গলাচিপায় ছাত্রদল ছাড়লেন শিপলু, যোগ দিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদে

পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মো. হাবিবুর রহমান শিপলু। দীর্ঘদিন ধরে রতনদি তালতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিপলু হঠাৎ করেই সংগঠনটির পদ থেকে পদত্যাগ করে ছাত্র অধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান তিনি।

তার ঘোষণায় উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তিনি ছাত্রদলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি এবং নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আস্থার জায়গা থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদে যোগ দিচ্ছি।’ তার এই বার্তা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আরিফ বিল্লাহ শিপলুর যোগদান নিশ্চিত করে বলেন, শিপলু দীর্ঘদিন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তিনি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক অবস্থানকে সম্মান করেন এবং তার বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করেই নতুন সংগঠনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, শিপলু তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্র অধিকার পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম রুবেল দুর্জয় ও সদস্যসচিব সাব্বির আহম্মেদ প্রিতম স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে শিপলুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সংগঠনের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিপলু জানান, নুরুল হক নুরের আন্দোলনমুখী রাজনীতি তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি মনে করেন, দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে নুর সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, “এটা কোনো চাপ বা মতবিরোধের ফল নয়। আমি আমার আদর্শিক অবস্থান থেকেই নতুন প্ল্যাটফর্মে এসেছি। বিশ্বাস করি, এখান থেকেই তরুণ সমাজের জন্য কাজ করতে পারবো।”

এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এম রুবেল দুর্জয় বলেন, শিপলু আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন কিনা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তার মন্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক প্রভাবও শিপলুর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তার বড় ভাই গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শিপলুর এই সিদ্ধান্তকে কেউ দেখছেন আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে, কেউ দেখছেন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে একথা নিশ্চিত যে, গলাচিপার স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে এ ঘটনাটি এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় মহিলা দলের সম্মেলন জমজমাট

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুয়াকাটা পৌর শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন–২০২৫ প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কুয়াকাটার হোটেল গ্রেভার ইন-এর মিলনায়তনে আয়োজিত এ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সম্মেলনে যোগ দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং দলীয় নারীনেত্রীদের ভূমিকা–এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। তিনি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ, দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা এবং আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি মহিলা দলের নেত্রীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা সীমা সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি দলের নারী কর্মীদের মাঠে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা, যিনি সংগঠনের তৃণমূল শক্তিকে আরও गतিশীল করার দিকনির্দেশনা দেন।

কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি মোসা. হামিদা সাবেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোসা. সাবিনা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার এবং কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার। তারা মহিলা দলের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত আন্দোলনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীরা দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন ঘরামী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী হায়দার শেখ, সদস্য সচিব রাসেল শেখ, শ্রমিক দলের সভাপতি মানিক ফকির, কৃষক দলের আহ্বায়ক আলী হোসেন খন্দকার, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়ের আহম্মেদ রিয়াজ ও সদস্য সচিব নেছার উদ্দিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, নতুন কমিটির মাধ্যমে কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং তৃণমূলে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর ভূমিকা শক্তিশালী করতে এ সম্মেলন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নেতারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস নিয়ে নতুন আলোচনায় তোলপাড়

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে নতুন করে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনও ট্রাভেল পাসের জন্য কোনো আবেদন করেননি। অথচ প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিলেই সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সম্ভব। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—আবেদন এলে শুধু স্বাক্ষর ও সিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেই পাস প্রদান করা যাবে।

হাইকমিশন সূত্রের দাবি, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ দুজন বিএনপি নেতা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছেন—ট্রাভেল পাস পেতে কত সময় লাগবে। তাদের জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ফরমে আবেদন, একটি ছবি, পুরাতন পাসপোর্টের কপি অথবা জাতীয়তার প্রমাণপত্র পাঠালেই প্রসেস সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাইকমিশনে যেতে হবে না। ই-মেইল বা ডাকযোগে আবেদন পাঠালেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সাধারণ কোনো বিষয় নয়; বরং এটি নিশ্চিত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দ্রুত দেওয়া যায়। তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকায় তার ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “এটা শুধু স্বাক্ষর আর সিলের কাজ—চাইলেই একদিনে দেওয়া যায়।”

এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিস্থিতিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তার চিকিৎসায় সহায়তা করতে লন্ডন থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাংলাদেশে আসছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির একটি সূত্র। দুপুরে হাসপাতালের সামনে ব্রিফিংয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান—আজই যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞরা খালেদা জিয়াকে দেখতে আসবেন। তাকে বিদেশে নেওয়া হবে কিনা, তা মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে। রোগী ‘ট্রান্সফারেবল’ হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চিকিৎসা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. জাহিদ। যদিও এখনই তাকে বিদেশে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। খালেদা জিয়া বর্তমানে ‘স্পেশাল কেয়ার’-এ নিবিড় চিকিৎসা পাচ্ছেন।

