অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে খালেদা জিয়া—কোন সুবিধা মিলছে এখন

গুরুতর শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সোমবার রাতেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে কাউকে ভিভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে। সেই আইনের অধিকারেই খালেদা জিয়াকে বিশেষ গুরুত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ মর্যাদা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফের হাতে ন্যস্ত হয়।

ভিভিআইপি হলে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়

এই আইনে এসএসএফের দায়িত্ব হলো—

  • ভিভিআইপি ব্যক্তির নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা করা।
  • সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি বা ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করার ক্ষমতা।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণনাশী আক্রমণ প্রতিহত করতে অস্ত্র ব্যবহারেরও আইনি অনুমোদন রয়েছে।
    এসএসএফ আইন দেশের যে কোনো স্থানে সমানভাবে কার্যকর।

কে কে সাধারণত ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হন

দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা সমমর্যাদার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ মর্যাদা পান। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন দিয়ে অন্য কাউকেও এই তালিকায় যুক্ত করতে পারে—যেমনটি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষেত্রে।

চিকিৎসাজনিত বর্তমান অবস্থা

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরেই হৃৎপিণ্ড, লিভার ও কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
২১ নভেম্বর বাসায় ফেরার পর তার শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে দুই দিন পর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল অবস্থার সম্মুখীন।

সোমবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান জানান,
“খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আইসিইউ–ভেন্টিলেশন—যাই বলা হোক, পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তার জন্য জাতির কাছে দোয়া চাই।”

পূর্ব অভিজ্ঞতা

২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্বল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকেও ভিভিআইপি নিরাপত্তার আওতায় এনেছিল।


মো: আল-আমিন



ক্ষমতায় গেলে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

দেশের নাগরিকসেবা উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না— সরকার নিজ দায়িত্বে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু জামায়াত শুধু আশ্বাস নয়— বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চায়। একই ভাষা, একই জাতি হিসেবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো, কিন্তু কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থান্ধ আচরণ ও ভুল সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র অগ্রসর হতে পারছে না। তাই মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে দেশের সম্ভাবনা আরও অনেক বড়।

শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত নয়, যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়বে, শিক্ষক তার দিকনির্দেশনা দেবেন— এমন শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাদের। তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট— প্রত্যেক শিশুকে সক্ষম নাগরিকে পরিণত করা। আগামী প্রজন্ম বোঝা নয়, দেশের সম্পদ হবে।”

আইন ও বিচার ব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ন্যায়বিচার পেতে সাধারণ মানুষকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় গেলে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারে যাওয়া না গেলেও জনগণের সেবায় কিছু কাজ আগে থেকেই করছে জামায়াত। তাদের পক্ষ থেকে দেশের ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রান্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সংকট কাটেনি

পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যেও শনিবার সকালে সামান্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক ডায়ালাইসিসের চাপে শরীর কিছুটা সাড়া দিতে শুরু করায় চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এরপরও তাঁর সামগ্রিক অবস্থা এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে থাকা পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে শনিবার সকালে তিনি কয়েকটি কথা বলেন। আগের তিন দিন তিনি প্রায় কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ কারণে তাঁর ফুসফুসও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে টানা ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়, যা প্রতিদিনই চলছে।

অতিরিক্ত পানি বের না হওয়ায় গত কয়েক দিনে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছে।

মেডিকেল বোর্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে— খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লন্ডন ক্লিনিক অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের অভিমত, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো বিমানযাত্রার চাপ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি— ভিসা, নথিপত্র, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স— সবই আগেই সম্পন্ন রাখা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই তাঁকে দেশে নাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। কেউ কেউ গণমোনাজাত করছেন, কেউবা সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছেন। এতে হাসপাতালের আশপাশে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব অনুরোধ করে বলেন,
“দয়া করে হাসপাতালের সামনে ভিড় তৈরি করবেন না। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

শনিবার সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারাও তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন: তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তা

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল জানিয়েছে। তবে চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ফলে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

বেগম জিয়ার এ নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মায়ের সংকটজনক স্বাস্থ্য অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বিগ্ন অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন। তিনি বলেন—দেশনেত্রীর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা পুরো পরিবারকে আশ্বস্ত করেছে।

তারেক রহমান আরও লিখেন, ড. ইউনূস যে সৌজন্যবোধ, সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক ঊর্ধ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রদর্শন করছেন—তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংকটের এই সময়ে তাঁর মানবিক অবস্থান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর প্রতি তাঁর আশু সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকার অত্যন্ত মনোযোগী। নিয়মিত স্বাস্থ্য আপডেট তিনি নিজেই যাচাই করছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, ত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণ করে ড. ইউনূস আরও মন্তব্য করেন—জাতির জন্য তিনি অনুপ্রেরণা, আর তাঁর সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে দোয়া ও শুভকামনার ঢল।

এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তাঁর জটিল রোগসমূহের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে এবং বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি এক ধরনের অশনি সংকেত তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের সংকট রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে তাঁর সুস্থতা কামনায় দল, পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর প্রত্যাশা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তিনি বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের বৈধতা চেয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে খ্যাত। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘টেসলা নেত্রী’ হিসাবেই বেশি চিনে থাকেন।

২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ডা. মনীষা। তবে বরিশালে তার আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের অধিকার রক্ষা। সে সময় অবৈধ এসব যানবাহনের বৈধকরণ নিয়ে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার অবস্থান মুখোমুখি ছিল। পরবর্তীতে তিনি থ্রি হুইলার চালকদের বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বরিশালের সমসাময়িক বিষয়েও সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

সংসদ-সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলাপকালে ডা. মনীষা বলেন, “আমি ও আমার পরিবার সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।”

বরিশাল সদর পাঁচ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং এনসিপির লিপু প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও সিটি শহরের মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৯ জন ভোটার এই আসনে ভোট দেবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বামধারার ভোটার ও টেসলা চালকদের সমর্থন ডা. মনীষার জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৩২ হাজার ৮১১ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালটে ভোট নিবন্ধন সম্পন্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ভোট জনগনের নাগরিক অধিকার আর এবারই প্রথম ইতিহাস রচনা করে আমার দেশের রেমিডেন্স যোদ্ধারা তাদের নাগরিক অধিকার ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে ।  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট তথ্য অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের মোট ৩২ হাজার ৮১১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ২৮ হাজার ৫১৬ জন পুরুষ ভোটার। ৪ হাজার ২৯৫ জন নারী ভোটার।

দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ হাজার ৫৫৮ জন, জাপানে ৫ হাজার ৭৯২, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজার ৪৮৭, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ হাজার ৬৫৬, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার ৯৫৮, কানাডায় ২ হাজার ৭৫৮ ও চীনে ১ হাজার ৫৫৫ জন ভোটার রয়েছেন।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটদানের ব্যবস্থা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ছাড়া দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার ও নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা প্রায় ১০ লাখ ভোটারকে সুবিধা দিচ্ছে।

১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

প্রথম ধাপের নিবন্ধন ১৯ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য হয়েছে।

পরবর্তী ধাপে ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়া, ২১ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর ইউরোপ, ৪ থেকে ৮ ডিসেম্বর সৌদি আরব, ৯ থেকে ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ১৪ থেকে ১৮ ডিসেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ভোটার নিবন্ধন চলবে।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই সেই দেশের মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করতে হবে, যেখান থেকে ভোট প্রদান করবেন।

ভোটারকে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।

ব্যবহারকারী বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশাবলি দেখতে পারবেন। বিদেশে ব্যালটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান অপরিহার্য।




রাজনীতি যেন আলাদিনের চেরাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থায়ন সংস্কৃতি ও ব্যবসা সুরক্ষা: বাস্তবতা ও সমাধানের পথ’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনদের মধ্যে সুজন সম্পাদক, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

সভার শুরুতে রাজনৈতিক অর্থায়ন বিষয়ে দায়রার একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ‘প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট’ (সুবিধাদাতা-সুবিধাভোগী) সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থায়নের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। রাজনৈতিক অর্থায়নের বিষয়টিতে পরিবর্তনের জন্য দলের খরচের আইনি সীমাকে বাস্তবসম্মত করা, দলসংশ্লিষ্ট এনটিটিকে (প্রতিষ্ঠান বা সত্তা) তদারকিতে আনাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। সভায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনীতি ও নির্বাচনী সংস্কৃতি দুর্বৃত্তায়িত। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিচ্ছন্ন করতে হলে দুর্বৃত্তদের দূরে রাখতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর আয়–ব্যয়ে স্বচ্ছতা নেই। এ ব্যাপারে দলগুলো হাইড অ্যান্ড সিকের (লুকোচুরি) আশ্রয় নিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য অনেকের কাছে রাজনীতি হয়ে উঠেছে ‘জাদুর কাঠি’।

 

সিন্ডিকেট’ ভাঙতে হবে

আলোচনায় অংশ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পুরো সমস্যার একটা অংশ অর্থায়ন। রাজনৈতিক পুঁজির তিনটা অংশ—অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্ম। এগুলোকে সার্বিকভাবে না দেখলে সমস্যার সমাধান হবে না। রাজনীতি, ব্যবসা ও আমলাতন্ত্র—এই তিন ক্ষেত্রে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে না পারলে বাস্তবে অগ্রযাত্রা হবে না।

দেশে নির্বাচনব্যবস্থার দুটি দুর্বলতার কথা সভায় উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি। তাঁর বিবেচনায় ওই দুটি দুর্বলতা হলো দলের আয়ের উৎস এবং

অভিযোগের ব্যবস্থাপনা। তিনি বলেন, আইনে রাজনৈতিক দলের আয়ের উৎসগুলো বলা নেই। বৈধ আয়ের উৎস কীভাবে হতে পারে, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। আইনে বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করতে হবে। যেসব উৎস জানামতে আছে, সেগুলোর আইনিভিত্তি দেওয়া যায়।




নৌকার ভোট এবার কার বাক্সে যাবে

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :   দেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া  আর এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে অনুপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দলটির ভোট কোনদিকে যাবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির ভোট টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জয়ের ব্যাপারে এক ধরনের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে বিএনপির। তাই প্রকাশ্যে তারা দলটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে না। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বসে নেই আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত জামায়াতও। এ দলটিও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সংখ্যালঘুদেরও দু-একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে জামায়াত। খোঁজ নিয়ে দুটি দলেই নতুন এই নির্বাচনি কৌশলের কথা জানা গেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোট টানার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গে জোট করবে কিনা তা নিয়ে দুই দলই পুনর্বিবেচনা করে দেখছে। এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট থাকলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট নাও দিতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে দল দুটি নানা হিসাব-নিকাশ কষছে। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা এনসিপিকে প্রধান শত্রু মনে করে এমন আলোচনা আছে দেশের রাজনীতিতে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারীরাই পরে এনসিপি গঠন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।

প্রথমত, দলটির আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী থাকে তাদের ভোট দেবে।

 দ্বিতীয়ত, ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর।

 তৃতীয়ত, ৫ আগস্টের পর প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা নির্যাতন চালিয়েছে সে বিবেচনা নির্ভর করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, প্রার্থীরা স্থানীয় হলে সুবিধা হলো নির্বাচনটি সামাজিক হয়। ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না এসে থাকতে পারেন না। সে হিসাবে আওয়ামী সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দলটির সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা তাদের আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী পায়, তবে তাদের ভোট দেবেন। আবার ‘না’ ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট পাবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও বলেছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বর্তমানে দেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনও নৌকা প্রতীক স্থগিত করেছে।

নিরাপত্তার কথা ভেবে বিএনপির ধানের শীষকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্যই কেউ কেউ মনে করছেন, কিছুটা জামায়াত প্রভাবিত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। এরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন হলেও তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন একতরফা ও একটি নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যায়।

বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৭ বছরের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। যার ফলাফল গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের সাধারণ জনগণও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিল। যে কারণে আওয়ামী লীগের আগের ভোটের হারের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা মেলানো যাবে না। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভোট সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

 




ছাত্রদল- ছাত্রশিবির মধ্যে সংঘর্ষ

চন্দ্রদ্বীপনিউজ :ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দিন দিন সম্পর্কের অবনতি হচেছ। যার প্রভাবে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির বনানী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে তিতুমীর কলেজে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হলেও কলেজ গেটে শিবিরের ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি যেন শান্ত থাকে সেজন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।




মস্কোর স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের  ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত ২৮ দফা পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় রাশিয়ার প্রায় সব চাওয়া পূরণ হবে। অন্যদিকে আরও কোণঠাসা হবে ইউক্রেন।

ট্রাম্পের খসড়া প্রস্তাবে ২০২২ সালে ইস্তাম্বুলে হওয়া আলোচনায় রাশিয়ার দাবির সঙ্গে বড় সামঞ্জস্য রয়েছে। তখন বর্তমানের চেয়ে ইউক্রেনের আরও বেশি ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে ছিল। আর গত তিন বছরে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিকভাবে বিভিন্ন দিকে মস্কোর যেসব ব্যর্থতা, তা আলোচনায় ছিল না।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাশিয়ার প্রাথমিক দুটি লক্ষ্য পূরণ হবে। প্রথমত, এতে এমন সব শর্ত রয়েছে, যেগুলো রাশিয়ার জন্য এতটাই সুবিধাজনক যে এর সামান্য অংশ মানলেও তা হবে মস্কোর জন্য বড় জয়। দ্বিতীয়ত, এটাকে রাশিয়ান কূটনীতিকেরা একই সঙ্গে আলোচনা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।এর মাধ্যমে যখন যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, তখন তারা চুক্তি করতে চাইবে।

রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনকে সাংবিধানিকভাবে অঙ্গীকার করতে হবে যে তারা ন্যাটোতে যোগ দেবে না। নাৎসি ভাবধারার অবসান, নিরপেক্ষ থাকার নিশ্চয়তা ও সেনাবাহিনীর আকার কমিয়ে আনবে। ইস্তাম্বুল আলোচনায় এসব ছিল মস্কোর দাবি, যা ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ করারই শামিল।

ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী জব্দ রুশ তহবিল থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে। আপাত মনে হতে পারে এটা রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি ছাড়। তবে যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এখনো মস্কোর দখলে। তহবিলও ব্যবহার করতে হবে রাশিয়ার শর্ত মেনেই। চুক্তিতে মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য হবে আরেক সাফল্য।

রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী এতে আরও তিনটি গোপন ঝুঁকি আছে। প্রথমত; চুক্তি স্বাক্ষরের ১০০ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের জন্য কার্যত এটা অসম্ভব। এতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে এবং নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

দ্বিতীয়ত; ইউক্রেনের পূর্ব দিকের দনবাস নামক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশগুলোকে ‘অসামরিক অঞ্চল’ ঘোষণা করতে করতে হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনে শর্ত এসব এলাকা রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার সমান। তৃতীয়ত; ‘কারণ ছাড়া মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে চুক্তি বাতিলের’ মতো অস্পষ্ট শর্ত আছে প্রস্তাবিত খসড়ায়। এটা রাশিয়াকে যেকোনো সময় চুক্তি লঙ্ঘনের সুযোগ করে দেবে।