আন্দোলনে ৮৭৫ জন নিহত, ৭৭ শতাংশই গুলিতে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন পরবর্তী সময়ে রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই গণঅভ্যুত্থানে কতজন নিহত হয়েছেন সে ব্যাপারে একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনে ১৬ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৭ শতাংশই গুলিতে মারা গেছেন। এছাড়া এই আন্দোলনে আহতের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরএসএস এই তথ্য জানিয়েছে।

১২টি জাতীয় দৈনিক, এইচআরএসএসের তথ্য অনুসন্ধানী ইউনিট ও সারা দেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মতে, গণমাধ্যম, হাসপাতাল ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে যেসব বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাচ্ছে তারা, তাতে তাদের মনে হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে এক হাজার হবে।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ৭৭২ জনের মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৯৯ জন বা ৭৭ শতাংশ গুলিতে নিহত হয়েছেন। ৬১ জন (৮ শতাংশ) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে। ৮৫ জনকে (১১ শতাংশ) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যান্য কারণে মারা গেছেন ২৭ জন (৪ শতাংশ)।

কোন বিভাগে কত নিহত হয়েছেন, সেই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিহত ৮৭৫ জনের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক ঢাকা বিভাগে ৫৪০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৯১ জন, খুলনায় ৮১ জন, রাজশাহীতে ৬৪ জন, ময়মনসিংহে ৩৮ জন, রংপুরে ২৯ জন, সিলেটে ২০ জন এবং বরিশালে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তিদের একাংশের বয়স, পেশা, মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৬ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ৩২৭ জন এবং ৪ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (অনেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যান) ৫৪৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ৭৭ শতাংশ গুলিতে মারা গেছেন। ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি মারা গেছেন। এ হার ৫৩ শতাংশ। আর ৩০ বছরের মধ্যে বয়স ধরলে, নিহতের হার দাঁড়ায় ৭০ শতাংশে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী, এ হার ৫২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন গুলিতে এবং পুলিশের হামলায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য আদেশ দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, আনসার, সোয়াট, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলির বেআইনি ব্যবহার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, এ কে ঘরানার অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সারা দেশে থানা (পাঁচ শতাধিক), সরকারি স্থাপনা এবং সংখ্যালঘুদের স্থাপনায় হামলা–ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

এইচআরএসএস জানায়, নিহত ৮৭৫ জনের মধ্যে ৭৪৩ জনের নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, সাংবাদিক, পেশাজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শিশু ও নারীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থক আছেন। আন্দোলনে কমপক্ষে ১০৭টি শিশু, ৬ জন সাংবাদিক, ৫১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ১৩ জন নারী ও মেয়েশিশু নিহত হয়েছেন।

নিহত ৮৭৫ জনের মধ্যে ৬১৯ জনের বয়স সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস। নিহতদের মধ্যে ৪ বছরের আহাদ ও ৬ বছরের রিয়া গোপসহ প্রায় সব বয়সী মানুষ রয়েছেন। ৬১৯ জনের মধ্যে ১০৭ শিশু (১৮ বছরের কম বয়সী) রয়েছে। এ ছাড়া ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী বা তরুণ ৩২৭ (৫৩ শতাংশ) জন, ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সী বা মধ্যবয়সী ১৫৮ (২৬ শতাংশ) জন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ২৭ জন (৪ শতাংশ) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬১৯ জনের মধ্যে ৭০ শতাংশেরই বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।

পেশাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৫২ জনের পেশা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ১৮৪ জন (৫২ শতাংশ), শ্রমজীবী ৭০ জন (২০ শতাংশ), আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ৫১ জন (৫ শতাংশ)।




মির্জাগঞ্জে আল্লামা সাঈদীর স্মরণে আলোচনা সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ:) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী এবং আহতদের স্মরণে’ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মাধবখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মহিউদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মো: শাহ আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কদমতলী উত্তর থানার সদস্য মো: মশিউর রহমান ইউনুস, বরিশাল মহানগর কোতোয়ালি থানা জামায়াতের সদস্য মাওলানা সৈয়দ কামাল হোসাইন ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল হক প্রমুখ।

প্রধান অতিথি বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। ইসলাম মানবতার ধর্ম, যেখানে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। যার যতটুকু পাওনা তাকে ততটুকু বুঝিয়ে দেওয়াই মুসলমানদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সেই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য খোলাফায়ে রাশেদান তাদের জীবন দিয়েছেন, যুগে যুগে ইসলাম প্রিয় ব্যক্তিত্বরাও তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকেও ফ্যাসিবাদী সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফাঁশিরকাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে। আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই সত্যের কাফেলা থেকে বিন্দুমাত্রও পিছপা হব না।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন এবং যারা আহত হয়েছেন তারা এই জাতির বীর সন্তান। তাদের মা-বাবা গর্বিত কারণ তারা সু-সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলের ত্যাগকে কবুল করুন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছায়াতলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (রহ:) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শাহাদাৎ বরণকারী এবং আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।




