শপথ নিলেন দুই উপদেষ্টা ডা. বিধান চন্দ্র রায় ও সুপ্রদীপ চাকমা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শপথ নিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা ডা. বিধান চন্দ্র রায় ও সুপ্রদীপ চাকমা।

আজ দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

এসময় তিন বাহিনী প্রধানসহ উপদেষ্টাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




আরও ২ উপদেষ্টার শপথ দুপুরে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরও দুজন উপদেষ্টার শপথ রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দুপুর ১২টায় উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও বিধান রঞ্জন রায়কে শপথ পড়াবেন।

একই সঙ্গে নতুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদও রোববার দুপুরে শপথ নেবেন বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে

শনিবার বাংলাদেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

এদিকে উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম যুক্তরাষ্ট্র থেকে আজ রাতে দেশে পৌঁছাবেন। তিনি সোম বা মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।

গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপরই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা।

এরপর বৃহস্পতিবার শপথ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এছাড়া রয়েছেন ১৬ জন উপদেষ্টা। ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকায় তিনজন উপদেষ্টা সেদিন শপথ নেননি।

 




জয়-আরাফাতের আরেকটি ‘ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাঁস’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র চলছিল। কথা ছিল—হবে জুডিশিয়াল ক্যু। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। এই জুডিশিয়াল ক্যুয়ের পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে যান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা। তাদের দেওয়া তথ্য পেয়ে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ আগস্ট) এমন কথা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে পোস্টটি করেন সহসমন্বয়ক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ।

‘ষড়যন্ত্র ফাঁস’ শিরোনামে তিনি তার টাইমলাইনে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো—

সজীব ওয়াজেদ জয় এতদিন আপনাদের সঙ্গে ‘আমি নাই, মা নাই’ বলে বলে হঠাৎ শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন তার মা পদত্যাগ করেননি। এটি একটি পরিকল্পিত ঘোষণা ছিল যা বোঝা গেছে আজ।

সেনাবাহিনীর নিচের দিকের অফিসাররা যদি জনগণের পক্ষে না থাকত, তাহলে আজকে আরেকটা রক্তের বন্যা বয়ে যেত। আজকেও সেনাবাহিনীর ছোট অফিসাররা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে ছাত্র জনতাকে বাঁচিয়েছেন।

আজকে একটা ক্যুয়ের প্ল্যান করেছিল জয় এবং আরাফাত। কিন্তু সঠিক সময়ে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা ছাত্রদের কাছে তথ্য ফাঁস করে দেয়। এই তথ্য জানার পরে জুডিশিয়াল ক্যু রুখে দেয় ছাত্ররা।

জয় আরাফাত আর তাদের গাইডদের গোপন প্ল্যান ছিল এইরকম। ড. মোহাম্মদ ইউনুস যখন রংপুরে আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শন এবং কবর জিয়ারতের জন্য যাবেন এবং তারপর উনার হেলিকপ্টার যখন আকাশে থাকবে, ঠিক সেই সময়ে হাইকোর্টের অ্যাপিলিয়েড ডিভিশনের বিচারপতিরা ফুল কোর্ট বসিয়ে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করবেন।

সঙ্গে সঙ্গে এই ক্যুয়ের সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনীর ২৫ কর্মকর্তা, চাকরি থেকে কর্মবিরতিতে থাকা দুর্নীতিবাজ পুলিশের একটি দল রাজধানীতে হট্টগোল শুরু করবে আর শেখ হাসিনা ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসবেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা মাঠে চলে আসবেন।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বিচারপতি সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে হঠাৎ ৫৭ বিচারপতিকে জরুরি মিটিংয়ে ডাকেন। স্ক্রলে জরুরি মিটিং ডাকার সংবাদ দেখে দর্শকরাও কনফিউজড হন। কিন্তু আগে থেকে গোপন খবর পাওয়া ছাত্র জনতা সকাল ৯টার আগেই চতুর্দিক থেকে ছুটে এসে হাইকোর্ট ঘেরাও করে। সেনাবাহিনীর সমর্থনে প্রধান বিচারপতি পিছু হটতে বাধ্য হন এবং পালিয়ে থাকেন। মিটিং স্থগিত হয়। ছাত্ররা বিচারপতির বাসা ঘেরাও করে রাখে। সেনাবাহিনী শৃংখলা রক্ষার আবরণে সেখানে ছিল। পদত্যাগপত্র সরকারকে দেওয়া হয়েছে নিশ্চিত হয়ে ছাত্ররা হাইকোর্ট এবং বাসভবন ত্যাগ করে।




ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন : যেভাবে পালালো ৯০ মন্ত্রী-এমপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দেশ ছেড়ে পালানোর হিড়িক পড়েছে। কেউ দেশ ছাড়ছেন একা, কেউ আবার সপরিবারে।

সংবাদ মাধ্যম যুগান্তর আজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,  অনেকে ভয়ে দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপনে চলে গেছেন। শুধু মন্ত্রী-এমপি বা প্রভাবশালীই নয়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও ভয়ে আত্মগোপনে গেছেন।

এই তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় গত ১৪ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ২৭ দিনে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৯০ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও রাজনৈতিক নেতা। এছাড়া বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে অন্তত ১০ জন মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালীদের।

বিমানবন্দরে এসেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফিরে গেছেন কমপক্ষে ২৫ জন মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা। শাহজালাল বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সরকার পতনের একদিন পর থেকে ৬ আগস্ট শাহজালালসহ দেশের সবগুলো বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব ইমিগ্রেশন চেক পয়েন্ট একাধিক তালিকা পাঠানো হয়। এই তালিকায় হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা কমিটির নেতাদের নামও রয়েছে।

এছাড়া হাসিনা সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের এমপি, সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দলবাজ কর্মকর্তাদের নামও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। কিন্তু ওইদিন দেশ ছাড়েন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ইমিগ্রেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সোমবার দুপুরে। তার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা, আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রী।

রোববার রাতেই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে। তিনি সদ্য সাবেক সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রোববার সকালে বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন শেখ হাসিনার আত্মীয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

আন্দোলনের শুরু থেকেই নানা তৎপরতায় ব্যস্ত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার সকাল থেকে তাকে দেখা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তিনিও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির বাসভবন সোমবার ভাঙচুর করা হয়। তবে তিনি ঠিক কোথায় আছেন জানা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।

সোমবার সারাদিন রাজধানীর বনানীর বাসায় অবস্থান করলেও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এদিন রাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে দেশ ছাড়েন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু।

ওইদিন বেলা ২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক যান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল আরেফিন। একই বিমানে ব্যাংকক যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ মালেক।

পরের দিন ১৫ জুলাই রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। একই ফ্লাইটে আরও পালান দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, টাঙ্গাইল-৫ আসনের মো. সানোয়ার হোসাইন ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।

এদিন সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৯১ ফ্লাইটে কলকাতা পাড়ি জমান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৪ জুলাই ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সে দেশ ছাড়েন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু।

ওইদিন বেলা ২টায় থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ ফ্লাইটে ব্যাংকক যান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল আরেফিন। একই বিমানে ব্যাংকক যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান জাহিদ আহমেদ মালেক।

পরের দিন ১৫ জুলাই রাত ১২টা ১৭ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। একই ফ্লাইটে আরও পালান দিনাজপুর-৬ আসনের শিবলী সাদিক, টাঙ্গাইল-৫ আসনের মো. সানোয়ার হোসাইন ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল।

এদিন সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৯১ ফ্লাইটে কলকাতা পাড়ি জমান ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

এছাড়া ১৬ জুলাই বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে (ইকে-৫৮৩) দুবাই চলে যান সাবেক রেলমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি মুজিবুল হক। ওইদিন বেলা ১২টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বিজি-৩০৮ ফ্লাইটে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা।

বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে বিমানের বিজি-৩১৫ ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যান সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী। ওইদিন দুপুর আড়াইটায় দেশ ছাড়েন নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলম, ১৭ জুলাই রাত আড়াইটায় ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইন্সে (সিএক্স-৬৬২) হংকং যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফায়জুর রহমান।

একই তারিখ রাত ১১টা ৫০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে (সিজেড-৩৯১) চীনের গুয়াংজুর উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লা-৮ আসনের আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে (এসকিউ-৪৪৭) সিঙ্গাপুর পালান ময়মনসিংহ-৮ আসনের মাহমুদুল হাসান সুমন।

১৮ জুলাই সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৪ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে যান সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এএফএম রুহুল হক।

বিসিবির প্রেসিডেন্ট, ক্রীড়ামন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি নাজমুল হাসান পাপন গত ২০ জুলাই বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সে (ইএল-১৯০) দেশ ছাড়েন।

২১ আগস্ট রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেশ ছাড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এমপি সৈয়দ একেএম একরামুজ্জামন, ২২ আগস্ট বিজি ৫৮৪ যোগে সিঙ্গাপুর যান নোয়াখালী-২ আসনের এমপি মোরশেদ আলম, ২৫ জুলাই বেলা ১২টা ১০ মিনিটে ব্যাংককের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি এ এম তাহের। ওইদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ব্যাংককে যান ময়মনসিংহ-৭ আসনের এবিএম আনিসুজ্জামান। বিকাল ৬টা ১০ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে করে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সংরক্ষিত নারী আসনের নীলুফার আনজুম।

সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে করে কানাডা পালান অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খান। ২৬ জুলাই ভোর ৫টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সে (কিউআর-৬৪৩) গ্রিসে পালান কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ।

সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ২৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে ইকে-৫৮৭ ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। ৩ আগস্ট দেশ ছাড়েন ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

৪ আগস্ট এমিরেটাস এয়ারলাইন্স ইকে ৫৮৫ যোগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সাবেক এমপি নুর ই হাসনা চৌধুরী লিলির পরিবারের একজন সদস্য দুবাই যান। একইদিন সাবেক এমপি মোহাম্মদ হাবিব হাসানের মেয়ে বিজি ৫৮৪ যোগে দেশ ছাড়েন।

৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর স্ত্রী, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের মেয়ে ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ।

আলোচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী ২৮ জুলাই ২টায় এমিরেটাস এয়ারে (ইকে-৫৮৫) নেদারল্যান্ডসে যান। তিনি আবার ৩ আগস্ট ফেরত আসেন। ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের সময় তাকে আটক করা হয় বলে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায় ইউএস-বাংলার বিএস-৩০৭ ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর যান কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম।

২৯ জুলাই বেলা ১১টা ১০ মিনিটে এমিরেটাসে (ইকে-৫৮৩) তেহরান যান সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। ওইদিন বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে নভোএয়ারে কলকাতা যান যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদ। একইদিন বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে বিমানের বিজি-৩৩৭ ফ্লাইটে মদিনা যান বরগুনা-৫ আসনের মো. মজিবুর রহমান মজনু।

৩০ জুলাই ২টা ৪০ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে (এমএইচ-১৯৭) ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন পটুয়াখালী-৩ আসনের এসএম শাহাজাদা। ৩১ জুলাই বেলা ২টায় এমিরেটাস এয়ারলাইন্সে (ইকে-৫৮৫) নিউইয়র্ক যান ঢাকা-১৮ আসনের খসরু চৌধুরী।

এদিন দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৯৭ ফ্লাইটে দিল্লি পাড়ি দেন শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক। একইদিন রাত ১১টা ২০ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সে (সিএস-৩৯২) চীনের গুয়াংজু যান কুমিল্লা-৮ আসনের আবু জাফর মো. শফিউদ্দিন।

২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে টার্কিশ এয়ারের টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল যান ঝিনাইদহ-২ আসনের নাসের শাহরিয়ার জাহিদী। এদিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে (বিএস-৩০৭ ফ্লাইটে) সিঙ্গাপুর যান সংরক্ষিত মহিলা আসনের পারুল আক্তার।

একইদিনে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-৫৮৪) সিঙ্গাপুর যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। ৪ আগস্ট বেলা ১২টায় বাংলাদেশ বিমানে (বিজি-৩৯৭) ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক সচিব নেত্রকোনা-৪ আসনের সাজ্জাদুল হাসান।

৫ আগস্ট রাত ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারে (এসকিউ-৪৪৭) সিঙ্গাপুর গেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। একইদিন রাত ২টা ৩৫ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে (এমএইচ-১৯৭) মালয়েশিয়া যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এদের মধ্যে কয়েকজন দেশে ফিরে আসার কথা থাকলেও জানা গেছে সরকার পতনের পর তাদের অনেকে আর ফিরে আসেননি।

এছাড়া দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি-মন্ত্রীদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। কোনোভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, এদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশ ত্যাগ করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলেও জানা গেছে।

৬ আগস্ট বিকালে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক করা হয়।

দেশ ছেড়ে পালানোর পাশাপাশি আত্মগোপনে চলে গেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশির ভাগ প্রভাবশালী নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীরা। অনেকেই চেষ্টাও করছেন দেশ ত্যাগের। দলের সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও গা-ঢাকা দিয়েছেন। সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। হামলা-মামলার ভয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।

সর্বশেষ ৪ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশেই মাঠে ছিল আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দেশে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টাও করেছিলেন তারা। সোমবার সকাল থেকে পালটে যায় দৃশ্যপট। ক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দিন সকাল থেকে দলটির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান।

শুধু তাই নয়, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলার কার্যালয় ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও দলের কাউকে তা প্রতিরোধ করতে দেখা যায়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত শতাধিক মন্ত্রী, এমপি ও নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তারা ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। অনেকেই নিজে যেতে না পারলেও পাঠিয়ে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের।

