জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, বিতর্কিত তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি জামায়াত প্রার্থীর

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বললেন, যারা এই কাজে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা এবং শাস্তি দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক, এটি আমরা সকলেই বিশ্বাস করি। কেউ এ সত্য বিকৃত করতে পারবে না।”

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ সাঈদী এ বিষয়ে আরও বক্তব্য রাখেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর শহরের হোটেল নায়োরীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। তিনি জানান, শুক্রবারের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন এবং এটি জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইভেন্ট হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এছাড়াও পিরোজপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী ড. শামীম হামিদী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, পৌর আমির ইসহাক আলী খান এবং খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন ওসমানী উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেইমানদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন: জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেইমান ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা শক্তিগুলোর রাজনীতির সমাপ্তি টানার নির্বাচন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাজনীতিকে ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত করেছে, এই নির্বাচন তাদের বিদায়ের সময়। রাজনীতি কখনোই দুর্নীতি, লুন্ঠন কিংবা মানুষের সম্মানহানির মাধ্যম হতে পারে না। যারা রাজনীতির নামে এসব করেছে, তাদের আর রাজনীতিতে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতিবাজরা দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের ভালোবাসার শক্তি নিয়ে সেই পাচার করা অর্থ দেশের মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত একটি তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায়। তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় দলটি। ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, দক্ষ কারিগর ও পাইলট তৈরি করে তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ তা দুঃখের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। দেশের স্বার্থে কোনো ধরনের চাপ বা লাল চোখ সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তরাঞ্চল কি অবহেলার জন্য সৃষ্টি হয়েছে? উন্নয়নের সূচনা এই অঞ্চল দিয়েই হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ অনেক দলকে সুযোগ দিয়েছে, এবার জামায়াতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, জামায়াত সংকটে-সম্ভাবে সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ খুলবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত। বিচারব্যবস্থায় কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না, আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির পথ তৈরি হয়। আগে সম্মান ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে, তারপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জামায়াতের অঙ্গীকার। কর্মস্থলে নারীদের নিরাপদ পরিবেশ ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে গুপ্তদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

গুপ্ত শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা জালেমি করে ক্ষমতায় যেতে চায় তারা কখনো সৎ শাসন দিতে পারে না। ভোটের আগেই ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে দেয়, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং তারা কেমন শাসন কায়েম করতে চায়।

বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের বান্দ রোড এলাকার বেলস পার্কে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটের আগেই যারা ব্যালট পেপার নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিতে চায় না। এ ধরনের অপকর্মের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চায়।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, গুপ্তদের একজন নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, আর নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এমন বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় তারা জনগণকে কতটা অবজ্ঞা করে এবং তাদের মানসিকতা কতটা ভয়ংকর। যারা মানুষকে তুচ্ছ করে কথা বলে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের জীবন কতটা দুর্বিষহ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সম্মান না করা, ভোটের পর জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর মানসিকতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ৭১ কিংবা ৮৬ সালে যারা সংকটের সময় পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে এই গুপ্তদের চরিত্রের মিল রয়েছে। এমন লোকদের কাছ থেকে দেশের জন্য ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তারেক রহমান অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুপ্তদের নেতারা প্রকাশ্যে নারীদের উদ্দেশে অশালীন ও কলঙ্কিত ভাষা ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা মা-বোনদের সম্মান করতে জানে না, তাদের কাছে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষার আশা করা যায় না। মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অতীতের স্বৈরাচারী ভাষা ও আচরণ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন পরিচয়ে একটি গুপ্ত দল আবারও সেই জালেমি মানসিকতা নিয়ে সামনে এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে ছোট করে দেখার এই রাজনীতি আর চলতে দেওয়া যাবে না। জনগণই শেষ কথা বলবে, আর ভোটের মাধ্যমেই গুপ্তদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্র, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিকে আবার ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ গড়ার অঙ্গীকার : নেয়ামুল করিম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে ১১ দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস. এম. নেয়ামুল করিম ঝালকাঠির হারিয়ে যাওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এক সময়ের ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত ঝালকাঠিকে আবার অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এস. এম. নেয়ামুল করিম জানান, ঝালকাঠিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া লবণ মিলগুলো পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রায় বিলুপ্তপ্রায় কাসা ও পিতল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। নির্বাচিত হলে ঝালকাঠির ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, ঝালকাঠিতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য শিক্ষার্থী ও রোগীদের অন্য জেলায় ছুটে যেতে না হয়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঝালকাঠির যোগাযোগ সহজ করতে আধুনিক ও টেকসই সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পেয়ারা শিল্পের সম্প্রসারণে আধুনিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নলছিটি পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর একটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নলছিটিকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা মেনে চলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি সহনশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা জানাতে গিয়ে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। কালো টাকার প্রভাব ও সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি ভোটারের বড় অংশই তরুণ, যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ফলে তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর এস. এম. নেয়ামুল করিম ছাড়াও বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনপিপি, জেএসডি, গণঅধিকার পরিষদ ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাপুরে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে বাধার অভিযোগ

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরেছেন জামায়াতের নারী নেতৃবৃন্দ।

সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রাজাপুর উপজেলা মহিলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খাদিজা বেগম বলেন, সোমবার সকালে রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের পিংড়ি এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালাতে গেলে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সমর্থক কয়েকজন নেতাকর্মী বাধা দেন। তাদের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর প্রথমে মাজেদা বেগম নামের এক নারী বাধা দেন এবং মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খাদিজা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনকলের পর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেলের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল নেতা ঘটনাস্থলে এসে প্রচারে বাধা সৃষ্টি করেন। শুধু পিংড়ি এলাকাতেই নয়, আশপাশের এলাকায় প্রচার চালাতে গেলেও একই ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের।

তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুক্তাগড় ইউনিয়ন আমীর আব্দুল আলিম ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও অবরুদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘর্ষ এড়াতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ওই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের নারী নেত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একই এলাকায় একাধিকবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর রাজাপুর উপজেলা আমীর মাওলানা মো. কবির হোসেনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নারী নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল হক সোহেল বলেন, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় অবস্থান করছিলেন। এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি বা তার দলের কেউ জড়িত নন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন যুবদল নেতা সোহেল।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী-১ এ ধানের শীষে ঐক্য, ফাহিমের সমর্থন ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কস্থ সুরাইয়া ভিলায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদ রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করেছে। এই রাজনৈতিক সহযাত্রার ধারাবাহিকতায় এবং পটুয়াখালীর মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় পটুয়াখালী-১ আসনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার ফলে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এখন থেকে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত টিম হিসেবে মাঠে কাজ করবেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি যেমন আন্তরিকভাবে গণ অধিকার পরিষদকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি পটুয়াখালী-১ আসনেও আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে গণ অধিকার পরিষদ তাদের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, জেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম মৃধা ও উর্মি আক্তার। এছাড়াও জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসিন ইসলাম, সেক্রেটারি রুবেল মাহমুদসহ দুমকি, সদর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার গণ অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন কাভার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি আনবে এবং ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুর-১: নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী পিরোজপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী জনগণের জন্য মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি এলাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যা দূর করবেন।

মাসুদ সাঈদী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর-১ আসন অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত। তাই নির্বাচিত হলে তিনি পিরোজপুরকে একটি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করবেন, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হবে, পরিবার স্বাবলম্বী হলে সমাজ স্বাবলম্বী হবে এবং সমাজ স্বাবলম্বী হলে রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হবে।”

পিরোজপুর পৌরসভা হলেও চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের সমস্যা চরম। বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন আনা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বড় শহরে যেতে না হয়। নদীবেষ্টিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য পিরোজপুর উপহার দেবেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার দল জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ও তার দল জুলাই সনদকে সমর্থন করে বলছেন, এটি আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি প্রতিরোধ করবে।

মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র। রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ২০১৪ সালে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। তিনি বর্তমানে সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান।

পিরোজপুর-১ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল আসন। এখানে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৬৬, যেখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে পক্ষপাত দেখলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে। রবিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা আইনশৃঙ্খলা, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কেউ যদি তার ব্যক্তিগত পছন্দ বা পক্ষপাতিত্বের কারণে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তা প্রমাণিত হলে তার পরিণতি কঠোর হবে। ভোটাধিকার সংরক্ষণে কমিশন সবকিছুকে খোলামেলাভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং অন্যায় বা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিডিয়ায় প্রকাশ করতে পিছপা হবে না।

ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, “নির্বাচনে সকলকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে। আমাদের কাছে কোন প্রার্থী বড় বা ছোট, হেভি ওয়েট বা লাইট ওয়েট নয়। দায়িত্ব পালনে শতভাগ পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না, তবে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেই হবে।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ভোটগ্রহণে কোনো অনিয়ম, জালিয়াতি বা পক্ষপাত ধরা পড়লে তা সহজভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে।

সভায় রিটার্নিং অফিসার সভাপতিত্ব করেন। জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংখ্যা বেড়ে ৩৩০

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। এটি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম নির্বাচনে ১২৫ জন, এবং ১০ম নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন।

ওআইসি’র দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দল নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ৭ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে। কয়েকটি দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।”

বর্তমানে যারা এখনও প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের অধিকার প্রয়োগে দেশবাসীর উৎসাহের কথা বলেছেন ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে দেশের মানুষ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করবে না নির্বাচন কমিশন। সবাইকে শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে, কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসি সানাউল্লাহ। তিনি আরও জানান, সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর স্পষ্ট হয়েছে—মানুষ এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। “আমরা জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই,” বলেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। নির্বাচন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকেও সুপারিশ করা হয়েছে।

সমন্বয় সভায় ঝালকাঠির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সেনাক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম