তৃতীয় বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কে জিতছে?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার ট্যাংক ও সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে বীরদর্পে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগোতে শুরু করেছিল। তবে সেই সময় ইউক্রেনীয়রা অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তুলনামূলক অধিক শক্তিশালী শত্রুকে প্রতিহত করে রাজধানীর পতন এড়াতে পেরেছিল। কিন্তু, যুদ্ধের তৃতীয় বছরে এসে অনেকটা ধীর হয়েছে ইউক্রেনীয় দর্প। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই যুদ্ধ কি আরও দীর্ঘায়িত হবে? কে জিতবে এই যুদ্ধে, নাকি মুখথুবড়ে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর দুই বছর পার হওয়া যুদ্ধের প্রথমদিকের চেয়ে ইউক্রেনকে এখন বেশ দুর্বল দেখাচ্ছে। দুই বছর পূর্ণ হওয়া যুদ্ধটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের মাটিতে হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত।

চাপের মুখে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা

টানা দুই বছর ধরে লড়াইয়ে ইউক্রেনের অনেক ছোট বড় শহর, গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের সেনারা। এদিকে পশ্চিমা সহায়তা কমে আসায় অস্ত্র সংকটেও পড়েছে তারা। এরই মধ্যে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা বারুদ তাদের ওপর বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ছে।

এদিকে এ বছরের শুরুতেই পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর আভদিভকা দখল করে ইউক্রেনের ভেতর দিকে আরও বেশ কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে গেছে। যেটাকে একটা বড় বিজয় হিসেবে দেখে রাশিয়া– কারণ কৌশলগতভাবে আভদিভকা শহরটি আরও ভেতরে অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।

কিয়েভ জানায় তারা সৈন্যদের জীবন রক্ষা করতেই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে এবং তাদের অস্ত্র ও সৈন্য সংখ্যা যে সেখানে অনেক কম ছিল সেটাও তারা লুকায় নি।

গত মে মাসে বাখমুট দখলের পর এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বিজয়। কিন্তু আভদিভকা উত্তর-পশ্চিমের দোনেৎস্ক থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে, ইউক্রেনের যে শহরটি ২০১৪ সাল থেকেই রাশিয়া দখল করে আছে।

তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যে লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া অভিযান শুরু করে, মিলিটারি ব্লগার এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা প্রচারণায় বলা হয় মাত্র ‘তিন দিনের মধ্যেই’ রাজধানী কিয়েভ দখল করা হবে, সেই তুলনায় এটা খুবই সামান্য অগ্রগতি।

যুদ্ধে কার সমর্থন কেমন?

গত দুই বছর ধরে ইউক্রেনের মিত্ররা প্রচুর পরিমাণ সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সাহায্য দিয়ে আসছে– কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলার এসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে, আর ৭৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পশ্চিমাদের সরবরাহ করা ট্যাঙ্ক, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূর পাল্লার আর্টিলারি ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। কিন্তু, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহায়তার পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে এবং ইউক্রেনকে আদতে কতদিন তাদের মিত্ররা সহায়তা চালিয়ে যেতে পারবে, সে নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ফেব্রুয়ারিতে নানা আলোচনা ও হাঙ্গেরির সাথে দর কষাকষির পর ৫৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়তার অনুমোদন দিয়েছে। হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ভিক্টর অরবান, যিনি পুতিনের ঘনিষ্ঠ, তিনি প্রকাশ্যেই ইউক্রেনকে সহায়তার বিরোধীতা করেন।

এছাড়া ইইউ মার্চের মধ্যে যে মিলিয়ন আর্টিলারি সরবরাহ করতে চেয়েছে কিয়েভে সেটার অর্ধেক করতে সমর্থ হবে।

রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশি বেলারুশ, যাদের অঞ্চল ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইউক্রেনে প্রবেশ করছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ বলছে, ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করছে। যদিও ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়াকে অল্প কিছু ড্রোন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

মানুষ বিহীন উড়ন্ত যান বা ইউএভি কার্যকরভাবে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্য আঘাত হানতে সমর্থ হয়েছে। আর এই যুদ্ধে আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিয়ে হামলার সামর্থ্য থাকায় দু’পক্ষ থেকেই ড্রোনের বেশ চাহিদা রয়েছে।

রাশিয়ার লক্ষ্য কি বদলে গিয়েছে?

