কুয়াকাটায় ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশে আ.লীগ নেতাকর্মীদের যোগদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয় রক্ষা, দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, বৈষম্য ও ভোটাধিকার রক্ষার্থে এবং পি.আর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোমস’র মাঠে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহিপুর থানা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মহিপুর থানা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন মুসার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা সহ-সভাপতি হাওলাদার মোহাম্মাদ সেলিম মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আর আই এম অহিদুজ্জামান, সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আব্বাসী, ধূলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম প্রমুখ। গণসমাবেশ পরিচালনা করেন মাস্টার মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

গণসমাবেশে বক্তারা সাম্য, ন্যায় বিচার ও আদর্শভীত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিকল্প নেই। এই স্বাধীনতা দূর্নীতির বিরুদ্ধে, লুটপাটের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে, খুনের বিরুদ্ধে। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ থেকে অরাজকতা দূর করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সবাইকে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে কুয়াকাটার প্রবীণ আ.লীগ নেতা আলহাজ্ব দবির আহম্মেদ ভূইয়া, শ্রমিকলীগের অন্যতম নেতা আলমগীর হোসেন সহ ছাত্রলীগের কয়েকজন যুবক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেন।




ব্যানার-ফেস্টুনে শ্রীহীন বরিশাল নগর, বিরক্ত বাসিন্দারা

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে থাকত বরিশাল নগরের নানা স্থাপনা। এতে শ্রীহীন হয়ে পড়ে চারপাশ। সেই সরকারের পতন হলেও সৌন্দর্য ফিরে আসেনি নগরে। এখানকার ঐতিহ্যবাহী অশ্বিনীকুমার হল কিংবা বিবির পুকুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো নতুন করে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে ফেলেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে বিরক্ত নগরবাসী।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে গত বৃহস্পতিবার বরিশালে শহীদি মার্চ পালন করা হয়। এ সময় সদর রোডে মিছিলে আসা শিক্ষার্থী লামিয়া বলেন, ‘অশ্বিনীকুমার টাউন হল জনগণের। কোনো দলের এটি নয়। অথচ সেটি ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে রাখা হয়েছে। অতীতের কর্মকাণ্ড নতুন করে হোক, ছাত্র-জনতা তা চায় না।’

মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনের নাম দিয়ে অশ্বিনীকুমার টাউন হলজুড়ে বিশাল এক ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। অদূরে বিবির পুকুরে ঝুলছে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনির নামে থাকা বিশাল শুভেচ্ছা ব্যানার। এ ছাড়া ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে গেছে নগরের জেলখানার মোড়, চৌমাথা, হাতেম আলী কলেজ, বিএম কলেজ, সাগরদি, রূপাতলী, নথুল্লাবাদসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাতে সৌন্দর্য ঢেকে গেছে নগরের।

এ নিয়ে কথা হলে মাসুদ হাসান মামুন বলেন, ‘বরিশাল প্রাণের শহর। এটি পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি জানান, বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটান। এটা সাময়িক সময়ের জন্য। এগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনিকে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ব্যানারের পক্ষে না। এমন কর্মকাণ্ড আমাদের খুশি করার জন্য কেউ কেউ করেছে। যারা আদালতের দালাল, ঘাটের দালাল, টোকাই, বহিরাগত—এমন লোকজন ছাত্রদলের শীর্ষ পর্যায়ে ভর করে ব্যানার সাঁটিয়ে দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।’

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মহানগর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘নগরী আবারও ব্যানারে ঢেকে গেছে। এ যেন নতুন গ্লাসে পুরোনো মদ। এখন যাঁরা দৃশ্যমান, তাঁরাও দখল করছেন। ছাত্রদল, যুবদল ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটিয়ে শহীদদের রক্তের মধ্যে, বন্যার মধ্যে উৎসব করছে। যাঁরা ব্যানার সাঁটিয়েছেন, তাঁদের নিজ নিজ খরচে এগুলো সরিয়ে নিতে হবে। আমরা বিড়ম্বনামুক্ত নগর চাই। নতুবা নতুন প্রজন্ম তাঁদের ছেড়ে দেবে না।’

যোগাযোগ করা হলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, বন্যায় মানুষ কষ্টে আছে, তাই দল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। অথচ একশ্রেণির নেতা-কর্মী ব্যানার টাঙিয়েছেন। এগুলো নামিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এভাবে ব্যানার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঢেকে রাখলে দৃষ্টিকটু লাগে। যেদিন এগুলো লাগিয়েছে, সেদিনই নামিয়ে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট ভার্চুয়াল সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সবাইকে পরিবর্তন হতে বলেছেন। অতীতে হাসিনা সরকারের নেতারা যা করেছেন, তা বিএনপি আর করতে দেবে না। যাঁরা নগরের সৌন্দর্য নষ্ট করে নিজেকে জাহির করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




জাতীয় সরকারে সমর্থন দিল গণঅধিকার পরিষদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই প্রস্তাবে গণঅধিকার পরিষদ একমত পোষণ করে বলে জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।

