আজ পদত্যাগ করেতে পারেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : অবশেষে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি।

এই দুই উপদেষ্টা হলেন তথ্য সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

তবে সরকার আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের বিষয়টি জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা। সাধারণত প্রতি মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হন। গতকালের বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে দুই উপদেষ্টা বুধবার পদত্যাগ করছেন।

বিষয়ে মাহফুজ আলম আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।




শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার, পটুয়াখালী–১ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষিত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা এবং পটুয়াখালী–১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকা এবং নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত জানায় জেলা নেতৃত্ব।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে পটুয়াখালী পৌরসভাস্থ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি হাওলাদার মো. সেলিম মিয়া। তিনি জানান, দলের আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের (পীর সাহেব চরমোনাই) নির্দেশনা এবং জেলার জরুরি আমেলা সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুফতি হাবিবুর রহমানকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে তার সংসদ সদস্য প্রার্থীতাও।

জেলা সভাপতি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবসময়ই নৈতিক, যোগ্য ও আমানতদার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তাই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সংগঠনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বের এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

একই অনুষ্ঠানে নতুন প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা দেওয়া হয় এক অভিজ্ঞ নেতার নাম। পটুয়াখালী জেলা শাখার সক্রিয় সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল হাসান বোখারীকে পটুয়াখালী–১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতি জানান, দলের নীতিমালা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নির্দেশনা যথাযথভাবে মানতে সক্ষম নেতৃত্বকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন।

এদিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কিছু ঘণ্টা আগেই মুফতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি নিজেই পটুয়াখালী–১ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানান এবং নতুন করে পটুয়াখালী–৪ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই সাংগঠনিক অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৃথক অবস্থান নেওয়াকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে কেন্দ্র ও জেলা নেতৃত্ব।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পটুয়াখালী–১ আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় গেলে তিন শর্তে জাতীয় সরকার গড়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

জামায়াতে ইসলামী আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিনটি নির্দিষ্ট শর্তে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা-১৫ আসনের দক্ষিণ কাফরুলে স্থানীয় জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন। তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় জামায়াত আমির বলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ধারণা ভুল। বরং তারা ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার পরিচালনায় আগ্রহী। তবে এ সহযোগিতা নির্ভর করবে তিনটি মূল শর্তের ওপর
১) দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ,
২) বিচারব্যবস্থায় কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করা,
৩) অভ্যুত্থানের চেতনা বা অবৈধ ক্ষমতা দখলের ধারণা বর্জন।

তার দাবি, এই তিন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় সরকারে অংশ নিতে পারবে।

সমাবেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। তার ভাষ্যমতে, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বৈষম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই বৈষম্য দূর করা না হলে সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শ্রমজীবী মানুষ ও সম্পদশালী গোষ্ঠীর মধ্যে যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, তা কমাতে জামায়াত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দেশের মানুষের স্বস্তি নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধ কমানোও সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে, সব ধরনের অপরাধের সূচনা হয় “অপ-নির্বাচন” থেকে। তাই আগামীর জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করতে হবে, যাতে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ পায়। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সেই নেতাদের দিকেও ইঙ্গিত করেন, যারা নির্বাচনের আগে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়ন না করার অঙ্গীকার করেন। এদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এমন প্রতিশ্রুতি দেন, তারা যেন ক্ষমতায় গেলে কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠারও অঙ্গীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা বহন করছে। জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জোটগত সম্ভাবনার ইঙ্গিতও রয়েছে তার কথায়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এই সপ্তাহেই জাতীয় নির্বাচন তফসিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান।

সিইসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। রেওয়াজ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে সিইসিকে স্বাগত জানান রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। পরে প্রধান বিচারপতির খাসকামরায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত ৭ ডিসেম্বর জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তফসিল আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সিইসির আজকের মন্তব্য নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রশাসন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি, ব্যালট ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সাপোর্ট—সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে। কমিশন আশা করছে, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থক ও প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত সংকট এখনো কাটেনি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তাঁর মূল শারীরিক জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে আসেনি ।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা ওঠানামা করছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কয়েক দিন ধরে পুরোপুরি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জড়িত একটি সূত্র গতকাল রোববার রাতে বলেছে, চিকিৎসকেরা খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে বিদেশ পাঠানোর সময় আরও দুই দিন পিছিয়েছেন। দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের ওপর। সূত্রের মতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী তাঁর অবস্থায় নতুন কোনো উন্নতি বা অবনতি—কোনোটিই লক্ষণীয় নয়; সবকিছু অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর শনিবার ও রোববার তাঁর বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার আবারও বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সর্বশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসা-পরিকল্পনায় নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হতে পারে।

