আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে ইসির প্রজ্ঞাপন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের  তফসিল ঘোষণা করার পর সকল সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ  স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭ এর দফা (১) ও (২) অনুসারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৫ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে  নির্বাচনি এলাকাসমূহের জন্য বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করিতেছে।’

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং তিনজন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মকর্তাসহ (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে এক ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ জানিয়ে দেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব ও পরিধিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করার শেষ দিন ১১ জানুয়ারি, আর এসব আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা রাখা হয়েছে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, আর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, এরপর নীরবতা পর্ব কার্যকর হবে।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়, যা আজ প্রচারিত হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আসন বিন্যাস, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ অন্তত ২০টি পরিপত্র জারি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রজ্ঞাপনসহ সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংবিধানিক পরিবর্তনসহ নানা কারণে বেশ কয়েকটি সংসদ তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদই কেবল পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন, প্রচারণা, জোট রাজনীতি, মাঠপর্যায়ে সমর্থন—সব মিলিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসী ভোটারে রেকর্ড নিবন্ধন—‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ৩ লাখ ছাড়াল সংখ্যা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো ডাকযোগে ভোট গ্রহণের সুযোগ তৈরির পর থেকেই ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের হার আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ইসি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়—এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৯ জন পুরুষ এবং ২৩ হাজার ২২৮ জন নারী। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের সরাসরি নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা হওয়ায় এটি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রবাসীদের মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৮৪ হাজার ৬০০ জন, এরপর ক্রমানুসারে কাতার ২৫ হাজার ২৫৭, যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার ৭৫৫, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯ হাজার ৮৫২, মালয়েশিয়া ১৮ হাজার ১৫৬, সিঙ্গাপুর ১৫ হাজার ২৯৪, যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ৬৬৩, ওমান ১২ হাজার ৬২৫, ইতালি ৯ হাজার ৯৬৫, কানাডা ৯ হাজার ৮৫২, দক্ষিণ কোরিয়া ৯ হাজার ৬০২, অস্ট্রেলিয়া ৮ হাজার ২২১, কুয়েত ৮ হাজার ২০৪ এবং জাপান ৭ হাজার ৬৮ জন নিবন্ধন করেছেন।

এদিকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী কাজে যুক্তদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিশেষ দায়িত্বে থাকা পুলিশ, সেনা কিংবা আনসার সদস্যদের নিবন্ধন পরবর্তী সময়ে আলাদাভাবে সম্পন্ন করা হবে।

ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান—বিদেশে অবস্থানকারীদের সুবিধার্থে ‘আউট অব কান্ট্রি’ ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিরা তাদের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এর পাশাপাশি সৌদি আরবসহ সাতটি দেশে প্রবাসীরা ঠিকানা সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত এবং বাহরাইন—এই সাত দেশের ভোটাররা ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ঠিকানা আপডেট করতে পারবেন।

ইসি প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে—অ্যাপে নিবন্ধনের সময় অবশ্যই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান করতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ ঠিকানা দিলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে কর্মস্থল বা পরিচিত ব্যক্তির ঠিকানাও ব্যবহার করা যাবে।

১৯ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধনের পর থেকে ১৪৮টি দেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করে বিদেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হচ্ছে প্রবাসীদের।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নিবন্ধনে ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসি মনে করছে—এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ হতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই পুরো এলাকায় অস্বাভাবিক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মনোনয়ন ঘোষণার পর টানা তিন দিন—৭, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর—বাউফলের ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে ‘প্রার্থী পরিবর্তন চাই’ স্লোগানে মুখর ছিলেন নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাউফল বিএনপি এখন প্রায় তিনভাগে বিভক্ত। সবচেয়ে বড় অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন। আরেকটি শক্তিশালী অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশ বর্তমান মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে মাঠে রয়েছে। যদিও মুনির হোসেন ও ফারুক সরাসরি মিছিল না করলেও তাদের অনুসারীরা বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

মুনিরপন্থী নেতাদের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। অপরদিকে, ফারুকপন্থীদের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী পলাশ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, শহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তারা জানান, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘড়ি মার্কায় নির্বাচন করা থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে বিএনপির অফিসিয়াল প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস মার্কায় সমর্থন দেওয়া—এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বারবার দলের ক্ষতি করেছেন। এমনকি ২০১৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে নিজের ভাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেও মাঠে নামিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীত মেয়াদে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও স্মরণ করিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সব কারণে বাউফলের নেতাকর্মীদের বড় অংশ মনে করেন—তালুকদারকে পুনরায় মনোনয়ন দিলে স্থানীয় বিএনপি আরও ভাঙনের মুখে পড়বে। তাই মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে গ্রুপভিত্তিক মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তারা। শনিবার থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী দুই গ্রুপ। তাদের দাবি—”বাউফলের বাস্তব অবস্থার আলোকে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা হোক।”

এদিকে, প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক বিরোধের মধ্যেও মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল পাবলিক মাঠে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব পেয়েছি দল থেকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চাই।” তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাউফল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ সংকটে রূপ নেবে কিনা—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এনসিপির নির্বাচনী চমক: ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে লড়তে প্রস্তুত ১২৫ জন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব-পশ্চিমসহ প্রতিটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দলটির নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী নির্বাচনে নতুন উদ্যম, সততা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাজ করতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিসর বাড়াতে দলটি এবারের নির্বাচনে দ্বিমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে—একদিকে জনমুখী প্রার্থীদের মনোনয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার ধারা অব্যাহত রাখা। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইন পেশা, ব্যবসা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট অনেক পরিচিত মুখ।

উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও জেলার দুই আসনে মো. রবিউল ইসলাম এবং গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে আ হ ম শামসুল মুকতাদির ও ডা. আব্দুল আহাদসহ একাধিক অভিজ্ঞ মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পন ও আবু সায়েদ লিয়নকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনেও তালিকায় স্থান পেয়েছেন আল মামুন, আখতার হোসেন, মাহফুজুল ইসলামসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পরিমল চন্দ্র (উরাও), মনিরা শারমিন, অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদিরের মতো শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জয়পুরহাটের আসনগুলোতে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকেও নির্বাচন করেছে দলটি।

দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের তালিকায় রয়েছে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, ফরিদুল হক, আবু সাঈদ মুসা, নুরুল হুদা চৌধুরীর মতো পরিচিত মুখ। উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালী-১ আসনে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এবং পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভোলা, ঝালোকাঠি, পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য constituencies–এও দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা স্থান পেয়েছেন।

ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। রাজধানীর ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, নারী নেত্রী এবং উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে পার্টি। এর মধ্যে ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, মেজর (অব) আলমগীর ফেরদৌস, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদসহ একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, যাদের নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু দলটির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নরসিংদী-১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগেও রয়েছে ব্যাপক উপস্থিতি। চট্টগ্রাম-৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬—প্রায় প্রতিটি আসনেই মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি, যাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী। কক্সবাজারের ১, ২ ও ৪ নম্বর আসনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নতুন প্রার্থীকে। পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, প্রিয় চাকমা ও মংসা প্রু চৌধুরীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, ব্যাপকভিত্তিক এই প্রার্থী তালিকা দলটিকে আগামীর রাজনীতিতে দৃশ্যমান অবস্থানে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা অর্জনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, গণসংযোগ ও মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ পদত্যাগ করেতে পারেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : অবশেষে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি।

এই দুই উপদেষ্টা হলেন তথ্য সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

তবে সরকার আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের বিষয়টি জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা। সাধারণত প্রতি মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হন। গতকালের বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে দুই উপদেষ্টা বুধবার পদত্যাগ করছেন।

বিষয়ে মাহফুজ আলম আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।




শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার, পটুয়াখালী–১ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষিত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা এবং পটুয়াখালী–১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকা এবং নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত জানায় জেলা নেতৃত্ব।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে পটুয়াখালী পৌরসভাস্থ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি হাওলাদার মো. সেলিম মিয়া। তিনি জানান, দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের (পীর সাহেব চরমোনাই) নির্দেশনা এবং জেলার জরুরি আমেলা সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুফতি হাবিবুর রহমানকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে তার সংসদ সদস্য প্রার্থীতাও।

জেলা সভাপতি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবসময়ই নৈতিক, যোগ্য ও আমানতদার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তাই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সংগঠনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একই অনুষ্ঠানে নতুন প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা দেওয়া হয় এক অভিজ্ঞ নেতার নাম। পটুয়াখালী জেলা শাখার সক্রিয় সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল হাসান বোখারীকে পটুয়াখালী–১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতি জানান, দলের নীতিমালা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে মানতে সক্ষম নেতৃত্বকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।

এদিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কিছু ঘণ্টা আগেই মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি নিজেই পটুয়াখালী–১ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানান এবং নতুন করে পটুয়াখালী–৪ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই সাংগঠনিক অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৃথক অবস্থান নেওয়াকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে কেন্দ্র ও জেলা নেতৃত্ব।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পটুয়াখালী–১ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় গেলে তিন শর্তে জাতীয় সরকার গড়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামী আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিনটি নির্দিষ্ট শর্তে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা-১৫ আসনের দক্ষিণ কাফরুলে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত আমির বলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ধারণা ভুল। বরং তারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনায় আগ্রহী। তবে এ সহযোগিতা নির্ভর করবে তিনটি মূল শর্তের ওপর
১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ,
২) বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করা,
৩) অভ্যুত্থানের চেতনা বা অবৈধ ক্ষমতা দখলের ধারণা বর্জন।

তার দাবি, এই তিন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকারে অংশ নিতে পারবে।

সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বৈষম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই বৈষম্য দূর করা না হলে সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী মানুষ ও সম্পদশালী গোষ্ঠীর মধ্যে যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দেশের মানুষের স্বস্তি নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধ কমানোও সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, সব ধরনের অপরাধের সূচনা হয় “অপ-নির্বাচন” থেকে। তাই আগামীর জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করতে হবে, যাতে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ পায়। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সেই নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যারা নির্বাচনের আগে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়ন না করার অঙ্গীকার করেন। এদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এমন প্রতিশ্রুতি দেন, তারা যেন ক্ষমতায় গেলে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠারও অঙ্গীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা বহন করছে। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জোটগত সম্ভাবনার ইঙ্গিতও রয়েছে তার কথায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এই সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন তফসিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

সিইসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে সিইসিকে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। পরে প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত ৭ ডিসেম্বর জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সিইসির আজকের মন্তব্য নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রশাসন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সাপোর্ট—সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। কমিশন আশা করছে, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থক ও প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত সংকট এখনো কাটেনি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তাঁর মূল শারীরিক জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসেনি ।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা ওঠানামা করছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কয়েক দিন ধরে পুরোপুরি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জড়িত একটি সূত্র গতকাল রোববার রাতে বলেছে, চিকিৎসকেরা খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বিদেশ পাঠানোর সময় আরও দুই দিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর। সূত্রের মতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তাঁর অবস্থায় নতুন কোনো উন্নতি বা অবনতি—কোনোটিই লক্ষণীয় নয়; সবকিছু অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর শনিবার ও রোববার তাঁর বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সর্বশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসা-পরিকল্পনায় নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হতে পারে।

চিকিৎসকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাঁর ডায়াবেটিসের ওঠানামা, কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ফুসফুসের পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লন্ডন থেকে ঢাকায় আসার পর থেকে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়; আবার খুব অবনতিও হয়নি। তবে নতুন কোনো জটিলতা দেখা না দিলেও মূল সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা কিছু সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে তাঁর সার্বিক অবস্থা স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি এবং ফুসফুসের অবস্থার কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে এসব উন্নতি সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট নয়; তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

এই অনিশ্চিত অবস্থার কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। শুরুতে বিএনপি জানিয়েছিল, খালেদা জিয়াকে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে শুক্রবার সকালে নতুন তারিখ দেওয়া হয় ৭ ডিসেম্বর। রাতে আবার জানানো হয়, সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ পিছিয়ে ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই তারিখও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।