শুক্রবার বিকালে গাজীপুর মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের যে আহবান জানিয়েছেন তার এই আহবানের প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সমর্থন রয়েছে। আমরাও চাই আগামীতে জাতীয় ঐক্যের সংহতির সরকার গঠন করা হোক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সর্ব প্রথম গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৭১ সালের আগে তার ভূমিকা ভালো ছিল। তারপরে তার রাজনীতি ছিল ভুলে ভরা। নৃশংস স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা এ দেশে প্রতিবিপ্লবের ষড়যন্ত্র করছে।

আইন করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, অন্যথায় এর জন্য আন্দোলন করা হবে।

সেমিনারের যুব অধিকার পরিষদ, গাজীপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক মমিন আকন্দ তন্ময়ের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- রোকেয়া জাবেদ মায়া, মাহফুজুর রহমান খান, আব্দুর রহমান, জামাত নেতা মো. হোসেন আলী, নাগরিক ঐক্যের কামাল হোসেন প্রমুখ।

পরে গাজীপুর মহানগরীর হাবিবুল্লা সরণিতে গণঅধিকার পরিষদ, গাজীপুর শাখার অফিস উদ্বোধন করা হয়।




নিজ জেলা পটুয়াখালীতে সংবর্ধিত হলেন ভিপি নূর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর বলেছেন, গত ৫৩ বছরে এই দেশের মানুষ অনেক স্বৈরাচারী ভোট ডাকাত সরকার দেখেছে। এই দেশে তরুণরা কারো লাঠিয়াল হওয়ার জন্য আন্দোলনে রক্ত ও জীবন দিবে না। এই দেশের তরুণরা আগামীতে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ নতুন রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে নিজ জেলা পটুয়াখালীতে প্রথম দলীয় সফরে এসে সংবর্ধনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। গণ অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার আহবায়ক সৈয়দ মোঃ নজরুল ইসলাম লিটুর সভাপতিত্বে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তিনি আরো বলেন, বিএনপি যদি মনে করে যারা আন্দোলন করেছে তাদেরকে নিয়ে জাতীয় সরকার করবে তবে বিএনপির সাথে জোট হবে রাজনৈতিক সমঝোতা হবে। নইলে বিএনপি’র বয়কট হবে। বিকল্প শক্তি নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করা হবে।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সংবর্ধনা স্থলে জেলার বিভিন্ন স্থান সহ আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন। নিজ জেলার সন্তানের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম কোন পুর্নাঙ্গ রাজনৈতিক দল গঠনে আত্মতৃপ্তিতে গণ অধিকার পরিষদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন জেলার নেতৃবৃন্দ।




সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক।

তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-২ আসন (রাজৈর-মাদারীপুর সদরের একাংশ) থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাজাহান খান। এটি ছিল তার টানা অষ্টমবারের মতো ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া।

বর্তমানে শাজাহান খান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি।




বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না।

বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন যেমন ছিল তেমন রেখে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন স্মৃতি মেমোরিয়াল করা হয়েছিল। আরও অন্য দেশেও হয়েছে। তাদের থেকে জেনে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষ কাটাতে রিভিউ কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হেয়েছে। এই কমিটি গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বপ্লমেয়াদি দাবি পর্যালোচনা করবে।

এজন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধিও থাকবে।




প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বাউফলে বিএনপির দুপক্ষের মারামারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সূর্যমনি ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন বাচ্চু আত্মগোপনে গেলে উপজেলা প্রশাসন সম্প্রতি নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। প্যানেল চেয়ারম্যান পদে ইউপি সদস্য (৯নং ওয়ার্ড) বশার মালকে সমর্থন দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব জোমাদ্দার এবং ইউপি সদস্য (১নং ওয়ার্ড) মো. ফারুক হোসেনকে সমর্থন দেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক মিন্টু। এ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও কার্যালয়ে প্যানেল গঠনে ইউপি সদস্যদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলে এতে ৯জন ইউপি সদস্য ভোট প্রদান করেন। যার মধ্যে উভয়ই সমান ভোট করে পান। একটি ভোট বাতিল হয়। সমান ভোট পাওয়ায় লটারির মাধ্যমে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বশার মাল তা মানতে রাজি না হলে উপজেলা পরিষদ ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠে, সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জোমাদ্দার তার লোকজন নিয়ে ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনকে মারধর করেন।

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জোমাদ্দারের বহিষ্কার চেয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের জাহাঙ্গীর টাওয়ারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ফারুক হোসেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সদস্য তরিকুল ইসলাম মস্তফা, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও মো. শাহবুদ্দিন। তারাও মাহবুব জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তির দাবি তুলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব জোমাদ্দার বলেন,‘এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি বা আমার লোকজন কাউকে মারিনি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী বলেন,‘দুই পক্ষের মতানৈক্যের কারণে নতুন প্যানেল গঠন করা সম্ভব হয়নি। আগের প্যানেলই বহাল থাকবে।’




বাংলাদেশে চাকরি করা সব ভারতীয়কে তাড়িয়ে দিতে বলল আওয়ামী লীগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে ‘২৬ লাখ ভারতীয় কাজ করে’ বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের ‘বিদায় করে’ দেশের তরুণদের চাকরির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানানো হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে দেওয়া আওয়ামী লীগের ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘মাননীয় উপদেষ্টা–২৬ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক যারা বাংলাদেশে চাকরি করে, তাদের তালিকা করে, চাকরি থেকে বিদায় করে, দেশের তরুণ বেকারদের সুযোগ তৈরি করতে হবে!’

ওই পোস্টে মন্তব্যের ঘরে আওয়ামী লীগের পেজ থেকে বলা হয়, ‘এই তথ্য উপদেষ্টাই দিয়েছিলেন, সুতরাং এই কাজ তারই সম্পাদন করতে হবে। এটাই তরুণদের দাবি বলে আমরা মনে করি।’

দলটির নিজস্ব ফেসবুকে করা এই পোস্টে অনেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন অপর্কমের তথ্য তুলে ধরে মন্তব্য করেছেন।

ওই পোস্টে একজন লিখেছেন, ‘তরুণদের দাবি, যাদের আপনারা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছেন, লজ্জা করে না আপনাদের, এতো বড় এ কাজটা রাজনৈতিক দলের নেতা, চোরের মতো পালিয়ে গিয়েছে, এমন কোনো সেক্টর নাই যেখানে দলীয়করণ ও দুর্নীতি করে নাই, আরে সবকিছু বাদ দিলাম, বাইতুল মোকারামের ইমাম সাহেবও পালাইতে হয়েছে, নির্লজ্জ কোথাকার আবার দেশের মানুষরে উসকানি দিয়ে কথা বল, নিজের পাপের জন্য ক্ষমা চাও আল্লাহর কাছে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘এতোদিন দেখতাম নেতায় পল্টি মারতো এখন আওয়ামী লীগে পল্টি মারছে।’




আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৪৬ জনকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, ২১ পুলিশ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় মানারাত ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নিহত আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহর বোন সাইয়েদা আক্তারের পক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

এ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ দেওয়া হলো।

এর আগে ঢাকায় সাতটি এবং চট্টগ্রামে একটি গণহত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। যেগুলোর ওপর তদন্ত চলমান রেখেছে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

অপরাধের ধরনে বলা হয়েছে, এক থেকে পাঁচ ও সাত থেকে দশ নং আসামিদের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় ও অন্যান্য আসামিরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র জনতাদের হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘঠনের অপরাধ।

যাদের আসামি করা হয়েছে

আবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক , সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ আলী আরাফাত, সাভার-আশুলিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, তৎকালীন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত এসপি মোবাশ্বিরা জাহান, সাবেক এসপি আব্দুল্লাহহিল কাফি, ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নির্মল চন্দ্র, ওসি এএফএম সায়েদ আহমেদ, এসআই আফজালুল, এসআই জলিল, এসআই মো. রাকিবুল এসআই আবুল হাসান, এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাসির উদ্দিন, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সুমন চন্দ্র গাইন, এএসআই বিশ্বজিৎ রায়, কসস্টেবল মুকুল, কনস্টেবল রেজাউল করিমসহ কতিপয় পুলিশ সদস্য, আশুলিয়া থানার আওয়ামী লীগ সভাপতি ফারুক হাসান তুহিন ওরফে তুহিন কুলু, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাদিম হোসেন, যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরদার, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. শামীম হোসেন, যুবলীগের আলমগীর হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ, সেক্রেটারি টিটু, সাভার ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সাভার আওয়ামী লীগের আলী হায়দারসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্যরা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট আশুলিয়ার বাইপাইলে ছাত্র-জনতার মিছিলে ১ থেকে ১২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১৩ থেকে ৩৬ নং আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে আহনাফসহ ৪৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ লাশগুলো ১৩ থেকে ১৬ নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্য ময়লার বস্তার মতো করে ভ্যানে তোলেন। থানার পাশে পুলিশের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাদের লাশ পুড়িয়ে দিয়ে গণহত্যার নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।




‘বিএনপি ভোট দেওয়ার অধিকার দিলেও আ.লীগ কেড়ে নিয়েছে’ : এবিএম মোশাররফ হোসেন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়েছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগ ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন।

বুধবার বিকেলে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা সবার অধিকার ফেরত দেব। ২০০৪ সালে ২ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কলাপাড়ায় এসেছিলেন। উপজেলায় ২টি সরকারি হাসপাতাল বেগম খালেদা জিয়া করেছেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি, তিনি অনেক জুলুমের শিকার হয়েছেন তবুও এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে পালিয়ে যাননি।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি

তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের নেত্রী কোথায়? এমন নেত্রীর রাজনীতি না করাই ভালো, যে নেত্রী দেশ ছেড়ে পালায়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউরের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক মো. সাইদুর রহমান সোহেল, মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহজাহান পারভেজ, ও সভাপতি আ. জলিল হাওলাদার, কলাপাড়া উপজেলা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ফারুক গাজী ও সাধারণ সম্পাদক মুছা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার প্রমুখ।