আজ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়ে ইসির বৈঠক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষন।

এই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তফসিলের আগে। আর কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তফসিল ঘোষণার পরে। তফসিল ঘোষণার আগে যেসব প্রস্তুতি দরকার, সেগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ইসি।

সাধারণত তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এটি একধরনের রেওয়াজ। এরপরই তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আজকের বৈঠকে তফসিল ঘোষণার তারিখ ঠিক করা হতে পারে।

এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। দুটি ভোট একসঙ্গে করতে ভোটকেন্দ্র ও সময় ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ বাড়ানো, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নয়টি বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আইন ও রীতির আলোকে তফসিল পূর্ব ও তফসিল–উত্তর কার্যক্রম, গণভোট আয়োজনসসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা এবং ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থানা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি।

ইসি সূত্র জানায়, তফসিলের আগে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোর মধ্যে আছে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইনবিধি সংস্কার, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ইত্যাদি। এ কাজগুলো ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নপত্র মুদ্রণ এবং নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতের কাজও শেষ পর্যায়ে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, এটি ভোটের আগপর্যন্ত চলবে। নির্বাচন সামনে রেখে ৮২টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে নিবন্ধন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গতকাল ইসি সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.ecs.gov.bd) বিস্তারিত জানা যাবে।

ইসি আগামী নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করেছে। এটি ঠিক করা হয়েছিল শুধু সংসদ নির্বাচনের জন্য। কিন্তু এখন সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। একজন ভোটারকে দুটি করে ভোট দিতে হবে। এতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে। এ জন্য ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কি না, তা বুঝতে রাজধানীর একটি ভোটকেন্দ্রে ‘মক ভোটিং’ (ভোটের মহড়া) এর আয়োজন করেছিল ইসি। ওই ‘মক’ ভোটের প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনায় ইসি বলেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি করে গোপন কক্ষ (যেখানে গিয়ে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল দেন) স্থাপন করা হলে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা আর বাড়াতে হবে না ।




নির্বাচন তারিখ নিয়ে গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘিরে দেশজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও এসব তথ্যকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন বা ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে প্রকাশিত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলেই গণ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের মতো করে তারিখ ছড়িয়ে দেয়, তা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত নয়। এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত ধারণা, অনুমান বা দায়বদ্ধতা থেকে বলা হতে পারে; তাই সেগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করার সুযোগ নেই। সচিব আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদ মাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যাচাইবাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। আবার কোনো কোনো বিশ্লেষক ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। এসব নিয়ে আলোচনা তীব্র হলেও নির্বাচন কমিশন জানায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যকে গ্রহণযোগ্য ধরা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করেন, গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্য বিশ্বাস না করতে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

নাগরিকদের কাছে নির্বাচন কমিশনের বার্তা—তফসিল বা ভোটের তারিখ সম্পর্কে যে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই জানা যাবে। এর বাইরে ছড়ানো যেকোনো তথ্যকে গুজব বা অনুমান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে কারা হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে এখন পর্যন্ত দুটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। এই দুটি আসন হলো বন্দর-পতেঙ্গা ও চন্দনাইশ

২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনটি গঠিত হয়েছে। এর আগে এলাকাটি অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে ব্যবসায়ীদেরও। কারণ, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলাকাটিতে অবস্থিত।

ফাঁকা এই দুই আসনে কারা প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলাপ-আলোচনা।

চট্টগ্রাম১১ (বন্দরপতেঙ্গা)

বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করলেও এই আসনে জনসংযোগ করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির আন্তর্জাতিক–বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘এক পরিবার থেকে এক প্রার্থী’ ঘোষণা দেওয়ায় ইসরাফিল খসরুর ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জুটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পরপর চারবার এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাবার গোছানো আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাই প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ইসরাফিল খসরু। জানতে চাইলে ইসরাফিল খসরু প্রথম আলোকে বলেন, ‘১২ বছর ধরে এলাকায় কাজ করছি। বাকিটা দলের নীতিনির্ধারকদের বিষয়।’

চট্টগ্রাম১৪ (চন্দনাইশ সাতকানিয়া আংশিক)

এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা সবাই এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, আসনটি দলের কাউকে দেওয়া হোক। কিন্তু জোটের জন্য দলের নীতিনির্ধারকেরা আসনটি ফাঁকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট হলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি এলডিপির জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অথবা তাঁর ছেলে ওমর ফারুক নির্বাচন করবেন। ওমর ফারুক এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলডিপির সঙ্গে বিএনপির কথাবার্তা চলছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, দেখা যাক।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাবা (অলি আহমদ) আর নির্বাচন করবেন না ঠিক করেছেন, তবে এলাকার লোকজন চাইছেন তিনি নির্বাচন করুক। এ অবস্থায় কী হয়, সেটি এখনো ঠিক বলা যাচ্ছে না।’

দুটি আসন ফাঁকা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান বলেন, ‘জোটের কারণে দলের নীতিনির্ধারকেরা একটু সময় নিচ্ছেন।’

 




পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদারকে মনোনয়ন দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দলীয় মনোনয়ন তালিকায় তার নাম চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তবে কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত শহিদুল আলম তালুকদারকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন ঘোষণার পর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকে ফুল নিয়ে তার বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে তৃণমূল BNP নতুনভাবে উজ্জীবিত হবে।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শহিদুল আলম তালুকদার বলেন,
“দল আমাকে যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে তা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবো। বাউফলের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


আল-আমিন



জয়–পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ রাখাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সকালে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করা, বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সংকটে ফেলে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করে তিনি ফরমাল চার্জ গ্রহণের আবেদন জানান।

প্রসিকিউশন জানায়, চব্বিশের জুলাই–আগস্টে তীব্র আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু তথ্যপ্রবাহ থামিয়েই দেয়নি, বরং সেই সময় সংঘটিত সহিংসতা, নিখোঁজ, আহত এবং হতাহতের ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধকে উসকে দিয়েছে। তাদের দাবি—এই সিদ্ধান্তে নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি দায়ী, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

আদালত প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথি, সাক্ষ্য এবং প্রাথমিক প্রমাণাদি মূল্যায়ন শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এ সময় বিচারপতির বেঞ্চ উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের জন্য শুনানি অপরিহার্য।

অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এ মামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নজিরবহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে পরিণত হয়—এ মামলার মাধ্যমে তারও স্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিদেশে অবস্থানের কারণে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল সাপোর্ট সিস্টেমে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মামলার পরবর্তী শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের বিস্তারিত যুক্তি শুনবেন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এ মামলা দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের চোখে অন্যতম আলোচিত আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় ছাত্রদল ছাড়লেন শিপলু, যোগ দিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদে

পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান শিপলু। দীর্ঘদিন ধরে রতনদি তালতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিপলু হঠাৎ করেই সংগঠনটির পদ থেকে পদত্যাগ করে ছাত্র অধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি।

তার ঘোষণায় উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি ছাত্রদলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি এবং নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আস্থার জায়গা থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদে যোগ দিচ্ছি।’ তার এই বার্তা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ শিপলুর যোগদান নিশ্চিত করে বলেন, শিপলু দীর্ঘদিন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তিনি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক অবস্থানকে সম্মান করেন এবং তার বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেই নতুন সংগঠনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, শিপলু তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্র অধিকার পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম রুবেল দুর্জয় ও সদস্যসচিব সাব্বির আহম্মেদ প্রিতম স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে শিপলুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সংগঠনের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিপলু জানান, নুরুল হক নুরের আন্দোলনমুখী রাজনীতি তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে নুর সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “এটা কোনো চাপ বা মতবিরোধের ফল নয়। আমি আমার আদর্শিক অবস্থান থেকেই নতুন প্ল্যাটফর্মে এসেছি। বিশ্বাস করি, এখান থেকেই তরুণ সমাজের জন্য কাজ করতে পারবো।”

এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম রুবেল দুর্জয় বলেন, শিপলু আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কিনা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তার মন্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক প্রভাবও শিপলুর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তার বড় ভাই গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শিপলুর এই সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে, কেউ দেখছেন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে একথা নিশ্চিত যে, গলাচিপার স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে এ ঘটনাটি এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় মহিলা দলের সম্মেলন জমজমাট

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুয়াকাটা পৌর শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন–২০২৫ প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কুয়াকাটার হোটেল গ্রেভার ইন-এর মিলনায়তনে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সম্মেলনে যোগ দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং দলীয় নারীনেত্রীদের ভূমিকা–এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। তিনি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ, দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি মহিলা দলের নেত্রীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা সীমা সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দলের নারী কর্মীদের মাঠে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা, যিনি সংগঠনের তৃণমূল শক্তিকে আরও गतিশীল করার দিকনির্দেশনা দেন।

কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি মোসা. হামিদা সাবেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোসা. সাবিনা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার। তারা মহিলা দলের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত আন্দোলনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন ঘরামী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী হায়দার শেখ, সদস্য সচিব রাসেল শেখ, শ্রমিক দলের সভাপতি মানিক ফকির, কৃষক দলের আহ্বায়ক আলী হোসেন খন্দকার, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ ও সদস্য সচিব নেছার উদ্দিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, নতুন কমিটির মাধ্যমে কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং তৃণমূলে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী করতে এ সম্মেলন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নেতারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস নিয়ে নতুন আলোচনায় তোলপাড়

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে নতুন করে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনও ট্রাভেল পাসের জন্য কোনো আবেদন করেননি। অথচ প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিলেই সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সম্ভব। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—আবেদন এলে শুধু স্বাক্ষর ও সিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেই পাস প্রদান করা যাবে।

হাইকমিশন সূত্রের দাবি, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ দুজন বিএনপি নেতা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছেন—ট্রাভেল পাস পেতে কত সময় লাগবে। তাদের জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ফরমে আবেদন, একটি ছবি, পুরাতন পাসপোর্টের কপি অথবা জাতীয়তার প্রমাণপত্র পাঠালেই প্রসেস সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাইকমিশনে যেতে হবে না। ই-মেইল বা ডাকযোগে আবেদন পাঠালেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সাধারণ কোনো বিষয় নয়; বরং এটি নিশ্চিত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দ্রুত দেওয়া যায়। তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকায় তার ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “এটা শুধু স্বাক্ষর আর সিলের কাজ—চাইলেই একদিনে দেওয়া যায়।”

এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তার চিকিৎসায় সহায়তা করতে লন্ডন থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাংলাদেশে আসছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির একটি সূত্র। দুপুরে হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান—আজই যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞরা খালেদা জিয়াকে দেখতে আসবেন। তাকে বিদেশে নেওয়া হবে কিনা, তা মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। রোগী ‘ট্রান্সফারেবল’ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিকিৎসা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহিদ। যদিও এখনই তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খালেদা জিয়া বর্তমানে ‘স্পেশাল কেয়ার’-এ নিবিড় চিকিৎসা পাচ্ছেন।

২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি সেখানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন—সরকার চাইলে ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট ইস্যু করতে কোনো জটিলতা নেই, সবই সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন—তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, সংকটকালে মায়ের কাছে যেতে চাইলেও তার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা আরও জোরালো হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরা—এই দুটি বিষয় এখন দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এভারকেয়ারে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিলেন জামায়াত আমির

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার দুপুরে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে সরাসরি সাক্ষাৎ করা নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও—অবশেষে মনকে আর আটকে রাখতে না পেরে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান জানান, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তিনি বলেন, এর আগে নানা সময়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক জটিল। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তিনি জানান, একজন মানুষ মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্ত গিয়েও ফিরে আসতে পারে—আবার সুস্থ থাকলেও আল্লাহ চাইলে নিয়ে যেতে পারেন। তাই সংকটময় অবস্থার মধ্যেও তিনি বেগম জিয়ার সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির বলেন, বেগম জিয়ার পরিবার কঠিন সময় পার করছেন। তাদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। দেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও মানবিক কারণে তিনি এভারকেয়ারে ছুটে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দিনের শুরুতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের সর্বশেষ পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া এখনই সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তিনি তা নিতে সক্ষম হলেও বিদেশ যাত্রার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন কি না—এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার শারীরিক মূল্যায়ন করবেন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য নির্ধারিত মুখপাত্রদের বক্তব্য অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, হাসপাতালের নিরাপত্তাও আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় সীমিত করা হয়েছে যাতে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বহাল রয়েছে। দিনভর হাসপাতালে নেতাকর্মী, সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সমাবেশ লক্ষ করা যায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, দলে ফিরলেন পটুয়াখালীর ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম পুনরায় দলে ফিরেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তার ওপর দেয়া পূর্বের বহিষ্কারাদেশ সোমবার সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের কারণে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর তার ওপর দেওয়া বহিষ্কারের শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে আবারও বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় অভিন্ন অবস্থান এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল মনে করে, আগামীর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ নেতাদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই ধারাবাহিকতায় অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালামের পুনর্বহাল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতার এই নেতা মাঠে ফেরায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন, তার আগের বিতর্কগুলো সামনে এসে আবারও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। সব মিলিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, পুনর্বহালের পর ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম