স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে খালেদা জিয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান।

শায়রুল কবীর খান বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আজ রাত ১ টার মধ্যে বসুন্ধরা এভার কেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে।

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]




তৌফিক-ই-ইলাহী ৪ দিনের রিমান্ডে




কলাপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ নারীসহ ৩ জন গুরুত্বর আহত ও জখম হয়েছে।

আহতরা হলেন- মো. মন্নান খাঁন (৫০), তার ছেলে মো. কাওছার খাঁন (২৫) ও স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।

মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করেন।

আহত মন্নান খাঁন ওই গ্রামের মৃত্যু কাঞ্চন আলী খাঁনের ছেলে।

আহতরা জানান, তারা উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। বিরোধীয় জমি তারা মালিক পক্ষের নিকট থেকে ইজা নিয়েছে। সেই জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় রশিদ মৃধা, তার ছেলে রাকিব মৃধা, ভাই নাসির মৃধা ও ভাতিজা ইমরান মৃধাসহ ৮/১০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুত্বর আহত ও জখম হয়। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসার সময় পথিমধ্যে তাদের বাধাগ্রস্থ করা হয়। এসময় আহত মন্নান খাঁনের পকেট থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা হাসপাতালে আসেন বলে অভিযোগ করেন আহতরা।

এবিষয়ে অভিযুক্ত এমরান মৃধার মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা নিজেরাই মারামারি করেছে। তাদের অস্ত্রের আঘাতে তারা আহত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হবে বলেও তিনি জানান।

কলাপাড়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, এবিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




শেখ হাসিনা-রেহানাদের পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দ বাতিল চেয়ে রিট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানাসহ পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বরাদ্দ করা ৬০ কাঠা প্লট বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী এ রিট করেন।

রিটকারী ১০ আইনজীবী হলেন মো. রেজাউল ইসলাম, আল রেজা মো. আমির, মো. গোলাম কিবরিয়া, মোহাম্মদ হারুন, মো. বেলায়েত হোসেন সোজা, কামরুল ইসলাম রিগান, হাসান মাহমুদ খান, শাহীনুর রহমান শাহীন ও মো. জিল্লুর রহমান।

রিটে প্লট বরাদ্দের সঙ্গে জড়িত এবং সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বরাদ্দের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটকারী আইনজীবীরা জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও প্লট নেন। এ ছাড়া ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।

তারা জানান, ২০২২ সালে শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যরা প্লট বুঝে পান। পরে বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অতি গোপনীয় বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া খোদ রাজউকেরই অনেকে এ বিষয়ে তেমন কিছুই জানেন না।

এ আইনজীবীরা আরও জানান, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০ কাঠা আয়তনের প্লট নিয়েছেন। প্রস্তাবিত কূটনৈতিক জোনে সব প্লট একত্রে সন্নিবেশিত করার সুযোগ দেয় রাজউক।




পটুয়াখালীর পৌর মেয়র, সদর উপজেলা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সহো ৪২ জনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: কাজী আলমগীর, সদ্য সাবেক পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদসহ ৪২ জন দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা বিএনপি কার্যালয়ের কেয়ারটেকার মোস্তফা আকন (৩৬) বাদি হয়ে রোববার দুপুরের দিকে পটুয়াখালী সদর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় আওয়ামীলীগের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতবৃন্দর মধ্যে আরও রয়েছেন, জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শোয়েব, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হুমায়ুন চৌধুরী, জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যরা।

সকল আসামীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, গত ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাদি মোস্তফা আকন কলেজ রোডস্থ বনানী এলাকায় বিএনপি কার্যালয়ে গেলে আসামীরা তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু বাদি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামীরা তাকে মারধর করে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং এক সপ্তাহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আসামীদের হুমকি-ধমকীতে প্রাণনাশের ভয়ে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ জসীম জানান, আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলা রুজু হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলার তদন্ত চলছে।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. হাসান সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ভূঁইয়াসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রোববার দুপুরে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আমলী আদালতে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলাটি দায়ের করেন শহরের সদর রোড এলাকার ব্যবসায়ী মেসার্স রশ্মি ইলেকট্রনিক্সের মালিক রেজাউল হক বাচ্চু। আসামীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপন করেন বাদি।

