তফসিল ঘোষণার আগে ছয়জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও মাঠে সক্রিয় বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রসহ তিনজন। এ ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য অর্ধশতাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

জানা গেছে, পটুয়াখালী পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি। সেবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে বিজয়ী হন বর্তমান মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হেরে যান। ওই সময়ের মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী কাজী আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছিলেন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১১ সালে।

চলতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বর্তমান ও সাবেক দুজন মেয়র ছাড়াও মাঠে সরব ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক জেলা বাস ও মিনি-বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজউদ্দিন মৃধা, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পানজা বিড়ি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনায়েত হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মো. ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া।

নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সিদ্ধান্তে তিনজন ছাড়া সবাই নীরব হয়ে যান। সাবেক মেয়র সফিকুল ইসলাম ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও মো. এনায়েত হোসেন এখনও মাঠে সরব। তারা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা করছেন। তাদের পক্ষে চলছে মিটিং-মিছিল।

১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত পটুয়াখালী পৌরসভা ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১৩২ বছরের এই শহরে ধাপে ধাপে উন্নয়ন হলেও গত ৫ বছরের কিছু উন্নয়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে শহরের প্রবেশপথ কালিকাপুর চৌরাস্তা থেকে সার্কিট হাউস মোড় পর্যন্ত মূল সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, নান্দনিক সেলফি রোড-যেটি কাশ্মীরের ছবি বলে চালিয়েছিল ভারত, দুটি দৃষ্টিনন্দন লেক আধুনিকায়ন শহরের চিত্রকে বদলে দিয়েছে। তেমনি পুরান শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও বেহাল থাকার চিত্রও রয়েছে।

বর্তমান মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহমেদের দাবি গত ৫ বছরে পটুয়াখালী শহরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত ১৩০ বছরের ইতিহাসে হয়নি। সারা দেশে পটুয়াখালী এখন একটি মডেল শহর। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নয়নের পাশাপাশি নগর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছি।’

আর সাবেক মেয়র ডা. সফিকুল ইসলামের দাবি বর্তমান শহরের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার বেশিরভাগ বরাদ্দ তার সময়ের। বর্তমান মেয়রের মেয়াদে সুষম উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সুষম উন্নয়ন করব।’

সম্প্রতি সরকারি জমিতে বসবাসকারী শহরের কিছু মানুষকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে বর্তমান মেয়রের দাবি এটা জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে হয়েছে। এখানে তার করার কিছু ছিল না, তবুও তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর সাবেক মেয়রের দাবি তার সময়ে এই শহরে কাউকে বাস্তুচ্যুত করা হয়নি, তিনি নির্বাচিত হলে তাদেরকে পুনরায় পুনর্বাসিত করবেন। উভয়ই নিজ নিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

পিছিয়ে নেই এনায়েত হোসেনও। তিনিও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এনায়েত হোসেন বলেন, ‘পটুয়াখালীকে একটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত পৌরসভা হিসেবে গড়তে চাই। আমার প্রত্যাশা জনগণ এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে বলে প্রত্যাশা।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে প্রার্থীকে সমর্থন না জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেও জেলা আওয়ামী লীগ ডা. সফিকুল ইসলামকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দিয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জরুরি সভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে কালক্ষেপণ না করে বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে সফিকুল ইসলামকে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তাদের ভোট ও দোয়া চেয়ে পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে শহর। প্রতিদিন চলছে গণসংযোগ। পিছিয়ে নেই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন।

বর্তমানে পটুয়াখালী শহরের লোকসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী ভোটার ৫০ হাজার ৬৯৯। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৯৪৭ আর নারী ভোটার ২৬ হাজার ৭৫০ জন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ইভিএমের ভোটগ্রহণ আগামী ৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি। বাছাই-১৫ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ২২ ফেব্রুয়ারি। আর ২৩ ফেব্রুয়ারি হবে প্রতীক বরাদ্দ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান বলেন, ‘এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। যারা রঙিন পোস্টার ও ব্যানার টানিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন, সেসব অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করছি।’




এবারের নির্বাচন কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তার জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। এই নির্বাচনকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি। যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের কাছে প্রশ্ন, কী কী কারণে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি সেটা বলতে হবে।



পাকিস্তানের ‘নায়ক’ ইমরান হলে ‘খলনায়ক’ আাসিফ মুনির

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পাকিস্তানের নির্বাচন পরবর্তী সামগ্রিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে ইমরান খানকে যদি নায়ক বলা যায় তাহলে নিশ্চিত খলনায়ক হবেন সেনাপ্রধান আসিফ মুনির। কেননা ইমরান খান এবং তার দলের পরাজয় নিশ্চিত করার জন্য সামর্থ্যের সবটুকু করেছেন এই সেনা প্রধান।  কিন্তু  ব্যালটের কাছে বরাবরের মতো পরাজিত হয়েছে বুলেট।

সকল ষড়যন্ত্রের ছক ছিন্ন করে এগিয়ে আছেন ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এমতাবস্থায় সামরিক বিবৃতি দিয়েছেন সেনাপ্রধান আসিফ মুনির।

যাতে তিনি বলেন, পাকিস্তানকে নির্বাচন পরবর্তী ‘নৈরাজ্য ও মেরুকরণ’ থেকে সরে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানকে নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

আসিম মুনির বলেন, জাতির নৈরাজ্য ও মেরুকরণের রাজনীতি থেকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য স্থিতিশীল হাত এবং একটি নিরাময় স্পর্শ প্রয়োজন।

জানা গেছে, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের। ২৬৬ আসনের একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী গুলিতে নিহত হওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ হয়েছে ২৬৫ আসনে।




আ.লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা আজ




নিরঙ্কুশ জয় দাবি করে ইমরান খানের ‘বিজয়ী ভাষণ’

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: পাকিস্তানের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পর এবার বিজয়ী ভাষণ দিলেন দেশটির আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে এই নির্বাচনে জাতির নজিরবিহীন লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই লড়াইয়ের মাধ্যমে পিটিআই-এর নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে বলে ভাষণে বলা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি ইমরান খানের এই ভাষণ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের মামলায় তিনি আদিয়ালা কারাগারে বন্দী আছেন।

এদিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৬৫ আসনের মধ্যে ২৪১ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৯৮টি আসন। স্বতন্ত্রদের অধিকাংশই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সমর্থিত। আর নওয়াজ শরিফের পিএমএন-এল পেয়েছে ৬৭টি আসন।

অপরদিকে, বিলাওয়াল ভূট্টোর পিপিপি পেয়েছে ৫১টি আসন ও এমকিউএম দল পেয়েছে ১৫টি আসন। বাকি দলগুলো পেয়েছে মোট ১০টি আসন। এখন পর্যন্ত ২৪টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি।

আরেকটি আসনের প্রার্থী ভোটের আগেরদিন নিহত হওয়ায় ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রেখেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

এর আগে ফল ঘোষণা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন নওয়াজ শরিফ। বিজয়ী ভাষণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তাদের সঙ্গে জোট গঠন করার বিষয়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

এর আগে ফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার ভোট গণনায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগাযোগে গোলযোগের কারণে ভোট গণনায় দেরি হচ্ছে।




ইমরানপন্থিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে এককভাবে সরকার গঠন করতে চাইলে অন্তত ১৩৪ আসনে জয়লাভ করতে হবে। তবে ইমরান খানের তেহরিক-ই-পাকিস্তান (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন) এবং বিলওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এখনো সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, দেশটির জাতীয় পরিষদের মোট ২৬৫টি আসনের মধ্যে ২১০টি আসনের ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৮৯টি আসনে জয়লাভ করেছেন।

অন্যদিকে ৬০টি আসনে জয় পেয়েছে নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন এবং পিপিপি জয় পেয়েছে ৪৭টি আসনে।

অর্থাৎ কোনো দলই সরকার গঠনের জন্য একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তাই সরকার গঠন করতে অবশ্যই জোট গঠন করতে হবে দলগুলোকে।
তবে ইতোমধ্যেই পিটিআই নেতা গহর জানিয়েছেন, দলটি কারও সঙ্গে জোট করতে চায় না।

নিয়মানুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যদি অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট করতে চান তবে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই তিনদিনের মধ্যে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে যদি ইমরানপন্থিরা নওয়াজের দলের সঙ্গে যোগ দেন তাহলে নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

জাতীয় পরিষদে স্বতন্ত্রদের জন্য একটি বড় অসুবিধা হলো, তারা সংরক্ষিত আসনগুলো থেকে বঞ্চিত হবেন। পাকিস্তানের সংরক্ষিত আসন মোট ৭০টি। এর মধ্যে নারীদের জন্য ৬০টি আর সংখ্যালঘুদের জন্য ১০টি আসন বরাদ্দ। এই আসনগুলো সাধারণত দলীয় আসনের ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়। যেহেতু স্বতন্ত্ররা কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত নয় তাই তারা কোনো সংরক্ষিত আসন পাবেন না।