কঠোর অবস্থানে আ’লীগ : এমপি-নেতারা প্রার্থী দিতে পারবেন না উপজেলায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা কাউকেই প্রার্থী করতে পারবেন না। দলের জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল কোনো নেতাও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন না। তবে স্থানীয় কোনো নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। তবে দল থেকে কোনো অবস্থায়ই কাউকে সমর্থন করা যাবে না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের লক্ষ্যে সিরিজ বৈঠকের প্রথম দিনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রংপুরের কেন্দ্রীয় বিভাগীয় নেতারা ছাড়াও ৯টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর নেতারা এবং দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের ডাকা হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় ও জেলার কয়েকজন নেতা জানান, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ, উন্মুক্ত নির্বাচনে কাউকে দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে না। এই অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিরাসহ স্থানীয় নেতারা যার যার মতো করে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ধরে রাখতে কিংবা নতুন করে প্রভাব বলয় গড়ে তুলতে উপজেলায় পছন্দের নেতাদের প্রার্থী করার এই প্রবণতাকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় দলের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব-কোন্দল দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় দলীয়, স্বতন্ত্র এমপিসহ স্থানীয় নেতাদের প্রার্থী ঘোষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা এলো।

এর আগে সূচনা বক্তব্যে বৈঠকের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিরা প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না বলে জানান। পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সব ধরনের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের কঠোর তাগিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন প্রভাবিত করতে এমপি কিংবা নেতাদের কারও হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেন।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো আগামীতে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
তাই এসব নির্বাচনকে ঘিরে দ্বন্দ্ব-কোন্দলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। দলীয় কোন্দলের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ও উন্নয়ন কর্মককাণ্ড ম্লান না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা আরও জানান, রংপুর মহানগরসহ রংপুরের মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগাছায় আওয়ামী লীগে আগে থেকেই অন্তর্কোন্দল রয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধার জেলা-উপজেলায়ও নতুন করে কোন্দল রয়েছে। এই কোন্দল নিরসনসহ দল গোছাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। বিশেষ দুর্গম চরাঞ্চলে সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।




ইসরাইলে ২০০০ বোমা, ২৫টি এফ-৩৫ বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গাজায় ইসরাইলের হামলার মধ্যে ইসরাইলের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূল্যের বোমা ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি যখন রাফায় সামরিক হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তখনো ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থাকেনি বাইডেন প্রশাসন।

পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আমেরিকার একটি পত্রিকা জানিয়েছে, নতুন অস্ত্র প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ১,৮০০ এমকে-৮৪ ২,০০০ পাউন্ড বোমা, ৫০০ এমকে-৮২ ৫০০ পাউন্ড বোমা, ২৫টি এফ-৩৫এস যুদ্ধবিমান। এসব অস্ত্র ও বোমা ২০০৮ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া বৃহত্তর প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসরাইল গত জুলাই মাসে তৃতীয় স্কয়াড্রোনে ২৫টি এফ-৩৫এস যুদ্ধবিমান চেয়েছে। এগুলো সরবরাহ করা হলে বহরে এই বিমানের মোট সংখ্যা হবে ৭৫।

ওয়াশিংটন তার দীর্ঘ দিনের মিত্র ইসরাইলকে বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামারিক সহায়তা দিয়ে আসছে। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলকে আরো বেশি করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করছে। তবে কিছু ডেমোক্র্যাট এবং আরব আমেরিকান গ্রুপ ইসরাইলের প্রতি অবিচল সমর্থন প্রদানের জন্য বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করছে এবং এই সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি আমাদের অব্যাহত সমর্থন রয়েছে। শর্তসাপেক্ষ সহায়তা আমাদের নীতি নয়।’

সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল




এক মঞ্চে বাইডেন-ওবামা-ক্লিনটন: গাজা ইস্যুতে প্রতিবাদের মুখে তহবিল সংগ্রহ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে তারকাখচিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তবে গাজায় ইসরায়েলের চলমান অভিযানে বাইডেনের সমর্থন দেওয়া নিয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদে বাধার মুখে পড়ে তহবিল সংগ্রহের এ অভিযান। অবশ্য এ অনুষ্ঠান থেকে বাইডেনের পুনর্নির্বাচনী প্রচারের খরচ জোগাতে আড়াই কোটি ডলারের বেশি উঠেছে। শুক্রবার এই তথ্য জানা গেছে। খবর বিবিসির