তবে এ ব্যাপারে সাবেক পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোয়েব বলেন,‘পটুয়াখালী বাসির সুখে দুঃখে, শহরের উন্নয়নে এবং সকল ভালো‌ কাজে আমরা তিনজন ছিলাম এখনও আছি। আমাদের ভালো কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গ্রুপ উদ্দেশ্যেপ্রনিতভাবে হয়রানির জন্য মামলা করেছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’




বাউফলে জামায়েতে ইসলামীর শান্তি ও সম্প্রীতির বিশাল সমাবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জামায়েতে ইসলামীর শান্তি ও সম্প্রীতির বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাউফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

প্রধান অতিথি ভাষনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছরে দেশে লুটপাট করেছে। আমরা তা করবো না। আমরা রাজনৈতিক দল ও মতের উর্ধ্বে থেকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে বাউফলের উন্নয়ন করবো। আর সেই উন্নয়ন সকল দলের অনুসারীদের মধ্য থেকে সৎ, দক্ষ ও দেশ প্রেমিক মানুষদের সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন করবো। তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবো।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত বাউফলের স্থানীয় পাবলিক মাঠে বাউফল উপজেলা জামায়েতে ইসলামীর আয়োজিত শান্তি ও সম্প্রীতির এক বিশাল সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত সরকার আমাকে একাধারে ৬৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছি। সরকারের হুলিয়া মাথায় নিয়ে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। আমি আপনাদেরকে অসম্ভব রকম ভালোবসি। বাউফল উন্নয়ন ফোরামের মাধ্যমে বাউফলের অসহায় মানুষকে সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করেছি। অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। একটা বিষয় আমি আপনাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই ৫ আগস্ট ফেসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাউফলে যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সাথে জড়িত ছিলেন তারা আমাদের আপনজন ছিলেন না। তাদেরকে আমি বিগত সরকারের দোষর বলবো।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলার আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়েতের পটুয়াখালী জেলার আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ আলম, জামায়াতের পৌর আমির রাসেল মাহমুদ, জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য মাওঃ ছোবাহান, কর্ম পরিষদ সদস্য এটিএম নজরুল ইসলাম, কর্মকরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ দাইয়ান, কেন্দ্রীয় শিবিরের আইন বিষয়ক সম্পদক মুনতাসির মুজাহিদ, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মাহাদি হাসান, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান, বাউফল উপজেলা ছাত্র শিবিরের দক্ষিন শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন, পূর্ব শাখার সভাপতি মো. লিমন হোসেন, সমাজ সেবক আবুল কাসেম। সমাবেশ পরিচালনা করেন অধ্যাপক খালিদ হোসেন।




সব শ্রেণির পাঠ্যবই পরিমার্জিত হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ—সবার মতামত উপেক্ষা করেই নতুন কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ে ইচ্ছেমতো বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা ও নৈতিকতা বাদ দিয়ে ‘রাজনৈতিক’ বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছিল পাঠ্যবই।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বইয়ের নানা অসংগতি বাদ দিয়ে বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতগতিতেই চলছে এই কাজ। শিক্ষাবিদরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃত করে ছাপিয়েছে। সেগুলো সংশোধন ছাড়া কোনোভাবেই প্রকাশযোগ্য নয়। তাই বই পরিমার্জন ­করা জরুরি। বিকৃত ও ভুল তথ্য সংযোজিত বই আগে দেওয়ার চেয়ে পরিমার্জিত বই দেরিতে দেওয়াও ভালো।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশের ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে এখনো ছাপা হয়নি উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যবই। মেলেনি সিলেবাসও। এ স্তরের পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জনের কাজ চলমান থাকায় বই পেতে আরও বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শেষ করে পাণ্ডুলিপি প্রেসে পাঠানো যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলো বাদে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি—এ তিনটি বিষয়ের চারটি পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০১৪ সাল থেকে বাংলা সাহিত্য পাঠ ও সহজপাঠ, ২০১৫ সাল থেকে ইংলিশ ফর টুডে এবং ২০২১-এ প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই এখনো শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর উদ্যোগ নেয় পরিমার্জনের। বাংলা বইয়ের কাজ শেষ হলেও বাকি এখনো ইংরেজি ও আইসিটি।