সূত্রে জানা গেছে, এখনো দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-মন্ত্রী। চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা সপরিবারে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পালানোর জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েও ছাত্র-জনতার দৌড়ানি খেয়ে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় দফা কলকাতা যাওয়া চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে দলীয় প্রধান, দলের শীর্ষ নেতা এবং এমপি-মন্ত্রীদের দেশ ছাড়া ও আত্মগোপনের বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।




‘শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।বিশেষ করে শেখ হাসিনার সময়ের হত্যাকাণ্ডের জন্য।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) কেন বাংলাদেশ থেকে পালালেন তা জানতে আমি কিউরিয়াস। শেখ হাসিনার সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, আমরা সেসবের বিচার চাইব। এটা আমাদের অন্যতম দাবি। যদি তিনি ফিরে না আসেন, তাহলে আমরা সে ব্যাপারে কাজ করব।’

অন্তর্বর্তী সরকারে অংশ নেওয়া নাহিদ বলেন, ‘আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে চাই। তার বিচারের ইস্যুতে আলোচনা চলছে। ’

নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রধিকার হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। কারণ আগের নির্বাচন বিরোধীদলগুলো বয়কট করেছিল। তাছাড়া আগের সরকারের দুর্নীতির বিচারের কথাও বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ছাত্রজনতার বিক্ষোভের মুখে গত সোমবার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। সেখান থেকে তার লন্ডনে যাওয়ার কথা থাকলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।




অতীত ভুলে বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চান জয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে সব ধরনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, আসুন, আমরা অতীতকে ভুলে যাই। আমরা যেন প্রতিহিংসার রাজনীতি না করি। ঐক্যের সরকার হোক বা না হোক, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শনিবার (১০ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় আরও বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, তারা কোনো ধরনের প্রতিশোধের পেছনে ছুটবেন না।




পাচার করা অর্থ দেশে এনে বাজেয়াপ্ত করার দাবি চরমোনাই পীর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশ থেকে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

শনিবার (১০ আগস্ট) বিকেলে নগরীর লালদিঘী ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যেগে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ দাবি জানিয়েছেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, শেখ হাসিনার বিচারের দাবি জানিয়ে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, সুন্দর একটি বাংলাদেশ দেখার প্রত্যাশা করছে দেশবাসী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি না মেনে খুনি হাসিনা সরকার নির্বিচারে পাখির মতো গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এ বর্বর হত্যাযজ্ঞ দেখে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি।

‘খুনি হাসিনাসহ সকল হত্যাকারী, বিদেশে অর্থপাচারকারী, দুর্নীতিবাজদের বিচার করতে হবে। পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বিগত জালেম সরকারের নির্বাচন কমিশনে জড়িতদের বিচার করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। দেশের সংখ্যালঘুদের জানমাল, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা দেওয়া ঈমানী দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নৃশংস আওয়ামী দুঃশাসন উৎখাতের সংগ্রামের সূচনা করেছে আমাদের শিক্ষার্থী সমাজ। তাদের অসীম সাহস, ত্যাগ ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব আমাদের গর্বিত করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই এ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত থেকেছে। গত ১৯ জুলাই আমরা পরিস্কার করে জানিয়েছি যে, সরকারের পদত্যাগই একমাত্র সমাধান।

‘শুরু থেকেই নানাভাবে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। সেজন্য আমরা গর্ব বোধ করি যে, নৃশংস এক জালিমের পতনের মহান বিপ্লবে আমরা ভূমিকা নিতে পেরেছি। আমাদেরও অনেক ভাই জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন।’

এদিকে সমাবেশ থেকে দলের পক্ষে নয় দফা দাবি তুলে ধরেন সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। দাবিগুলো হলো- অনতিবিলম্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় এমন সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ করে অনুর্ধ্ব ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করতে হবে।, যার মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হতে পারবে না, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কেউ পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন ও স্বতন্ত্র ট্রাইবুনাল গঠন করে জুলাই গণহত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। একই সাথে গত ১৬ বছরে সংগঠিত সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আহত ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এক্ষেত্রে যে সকল ব্যক্তি বা সংগঠন দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদেরকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে, তদন্ত সাপেক্ষে গত ১৬ বছরে সকল দুর্নীতিবাজ ও বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব সম্পত্তি ক্রোক করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করতে হবে এবং বিদেশে পাচার করা টাকা ফেরত আনবার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিগত ১৬ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। সকল দুর্নীতি ও টাকা পাচারের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ প্রজাতন্ত্রের যে সকল কর্মচারী আইন, সংবিধান, শপথ লঙ্ঘন করে অপেশাদার আচরণ করেছেন তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠির চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতির বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং অবাধ, সুষ্ঠ গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিগত তিনটি নির্বাচন বাতিল করতে হবে এবং নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

গত ১৬ বছরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এদেশের সাধারণ শিক্ষাখাতের মান ও নৈতিকতা। এ ক্ষতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক শিক্ষাবিদ ও উলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে একটি জাতীয় শিক্ষাকমিশন গঠন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারে উলামায়ে কেরামদের মধ্যে থেকে প্রতিনিধি অবশ্যই থাকতে হবে।

 




গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শতাধিক ছাত্র জনতাকে মারার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জাতিসংঘের কাছে চিঠি দিয়ে আহ্বান জানাবে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শনিবার (১০ আগস্ট) এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে বলে, যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আজ স্বাধীনতা পেয়েছি সেই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার যে গণহত্যা চালিয়েছে সেই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য আমরা জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠাবো।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলা নিয়ে দেশ ও দেশের বাহিরের কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে। যা নিয়ে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন। তবে বিগত কয়েকদিনে আমাদের দেশে সাম্প্রদায়িক কোনো সংঘাত সৃষ্টি হয়নি।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানানোর জন্য বিদেশে কর্মরত যে ৫০জন শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি ব্যবস্থা করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে বিদেশে আমাদের যে ৫০ জন শ্রমিককে আন্দোলনে সমর্থন জানানোর জন্য বন্দি করেছে তাদের মুক্তির জন্য আমরা সরকারকে আবেদন করবো।

 




বাউফলেত ১৫ বছর পর জামায়াতের প্রকাশ্যে সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পটুয়াখালীর বাউফলে প্রকাশ্যে একাধিক পথসভা, দোয়া-মোনাজাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের আগমণ উপলক্ষে পথসভা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছয় ব্যক্তির স্মরণে দোয়া-মোনাজাত, মন্দির পরিদর্শনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি বগা বন্দরে পথসভা করেন।
এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা স্বাধীন দেশে পরাধীন ছিলাম। অপরাধ না করেও কয়েক শ’ মামলার আসামি হয়েছি, অন্যায় ভাবে তড়িগড়ি করে ওই সব মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। যাদের কারণে আপনারা ১৭ বছর কষ্ট করেছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহর নিয়মানুযায়ী তাদের ক্ষমা করে দিবেন। আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা প্রতিশোধ পরায়ণ হব না, কোনো মানুষকে কষ্ট দিব না।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন শফিকুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, গোটা বাউফলবাসী একটি পরিবার। সেখানে কে হিন্দু? কে মুসলমান? কে কোন দলের? তা দেখার কোনো সুযোগ নাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি। সেখানে কে সংখ্যালঘু, কে সংখ্যাগুরু এ জাতীয় কোনো বৈষম্যের ঠাই হবে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের কারো সাথে কেউ অন্যায় করলে, জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করব ইনশাল্লাহ।

বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত বাউফলের ছয় শহীদ ব্যক্তির স্মরণে দোয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিহত ছয় ব্যক্তির প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এ সময় শফিকুল ইসলাম বলেন, যা সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়েও করতে পারেনি, তা করে দেখিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা। তাদের নেতৃত্বেই দুঃশাসন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, স্যালুট জানাই তাদের। তাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না। তবে তারা যদি এই নতুন বাংলাদেশে আবার অন্যায় দেখে তখনো প্রতিবাদ করবে এবং অন্যায়কারীদের পতন ঘটিয়ে ছাড়বে। তাই সাবধান, কেউ যেন বলতে না পারে, বর্তমানের চেয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারই ভালো ছিল।

জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলামের বাড়ি বাউফল উপজেলার মদনপুরা গ্রামে। ২০০৯ সালের পর বাউফলে জামায়াতের প্রকাশ্যে এভাবে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়নি।




পদত্যাগ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে আরও সাতজন হল প্রাধ্যক্ষও পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ই-মেইল বার্তায় তিনি পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকেও পাঠিয়েছেন তিনি। রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্র  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, উপাচার্যের সঙ্গে বেগম রোকেয়া হল, শামসুন নাহার হল, বিজয় ৭১ হল, বঙ্গবন্ধু হল, জিয়া হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষরাও পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া জহুরুল হক হলের চারজন আবাসিক শিক্ষকও পদত্যাগ করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ঢাবির প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সব সদস্য পদত্যাগ করেন। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানও পদ ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।