সুনীল অর্থনীতিকে কাজে লাগাতে গবেষণায় সাপোর্ট দিতে হবে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: সুনীল অর্থনীতি কাজে লাগানোর উপর জোর দিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা সুনীল অর্থনীতি নিয়ে কাজ করব। আর সুনীল অর্থনীতিকে দেশের মূল অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে গবেষণায় সাপোর্ট দিতে হবে। কারণ গবেষকদের জন্য দেশ এগিয়ে যেতে পারছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ বুধবার ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ্ব মহাসাগর দিবস’ উপলক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ‘বায়োডাইভারসিটি এন্ড মেরিন রিসোর্সেস’ শিরোনামে ব্রেকআউট সেশনে চেয়ারপারসনের বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর সহায়তায় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ “ওসান প্রোসপারিটি: ক্যাটিলাইজিং ব্লু ইকনোমি ইন বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনীল অর্থনীতিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা ‘শূন্য’ ছিল। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদির অভাবের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটার্স এন্ড মেরিটাইম জোনস এক্ট’ প্রণয়ন করেন। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সে এক্ট বা অন্যসব ক্ষেত্রে দেশ এগোতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা সেটেলড করেন। প্রধানমন্ত্রী সুনীল অর্থনীতির খসড়া অনুমোদন করে দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ বান্ধব আমাদের সোনালী আঁশ পাটকে রক্ষা করা যায়নি। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে হারিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর পরে আমরা যোগ্য নেতৃত্ব পাইনি। এখন আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা যোগ্য নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। তিনি ছোট্ট ভূখ-কে উন্নয়নের পথে নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক নৌসংস্থায় ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আমরা সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এর মূল কাজ সমুদ্র পরিবহন পরিবেশ সম্মত এবং ফ্রেন্ডলি হওয়া’’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমুদ্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটাকে কাজে লাগিয়ে সুনীল অর্থনীতিতে এগিয়ে নিতে পারলে সার্থকতা খুঁজে পাবো।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মো. এমদাদ উল্লাহ মিয়া, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো: মোস্তাফিজুর রহমান, ফিলিপাইনের সহকারী অধ্যাপক জন ভার্ডিন, চীনের প্রফেসর উইডং ইউ, থাইল্যান্ডের প্রফেসর সুরিয়ান টুংকিজিয়ানুকিজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আমিনুর রহমান




বিএনপি পরনির্ভর দলে পরিণত হয়েছে : ওবায়দুল কাদের

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার বিরোধী সব আন্দোলনে ব্যর্থতার পর কোটা ও শিক্ষক আন্দোলনের ওপর ভর করছে পরজীবী দল বিএনপি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুধবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোটাবিরোধী আন্দোলন গতবার ছিল, এখনও রয়েছে। বিএনপি এই আন্দোলনের ওপর ভর করেছে। কিন্তু পরের কাঁধে ভর দিয়ে আন্দোলনে জয়ী হওয়া যায় না।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নেতাদের মুখের কোনও ট্যাক্স নাই, লাগাম নাই। গাড়ি চালক বেপরোয়া হলে যে অবস্থা হয়, রাজনীতিতে তারা হলো বেপরোয়া চালক। কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে কেউ জানে না। কে চালায় বিএনপি? লন্ডন থেকে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে চালায়। সড়কপথে কিংবা নৌপথে নয়- আকাশপথে বিএনপি চলে।’
বিএনপির বড় নেতারা ভয়ে আছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেতাদের দিনের আরাম আর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কখন কার চাকরি নট হয়ে যায়, কখন যে তারেক রহমানের ডাক আসে। ফখরুল সাহেবেও শান্তিতে নাই।’
বিএনপির আন্দোলনের হাত ভেঙ্গে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দিন যায়, রাত যায়। আন্দোলন আর সফল হয় না। মরা গাঙ্গে জোয়ার আর আসে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ভয় দেখায় বাংলাদেশ ভারত হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত গেলেই বলে- কিছুই আনতে পারে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৫৩ বছরে বাংলাদেশ ভারত হয়নি। সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যা সমাধান হয়েছে। আমাদের হিস্যা আমরা বুঝেপেয়েছি। আর খালেদা জিয়া ৩ হাজার পিস জামদানি শাড়ি দিয়ে এসে জানায় গঙ্গা চুক্তির কথা বলতে ভুলে গেছেন। কোন মুখে বিএনপি নেতারা এখন তিস্তার কথা বলেন?

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনার মতো এতো সৎ আর নির্ভিক নেতা এদেশে নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার কাজ চলছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার, অন্যায় আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার। দূর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে।  ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণের সঞ্চালনায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




দুর্যোগ মোকাবিলায় শেখ হাসিনা বিশ্বে রোল মডেল : দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণপ্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে রোল মডেল। শেখ হাসিনা বিশ্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় রোল মডেল তা তিনি নেপাল ও তুরস্কের দুর্যোগের সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তা প্রমাণ করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য তারই যোগ্য উত্তরসুরী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বুধবার আমতলী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বিষয়ক আমতলী উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা আযোজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বরগুনা জেলার জন্য ১ কোটি টাকা, আমতলী উপজেলা পরিষদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ১০০ বান্ডিল ঢেউটিন, ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের জন্য ৩৫ লাখ টাকা, আমতলী পৌরসভার জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫০ বান্ডিল ঢেউটিন ও গুলিশাখালী ইসহাক ও শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় দুটিতে সাইক্লোন সেল্টার বরাদ্দের ঘোষাণা দেন। পরে মন্ত্রী রেমালে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণের চাল তুলে দেন।

আমতলী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপত্বি করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ছরোয়ার ফোরকান, আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান, বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনিমেষ বিশ্বাস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল হোসাইন, ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম তালুকদার, আখতারুজ্জামান বাদল খান প্রমুখ। পৌরসভা হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপত্বি করেন পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান।

সভা দুটিতে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।




গলাচিপায় প্রথম নারী উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নবনির্বাচিত ওয়ানা মার্জিয়া নিতু দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ উপলক্ষে গত সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ ভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসিম রেজার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু। বিশেষ অতিথি ছিলেন নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ আহসান কচিন, নারী ভাইস চেয়ারম্যান তহমিনা আক্তার, গলাচিপা পৌরসভার মেয়র আহসানুল হক তুহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ দে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুব হাসান শিবলী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল

এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদ ভবনে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১ মে অনুষ্ঠিত গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওয়ানা মার্জিয়া নিতু।




পটুয়াখালী সদরসহ ১৩ টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহন আজ ৩০ জুন রবিবার বিকাল ৪ টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ এর ৩য় ধাপে ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ৯ জুন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন ঘোড়া মার্কার প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাবেক যুবলীগ নেতা মো. রেজাউল করিম সোয়েব। তিনি ভোট পেয়েছেন ৩২,৬২৭। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দী আনারস মার্কার প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মনির পেয়েছেন ২২,১৬৪ ভোট।
এ নির্বাচনে ২,৯৫,১৪৬ জন ভোটারের মধ্যে ৯৬,৪৫১ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করে। এ প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ২৮৭২ টি ভোট বাতিল হয়েছে বলে যানান সহকারী রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার ।

এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাইক প্রতীকের প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাসান শিকদার ১৮,৬৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগ নেতা চিন্ময় বণিক সুমন পেয়েছেন ১৭,৬০৮ ভোট।

আরো পড়ুন : দশমিনায় স্বামীর টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন পাওয়া স্ত্রীকে আদালত চত্বরে মারধর

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রজাপতি প্রতীক প্রার্থী মোসা. কামরুন নাহার শিমুল সর্বোচ্চ ৩৫,৬২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মোসাঃ নাসিমা আক্তার পেয়েছেন ২৯,২২৩ ভোট। এ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার।

১৯ জুন গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় উপজেলা পরিষদ আইন -১৯৯৮ (উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন -২০১১ দ্বারা সংশোধিত ৯ ধারার ক্ষমতাবলে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী (অতিরিক্ত সচিব)।

উক্ত আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী উল্লেখিত নির্বাচিতগণ হলফনামার মাধ্যমে শপথ গ্রহনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের নিকট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির বিবরন দাখিল করেন নির্বাচিত প্রার্থীরা। এবং শপথ গ্রহন করেন।

প্রকাশ, একই দিন একই সময় একই স্থানে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, তজুমদ্দিন, লালমোহন, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া, বামনা, পাথরঘাটা, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানগন শপথ গ্রহন করেন ।