পটুয়াখালী জেলার ৭৫ ইউপির কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হয়নি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি পটুয়াখালীর ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কার্যক্রম।

হামলা-মামলা, হয়রানির ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। কেউ কেউ হামলার শিকার হয়ে কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে। কোনো কোনো চেয়ারম্যানের লাগামহীন দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্ফোরণে জন রোষানল থেকে বাঁচতে এলাকা ছেড়ে রয়েছেন আত্মগোপনে। এসব জনপ্রতিনিধিদের মাসাধিকাল অনুপস্থিতিতে মানুষ শুধু সেবা বঞ্চিতই হচ্ছে না, পদে পদে হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

ছাত্র-জনতার কঠোর আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতেও টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন। ছাত্র-জনতার সঙ্গে রাজপথ দখলে চলে যায় বিএনপি-জামায়াত শিবিরসহ আওয়ামীবিরোধী শিবিরের। ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতাবলে ভোটারবিহীন নির্বাচনে পটুয়াখালীর প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান, সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ক্ষমতাকালে প্রত্যেকেই পদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় পুরো রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। দলীয় এসব চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদেরকে জড়িয়েছেন নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে।

পটুয়াখালী জেলার ৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ২/৪টি ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগ মনোনীত। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের একমাত্র কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয়। বাকি ১২টি ইউপির চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগ মনোনীত ও দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। ছোটবিঘাই ও বড়বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও মরিচবুনিয়া ইউপির চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণের প্রস্তাব সবে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এ ছাড়া কোথাও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ঝামেলা নেই বলে জানান পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত আরা জামান ঊর্মি।

ছোটবিঘাই ইউপি সদস্য সুলতান প্যাদা বলেন, চেয়ারম্যানের কাম (কাজ) অন্য কাউকে দিয়া হয় না। এখন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ জনগণ। অপসারিত এই ৩ ইউপির চেয়ারম্যানই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

গলাচিপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাই এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কতদিন পারব জানি না। দু’একটি ইউনিয়নের সদস্যরা তাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমার কাছে মৌখিক অভিযোগ দিচ্ছে। তাদেরকে বলছি লিখিত দেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউপির ২৭ আগস্ট বহরমপুর ও ৪ সেপ্টেম্বর দশমিনা সদর ইউনিয়নের এই দুই চেয়ারম্যানকে অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণে অপসারণ করে দশমিনা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজনিরা।

দুমকি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন। এসব ইউপিতে প্যানেল চেয়ারম্যানরা মোটামুটি দায়িত্ব পালন করলেও জন্ম ও মৃত্যু সনদ নিশ্চিত করতে আইডি ও পাসওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৩ জন সরকারী কর্মকর্তাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুমকির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. চাহীন মাহমুদ।

কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউপির ২-৩ জন ছাড়া বাকি সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান। হামলা-মামলার ভয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সবাই গা-ঢাকা দিলেও বিএনপির সঙ্গে রফাদফা করে ২-৪ জন এলাকায় এলেও অফিস করছেন আড়ালে। কুয়াকাটা সংলগ্ন লতাচাপলির চেয়ারম্যান আনসার মোল্লা সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তার স্ত্রী। এখানে একজন সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম।

রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান থাকলেও ছোটবাইসদিয়া ও মৌডুবির চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। রাঙ্গাবালী সদরের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান মামুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলে শূন্য আসনে এখনো নির্বাচন হয়নি। বাকি দুজন চেয়ারম্যান বিএনপির সঙ্গে তালমিলিয়ে সময় সুযোগমতো অফিস করছেন বলে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা জানান।

