জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভা শেষে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তেজনা এবং অস্থির পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি কাজ করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিনির্ভর অবস্থান এবং নতুন প্রস্তাবগুলো অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁর কথায়, কেউ নিম্নকক্ষের পিআর না হলে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছে, কেউ গণভোটের দাবি তুলছে—আবার কেউ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলছে। এসবই জনমানসে সন্দেহ তৈরি করছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও কিছু ব্যক্তি সরকারে না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা হারানোর ভয় থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন শর্ত তোলার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—রাষ্ট্র কি সত্যিই আগামী নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে, নাকি আরও জটিল পরিস্থিতি সামনে অপেক্ষা করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী মানুষের পাশে কাজ করেছেন। দলে তাঁর অবস্থান ও রাজনীতি পুরোপুরি নেতাকর্মীদের মতামতের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “তাদের সিদ্ধান্তই হবে আমার সিদ্ধান্ত। নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাকে দেখতে চান, আমার রাজনৈতিক পথচলা সেভাবেই নির্ধারিত হবে।”

তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে এ জনসভা আয়োজন করে পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুস্তাফা মেম্বার, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মুন্সিসহ স্থানীয় নেতারা।

জনসভায় পানিশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা মিছিল করে অংশ নেন। উপস্থিত নেতারা দাবি করেন—জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের জন্য দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশের মানুষ দেখুক এবং ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তারা যাতে এটি মাথায় রাখে যে, এই দেশে স্বৈরাচারের কোনো জায়গা নেই, ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা নেই। যারা গণতন্ত্র হত্যা করবে তাদের এ পরিণতি হবে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম অতন্দ্র প্রহরী শীর্ষক’ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশের এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই এ দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক দল ছিল না; তারা মূলত গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি মাফিয়া–ফ্যাসিস্ট শক্তি হিসাবে কাজ করেছে। সংবিধান লঙ্ঘনের কর্মকাণ্ড তারা বারবার করেছে, এমনকি সংসদে দাঁড়িয়েও করেছে।

তিনি বলেন, জনগণের গণ-অভ্যুত্থান এবং অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশের মানুষ বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়।




ভোট হাইজ্যাক করতে চাইলে আমরা তোমাদের হয়ে লড়াই করবো: জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কাফরুল দক্ষিণ থানার উদ্যোগে প্রীতি সমাবেশে আয়োজন করা হয় উক্ত অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে কেউ মাসল আর ব্যাগ মানির মাধ্যমে অন্যের ভোট হাইজ্যাক করবেন। তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা আমরা যুবক হয়ে বিস্ফোরিত হবো ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, যুবকদের ভোট নিয়ে কেউ কাড়াকাড়ি করুক তা আমরা বরদাস্ত করবো না।

যুবকেরা তোমাদের ভোট তোমরা দিবা। আমরা তোমাদের পাশে থেকে লড়াই করবো। তোমাদের সাহস দেব এবং শক্তি দেব। কোনো ডাকাত তোমাদের বুকের দিকে হাত বাড়ানোর যেন দুঃসাহস না দেখায়। এখন থেকে সেভাবে যুবকদের থাকতে হবে।

তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তোমার যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিও। আমাকে দিবা না দিবা এটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু তোমার বুকের জন্য আমরা লড়ে যাব ইনশাল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা কারো ওপর কোনো অবিচার চাই না। প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার আছে ন্যায়বিচার পাওয়া। তাদেরও কারো ওপর অবিচার হোক সেটাও আমরা চাই।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কেড়ে নেবে না, বরং তাদের সম্পদের পাহারাদারি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজ একজন শিল্পপতি, ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে এটা বলার সাহস পাবে না এলাকায় ব্যবসা করতে হলে আমাদের দিকে চাইতে হবে, আমাদের দেখতে হবে, আমাদের কথা শুনতে হবে, আমাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। বাপ-দাদার জমিদারি ও ব্যবসায়ীদের ভাড়াটিয়া ভাবা সমস্ত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের সমাজ থেকে তাড়াবো, নির্মূল করবো। কোনো চাঁদাবাজের অস্তিত্ব রাখা হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি চাঁদা মুক্ত হয়ে যায় বাংলাদেশ, তাহলে দেশের অগ্রগতি লাফিয়ে লাফিয়ে সামনের দিকে যাবে। এখন যে দ্রব্যমূল্য তা অর্ধেকে নেমে আসবে। চাঁদার জ্বালায় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত হোলসেলার থেকে শুরু করে রিটেইলার এমনকি ফুটপাতের আমার একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ভাই একজন হকার সেও চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত নয়। আমরা তাদের কথা দিচ্ছি ভাই তোমাদের ফুটপাতে ব্যবসা করতে হবে না, ব্যবসা তোমরা সম্মানের সঙ্গে করবা এবং সেই জায়গায় তোমাদের করে দেওয়া হবে। আর কোনো চাঁদাবাজ গিয়ে তোমাদের ডিস্টার্ব করার সাহস করবে না।