২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি সেখানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন—সরকার চাইলে ট্রাভেল পাস বা পাসপোর্ট ইস্যু করতে কোনো জটিলতা নেই, সবই সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন—তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে এক দিনের মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, সংকটকালে মায়ের কাছে যেতে চাইলেও তার সিদ্ধান্ত এককভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা আরও জোরালো হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য দেশে ফেরা—এই দুটি বিষয় এখন দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এভারকেয়ারে খালেদা জিয়ার খোঁজ নিলেন জামায়াত আমির

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে মঙ্গলবার দুপুরে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে সরাসরি সাক্ষাৎ করা নিয়ে দ্বিধায় থাকলেও—অবশেষে মনকে আর আটকে রাখতে না পেরে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান জানান, খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তিনি বলেন, এর আগে নানা সময়ে তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেক জটিল। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তিনি জানান, একজন মানুষ মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্ত গিয়েও ফিরে আসতে পারে—আবার সুস্থ থাকলেও আল্লাহ চাইলে নিয়ে যেতে পারেন। তাই সংকটময় অবস্থার মধ্যেও তিনি বেগম জিয়ার সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জামায়াত আমির বলেন, বেগম জিয়ার পরিবার কঠিন সময় পার করছেন। তাদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। দেশে রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও মানবিক কারণে তিনি এভারকেয়ারে ছুটে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দিনের শুরুতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের সর্বশেষ পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া এখনই সম্ভব নয়। চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, তিনি তা নিতে সক্ষম হলেও বিদেশ যাত্রার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন কি না—এ বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার শারীরিক মূল্যায়ন করবেন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ ও অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য নির্ধারিত মুখপাত্রদের বক্তব্য অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

এদিকে, হাসপাতালের নিরাপত্তাও আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় ভিড় সীমিত করা হয়েছে যাতে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বহাল রয়েছে। দিনভর হাসপাতালে নেতাকর্মী, সহানুভূতিশীল ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সমাবেশ লক্ষ করা যায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, দলে ফিরলেন পটুয়াখালীর ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম পুনরায় দলে ফিরেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তার ওপর দেয়া পূর্বের বহিষ্কারাদেশ সোমবার সন্ধ্যায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগের কারণে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর তার ওপর দেওয়া বহিষ্কারের শাস্তি প্রত্যাহার করে তাকে আবারও বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় অভিন্ন অবস্থান এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল মনে করে, আগামীর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞ নেতাদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই ধারাবাহিকতায় অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালামের পুনর্বহাল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতার এই নেতা মাঠে ফেরায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন, তার আগের বিতর্কগুলো সামনে এসে আবারও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। সব মিলিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্যমতে, পুনর্বহালের পর ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং জেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে খালেদা জিয়া—কোন সুবিধা মিলছে এখন

গুরুতর শারীরিক জটিলতায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সোমবার রাতেই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১’-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যে কাউকে ভিভিআইপি মর্যাদা দিতে পারে। সেই আইনের অধিকারেই খালেদা জিয়াকে বিশেষ গুরুত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ মর্যাদা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসএফের হাতে ন্যস্ত হয়।

ভিভিআইপি হলে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়

এই আইনে এসএসএফের দায়িত্ব হলো—

  • ভিভিআইপি ব্যক্তির নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনা করা।
  • সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি বা ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • প্রয়োজনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই আটক করার ক্ষমতা।
  • জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণনাশী আক্রমণ প্রতিহত করতে অস্ত্র ব্যবহারেরও আইনি অনুমোদন রয়েছে।
    এসএসএফ আইন দেশের যে কোনো স্থানে সমানভাবে কার্যকর।

কে কে সাধারণত ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হন

দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা সমমর্যাদার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ মর্যাদা পান। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় প্রজ্ঞাপন দিয়ে অন্য কাউকেও এই তালিকায় যুক্ত করতে পারে—যেমনটি করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষেত্রে।

চিকিৎসাজনিত বর্তমান অবস্থা

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহুদিন ধরেই হৃৎপিণ্ড, লিভার ও কিডনির জটিলতা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
২১ নভেম্বর বাসায় ফেরার পর তার শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে গেলে দুই দিন পর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল অবস্থার সম্মুখীন।

সোমবার দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান জানান,
“খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আইসিইউ–ভেন্টিলেশন—যাই বলা হোক, পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তার জন্য জাতির কাছে দোয়া চাই।”

পূর্ব অভিজ্ঞতা

২০০৮ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার স্বল্প সময়ের জন্য খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকেও ভিভিআইপি নিরাপত্তার আওতায় এনেছিল।


মো: আল-আমিন



ক্ষমতায় গেলে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

দেশের নাগরিকসেবা উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না— সরকার নিজ দায়িত্বে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু জামায়াত শুধু আশ্বাস নয়— বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চায়। একই ভাষা, একই জাতি হিসেবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো, কিন্তু কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থান্ধ আচরণ ও ভুল সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র অগ্রসর হতে পারছে না। তাই মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে দেশের সম্ভাবনা আরও অনেক বড়।

শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত নয়, যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়বে, শিক্ষক তার দিকনির্দেশনা দেবেন— এমন শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাদের। তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট— প্রত্যেক শিশুকে সক্ষম নাগরিকে পরিণত করা। আগামী প্রজন্ম বোঝা নয়, দেশের সম্পদ হবে।”

আইন ও বিচার ব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ন্যায়বিচার পেতে সাধারণ মানুষকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় গেলে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারে যাওয়া না গেলেও জনগণের সেবায় কিছু কাজ আগে থেকেই করছে জামায়াত। তাদের পক্ষ থেকে দেশের ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রান্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও সংকট কাটেনি

পাঁচ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যেও শনিবার সকালে সামান্য স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক ডায়ালাইসিসের চাপে শরীর কিছুটা সাড়া দিতে শুরু করায় চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। এরপরও তাঁর সামগ্রিক অবস্থা এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে থাকা পুত্রবধূ শামিলা রহমানের সঙ্গে শনিবার সকালে তিনি কয়েকটি কথা বলেন। আগের তিন দিন তিনি প্রায় কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ কারণে তাঁর ফুসফুসও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে টানা ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়, যা প্রতিদিনই চলছে।

অতিরিক্ত পানি বের না হওয়ায় গত কয়েক দিনে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত আছে।

মেডিকেল বোর্ড নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে— খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লন্ডন ক্লিনিক অথবা সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের অভিমত, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো বিমানযাত্রার চাপ নেওয়ার মতো স্থিতিশীল নয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি— ভিসা, নথিপত্র, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স— সবই আগেই সম্পন্ন রাখা হয়েছে। কিন্তু শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই তাঁকে দেশে নাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিবের পাঠানো বার্তায় তিনি বলেন, “গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা। কেউ কেউ গণমোনাজাত করছেন, কেউবা সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছেন। এতে হাসপাতালের আশপাশে যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব অনুরোধ করে বলেন,
“দয়া করে হাসপাতালের সামনে ভিড় তৈরি করবেন না। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

শনিবার সকালেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারাও তাঁর সুস্থতা কামনা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন: তারেক রহমানের আবেগঘন বার্তা

১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল জানিয়েছে। তবে চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ফলে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

বেগম জিয়ার এ নাজুক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি মায়ের সংকটজনক স্বাস্থ্য অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা গভীর উদ্বিগ্ন অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন। তিনি বলেন—দেশনেত্রীর চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে আন্তরিকতা ও মানবিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা পুরো পরিবারকে আশ্বস্ত করেছে।

তারেক রহমান আরও লিখেন, ড. ইউনূস যে সৌজন্যবোধ, সহমর্মিতা এবং রাজনৈতিক ঊর্ধ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রদর্শন করছেন—তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সংকটের এই সময়ে তাঁর মানবিক অবস্থান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

এর আগে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর প্রতি তাঁর আশু সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে সরকার অত্যন্ত মনোযোগী। নিয়মিত স্বাস্থ্য আপডেট তিনি নিজেই যাচাই করছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা, ত্যাগ এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদান স্মরণ করে ড. ইউনূস আরও মন্তব্য করেন—জাতির জন্য তিনি অনুপ্রেরণা, আর তাঁর সুস্থতা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে দোয়া ও শুভকামনার ঢল।

এভারকেয়ার হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। তাঁর জটিল রোগসমূহের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে এবং বিশেষজ্ঞ দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি এক ধরনের অশনি সংকেত তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে রেখে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতার এ ধরনের সংকট রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে তাঁর সুস্থতা কামনায় দল, পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে গভীর প্রত্যাশা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তিনি বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলারের বৈধতা চেয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে খ্যাত। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘টেসলা নেত্রী’ হিসাবেই বেশি চিনে থাকেন।

২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন ডা. মনীষা। তবে বরিশালে তার আন্দোলনের মূল ক্ষেত্র ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের অধিকার রক্ষা। সে সময় অবৈধ এসব যানবাহনের বৈধকরণ নিয়ে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার অবস্থান মুখোমুখি ছিল। পরবর্তীতে তিনি থ্রি হুইলার চালকদের বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বরিশালের সমসাময়িক বিষয়েও সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন।

সংসদ-সদস্য প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আলাপকালে ডা. মনীষা বলেন, “আমি ও আমার পরিবার সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। নির্বাচিত হলে বরিশালের উন্নয়নের জন্য কাজ করব।”

বরিশাল সদর পাঁচ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামীর মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং এনসিপির লিপু প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়ন ও সিটি শহরের মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭৯ জন ভোটার এই আসনে ভোট দেবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বামধারার ভোটার ও টেসলা চালকদের সমর্থন ডা. মনীষার জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