প্রতি ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন সেনাসদস্য চায় জামায়াত

প্রতি কেন্দ্রে একজন সেনা সদস্য মোতায়েন করলে তেমন প্রভাব পড়বে না। তাই প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুধবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

প্রশাসনে রদবদল লটারির মাধ্যমে করার অনুরোধ জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘কিছু যৌক্তিক কারণে আমরা বলেছিলাম গণভোটটা আগে হোক। কারণ একই দিনে দুইটি ভোট হলে জনগণ বুঝতে পারবে না। জনগণকে তো বুঝতে হবে গণভোটটা কি।’




নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ থেকে প্রার্থী ঘোষণা

পটুয়াখালীর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে এক জনসভায় তিনি তার প্রার্থীত্ব ঘোষণা করেন এবং উপস্থিত নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানে জনগণ যে স্বপ্ন দেখেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে “জাতীয় সরকার” গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, জাতীয় সরকার গঠিত হলে দেশে পুনরায় রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি আরও জানান, শুধু দেশেই নয় — বিশ্বব্যাপী তার যে পরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের উন্নয়নই তার মূল লক্ষ্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রায় ঘোষণার পরপরই জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের চিহ্ন দেখা দিচ্ছে। অতীতে নির্যাতন, গুম-খুন ও দখলবাজির যে সংস্কৃতি ছিল, এখন যদি তা আবার রাজনৈতিক নেতাদের মুখোশ হয়ে ফিরে আসে, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

নুর আশ্বস্ত করেছেন, “যত বড় নেতা হোক না কেন, দখলবাজি-জুলুম করলে জনগণ তার কাছে পাত্তা দেবে না।” আগামী নির্বাচনে তিনি চান, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এমন এক সমঝোতার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক যা দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে গড়াবে।

প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে নুরুল হক নুর স্থানীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে চর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জীবনমান বাড়ানো এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামায়াত, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বসে চর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা আনবো।”

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিয়ার হোসেন, সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মিলন মিয়া। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি মিজান হাওলাদার, জেলা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কূটনৈতিক পত্র প্রস্তুত হাসিনাকে কি ফেরাত আনা যাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  হাসিনা , একটি আতংকের নাম এক রক্তপিপাসু হায়েনার নাম যিনি মানবতার কলংকএবং জুলাই হত্যাকান্ডের মুল হোতা ।এবার  জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। আগামী দু–এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ‘কূটনৈতিক পত্র’ ভারতের হাতে পৌঁছে দিতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র উপদেস্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে ‘নোট ভারবাল’ (কূটনৈতিক পত্র) পাঠানো হবে। আজ–কালের মধ্যে সেটি পাঠানোর কথা।

এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হতে পারে। গত বছরের আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত–১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

এরপর বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুজনকে হস্তান্তর করাটা ভারতের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্বও বটে।’

পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

 




প্রবাসি বাংলাদেশী ভোটাররা ভোট দেয়ার নিবন্ধনের জন্য ৫ দিন সময় পাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিডেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি তারা বছরের পর বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ডলার আয় করে দেশে পাঠায় কিন্তু তারা দেশের কোন নির্বাচনে ভোট দিতেপারে না ।এটা নিতান্তই অমানবিক তাই প্রবাসীরা দীর্ঘ দিন ভোট দেয়ার জন্যে দাবী করে আসছিল অবশেষে এবার  প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হলো। বিশ্বের ১৪৩টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ভোটের আওতায় এলো। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপসের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবার সুযোগ করে দেয়া হলো।আর এ কাজ টি করল অর্ন্তবর্তি কালীন সরকার ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করে তারা এই ভোটদানের সুযোগ পাবেন। ভোটের দু’ থেকে আড়াই সপ্তাহ আগেই তারা এই ভোট প্রদান করবেন। তারা নিবন্ধনের সময় পাবে পাঁচ দিন বলে জানান ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পোস্টাল ভোট বিডি নামের অ্যাপস উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এই কাজ হলো দুঃসাহসিক একটি কর্মযজ্ঞ।




রেকর্ডসংখ্যক তরুণ এবার প্রথম ভোট দেবে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার প্যাস্কেল গ্রোটেনহুইস সৌজন্য সাক্ষাৎ এর অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক তরুণ তাদের প্রথম ভোট দেবে। বিগত স্বৈরশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি কারচুপির নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা রেকর্ডসংখ্যক তরুণ এবার তাদের প্রথম ভোটটি দিতে পারবে।’

ড. ইউনূস বলেছেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

উত্থানের সময় যারা ঢাকা এবং অন্যান্য শহরের দেয়াল গ্রাফিতি ও চিত্রকর্মে ভরে তুলেছিল, সেই তরুণরা এখন ভোট দিতে আসবে।’তিনি জানান, তার সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 




অতি দ্রুত শেখ হাসিনাকে এনে রায় কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম  বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।

নাহিদ বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম খুনি-রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনা পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে শেখ হাসিনার বিচার শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে যত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শাসক রয়েছেন, তার বিচার এর এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। খুনি স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তাঁর দল স্বাগত জানাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের হাজারো শহীদ এবং কয়েক হাজার আহত যোদ্ধার ওপর যে জুলুম করা হয়েছিল, সেই জুলুমের রায় আজকে হয়েছে।

এই রায় বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘তবে যেদিন এ রায় কার্যকর হবে, সেদিনই আমরা সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হব। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধারা শান্তি পাবে।’

রায় কার্যকরের জন্য অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এর জন্য সরকারকে যথাযথ ভূমিকা ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পেয়েছি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারত সফর করছেন। আমরা দাবি জানাব, তিনি শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন।’




শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত রায়ের বিষয়ে ভারত অবগত হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।’

দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুজনকে হস্তান্তর করাটা ‘ভারতের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্বও বটে’ বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।




আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে বিএনপির জোট প্রার্থীদের নাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশে  বইছে নির্বাচনী হাওয়া আর এই  আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও বিএনপি ২৩৭ আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে থেমে আছে। গুঞ্জন রয়েছে বাকি ৬৩টি আসনে বিএনপির সাথে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকা দলগুলোর সাথে আলোচনা করে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির সাথে থাকা দলগুলোর সাথে আসন নিয়ে বিএনপির আলোচনা শেষপর্যায়ে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আসনগুলোর বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হবে বিএনপির পক্ষ থেকে। এরপরই চূড়ান্ত করা হবে বিএনপির মোট ৩০০ আসনের প্রার্থী।

সূত্রটি জানায়, বিএনপির সাথে যেসব দল নির্বাচনে যাবে তাদের মধ্যে যাদের নিবন্ধন নেই তারা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হবেন। যাদের নিবন্ধন আছে তারা নিজ দলের প্রতীক নিয়ে লড়বেন। তবে নিবন্ধন থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকে আবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে চান। এ জন্য তারা নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানায় সূত্রটি।

বিএনপির কাছে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে ৫০টির মতো আসন চাওয়া হয়েছে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হবে কয়টি হচ্ছে।

১২দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, আমাদের ১২ দল থেকে তিনজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেটা হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ বলেন, বিএনপির সাথে আলোচনার কথা রয়েছে। কয়টি আসন নিয়ে আলোচনা হবে সেটা বিএনপিকেই বলব।

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর  বলেন বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। কিন্তু সম্মানজনক আসন বিএনপির পক্ষ থেকে ছাড় দেয়া হলে বিএনপির সাথে জোট হতে পারে। তবে গণমাধ্যমে দু-তিনটি আসন ছাড় দেয়ার যে খবর ছাপা হয় তা অবাস্তব।

তিনি জানান, গতকাল শনিবার আমাদের দলের মিটিং হয়েছে। যেহেতু উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। সেহেতু সম্মানজনক আসন ছাড় না পেলে আমরা এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, গত বুধবার আমাদের সাথে বিএনপির আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা ৯টি আসন চেয়েছি। এখন আল্লাহ ভাগ্যে কী রাখছেন আল্লাহ ভালো জানেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে গ্রিণ সিগন্যাল দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরো জানান, মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় থাকা অনেক ত্যাগী নেতা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন।

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় যেসব দল আমাদের সাথে রাজপথে ছিল তাদের বিষয় আমাদের কমিটমেন্ট রয়েছে। সেই কমিটমেন্ট অনুযায়ী অবশ্যই তাদের আসন ছাড় দেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থীসহ সারা দেশে বিভিন্ন সম্ভব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভুয়া ফোন রেকর্ডসহ নানা অপপ্রচার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এআইয়ের যুগে নানান পক্ষ থেকে এরকম অপপ্রচার অস্বাভাবিক না। এসব অপপ্রচার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।




