জমে উঠেছে কমলাপুর ইউপি নির্বাচনী প্রচার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার জমে উঠেছে। এ ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনে ৩ চেয়ারম্যান, ৩টি সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ আসনে ২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা আটঘাঁট বেঁধে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন।

গত মঙ্গলবার প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩টি সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ আসনে ২৬ প্রার্থী তাদের প্রতীক নিয়ে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি রাত-দিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী হলেন- সাবেক চেয়ারম্যান ছালাম মৃধা (চশমা), বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মনির রহমান মৃধা (আনারস) ও মো. শফিকুল ইসলাম (ঘোড়া)। সংরক্ষিত ৩টি আসনে ৮ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন- ১নং সংরক্ষিত আসনে আসমা- বেগম (বই) ও ফারজানা (মাইক), ২নং সংরক্ষিত আসনে- উম্মে হানি (মাইক), খুশি (কলম) ও সাথী (বই), ৩নং সংরক্ষিত আসনে- পারভীন বেগম (বই), মোসা. আফরোজা (কলম) ও সেলি আক্তার (মাইক)।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের ২৬ প্রার্থী হলেন ১নং ওয়ার্ডে- মো. আলী আকবর (মোরগ), মো. জাফর শরীফ (টিউবওয়েল), মো. নজরুল ইসলাম (তালা) ও মো. বশিরুল আলম (ফুটবল), ২নং ওয়ার্ডে- জাফর (টিউবওয়েল), মো. আ. মালেক হাওলাদার (ফুটবল), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা), মো. মোশাররফ (মোরগ) ও সবুজ দাস (তালা), ৩নং ওয়ার্ডে- মো. আলাউদ্দিন মোল্লা (ফুটবল) ও মো. আশ্রাফ আলী (মোরগ), ৪নং ওয়ার্ডে- মো. বশির আহমেদ (মোরগ) ও মো. মনিরুল ইসলাম মানিক (ফুটবল), ৫নং ওয়ার্ডে- মো. বাবুল (ফুটবল) ও মো. লিটন মৃধা (মোরগ), ৬নং ওয়ার্ডে- গৌতম পাল (ফুটবল), জসিম উদ্দিন (মোরগ) ও মো. সফিকুল ইসলাম (তালা), ৭ নং ওয়ার্ডে- মনির হোসেন সিকদার (তালা), মো. ফারুক মোল্লা (ফুটবল) ও মো. সবুজ (মোরগ), ৮নং ওয়ার্ডে-  মো. ছোহরাব মোল্লা (তালা) ও মো. সুলতান পাঠান (মোরগ), ৯নং ওয়ার্ডে- আ. রাজ্জাক হাওলাদার (মোরগ), মো. কামাল হোসেন (ফুটবল) ও মো. মিজানুর রহমান (তালা)।

কমলাপুর ইউনিয়নে ২৮ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমলাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ১৯,৮৪৫।




তৃতীয় ধাপের উপজেলা ভোটের তফসিল আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের তপসিল হতে পারে আজ বুধবার। তফসিল ঘোষণার লক্ষ্যে আজ বিকাল ৩টায় কমিশনের সভা আহ্বান করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে বৈঠকটি নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন রাখা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে শতাধিক উপজেলায় আগামী ২৯ মে ভোট হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি।

প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তিনটি পদে ১ হাজার ৮৯১ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। আজ মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে।। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ১৫০ উপজেলায় ভোটগ্রহণ ৮ মে। এ ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক নিষ্পত্তি করবেন।

দ্বিতীয় ধাপের তপসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ এপ্রিল শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ ২১ মে। এ ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি, যেখানে সেখানে একাধিক সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন। চার ধাপের উপজেলা ভোটের পরবর্তী দুই ধাপের নির্বাচন ২৯ মে ও ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র অনলাইনেই দাখিল করতে হবে। জামানতের টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। কাজেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনেই হবে।




প্রথম ধাপ: উপজেলা ভোটের মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় সোমবার (১৫ এপ্রিল)।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল।

আর ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।

এ ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র অনলাইনেই দাখিল করতে হবে।

জামানতের টাকাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। কাজেই সম্পূর্ণ সিস্টেমটাই অনলাইনে হবে।

দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।

এ ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি যেখানে সেখানে একাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।

চার ধাপের উপজেলা ভোটের পরবর্তী দুই ধাপের নির্বাচন ২৯ মে ও ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে।




স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন, বাঙালির আত্মপ্রকাশের সূচনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আজ ১০ এপ্রিল, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি গোপন স্থানে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) নির্বাচিত করে গঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। নবগঠিত সরকারের সবাই ছিলেন ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধি। আর এ সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথচলা।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) বাঙালি নিধনে নৃশংস গণহত্যাযজ্ঞ শুরু করে পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরা। পরদিন প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। কিন্তু গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

সরকারের নবনির্বাচিত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পরে তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে সেদিন আরও তিনজনকে নির্বাচিত করা হয়। তারা হলেন- খন্দকার মোশতাক আহমদ (পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ), এম মনসুর আলী (অর্থ বাণিজ্য ও শিল্প) এবং এএইচএম কামারুজ্জামান (স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ, পূর্নবাসন ও কৃষি)।

জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নতুন সরকারের সামনে দেখা দেয় তিনটি চ্যালেঞ্জ। একদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা, অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বিশ্ব জনমত গঠনের মাধ্যমে স্বীকৃতি আদায় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা। এই তিন বিষয় নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। এ জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে দেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকার নামেও সমধিক পরিচিত।

১১ এপ্রিল স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাজউদ্দিন আহমদ প্রথম একটি বেতার ভাষণ দেন। যা মুক্তিকামী বাঙালি ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্ব জনমত গঠনের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছিল। সেদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের বীর ভাই-বোনেরা বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মুক্তিপাগল গণমানুষের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের আমার সংগ্রামী অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাহাড় প্রমাণ লাশের নিচে পাকিস্তানের কবর রচিত হয়েছে। জেগে উঠেছে একটি নতুন জাতি।’ ভাষণের শেষাংশে তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, “যারা আজ রক্ত দিয়ে উর্বর করেছেন বাংলাদেশের মাটি, যেখানে উৎকর্ষিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মানুষ। তাদের রক্ত আর ঘামে ভেজা মাটি থেকে উঠুক নতুন গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, গণমানুষের কল্যাণে সাম্য আর সুবিচারের ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা হোক ‘জয় বাংলা’, ‘জয় স্বাধীন বাংলাদেশ’।”

এই ভাষণে তিনি দেশজুড়ে পরিচালিত প্রতিরোধ যুদ্ধের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি এ কথাও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো এক স্থানে (কৌশলগত কারণে স্থান জানানো হয়নি)। এ ছাড়া ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভার শপথের তারিখও ঘোষণা করেন। প্রবাসী সরকার তখন এক অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনিভাবে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকেও দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করে।




জনসেবার ব্রত নিয়েই আমি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি- এসএম জাকির হোসেন

বরিশাল অফিস:: মানুষেল জন্য কাজ করাও এক ধরনের এবাদত বলে মন্তব্য করেছেন, বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘জনসেবার ব্রত নিয়েই আমি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। কারণ একজন জনপ্রতিনিধিই পারে খুব সহজভাবে বৃহৎ জনগোষ্ঠির সেবা এবং উন্নয়ন করতে। মন্ত্রী-এমপিদের কাছে দাবি জনগণের পক্ষে দাবি জানাতে পারে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা মৌচাক বাজারে গণসংযেগ ও স্থানীয়দের সাথে কুশল বিনিময়কালে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম জাকির হোসেন এ কথা বলেন।

এর আগে ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা মৌচাক বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদে স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন এসএম জাকির হোসেন।

গণসংযোগ ও ইফতার অনুষ্ঠানে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের সদস্য মো. আবু নাঈম আকন, এসএম জাকির হোসেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আবুয়াল মাসুদ মামুন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক জুয়েল রাফিসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

গণসংযোগকালে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। আমি কাজ করে দেখাতে চাই। সদর উপজেলায় আগে কী হয়েছে আমি জানি না। তবে কথা দিচ্ছি, আমি নির্বাচিত হলে বরিশাল সদর উপজেলাকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। সদর উপজেলা হবে সারা দেশের উন্নয়নের মডেল।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ্ আমাকে অনেক দিয়েছেন। নতুন করে আমার চাওয়ার কিছুই নেই। জীবনের শেষ নি.শ্বাস পর্যন্ত আমি জনগণের সেবা করতে চাই। আপনারা আমাকে সেই সুযোগটুকু সৃষ্টি করে দিন। আমি কথা দিচ্ছি, জনগণের সেবক এবং বন্ধু হয়ে উপজেলাবাসীর পাশে থাকবো।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির পারভেজ মোল্লার বাবা মাসুদ মোল্লার মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে ছুটে যান এসএম জাকির হোসেন। এসময় সমাজসেবক সুরুজ মোল্লা, ইউপি সদস্য সাইদুল আলম লিটন উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন ইউরো কনভেনশন হলে বরিশাল উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সদর উপজেলা নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন।

উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি বিলকিস আহমেদ লিলি’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আবুয়াল মাসুদ মামুন, প্রকৌলশী সাহেদ বিল্লাহ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক জুয়েল রাফি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারী উদ্যোক্তা সুমাইয়া জিসান। এসময় নারী উদ্যোক্তারা আসন্ন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর বিকেলে ইউরো কনভেনশন হলো ‘মোগো সুন্দর বরিশাল সোসাইটি’ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এসএম জাকির হোসেন। ইফতার পূর্বক আলোচনা সভায় গ্রুপের সকল সদস্যদের দোয়া এবং সমর্থন প্রত্যাশা করে বক্তব্য দেন তিনি।




বরিশালে দশটি উপজেলার সাতটিতে নতুন মুখ

বরিশাল অফিস :: নানা জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলার দশটি উপজেলার সাতটিতে আসছে নতুন মুখ দেখা গেছে । এরমধ্যে একটি উপজেলায় প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ। বাকি ছয়টি উপজেলায় নতুন মুখের জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পরই দীর্ঘদিন থেকে প্রচারণায় মাঠে থাকা প্রায় অর্ধশত সম্ভাব্য প্রার্থীরা হঠাৎ করে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন চকম আসা উপজেলাগুলো হচ্ছে-বরিশাল সদর, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বাবুগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদী। গত ৩০ মার্চ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোঃ আহসান হাবিব খান বরিশাল সফরে এসে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর থেকেই এসব উপজেলার গ্রহণযোগ্য, সৎ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সূত্রমতে, প্রথমধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন। দলমত নির্বিশেষে পুরো উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। প্রথমধাপের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা। ক্লিনইমেজের এ প্রার্থীর এলাকায় রয়েছে ব্যাপক সমর্থন।

দ্বিতীয় ধাপে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক মেধাবী ছাত্র ও করোনাকালীন সময়ে এলাকায় ব্যাপক সহযোগিতা করে আলোড়ন সৃষ্টি করা মোঃ আদনান আলম খান বাবু। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা জনতা ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল আলম খান ফিরোজের ছেলে আদনান আলম খান বাবু নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় উপজেলাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।

তৃতীয় ধাপে আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর জেষ্ঠ পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ। একই ধাপের নির্বাচনে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান গৌরনদী পৌরসভার মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান। গত কয়েকদিন থেকে দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই নেতার ছবি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে গৌরনদী উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।

চতুর্থ ধাপে হিজলা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সদ্য প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালীর একমাত্র ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। একই ধাপে মুলাদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্লিন ইমেজের প্রার্থী মোঃ জহির উদ্দীন খসরু। গত কয়েকদিন থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করে আসছেন।

এসব উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রার্থী বিগত ছয়মাস পর্যন্ত উপজেলাজুড়ে ব্যাপক পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নতুন মুখের ক্লিনইমেজের উল্লেখিতরা প্রার্থী হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দেওয়ার পর পরই গত কয়েকদিন থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণায় মাঠে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীরা হঠাৎ করে নিশ্চুপ বনে গেছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উজিরপুর, বানারীপাড়াসহ অন্যান্য উপজেলার একাধিক সম্ভ্রাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের শতভাগ প্রতিশ্রুতি পেলে প্রতিটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা প্রার্থী হবেন।




বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা নির্বাচন ২১ মে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::  দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এই ধাপে আগামী ২১ মে পটুয়াখালীর ৩ উপজেলাসহ দেশের ১৬১টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পটুয়াখালীর তিনটি উপজেলা পরিষদ হচ্ছে- বাউফল, গলাচিপা এবং দশমিনা উপজেলা ।

আরো পড়ুন : কেনাকাটায় জমে উঠেছে পটুয়াখালীর ঈদ বাজার

সোমবার (১ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম এ তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়ন বাছাই হবে ২৩ এপ্রিল। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল। ভোট গ্রহণ ২১ মে




আ.লীগের রাজনীতি : বরিশাল বিভাগে পরিচালনায় প্রাধান্য প্রবীণ নেতাদের

বরিশাল অফিস:: মহানগর ও ৬টি জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ সাজিয়েছে আওয়ামী লীগ। গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব ও নিজস্ব বলয়ে চলছে বরিশালে দলটির রাজনীতি। এ বিভাগের দুটি জেলা বাদে কোনো জেলায় আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ নেই। একই অবস্থা সহযোগী সংগঠনগুলোরও। মহানগর ও বরিশাল জেলার দলীয় রাজনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পরিবার। ঝালকাঠি এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগে একচ্ছত্র বলয় রয়েছে দেশের বর্ষীয়ান দুই নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদের। আর শীর্ষ নেতাদের গ্রুপিং ও বলয়ের প্রভাবে বিভক্ত দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

বরিশালের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহত্তর বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুটি বলয় ছিল। একটি আমির হোসেন আমুর অপরটি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর। অন্যদিকে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বরাবরই আমির হোসেন আমুর অনুসারী হিসেবে বরিশালে পরিচিত। একসময় আমু ও হাসানাতের বাইরেও বৃহত্তর বরিশালে তোফায়েল আহমেদের একটি বলয় ছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে অনুপস্থিত ও অসুস্থতার কারণে তোফায়েলের বলয় কমে এখন শুধু ভোলা জেলায় সীমাবদ্ধ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়া এমপিদের বড় অংশ আমু ও নানকের অনুসারী। তারা আবার আবুল হাসানাত বিরোধীও।

বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করে, কোথাও কোনো সমস্যা বা ভুল-বোঝাবুঝি থাকলে সমাধানের চেষ্টা চালানো হবে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের মধ্যে কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি করা যাবে না, আমাদের নেত্রীর নির্দেশ রয়েছে। কারও সঙ্গে কারও সমস্যা থাকলে নেতাদের ঢাকায় ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সাংগঠনিক বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের জেলা ও মহানগরের সম্মেলন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা ছাড়া বাকি জেলাগুলোর কমিটির মেয়াদ শেষ। এর মধ্যে বরিশাল জেলার মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু আগে। জাতীয় নির্বাচন যেহেতু শেষ হয়েছে, আমরা নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্মেলনের প্রক্রিয়া শুরু করব।

মহানগর ও বরিশাল জেলা: মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পরিবার । দুই দশকের বেশি সময় ধরে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগে একক নিয়ন্ত্রণের রেখেছেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসানাত আবদুল্লাহ। প্রতিটি উপজেলায় মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি তিনিই দেখভাল করছেন। এর পাশাপাশি পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার রাজনীতিতেও তিনি অনুসারীদের পদে রেখেছেন।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে কয়েক যুগ ধরে। তবে বরিশাল মহানগরের রাজনীতিতে ভিন্নতা এসেছে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর। বিশেষ করে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ মারা যাওয়ার পর নগরের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তবে সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সাদিককে মনোনয়ন না দিয়ে তার চাচা আবুল খায়েরকে নৌকার মনোনয়ন দেয়।

মেয়র নির্বাচিত হন খায়ের। হাসানাত পরিবারের সঙ্গে আবুল খায়েরের বৈরী সম্পর্ক বহু বছরের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবুল খায়েরকে ঘিরে বরিশাল আওয়ামী লীগে তৈরি হয়েছে নতুন বলয়। তার সঙ্গে যোগ দেয় প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের অনুসারীরা। গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল ৫ আসনে নৌকার মনোনয়ন পান কর্নেল জাহিদ ফারুক। মনোনয়ন না পেয়ে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ান সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তবে তার প্রার্থিতা বাতিল হলে একচেটিয়াভাবে নির্বাচিত হন জাহিদ ফারুক। তার সঙ্গে আবার সাদিকের চাচা মেয়র খায়েরের সম্পর্ক বেশ ভালো। এতে নগরের রাজনীতিতে এক অংশের নিয়ন্ত্রণ হারান আবুল হাসানাত পরিবার। এ নিয়ে দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও কয়েক ভাগে বিভক্ত। যদিও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর কোনো কমিটির মেয়াদ নেই।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, নির্বাচনের আগে দলে বিভাজন ছিল। এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। রাজনীতি করতে গেলে অনেক কিছু হয়। আবার সবাইকে নিয়ে চলতেও হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি কেউ ভাঙতে পারবে না।

তবে অতিদ্রুত মহানগর কমিটির বিলুপ্তি চান নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আফজালুল করিম। তিনি বলেন, বর্তমানে মহানগর কমিটির শীর্ষ পদে যারা আছেন তারা আদর্শের জায়গায় নেই। তারা ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে আছেন। সংগঠনের দিকে তাদের কোনো মনোযোগ নেই। এই কমিটির মেয়াদও শেষ। তাই বরিশাল মহানগরের কমিটি বাদ নিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি করা এখন নৈতিক দায়িত্ব। আমরা দলের সভাগুলোতেও প্রকাশ্যে নতুন কমিটির দাবি জানিয়েছি।

ঝালকাঠি জেলা

জেলা এবং উপজেলাগুলোর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটির মেয়াদ নেই। এই জেলার দলীয় নেতাদের বড় অংশ বর্ষীয়ান নেতা ও ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি আমির হোসেন আমুর অনুসারী। এককেন্দ্রিক রাজনীতি চলে এই জেলায়, তাই দলীয় গ্রুপিং অনেক কম। এই জেলায় সরকারি টেন্ডার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন চার নেতা। স্থানীয় ভাষায় তাদের ৪ খলিফা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন, ২০১২ সালে থেকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকা রেজাউল করীম জাকির। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর হাফিজ আল মাহমুদ। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন সুরুজ ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরিফ। এই চার নেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই।

ভোলা জেলা

জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ ও তার ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব। সরকারের কাজ ও স্থানীয় পর্যায়ের সব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণও বিপ্লবের হাতে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লার সঙ্গে তোফায়েল পরিবারের বৈরী সম্পর্ক। তাই জেলার রাজনীতিতে তিনি অনেকটা কোণঠাসা হয়ে আছেন। এই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ রয়েছে। তবে দলের সাংগঠনিক কোনো সভা বা কর্মিসভা হয় না এই জেলায়। এর জন্য তোফায়েল আহমেদের প্রভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয় নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা বলেন, এখানে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ করেন কেন্দ্রীয় এক মুরব্বি। সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যেখানে মুরব্বির আত্মীয়স্বজন রয়েছে সেগুলোর সম্মেলন হতে দেওয়া হয় না। জেলা আওয়ামী লীগে তার প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও বিএনপি-জামায়াতের লোকদের পদ দেওয়া হয়েছে। সভাপতি কিছু বললেও কাজ হয় না।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু বলেন, ‘সমন্বয়ের বড়ই অভাব। আমি জেলার সাধারণ সম্পাদককে একটি মিটিং বা সভায় ঢাকলে তিনি আসেন না। এভাবে চলছে আমাদের রাজনীতি।’ এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি মজনু।

বরগুনা জেলা

প্রায় ৪০ বছর ধরে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ধীরেন্দ্র দেবনাথ (শম্ভু) ও সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর কবির রয়েছেন। দলের সহযোগী সংগঠনের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ছাড়া কোনো সংগঠনের কমিটির মেয়াদ নেই। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি চলছে তিন নেতার বলয়ের মাধ্যমে। গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েও ধীরেন্দ্র দেবনাথ স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকুর কাছে পরাজিত হন। বর্তমান এমপি টুকুকে ঘিরে জেলায় নতুন গ্রুপিং শুরু হয়। আগে থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দুটি গ্রুপ ছিল। এই তিন গ্রুপের প্রভাবে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও তিন গ্রুপে বিভক্ত। তবে কেউ দায় স্বীকার করেন না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এখানে সব ঠিক আছে। অন্য জেলা আওয়ামী লীগের যে অবস্থা এখানেও সেই অবস্থা।’

পটুয়াখালী জেলা

২০১৯ সালে সম্মেলন হওয়ায় এই জেলার বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেনকে কেন্দ্র করে চলে এই জেলার রাজনীতি। জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও দুই ভাগে বিভক্ত। সরকারি কাজও নিয়ন্ত্রণ করেন দুই গ্রুপের নেতারা। যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ছাড়া কোনো সংগঠনের কমিটির মেয়াদ নেই। উপজেলাগুলোর কমিটির মেয়াদও শেষ। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে এই জেলায় রাজনীতিতে আফজাল হোসেন ও কাজী আলমগীর হোসেনের অনুসারীরা প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন।

পিরোজপুর জেলা

জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ দুই নেতার হাতে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও সদস্য শ ম রেজাউল করিমের দ্বন্দ্বের কারণে দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও এখন বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন রেজাউল করিম। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও পরাজিত হন। জেলার সরকারি টেন্ডারগুলো এখন পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন সাবেক মন্ত্রী রেজাউল। নির্বাচনের পরে অনেকটা কোণঠাসা আউয়ালের সমর্থকরা। এই জেলা আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির মেয়াদ রয়েছে। বাকি সংগঠনের কমিটির মেয়াদ নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল বলেন, এখানে দলের অবস্থা ভালো। তবে এমপির জামাতা বিএনপির লোক নিয়ে চলেন। দলের নেতাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ আগেও রাখেননি। এখনো দলের নেতারা তার কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না।




উপজেলা নির্বাচনে জাতির পিতার নাতি সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ’র প্রার্থীতা ঘোষণা

বরিশাল অফিস :: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন জাতির পিতার ছোট নাতি আওয়ামী লীগ নেতা সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ। গত রবিবার রাতে নেদা-কর্মীরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আশিক আবদুল্লাহর প্রার্থীতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে নতুন করে শুরু হলো আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজনৈতিক নতুন মেরুকরণ। নতুন প্রজন্মের “আইডল ম্যান” হিসেবে পরিচিত আশিক আবদুল্লাহ’র প্রার্থীতার খবরে আনন্দ-উচ্ছাসে ভাসছে উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আশিক আবদুল্লাহর প্রার্থী হবেন এমন জল্পনা-কল্পনা ছিল সর্বত্র। ৩১ মার্চ রাতে উপজেলার সেরাল গ্রামের নিজ বাড়িতে জনাকীর্ণ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট নাতি, মন্ত্রী মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক, বরিশাল-১ আসনের এমপি আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র ছোট ছেলে, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নির্বাহী সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া নিশ্চিত করে সোমবার সকালে এই প্রতিনিধিকে সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ বলেন- বিষয়টি দলের সিদ্ধান্ত। তাই দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটনই এই বিষয়ে দলের নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের লোকজনকে তার প্রার্থীতা হওয়া বা না হওয়া নিশ্চিত করবেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন জানান, সেরনিবাত আশিক আবদুল্লাহর প্রার্থীতার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- দল থেকে প্রতীক না দিলেও দলের নেতা-কর্মীদের একজন প্রার্থীর পক্ষে অবশ্যই সমর্থন থাকবে। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবেই সেরনিবাত আশিক আবদুল্লাহ আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ গ্রহন করবেন। সে লক্ষে দল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলেও জানান তিনি।

 




বাউফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তফসিল ঘোষণা না হলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় সমর্থন আদায়ের জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন। সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার মশিউর রহমান লাভলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য ও সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত জিএম মো. আলাউদ্দিন এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা সহো আরো অনেকে।

আরো পড়ুন :১ সপ্তাহে পটুয়াখালীর হাসপাতালে ভর্তি ২৬৪ ডায়রিয়া রোগী