সময় নয়, সংস্কার শেষে নির্বাচন চায় জামায়াত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা সরকারের মেয়াদ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, গত শনিবার রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেছিল অন্তর্বর্তী সরকার যেন যৌক্তিক সময় পর্যন্ত থাকে। এই যৌক্তিক সময় আসলে কতটুকু? এ বিষয়ে ড. ইউনূস দেশের শীর্ষ সম্পাদকদের কাছে জানতে চেয়েছেন। এই অন্তর্বর্তী সরকারকে কী কী কাজ করতে হবে, নূন্যতম কতটুকু কাজ করতে হবে- এসব প্রশ্ন রেখেছেন।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার এমন জবাবে সবাই মতামত দিয়েছে সর্বনিম্ন যে সময়টা এসেছে দুই বছর, যাতে এই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ হয়। অনেকে আবার দুই থেকে তিন বছরের কথা বলেছেন। কিন্তু মাঠে রাজনীতিতে বিএনপি এই সরকারকে বেশি সময় দিতে চায় না। বিএনপি বলছে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সেইসাথে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপও দিতে হবে সরকারকে।

মাঠের আরেক প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী বলছে, যোক্তিক সময় বা কোন নির্দিষ্ট সময় নয়। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও সরকারের সংস্থাগুলো দ্রুত সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই বিষয়ে দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বের সময় মাত্র ২৫ দিন গেল। আমরা চাই এই সরকার নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে।

জামায়াত ভোটের মাঠে কারো সাথে জোটে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভোটের হাওয়া শুরু হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ড. ইউনুসের নেত্বর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর আগে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এখন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হবে, এই সরকারকে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পরবর্তীতে এই বক্তব্য থেকে সরে এসে দলটির সব কেন্দ্রীয় নেতারা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেন, সেই সাথে রাষ্ট্র সংস্কারের রোডম্যাপ চেয়েছে দলটি।




আ.লীগের দলীয় পদ ছাড়লেন চরবিশ্বাস ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় আওয়ামী লীগের দলীয় পদ ছাড়লেন চরবিশ্বাস ইউপি চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জেল হোসাইন বাবুল ও সদস্য মো. নেছার উদ্দিন।

তোফাজ্জেল হোসাইন বাবুল চরবিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নেছার উদ্দিন চরবিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হল রুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পদত্যাগের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

আরো পড়ুন : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গলাচিপায় নিহত ৫

পদত্যাগের ঘোষণাপত্রে তোফাজ্জেল হোসাইন বাবুল বলেন, বর্তমান নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একজন নিরপেক্ষ চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি উন্নয়নে কাজ করে আসছি। আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে সুস্থ মস্তিষ্কে স্বেচ্ছায় ও স্ব-জ্ঞানে পদত্যাগ করিলাম। যেহেতু বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় আমি লিখিতভাবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাংগঠনিকভাবে পদত্যাগপত্র দাখিল করিতে পারি নাই। তাই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলাম।

এ সময় ইউপি সদস্য মো. নেছার উদ্দিনও পদত্যাগের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।




সাবেক আইজিপি শহীদুল হক ও আবদুল্লাহ আল মামুন আটক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে সাবেক এই দুই পুলিশপ্রধানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক।

পুলিশসূত্র বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে আটক করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাদের কী ভূমিকা ছিল— এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না।

শহীদুল হক ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় কার্যভার পালন করেছেন। ডিআইজি হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, রাজশাহী রেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও পুলিশের ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০১৪ সালের শেষদিন আইজিপির দায়িত্ব পান এবং ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসরে যান।

শহীদুল হকের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নরবালাখানা গ্রামে। তার ছোট ভাই ইসমাইল হক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। আরেক ভাই নুরুল হক ব্যাপারী নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শহীদুল হক শরীয়তপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম (সদ্য সাবেক) মহাপরিদর্শক ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়। এরপূর্বে তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিলেন।

