দুমকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন – প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সম্ভব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

বরিশাল অফিস  : পটুয়াখালীর দুমকীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম রাজনৈতিক, সামাজিক ও শুশীল মহল। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ-প্রত্যাশীরা ইতিমধ্যে নানা কৌশল অবলম্বন করে নিজের প্রার্থীতার জানান দিচ্ছেন। বিভিন্ন সভা সমাবেশ, কর্মী সভা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্হিত, মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান, কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হাটবাজার গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় জনসংযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন, উঠান বৈঠক ও দোয়া চাওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে সর্বমহল।

এছাড়াও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক লবিং গ্রুপিং চলছে পুরোদমে। উপজেলার আনাচে কানাচে হোটেল কিংবা চায়ের দোকানে হরহামেশা নির্বাচনী সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে রসাত্মক সমীকরন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়,
৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দুমকি উপজেলার মোট ভোটার ৭১ হাজার ৭৫৫ এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৬ হাজার ১৭০ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৫৮ জন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৩য় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য আগামী ২৯মে আসন্ন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দুমকি উপজেলায় ইতিমধ্যে সমগ্র নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন আদায় করতে শোডাউন, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কর্মী সংগ্রহে তোড়জোড় চালাচ্ছেন সম্ভব্য প্রার্থীরা।

এরা হলেন, ১. সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, পায়রা সিরামিক ইন্ডাজট্রিজ লিঃ এর চেয়ারম্যান ও পায়রা শপিং পয়েন্ট কমপ্লেক্সের ম্যানেজিং পার্টনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান। তিনি বিভিন্ন হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাড়ায় মহল্লায় উঠান বৈঠক, কর্মীসমর্থকদের নিয়ে শোডাউন এবং সর্বমহলে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

২. নির্বাচন মুখী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পটুয়াখালী চেম্বার অফ কমার্সের সদস্য ও দুমকী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান সিকদার। তিনি এলাকায় ইতিমধ্যে নিজের প্রার্থীতা ও সমর্থন চেয়ে দোয়া প্রার্থনা করছেন এবং হাট- বাজার, সামাজিক -সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক‌, ধর্মীয় অঙ্গনে সমর্থনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলার সর্বত্র জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

৩.ঢাকাস্হ দুমকি উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, দুমকি উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সুশিল মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি চালাচ্ছেন।

৪. সাবেক কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ড. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার। তিনি ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সভা-সমাবেশ, হাটবাজার, পাড়ায় মহল্লায় ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ভোট প্রার্থনা, সম্মিলিত নাগরিক মঞ্চ ও নতুন প্রজন্মের ব্যানারে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৫. আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নতুন মুখ হিসেবে ইতিমধ্যেই এলাকায় সাড়া ফেলেছেন, মাল্টা আওয়ামীলীগের সভাপতি, হাওলাদার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ কাওসার আমিন হাওলাদার।

৬. পটুয়াখালী জজকোর্টের সাবেক এপিপি, দুমকি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ হুমায়ূন কবির বাদশা। তিনি ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে, পাড়ায় মহল্লায় জনসাধারণের সাথে কুশল বিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা করছেন।

তবে আসন্ন দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ পর্যায়ে কত জন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সুশিল মহলে চলছে নানা হিসাব নিকাশ এবং আগামী ২মে মনোনয়ন পত্র দাখিলের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

চন্দ্রদীপ নিউজ /এসএলটি




আজ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আজ আহ্বান করা হয়েছে৷ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় ৷




বরিশালের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়

বরিশাল অফিস ::  প্রথমধাপের বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন তার নির্বাচনী পথসভায় বলেছেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করতে পারবেন।

আপনারা কারো কথায় বা প্রলোভনে পড়বেন না। আপনারা নিজে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিবেন। বিগতদিনের ভোট এবং এবারের ভোট পুরোটা ভিন্ন। এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী পেশী শক্তি প্রয়োগ করতে পারবেনা।

সোমবার  দুপুরে চরকাউয়া ইউনিয়নের চরকরমজি এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক জোরালো ভূমিকা রয়েছে। বরিশালের মানুষও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। নিজের পক্ষে ভোট চেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন বলেন, আমি কথায় নয়; কাজে বিশ্বাসী। আপনারা যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে আমার মোটরসাইকেল মার্কায় ভোট প্রদান করবেন। আমি কথা দিচ্ছি, আমাকে নির্বাচিত করা হলে বিভাগীয় শহরের বরিশাল সদর উপজেলাকে দেশের মধ্যে প্রথম স্মার্ট উপজেলা হিসেবে উপহার দিবো।

তালা মার্কার পথসভা ॥ একইদিন বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর এলাকার পথসভায় তালা মার্কার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ জসিম উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে এক কথা, আর নির্বাচনের পরে ভিন্নরূপ ধারন করার ব্যক্তি আমি নই। আমি যখন যেটা বলি, খুব হিসেব করে বলি এবং যেটা বলি সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। এক একসময় এক এক ধরনের কথা বলার মানুষ আমি পছন্দ করিনা।

আমার ভরসা জনগন। আপনাদের উপরে ভরসা করে আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে চেষ্টা করবো লোক দেখানো ফটোসেশন না করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে। যাতে সাধারণ মানুষ আমার কাজের দ্বারা উপকৃত হয়।




নাতির হাত ধরে ভোট দিতে এলেন ১০৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। জোর নেই হাতে-পায়ে। অন্যের সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। তবুও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ভোটকেন্দ্রে ছুটে এসেছেন ১০৫ বছরের বৃদ্ধ ক্বারি আব্দুল মজিদ।

তাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে তরুণ ভোটাররা। ভোট কেন্দ্রে থাকা মানুষ বলছে, এমন প্রবীণ ভোটারদের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু।

রোববার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টায় কমলাপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের চর বলাইকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গেলে দেখা যায় ক্বারি আব্দুল মজিদ তার নাতির সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন ভোট দিতে। তার পরনে সাদা পাঞ্জাবি, লুঙ্গি ও টুপি।

স্থানীয়রা বলেন, ক্বারি আব্দুল মজিদই এই ওয়ার্ডের সব থেকে প্রবীণ ভোটার।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে সকাল ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু

ভোট দিতে আসা এই প্রবীণ ভোটার বলেন, ভোট ব্যবস্থা আগের থেকে কঠিন হয়ে গেছে। আগে তো আমরা গণভোট দিতাম। আর এখন ভোটার স্লিপ খোঁজা লাগে, টিপ সই দেওয়া লাগে, সিল মারা লাগে এরপর ব্যালট ভাজ কইরা বাক্সে ফেলতে হয়। তবে আমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্ট।

পটুয়াখালী জেলায় সদর উপজেলার ভুরিয়া ও কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, সাধারণ সদস্য ৫১ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এ দুই ইউনিয়নে ১৮টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২৮ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‍্যাব, বিজিবি নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে আটজন পুলিশ সদস্য, ১৭ আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।




পটুয়াখালী সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়নে সকাল ৮ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুরিয়া ও কমলাপুর দুটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সকাল ৮ থেকে শুরু হয়েছে ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪ টা পযন্ত।

সকাল থেকেই ভোটাররা উৎসহব মুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে চলে আসেন। প্রচন্ড গরম ও রৌদ্র উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে ভোটারদের।
দুটি ইউনিয়নে ব্যালোট এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইউনিয়ন দুটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ২শ’ ৯০ জন।
এর মধ্যে কমলাপুর ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৮৪৫ জন এবং ভূরিয়া ইউনিয়নে ৮ হাজার ৪৪৫ জন।

কমলাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ২৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা পদে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদন্দিতা করছেন।

অন্যদিকে পাশের ভুরিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন সাধারণ সদস্য পদে ২৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা পদে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদন্দিতা করছেন।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় বালুর জাহাজ থেকে ছিটকে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ

ভোটের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন রেব, ৯ টি স্টাইকিং ফোর্স, ও ৪ টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। এছাড়াও প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ৮ জন করে পুলিশ ও ১৭ জন করে আনসার সদস্য আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত আছেন।

এদিকে নির্বাচন সূষ্ঠু, অবাদ ও নিরপেক্ষ করতে কঠোর অবস্থানে মাঠে রয়েছে প্রশাসন।




বরিশালে এবার চার খণ্ড হচ্ছে আ.লীগ

বরিশাল অফিস ::  সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে বিভক্ত আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে আরও তিন খণ্ড হলো। বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিম ও সিটি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত গ্রুপের তিনজন এবং সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ পক্ষের একজন লড়ছেন। একক প্রার্থী হওয়ায় সাদিক অনুসারীরা খুব একটা জটিলতায় না পড়লেও প্রতিমন্ত্রী-মেয়র গ্রুপের অনুসারীরা বিপাকে আছেন। বর্ষীয়ান নেতাদের মতে, এভাবে বিভক্তির ধারা চলতে থাকলে একপর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি হুমকির মুখে পড়বে।

সিটি নির্বাচনে মেয়রের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রথম দুই ভাগে বিভক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত খোকন সেরনিয়াবাতের মনোনয়ন পাওয়া এবং সাদিক আব্দুল্লাহর না পাওয়ার মধ্য দিয়ে দল বিভক্ত হয়ে যায়। সাদিক বিরোধীরা খোকন সেরনিয়াবাতের কাছে ভিড় জমায়। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ থাকে সাদিক আব্দুল্লাহর হাতে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণও অনেকটাই তার হাতে থাকে বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির সুবাদে।

এদিকে সদর আসনের এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিমের সমর্থনে মেয়র খোকন গ্রুপ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। স্থানীয় রাজনীতিতে সাদিকবিরোধী হিসাবে পরিচিত শামিম তার সঙ্গে জোট বাঁধেন। মাঝে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে সাদিক আব্দুল্লাহর স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও প্রকট হয়। গত বছরের জুনে সিটি নির্বাচনের পর থেকে মোটামুটি এভাবেই চলছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি। সেই ধারায় এবার নতুন জটিলতা বেধেছে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে। সাদিক গ্রুপ অখণ্ড থাকলেও প্রতিমন্ত্রী-মেয়র গ্রুপ তিন খণ্ড হওয়ার মুখে।

৮ মে অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের চারজনই আওয়ামী দলের পদধারী নেতা। তারা হলেন-সাদিক আব্দুল্লাহ গ্রুপের মনিরুল ইসলাম ছবি, আর প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র গ্রুপের অনুসারী মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান মধু এবং যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন।

মনিরুল ইসলাম ছবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হলেও তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক হালিম রেজা মোফাজ্জেল নেমেছেন খান মামুনের পক্ষে। এটুকু ছাড়া তিনি সাদিক পক্ষের পুরো সমর্থন পাচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে তিনি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন।

এদিকে সমর্থনের ব্যাপারে প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা দেননি প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক অথবা মেয়র খোকন। তবু তাদের সমর্থন পাওয়ার দাবি নিয়ে চলছে তিনজনের প্রচার-প্রচারণা। এক্ষেত্রে অবশ্য খানিকটা ভিন্নতাও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র দুজনেরই নেপথ্য সমর্থন পাওয়ার কথা বলছেন মাহমুদুল হক খান মামুন। মধু আর জাকিরও একই কথা বললেও তাদের ঝোঁক বেশি প্রতিমন্ত্রীর দিকে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রতিমন্ত্রী-মেয়র গ্রুপের একাধিক নেতা বলেন, মেয়র খোকনের সমর্থন যে খান মামুনের দিকে তা তার কথাবার্তা আর নানা ইঙ্গিতে স্পষ্ট। তবে এক্ষেত্রে দারুণ কৌশলী জাহিদ ফারুক শামিম। তিনি যে কাকে সমর্থন দিচ্ছেন তা পরিষ্কার নয়। নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনীর এক অনুষ্ঠানে তিন প্রার্থীর সবাইকে পছন্দের আর কাছের বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। মধুকে আখ্যা দেন তার পুরোনো কর্মী হিসাবে। জাকিরকেও বলেন প্রিয়ভাজন। অবশ্য ওই সভায় একটি বিষয় স্পষ্ট করেন তিনি। কোনো প্রতারক-বেইমানকে তিনি ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। আর এ নিয়েই এখন নির্বাচনি রাজনীতিতে চলছে জল্পনা-কল্পনা। সিটি নির্বাচনের আগে সার্বক্ষণিকভাবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছের মানুষ ছিলেন খান মামুন। নির্বাচনের পর ঘনিষ্ঠ হন মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের সঙ্গে। প্রতিমন্ত্রী শিবিরে যাতায়াতেও খানিকটা ভাটা পড়ে তার। প্রতারক-বেইমান বলতে এমপি জাহিদ ফারুক এ বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেছেন কিনা সেই প্রশ্ন অনেকের। এ বিষয়ে কথা বলতে প্রতিমন্ত্রীর ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। তবে খান মামুন বলেন, এসব অপপ্রচার। তারা দুজনই আমার নেতা। তাদের অনুমতি নিয়ে নির্বাচনে নেমেছি। এটা ঠিক যে, খানিকটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল, কিন্তু তা মিটে গেছে। প্রতিমন্ত্রীর পছন্দ একমাত্র আমি।

খান মামুনের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন-এ পক্ষের বাকি দুই প্রার্থী। মাহবুবুর রহমান মধুর মতে, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থী না থাকায় এভাবে দায়িত্বশীল কারও কিছু বলা ঠিক নয়। মন্ত্রী-এমপিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে। এরপরও কেবল এটুকু বলি-পুরোনো কর্মী বলে প্রতিমন্ত্রী যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাতেই তো সব স্পষ্ট।

এসএম জাকির হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য আর আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারা প্রচার-প্রচারণায় আছেন, তারা কি কোনো ইঙ্গিত না পেয়ে নেমেছেন? ভোটে জেতার জন্য অনেকেই অনেক কথা বলেন, বাস্তবতা জানে কেবল দলের নেতাকর্মীরা।

সাদিক আব্দুল্লাহ পক্ষের প্রার্থী হিসাবে পরিচিত মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানাবে সাধারণ ভোটাররা। আমি জনগণের সমর্থনে বিশ্বাসী। তারাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতা বলেন, ‘স্বতন্ত্রের শিরোনামে সারা দেশে এমনিতেই বিভক্ত হয়ে আছে আওয়ামী লীগ। সেই দ্বন্দ্ব কাটতে না কাটতেই এখন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড হচ্ছে দল। নেতাকর্মীরা এভাবে বিভক্তির শিকার হলে দলের ঐক্য আর সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’




কাল পটুয়াখালীর দুই ইউনিয়নে ভোট, কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আগামীকাল পটুয়াখালী সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ভোটগ্রহণের সরঞ্জামাদি নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মিজানুর রহমান, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার সারমিন সুলতানা।

এর আগে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় সমুদ্রের তলদেশে কাটা পড়েছে ফাইবার ক্যাবল – দেশব্যাপী ইন্টারনেটের ধীরগতি

দুই ইউনিয়নে ১৮ কেন্দ্রে প্রায় ২৮ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদসহ মোট ৭৫ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে।




বরিশালে এক মঞ্চে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী

বরিশাল অফিস :: তৃতীয় ধাপে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে নির্বাচনী এলাকা। প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় একই মঞ্চে মতবিনিময় সভা করেছেন তিন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী।

শনিবার ( ২৭ এপ্রিল) দিনভর উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তিন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী-বরিশাল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, গৌরনদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল গোমস্তা, শিপ্রা রানী বক্তব্য রাখেন। এসময় মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সান্টুসহ তিন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতেই প্রার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করা হয়। এসময় প্রার্থীরা গৌরনদীকে একটি স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

উঠান বৈঠক :: প্রথমধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলার মোটরসাইকেল মার্কার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেনের সমর্থনে শনিবার বিকেলে নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠিতে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন
বলেছেন, আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী দেশে যেভাবে উন্নয়ন করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক
শামীমের হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা সকলে একত্রিত হয়ে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন,আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের কেউ বলতে পারবেনা, যে চেয়ারম্যানকে কেউ পাশে পায়না, চেয়ারম্যান কোন কাজ করেনা। বরিশাল সদর উপজেলাবাসীর ইজ্জতহানী হয়, এমন কোন কাজ আমি করবোনা।

চরকাউয়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে
উঠান বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। একইদিন সন্ধ্যায় চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাই নগর বাজারে মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধণ করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম জাকির হোসেন।

গণসংযোগ : ব্যতিক্রমধর্মী গণসংযোগের মাধ্যমে বরিশাল সদর উপজেলাবাসীর মনজয় করে নিয়েছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের রূপকার প্রয়াত মেয়র আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরনের বিশ্বস্ত কর্মী মোঃ জসিম উদ্দিন। ফলে ক্রমেই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনের
(তালা) প্রতীকের জয়জয়কার শুরু হয়েছে। প্রথমধাপের নির্বাচনে বরিশাল সদর উপজেলায় পাঁচজন চেয়ারম্যান, চারজন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ও তিনজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।




মির্জাগঞ্জে গনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনেচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীরা। হাট- বাজারের টং চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস পাড়া ছাপিয়ে কৃষকের মাঠ পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনায় তিনটি পদে প্রার্থী হচ্ছেন কে কে?, প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতা ও জয়-পরাজয়ের সমীকরন করছেন ভোটাররা।

নিজের প্রার্থীতা জানান দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্টার ও ছবি পোষ্ট করে দোয়া চাইছেন প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা। “দোয়া ও সমর্থন কামনা” করে ইতোমধ্যে দু-চার জন প্রার্থীর পোষ্টারে ছেয়ে গেছে শহর-গ্রামের হাট-বাজারের সর্বত্র। এছাড়া শহর-গ্রামের হাট-বাজার, দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠান ও কুলখানি অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সাথে করমর্দন ও আলিঙ্গন করে দোয়া চাইছেন প্রার্থীরা। বিগত নির্বাচন গুলোতে অংশ গ্রহনকারী প্রার্থীর চেয়ে এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রতিটি পদে প্রার্থীদের সংখ্যা বেশী হওয়ায় সরব হচ্ছেন ভোটাররা। ভোটাররা মনে করছেন এবারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

আরো পড়ুন : বৃষ্টির কামনায় পটুয়াখালী ইসতিসকার নামাজ আদায়

এদিকে এবারের স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলগের দলীয় প্রতীক ও সমর্থন না থাকায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী দলীয় সমর্থন পেতে লবিং, তদবীর শুরু করেছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়-ঝাঁপ বাড়ছে জেলা ও কেন্দ্রে। দলীয় নেতা-কর্মীদের কোন বাঁধা নেই তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় যুক্ত হতে।

জানা যায়, এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহনেচ্ছু প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন – পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজকল্যান সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান খাঁন মোঃ আবু বকর সিদ্দিকী, মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম জুয়েল সিকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ আশ্রাফ আলী হাওলাদার ও ঢাকাস্থ পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী কল্যান সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আলহাজ¦ মোঃ আব্দুস ছালাম খাঁন।

আরো পড়ুন : ট্রাক ড্রাইভার হত্যাকাণ্ডে আটক ৪, ছিনতাইকৃত রড উদ্ধার

ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন – উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মোঃ জহিরুল ইসলাম (লোটাস সিকদার), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা মোঃ সাইফুল ইসলাম (সোহাগ মৃধা), উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (রুমান), উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আক্তারুল আলম (জাষ্টিচ মৃধা),এস এম রাসেল মোল্লা ও আলহাজ¦ মোঃ দুলাল ফকির, গাজী মোঃ ওমর ফারুক শাওন ও আমেরিকা প্রবাসী মোঃ নুরুজ্জামান।

মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন – বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাচিনা হাবিব, উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আয়শা সিদ্দিকা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবা মোর্শেদা (রানু)।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১লক্ষ ১২ হাজার ৩৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৬ হাজার ৯শত ৬৮জন এবং মহিলা ভোটার ৫৫ হাজার ৭১ জন। এ উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গের কোন ভোটার নাই। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চলতি এপ্রিল মাসের ১৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা অনুযায়ী ৪র্থ ধাপে আগামী মে মাসের ২৯ তারিখে এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২ মে।




বরিশালে নতুন তিন প্রার্থী নিয়ে দুই উপজেলায় তোলপাড়

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: নতুন দুইজন চেয়ারম্যান ও একজন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নিয়ে জেলার বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। নতুন প্রার্থীদের জয়জয়কারে চরম বেকায়দায় পরেছেন প্রতিদ্বন্ধিতা করা হেভিওয়েটের প্রার্থীরা।

নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে পরিবর্তনের পক্ষে সাধারণ ভোটাররা ওই তিন প্রার্থীর পক্ষে কোমর বেঁধে মাঠে নামতে শুরু করেছেন। প্রার্থীরাও দীর্ঘদিন থেকে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। গণসংযোগে নেমে তারা উন্নয়নবঞ্চিত উপজেলাবাসীর তীব্র ক্ষোভের কথাশুনলেও ভোটারদের দিচ্ছেন না কোন প্রতিশ্রæতি। তিন প্রার্থীই প্রায় একই কথা বলেছেন, অতীতের জনপ্রতিনিধিদের ন্যায় মুখে কথার ফুলঝুড়ি ছড়াতে চাইনা।

নির্বাচিত হতে পারলে ভাগ্যবঞ্চিতদের ভাগোন্নয়নে সবকিছু কাজে প্রমান করে দিবো। আর দুইবছরের মধ্যে ভাগোন্নয়নে ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো।

আলোচিত ওই তিন প্রার্থী হলেন-মুলাদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জহির উদ্দীন খসরু। ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক পরিচিত জহির উদ্দীন খসরুর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এবার প্রকাশ্যে গণসংযোগে মাঠে নেমেছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।

অপর দুই প্রার্থী হলেন-বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদে জনতার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আলোড়ন সৃষ্টি করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক মেধাবী ছাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ আদনান আলম খান বাবু এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও অসহায়দের আশার আলো সেই আলোচিত নারী নেত্রী মৌরিন আক্তার আশা।

জানা গেছে, বরিশাল-৩ (মুলাদী ও বাবুগঞ্জ) সংসদীয় আসনটি দীর্ঘদিন থেকে জাতীয় পার্টির দখলে। স্থানীয় নির্বাচনে জাপা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও প্রার্থীদের বিজয়ী হতে জাপার সমর্থন মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ দুই উপজেলায় জাতীয় পার্টির বৃহত অংশের কর্মী-সমর্থকরা ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে উল্লেখিত আলোচিত তিন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নেমেছেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী দুই ভাই : দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে জেলার হিজলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন আপন দুই ভাই। এনিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে হিজলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটানিং অফিসার। গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে যাচাই-বাছাইতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনই হলেন আপন দুইভাই। তারা হচ্ছেন-সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ টিপু সিকদার ও তার ছোট ভাই আলতাফ মাহমুদ দিপু সিকদার। অপর তিন প্রার্থী হলেন- নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী, দেলোয়ার হোসেন ও হাফিজুর রহমান। জেলার আরো একটি উপজেলায় আপন দুইভাই প্রার্থী হচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।