চিকিৎসকদের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাঁর ডায়াবেটিসের ওঠানামা, কিডনির কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হৃদ্‌যন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি ফুসফুসের পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। লন্ডন থেকে ঢাকায় আসার পর থেকে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যে রয়েছেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়; আবার খুব অবনতিও হয়নি। তবে নতুন কোনো জটিলতা দেখা না দিলেও মূল সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা কিছু সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে তাঁর সার্বিক অবস্থা স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। সর্বশেষ পরীক্ষায় কিডনি এবং ফুসফুসের অবস্থার কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে এসব উন্নতি সামগ্রিক ঝুঁকি কমাতে যথেষ্ট নয়; তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

এই অনিশ্চিত অবস্থার কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর সম্ভাব্য তারিখ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। শুরুতে বিএনপি জানিয়েছিল, খালেদা জিয়াকে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে লন্ডনে নেওয়া হবে। পরে শুক্রবার সকালে নতুন তারিখ দেওয়া হয় ৭ ডিসেম্বর। রাতে আবার জানানো হয়, সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ পিছিয়ে ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেই তারিখও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

 




আজ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়ে ইসির বৈঠক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষন।

এই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তফসিলের আগে। আর কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তফসিল ঘোষণার পরে। তফসিল ঘোষণার আগে যেসব প্রস্তুতি দরকার, সেগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ইসি।

সাধারণত তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এটি একধরনের রেওয়াজ। এরপরই তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আজকের বৈঠকে তফসিল ঘোষণার তারিখ ঠিক করা হতে পারে।

এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। দুটি ভোট একসঙ্গে করতে ভোটকেন্দ্র ও সময় ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ বাড়ানো, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নয়টি বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আইন ও রীতির আলোকে তফসিল পূর্ব ও তফসিল–উত্তর কার্যক্রম, গণভোট আয়োজনসসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা এবং ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থানা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি।

ইসি সূত্র জানায়, তফসিলের আগে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোর মধ্যে আছে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইনবিধি সংস্কার, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ইত্যাদি। এ কাজগুলো ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নপত্র মুদ্রণ এবং নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতের কাজও শেষ পর্যায়ে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, এটি ভোটের আগপর্যন্ত চলবে। নির্বাচন সামনে রেখে ৮২টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে নিবন্ধন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গতকাল ইসি সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.ecs.gov.bd) বিস্তারিত জানা যাবে।

ইসি আগামী নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করেছে। এটি ঠিক করা হয়েছিল শুধু সংসদ নির্বাচনের জন্য। কিন্তু এখন সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। একজন ভোটারকে দুটি করে ভোট দিতে হবে। এতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে। এ জন্য ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কি না, তা বুঝতে রাজধানীর একটি ভোটকেন্দ্রে ‘মক ভোটিং’ (ভোটের মহড়া) এর আয়োজন করেছিল ইসি। ওই ‘মক’ ভোটের প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনায় ইসি বলেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি করে গোপন কক্ষ (যেখানে গিয়ে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল দেন) স্থাপন করা হলে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা আর বাড়াতে হবে না ।




নির্বাচন তারিখ নিয়ে গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ঘিরে দেশজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও এসব তথ্যকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন বা ভোটের সময়সূচি সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে প্রকাশিত তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলেই গণ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নিজের মতো করে তারিখ ছড়িয়ে দেয়, তা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত নয়। এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত ধারণা, অনুমান বা দায়বদ্ধতা থেকে বলা হতে পারে; তাই সেগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করার সুযোগ নেই। সচিব আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদ মাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যাচাইবাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। আবার কোনো কোনো বিশ্লেষক ফেব্রুয়ারিতে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন। এসব নিয়ে আলোচনা তীব্র হলেও নির্বাচন কমিশন জানায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্যকে গ্রহণযোগ্য ধরা যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করেন, গুজব ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য কমিশনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো তথ্য বিশ্বাস না করতে অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

নাগরিকদের কাছে নির্বাচন কমিশনের বার্তা—তফসিল বা ভোটের তারিখ সম্পর্কে যে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই জানা যাবে। এর বাইরে ছড়ানো যেকোনো তথ্যকে গুজব বা অনুমান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে কারা হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে এখন পর্যন্ত দুটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি। এই দুটি আসন হলো বন্দর-পতেঙ্গা ও চন্দনাইশ

২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনটি গঠিত হয়েছে। এর আগে এলাকাটি অন্য আসনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে ব্যবসায়ীদেরও। কারণ, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনসহ আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এলাকাটিতে অবস্থিত।

ফাঁকা এই দুই আসনে কারা প্রার্থী হতে পারেন, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে নানামুখী আলাপ-আলোচনা।

চট্টগ্রাম১১ (বন্দরপতেঙ্গা)

বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করলেও এই আসনে জনসংযোগ করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ও বিএনপির আন্তর্জাতিক–বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘এক পরিবার থেকে এক প্রার্থী’ ঘোষণা দেওয়ায় ইসরাফিল খসরুর ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জুটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পরপর চারবার এই এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাবার গোছানো আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে তাই প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ইসরাফিল খসরু। জানতে চাইলে ইসরাফিল খসরু প্রথম আলোকে বলেন, ‘১২ বছর ধরে এলাকায় কাজ করছি। বাকিটা দলের নীতিনির্ধারকদের বিষয়।’

চট্টগ্রাম১৪ (চন্দনাইশ সাতকানিয়া আংশিক)

এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক বিচারপতি আবদুস সালাম মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক মহসিন জিল্লুর করিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা সবাই এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, আসনটি দলের কাউকে দেওয়া হোক। কিন্তু জোটের জন্য দলের নীতিনির্ধারকেরা আসনটি ফাঁকা রেখেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জোট হলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি এলডিপির জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অথবা তাঁর ছেলে ওমর ফারুক নির্বাচন করবেন। ওমর ফারুক এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলডিপির সঙ্গে বিএনপির কথাবার্তা চলছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, দেখা যাক।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাবা (অলি আহমদ) আর নির্বাচন করবেন না ঠিক করেছেন, তবে এলাকার লোকজন চাইছেন তিনি নির্বাচন করুক। এ অবস্থায় কী হয়, সেটি এখনো ঠিক বলা যাচ্ছে না।’

দুটি আসন ফাঁকা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান বলেন, ‘জোটের কারণে দলের নীতিনির্ধারকেরা একটু সময় নিচ্ছেন।’

 




পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদারকে মনোনয়ন দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দলীয় মনোনয়ন তালিকায় তার নাম চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, এ আসনে বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তবে কেন্দ্রীয় উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত শহিদুল আলম তালুকদারকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন ঘোষণার পর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকে ফুল নিয়ে তার বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানান। স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে তৃণমূল BNP নতুনভাবে উজ্জীবিত হবে।

মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শহিদুল আলম তালুকদার বলেন,
“দল আমাকে যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে তা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করবো। বাউফলের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


আল-আমিন



জয়–পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ রাখাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সকালে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করা, বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সংকটে ফেলে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করে তিনি ফরমাল চার্জ গ্রহণের আবেদন জানান।

প্রসিকিউশন জানায়, চব্বিশের জুলাই–আগস্টে তীব্র আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু তথ্যপ্রবাহ থামিয়েই দেয়নি, বরং সেই সময় সংঘটিত সহিংসতা, নিখোঁজ, আহত এবং হতাহতের ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধকে উসকে দিয়েছে। তাদের দাবি—এই সিদ্ধান্তে নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি দায়ী, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

আদালত প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথি, সাক্ষ্য এবং প্রাথমিক প্রমাণাদি মূল্যায়ন শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এ সময় বিচারপতির বেঞ্চ উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের জন্য শুনানি অপরিহার্য।

অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এ মামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নজিরবহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে পরিণত হয়—এ মামলার মাধ্যমে তারও স্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিদেশে অবস্থানের কারণে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল সাপোর্ট সিস্টেমে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মামলার পরবর্তী শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের বিস্তারিত যুক্তি শুনবেন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এ মামলা দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের চোখে অন্যতম আলোচিত আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম