দুমকিতে ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান আরিফ বুধবার রাতে এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হলেন- সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সাইদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মৃধা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাঈম।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনবিরোধী, শৃঙ্খলা-পরিপন্থী, অপরাধমূলক এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এমন কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযাগে তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

অভিযোগ আছে, বুধবার দুপুরে ওই ৩ নেতার নেতৃত্বে জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সানাউল্লা হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মঈন শিকদারসহ দলীয় নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমপক্ষে পাঁচ কর্মী আহত হয়।

আহত আবু মুছা (১৯), আরাফাত (১৯), ইমরান (১৮), সাইফুল (১৯), শাকিল (১৯) ও শুভকে (২২) উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাপের খামার করে বিপাকে রাজ্জাক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয় নিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সানাউল্লা হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মঈন সিকদার বুধবার দুপুরে অধ্যক্ষের অফিসে আলোচনা করতে যান। এসময় পদবঞ্চিত নেতা আবু সাইদের নেতৃত্ব ১৫-২০ জনের একটি দল অধ্যক্ষের অফিসে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগে উশৃঙ্খলতার স্থান নেই।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।




দুমকী জনতা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ – আহত-৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী সরকারি জনতা কলেজ ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৫ জন আহত হয়েছে।

বুধবার বেলা ১.০০ টার সময় কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

জানা যায়, গত ১৫ জুন সানাউল্লাহ হিরাকে সভাপতি ও মো: মঈন সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আগামী ১ বছরের জন্য সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগ। কমিটি ঘোষণার পরে গত ২৪ জুন পাল্টাপাল্টি আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে দু’গ্রুপ।

গত ২৪ জুন (সোমবার) সকাল ১০টার দিকে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহ সভাপতি মোঃ আবু সাইদ হাওলাদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান সুধা’র নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে একইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ কমিটির সভাপতি সানাউল্লাহ হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈন সিকদারের নেতৃত্বে আরেকটি আনন্দ মিছিল উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

আরো পড়ুন : মির্জাগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান তরুণীর -আত্মহত্যার হুমকি

পরবর্তীতে কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে বুধবার (২৬ জুন)কলেজ অধ্যক্ষের সামনে দু’গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে ১। মোঃ নুরে আলম (২১),২। আরাফাত হোসেন(১৬), ৩। মোঃ রিফাত সৃধা(২১), ৪। মোঃ ইমরান হোসেন(২২) ও ৫।মোঃ মুসা(২১) নামের ৫জন ছাত্র আহত হয়। এদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়।

সরকারি জনতা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি তাৎক্ষণিক দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যর কমিটি গঠন করা হবে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথে ক্যাম্পাসে গিয়েছি। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের কর্তৃক একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ত্রিধাবিভক্ত বরিশাল আওয়ামী লীগ, কমিটি বিলুপ্তিতে নেতৃত্বশূন্য বিএনপি

বরিশাল অফিস :: হতাশা, বঞ্চনা ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের ফলে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পরেছে বরিশালের আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ফলপ্রসূ আন্দোলনের ব্যর্থতা এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় হঠাৎ বিলুপ্ত হওয়া কমিটি নিয়ে নেতৃত্ব শূন্য এখন বরিশালের বিএনপি। তবে দুটো দলের মধ্যে ক্ষমতার প্রদর্শনী থাকলেও কেউই বরিশাল তথা দল ও দেশ প্রেমিক নেতা ছিলোনা বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বরিশালের সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও এসব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন দুটি রাজনৈতিক দলের জেলা ও মহানগর নেতারা।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের খুব একটা প্রভাব মহানগরে না থাকলেও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে বিগত জাতীয় নির্বাচন থেকেই বিভক্তি চোখে পড়ে। তবে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে গত ষষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘীরে। প্রথমদিকে আনারস প্রতীকের পক্ষে বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে দেখা গেলেও পরবর্তীতে জাহিদ ফারুক এর সমর্থন চলে যায় মোটরসাইকেলে। তার সামনেই মোটরসাইকেল ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেও তিনি নিরব থাকেন। এ নিয়ে কানাঘুষা সৃষ্টি হলে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র দ্রুত একসাথে সভা করে বুঝিয়ে দেন তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।


ইতিপূর্বেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘীরে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাথে মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের মধ্যে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়। বিশেষ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ পক্ষের লোকেরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এ সময় শ্লোগান ওঠে জাহিদ ও খোকন দুই ভাই, বরিশালে আর সমস্যা নাই। এর অল্পদিন পরেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘীরে মেয়র প্রতিমন্ত্রী দূরত্ব তৈরি হয়। যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় সুশীল সমাজেও।

উপজেলা চেয়ারম্যানকে ঘীরে মেয়র ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে দাবী করে বরিশালের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মতামত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, আনারস প্রতীকের প্রার্থী মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ছিলেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের একান্ত ঘনিষ্ঠ লোক। হঠাৎ করে মাহমুদুল হক খান মামুনকে আর প্রতিমন্ত্রীর পাশে দেখা যায় না বরং সেখানে এখন স্থান পেয়েছে মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী এসএম জাকির। আর এলাকার সবাই জানেন এসএম জাকির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। যে কারণে মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত তাকে অপছন্দ করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো আরো কিছু জটিলতাও আছে, যা আমরা সাধারণ চোখে বুঝতে পারছিনা। যা নিয়ে মেয়র ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান তারা। বিশেষ করে ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন সময়ে মহানগর সহসভাপতি আইনজীবী আফজালুল করিম এর বক্তব্যে তা আরো স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবী সুশীল সমাজের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নগর চিন্তাবিদদের একজন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, আমি যেটা বুঝি, এই ৬৬ বছরের জীবনে আমি বরিশালে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ ছাড়া এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পেলাম না, যার পিছনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে। এখানে এখন যা দেখি তা টাকা আর ক্ষমতার প্রদর্শনী শুধু। বরিশালের জন্য বা দল ও দেশের জন্য ভালোবাসা আছে, এমন নেতার খুবই অভাব বরিশালে।

এদিকে নগর চিন্তাবিদদের একজন বরিশাল সাহিত্য সংসদ এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক বলেন, আওয়ামী লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী বা ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে লস্কর নুরুল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইনজীবী আফজালুল করিমসহ কয়েকজনকে দেখা গেছে পৃথক অবস্থানে। মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের পাশে এসময় মাহমুদুল হক খান মামুন সহ কয়েকজন ছিলেন। ২৩ জুন মেয়রের উদ্যোগে প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন রেলী বা সমাবেশে প্রতিমন্ত্রী কিম্বা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কাউকে দেখা যায়নি। আবার মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে পৃথকভাবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও সমাবেশ রেলী করেছেন। চাচা-ভাতিজার লোক সমাগমের একটা প্রতিযোগিতা দেখা গেছে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে। যেখানে প্রতিমন্ত্রী পক্ষের কাউকে দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে গত ১৩ জুন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করে মহানগর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপিতে চলছে চরম অস্বস্তি। নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবার সম্ভাবনা নিয়ে জোর লবিং ও তদবিরে ব্যস্ত নেতাকর্মীদের অনেকে। তালিকায় আছেন সাবেক ও বর্তমান নেতাদের অনেকেই। তবে আলোচনায় এবায়দুল হক চান, মনিরুজ্জামান ফারুক ও জিয়াউদ্দীন সিকদার এর নাম প্রথম সারিতে। কেউ কেউ আবার বলছেন, এবার চমক দেখাবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার।

গত প্রায় আড়াই বছর ধরেই বরিশাল মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি নির্ভর। পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার প্রতিশ্রুতি বারবার পিছিয়ে যাওয়ার কারণে বরিশালে দলটির নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন চৌধুরী। তিনি বরিশালে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন।

বরিশালে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়

বরিশালে বিএনপির বর্তমান অবস্থা ::

২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি গঠিত মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও বিতর্কের মধ্যেই একই সালের ১১ মার্চ সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ৩০টি কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা সবাই সাবেক এমপি ও মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী ছিলেন। ফলে মহানগরের রাজনীতিতে মজিবর রহমান সরোয়ার ও তাঁর অনুসারী নেতা-কর্মীরা একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ নিয়ে বিভিন্ন সমাবেশে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতও দেখা গেছে। এমন অবস্থার মধ্যেই গত ১৩ জুন গভীর রাতে বরিশাল মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ১৪ জুন শুক্রবার সকালে কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

গুঞ্জন ওঠে, তাহলে কী বরিশাল মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে আবারও মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা হচ্ছে? কেউ কেউ আবার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানকে ও এজন্য দায়ী করেন এ জন্য। তবে এখানে তাদের কোনো হাত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিএনপির এই দুই নেতা।
বিলুপ্ত হওয়া আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কমিটি বিলুপ্ত করা হবে, তা আগে থেকে কোনো নেতাই জানতেন না।

বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জাহিদুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কবে নাগাদ পুনারয় কমিটি করা হবে, সে ব্যাপারেও আমরা সবাই অন্ধকারে আছি।’ কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরদিন থেকেই অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তবে তারাও নতুন কমিটি নিয়ে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। এ নিয়ে বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি আমরা আগে থেকে জানতাম না। তবে তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি আড়াই বছরের বেশি সময় পার করেছে। তাই বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেই মনে হচ্ছে।’

অন্যদিকে বিলুপ্ত হওয়া কমিটির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, হঠাৎ করে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এটা আরো আগেই হওয়া উচিত ছিলো। একটানা আড়াই বছর আহ্বায়ক কমিটি চলেছে। এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত যা হবে আমরা তা-ই মেনে নেব। আশাকরি শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাবে বরিশাল বিএনপি। একই কথা বলেছেন বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি এবায়েদুল হক চান ও একই কথা বলেন সাবেক কাউন্সিলর ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার। তিনি বলেন, দলকে ভালোবাসি দলের একজন কমী হিসাবে আমরণ থাকতে চাই। তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত যা-ই হোক সেটাই মেনে নিতে প্রস্তুত আছি বলে জানান তিনি।




জল্পনার অবসান, প্রধান বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন রাহুল গান্ধী




ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে সরকারি জনতা কলেজে সদ্যঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদ্যঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহ সভাপতি মোঃ আবু সাইদ হাওলাদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান সুধা’র নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ কমিটির সভাপতি সানাউল্লাহ হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈন সিকদারের নেতৃত্বে আরেকটি আনন্দ মিছিল উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করে।

এ কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারন সম্পাদক শাহ জাহান আকন সেলিম, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান খান, দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সহিদুল আলম হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক রাকিব হোসেন মৃধা প্রমুখ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে কৃষকের জালে আটকা পড়লো রাসেলস ভাইপার

জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তানভীর হাসান আরিফ বলেন, স্বঘোষিত পরিষদের কোন ভিত্তি নেই। যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর যাচাই বাছাই করে এ কমিটি দেয়া হয়েছে। সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে যদি কেউ লিপ্ত হয় তবে সে দায় তাকেই নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন সানাউল্লাহ হিরাকে সভাপতি ও মো: মঈন সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আগামী ১ বছরের জন্য সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগ।




ভোট চেয়ে দলীয় পদ হারালেন  ইসলামী আন্দোলন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে দলীয় পদ হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) প্রেরিত ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এক অব্যাহতিপত্রের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

এর আগে ৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাকে।

অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী ইসলামী আন্দোলন পটুয়াখালী জেলা শাখার ২০২৩-২৪ সেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এ সত্ত্বেও সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের আমীরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা কমিটি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তার জবাবে তিনি মিথ্যার আশ্রয় নেন এবং সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন।

আরো পড়ুন : বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জনগণকে নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছি। তবে ষড়যন্ত্র করে আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয় ইসলামী আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার বিষয়ে সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী গত বছরের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং দলের জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন।




জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আওয়ামী লীগের শক্তি : প্রধানমন্ত্রী




পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) সকালে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন নেতা-কর্মীরা।

পরে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে পটুয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গাছ রোপণ করা হয়।

আরো পড়ুন : বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডভোকেট সুলতান আহমেদ মৃধা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গোলাম সরোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নবনির্বাচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দশমিনা উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়াম হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণলয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু এমপি।

আরো পড়ুন :: ভূতুড়ে কৃষি ঋণের ফাঁদে পটুয়াখালীর মৃতরা

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা নাজ নীরা, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাফর আহম্মেদ, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন তমান জোমাদ্দার ও ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা সামচ্ছুরনাহার খান ডলি প্রমুখ।




সরকার দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: এমপি শাওন

বরিশাল অফিস :: ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেছেন, সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার চায় সুশিক্ষিত জাতি গঠন করতে। যারা আগামীর তথ্য-প্রযুক্তি সম্পূর্ণ স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। এ জন্যই দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।

বুধবার রাতে ভোলার লালমোহন উপজেলায় ‘লালমোহন স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের’ আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ‘শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও এ সময় আড়াইশত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষক সম্মাননা প্রদান করা হয়।

লালমোহন স্টুডেন্টস্ ইউনিয়নের সভাপতি রেদওয়ান আহমেদ জ্যোতির সভাপত্বিতে এবং সাধারণ সম্পাদক আশ্রাফুর রহমান তুহিনের সঞ্চালনায় এ সময় নাওয়াল গ্রুপের চেয়ারম্যান ফারজানা চৌধুরী রতœা, লালমোহন পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বাদল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, ধলীগৌরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান হাওলাদারসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।