চৌধুরী মামুনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার, এডিসি (ডিএমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে তিনি ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি (অপারেশনস) এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে দায়িত্ব থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আইজিপি পদে পদোন্নতি পান।

২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও তাকে পুনরায় দেড় বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেয় পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর গত জুলাইয়ের ৫ তারিখে পুনরায় তাকে আরও এক বছরের জন্য দ্বিতীয় দফায় চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। এসময় অন্তর্বর্তী সরকার তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনেই ছিলেন।




দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর পরে নিজ গ্রামে ফিরলেন বিএনপি নেতা এস শরফুদ্দিন সান্টু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-২ আসন (উজিরপুর- বানারীপাড়া) নির্বাচনী এলাকা ও নিজ গ্রামে দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর পরে গমন করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বরিশাল জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক, উজিরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এস শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।

বরিশালের উজিরপুর বানারীপাড়ার মাটি ও মানুষের আস্থা ভাজন জনদরদী নেতা বরিশাল বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস.সরফুদ্দিন আহম্মেদ সেন্টুর কে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেয় উজিরপুর উপজেলা পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোঃ সোহিদুল ইসলাম খান ও উজিরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মোঃ সোলায়মান খান (হাইয়ুম) সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এস.সরফুদ্দিন আহম্মেদ সেন্টুর আশাকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের ঢল নেমে আসে রাজপথে সকলের মুখে মুখে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত রাজপথ অবরো মানুষের স্বস্তি ফিরে এসেছে সকালের মুখে মুখে একটাই স্লোগান সেন্টু ভাই সেন্টু ভাই ।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে কথা বলতে পারছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ও সাধারণ জনগণ তারা বলেন স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে আমরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা অনেক মিথ্যা মামলা হামলার শিকার হয়েছি ।

এস. সরফুদ্দিন আহম্মেদ সেন্টুর আশাকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন ও নেতৃত্ব দেন উজিরপুর উপজেলা পৌরসভা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সভাপতি মোঃ সোহিদুল ইসলাম খান ও উজিরপুর উপজেলা পৌরসভা জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের জননেতা মোঃ সোলায়মান খান (হাইয়ুম) সহ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পরিচয় একটাই আমরা বাংলাদেশি: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের মানচিত্রে ঠিকানা আপনার আমার যেখানেই হোক—পরিচয় একটাই, আমরা সবাই বাংলাদেশি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, আমরা কেউ মসজিদে যাই, কেউ মন্দিরে বা প্যাগোডায় কিংবা গির্জায়, তেমনি কারো উৎসব ঈদুল ফিতর কারো বা দুর্গাপূজা কিংবা বড়দিন, সেটাও আমার আপনার সবার অভিন্ন পরিচয় নয়। বাংলাদেশের মানচিত্রে আপনার ঠিকানা হতে পারে পাহাড়ে, কারো আবার সমতলে, কেউবা থাকেন হাওড়ে আবার কেউ ছোট্ট দ্বীপে, নয়তো উপকূলের প্লাবন ভূমিতে কিংবা সুন্দরবনের পাশে- সব ক্ষেত্রে পরিচয় আমাদের একটাই, আমরা সবাই বাংলাদেশি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যারা বাংলাদেশি পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেষ্টা করেন তারাও জনরোষ এড়িয়ে পালানোর সময় যে পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন সেখানেও তাকে বাংলাদেশি পরিচয়টিই ব্যবহার করতে হয়েছে। এই পরিচয় আমার আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নের সময় যেমন নিরপেক্ষভাবে ব্যবহার করতে হবে। ঠিক তেমনি আমাদের অপরাধের ক্ষেত্রেও থাকবে একই মাপকাঠি।

