বঙ্গবন্ধু কন্যার স্মার্ট বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়নে পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে: মেনন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতমূলক সমন্বিত ও পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে।

সোমবার (৪ মার্চ) সকাল ১০ টায় বানারীপাড়ায় উপজেলার সদর, সলিয়াবাকপুর ও চাখার ইউনিয়ন এবং পৌর শাখা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ‘উন্নয়ন শীর্ষক’ এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

তিনি উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বানারীপাড়া উপজেলা বিনির্মাণে উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমন্বিত ভূমিকা রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীলের সভাপতিত্বে পৌর ভবনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম ফারুক, সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ্ মঞ্জু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আ. জলিল ঘরামী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

 




নির্বাচন ঘিরে উৎসবের আমেজে পটুয়াখালী পৌর এলাকা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্রমেই সরগরম হচ্ছে পটুয়াখালীর পৌর এলাকার ভোটের মাঠ। চায়ের স্টল, হাট বাজার, পথে-ঘাটে এখন পৌর নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। আগামী ৯ মার্চ পৌর নির্বাচনে কে হবেন মেয়র, কে হবেন কাউন্সিলর। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

আগামী ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন। গত ২৩ তারিখ প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ৯ টি ওয়ার্ড চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক ও বর্তমান মেয়র, কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি থেকে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের প্রধান প্রধান সড়ক। বিরতিহীনভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাইছেন ভোট। এবারের পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় স্বতন্ত্র হিসেবে পাঁচ জন মেয়র প্রার্থীসহ ৬১ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পৌর ভোটারদের দাবি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। যিনি পৌরসভার জন্য কাজ করবেন সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন তাকেই তারা ভোট দিবেন। এদিকে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য কাজ কেউ আচরণবিধি ভাঙছে কিনা সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

২৯ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে ১৮৯২ সালে নির্মিত এ পৌরসভায় আগামী ৯ মার্চ ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে পঞ্চাশ হাজার ছয়শত নিরানব্বই জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে পৌর মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

 




পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির  নির্বাচনে তপন সভাপতি খোকন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির  নির্বাচনে তপন সভাপতি খোকন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির  ২০২৪-২০২৫ খ্রিঃ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে  সভাপতি পদে ২৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন  জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সমর্থক এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দী  আওয়ামীলীগ পন্থি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ সমর্থক মো. নুরুজ্জামান মৃধা পেয়েছেন ১৯৭ ভোট।সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ পন্থি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান খোকন ২৬৬ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপি পন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মো. আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ২৩০ ভোট।

সহ- সভাপতি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মো. মিজানুর রহমান পিকু ৩১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।  তার প্রতিদ্বন্দী আওয়ামীলীগ পন্থি মিসেস লুৎফুন্নেছা বেগম পেয়েছেন ১৭৬ ভোট।

সহ- সাধারন সম্পাদক দুটি পদে  আওয়ামীলীগ পন্থি এম. রেজাউল করিম অভি ২৯৫ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মো. মেহেদী হাসান উজ্জল ২৪২ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

লাইব্রেরী সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের রুহুল নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী  আওয়ামীলীগ পন্থি মো. আশরাফ আলী পেয়েছেন ২২৪ ভোট।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে আওয়ামীলীগ পন্থি মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী ২৬০ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী আইনজীবী ফোরামের গাজী মো. আল আমিন পেয়েছেন ২২৮ ভোট।

দুটি সদস্য পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের  মো. আমির হোসাইন ২৭২ ভোটে এবং আওয়ামীলীগের   মো. মুশফিকুর রহমান তুহিন ২৬১ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহষ্পতিবার ( ২৯ ফেব্রুয়ারী) জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দোতলায় সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।  নির্বাচনে ৫১৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫০৪ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেছেন বলে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিশনের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট  আনছার আলী নিশ্চিত করেছেন।

এ নির্বাচন কমিশনের অপর দুইজন সদস্য ছিলেন এ্যাডভোকেট আলহাজ্জ মো. আবুল কাশেম খান ও অ্যাডভোকেট আশীষ কুমার চক্রবর্তী।




সিরিয়ায় হামলা, আইআরজিসির সদস্যসহ নিহত ৩

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সিরিয়ায় হামলার ঘটনায় ইরানের সামরিক বাহিনীর (আইআরজিসি) এক সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় ইসরায়েলকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ইরনা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়ার বন্দর শহর বেনিয়াসে হামলার ঘটনায় আইআরজিসির যে সদস্য নিহত হয়েছেন তার নাম রেজা জারেই।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস ওয়ার মনিটর শুক্রবারের (১ মার্চ) হামলার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানায়, তিনটি বিস্ফোরণ ভূমধ্যসাগর উপকূলে সিরিয়ার বানিয়াসের কেন্দ্রকে কাঁপিয়ে দেয়। সেখানে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গ্রুপ ছিল।

ব্রিটেনভিত্তিক ওবজারভেটরি জানায়, হামলার ঘটনায় একটি ভবন ধ্বংস হয় এবং আইআরজিসির সদস্যের সঙ্গে অন্য যে দুইজন ছিল তারা সিরিয়ান নন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। ইসরায়েল প্রায়ই সিরিয়ায় ইরানের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

এদিকে গাজায় খাবারের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরালেয়ি বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানো হয়।

জাতিসংঘের একটি দল এ ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি বহু আহতের প্রমাণ পেয়েছে। আল-আওদা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জানিয়েছেন, গুলিতে আহতদের হাসপাতালটিতে নিয়ে আসা হয়েছে।




জাতীয় ভোটার দিবস আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জাতীয় ভোটার দিবস আজ শনিবার (২ মার্চ) উদযাপন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নানা আয়োজনের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।




নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ আজ সন্ধ্যায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ  আজ  শুক্রবার (১ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গভবনের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে মন্ত্রিসভায় নতুন কতজন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন তা জানা যায়নি।

৮ থেকে ১০ জন নতুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ পেতে পারেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে। দশটির মতো গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। যেগুলো করে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নিতে বঙ্গভবনে আসবেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পড়াবেন।

নতুন মন্ত্রিসভার দাপ্তরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা শুক্রবারও খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। শপথের পর দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১১ জানুয়ারি ৩৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। অন্যান্য বারের তুলনায় এ মন্ত্রিসভার আকারে অনেক ছোট। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ দুই মন্ত্রণালয় নতুন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পাচ্ছেন এটা অনেকটা নিশ্চিত।

নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ ছাড়াও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন করে প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ হতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ হতে পারে। এছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে শুধু মন্ত্রী আছে সেসব মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। যেসব মন্ত্রণালয়ে দুটি বিভাগ রয়েছে, সেখানে একেক বিভাগের জন্য একজন করে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। বিএনপিবিহীন এ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২৯৯ আসনের মধ্যে ২২৩টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির আসন ১১টি। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। এর বাইরে সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৬২ জন।

পরে ১০ জানুয়ারি শপথ নেন নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।

গত ১১ জানুয়ারি গঠিত হয় নতুন মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। কোনো উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও আগের মন্ত্রিসভায় তিনজন উপমন্ত্রী ছিলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভা ছিল ৪৭ সদস্যের। ওই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী ছিলেন।




বরিশাল আ’লীগের প্রধান কার্যালয়ে ঝুলছে তালা, থমকে গেছে কার্যক্রম

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের আনাগোনা নেই। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে চুপসে গেছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।

সন্ধ্যার পর দলীয় কার্যালয়ে থাকে সুনসান নীরবতা। অফিস কেয়ারটেকার দুই বেলা অফিস খুললেও বড় কোনা কর্মসূচি ছাড়া সিনিয়র নেতাদের দেখা মেলে না আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। দলের একাংশের যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ব্যক্তির বাসায়। অন্যদিকে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপের যে কোনো রাজনৈতিক আয়োজন হয় সিটি এবং সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত সার্কিট হাউস চত্বরের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে।

গত বছরের ১২ জুনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও জমজমাট ছিল বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়। প্রতিদিন দুই বেলা দলীয় নেতা-কর্মীদের পদভারে মুখরিত থাকত কার্যালয়টি। কিন্তু সিটি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহকে মনোনয়ন না দিয়ে তার চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর পাল্টে যায় চিরচেনা সেই চিত্র।


সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা চুপসে যায়। দলীয় কার্যালয়ে তেমন একটা আনাগোনা নেই তাদের। অফিস কেয়ারটেকার প্রতিদিন দুই বেলা অফিস খুললেও বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া দলীয় সিনিয়র নেতাদের দেখা মেলে না কার্যালয়ে। বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং দলীয় সভা আয়োজন হয় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর কালীবাড়ি রোডের বাসায়।

অন্যদিকে বরিশাল, আওয়ামী লীগে সাদিক আবদুল্লাহ পরিবার বিরোধী হিসেবে পরিচিতরা ভিড় করেন সিটি এবং সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রধান নির্বাচনি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত সার্কিট হাউসের সামনের অফিসে। বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক আয়োজন এবং দলীয় কর্মসূচি প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়েই পালন করে- সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুকের অনুসারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আফজালুল করিম বলেন, সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি তারা। এ কারণে আমরা সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কর্মসূচি করতে পারি না। মেয়র এবং সদর আসনের এমপির অনুসারী যাদের বিভিন্ন সময় সংগঠন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে তারাও দলীয় কর্মসূচি করতে চায়। আমরা তাদের নিয়ে প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করি। কর্মসূচি কোথায় হলো সেটা বিষয় নয়, আমরা কর্মসূচি পালন করি সেটাই মুখ্য বিষয়। আমরা চাই মহানগর আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি যারা সিটি এবং সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করেছে সেই কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হোক। বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হলে দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের চাঞ্চল্য ফিরবে বলে তিনি আশা করেন।


বরিশাল মহানগর সেরনিয়াবাতে আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী নাইমুল হোসেন লিটু বলেন, আমরা যে কোনো দিবস ভিত্তিক কর্মসূচি দলীয় কার্যালয়ের সামনেই করে থাকি। স্থান সংকটের কারণে অনেক সময় বিভিন্ন প্রস্তুতি সভা ও দলের বর্ধিত সভা দলীয় কার্যালয়ে আয়োজন না করে নেতার বাসায় আয়োজন করা হয় আধুনিক প্রযুক্তি এবং সুযোগ-সুবিধা থাকার কারণে। তবে কর্মসূচি থাকলে অবশ্যই নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যায়।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, নেতারা নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া আসা করেন। যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি জেলা ও মহানগর একত্রে কার্যালয়ে করে থাকে। এ ছাড়া অনেক সভা আয়োজন করা হয়ে থাকে আমাদের রাজনৈতিক গুরু শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কালীবাড়ি রোডের বাসায়।

 




পটুয়াখালী পৌর মেয়রের স্টল বাণিজ্য, বঞ্চিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে মার্কেটের স্টল বরাদ্দ নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। নামে-বেনামে স্টল পেয়েছেন মেয়র মহিউদ্দিনের চাচাতো ভাই, আপন ভাতিজা, জেলা যুবলীগ সভাপতি, মেয়রের উপদেষ্টাসহ শতাধিক নিজস্ব লোকজন। এতে বঞ্চিত হয়েছেন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যবসায়ী।

তাদের একজন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজালাল খানের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, ওই স্থানে আমার ওষুধের দোকান ছিল। তবুও মেয়র মহিউদ্দিন আমাকে স্টল না দিয়ে শাহজালালকে দিয়েছেন, তাই আমি শাহজালালের স্টলে তালা মেরেছি।’

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ব্যবসায়ীর এমন অভিযোগ থাকলেও সংগত কারণে মুখ বন্ধ রেখেছেন তারা।

দৌড়ঝাঁপ করে যারা স্টল পেয়েছেন, তাদের গুনতে হয়েছে স্টল নির্মাণ ব্যয়ের আড়াই থেকে তিন গুণ টাকা। অতিরিক্ত অর্থে স্টল নিতে গিয়ে ঋণসহ পদে পদে হয়রানির শিকার হয়েছে কর্মহীন ব্যবসায়ীরা। আগামী ৯ মার্চ পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচন প্রেক্ষাপটে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও নির্মাণে আর্থিক দুর্নীতি ছাড়াও উচ্চ আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে মেয়রের বিরুদ্ধে। যদিও এসব বিষয়ে মুখ খুলছে না পৌর কর্তৃপক্ষ।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আলতাফ আড়তদার, রফিক গাজী, নজরুল ভুইঁয়া, নাসির খন্দকারসহ একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মেয়র মহিউদ্দিন ও তার বন্ধু হাফিজুর রহমান লোকজন নিয়ে শহরের পৌর নিউ মাকের্ট বাজারে কিচেন মার্কেট করার ঘোষণা দিয়ে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে মৌখিক নির্দেশ দেন। ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে আপত্তি দিলে ৬ অক্টোবর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে বাজারের শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। পরে মেয়র ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ওই সময় আগুনে পুড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া ব্যবসায়ীদের মেয়রের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না বলে দাবি তাদের।