আমেরিকায় একটা বক্তব্যে আমি বলেছিলাম ইনসাফের দাবি পূরণ করতে গিয়ে মহিলাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হবে। অনেকে এটার ভুল ব্যাখ্যা করেছে। একটা মিটিংয়ে সবকিছু বলা যায় না। চিন্তা-ভাবনা না করে এ কথা তো আমরা বলি নাই। আমরা চিন্তা করেই বলেছি। কেন? একজন মহিলা তিনি একজন শুধু মহিলা না, শুধু একজন কর্মজীবী না, তিনি একজন মা। সভ্যতার তিনি কেন্দ্রবিন্দু। একজন মহিলা ঠিক তো পরিবার ঠিক, পরিবার ঠিক তো রাষ্ট্র ঠিক।

নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে কি হবে তা বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, যখন কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হলে তারা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করবে। পাঁচ ঘণ্টা পরে সে তার বাচ্চার কাছে ফিরে যাবে। বাচ্চাকে সময় দিবে লালন পালন করবে। পরিবারের অন্য দায়িত্ব পালন করবে। এটা তো সমাজেরই কাজ।




দ্রুত গণভোটের রূপরেখা চায় এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোপুরি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, বিশেষ করে গণভোটের রূপরেখা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

আসন্ন নির্বাচনে গণভোট পরিচালনার বিষয়টি একটি বড় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, গণভোট কীভাবে পরিচালিত হবে, এটি কবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ– প্রতারণা প্রতিরোধের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেওয়া হয়েছে কি না নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এগুলো প্রকাশ করতে হবে।

তিনি জানান, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এনসিপি প্রস্তুতি নেবে এবং প্রয়োজনে সব সহযোগিতা দেবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বতন্ত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, যদি কমিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকে, তাহলে এনসিপি ১০০ শতাংশ সহযোগিতা প্রদান করবে। আমরা অন্যান্য সহযোগী দলকেও কো-অপারেশন মোডে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিরাপত্তা দিতে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইলেকশনের সময় নারীরা সাইবার হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে পারেন, তাই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তরুণ ভোটারদের নির্বাচনে উৎসাহিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করার পরামর্শ দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি মনে করেন, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গণতান্ত্রিক সম্মান বজায় থাকবে এবং তরুণরা ভুল পথে চালিত হবে না, যা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে।

প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের জন্য সময় সীমিত। যদি প্রক্রিয়া আগে থেকে চালু করা হয়, তাহলে অংশগ্রহণ বাড়বে, যা ভোটার সংখ্যা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি নির্বাচনের প্রতীক ও প্রার্থীর স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করার গুরুত্বে জোর দেন। তার মতে, প্রতীক একজন প্রার্থীর পরিচয়, যা ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রস্তাব করেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য একজন অফিসার ট্যাগ করা হলে দলের উদ্বেগ ও কনসার্ন সহজভাবে জানানো সম্ভব হবে।




উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডিসিদের রদবদল করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের রদবদলে কোনো একটা ডিজাইন বা উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। এক মাসও হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, একজন ডিসি চলে গেলেন—হঠাৎ করেই। আবার এক সপ্তাহের মধ্যে অনেককে রদবদল করা হয়েছে।এটার পেছনে মনে হয় যেন কোনো একটা ডিজাইন…একটা উদ্দেশ্যে এই কাজটা কোনো জায়গা থেকে হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে আসবে। এ পরিস্থিতিতে আস্থা নিশ্চিত করতে ডিসি–এসপি বদলিতে লটারিভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত।কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় পরিষ্কার কোনো সমাধান পাইনি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং আস্থা রাখার মতো একটা উপায় হলো যে লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার করে দেওয়া। যার যেখানে তকদির আছে সে চলে যাবে। এটাতে কোনো কোশ্চেন থাকে না।

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রসঙ্গে এই জামায়াত নেতা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়টিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একই দিনে দুই ধরনের ভোটগ্রহণ হলে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধায় পড়বেন। আমরা বলেছিলাম যে, গণভোটটা আগে হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে কি কি সংস্কার হতে যাচ্ছে, কোনটায় ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বলবে, ‘না’ বলবে—সে যদি আগে থেকে তার মাইন্ডসেট করতে না পারে, বুঝতে না পারে—বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোর কি কি পরিবর্তন হলো, কোনটা আমি ‘হ্যাঁ’ বলব—সে যদি বুঝতে না পারে তাহলে সে ‘হ্যাঁ’ কি বলবে, ‘না’ কি বলবে? তো একই দিনে দুইটা ভোট হলে সে তো বুঝতে পারবে না।




প্রতি ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন সেনাসদস্য চায় জামায়াত

প্রতি কেন্দ্রে একজন সেনা সদস্য মোতায়েন করলে তেমন প্রভাব পড়বে না। তাই প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুধবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

প্রশাসনে রদবদল লটারির মাধ্যমে করার অনুরোধ জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘কিছু যৌক্তিক কারণে আমরা বলেছিলাম গণভোটটা আগে হোক। কারণ একই দিনে দুইটি ভোট হলে জনগণ বুঝতে পারবে না। জনগণকে তো বুঝতে হবে গণভোটটা কি।’




নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ থেকে প্রার্থী ঘোষণা

পটুয়াখালীর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে এক জনসভায় তিনি তার প্রার্থীত্ব ঘোষণা করেন এবং উপস্থিত নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানে জনগণ যে স্বপ্ন দেখেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে “জাতীয় সরকার” গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, জাতীয় সরকার গঠিত হলে দেশে পুনরায় রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি আরও জানান, শুধু দেশেই নয় — বিশ্বব্যাপী তার যে পরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের উন্নয়নই তার মূল লক্ষ্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রায় ঘোষণার পরপরই জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের চিহ্ন দেখা দিচ্ছে। অতীতে নির্যাতন, গুম-খুন ও দখলবাজির যে সংস্কৃতি ছিল, এখন যদি তা আবার রাজনৈতিক নেতাদের মুখোশ হয়ে ফিরে আসে, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

নুর আশ্বস্ত করেছেন, “যত বড় নেতা হোক না কেন, দখলবাজি-জুলুম করলে জনগণ তার কাছে পাত্তা দেবে না।” আগামী নির্বাচনে তিনি চান, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এমন এক সমঝোতার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক যা দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে গড়াবে।

প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে নুরুল হক নুর স্থানীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে চর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জীবনমান বাড়ানো এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামায়াত, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বসে চর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা আনবো।”

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিয়ার হোসেন, সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মিলন মিয়া। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি মিজান হাওলাদার, জেলা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কূটনৈতিক পত্র প্রস্তুত হাসিনাকে কি ফেরাত আনা যাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  হাসিনা , একটি আতংকের নাম এক রক্তপিপাসু হায়েনার নাম যিনি মানবতার কলংকএবং জুলাই হত্যাকান্ডের মুল হোতা ।এবার  জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। আগামী দু–এক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ‘কূটনৈতিক পত্র’ ভারতের হাতে পৌঁছে দিতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র উপদেস্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে ‘নোট ভারবাল’ (কূটনৈতিক পত্র) পাঠানো হবে। আজ–কালের মধ্যে সেটি পাঠানোর কথা।

এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হতে পারে। গত বছরের আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত–১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

এরপর বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুজনকে হস্তান্তর করাটা ভারতের জন্য অবশ্যপালনীয় দায়িত্বও বটে।’

পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘একটি নিকট প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি, স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব সময় সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

 




প্রবাসি বাংলাদেশী ভোটাররা ভোট দেয়ার নিবন্ধনের জন্য ৫ দিন সময় পাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিডেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি তারা বছরের পর বছর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ডলার আয় করে দেশে পাঠায় কিন্তু তারা দেশের কোন নির্বাচনে ভোট দিতেপারে না ।এটা নিতান্তই অমানবিক তাই প্রবাসীরা দীর্ঘ দিন ভোট দেয়ার জন্যে দাবী করে আসছিল অবশেষে এবার  প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হলো। বিশ্বের ১৪৩টি দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা ভোটের আওতায় এলো। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপসের উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবার সুযোগ করে দেয়া হলো।আর এ কাজ টি করল অর্ন্তবর্তি কালীন সরকার ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করে তারা এই ভোটদানের সুযোগ পাবেন। ভোটের দু’ থেকে আড়াই সপ্তাহ আগেই তারা এই ভোট প্রদান করবেন। তারা নিবন্ধনের সময় পাবে পাঁচ দিন বলে জানান ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পোস্টাল ভোট বিডি নামের অ্যাপস উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, এই কাজ হলো দুঃসাহসিক একটি কর্মযজ্ঞ।




রেকর্ডসংখ্যক তরুণ এবার প্রথম ভোট দেবে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার প্যাস্কেল গ্রোটেনহুইস সৌজন্য সাক্ষাৎ এর অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক তরুণ তাদের প্রথম ভোট দেবে। বিগত স্বৈরশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি কারচুপির নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা রেকর্ডসংখ্যক তরুণ এবার তাদের প্রথম ভোটটি দিতে পারবে।’

ড. ইউনূস বলেছেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

উত্থানের সময় যারা ঢাকা এবং অন্যান্য শহরের দেয়াল গ্রাফিতি ও চিত্রকর্মে ভরে তুলেছিল, সেই তরুণরা এখন ভোট দিতে আসবে।’তিনি জানান, তার সরকার ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।