তারেক রহমান বলেন, সংখ্যালঘুর কার্ড দিয়ে অনেক খেলা হয়েছে সেটা দেশেও যেমন হয়েছে, দেশের বাইরেও কম হয়নি। নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে আর দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে যুগ যুগ ধরে এই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর খেলা খেলে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা দেশে বিদেশে বার বার কারা করেছে সেটাও আমরা সবাই জানি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংসের এই পুরনো খেলার পুনরাবৃত্তি এদেশে আর করতে দেওয়া হবে না। এদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে এক ধর্মের উপাসনালয় আরেক ধর্ম অনুসারীরা ঐতিহ্যগতভাবে সুরক্ষিত রেখেছে যুগ যুগ ধরে, বার বার প্রমাণ করেছে এদেশে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। আমাদের সবারই এক ও অভিন্ন পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। শুধু কথায় নয় কাজেও এটার প্রমাণ দিতে হবে যখনই প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার দেশপ্রেম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ আর শত সহস্র নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি জনগণের আস্থা আর বিশ্বাসের যে জায়গায় পৌঁছেছে, কতিপয় বিপথগামীর হঠকারিতায় সেটা বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে দল আপোষহীন, তিনি দলের কত শীর্ষে অবস্থান করেন সেটা বিবেচ্য নয়। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে দল সেটার প্রমাণ রেখেছে বলেও তিনি জানান। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস আর অনুশাসনকে পুঁজি করে যারা ধর্মীয় স্থাপনায় রাজনীতি করবে, বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা ধর্ম বর্ণের বিভক্তিকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে, নিজ নিজ এলাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তাদের প্রতিহত করতে তিনি পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ থেকে প্রায় দুই বছর আগে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছে। যেটা সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য এখনো উন্মুক্ত। তবে তিনি নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, যারা যে সংস্কারের প্রস্তাবনাই আনুন আমাদের সংস্কার প্রস্তাবে সেগুলোর সবই অন্তর্ভুক্ত আছে।

তিনি বলেন, বিজয় এখনো অনেক দূরে, সফলতার পথ অনেক দীর্ঘ, আমরা গত সতের বছর বিরোধী দলে ছিলাম, আজো আছি। এখন আত্মতুষ্টির সময় নয়, বরাবরের মত তৃণমূল নেতাকর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর মত অতীতে যেমন সংকটকালে দলের পাশে ছিলেন আগামীতেও বাংলাদেশের জনমানুষের প্রত্যাশার ভাষা বুঝে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করলে বিএনপি দেশের মানুষকে একটা নতুন আর পরিবর্তিত বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 




আমরা সংশোধন ও ক্ষমার রাজনীতিতে বিশ্বাসী: জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হিংসা, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নয়, বরং ক্ষমা ও সংশোধনের মিশন নিয়ে বিদ্যমান রাজনীতিতে ইতিবাচক ধারা প্রবর্তন করে গণমুখী নতুন ধারার রাজনীতি প্রবর্তনের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের কলমকে শানিত করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত সিনিয়র ও জামায়াত বিট সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছর সরকারের জুলুম-নির্যাতনের কারণেই আমরা আপনাদের সাথে খোলা মনে কথা বলতে পারিনি। গণমানুষের কল্যাণে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারিনি। অথচ শুধু মানুষ নয় বরং আল্লাহর সকল সৃষ্টিকে সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব। মানুষ সৃষ্টির সেরা। মানুষের কল্যাণের জন্যই সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই মন্দের বিপরীতে মন্দের চর্চার কোনো সুযোগ নেই।

সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সাংবাদিক ও রাজনীতিকরাই সমাজ পরিবর্তনে এবং ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় যুগপৎভাবে কাজ করেন। রাজনীতিকরা যেমন রাজপথে গুলীতে মারা যান, সাংবাদিকরাও ঠিক তেমনি। তাই আমাদের পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই। জাতীয় স্বার্থে এক কাতারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ গণমাধ্যমকর্মীদের দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। তাই জাতীয় স্বার্থেই আমাদেরকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতি ঐক্যবদ্ধ হলে পুরো বিশ্বই আমাদেরকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে। আর দেশের সকল নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হলে গণমাধ্যমকর্মীসহ রাজনীতিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উদ্দেশ্য হবে গণমানুষের মুক্তি ও কল্যাণ। নিকট অতীতে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের কলমকে রুদ্ধ করা হয়েছিল। সাময়িকভাবে হলেও সে তালা এখন খুলেছে। এ বিজয় ধরে রাখার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বীজতলা সুন্দর হলে তা মহীরূহে পরিণত হবে এবং তা এক সময় ছায়া ও ফল দেবে।’ অর্জিত বিজয়কে পরিচর্যা করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এই নেতা।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। রাজনৈতিকভাবে আমাদের ওপর যারা জুলুম-নির্যাতন করেছে, আমরা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা সংশোধন ও ক্ষমার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে কোনো ভিকটিম বা ভিকটিমের পরিবার যদি আইনে আশ্রয় নেয়, তাহলে আমরা তাদেরকেও সহযোগিতা করবো। দল হিসাবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেব না। আমরা আদর্শ ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাসী। আর আদর্শ ডেমোক্রেসির মূলমন্ত্রই হচ্ছে, যার যার মতো স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার এবং পরমতের প্রতি সহনশীলতা।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকারসহ কর্মপরিষদ সদস্যরা।

 




বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিডিআর হত্যা: মেজর হাফিজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।’

আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর হাফিজ বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে। এই ঘটনায় কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল তা তদন্তের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে। স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।’

এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ছিল জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপে এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকার সরাসরি জড়িত বলে আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। কিন্তু আওয়ামী সরকারের আমলে তা সম্ভব হয়নি। এখন সুযোগ এসেছে। আমরা আশাবাদী আমরা সুষ্ঠু বিচার পাব।’




চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে যে কথা হলো

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার রাজধানী ঢাকার মগবাজার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত ও জামায়াতের আমির দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনার হচ্ছে পিপলস রিপাবলিকান অব চায়না। আমরা অনুরোধ করেছি, তারা যেন বাংলাদেশে আরও বেশি ইনভেস্ট করেন। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা তাদেরকে আরও সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা আশা করছি তারা এটা সক্রিয় বিবেচনায় নিবেন।’

জামায়াতের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম খান মিলন, মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিন ও মোবারক হোসাইন।

বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা একসাথে দীর্ঘ এক ঘণ্টা যাবৎ দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলেছি। উভয় দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ডেভেলপমেন্টসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে আমরা যেন একসাথে এগিয়ে যেতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের জনগণ, দুই দেশের সরকার, পার্টি টু পার্টি আমরা আরও ক্লোজলি কাজ করার সুযোগ পাব। আপনাদের মাধ্যমে সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে এখানে আসার জন্য আরেকবার অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং আশা করছি আগামী দিনগুলোতে আমাদের এ ধরনের মিউচুয়াল ডায়ালগ দুই দেশের স্বার্থে অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জামায়াতে ইসলামীর আতিথেয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ। জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। চায়নার জনগণ বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাব।’




দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের শুধু বহিষ্কার নয়, আইনি ব্যবস্থা: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আপনারা দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের চিহ্নিত করুন, প্রতিরোধ করুন, দল তাদের শুধু বহিষ্কারের অঙ্গীকারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিচ্ছে।’

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসাবে আজ সোমবার খুলনা বিভাগের সভায় তারেক রহমান এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ আর আগামীর আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্র কাঠামো সংষ্কারের ৩১ দফা কর্মসূচির মূল বিষয়গুলো তুলে ধরে এই বার্তা দেশের প্রান্তিক সব মানুষের কাছে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মালিকানা এ দেশের মানুষের আর স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন তার ন্যায্য গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ১৯৯৬ সালে বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার নির্বিঘ্ন করতে দলীয় সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযুক্ত করেছিল। কিন্তু ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে, জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করার লক্ষ্যেস্বৈরাচারী হাসিনা সরকার সেটা সংবিধান থেকে মুছে দিয়ে তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জনগনকে ভোটাধিকার বঞ্চিত রেখেছে। আমরা জনগনের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে আবারও সংযুক্ত করতে চাই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করে। মানুষের নিরাপত্তা, বাগ্‌স্বাধীনতা, শান্তিতে ব্যবসা বানিজ্য করার অধিকার, তরুণ ও যুবকের কর্ম সংস্থান, নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-গোষ্ঠী, সমতল-পাহাড়ি নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিত করা, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা, বিচার আইন ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, সকলের জন্য স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করা, কৃষি পণ্য ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করাই বিএনপি রাজনীতির অগ্রাধিকার।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের স্মৃতিবিজোড়িত বাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যে বাড়িতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাস করেছেন, যে বাড়ির প্রতিটি ইঞ্চিতে তার ও তার ভাইয়ের শৈশব কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যে বাড়ি তার মায়ের সংসারের সূচনা আর বৈধব্যের বেদনার সাক্ষী, সেই বাড়ি থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অসম্মানজনক ও অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে, তা দেশবাসী দেখেছে। বিনা চিকিৎসায় তার একমাত্র ভাইকে নিদারুণ অবহেলায় মৃত্যু বরন করতে হয়েছে।’

তৃণমূলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেমন অতীতের মতো প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করেন না, তেমনি তিনি এবং দলের প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও জানেন যে, দেশের মানুষও গত সতের বছর বাংলাদেশ নামের এক বৃহত্তর কারাগারে বন্দিজীবনযাপন করেছেন। সুতরাং আজ হিংসা নয় বরং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরনের মাধ্যমে অতীতের সকল অন্যায়ের জবাব দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ বঞ্চনা সহ্য করে বিএনপি আজ জনগণের যে আস্থা আর ভালোবাসা অর্জন করেছে, দলের কিছু বিপথগামীদের হঠকারিতায় মানুষের সেই আস্থা আর প্রত্যাশার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—সেটা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না, সেটা যেই হোন না কেন।

তিনি সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের চিহ্নিত করুন, প্রতিরোধ করুন—দল তাদের শুধু বহিষ্কারের অঙ্গীকারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিচ্ছে।’

দলের তৃণমুলের ওপর তার অগাধ আস্থা পুনব্যক্ত করে এক এগারোর দৃষ্টান্ত দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দলের সকল সংকট কালে তৃণমূলই ছিল বিএনপির শক্তি, এরা শত প্রলোভন আর নির্যাতন উপেক্ষা করে ইস্পাত কঠিন ঐক্য দিয়ে দলকে ধরে রেখেছে।

দৃশ্যমান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের পাশাপাশি অসংখ্য অদৃশ্য প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের পতন শুধুমাত্র প্রাথমিক বিজয়, সামনে রয়েছে প্রকৃত পরীক্ষা ফলে আত্মতুষ্টি আর সকল শিথিলতা কাটিয়ে আগামীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশের আপামর জনগনের দলের প্রতি সমর্থন আর ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হবে।

 




ওবায়দুল কাদেরের ২ ভাইয়ের নামে চুরির মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দুই ভাইয়ের নামে চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা করা হয়েছে। আজ সোমবার জেলার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের ২ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বসুরহাট বাজারের মেসার্স হুমায়ুন টিম্বার অ্যান্ড স মিল এবং ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক ফিরোজ আলম মিলন।

মামলায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার ভাই শাহাদাত হোসেনসহ ৪১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা দুজনই ওবায়দুল কাদেরের আপন ভাই।

বিচারক মো. ইকবাল হোসেন বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কাদের মির্জা দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে তার সহযোগীদের দিয়ে বাদী ফিরোজ আলম মিলনের প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা চুরিসহ লুটপাট ভাঙচুর করে ২০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মমালার অভিযোগে জানা গেছে, সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাদীর বসুরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেসার্স হুমায়ুন টিম্বার অ্যান্ড স মিল এবং মেসার্স ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদার্সে লুটপাট করেন। এতে নগদ ২৮ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ ১৫ কোটি টাকার মালামাল গাড়িতে তুলে নিয়ে যান তারা।

মামলার বিষয়ে জানতে আবদুল কাদের মির্জার মোবাইল ফোন নেম্বরে বারবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।