পরে টানা তিন বছর ধরে স্টল নির্মাণ সম্পন্ন করে স্বজনপ্রীতি শুরু করে স্টল বরাদ্দে। বাজার দর অনুযায়ী ফিটিংস ব্যতীত স্টল নির্মাণে প্রতি স্কয়ার ফুটে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা ব্যয় হলেও বরাদ্দ দিতে নেয়া হচ্ছে তিন গুণ অর্থ।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ড ঘটার পরপর বিশাল আকারের এই বাজার থেকে অন্তত ২ লাখ ইটসহ আনুষঙ্গিক অনেক নির্মাণ সামগ্রী উদ্ধার হলেও তা ক্ষতিগ্রস্তদের না দিয়ে ট্রাক ভরে নিয়ে যায় মেয়রের লোকজন।

স্টল নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ার আগেই ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল মেয়র খাতে ১৫% সংরক্ষিতসহ ১০৪টি স্টল লটারি পদ্ধতিতে বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ছোট-বড় অন্তত আড়াই শ স্টল নির্মাণ হলেও মাত্র ৪০টি লটারি পদ্ধতিতে বরাদ্দ দেন। বাকি স্টল মেয়র তার পছন্দের ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দেন। এতে বাদ পড়ে যান প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা।

অভিযোগকারীরা বলেন, মেয়র মহিউদ্দিনের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদের ছেলে আবিদের নামে এমএস আবিদ মোবাইল জোন, মেয়রের চাচাতো ভাই জেলা বিএনপি নেতা মনির হোসেনের মেয়ে লিমার নামে তুলনা স্টোর, জেলা যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা পারভীনের নামে মেসার্স জুইন এন্টারপ্রাইজ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজালাল খান, মেয়রের দুই উপদেষ্টা ফরহাদ জামান বাদল ও কাজী নাসরু তালুকদার, আসলাম ব্যপারী, মজিদ শিকদার, পৌরসভার লাউকাঠি খেয়াঘাটের টোল আদায়কারী রফিকুল ইসলাম রাহাত, মুরগী ব্যবসায়ী খোকন, ডিম ব্যবসায়ী সুভাষ পাল, মনিরুজ্জামান আকন এবং মেয়রের বাসা সংলগ্ন মসজিদের ঈমাম মাওলানা আবদুল কাদেরসহ মেয়রের স্নেহধন্যরা স্টল পেয়েছেন।

অথচ অগ্নিকাণ্ডে এদের কারও কোনো প্রতিষ্ঠান বা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত তো দূরের কথা সেখানে কখনোই তাদের কোনো প্রতিষ্ঠান বা দোকান ছিল না।

এ ছাড়া স্টলের তালিকায় মেয়রের পিএস মিজানুর রহমান এনামুল ও বাসার কাজের লোক মোস্তাফিজুর রহমান বেল্লাল এবং ঘনিষ্ঠজন আব্দুস সালাম আরিফের নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে স্টল বরাদ্দের তালিকা চাওয়া হলে তারা মেয়রের উপদেষ্টা ফরহাদ জামান বাদলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পৌর নির্বাচনে ভোটের রাজনীতি মাথায় রেখে সচ্ছল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্টল দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এর মধ্যে ডিম ব্যবসায়ী সুভাষ পাল স্টল নিতে মেয়রকে আনুষ্ঠানিকভাকে সোনার নৌকা উপঢৌকন দিয়েছেন। এ ছাড়া পটুয়াখালী পৌর পরিষদের ১২ জন কাউন্সিলরকে স্টল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাউন্সিলর এস এম ফারুক হোসাইন ও কাজল বরন দাসের স্টল চড়াদামে বিক্রি হয়েছে। বাকি কাউন্সিলর ও বিশেষ পদ্ধতিতে পাওয়া স্টলগুলো বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তারা।

মামলার বরাত দিয়ে রফিক গাজী বলেন- স্টল বরাদ্দ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করলে মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদকে আদালত নোটিশ করেন। পরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যবসায়ীদের স্টল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদালতে মুচলেকা দেন। ওই মুচলেকায় মেয়র বলেন, দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার এবং জমাকৃত অগ্রীম জামানত নতুন সালামির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অথচ মেয়রের কাছে স্টল চাইতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হাইকোর্টে গেছো- এখন হাইকোর্ট ঘর দেবেন, আমার কাছে কোনো ঘর নাই বলে ফিরিয়ে দেন।

রফিক গাজী আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর মেয়রের ডাকে ব্যবসায়ীরা পৌরসভায় গেলে উপস্থিত লোকজনের উপস্থিতিতে স্বাক্ষর নেন মেয়র। পরবর্তীতে ওই স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে আদালতে উপস্থাপন করেন।

এসব বিষয়ে মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পটুয়াখালী পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিউ মার্কেটের কিচেন মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। ভাইয়ের ছেলে আবিদের নামে কোনো স্টল বরাদ্দ নেই। তা ছাড়া আবিদ মানসিক প্রতিবন্ধী, তার কথা কতটুকু কাউন্টেবল? পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি। তবে কাউন্সিলর ও যুবলীগ সভাপতির স্ত্রীর ব্যাপারে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।




ঘোড়ার মাংস, পচা ভুট্টা গাছের পাতায় চলছে গাজার মানুষের দিন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা আবু জিব্রিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পরিবারের ক্ষুধা মেটাতে প্রতিনিয়তই সংগ্রাম করছেন তিনি। একটা পর্যায়ে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন যে নিজের পোষা শখের দুটো ঘোড়াও জবাই করে ফেলেছেন।

এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য ঘোড়া জবাই করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। ক্ষুধা আমাদের মেরে ফেলছে।’

শুধু আবু জিব্রিল নয়, এমন পরিস্থিতি অবরুদ্ধ অঞ্চলটির লাখ লাখ বাসিন্দাদের। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ঘোড়ার মাংস, পচা ভুট্টা থেকে শুরু করে গাছের পাতা সিদ্ধ খেয়েও চলছে কারও কারও দিন।

ইসরাইলের ভয়াবহ তাণ্ডবের পর গাজায় দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট। বেকারি থেকে শুরু করে সুপেয় পানির আধারগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী। বাইরে থেকে পৌঁছাতে পারছে না প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীও। যা দু-একটা দোকান এখনো টিকে আছে-সেখানেও খাবারের দাম বেশ চড়া। অতি মূল্য দিয়ে সেই খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়। এমন অবস্থায় বাধ্য হয়েই নোংরা পানি এবং পচা খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার পরিবার।

অবরুদ্ধ ছোট্ট ভূখণ্ডে ইসরাইল সৃষ্ট এ দুর্ভিক্ষে এমন খবরও সামনে এসেছিল যে-পশুখাদ্য খেয়েও ক্ষুধা মেটাচ্ছে কেউ কেউ।

গাজার এক নারী এএফপিকে জানান, ‘কোনো খাবার নেই, গম নেই, সুপেয় পানি নেই। আমরা প্রতিবেশীদের কাছে টাকার জন্য ভিক্ষা করতে শুরু করেছি। আমাদের বাড়িতে এক শেকেলও (স্থানীয় মুদ্রা) নেই। দরজায় দরজায় কড়া নাড়ছি কিন্তু কেউ আমাদের টাকা দিচ্ছে না।’

খাদ্য সংকটের চলমান এ অবস্থা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে পুরো অঞ্চলকে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, গাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৫ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে। এমনটাই সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ‘প্রায় অনিবার্য’ হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের (ইউএনওসিএইচএ) কো-অর্ডিনেশন ডিরেক্টর রমেশ রাজাসিংহাম বলেছেন, এভাবে সংঘাত চলতে থাকলে এবং গাজার দক্ষিণে জনাকীর্ণ এলাকায়ও যখন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে তখন মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের কাজ খুব কমই সম্ভব হবে।

এরপর নিরাপত্তা পরিষদকে তিনি আরও বলেন, গাজার উত্তরাঞ্চলে ২ বছরের কম বয়সি প্রতি ছয় শিশুর মধ্যে এক শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার এবং ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডের ২৩ লাখ মানুষই কার্যত বেঁচে থাকার জন্য ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে অপর্যাপ্ত’ খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন।




পটুয়াখালীতে স্মার্ট ও উন্নত আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীতে স্মার্ট ও উন্নত আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের সমুদ্র সৈকত কুয়াকাট, পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ল্যান্ডিং ষ্টেশনসহ একাধিক মেঘা প্রকল্পের কারণে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী জেলা শহর। সেই গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৯ দিন। এরই মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে জমজমাট পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা। সকাল থেকে রাত অবধি ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীরা। ভোটারদের স্মার্ট-উন্নত আধুনিক পৌরসভা নির্মাণে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

আগামী ৯ মার্চ ৯টি ওয়ার্ডের ২৪টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমএর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর পরই পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো পৌরসভা। শহরের রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে, বাজার ঘাটে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাচ্ছে এসব পোস্টার। লিফলেট নিয়ে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থীদের পক্ষে এলাকায় ভোট চাইছেন কর্মীরা।

পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মোট ৬১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মেয়র পদে বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ লড়ছেন জগ প্রতীক নিয়ে। সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম লড়ছেন মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়াও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ রেল ইঞ্জিন, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. এনায়েত হোসেন নারিকেল গাছ ও নাসির উদ্দিন খান কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এসব প্রার্থীরা সবাই প্রচারে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত স্মার্ট-উন্নত আধুনিক পৌরসভা নির্মাণে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম দুজনই পটুয়াখালী পৌরসভার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। পৌরসভার বর্তমান উন্নয়নের দাবি করে দুজনই প্রচার চালাচ্ছেন।

বর্তমান মেয়র ও প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত পাঁচ বছর আমি পৌরবাসীর পাশে থেকে আমার সাধ্যমতো উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। পৌরবাসী এরই মধ্যেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে।’

মহিউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, প্রযুক্তির কল্যাণে পটুয়াখালী পৌরসভার গত ৫ বছরের উন্নয়ন সারা দেশসহ দেশের বাইরেও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। আমি পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ঢেলে সাজোনোর চেষ্টায় দিন-রাত এক করে কাজ করেছি। আমার সময়ে পটুয়াখালী পৌরসভা উন্নয়নের পথে হাত শুরু করেছে। ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভাটি মূলত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল উন্নয়নে। যে কারণে পরিপূর্ণ উন্নয়নে এ পৌরসভায় তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা দরকার।’

মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁর সময়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন, ‘আগামী ১০ বছর পর কমপক্ষে ২৫ লাখ লোকের বসবাস হবে এ পৌরসভায়। সেটি মাথায় রেখেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান আছে। পৌরবাসী যদি আমাকে ভোট দিয়ে আবারও নির্বাচিত করে, আমি পটুয়াখালী শহরকে ঢেলে সাজাতে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন অর্জন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারব।’

এদিকে সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১১ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ৮ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প চলমান ছিল। সে সব প্রকল্প বর্তমান মেয়রের সময়ে কাজ পূর্নতা পেয়েছে। আমার সময়ে পৌরবাসীর ওপর কোনো বাড়তি করারোপ করা হয়নি। যা এখন কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে পৌরসভার যেসব প্রকল্পের কাজ চলমান আছে সেগুলোর কলেবর বাড়ানো হবে। নানাবিধ করের বোঝা কমিয়ে পৌরবাসীর নাগালে আনা হবে।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একদিন এই পৌরসভা সিটি করপোরেশনে পরিণত হবে। কাজেই পৌরসভায় উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব। সকল নাগরিক সুবিধা ঘরে বসে পেতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। পটুয়াখালী পৌরসভা হবে স্মার্ট পৌরসভা, মানবিক পৌরসভা, অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল। শাসক নয়, শোষক নয় সেবক হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী পৌরসভা ১৮৯২ সালের ১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৫ আগস্ট পটুয়াখালী পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পৌরসভার আয়তন ২৬ বর্গকিলোমিটার । এ বারের পটুয়াখালী পৌরসভায় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫০ হাজার ৬৯৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২৬ হাজার ৭৫০ জন, পুরুষ ভোটার ২৩ হাজার ৯৪৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।