নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করলো আওয়ামী লীগ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের দুদিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর মধ্যে রয়েছে- আগামীকাল রোববার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এবং জেলা ও মহানগরে জমায়েত। পরদিন সোমবার বিকেল ৩টা থেকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট নিহত এবং সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে শোক মিছিল।

শনিবার (৩ আগস্ট) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, একদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অন্যদিকে আমরা কোনো রকম মুখোমুখি অবস্থানে ড়াতে চাই না। সে কারণে সংঘাত হতে পারে এ ধরনের প্রোগ্রাম আমরা এড়িয়ে চলেছি। গতকাল (শুক্রবার) এবং আজও (শনিবার) আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল।

আওয়ামী লীগের নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়ে কাদের বলেন, রোববার ঢাকা সিটির সব ওয়ার্ডে জমায়েত এবং বাংলাদেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত। ৫ আগস্ট (সোমবার) বিকেল ৩টায় আমরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত শোক মিছিল করবো।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির অভিভাবক। এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তিনি বসতে চান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংঘাত এড়াতে পক্ষ-বিপক্ষ হতে পারে, পাল্টাপাল্টি হতে পারে এমন কর্মসূচি এড়িয়ে চলছি। বিবেক নয়, আমরা ঐক্যে বিশ্বাসী। যারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও প্রগতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আমরা চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দেশের অর্জিত গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতি যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবার সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।

কাদের বলেন, এখানে আমরা একটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই। অবুঝ শিশুরা কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় পড়ে না। অবুঝ শিশুর তাজা প্রাণ ঝড়িয়ে আমাদের সরকারি দলের কোনো লাভ নেই। লাভ তাদের যারা এ শিশুর লাশ থেকে ফায়দা লুটতে চায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তারপরও আমরা ইউনিসেফকে বলবো, অনুরোধ করবো যে ৩২ জন শিশু হত্যার কথা তারা বলছেন, আমরা সেই শিশুদের নাম-ঠিকানা জানতে চাই। এটা পেলে ব্যবস্থা নেবো। সত্য খুঁজে বের করুন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এ দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারই ফিরিয়ে এনেছে। আজ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্রতিভূ বিএনপি-জামায়াত। তারা বারবার জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত এবং রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ। তাই যে কোনো আন্দোলন দেখলে সেটাকে সরকারবিরোধী রূপ দিতে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর ভর করে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করছে।

বিএনপি-জামায়াত লাশের রাজনীতি করছে দাবি করে কাদের বলেন, গত শুক্রবার তাদের ষড়যন্ত্র ও উসকানির মাধ্যমে ছাত্রদল ও শিবিরের ক্যাডার বাহিনী সহিংসতা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে। ফলে দুটো তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ অনেকেই আহত। এছাড়াও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে। পুলিশ সদস্য হত্যার দায় কার, তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান কাদের।

শুক্রবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সহিংসতা হয়েছে তার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত নয় উল্লেখ করে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের বলতে চাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশবিরোধী একটা মহল চলমান সংকট জিইয়ে রেখে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেহাত হয়ে গেছে। চলে গেছে তৃতীয় পক্ষের হাতে, যারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে যেতে চায়। এ অশুভ শক্তির অশুভ তৎপরতা আমরা সফল হতে দিতে পারি না। আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি কমিটমেন্ট শতভাগ। আমরা শিক্ষার্থীদের নিকট দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। তারা আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন। দেশটি আমাদের। কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রয়াসে এগিয়ে যাবে আমাদের এ বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাদের বলেন, আমরা অফিসিয়ালি সেটা বলিনি। আমাদের যোগাযোগের একটা মাধ্যম তো আছে। যখন যোগাযোগটা হবে, তখন আপনারা দেখতে পাবেন, জানতে পাবেন। এখানে কোনো রাখঢাকের বিষয় নেই। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন আলোচনার দরজা খোলা। কাজেই বিভিন্নভাবে যোগাযোগ হতে পারে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলছেন তার দরজা খোলা, তিনি আলোচনা করবেন। তাহলে নিচের দিকে আর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া বা না দেওয়ার কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের যোগাযোগের দরজা খোলা।