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে  ওবামাকে নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে করে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক এসে পৌঁছান  বাইডেন। অনুষ্ঠানটি হয় বিখ্যাত রেডিও সিটি মিউজিক হলে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ‘দ্য লেট শো’র উপস্থাপক স্টিফেন কোলবার্ট। এ সময় আলোচনায় অংশ নেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার অতিথি।

অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা বাইডেনের পক্ষ সমর্থন করে বলেন, ইসরায়েল ইস্যুতে বাইডেনের ‘নৈতিক স্বচ্ছতা’ রয়েছে এবং এ নিয়ে বিতর্কে তিনি সব পক্ষের কথা শুনতে ও একটি সাধারণ অবস্থান খুঁজে পেতে আগ্রহী। কিন্তু বিশাল মিলনায়তনে হাজির অতিথিদের মধ্য থেকে কারও কারও প্রতিবাদের কারণে বাধার মুখে পড়ে অনুষ্ঠানটি। আলোচনার বিভিন্ন মুহূর্তে তারা চিৎকার করে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে বাইডেনের সমর্থন দেওয়ার প্রতিবাদ জানান।




পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম ফরাজী।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মো. আবুল কালাম ফরাজী লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি জাতীয় শ্রমিক লীগ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন অপরাধনীতি করি নাই। কিন্তু আপনারা জানেন, লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিষ্কারের সুপারিশ প্রাপ্ত এবং লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আনসার উদ্দিন মোল্লা গত ২৫ মার্চ আলিপুরস্থ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ২৪ মার্চ গভীর রাতে তার বাসভবনে হামলা হয়েছে এমন দাবি করে আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমি যতটুকু খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি যে তার বাসভবনের হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমি ও আমার লোকজনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চক্রান্তে এমন নাটক সাজানো হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা 

তিনি আরো বলেন, গত ২৭ মার্চ মহিপুর থানায় জিআর ৩৪/২৪ নং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার বাদী জোলেখা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা যারা আনছার উদ্দিন মোল্লা সকল অপকর্মের সহযোগী ও অনুসারী। দায়েরকৃত মামলায় আমাকে সহ আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি করছি।

আবুল কালাম ফরাজী বলেন, মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমিও আমার লোকজনের কোন সম্পৃক্ততা নাই। আমি ও আমার লোকজন প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না মর্মে দূঢ়ভাবে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই। আনসার উদ্দিন মোল্লা ইউনিয়নের অপরাধনীতির মূল হোতা এবং মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে পারদর্শী বলেও মন্তব্য করেন।




ইমরানকে সামলাতে গিয়ে নিজেই বেসামাল পাকিস্তান আর্মি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গত বছর থেকেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে আলোচনার বড় একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তাকে দাবিয়ে রাখতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদক্ষেপ। বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে, ইমরানকে সামাল দিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনী নিজেই বেসামাল হয়ে পড়েছে।

বিগত কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানে রাজত্ব করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। সরকারের পেছনে কলকাঠি নাড়া, প্রয়োজনে সরকারের পতন ঘটানো, এসবের জন্য বাহিনীটির কুখ্যাতি আছে বটে। তবে অনেক পাকিস্তানি নাগরিক এতেই খুশি। তারা মনে করেন অকর্মণ্য রাজনীতিবিদদের চেয়ে বরং সেনারা দেশটা সামলাতে পারবে ভালোভাবে। কিন্তু ইমরান ইস্যুতে বর্তমানে সোনাকর্তাদের জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে কমে এসেছে।

রাষ্ট্র চালনায় প্রভাব রাখার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী- এমন অভিযোগ করেছিলেন দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন। এরপর দেশটির জাতীয় নির্বাচনে ইমরান খানের দল বেশি আসন পেলেও তাদেরকে ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হয়নি। সেনাবাহিনীর সমর্থনে অন্যদের হাতে চলে যায় সরকার। এমন অবস্থায় অনেকটা জনপ্রিয়তা খুইয়েছে সেনাবাহিনী। একদল মানুষ এখনো সেনাবাহিনীর পক্ষে রইলেও আরেকদল তাদের বিপক্ষে চলে গেছে।

পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিপদ এখানেই শেষ নয়। এহেন বিভক্তি তার নিজের সেনাবাহিনীর মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে এমন অনেকেই আছেন যারা ইমরান খানের প্রতি অনুরক্ত। ইমরান খানের মার্কিনবিরোধী, চীন-রাশিয়াপন্থী, ডানপন্থি নীতির শক্ত সমর্থক তারা। সেনাবাহিনীর এই আভ্যন্তরীণ ফাটল মেরামত করতে পারাটা সেনাপ্রধানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এখন। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পন্থা এবং স্থিতিশীলতা দুটোই এর অপর নির্ভর করছে এখন।

সেনাবাহিনীতে এমন বিভক্তি খুবই খারাপ সময়ে দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনীতির মরো-মরো দশা হয়েছে। ইমরান খান ক্ষমতা থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের। তা মেরামতের চেষ্টা করে চলেছেন জেনারেল মুনির। একদিকে নরেন্দ্র মোদির ভারত, আরেকদিকে তালেবান শাসিত আফগানিস্তান, আরেকদিকে ইরান— সবদিক দিয়েই চাপে আছে পাকিস্তান।

তবে এমন প্রতিকূল অবস্থার পেছনে সেনাবাহিনী নিজেই অনেকটা দায়ী। জেনারেল পারভেজ মোশাররফের শাসনের পর ধীরে ধীরে গণতন্ত্রে ফেরার চেষ্টা করে পাকিস্তান। সে সময়ে পাকিস্তান মুসলিম লীগ— নওয়াজ এবং  পাকিস্তান পিপল’স পার্টি এই দুই দল সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে, এমন ভয় পেয়েছিলেন সেনা কর্মকর্তারা। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরোধিতা করছে, এমন একটি মতবাদও ছড়ায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই। এমন সময়ে নিজেদের চামড়া বাঁচাতে তারা ইমরান খানের সাথে জোট বাঁধে।

সাবেক ক্রিকেটার, পারভেজ মোশাররফের সমর্থক, এবং পাকিস্তানের বনেদি রাজনৈতিক পরিবারগুলোর কট্টর সমালোচক ইমরান খানকে পাশে পেয়ে স্বস্ত্বির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন সেনা কর্মকর্তারা।

কিন্তু এই পদক্ষেপে হিতে বিপরীত হয়।

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে মার্কিন প্রভাব এবং রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন সাধারণ মানুষকে। কিন্তু এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। সেইসাথে আবার দেশের সেনাবাহিনীর বিপক্ষে চলে যান ইমরান খান। তিনি বলেন, তারা মার্কিনিদের সাথে যোগসাজশে রয়েছে। এতে করে এই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়ে আসে। এক পর্যায়ে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান। এই অনাস্থা ভোটের পেছনেও যে সেনাবাহিনীর হাত ছিল, তা বলাই বাহুল্য।

তবে ক্ষমতাচ্যুত হয়েও নির্বিষ হয়ে পড়েননি ইমরান। গত বছর গ্রেপ্তার হন তিনি। এমনকি পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। এতে ক্ষেপে ওঠেন তার সমর্থকরা। নির্বাচনের ফলেই দেখা যায় ইমরানের দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশি আসনে জেতেন। এরপরেও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে জোট সরকার গঠিত হয়, ক্ষমতা ইমরানের দলের অধরাই থেকে যায়।

এতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটভূমিতে চলমান সমস্যার সাময়িক সমাধান হয় বটে, কিন্তু এখন সেদেশের অজস্র নাগরিক বিশ্বাস করেন, ভোটে কারচুপি হয়েছে, সঠিক দল ক্ষমতায় আসেনি। আর বর্তমানে নাগরিকদের মধ্যে এই অসন্তোষ নেভানোর ক্ষমতা নেই সেনাবাহিনীর, কারণ অনেক সেনা কর্মকর্তা এখনো ইমরানের পক্ষে রয়েছেন। সামনের বছর জেনারেল মুনির অবসরে গেলে তার আসনে কে বসবেন, এবং তিনি ইমরানের পক্ষের লোক হবেন নাকি বিপক্ষের, এর ওপরই নির্ভর করছে পাকিস্তানের ভবিষ্যত।

মূলত, ইমরানের পক্ষের লোক সেনাপ্রধান হলে ছাড় পেতে পারেন ইমরান। এমনকি নতুন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ইমরান আবার ক্ষমতায় আসতে পারেন। তেমনটা হলে প্রতিহিংসার বশে কী কী পদক্ষেপ নেবেন ইমরান, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই। কিন্তু জেনারেল মুনির যদি অবসরে না যান, তাহলেও শঙ্কা রয়েছে, সেনাবাহিনীতে দেখা দিতে পারে বিদ্রোহ।

পাকিস্তানের ভবিষ্যতের অনেকটাই নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর ওপর। ইমরান ইস্যুতে বাহিনীর আভ্যন্তরীণ ফাটল মেরামত করতে না পারলে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, এমনকি পুরো ভবিষ্যৎটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে

আয়েশা সিদ্দিকা: পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ, ‘মিলিটারি ইনক.: ইনসাইড পাকিস্তান’স মিলিটারি ইকোনমি’ বইয়ের লেখক; দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন কে এন দেয়া




বরিশালে যুব শ্রমিক লীগে ৭১ বিশিষ্ট কমিটি গঠন।

বরিশাল অফিস:: বরিশালে প্রথমবারের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন যুব শ্রমিক লীগের এ্যাডঃ নিয়াজ মাহমুদ খানকে সভাপতি ও এ্যাডঃ জসিম উদ্দিন নকীবকে সাধারন সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭) মার্চ জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের স্বাক্ষরিত কপি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যুব শ্রমিক লীগের আহবায়ক আব্দুল হালিম ও সদস্য সচিব এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া যুব শ্রমিক লীগে ১৪ জন সহ সভাপতি ও ৬জনকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং
৫জনকে সহ সাধারন সম্পাদক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক,
প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক,দপ্তর সম্পাদক,অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সহ ৭১ বিশিষ্ট কমিটি
গঠন করা হয়েছে।




বরিশালে সাংবাদিক বনাম যুবলীগ, কে হাসবেন শেষ হাসি

বরিশাল অফিস:: ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই বিভাগীয় শহর বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। রমজানের মধ্যেই এ উপজেলায় স্বম্ভাব্য দুইজন প্রার্থী দিনরাত একাকার করে মাঠে গণসংযোগ থেকে শুরু করে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজ করছেন।

তবে এখনও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। এমনকি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান পূর্ণরায় প্রার্থী হবেন কিনা সে বিষয়েও কোন স্পর্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে মর্যাদাপূর্ণ এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এককভাবে মাঠ দখল করে রেখেছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেন। বিগত প্রায় চার মাস ধরে তিনি উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গণসংযোগ করে আসছেন।

বিভিন্ন সভায় সাংবাদিক এসএম জাকির হোসেন বলেছেন, আমার কাছে ধনী-গরীবের কোন ভেদাভেদ নেই। সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সমান। আমি সকলের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, বরিশাল সদর উপজেলাকে আধুনিক ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।

সূত্রমতে, অতিসম্প্রতি একই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কোমড় বেঁধে মাঠে নেমে গণসংযোগ শুরু করেছেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুন। সচেতন বরিশালবাসীর মতে, শেষপর্যন্ত কে হচ্ছেন মর্যাদাপূর্ণ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী। সাংবাদিক নেতা নাকি যুবলীগ নেতা, কে হাসবেন শেষ হাসি, সেই হিসেবে মেলাতে ঈদ-উল ফিতর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 




হাসপাতালে নয়, বাড়িতেই থাকবেন খালেদা জিয়া




আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে ‘দলীয় প্রার্থী’ ঘোষণা করলেন প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য আওয়ামী লীগের ‘দলীয় প্রার্থী’ হিসেবে দুজনের নাম ঘোষণা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের ইয়ুথ ইন চত্বরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত সবার সামনে তিনি ওই দুজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচন গুলোয় দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ কাউকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যাঁর যাঁর মতো করে স্বতন্ত্র ভাবে দলের নেতারা নির্বাচন করতে পারবেন। যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে দলের নেতারা ভোট করতে পারবেন।