ভারতের দালালি করে আর ক্ষমতার মসনদে বসা যাবেনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   শনিবার বিকালে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ভারতের দালালি করে কেউ আর ক্ষমতায় যেতে পারবে না, থাকতেও পারবে না। তিনি বলেন, ভারতের প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই। যারা বা যে দল ভারতের দালালি করবে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।

‘জুলাই বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’- শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জ্ঞানচর্চাভিত্তিক সংগঠন প্রাচ্যসংঘ যশোর।

সংগঠনটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য আখতার ইকবাল টিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হামিদ ও প্রাচ্যসংঘ যশোরের প্রতিষ্ঠাতা লেখক-গবেষক বেনজীন খান।

মুখ্য আলোচকের বক্তৃতায় ড. মাহমুদুর রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু সরকারই নির্বাচনে কারচুপি করে না, রাজনৈতিক দলও করে। আপনারা জনগণের কাছে ওয়াদা করেন যে আপনারা কারচুপি করবেন না।

একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লি থেকে দেশকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চলছে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়ে গেলে তারা আর ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার সুযোগ পাবে না।

এজন্য সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জেগে উঠেছে। যারা জুলাই যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই এই পলিটিক্যাল পাওয়ারের অংশ। এদেরকে কেউ ইগনোর করতে পারবে না।

‘জুলাই জেনারেশনে’র উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন পলিটিক্যাল স্ট্রাগল বিজয়ী হবে না, যদি না কালচারাল স্ট্রাগলে বিজয়ী হতে পারি। হিন্দুত্ববাদী সিস্টেম আমাদের বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য শিখতে দেয়নি। ভারতীয়দের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা বই-পুস্তক লিখেছি। সেইসব বই-পুস্তকে বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য স্থান পায়নি।

লেখাপড়ার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে আনতে পারলে ব্রাম্মন্যবাদী সাংস্কৃতিক আধিপত্য পরাজিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, কোনো ভারতীয় দালালকে ভোট দেবেন না। আমরা দল বুঝি না। আমরা শুধু বুঝি ভারতীয় কোনো দালাল যেন সংসদে যেতে না পারে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৮ কোটির বাংলাদেশে দিল্লি আর কোনদিন আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।




মজলুমরা এখন জালিমে পরিনত হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর বিস অডিটরিয়ামে ‘উইমেন ইন ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতাকালে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বলেন, ‘যারা নিজেরা একদিন মজলুম ছিল, তারা জামিন করাতে গেছে কেন? এরা যে মজলুম থেকে জালিম হচ্ছে, কেন, সেটা ভাবতে হবে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো সরকার নয়, এটা একটা পরিষদ।

তবে সব রাজনৈতিক দলের সমর্থনেই তো এই সরকার গঠন হয়েছিল। যদি সব রাজনৈতিক দল চাইত, সব ধরনের সমস্যার সমাধান করা যেত।’

তিনি জানান, নতুন প্রশাসন গঠনের আগে প্রথম আট মাস বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে সরকারকে ব্যস্ত থাকতে হয়, এবং ঈদের পর পুরনো অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আবার জেঁকে বসে।

অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘একটা দ্যোদুল্যমান শক্তি পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।রাজনৈতিক দলগুলোরও এখানে একটি দায়িত্ব রয়েছে।’

উপদেষ্টা মাহফুজ উল্লেখ করেন, ‘সরকারের সফলতার বিষয়টা যতটা না জনগণের ব্যর্থতা তার থেকে যাদের উপর ভরসা করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বেশি। সবার ভূমিকাসহ সবকিছুর মূল্যায়ণ করে এক জায়গায় আসতে হবে।

তথ্য উপদেষ্টা দাবি করে বলেন, ‘বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ উৎপাটন করতে পেরেছি সারফেস লেভেলে, কিন্তু সামাজিক ফ্যাসিবাদ এখনো উপড়ে ফেলতে পারিনি।

রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের পলিটিক্যাল সেটলমেন্ট যত দিন না বদলাবে, তত দিন কোনো পরিবর্তন আসবে না।