তারা আলোচনা না করলে আওয়ামী লীগ কী করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমি আমার পজিটিভ বিষয়টা বললাম। নেগেটিভে যাবো কেন? দরজা খোলা রাখছি।

বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে কি না, ঘটলে আওয়ামী লীগ কী করবে– জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

তদন্তে সহযোগিতার জন্য জাতিসংঘের কাছে সরকার আবেদন করেছে কি না– জানতে চাইলে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এটা তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেছেন। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বলার পর…। জাতিসংঘ একটা প্রস্তাব দিয়েছে। এটা তো চিঠি দিয়ে বলেনি। আমরাও সেটাতে সায় দিয়েছি।

রোববার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সর্বাত্মক অসহযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি বলে দিয়েছি। এজন্য আমরা জমায়েত কর্মসূচি দিয়েছি।

 




গণভবনে জরুরি বৈঠক: আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে বসতে চায় আওয়ামী লীগ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে বসে পরিস্থিতি শান্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার রাতে গণভবনে জরুরি বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি ছাড়াও এতে অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুর নাহার চাপা, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

বৈঠকে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নবান ও সহনশীল থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। একইভাবে তিন নেতার একটি টিম করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই টিমে ১৪ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতাদের যুক্ত করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমরা তাদের দাবির সঙ্গে একমত। এরই মধ্যে তাদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার করা হয়েছে। হতাহতের ঘটনায় সঠিক তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এর সঠিক বিচারও হবে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত টিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাদের কথা শুনবেন। এ বিষয়ে দলীয় সভাপতি ও জোটনেত্রীকে রিপোর্ট করবেন।




সাংবাদিকদের সাথে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: “সকলের সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আল্লাহ সহায় থাকলে প্রতিপক্ষরা কিছুই করতে পারবে না। গরিব-ধনী উর্দ্ধে সেবা নিতে যে লোকই আসবে, সকলেই সেবা পাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতীক না দেয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করতে পেরেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবান জানাই। দল-মত সকলকে সাথে নিয়ে গলাচিপা উপজেলার উন্নয়নে বদ্ধ-পরিকর।”

মতবিনিময় সভায় গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত প্রথম নারী চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু এমনটি বলেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে গলাচিপা উপজেলা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় উপজেলার সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ আহসান কচিন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোসাঃ তহমিনা আক্তার, স্টার্ফ রিপোর্টার শংকর লাল দাস, সাংবাদিক খালিদ হোসেন মিল্টন, প্রেসক্লাবের সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়, মোঃ কাওসার, মোঃ হারুন অর রশিদ, সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ,সাইমুন রহমান এলিট, জাকির হোসেন, রুবেল আকন, মোনাজাতসির মামুন, মাসুদ রানা, রিয়াদ হোসেন, হাসান এলাহী, সঞ্জিব দাস, নাসির উদ্দিন, সোহাগ রহমান, মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, সোহেল আরমান, আহসান উদ্দিন জিকো, সাকিবুল হাসান সাকিব, মিঠুন চন্দ্র পাল, কমল সরকার ও আরেফিন লিমন ,পঙ্কজ গাঙ্গুল, সঞ্জীব সাহাসহ সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




জামায়াত-শিবিরকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে: শেখ হাসিনা

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওরা তো (জামায়াত-শিবির) জঙ্গিবাদী হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে আবার ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। সে কারণে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে এদের মোকাবিলা করা ও মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা সবাই মিলে করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর খামারবাড়িতে কেআইবি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা তো জঙ্গিবাদী হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে আবার ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। সে কারণে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে এদের মোকাবিলা করা ও মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা সবাই মিলে করতে হবে। কারণ, বাংলার মাটিতে জঙ্গির ঠাঁই হবে না। সেভাবে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমি দেশবাসীকে সজাগ থাকতে এবং তাদের সহযোগিতা চাই। আমি জানি বারবার আঘাত আসবে। আমি পরোয়া করি না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, একদিন নিয়েও যাবেন। কিন্তু যেখানে মানুষের জন্য কল্যাণের কাজ, সে কল্যাণের কাজ আমরা করেই যাবো।

তিনি বলেন, ১ আগস্ট রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যম আমরা শোকের মাস শুরু করেছি। সব সংগঠনের নেতাদের এই শোকের মাসে শুধু শোক পালন নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির পিতা তো এ জাতির জন্য কাজ করে গেছেন। কাফনের কাপড় ছাড়া কিছুই নিয়ে যাননি। শুধু দিয়েই গেছেন। তার সেই আদর্শ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উম্মুল কুলসুম স্মৃতির সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে নিহতদের স্মরণে ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের বৈঠক জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে জঙ্গিবাদী কাজ হিসাবে উলে­খ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জামায়াত-শিবির, বিএনপির জঙ্গিরা আজকে আমাদের ওপর থাবা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, আসলে এটা কোনো রাজনৈতিক কিছু নয়। এটা সম্পূর্ণ জঙ্গিবাদী কাজ। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে গণভবনের বাইরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সংগঠন জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া ছাড়াও ১৪ দলের ফজলে হোসেন বাদশা, শিরীন আখতার, সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, ডা. শাহাদাত হোসেন, ডা. অসীত বরণ রায়, আওয়ামী লীগের ড. আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এদের উদ্দেশ্যটা এখন বোঝা যাচ্ছে যে, কোটা কোনো ইস্যু নয়। একে একে যে কয়টা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সেবা দেয়, যে কয়টা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করে, সেটাই ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়েছে, উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ আজকে বিশ্বব্যাপী একটা মর্যাদার আসন পেয়ে গেছে। বাংলাদেশের নাম শুনলে সবাই সমীহ করে চলে। সবাই সম্মানের চোখে দেখে। একটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে আমরা তুলে আনতে সক্ষম হয়েছি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে।

বৈঠকে কোটা আন্দোলনের আড়ালে বিএনপি-জামায়াত জোটের ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞ-সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস এবং হতাহতের ঘটনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অপশক্তিদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।

এর আগে গত ১৯ জুলাই ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে দুষ্কৃতকারীদের আগুনে পুড়ে যাওয়া বনানীর সেতুভবন ও মহাখালীর দুর্যোগ ভবন সোমবার দুপুরে পরিদর্শন করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী ১৪ দলের নেতারা। নিজেদের দেখা সেই ভয়াল ধ্বংসযজ্ঞও আলোচনায় স্থান পায়।

 

এদিকে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস নাশকতা, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, জনগণের জানমাল রক্ষার লক্ষ্যে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনমনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ১৪ দলের নেতারা। পরিপূর্ণ স্বস্তি আনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর অগ্রণী ভ‚মিকা রাখার জন্য তাদের প্রতিও নেতারা ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, নেতারা মনে করে বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রদল-শিবির এবং তাদের দোসর উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র করছে। অতি সম্প্রতি চোরাগোপ্তা হামলা করে এবং গুলিবর্ষণ করে সরকারের ওপর দায় চাপাতে তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ মানুষ হত্যা করে লাশ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রেখেছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যে প্রক্রিয়ায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। জাতীয় স্বার্থ দেশবিরোধী এ অপশক্তিকে নির্মূল করা প্রয়োজন।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ১৪ দলের এ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীর অপশক্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, ১৪ দল মনে করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, তাদের শিক্ষাজীবনের সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

নেতারা মনে করেন কোনো শিক্ষার্থী এবং নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টিকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।বিএনপি-জামায়াত নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতীয় স্বার্থে দেশবিরোধী অপশক্তি নির্মূল করার জন্য ১৪ দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হলে তারা আর সংবাদ সম্মেলন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারবে না।




নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না: কাদের

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলন। বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বিবৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তদন্তের বাইরে থাকবে না। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণকে মির্জা ফখরুল ইসলাম গণ-গ্রেফতার হিসেবে অভিহিত করে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এখানে কোনো গণ-গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের দায় এড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রবঞ্চনামূলক অপকৌশল গ্রহণ করছেন। বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডাররা সশস্ত্র হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নজিরবিহীন এবং তা জনসাধারণের মনে দগদগে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বিএনপি-জামায়াত ও তার দোসররা কোনো ভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালানোর গভীর চক্রান্ত নিয়ে মাঠে নেমেছিল।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম নিয়ে এই হত্যাযজ্ঞ এবং ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলা করা হয়েছে। সরকার কোনোভাবেই চায়নি কারও প্রাণহানি ঘটুক। বিপরীত দিকে বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রদল-শিবিরের টার্গেটই ছিল লাশের রাজনীতি। এদের সশস্ত্র ক্যাডারদের মোকাবিলার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নিরস্ত্র নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াতের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের মিশনে সারাদেশ থেকে ঢাকায় এসে জড়ো হয়েছিল। এই সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ টেলিভিশন-বিটিভি ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, বিআরটিএ ভবন, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবন, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, থানা ও পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং লুটপাট করেছে। হত্যা-গুপ্তহত্যা ও নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে তারা আবার ছড়িয়ে পড়েছে। এই সব সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিচারবিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত চলমান রয়েছে। সংঘটিত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তদন্তের বাইরে থাকবে না। এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণকে মির্জা ফখরুল ইসলাম গণ-গ্রেপ্তার হিসেবে অভিহিত করে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে কোনো গণ-গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। নিরপরাধী কেউ কোনো প্রকার হয়রানির শিকার হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আইনের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু প্রয়োগ করবো। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান হলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধবিরোধী এবং দেশবিরোধী অপশক্তির ঐক্য! উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের ঐক্য! জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি আবার প্রমাণ করল জামায়াত-বিএনপির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই বিএনপির দোসর। এই ঐক্যের ডাক এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে এদের প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছি।




বরিশাল আ.লীগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে বরিশালের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও থামেনি আন্দোলন। বিভিন্ন স্থানে দাঁড়াতেই পারেনি আওয়ামী লীগ।

এমনকি বিএনপি প্রকাশ্যে মাঠে এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সংঘর্ষে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামলার শিকার হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মহানগরীতে দলের এ ব্যর্থতা ভালো চোখে দেখছে না কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সারা দেশের মতো বরিশালেও তাই নগর আওয়ামী লীগের পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশ যখন উত্তাল, তখন বরিশালও ছিল আন্দোলনকারীদের দখলে। বিশেষ করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বিএম কলেজ ছিল আন্দোলনকারীদের দখলে। ওই সময় নগর আওয়ামী লীগ কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাদের অস্তিত্ব মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে কারণে মার খেতে হয়েছে ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে রাজপথেও।

শেষ মুহূর্তে ১৯ জুলাই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বে সিঅ্যান্ডবি রোডে বিএনপির মিছিল মোকাবিলা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাদিক নিজেই। দলের সাধারণ সম্পাদক হামলার শিকার হওয়ায় নগর আওয়ামী লীগের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। পরে সাদিক অনুসারী নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সরোয়ার রাজিব বাদী হয়ে বিএনপির নামধারী ২৮ জনসহ ৮০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল এক নেতা বলেছেন, বরিশালে আওয়ামী লীগের চরম ব্যর্থতা আছে। তাঁরা শুরু থেকে যেমন তৎপর ছিলেন না, তেমনি প্রতিরোধও করেননি। কেন্দ্র থেকে কথা বলার পর ১৭ জুলাই রাতে এক শ্রমিক লীগ নেতা লাইভে গালাগালি করেছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের এক সদস্যের ভূমিকা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। তা ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগ যেভাবে মহড়া দিয়েছে, তা সাংগঠনিক পর্যায়ে পড়ে না। কারণ এখানকার আওয়ামী লীগের অনেকেই সাংগঠনিক নন। দল এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক হারুন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এই ব্যর্থতা নগর আওয়ামী লীগের নেতাদেরই বহন করতে হবে। তাঁরা সাংগঠনিকভাবে আন্দোলন মোকাবিলা করতে পারেননি। ওবায়দুল কাদের মেয়র খোকনকেও ফোন দিয়েছিলেন; কিন্তু বিগত সময়ে মেয়রই থাকতেন নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। আমরা মনে করি, এই ব্যর্থতার দায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ নগর কমিটি ভেঙে দিয়ে সিটি মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের নেতৃত্বে সাংগঠনিক অবস্থা দৃঢ় করা দরকার।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে বরিশাল নগরের অনেক জায়গায় ওই আন্দোলন প্রতিরোধ করা যায়নি। মহানগর আওয়ামী লীগ মেয়াদ উত্তীর্ণ। এখন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে নগরের নেতৃত্ব গঠন দরকার। তাতে বরিশাল আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, ছাত্র আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের নগরীতে সৃষ্ট ঘটনা মোকাবিলার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা না থাকায় প্রথমে মহানগর আওয়ামী লীগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। পরে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাই ফোনে নির্দেশ দিলে সাদিক মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এরপর উচিত ছিল সব নেতাকে একসঙ্গে বসা। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে বসে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। কারণ বিপদ সামনে আরও আসতে পারে।




তান্ডবের সময় রাজপথে না থাকা দায়িত্বশীল নেতাদের কমিটি বিলুপ্তের দাবি

বরিশাল অফিস :: কোটা সংস্কারের নামে দেশব্যাপী বিএনপি ও জামায়াতের নাশকতায় জেলার গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এক যুবদল নেতা ঢাকায় এবং আরেকজন নারায়ণগঞ্জে নিহতের পর রাজপথে সরব হওয়ার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলো বিএনপির নেতাকর্মীরা। অথচ সন্ত্রাসীদের প্রতিহতের জন্য সরকারের পক্ষে জেলার প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পুরোপুরি নিস্কিয়। এমনকি ওইসব কমিটির নেতৃবৃন্দের অনুসারীদেরও রাজপথে দেখা মেলেনি।

শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিরব ভূমিকায় সরকার দলীয় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে আরো কোন কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম আসলে এসব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা কেমন ভূমিকা পালন করবেন তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাই উপজেলার সকল স্তরের কমিটি বিলুপ্তের দাবি উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোটা বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বর্তমান নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া এবং নবনির্বাচিত পৌর মেয়র আলহাজ¦ মোঃ আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার
নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা রাজপথে সরব ছিলেন। সকল প্রকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে নবনির্বাচিত ওই দুই জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন হাওলাদার ও পৌর প্যানেল মেয়র ইখতিয়ার হাওলাদার তাদের অনুসারিদের নিয়ে রাজপথে সরব থেকে শান্তি মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

সেখানে পুরোপুরি নিস্কিয় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

সূত্রমতে, সদ্য সমাপ্ত গৌরনদী পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদীন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান। উভয়নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছেন ওই দুই পরাজিত প্রার্থী ও তাদের কতিপয় সমর্থকরা।

এরইমধ্যে কারফিউ জারির আগ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই গৌরনদী বন্দরস্থ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদকের ব্যক্তিগত অফিসে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের অনুসারিরা প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সরব উপস্থিতি ছিলেন। কিন্তু দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচিতে যখন রাজনৈতিক কালো থাবা ভর করে, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পদ-পদবী দখল করে রাখা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর

মেয়রের নেতৃত্বে তাদের অনুসারি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার জন্য সরব ছিলেন।

বরিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মোঃ আল-আমিন হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় পদ-পদবী দখল করে রাখা শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দেশের ক্লান্তি লগ্নে একটিবারের জন্যও রাজপথে পাওয়া যায়নি। তারা তাদের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিজদলের নেতৃবৃন্দকে শায়েস্তা করাসহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোর
ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত ছিলেন। যেকারণে ওইসব বির্তকিত নেতৃবৃন্দকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও
সমর্থকরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন। তিনি আরও বলেন, অনতিবিলম্বে ওই বির্তকিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে রাজপথে সরব থাকা নেতৃবৃন্দদের নিয়ে কমিটি গঠণ করার জন্য সর্বস্তরে জোর দাবি উঠেছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মল্লিক খোকন বলেন, দেশের ক্লান্তি লগ্নে দায়িত্বপ্রাপ্ত
যেসব নেতৃবৃন্দ রাজপথে অনুপস্থিত ছিলেন তাদের দলীয় শীর্ষ পদ আটকে রাখার কোন এখতিয়ার নেই। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি মরহুম মোঃ ইদ্রিস মিয়ার সন্তান মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, যারা বিরোধী দল করেনি তাদের দিয়ে দলের দুর্দীনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ সঠিক নেতৃত্ব আশা করা যায়না। বর্তমান সরকারের টানা মেয়াদে গৌরনদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের একতরফা ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দলের দুর্দীনের নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছ থেকেও দুর্দীনের নেতাকর্মীদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, যে লোক (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক) কোনদিনও বিরোধী দল করেননি সে কিভাবে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিবেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলনে যা স্পস্ট হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক :/




ঐক্যবদ্ধ আ.লীগকে কেউ হারাতে পারে না: নাছিম

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম বলেছেন, তৃণমূলের কর্মীরাই আওয়ামী লীগের শক্তি। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূলের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকলে আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারে না।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকা ৮ আসনের অন্তর্গত পাঁচটি থানা ও নয়টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলার জনমানুষের দল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব শ্রেণি, পেশা, ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগ করে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের শক্তি। দেশের যেকোনো দুর্দিনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থাকে। সাম্প্রতিক বিএনপি জামাত জঙ্গিবাদী শক্তির নৈরাজ্যের সময়ও তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থেকে জানমালের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চটা করেছে। নেতৃত্বের দ্বিধাগ্রস্ততা বা দ্বন্দ্বের কারণে কোথাও কোথাও তারা প্রয়োজনমতো দাড়াতে পারেনি তবে সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে থেকে নৈরাজ্য রুখে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সবাইকে দল ও দেশের প্রয়োজনে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সভায় ঢাকা ৮ আসনের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন নাছিম সাম্প্রতিক বিএনপি জামাত জঙ্গিবাদী শক্তির নৈরাজ্যের সময় ঢাকা ৮ আসেনর অন্তর্গত থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, সবাই মাঠে ছিল বলেই মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ এলাকায় এবার নৈরাজ্যবাদী শক্তি নৈরাজ্য করতে পারেনি। এজন্য ঢাকা ৮ আসেনর অন্তর্গত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, বিএনপি জামাত জঙ্গিবাদী শক্তি এখনো ঘাপটি মেরে আছে। সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। তাদের নৈরাজ্য করার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। তারেক রহমান লন্ডনে বসে নতুন নতুন চক্রান্ত করছে। জনগণ কষ্ট পেলে তারেক রহমান আশার আলো দেখে। দেশ অস্থিতিশীল হলে তারেক রহমান অবৈধ পথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। দেশ ও জনগণ ভালো থাকলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভালো থাকেন। তাই আওয়ামী লীগের সবাইকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব নৈরাজ্য রুখে দিতে হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, শহীদ সেরনিয়াবাত, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কামাল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, মিরাজ হোসেন, দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ডু, নয়টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




‘ছাত্রনেতাদের মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্ট আছে কিনা খোঁজ নিতে হবে’

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যদি একটু ধৈর্য ধরা হতো তাহলে ছাত্র আন্দোলনে বিএনপি জামায়াত দেশ বিরোধী অপশক্তির সুযোগ নিতে পারতো না। ছাত্রনেতাদের মধ্যে জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্ট আছে কিনা খোঁজ নেওয়া দরকার।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে ‘দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী সন্ত্রাস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে সাপ্তাহিক গণ বাংলা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি প্রকৃত কোনো ছাত্র এই ধরনের হামলা অগ্নি সংযোগের সঙ্গে জড়িত ছিল না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের নেতাকর্মী ও জামায়াত ইসলাম রাষ্ট্রের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। যারা পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, মেট্রোরেল, বিটিভিতে আগুন দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে। আমরা এটি করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, আজকে রাষ্ট্র আক্রান্ত। এই রাষ্ট্রের ওপরে হামলা তারেক রহমানের নির্দেশে হয়েছে। গতকাল তারা (বিএনপি নেতারা) স্বীকারোক্তি দিয়েছে, ছাত্র লীগ মারলে পাঁচ হাজার ও পুলিশ মারলে দশ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আমির খসরু নির্দেশ দিচ্ছেন তাদের তরুণ নেতাকর্মীদেরকে ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে পড়ার জন্য। তারেক রহমান নির্দেশ দিচ্ছেন, সেই অডিও ক্লিপ সরকারের কাছে আছে। অডিওতে তারেক রহমান বলছেন, ‘কারফিউ ভাঙো, আর নাহয় পদত্যাগ করো’। গত বছরে ২৮ অক্টোবর যারা ঢাকা শহরে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য করেছিল তাদেরকে বিএনপি বড় বড় পদ দিয়েছে। এবারও যারা মানুষ মারবে, পুলিশ মারবে তাদেরকে বিএনপি বড় বড় পদ দিবে। এটি কোনো রাজনৈতিক দল! এটি একটি দেশবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি বিএনপি-জামায়াত দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও তাদের সহায় সম্পত্তি আক্রান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস ও রাষ্ট্রের ওপরে আঘাত হানা হয়েছে। এ অঞ্চলে স্থাপিত প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিতে আঘাত হানা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ওপর এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, দেশে যখন ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণায়লের কর্মকর্তারা দুর্যোগ কবলিত মানুষের কাছে ছুটে যান। কিন্তু, এখন সেই মন্ত্রণালয়েও আগুন দিয়েছে। এটি রাষ্ট্রের ওপরে হামলা। যে সেতু ভবন পদ্মা, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ কাজ পরিচালনা করেছে সেই সেতুভবনকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডাটা সেন্টারে আগুন দেওয়া হয়েছে, যার কারণে বেশ কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে সাবমেরিন কেবলগুলোকে কেটে দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ঢাকাবাসীর গর্ব মেট্রোরেলে হামলা চালিয়েছে। ফুটওভার ব্রিজে আগুন দেওয়া হয়েছে। একহাজারের বেশি গাড়িকে আগুন দিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি বিদেশি রাষ্ট্রদূতদেরকে এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন ইটালিয়ান রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘এটা লজ্জাজনক’। বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সামাজিক মাধ্যমের আইডি হ্যাক করে উল্টাপাল্টা পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার কোটা পুনর্বহাল করেনি। ২০১৮ আমাদের সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। সে অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে আপিল করেছিল। হাইকোর্ট ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপনকে বাতিল করে রায় দেয়। এটি হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। সরকার সাথে সাথে আপিল বিভাগে গেলে হাইকোর্টের রায়কে স্থগিত করে দেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বহাল হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, যেটি আমাদের সংবিধান ও আইন মতে যদি কোনো বিষয় সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকে সরকারের পক্ষে নির্বাহী ক্ষমতায় কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে সেটি আমরা বারবার বলেছি।

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেছেন,‘শিক্ষার্থীরা হতাশ হবেন না’। কিন্তু দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আধা ঘণ্টা পরেই শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু, পরে উচ্চ আদালতের রায়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যা চেয়েছিল; তার চেয়ে বেশি পেয়েছে। রায়ে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা রাখা হলেও বাস্তবে তারা এক-দুই শতাংশের বেশি পাবে না। তাহলে বাকিটাও মেধাতে যাবে। কোটা থাকলেও সবাইকে মেধার ভিত্তিতে পরীক্ষার শেষ ধাপে যেতে হয়। শেষ ধাপে যেতে পারে মাত্র দুই শতাংশ শিক্ষার্থী। তারপরেই তাদের ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগ হয়। কিন্তু কোটার বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বোঝানো হয়েছে। কিন্তু, এরপরেও পত্র-পত্রিকায় নানা ধরনের বিবৃতি ও আহবান দেখি।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী এই নির্মমতার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। অনেক সাধারণ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীও যে ঘটনার স্বীকার হয়নি তা নয়। সমস্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচার আওতায় আনা হবে- এই প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনা দেশের জনগণকে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিমের সভাপতিতে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মো.মহিববুর রহমান,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক,জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।