উপজেলা নির্বাচন: চতুর্মুখী লড়াই হবে কলাপাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চতুর্মুখী লড়াই হবে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা। উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা পারভীন সীমাসহ চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচনের মাঠে দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছে।

অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- লাইজু হেলেন লাকি, রাশিদা বেগম ও মোসাম্মৎ নাজমুন নাহার মলি।

কে হবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ভোটাররা চায়ের দোকানে বসে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে চুল চেড়া বিশ্লেষণে ব্যস্ত রয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলা পরিষদের বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা পারভীন সীমা গত নির্বাচনে প্রায় দুই-তৃতায়ংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে করোনা মহামারি থেকে শুরু করে যেকোনো দুর্যোগে সময় জনগণের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে বিগত বছরের বেশ কয়টি বন্যার সময় তার উপস্থিতি ও কার্যক্রম সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িঁয়েছে। বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ তাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন।

এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দুইবার তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে জনগণের সেবা দিয়েছেন। বিগত পাঁচ বছরে তার নামে কোন অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ সকল দিক বিবেচনা করে আগামী নির্বাচনে আবারও তাকে নির্বাচিত করবে এমনটাই আশা করছেন তার ভোটার ও সমর্থকরা।

এদিকে, নাজমুন নাহার মলি ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ হলেও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে তার ওপর। সেই বিবেচনায় বড় একটা ভোট ব্যাংক রয়েছে তার। এছাড়া, তিনি ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা ইউপি সদস্য হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এসময় তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আস্থার সাথে জনগণকে সেবা দিয়েছেন। তার সেবার পরিধিকে উপজেলা ব্যাপী পৌঁছে দিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ নির্বাচনে সে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন অনেকে।

আরো পড়ুন : দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে মোটরসাইকেল প্রার্থীকে জরিমানা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

অপরদিকে, অপর দুজন প্রার্থী লাইজু হেলেন লাকি ও রাশিদা বেগম এর আগেও এই পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। রাশিদা বেগম ২০১৪ ও অপরজন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারেননি। এরা দুজনেই পৌর মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবার ভোটাররা তাদের মূল্যায়িত করে নির্বাচিত করবে এমনটাই আশা করেন তারা।

লাইজু হেলেন লাকির মতে, এর আগেও দুইবার নির্বাচন করেছি। শেষের বার বিজয়ী হয়েও যেকোনো কারণে পরাজয় শিকার করতে হয়েছে। এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সে শতভাগ বিজয়ী হবেন। বিজয়ী হলে সরকারি সকল ধরনের বরাদ্দের সুষ্ঠু বণ্টনসহ গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষদের পাশে থাকবেন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ জুন উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে কলাপাড়া উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০ মে প্রতীক বরাদ্দের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




উপজেলা নির্বাচন বরিশালে প্রার্থীদের টার্গেট বিএনপির ভোটার

বরিশাল অফিস :: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করায় ভোট কয়েকভাগে ভাগ হয়ে যাবে। তাই প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে এখন সবচেয়ে মুখ্যভূমিকা পালন করবেন বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা।

সেই টার্গেট নিয়েই প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দরা জানিয়েছেন, হামলা ও মামলা দিয়ে এতোদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করে রাখা হয়েছে। এখন ভোটের জন্য বিএনপির সেই নেতাকর্মীদের ব্যাপক কদর বেড়ে গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছে। কিন্তু দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে বিএনপির ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করা বরিশালের নির্বাচনী উপজেলার নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথেও প্রার্থীরা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনের আগেই রক্তাক্ত উপজেলায় পরিনত হওয়া গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাপ-পিরিচ মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়াকে সমর্থন দিয়েছেন আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী। ফলে ওই উপজেলায় এখন কাপ-পিরিচ মার্কার সাথে মোটরসাইকেল প্রতীকের ভোট যুদ্ধ হবে। তবে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে ওই উপজেলার সাধারণ ভোটাররা চরম শঙ্কিত।

আগৈলঝাড়া উপজেলায় আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত ও দোয়াত কলম মার্কা নিয়ে যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।

দ্বিতীয়ধাপের মুলাদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জহির উদ্দীন খসরু’র দোয়াত-কলম মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নদী বেষ্টিত মুলাদী উপজেলায়ও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে চরম আতঙ্কিত সাধারণ ভোটাররা।

ওই উপজেলায় আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন তারিকুল হাসান খান মিঠু। হিজলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন সদ্য প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালীর একমাত্র ছেলে নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। তিনি চিংড়ি মাছ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।




দুমকি উপজেলা নির্বাচন: মাল্টা কাওসার ও তার কর্মীদের হামলার শিকার ৩ আনারস কর্মী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নির্বাচনী মাঠে টিকতে না পেরে বিরোধী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আসন্ন দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদার ওরফে মাল্টা কাওসারের বিরুদ্ধে। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মুরাদিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কার ৩ কর্মীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ভিতর দুজনকেই সরাসরি মাল্টা কাওসার মেরেছেন এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

সরেজমিনে প্রতক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ দুপুরে মুরাদিয়ার কাবিলওলায় মাল্টা কাওসার তার ১০/১২ জন সহযোগী নিয়ে আনারস মার্কার সর্মথক চরগরবদী গ্রামের মো: খোরশেদ হাওলাদারের ছেলে মো. ঝন্টু হাওলাদার ও আতাহার শরীফের ছেলে আবদুর রাজ্জাককে বেদম মারধর করেন।

মারধরের শিকার আনারসের কর্মী ঝন্টু হাওলাদার জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এমন সময় মাল্টা কাওসারের গাড়ী দেখে তার অটোচালককে থেমে সাইড দিতে বলে। ওপাশে গিয়েই ওকে দেখে মাল্টা কাওসার তার কর্মীদের বলে খা-ন-কীর পোলাগো একেকটাকে ধর, গলা কা-ই-টা ফ্যালা। আমি তখন তাকে ডাক দিলে সে না দাড়িঁয়ে গাড়ী টেনে চলে যায়। আমিও বাড়ির দিকে হাটঁতে থাকি। কিছুক্ষণ পরে দেখি ১০/১২ জন লোক নিয়ে সে আমার কাছে আসে। এর মধ্যে টিপু নামের একটা ছেলে গেঞ্জির কলার ধরে আর মাল্টা কাওসার এই শু-য়ো-রে-র বাচ্চা কী বললি বলেই মারধর শুরু করে। এরপর তার লোকজন আমাকে যে যেভাবে পারে মারতে থাকে। এসময় সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকাও তার লোকজন নিয়ে যায়। এরপর মাটিতে ফেলে দিয়ে এলোপাথারি মারতে থাকলে আমার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ছেড়ে দেয়।

ঝন্টুকে বাচাঁতে এলে একই গ্রামের ষাটোর্দ্ধ আবদুর রাজ্জাককেও মারধর করে মাল্টা কাওসার ও তার লোকেরা। মারধরের শিকার ব্যক্তিরা জানান, দুমকী, লেবুখালী ও পাংগাশিয়ার সর্মথকরা মাল্টা কাওসারের সাথে ছিল। এজন্য সবাইকে চিনতে পারেননি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী জনসংযোগকালে আচরণবিধি ভংগ করার অভিযোগে মাল্টা কাওসারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমান করেন আচরণ বিধি ম্যাজিষ্ট্রেট।

এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আনারস মার্কার সমর্থক গঞ্জর হোসেন খানের ছেলে মো: ফারুক হোসেন খানকে মারধর করে গুরুতর আহত করে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদারের লোকজন। গুরুতর আহত ফারুক এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মাল্টা কাওসার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হলেও আনারস মার্কার প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান জানান, নির্বাচনী মাঠে টিকতে না পেরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধী পক্ষ। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি স্থানীয় থানাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলেও তিনি জানান। তিনি এক ফেসবুক লাইভে বিরোধীদের ফাদেঁ পা না দিয়ে সর্মথকদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালানোর জন্য কর্মী সমর্থকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।




শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪৪তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দীর্ঘ নির্বাসন জীবন শেষে তিনি বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লী থেকে কোলকাতা হয়ে তৎকালীন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বিপদগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটের আঘাতে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এসময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করে ঘাতক গোষ্ঠী।

বাঙালি জাতির জীবনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। ঠিক তেমনি এক ক্রান্তিলগ্নে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করা হয় জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বকে ভয় পায় ঘাতক গোষ্ঠী। খুনি সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে না দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তিনি। সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিল আর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টিও সেদিন লাখ লাখ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সেদিন সারা বাংলাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার অমর স্লোগান,  ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’; ‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে আমরা আছি তোমার সাথে’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছায় স্বাগতম’।

দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।

সে দিন বিকেল সাড়ে চারটায় আকাশে যখন শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি দেখা যায় তখন সকল নিয়ন্ত্রণ আর অনুরোধ আবেদন অগ্রাহ্য করে হাজার হাজার মানুষ বিমান বন্দরের ভেতরে ঢুকে যায়। অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বিমানটি অবতরণ করে। জনতা একেবারেই বিমানের কাছে চলে যায়। বহু চেষ্টার পর জনতার স্রোতকে কিছুটা সরিয়ে ট্রাকটি ককপিটের দরজার একেবারে সামনে নেয়া হয়। এই সময়ে শেখ হাসিনা ভেতর থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন।

বেলা ৪টা ৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা বিমান থেকে সিঁড়ি দিয়ে ট্রাকে নেমে আসেন। কুর্মিটোলা থেকে শেখ হাসিনার শেরেবাংলা নগরে এসে পৌঁছতে সময় লাগে ৩ ঘন্টা। এই সময় ঝড় বৃষ্টিতে নগর জীবন প্রায় বিপন্ন। রাস্তাঘাট স্বাভাবিক জীবন যখন ব্যাহত তখন সেখানে অপেক্ষা করে কয়েক লাখ মানুষ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনি গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেলসহ সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।’
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টের পর যখন প্রবঞ্চক বিশ্বাসঘাতক খুনি দেশদ্রোহীরা প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষত-বিক্ষত করে তুলেছিল আমাদের জাতীয় জীবন যখন জাতিদ্রোহীদের অত্যাচারের প্রচন্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত তখন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল শ্রাবণের বারিধারার মতো পাহাড় সমান বাঁধা জয়ের অনন্ত অনুপ্রেরণা। সে দিন বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অশ্রু-বারিসিক্ত জন্ম ভূমিতে সঙ্কটজয়ের বীজ রোপিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অগ্নি শপথের রৌদ্রালোকে উদ্ভাসিত হয়েছিল বাঙালি জাতি।
ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামরিক জান্তা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে চলে তাঁর অকুতোভয় সংগ্রাম। জেল-জুলম, অত্যাচার কোনো কিছুই তাঁকে তাঁর পথ থেকে টলাতে পারেনি এক বিন্দু। শত প্রতিকূলতাতেও হতোদ্যম হননি কখনো। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বার বার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন। আবির্ভূত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে।
আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরের নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব, যোগ্যতা, নিষ্ঠা, মেধা-মনন, দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এক সময় দারিদ্র্য-দুর্ভিক্ষে জর্জরিত যে বাংলাদেশ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করতো সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বজয়ের নবতর অভিযাত্রায় এগিয়ে চলছে। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তালাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সততা, মেধা, দক্ষতা ও গুণাবলিতে সমসাময়িক বিশে^র অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপন কর্ম মহিমায় হয়ে উঠেছেন-নব পর্যায়ের বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা; হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি। বিশ্ব রাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়া দেশ-জাতি জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’ মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী মানবতার মা, আত্মশক্তি-সমৃদ্ধ সত্য-সাধক। প্রগতি-উন্নয়ন শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল-মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে সাগর সমান অর্জনে সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৪৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এই পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা, ছিল কণ্ঠকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু তিনি বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতোই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে টানা তৃতীয় বারসহ চতুর্থ বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তখন এদেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন করেছেন বহুমাত্রিক উদ্যোগ। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি অগাধ প্রেম এবং অক্ষয় ভালোবাসাই হলো তাঁর রাজনৈতিক শক্তি।




দুমকিতে ঘোড়া মার্কার তিন কর্মীকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে মোটরসাইকেল মার্কার সমর্থক কতৃক ঘোড়া মার্কার ৩ কর্মী সমর্থককে মারধর ও পোষ্টার টানাতে বাঁধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুমকি-পাতাবুনিয়া সড়কের মীরা বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, দুমকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রুহুল আমীনের ঘোড়া মার্কার পোষ্টার টানাতে গেলে জলিশা ব্রিজ সংলগ্ন মিরা বাড়ির সামনে আকাশ (১৪), বায়েজীদ (১৫) ও নাঈম (১৪)নামের কর্মী সমর্থককে বাঁধা দেয় ওই বাড়ির বাসিন্দা মোটর সাইকেল মার্কার সমর্থক সোহরাব মীরার ছেলে শামীম মীরা। এসময় ঘোড়া সমর্থক তিন কিশোরকে চর-থাপ্পর দিয়ে গাছে টানানো পোষ্টার নামাতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘোড়া মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রুহুল আমীন বলেন, টেলিফোনে দুমকি থানার ওসিকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন। নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ড. হারুণ অর রশীদ হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মোঃ আবদুল হান্নান বলেন, অভিযোগ শুনে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




মোদির জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই কি ফিকে হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রায় সব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা মোটামুটি একমত, মোদির নেতৃত্বে বিজেপি জোট এখনও অবশ্যই এগিয়ে। কিন্তু ৪০০ আসন তো দূরস্থান, গত নির্বাচনে এককভাবে বিজেপি যে ৩০৩টি আসনে জিতেছিল, সেই পুরোনো রেকর্ড ধরে রাখাও তাদের পক্ষে খুবই কঠিন। এমনকি পার্লামেন্টে সাধারণ গরিষ্ঠতা পেতেও হয়তো তাদের বেগ পেতে হবে।

ভারতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মোট ৫৪৩টি আসন। ফলে সাধারণ গরিষ্ঠতা পেতে হলে কোনো দল বা জোটের অন্তত ২৭২টি আসনে জিততে হয়। মোদির গত ১০ বছরের শাসনকাল ভারতে ‘মোদি ডিকেড’ বলে ডাকা হচ্ছে। তার পরও এবারের নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে এমন চ্যালেঞ্জ আসতে পারে– মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও বিজেপি নেতারা তা ভাবতেও পারেননি। চার দফায় দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি আসনে ভোট হয়ে যাওয়ার পর বিজেপি নেতাদের গলায় সেই আত্মবিশ্বাসী সুর আর শোনা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিরোধী নেতা-নেত্রীরা রোজই তাদের আক্রমণের সুর চড়াচ্ছেন। বলছেন, বিজেপি ২শর নিচে নেমে যাবে।

যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনী কৌশল প্রণেতারাও পূর্বাভাস করছেন, নির্বাচনী গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে, বিজেপি জোটের পক্ষে সাধারণ গরিষ্ঠতা অর্জন করাই খুব মুশকিল। ভিন্নমতও অবশ্যই আছে।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে ভারতের শেয়ারবাজারে যে আকস্মিক পতন লক্ষ্য করা গেছে, তাকেও অনেকে এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিফলন বলেই ব্যাখ্যা করছেন। কারণ, শেয়ারবাজার সবচেয়ে ভয় পায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে।

এই নির্বাচনে অবাক করার মতো ফল হতে পারে– এ কথাটা রাজনৈতিক পণ্ডিত থেকে সাধারণ ভোটাররা অনেকেই এখন প্রবলভাবে বিশ্বাস করছেন।