বাউফলের ১৫টি ইউনিয়নের ১৫ জন চেয়ারম্যানই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। এরা সবাই সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলয়ের নেতা ও আত্মীয়স্বজন। সবাই এখন লাপাত্তা। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করে ৫ জন চেয়ারম্যান এলাকায় উঠলেও তারা চলাফেরা করছেন সাবধানে। আসম ফিরোজের আপন দুই ভাইয়ের ছেলে কালাইয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মনির মোল্লা ও চন্দ্রদ্বীপের আলকাস মোল্লা, কনকদিয়ার শাহীন চেয়ারম্যানসহ ৯টি ইউপির চেয়ারম্যানরা হামলা-মামলার ভয়ে এখনো এলাকায় ফিরতে পারেননি। সূর্য মনি ও ধুলিয়া ইউনিয়নে প্রশাসক হিসাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বগা ও কালিশুরি ইউনিয়নে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নাজিরপুর, কালাইয়া ও কনকদিয়া ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দুটি ইউনিয়ন প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের একজন চেয়ারম্যান বিএনপি দলীয় হলেও বাকি ৫ জন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। ইতোমধ্যে মাদবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাবলু কাজীকে অপসারণ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তন্ময় হালদারকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এসব ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম বলেন, ইতোমধ্যে অনেক ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিছু ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও যারা অনুপস্থিত রয়েছেন বা থাকবেন তাদের ব্যাপারেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




গলাচিপায় ইসলামী আন্দোলন গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩ টায় গলাচিপা পৌর মঞ্চ প্রাঙ্গনে ৭ দফা দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর উদ্যোগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা জাকির হোসেন এর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ কাজী গোলাম সারোয়ার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রধান করেন সহ- সভাপতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, পটুয়াখালী জেলা শাখার আলহাজ্ব মাওলানা আবুল হাসান বোখারী, উপদেষ্টা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন মাতুব্বর, এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর সভাপতি মাওলানা মোঃ রিপন।

এ সময় বক্তারা বলেন ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয় রক্ষা করা দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা দুর্নীতি সন্ত্রাস বৈষম্য ভোটাধিকার রক্ষার্থে ( পি,আর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ৭ দফা দাবী তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথি বলেন, জনগণকে এমন সেবা-ই দিতে চাই, যেমনটা সাধারণ জনগণ চায়। এই দেশটা হলো জনগণের, জনগণের টাকায় দেশ চলে। মানুষ সেবা চাওয়ার পরেও পাবে না তা কখনোই হবে না, বরং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে দেওয়া হবে। চুরি, ডাকাতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরো উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা‌ পরিষদ বাংলাদেশ, গলাচিপা উপজেলা শাখা, পটুয়াখালী, মাওলানা মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা‌ পরিষদ বাংলাদেশ, গলাচিপা উপজেলা শাখা, পটুয়াখালী, হাফেজ মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হাসান, নায়েবে মুহতামিম, কাসেমুল‌ উলুম মাদ্রাসা গলাচিপা সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।




আওয়ামী লীগ লুটপাট করেছে, আমরা তা করবো না : ড. শফিকুল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছরে দেশে লুটপাট করেছে। আমরা তা করবো না। আমরা রাজনৈতিক দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে উন্নয়ন করবো।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাউফলের স্থানীয় পাবলিক মাঠে উপজেলা জামায়েতে ইসলামী আয়োজিত শান্তি ও সম্প্রীতি তিনি এ কথা বলেন।

ড. শফিকুল বলেন, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় গত সরকার আমাকে একাধারে ৬৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছি। সরকারের হুলিয়া মাথায় নিয়ে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। আমি আপনাদেরকে অসম্ভব রকম ভালোবাসি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাউফলে যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা আমাদের আপনজন ছিলেন না। তাদেরকে আমি বিগত সরকারের দোসর বলবো।

বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে শান্তি সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, জামায়েতের পটুয়াখালী জেলার আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহ আলম, বক্তব্য রাখেন জামায়াতের পৌর আমির রাসেল মাহমুদ, জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য মাও. ছোবাহান, কর্ম পরিষদ সদস্য এটিএম নজরুল ইসলাম, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ দাইয়ান, কেন্দ্রীয় শিবিরের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুনতাসির মুজাহিদ, ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মাহাদি হাসান, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান, বাউফল উপজেলা ছাত্র শিবিরের দক্ষিণ শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন, পূর্ব শাখার সভাপতি মো. লিমন হোসেনসহ অনেকে।