বরিশাল নগর বিএনপির কমিটি ঘিরে গুঞ্জন

বরিশাল অফিস :: সদ্যবিলুপ্ত বরিশাল মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি কবে হবে, কাদের নিয়ে হবেÑ তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকের মতে, এখানে আবারও আহ্বায়ক কমিটিই ঘোষণা করা হবে। কেউ কেউ বলছেন, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ সদস্যের কমিটিও গঠিত হতে পারে। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই এসব নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা চলছে বিএনপি ও এর বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে।

এদিকে মহানগর বিএনপির সদ্যবিলুপ্ত কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা জাহিদুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, ‘কী ধরনের কমিটি হবে, সেই বিষয়ে আমরা কেউ নিশ্চিত নই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত দেবেন কী কমিটি হবে।’

বিএনপি নেতা রিপনের ধারণা, পহেলা জুলাইয়ের আগেই এই কমিটি পাবে মহানগর বিএনপি। মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হাসান আনিচ বলছেন, ‘ধারণা করছি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির মতো মহানগর বিএনপিরও আবারও আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে। দক্ষিণ জেলার মতো এখানেও আসলে আহ্বায়ক কমিটিই পুনর্গঠন করা হবে।’

বিএনপি নেতারা জানান, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর বিএনপি বরিশাল মহানগরের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. মনিরুজ্জামান ফারুককে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুলকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মীর জাহিদুল কবিরকে সদস্য সচিব করা হয়। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত ৫ নভেম্বর কমিটি অনুমোদনের স্বাক্ষর দেন। ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি আহ্বায়ক কমিটি ৪২ সদস্যসম্পন্ন করার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু আকস্মিকভাবে গত ১৩ জুন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তখন থেকে বরিশালে বিএনপির কমিটি নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

দলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, যেহেতু আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি-সম্পাদকসহ আপাতত ৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

সভাপতি হিসেবে আলোচিত হচ্ছেন যারা ::

এ ক্ষেত্রে সভাপতি হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। আবার চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ায় তার এই সুযোগ নেই বলেও মনে করছেন অনেকে। যদিও সরোয়ার অনুসারীদের ধারণা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এ পদ দিতে পারেন।

এ বিষয়ে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘দল যদি দায়িত্ব দেয়, তাহলে সিদ্ধান্ত মেনে সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দলকে এগিয়ে নেব। দল দায়িত্ব দিলে একাধিক পদ কোনো বিষয় নয়।’

এরপরেই আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন। তিনি বললেন, ‘গত সাত বছর ধরে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছি। এখন আমি পদোন্নতি প্রত্যাশা করছি। তা ছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিলেও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’

তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবায়দুল হক চানকে এবার মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

এ বিষয়ে এবায়দুল হক চান বলেন, ‘দলের প্রতি ভালোবাসা সব সময় ছিল, থাকবে।’ মহানগরের কমিটিতে তাকে রাখার বিষয় সম্পর্কে কিছু জানেন না, এ-কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব দিলে অবশ্যই আমার সঙ্গে আগে আলোচনা করতে হবে।’

সদ্যবিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকও রয়েছেন আলোচনায়। এ বিষয়ে মনিরুজ্জামান খান ফারুক জানান, দলের সিদ্ধান্ত মেনেছেন সব সময়। আন্দোলন-সংগ্রামে পিছপা হননি কখনও। দায়িত্ব পাওয়ার পর বরিশাল মহানগর বিএনপিকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। তিন মাসের বেশি সময় জেল খেটেছেন। সব দিক বিবেচনা করে তার প্রতিদান পাওয়ার প্রত্যাশা তো থাকতেই পারে। তারপরও দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।

সম্পাদক/সদস্য সচিব পদে আলোচিত যারা ::

সাধারণ সম্পাদক কিংবা সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে তিন জনের নাম। তারা হলেনÑ সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, সদ্যবিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান শামীম।

এ বিষয়ে জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, ‘চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে আসছি শুরু থেকেই। এই দলের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতে রাজি আমি। দলের চলমান প্রক্রিয়ায় আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে। সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় আবারও কমিটি হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে কমিটিতে যেখানে রাখার যোগ্য মনে করবেন, সেখানেই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। এ বিষয়ে আমি চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর পুরোপুরি আস্থাশীল।’

মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান শামীম বলেন, ‘৪০ বছর ধরে বরিশাল নগরীতে বিএনপির সৈনিক হয়ে কাজ করছি। দল যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করেছি নিষ্ঠা ও একাগ্রতা নিয়ে। মৃতপ্রায় যুবদলের কার্যক্রমকে উজ্জীবিত করেছি। ভবিষ্যতেও যদি দল আমাকে যোগ্য মনে করে কোনো দায়িত্ব দেয় তবে নিজের শতভাগ দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করব।

সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ বলেন, ‘রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এই পর্যন্ত এসেছি। টানা চারবারের কাউন্সিলর ছিলাম। দলের সিদ্ধান্ত মেনে এবার নির্বাচন থেকে বিরত থেকেছি। সব সময় দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত ছিলাম, এখনও আছি। ভবিষ্যতে যাদের দায়িত্ব দেবেন, তাদের নিয়েই কাজ করব।’




পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।

মোঃ মহাসিন রেজা ইমরুলকে আহবায়ক এবং মোঃ নুরুল আমিন লিটন গাজীকে সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক করে ৩৩সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করেছেন জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম লিটন ও সাধালণ সম্পাদক মোঃ শিপলু খান।

উক্ত কমিটিকে আগামী ৪৫ কার্ম দিবসের মধ্যে সদর উপজেলার আওতাধীন সকল ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি গঠন ও সদর উপজেলার সম্মেলন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। কমিটির আহবায়ক ও সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এর সম্মিলিত স্বাক্ষরে উক্ত কমিটি অনুমোদিত হবে।

জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান হয়।

কমিটিতে মোট ১৪জনকে যুগ্ন আহবায়ক করা হয়েছে। তারা হলেন-এডভোকেট মোঃ শাকিল মিয়া, মোঃ সাইফুল ইসলাম মৃধা, নিয়াজ মোর্শেদ শুভ, মাহমুদুল হাসান মাহমুদ, মোঃ মজিবর সরদার, মোঃ মোকসেদুল মৃধা, মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোঃ ফারুক গাজী, এ্যাডভোকেট সিকদার মোঃ আল ইমরান, মোঃ বশির উদ্দিন বিশ্বাস, মোঃ কবির সিকদার, মোঃ সাইদুল ইসলাম গাজী, মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং মোঃ রিয়াজ মির।

আরো পড়ুন : লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল – গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

কমিটিতে সদস্য হিসাবে যাদেরকে রাখা হয়েছে তারা হলেন- মোঃ গোলাম রব্বানী, মোঃ নুরুল আমিন আল-মামুন, জামাল হোসেন মিন্টু মৃধা (মেম্বার), মোঃ রেজাউল করিম (মেম্বার), মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, আবুল কালাম গাজী, মোঃ নেছার উদ্দিন সিকদার, মোঃ নাসির, মোঃ সুমন মিয়া, মোঃ ফোরকান সিকদার, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ হারুন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, মোঃ বাচ্চু মৃধা, মোঃ সুমন আকন, মোঃ মহশিন প্যাদা এবং মোঃ মহশিন আকন।




বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নবনির্বাচিত দুই জনপ্রতিনিধির শ্রদ্ধা নিবেদন

বরিশাল অফিস  :: শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন জেলার গৌরনদী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া এবং পৌরসভার উপ-নির্বাচনে নবনির্বাচিত পৌর মেয়র
আলহাজ্ব মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া।

শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং তার সকল সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে তারা জাতির পিতার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পন ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান প্যাদা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন হাওলাদার, মোঃ লিটন বেপারী, উপজেলা ছাত্রলীগের
সহসভাপতি ইমরাত খান প্রমুখ।




বরিশালে নবনির্বাচিত মেয়রকে গণসংবর্ধন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার গৌরনদী পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আলহাজ্ব মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়াকে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গেরাকুলবাসীর আয়োজনে শুক্রবার দিবাগত রাতে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

গেরাকুল সাইক্লোন শেল্টার এন্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোঃ ইখতিয়ার হাওলাদারের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক খোকন
আহম্মেদ হীরা।

মোঃ জাসেম আকনের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে নবনির্বাচিত মেয়রকে গেরাকুলবাসীর পক্ষে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম হেলাল মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর সরদার, যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমানসহ অন্যান্যরা সংবর্ধনা প্রদান করেন। পরে নবনির্বাচিত মেয়রকে গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, সাবেক মেয়রের আমলে পৌরবাসী চরম ভোগান্তিতে ছিলো। নাগরিক সেবা তলানিতে পৌঁছেছে। আমি পৌরবাসীর জন্য শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি পৌরসভা থেকে প্রাপ্য সম্মানি ভাতা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করে দেওয়া হবে। সংবর্ধনা সভায় প্রধানশিক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমান তালুকদার, সাবেক পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোর্শেদ পান্না, গোলাম আহাদ মিয়া রাসেল, আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন সিকদার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক জিএম আলাউদ্দিন, আব্দুল মজিদ শরীফ, ব্যবসায়ী মজিবর আকনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে
অনুষ্ঠিত দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতী আব্দুর রশিদ।




বরিশালে ইনানের শহরে ছাত্রলীগের কমিটি নেই এক বছর

বরিশাল অফিস :; ছাত্ররাজনীতির পথ ধরে জাতীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠার নজির গড়েছেন বরিশালের অনেক নেতা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী হিসেবে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছেন। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভাতেও দাপুটে ভূমিকা রেখেছেন বরিশালের অনেকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার মধ্যেও একজন বরিশালের সন্তান- তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

অথচ তার নিজ শহর বরিশাল মহানগরে এক বছরের বেশি সময় ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলছে কমিটি ছাড়াই। গত বছরের ১৫ মে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্তির পর অনেকটা স্থবির হয়ে আছে শক্তিশালী এই ইউনিটের কার্যক্রম। নতুন কমিটি কবে হবে– তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই মহানগরের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের। ফলে হতাশা বাড়ছে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের।

সাংগঠনিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ভোটগ্রহণের আগে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ায় গ্রেপ্তার হন মহানগরের তৎকালীন আহ্বায়ক রইজ আহম্মেদ মান্না। এ ঘটনার পর ১৫ মে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা আসে কেন্দ্র থেকে। তখন ইনান দাবি করেছিলেন– মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য কমিটি গঠিত হয়েছিল। সংগঠনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

মহানগর ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী রেজওয়ানুর রহমান নিয়ন  বলেন, ‘সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। কমিটি দিয়ে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা আশ্বস্ত করেছেন– দ্রুত কমিটি দেওয়া হবে। আমরাও সেটাই চাই। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আমাদের মহানগরের সন্তান। তার ওপর আমাদের আস্থা আছে।’

ছাত্রলীগকে চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে তুলনা দিয়ে মহানগরের সাবেক সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন বলেন, ‘ট্রেন থামিয়ে দিলে সেটা কাভার করা কষ্টকর। কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকলে নেতা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়। আমি ছাত্ররাজনীতি করে এসে সদরের ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছি। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে যোগ্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতাদের উচিত মহানগরের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

প্রায় এক যুগ এক কমিটি ::

সর্বশেষ বিলুপ্তির আগে মহানগরের আংশিক কমিটি গঠন হয়েছিল ২০১১ সালে। কমিটিতে মো. জসিমউদ্দিন সভাপতি, অসীম দেওয়ান সাধারণ সম্পাদক এবং তৌসিক আহমেদ রাহাত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১০ বছরেও তারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে ব্যর্থ হন। ২০২১ সালের ২৫ মে এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তিন মাসের জন্য করা সেই কমিটি ১১ মাস পর বিলুপ্ত করা হয় গত বছর।

এই ঝুলে থাকার পেছনে গ্রুপিংয়ের রাজনীতিকে দায়ী করেছেন অনেক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়– দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা, বক্তা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা এবং সর্বোপরি মেধা। এসব ছাপিয়ে যেখানে গ্রুপিংয়ের প্রাধান্য থাকে সেখানে কে কার অনুসারী– কমিটি দেওয়ার আগে এটি নিয়েও চলে তোড়জোড়।’

নেতারা যা বলছেন ::

মহানগরে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কমিটি না থাকলেও নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মহানগরের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার আগে তারা নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। তাদের কার্যক্রমে কোনো ঘাটতি নেই। নেতারা যার যার ওয়ার্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে নিচ্ছেন। মহানগরে কমিটি না থাকায় কিছুটা তো সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা থেকে বের হওয়ার।

ছাত্রলীগের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বাড়িও বরিশালে উল্লেখ করে মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, ‘জয়-ইনানের মতো নেতা থাকা সত্ত্বেও মহানগরে ছাত্রলীগ কমিটি শূন্য থাকা দুঃখজনক। তবে এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো সিদ্ধান্ত থাকতে পারে।’

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঙ্গে। কমিটি না থাকা দৃষ্টিকটু ও বিব্রতকর বলে মনে করেন তিনি। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে ইনান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কমিটি গঠন করা যায়।’