এখনও বেশিরভাগের বিশ্বাস যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুরো ইউক্রেন পেতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সাথে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আবারও এখানকার ইতিহাস ও সংঘাতের ব্যাপারে তার বিতর্কিত মতামত তুলে ধরেন।

তিনি অনেকদিন ধরে কোনোরকম প্রমাণাদি ছাড়াই বলে আসছেন যে ইউক্রেনের সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে পূর্বে দনবাস অঞ্চলের মানুষদের রাশিয়ার নিরাপত্তার দরকার আছে। যুদ্ধের আগে তিনি একটি দীর্ঘ নিবন্ধ লেখেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে বলেন রাশিয়ান এবং ইউক্রেনিয়ান আসলে “একই জনগোষ্ঠী”।

পুতিন বলেন, ইউক্রেনকে তিনি চান ‘সামরিক বাহিনী বিলুপ্ত’ করে একটি ‘নিরপেক্ষ’ দেশ হিসেবে দেখতে, এবং একইসাথে ন্যাটো যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এই অঞ্চলে সেটার বিরোধীতা করেন তিনি।

একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ইউক্রেন কখনোই কোন সামরিক জোটে ছিল না। তাদের যে রাজনৈতিক লক্ষ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে যোগদান এবং ন্যাটোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠতা অর্জনে যে আলোচনা চলছিল, এই দুটো বিষয়েরই সফলতা যুদ্ধ শুরুর পর এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এই লক্ষ্যগুলি ইউক্রেনকে রাষ্ট্র হিসেবে শক্তিশালী করবে এবং যেকোনও ভূরাজনৈতিক প্রকল্প, সেটা হতে পারে কোনভাবে আবারও সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা, তা থেকেও রক্ষা করবে।

যুদ্ধ কী দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে?

যেহেতু কোনও দেশই আত্মসমর্পণ করবে বলে মনে হয় না এবং পুতিনই আবার ক্ষমতায় থাকবেন বলে মনে হচ্ছে, বিশেষজ্ঞদের অনুমান এটা একটা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্লোবসেক বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাব্য ফলাফল পর্যালোচনা করেছে।

আর দ্বিতীয় সম্ভাব্য ফলাফল হলো- বিশ্বের অন্যান্য অংশেও সংঘাত বাড়বে, যেমন মধ্যপ্রাচ্য, চীন-তাইওয়ান এবং বলকানদের সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা ছড়াবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ আরো দীর্ঘ হবে এবং দু’পক্ষেরই হতাহতের সংখ্যা বাড়বে।

আরও যে দু’টি সম্ভাব্য ফলের কথা উঠে এসেছে, যেগুলোর সম্ভাবনা খুবই সামান্য, তার একটা হলো- ইউক্রেনে সামরিক দিক থেকে কিছুটা অগ্রসর হবে, কিন্তু যুদ্ধে শেষ করার মতো পরিস্থিতিতে যেতে পারবে না। অথবা, ইউক্রেনের মিত্রদের সমর্থন ফুরিয়ে আসবে এবং তারা একটা সমঝোতায় যেতে বাধ্য করবে।

তবে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কী হয় এবং একই সাথে অন্যান্য যুদ্ধ বিশেষত ইসরায়েল-হামাস সংঘাত কোনদিকে গড়ায় এবং সেটা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মিত্রদের কীভাবে প্রভাবিত করে, সেসবের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

এই যুদ্ধে কার ক্ষয়ক্ষতি বেশি?

বিভিন্ন জরিপ বলছে, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের বেসমারিক মারা গেছে ১০ হাজারেরও বেশি। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, ইউক্রেনের প্রতি তিন জনের মধ্যে একজন বাস্তুচ্যুত। দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত ৫০ লাখ আর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হয়েছে ৬০ লাখের বেশি।

সংঘাতের প্রথম বছরই ব্যাপক ধ্বস নামে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে। দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছে ইউক্রেনের এক-চতুর্থাংশ মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে দেশটির কৃষিব্যবস্থা। বেশির ভাগ জমিতেই পোতা রয়েছে রাশিয়ার স্থল মাইন। যে কারণে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ কৃষিজমিই।

রাশিয়া-ইউক্রেন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংঘাতের কারণে ভুগতে হচ্ছে গোটা বিশ্বকেই। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি তেল ও খাদ্য রপ্তানি। যার প্রভাব পড়েছে সবক্ষেত্রে। একদিকে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট।