গতকালের অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, ‘আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা দল থেকে, আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ আলীকে দল থেকে মনোনীত করেছি।’

আরো পড়ুন : গলাচিপায় শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ৫০ মেধাবী শিক্ষার্থী  

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অনেক প্রার্থী আসবেন, কিন্তু দুর্দিনে যাঁরা দলের জন্য শ্রম দিয়েছেন ও দলকে আগলে রেখেছেন— এমন দুই নেতাকে দল থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-সংগঠনের একাধিক নেতা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। প্রার্থীদের অনেকে তৃণমূল ভোটারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের ঘোষণাকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয়ভাবে গণসংযোগ করছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আল সাইফুল। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে তিনি এভাবে নিজের খেয়াল-খুশি মতো কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না। কারণ, ইতিমধ্যে দলের সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনসহ সব স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। কেউই দল মনোনীত প্রার্থী হবেন না। এমনকি আমাদের দল থেকে যাঁরা নির্বাচন করবেন, তাঁরা দলীয় পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।’
দল থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রকাশ্য সভায় প্রার্থী ঘোষণা করে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করেছেন বলে মনে করেন যুবলীগ নেতা শামিম। এ বিষয়ে তাঁরা দলের সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদকসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের অবহিত করেছেন বলে জানান।

উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়েছেন টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামান। প্রতিমন্ত্রীর প্রার্থী ঘোষণায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতবার সামান্য ভোটে হেরে গেছি। এবারও চেয়ারম্যান পদে আমি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। হঠাৎ প্রতিমন্ত্রী একজনকে প্রার্থী ঘোষণা দিলেন, এটা হতে পারে না। তিনি দলীয় নিয়ম ভঙ্গ করে এ কাজটি করেছেন। আমরা এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানাব।’

আরো পড়ুন : জমি জখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দল থেকে তাঁরা প্রার্থী, তাঁরা তাঁরা দাঁড়াতে চান, সেটা বলেছি। দলীয় প্রার্থী তো দেওয়ার সুযোগ নেই।




মুক্তিযুদ্ধে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন জিয়া: প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল অফিস::  মুক্তিযুদ্ধে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছেন জিয়াউর রহমান বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলটির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপির নেতারা যে বলে পঁচিশে মার্চ রাতে আওয়ামী লীগের সবাই পালিয়ে গেছে, তাহলে যুদ্ধটা করলো কে? বিজয়টা আনলো কে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গঠন করে যুদ্ধ পরিচালনা করা, শুধু পরিচালনা না সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা। বিভিন্ন সেক্টর গঠন করা। সেই সেক্টরের একটির দায়িত্ব পায় জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান তো সেখানে একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারে অধিনে বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলো জিয়াউর রহমান। এই কথা তাদের ভুলে গেলে চলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্তরের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে বিজয়ী সদস্যরাই কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করে। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ। এই সরকার গঠন করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে শপথ নিলেন। শপথ নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করলেন এই সরকার। যেহেতু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, তার সাথে সাথেই তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো।

তিনি বলেন, এটা ভুললে চলবে না, স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান ছিল একজন মেজর। জিয়াউর রহমানের জন্ম হলো কলকাতায়। তার পরিবার যখন পাকিস্তান ভারত ভাগ হয় তখন পাকিস্তানে ফিরে আসে। সে কিন্তু পূর্ববঙ্গে আসেনি। তারা গিয়েছিলো করাচিতে। সেখানেই পড়াশোনা করে। সেখানে আর্মিতে যোগ দেয়। সেখান থেকে কার্যাদেশ পেয়ে পূর্ববঙ্গে এসেছিলো দায়িত্ব পালন করতে। এটাই বাস্তবতা। তার মনে তো ওই পাকিস্তানটা রয়ে গেছে। তার প্রমাণও আছে। মেজর থেকে যে একে একে প্রমোশন পেলো এই প্রমোশনগুলো কে দিয়েছে? এটাও তো আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দিয়েছে। এই অকৃতজ্ঞরা সেটাও হয়তো ভুলে যায়।