ভারতীয় প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও লেখক সৌমিত্র দস্তিদার এক নিবন্ধে লিখেছেন,  সবাই বলতে শুরু করে দিয়েছেন,  মোদির ৪০০ আসন জেতার স্বপ্ন এবারের নির্বাচনে অলীক হয়েই থেকে যাবে। কেউ কেউ এমনও ভাবছেন, ২০০৪ সালের ভোটে অটল বিহারি বাজপেয়ি সরকার যেভাবে অপ্রত্যাশিত খারাপ ফল করেছিল, মোদির সরকারের হাল ঠিক তেমনই হবে এবার। তবে বিজেপির অনুগত হিসেবে পরিচিত নির্বাচন কমিশন তলে তলে অন্য কিছু করে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সৌমিত্র দস্তিদার।

সিপিআই এমের পলিটব্যুরো সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গ দলের সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, মোদি চারশ চারশ করে চেঁচিয়ে বাজার গরম করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা যে তা নয়, বুঝতে পেরে এখন বড় বড় কথা বলা নিজেই বন্ধ করে দিয়েছেন। মোদির বক্তৃতায় কোথাও কোনো গঠনমূলক আলোচনা নেই। বক্তৃতায় শুধুই কংগ্রেস, রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য আঞ্চলিক দলের প্রতি বিষোদ্গার করা আর নিয়ম করে প্রতিটি জনসভায় নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে  (মুসলিমদের) গালমন্দ করে যাওয়া মোদির দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা কস্মিনকালেও এ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মুখে শোনা যায়নি। এমন খোলাখুলিভাবে সাম্প্রদায়িক তাস খেলা কখনও এ দেশের নির্বাচনে আগে কেউ কল্পনাও করেনি।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্প এবং ভারতের উত্থানের কথা বলেন। কিন্তু জনগণ বাস্তবে সেই সাফল্যের গল্প অনুভব করছে না। কিছু ক্ষেত্রে তা সরকারের প্রতি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সৌমিত্র দস্তিদার লিখেছেন, মোদির অনুগত মিডিয়া ভারতের ঝলমলে আলোটুকুই দেখায়। সে আলোয় এলিটদের চোখে মোদিজিকে বড় উজ্জ্বল লাগে। শহরের এই এলিট, মিডিল ক্লাস দেশের জনসংখ্যার নিরিখে সামান্য। গ্রামীণ ভারতে যে মোদিবিরোধী হাওয়া উঠছে, তা রাহুল গান্ধীর দু’দফার পদযাত্রার সময়েই গ্রামে-মফস্বলে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ দেখেই টের পাওয়া গিয়েছিল।




৫ বছর নয় আমার আমৃত্যু পর্যন্ত দুমকি উপজেলা জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো: আনারস মার্কা চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে দুমকি উপজেলার আনারস মার্কা চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেছেন, তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই,খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য ।

বুধবার (১৫মে) ৫৩ নং পশ্চিম জলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উদয়ন ক্লাব জলিশার সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন ।

তিনি বলেন,২০১৯ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল সে সময়ও আমি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। তার পরবর্তী সময়েও আপনাদের সাথে আমি কাঁদে কাদ রেখে দুমকি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মাঠে ঘাটে বেড়েছি তাই আপনাদের অনেকের সম্মতি নিয়ে এই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আংশগ্রহন করেছি। দুমকি উপজেলা একটি অবহেলিত উপজেলা এই জায়গায় আমার গ্রাম আমার শহর নামের একটি প্রকল্প এসেছে এটি বাস্তবায়নের জন্য একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উপজেলা উন্নয়ন করার সুযোগ দিন।

তিনি বলেন,বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে এডভোকেট হয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি সেবা করার জন্য। আমি আশা রাখি আগামী ২৯ তারিখ আনারস মার্কায় ভোট প্রদান করে আপনাদের কাছেও পাশে থাকার সুযোগ দিবেন।

 

,আমাকে আপনারা নির্বাচিত করলে আমি আগামী ৫ বছর নয় আমার আমৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের দুমকি উপজেলা জনগণের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবো। অনেক প্রার্থী আছেন যারা নির্বাচনে নির্বাচিত বা না হতে পারলেও এই দুমকি উপজেলায় থাকবে না। এই গুলো আপনারা বিবেচনা করেই আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।

স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক দুমকি বিনির্মানে সকলের সহযোগীতা চেয়ে এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেছেন,উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দুমকিকে একটি মডেল ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ইতোমধ্যেই আমি দুমকীতে ২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। একটি অটো ব্রিকস করেছি যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্বাচিত হলে আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উদয়ন ক্লাব জলিশার সাধারন সম্পাদক মাসুম হেমায়েত উদ্দীন। দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক রাকিব মৃধা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কয়েক শত সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।

 




পেছনে নয়, সামনে তাকাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র




তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই: দুমকিতে আনারস মার্কা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ্যাড. মেহেদি হাসান মিজান

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক :: পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার চেয়ারম্যান হলে মডেল উপজেলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন আনারস মার্কা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ্যাড. মেহেদি হাসান মিজান।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় দুমকি উপজেলার রাজাখালী নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার করেন।

মেহেদী হাসান মিজান জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দুমকিকে একটি মডেল ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি জানান, খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

তিনি আরও জানান, দুমকিতে দুইটি শিল্প প্রতিষ্ঠান করেছেন। এরমধ্যে অটো ব্রিকসে সাড়ে তিনশ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্বাচিত হয়ে আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান করে বেকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সভায় স্থানীয় অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




ডোনাল্ড ল্যু নিজ দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আলোচনা করতে এসেছেন: ওবায়দুল কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড ল্যু নিজ দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আলোচনা করতে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশে আসলেও, তাদের ভিসা নীতিসহ কোনো ইস্যুকেই আমরা কেয়ার করি না। তিনি কোনো মন্ত্রীও নন, তাকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন? তাকে আমরা নিমন্ত্রণ করে আনছি না, তারা তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে এদেশে আসেন। সম্পর্ক থাকলে আসতে হয়।
বিএনপি তাদের সমমনাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলনে জোর দিয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধালণ সম্পাদক বলেন, ভারতীয় পণ্য বয়কটের আন্দোলন তাদের ব্যর্থ চেষ্টা। বিএনপি’র কোন নেতাই ভারতীয় পণ্য বর্জন করবে না।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে টেস্ট কেস দেখলাম। এটা কি সম্ভব! ভারতীয় মসলা ছাড়া কি চলে! শাড়িসহ আরো অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আছে আনতে হয়। আমার মনে হয়, এটা বিএনপি’র উদ্ভট চিন্তা, ব্যর্থ চেষ্টা। আসলে সব হারিয়ে বিএনপি এখন খড়কুটো ধরে বাঁচতে চায়। তাদের কোন ইস্যু নেই। এখন ভারতীয় পণ্যকে ইস্যু করে নিয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এটা নন ইস্যু।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ও সমমনাদের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা নেই। সম্প্রতি ঢাকায় তাদের দুটি সমাবেশও ফ্লপ হয়েছে। তাদের কর্মীরা হতাশ, তারা তাদের নেতাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
মেট্রোরেলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তব-সম্মত নয়। পৃথিবীর কোন দেশেই মেট্রোরেলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের  নজির নেই। প্রতিবেশী দেশে ৫ শতাংশ পর্যন্ত নজির আছে। বাংলাদেশে এর যৌক্তিকতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকায় গণপরিবহনে লক্কর ঝক্কর বাস অপসারণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, চলাচলে অযোগ্য লক্কর ঝক্কর বাসগুলো ডাম্পিং করা হবে। তবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে যেগুলো একরকম চলে সেগুলো এখনই ডাম্পিং নয়।

ইলেকট্রিক বাস আমদানি নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিক বাসের কথা আমরা বিবেচনা করছি। ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারকে উৎসাহিত করার আগ্রহ আছে সরকারের।