সংঘাত বন্ধে কয়েকবার আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। উল্টো হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। পশ্চিমা অস্ত্রে পাল্টা জবাব দিয়েছে ইউক্রেনও।

তবে, বিশ্লেষকদের মত, ইসরায়েল-গাজা ইস্যুই এখন পশ্চিমাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। ফলে, ইউক্রেনের প্রতি তাদের সেই সমর্থনে ভাটা পড়তে শুরু করেছে।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা এবং রয়টার্স




পুলিশ কারণে পরিবারের সদস্যদের প্রাণ বেঁচেছিল : আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

বরিশাল অফিস :: বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী) ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পূর্বে ঘাতকদের দোতলায় উঠতে বাঁধা প্রদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমানকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়; বাঙালি জাতির সেই দুর্বিসহ রাতে আমাদের মিন্টু রোডের বাসায় ঘাতকরা নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ভোরে রমনা থানা পুলিশ সদস্যরা আমাদের বাড়িতে এসে ঘাতকের নির্মম বুলেটে গুরুত্বর আহত আমার স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোনসহ অন্যান্যের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। একারণেই আমার পরিবারের আহত অনেকেরই প্রাণ রক্ষা হয়েছিল।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আরও বলেছেন, এরপূর্বে বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহবানে সারাদিয়ে পুলিশ সদস্যরা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ‘থ্রি-নট-থ্রি’ রাইফেল হাতে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। যেকারণে পাকহানাদার বাহিনী সারদা পুলিশ একাডেমিতে নিরস্ত্র পুলিশ সদস্যদের নির্বিচারে হত্যা করে।

এখনও দেশের প্রতিটি ক্লান্তি লগ্নে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী নিজেদের জীবন উৎস্বর্গ করে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু একটি জনবান্ধব, আধুনিক, পেশাদার ও চৌকস পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। তিনি শূন্যহাতে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেও পুলিশের বেতন বৃদ্ধি করেছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম নারী পুলিশ নিয়োগ দিয়েছিলেন। জাতির পিতাকে হত্যার পর স্বৈরশাসকেরা পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে আর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। যেকারণে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার ধারাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকেও স্মার্ট হতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের সদ্য পদন্নোতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি বরিশালের কৃতী সন্তান বশির আহমেদ পিপিএম বার স্ব স্ত্রীক শুক্রবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে সাংসদের আগৈলঝাড়ার সেরালস্থ বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসেন।

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাসহ দলীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় উল্লিখিত কথাগুলো বলেছেন, আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। সভায় বাংলাদেশ পুলিশের সদ্য পদন্নোতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি বশির আহমেদ পিপিএম বার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ সেবায় নিজেকে উৎস্বর্গ করার অঙ্গীকার করেছেন।

অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, বানরীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম ফারুক, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ শিকদার বাচ্চু, পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে জমে উঠছে জেলা বার’র নির্বাচনী প্রচারণা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির  ২০২৪-২০২৫ খ্রিঃ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ নয়টি পদে আওয়ামীলীগের বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের ৮ জন  ও বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৯ জন মোট ১৭ জন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারনা জমে উঠেছে।

প্রার্থীরা কোর্ট চলাকালিন সময় সহকর্মী আইনব্যবসায়ীদের কাছে পৃথক পৃথক ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি গলাচিপা, কলাপাড়া, দশমিনা ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কোর্ট চলাকালে সহকর্মী ভোটারদের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময়করে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন। জেলা শহরে অবস্থানকারী ভোটার আইনজীবীদের কাছে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।

প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হচ্ছেন- জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থীরা হচ্ছে সভাপতি পদে এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন (বিএনপি),  সহ- সভাপতি পদে মো. মিজানুর রহমান পিকু, সাধারন সম্পাদক পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, সহ- সাধারন সম্পাদক দুটি পদে মো. মিজানুর রহমান হীরন ও মো. মেহেদী হাসান উজ্জল, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে মো. রুহুল আমীন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পাদক পদে গাজী মো. আল আমীন (বিএনপি) ও দুটি সদস্য পদে মো. জসিম উদ্দীন ও মো. আমির হোসাইন।

আওয়ামীলীগের বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্রার্থীরা হচ্ছে- সভাপতি পদে মো. নুরুজ্জামান মৃধা, সহ- সভাপতি পদে মিসেস লুৎফুননেছা বেগম, সাধারন সম্পাদক পদে আলহাজ্ব মোঃ লুৎফর রহমান খোকন, সহ- সাধারন সম্পাদক পদে কে. এম. রেজাউল করিম অভি, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে মো. আশরাফ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী, দুটি সদস্য পদে মো. আল আমিন ভুঁইয়া ও মো. মুশফিকুর রহমান তুহিন।

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন  সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য প্রবীন আইনজীবী আনছার আলীকে চেয়ারম্যান করার জন্য  তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিশনের তফসিলে মোতাবেক ১৯ ফেব্রুয়ারী প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীগণের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ ফেব্রুয়ারী বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত বার নির্বাচনে ৫১৯ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।

কমিশনের অপর দুইজন সদস্য হলেন আলহাজ্জ মো. আবুল কাশেম খান ও অ্যাডভোকেট আশীষ কুমার চক্রবর্তী।




ইমরানের আর্জি প্রত্যাখ্যান করল আইএমএফ




জাপায় গৃহবিরোধ : শক্তিশালী হচ্ছেন রওশন, দুর্বল জিএম কাদের




বাউফলে ইউপি উপনির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফলে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় উপজেলা নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং কর্মকর্তা  মো. শাহীন শরীফ  প্রার্থীদের মাঝে এ প্রতীক বরাদ্দ দেন।

ওই উপ-নির্বাচনে ৬ জন মনোনয়নপত্র  জমা দিয়েছেন এবং তাদের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছেন। তবে মেজবাহ আহসান খুররাম নামে এক প্রার্থী তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. আ. মালেক মিয়া পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক, কেশবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ (তুহিন) পেয়েছেন  আনারস,  প্রয়াত চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন পিকুর ভাই ও  ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়া উদ্দিন সুজন পেয়েছেন টেবিল ফ্যান,  মো. এনামুল হক (অপু) পেয়েছেন অটোরিকশা ও লতুফা বেগম পেয়েছেন চশমা প্রতীক।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৪ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন পিকু মারা যান। পরে শূন্য পদে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। আাগমী ৯ মার্চ এ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ ইউনিয়নে ২৭ হাজার ৪শ ৪২ জন ভোটার রয়েছেন। ১০টি ভোট  কেন্দ্রে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মো. শাহীন শরীফ বলেন, সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত ভোটগ্রহণের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা করবেন।  কোনো  প্রার্থী  আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




আনুষ্ঠানিকভাবে যে দলে যোগ দিলেন পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে জয়ী পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্রদের প্রায় সবাই সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে (এসআইসি) যোগ দিয়েছেন। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন তারা।



প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন 




বরিশাল সদরের উন্নয়ন হবে চোখে পড়ার মতো: এসএম জাকির

বরিশাল অফিস: বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বলেছেন,’মানুষের জন্য কাজ করা একটি ইবাদত, আমি বিগত দিনে চেষ্টা করেছি মানুষের জন্য সেবা করার। ভবিষ্যতেও সাধারন মানুষের দোয়া নিয়ে কাজ করতে চাই।’

মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি ।

আসন্ন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচনের এই চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন,’ ইনশআল্লাহ আমি নির্বাচিত হতে পারলে আমি এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মিলে বরিশাল সদর উপজেলায় যে উন্নয়ন করবো অন্য উপজেলার মানুষ তা দেখতে আসবে।’

এস এম জাকির হোসেন বলেন,’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক যুবক ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করে ডলার ইনকাম করছেন এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের কারনে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে যুবকরা কিভাবে ইন্টারনেট ‌ব্যবহার করে বেশি বেশি ডলার ইনকাম করতে পারে সেবিষয়ে ট্রেনিংসহ নানাভাবে কাজ করবো ইনশআল্লাহ।’

এসময় বরিশাল মহানগর ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক জুয়েল রাফি, সদর উপজেলা যুবলীগের শাহ পরান সুজন, চাঁদপুরা ইউনিয়ন যুবলীগের মোঃ আরিফ হাওলাদার, মোঃ বদিউল আলম, স্বপন বিশ্বাস, চাঁদপুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মো: টিটুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপি নেতা আলাল কারামুক্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান।