৩২ হাজার ৮১১ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালটে ভোট নিবন্ধন সম্পন্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ভোট জনগনের নাগরিক অধিকার আর এবারই প্রথম ইতিহাস রচনা করে আমার দেশের রেমিডেন্স যোদ্ধারা তাদের নাগরিক অধিকার ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে ।  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট তথ্য অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মোট ৩২ হাজার ৮১১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫১৬ জন পুরুষ ভোটার। ৪ হাজার ২৯৫ জন নারী ভোটার।

দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ হাজার ৫৫৮ জন, জাপানে ৫ হাজার ৭৯২, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজার ৪৮৭, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ হাজার ৬৫৬, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার ৯৫৮, কানাডায় ২ হাজার ৭৫৮ ও চীনে ১ হাজার ৫৫৫ জন ভোটার রয়েছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটদানের ব্যবস্থা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ছাড়া দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার ও নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা প্রায় ১০ লাখ ভোটারকে সুবিধা দিচ্ছে।

১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

প্রথম ধাপের নিবন্ধন ১৯ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া, ২১ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর ইউরোপ, ৪ থেকে ৮ ডিসেম্বর সৌদি আরব, ৯ থেকে ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ১৪ থেকে ১৮ ডিসেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ভোটার নিবন্ধন চলবে।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই সেই দেশের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করতে হবে, যেখান থেকে ভোট প্রদান করবেন।

ভোটারকে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।

ব্যবহারকারী বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশাবলি দেখতে পারবেন। বিদেশে ব্যালটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান অপরিহার্য।




রাজনীতি যেন আলাদিনের চেরাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থায়ন সংস্কৃতি ও ব্যবসা সুরক্ষা: বাস্তবতা ও সমাধানের পথ’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনদের মধ্যে সুজন সম্পাদক, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

সভার শুরুতে রাজনৈতিক অর্থায়ন বিষয়ে দায়রার একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট’ (সুবিধাদাতা-সুবিধাভোগী) সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থায়নের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। রাজনৈতিক অর্থায়নের বিষয়টিতে পরিবর্তনের জন্য দলের খরচের আইনি সীমাকে বাস্তবসম্মত করা, দলসংশ্লিষ্ট এনটিটিকে (প্রতিষ্ঠান বা সত্তা) তদারকিতে আনাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। সভায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনীতি ও নির্বাচনী সংস্কৃতি দুর্বৃত্তায়িত। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিচ্ছন্ন করতে হলে দুর্বৃত্তদের দূরে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর আয়–ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই। এ ব্যাপারে দলগুলো হাইড অ্যান্ড সিকের (লুকোচুরি) আশ্রয় নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য অনেকের কাছে রাজনীতি হয়ে উঠেছে ‘জাদুর কাঠি’।

 

সিন্ডিকেট’ ভাঙতে হবে

আলোচনায় অংশ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পুরো সমস্যার একটা অংশ অর্থায়ন। রাজনৈতিক পুঁজির তিনটা অংশ—অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্ম। এগুলোকে সার্বিকভাবে না দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না। রাজনীতি, ব্যবসা ও আমলাতন্ত্র—এই তিন ক্ষেত্রে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে না পারলে বাস্তবে অগ্রযাত্রা হবে না।

দেশে নির্বাচনব্যবস্থার দুটি দুর্বলতার কথা সভায় উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি। তাঁর বিবেচনায় ওই দুটি দুর্বলতা হলো দলের আয়ের উৎস এবং

অভিযোগের ব্যবস্থাপনা। তিনি বলেন, আইনে রাজনৈতিক দলের আয়ের উৎসগুলো বলা নেই। বৈধ আয়ের উৎস কীভাবে হতে পারে, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। আইনে বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করতে হবে। যেসব উৎস জানামতে আছে, সেগুলোর আইনিভিত্তি দেওয়া যায়।




নৌকার ভোট এবার কার বাক্সে যাবে

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :   দেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া  আর এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে অনুপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দলটির ভোট কোনদিকে যাবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির ভোট টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জয়ের ব্যাপারে এক ধরনের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে বিএনপির। তাই প্রকাশ্যে তারা দলটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে না। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বসে নেই আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত জামায়াতও। এ দলটিও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সংখ্যালঘুদেরও দু-একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে জামায়াত। খোঁজ নিয়ে দুটি দলেই নতুন এই নির্বাচনি কৌশলের কথা জানা গেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোট টানার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গে জোট করবে কিনা তা নিয়ে দুই দলই পুনর্বিবেচনা করে দেখছে। এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট থাকলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট নাও দিতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে দল দুটি নানা হিসাব-নিকাশ কষছে। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা এনসিপিকে প্রধান শত্রু মনে করে এমন আলোচনা আছে দেশের রাজনীতিতে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারীরাই পরে এনসিপি গঠন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।

প্রথমত, দলটির আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী থাকে তাদের ভোট দেবে।

 দ্বিতীয়ত, ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর।

 তৃতীয়ত, ৫ আগস্টের পর প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা নির্যাতন চালিয়েছে সে বিবেচনা নির্ভর করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, প্রার্থীরা স্থানীয় হলে সুবিধা হলো নির্বাচনটি সামাজিক হয়। ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না এসে থাকতে পারেন না। সে হিসাবে আওয়ামী সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দলটির সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা তাদের আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী পায়, তবে তাদের ভোট দেবেন। আবার ‘না’ ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট পাবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও বলেছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বর্তমানে দেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনও নৌকা প্রতীক স্থগিত করেছে।

নিরাপত্তার কথা ভেবে বিএনপির ধানের শীষকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্যই কেউ কেউ মনে করছেন, কিছুটা জামায়াত প্রভাবিত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। এরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন হলেও তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন একতরফা ও একটি নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যায়।

বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৭ বছরের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। যার ফলাফল গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের সাধারণ জনগণও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিল। যে কারণে আওয়ামী লীগের আগের ভোটের হারের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা মেলানো যাবে না। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভোট সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

 




ছাত্রদল- ছাত্রশিবির মধ্যে সংঘর্ষ

চন্দ্রদ্বীপনিউজ :ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দিন দিন সম্পর্কের অবনতি হচেছ। যার প্রভাবে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির বনানী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হলেও কলেজ গেটে শিবিরের ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি যেন শান্ত থাকে সেজন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।




মস্কোর স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের  ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত ২৮ দফা পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় রাশিয়ার প্রায় সব চাওয়া পূরণ হবে। অন্যদিকে আরও কোণঠাসা হবে ইউক্রেন।

ট্রাম্পের খসড়া প্রস্তাবে ২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে হওয়া আলোচনায় রাশিয়ার দাবির সঙ্গে বড় সামঞ্জস্য রয়েছে। তখন বর্তমানের চেয়ে ইউক্রেনের আরও বেশি ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে ছিল। আর গত তিন বছরে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিকভাবে বিভিন্ন দিকে মস্কোর যেসব ব্যর্থতা, তা আলোচনায় ছিল না।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাশিয়ার প্রাথমিক দুটি লক্ষ্য পূরণ হবে। প্রথমত, এতে এমন সব শর্ত রয়েছে, যেগুলো রাশিয়ার জন্য এতটাই সুবিধাজনক যে এর সামান্য অংশ মানলেও তা হবে মস্কোর জন্য বড় জয়। দ্বিতীয়ত, এটাকে রাশিয়ান কূটনীতিকেরা একই সঙ্গে আলোচনা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।এর মাধ্যমে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, তখন তারা চুক্তি করতে চাইবে।

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে সাংবিধানিকভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা ন্যাটোতে যোগ দেবে না। নাৎসি ভাবধারার অবসান, নিরপেক্ষ থাকার নিশ্চয়তা ও সেনাবাহিনীর আকার কমিয়ে আনবে। ইস্তাম্বুল আলোচনায় এসব ছিল মস্কোর দাবি, যা ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ করারই শামিল।

ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী জব্দ রুশ তহবিল থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে। আপাত মনে হতে পারে এটা রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি ছাড়। তবে যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এখনো মস্কোর দখলে। তহবিলও ব্যবহার করতে হবে রাশিয়ার শর্ত মেনেই। চুক্তিতে মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য হবে আরেক সাফল্য।

রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী এতে আরও তিনটি গোপন ঝুঁকি আছে। প্রথমত; চুক্তি স্বাক্ষরের ১০০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের জন্য কার্যত এটা অসম্ভব। এতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে এবং নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

দ্বিতীয়ত; ইউক্রেনের পূর্ব দিকের দনবাস নামক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশগুলোকে ‘অসামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করতে করতে হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনে শর্ত এসব এলাকা রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার সমান। তৃতীয়ত; ‘কারণ ছাড়া মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে চুক্তি বাতিলের’ মতো অস্পষ্ট শর্ত আছে প্রস্তাবিত খসড়ায়। এটা রাশিয়াকে যেকোনো সময় চুক্তি লঙ্ঘনের সুযোগ করে দেবে।

 




জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বললেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক জনসভা শেষে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তেজনা এবং অস্থির পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি কাজ করছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিনির্ভর অবস্থান এবং নতুন প্রস্তাবগুলো অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁর কথায়, কেউ নিম্নকক্ষের পিআর না হলে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছে, কেউ গণভোটের দাবি তুলছে—আবার কেউ ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলছে। এসবই জনমানসে সন্দেহ তৈরি করছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও কিছু ব্যক্তি সরকারে না থেকেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এসব সুবিধা হারানোর ভয় থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন শর্ত তোলার মতো ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—রাষ্ট্র কি সত্যিই আগামী নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে, নাকি আরও জটিল পরিস্থিতি সামনে অপেক্ষা করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী মানুষের পাশে কাজ করেছেন। দলে তাঁর অবস্থান ও রাজনীতি পুরোপুরি নেতাকর্মীদের মতামতের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “তাদের সিদ্ধান্তই হবে আমার সিদ্ধান্ত। নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাকে দেখতে চান, আমার রাজনৈতিক পথচলা সেভাবেই নির্ধারিত হবে।”

তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে এ জনসভা আয়োজন করে পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো। ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. সামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুস্তাফা মেম্বার, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির মুন্সিসহ স্থানীয় নেতারা।

জনসভায় পানিশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা মিছিল করে অংশ নেন। উপস্থিত নেতারা দাবি করেন—জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের জন্য দলীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ: সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। এ দেশের মানুষ দেখুক এবং ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তারা যাতে এটি মাথায় রাখে যে, এই দেশে স্বৈরাচারের কোনো জায়গা নেই, ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা নেই। যারা গণতন্ত্র হত্যা করবে তাদের এ পরিণতি হবে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম অতন্দ্র প্রহরী শীর্ষক’ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সমাবেশের এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই এ দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক দল ছিল না; তারা মূলত গণতন্ত্রের মুখোশ পরা একটি মাফিয়া–ফ্যাসিস্ট শক্তি হিসাবে কাজ করেছে। সংবিধান লঙ্ঘনের কর্মকাণ্ড তারা বারবার করেছে, এমনকি সংসদে দাঁড়িয়েও করেছে।

তিনি বলেন, জনগণের গণ-অভ্যুত্থান এবং অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশের মানুষ বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়।




ভোট হাইজ্যাক করতে চাইলে আমরা তোমাদের হয়ে লড়াই করবো: জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কাফরুল দক্ষিণ থানার উদ্যোগে প্রীতি সমাবেশে আয়োজন করা হয় উক্ত অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে কেউ মাসল আর ব্যাগ মানির মাধ্যমে অন্যের ভোট হাইজ্যাক করবেন। তাদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা আমরা যুবক হয়ে বিস্ফোরিত হবো ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, যুবকদের ভোট নিয়ে কেউ কাড়াকাড়ি করুক তা আমরা বরদাস্ত করবো না।

যুবকেরা তোমাদের ভোট তোমরা দিবা। আমরা তোমাদের পাশে থেকে লড়াই করবো। তোমাদের সাহস দেব এবং শক্তি দেব। কোনো ডাকাত তোমাদের বুকের দিকে হাত বাড়ানোর যেন দুঃসাহস না দেখায়। এখন থেকে সেভাবে যুবকদের থাকতে হবে।

তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তোমার যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিও। আমাকে দিবা না দিবা এটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু তোমার বুকের জন্য আমরা লড়ে যাব ইনশাল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। আমরা কারো ওপর কোনো অবিচার চাই না। প্রত্যেকটি নাগরিকের অধিকার আছে ন্যায়বিচার পাওয়া। তাদেরও কারো ওপর অবিচার হোক সেটাও আমরা চাই।

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো সম্পদশালীর সম্পদ কেড়ে নেবে না, বরং তাদের সম্পদের পাহারাদারি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো চাঁদাবাজ একজন শিল্পপতি, ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে এটা বলার সাহস পাবে না এলাকায় ব্যবসা করতে হলে আমাদের দিকে চাইতে হবে, আমাদের দেখতে হবে, আমাদের কথা শুনতে হবে, আমাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। বাপ-দাদার জমিদারি ও ব্যবসায়ীদের ভাড়াটিয়া ভাবা সমস্ত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের সমাজ থেকে তাড়াবো, নির্মূল করবো। কোনো চাঁদাবাজের অস্তিত্ব রাখা হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি চাঁদা মুক্ত হয়ে যায় বাংলাদেশ, তাহলে দেশের অগ্রগতি লাফিয়ে লাফিয়ে সামনের দিকে যাবে। এখন যে দ্রব্যমূল্য তা অর্ধেকে নেমে আসবে। চাঁদার জ্বালায় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত পর্যন্ত হোলসেলার থেকে শুরু করে রিটেইলার এমনকি ফুটপাতের আমার একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ভাই একজন হকার সেও চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত নয়। আমরা তাদের কথা দিচ্ছি ভাই তোমাদের ফুটপাতে ব্যবসা করতে হবে না, ব্যবসা তোমরা সম্মানের সঙ্গে করবা এবং সেই জায়গায় তোমাদের করে দেওয়া হবে। আর কোনো চাঁদাবাজ গিয়ে তোমাদের ডিস্টার্ব করার সাহস করবে না।

আমেরিকায় একটা বক্তব্যে আমি বলেছিলাম ইনসাফের দাবি পূরণ করতে গিয়ে মহিলাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হবে। অনেকে এটার ভুল ব্যাখ্যা করেছে। একটা মিটিংয়ে সবকিছু বলা যায় না। চিন্তা-ভাবনা না করে এ কথা তো আমরা বলি নাই। আমরা চিন্তা করেই বলেছি। কেন? একজন মহিলা তিনি একজন শুধু মহিলা না, শুধু একজন কর্মজীবী না, তিনি একজন মা। সভ্যতার তিনি কেন্দ্রবিন্দু। একজন মহিলা ঠিক তো পরিবার ঠিক, পরিবার ঠিক তো রাষ্ট্র ঠিক।

নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে কি হবে তা বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, যখন কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হলে তারা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করবে। পাঁচ ঘণ্টা পরে সে তার বাচ্চার কাছে ফিরে যাবে। বাচ্চাকে সময় দিবে লালন পালন করবে। পরিবারের অন্য দায়িত্ব পালন করবে। এটা তো সমাজেরই কাজ।




দ্রুত গণভোটের রূপরেখা চায় এনসিপি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি পুরোপুরি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, বিশেষ করে গণভোটের রূপরেখা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।

আসন্ন নির্বাচনে গণভোট পরিচালনার বিষয়টি একটি বড় বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, গণভোট কীভাবে পরিচালিত হবে, এটি কবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ– প্রতারণা প্রতিরোধের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেওয়া হয়েছে কি না নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এগুলো প্রকাশ করতে হবে।

তিনি জানান, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এনসিপি প্রস্তুতি নেবে এবং প্রয়োজনে সব সহযোগিতা দেবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বতন্ত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, যদি কমিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকে, তাহলে এনসিপি ১০০ শতাংশ সহযোগিতা প্রদান করবে। আমরা অন্যান্য সহযোগী দলকেও কো-অপারেশন মোডে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং তাদের নিরাপত্তা দিতে একটি মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইলেকশনের সময় নারীরা সাইবার হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে পারেন, তাই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তরুণ ভোটারদের নির্বাচনে উৎসাহিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করার পরামর্শ দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি মনে করেন, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গণতান্ত্রিক সম্মান বজায় থাকবে এবং তরুণরা ভুল পথে চালিত হবে না, যা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে।

প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাদের জন্য সময় সীমিত। যদি প্রক্রিয়া আগে থেকে চালু করা হয়, তাহলে অংশগ্রহণ বাড়বে, যা ভোটার সংখ্যা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি নির্বাচনের প্রতীক ও প্রার্থীর স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিত করার গুরুত্বে জোর দেন। তার মতে, প্রতীক একজন প্রার্থীর পরিচয়, যা ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রস্তাব করেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য একজন অফিসার ট্যাগ করা হলে দলের উদ্বেগ ও কনসার্ন সহজভাবে জানানো সম্ভব হবে।




উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডিসিদের রদবদল করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের রদবদলে কোনো একটা ডিজাইন বা উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। এক মাসও হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, একজন ডিসি চলে গেলেন—হঠাৎ করেই। আবার এক সপ্তাহের মধ্যে অনেককে রদবদল করা হয়েছে।এটার পেছনে মনে হয় যেন কোনো একটা ডিজাইন…একটা উদ্দেশ্যে এই কাজটা কোনো জায়গা থেকে হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে আসবে। এ পরিস্থিতিতে আস্থা নিশ্চিত করতে ডিসি–এসপি বদলিতে লটারিভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত।কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় পরিষ্কার কোনো সমাধান পাইনি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং আস্থা রাখার মতো একটা উপায় হলো যে লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার করে দেওয়া। যার যেখানে তকদির আছে সে চলে যাবে। এটাতে কোনো কোশ্চেন থাকে না।

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রসঙ্গে এই জামায়াত নেতা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়টিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একই দিনে দুই ধরনের ভোটগ্রহণ হলে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধায় পড়বেন। আমরা বলেছিলাম যে, গণভোটটা আগে হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে কি কি সংস্কার হতে যাচ্ছে, কোনটায় ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বলবে, ‘না’ বলবে—সে যদি আগে থেকে তার মাইন্ডসেট করতে না পারে, বুঝতে না পারে—বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোর কি কি পরিবর্তন হলো, কোনটা আমি ‘হ্যাঁ’ বলব—সে যদি বুঝতে না পারে তাহলে সে ‘হ্যাঁ’ কি বলবে, ‘না’ কি বলবে? তো একই দিনে দুইটা ভোট হলে সে তো বুঝতে পারবে না।