ঐক্য বিনষ্ট করার চক্রান্ত চলছে, সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে আমাদের যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঐক্যকে যেন আমরা অটুট রাখতে পারি।আজকে সু পরিকল্পিতভাবে সেই ঐক্যকে বিনষ্ট করার একটি চক্রান্ত চলছে। সে বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী ছিলেন গণতন্ত্রের সত্যিকারের নায়ক। আমরা যখন কথা বলতে পারিনি, তখন মুশফিক আমেরিকা এবং ইউরোপে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন সন্তান বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম নেওয়া দরকার। ’

তিনি বলেন, ‘মুশফিক গণতন্ত্রের সত্যিকারের হিরো (নায়ক) ছিলেন। মুশফিক আমাদের কাছে, এই দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে তিনি হিরো হিসেবে থাকবেন। আমরা যখন দেশে অত্যাচার নির্যাতনের মুখে কথা বলতে পারছিলাম না, তখন মুশফিক গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের হয়ে বহির্বিশ্বে কণ্ঠ উচ্চকিত করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি মানুষের কাছে হিরো হয়ে থাকবেন।’

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ফুলেল সংবর্ধনা দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্যে দেন সরকারি কর্মকর্তা সমিতির নেতা ড. নেয়ামত উল্যাহ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দচন্দ্র প্রমাণিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, কবি আব্দুল হাই সিকদার। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম প্রমুখ।




শেখ হাসিনার নতুন ফোনালাপ ফাঁস, নিজেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এক ফোনালাপে তিনি পদত্যাগ করেননি বলে দাবি করেছেন।

আজ শুক্রবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নতুন একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। যেখানে শেখ হাসিনা জানান, তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনিই। এ সময় হত্যা করে ড. ইউনূস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন বলে দাবি করেন শেখ হাসিনা।

ফোনালাপে শেখ হাসিনা জানান, সাংবিধানিক পদ্ধতিতে যেভাবে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয় তা তিনি করতে পারেননি। তিনি চাননি লাশের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় থাকতে। তাই দ্রুত গণভবন ছেড়ে দেন।

বেলজিয়ামে অবস্থানরত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারির সঙ্গে টেলিফোনে এ কথা জানান শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে তো জবর দখল করছে। তার কোনো লিগালিটি নাই। উপদেষ্টা বলে আমাদের কোনো পদ নাই। মানুষ খুন করে মেরে, একটা সিচ্যুয়েশন তৈরি করে তারপর সে ক্ষমতায় গেল।’

এ সময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘জ্বী আপা জ্বী আপা এগুলো আমরা ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে জানাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো পদত্যাগ করি নাই। আমাদের কনস্টিটিউশনের আর্টিক্যাল ৫৭ অনুযায়ী যেভাবে পদত্যাগ, আমার কিন্তু সেভাবে পদত্যাগ করা হয়নি। সে কিন্তু ৬ তারিখের জায়গায় ৫ তারিখে (লং মার্চ) নিয়ে আসলো। ৫ তারিখে নিয়ে আসার ফলে এমনভাবে চারদিকে লোক ঘেরাও…আমি দেখলাম যে এখন যদি ফায়ার ওপেন করে আমার এখানের সিকিউরিটি… তাহলে অনেক লাশ পড়বে। লাশ ফেলে আমি ক্ষমতায় থাকতে চাই না।’

ফোন তখন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘জ্বী আপা, জ্বী।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘যখন এমন সিচ্যুয়েশন হয়ে গেল যে আমার সিকিউরিটি যারা ছিল তারা বাধ্য হয়ে..তখন আমাকে সরে যেতে হলো গণভবন থেকে। যার ফলে বঙ্গভবনে গিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা আমি দেইনি। কাজেই আমার কিন্তু পদত্যাগ হয়নি। আমি এখনো বাংলাদেশের কনস্টিটিউশনাল ইলেকটেড প্রাইম মিনিস্টার।’

জবাবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আপা, আপনি চলে আসবেন তো। আর বেশি দিন নাই।’

এর আগে তানভীর নামে এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ওই ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেছেন,‘আমি দেশের খুব কাছাকাছি আছি। যাতে আমি চট করে ঢুকে পড়তে পারি।’

উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে অনেকেরই কথোপথনের অডিও ফাঁস হচ্ছে।




নির্বাচন ব্যবস্থা, দুদক ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে কমিশন প্রধানরা যা বলছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সংস্কারে ছয় বিশিষ্ট নাগরিককে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের এক মাস পার হওয়ার পর বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত কমিশনগুলোতে যাদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তাদের প্রায় সবাইকেই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোর নানা ইস্যুতে আগে থেকেই সরব দেখা গেছে।

সংস্কার এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সাথে কথা হয় বিবিসি বাংলার।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে তাদের কর্মপরিধি ও প্রক্রিয়া কী হবে তাও এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে, সংস্কারের ব্যাপারে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন তারা।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশনের প্রধান হিসেবে যাদের দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছেন তারা হলেন,

  • নির্বাচন ব্যবস্থা – বদিউল আলম মজুমদার
  • পুলিশ প্রশাসন – সফর রাজ হোসেন
  • বিচার বিভাগ – বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান
  • দুর্নীতি দমন কমিশন- ইফতেখারুজ্জামান
  • জনপ্রশাসন – আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী
  • সংবিধান – শাহদীন মালিক

কমিশন প্রধানরা আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন।

গত সপ্তাহেই বিবিসি বাংলার সঙ্গে এই ইস্যুতে কথা বলেছেন শাহদীন মালিক।

যেখানে মি. মালিক বলেন, “বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে যা যা দরকার তা বর্তমান সংবিধানেই আছে। বিদ্যমান সংবিধান দিয়েই চাইলেই সংকটের সমাধান সম্ভব”।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে। এখন অনেকে সংস্কারের কথা বলে। কিন্তু আমার প্রশ্ন এই সংবিধানের যে ধারাগুলো আছে সেটাতে আসলে অসুবিধা কোথায় সেটা তো জানতে হবে।

“যারা সংস্কারের কথা বলছে তারা কোনটা সংস্কার চায় সেটা স্পষ্ট করে বলেনি,” যোগ করেন তিনি।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কমিশনগুলোর কাজ তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শসভার আয়োজন করবে।

চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শসভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে বলেও ভাষণে জানান প্রধান উপদেষ্টা।




স্বৈরাচার সরকারের প্রধান টার্গেট ছিল আলেম সমাজ : ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে মুফতী ফয়জুল করীম

 

বরিশাল অফিস :: মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন- ইসলাম সত্য, সুন্দর দেশ গড়ার পক্ষে। জনগণ অতীতের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। বিগত ১৬ বছরে যারা দেশকে লুটেপুটে খেয়েছে, দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির প্রচলন করে দেশকে ভয়াবহতার দিকে নিয়ে গেছে সেই আওয়ামী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না জনগণ।

বৃহস্পতিরার( ১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার আয়োজনে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের সর্বত্র ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ওলামায়ে কেরামের করনীয় শীর্ষক ‘দ্বি-বার্ষিক ওলামা সম্মেলন শাখায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তৃতা করেন ।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারিত্বের অবসান চায়। যদি কেউ প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চায় ফিরে যেতে চায় ছাত্র-জনতা পূনরায় তাদের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে। তিনি নবা চাঁদাবাজ, দখলবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের দমন করতে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু করার আহ্বান জানান।

ফয়জুল করীম বলেন,১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার এরশাদ এর পতন ও সর্বশেষ ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান- সর্বক্ষেত্রেই গণমানুষের ক্ষোভ, অপ্রাপ্তি ও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মূল আকুতি ছিলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের। সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পাশাপাশি প্রত্যেকটা আন্দোলনেই আলেম-ওলামাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য বিগত দিনে আলেম সমাজকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বিগত দিনে ফ্যাসিবাদী সরকার আলেমদের কন্ঠরোধ করতে ব্যাপকহারে শোষন- নিপীড়ন চালিয়েছেল। তারপরেও আলেম সমাজ সর্বদা ন্যায় ও দেশের পক্ষে কথা বলেছে। তাই দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশে আলেম সমাজের উপর আর যেন দমন পীড়ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগামীতে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন তথা ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম আয়ের্থে চরমোনাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় উপদোয়া প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্ম্যদ আবুল খায়ের, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতী বেজাউল করীম আবরার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী এক্স কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর সভাপতি প্রফেসর লোকমান হাকিম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা সহ-সভাপতি শেখ সামছুল আলম মিলন, মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা আবুল খায়ের আশরাফী, জেলা অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক এস এম রফিকুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আরিফুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ সহ জেলা ও উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে প্রধান অতিষ্ঠি বিগত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০২৪-২৫ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।




‘অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে জামায়াত’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে জামায়াত।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৩টায় নগরীর সাফা আর্কেডে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম জোনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আল্লাহ তায়ালা মজলুম সংগঠন জামায়াতে ইসলামীসহ গোটা দেশের প্রতি গত ৫ আগস্ট করুণা করেছেন। দেশের সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, পেশাজীবী, ওলামায়ে কেরাম, সুশীল সমাজসহ সকল শ্রেণি পেশার ওপর গত সাড়ে ১৫ বছরের যে অত্যাচার ও নির্যাতন, সেইসব থেকে আল্লাহ তায়ালা সবাইকে মুক্তি দিয়েছেন, আমাদের বুকের ওপরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসকের জগদ্দল পাথর সরে গিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা উপহার পেয়েছি। এই ফ্যাসিবাদি দুঃশাসনের অবসানের জন্য কোটি কোটি মানুষ যে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করেছে, রক্ত ঝরিয়েছে তা বাংলার ইতিহাসে আজীবন লেখা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য থেকেই আমাদের নেতৃবৃন্দকে হত্যা এবং পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। কিন্তু ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। জুলাই মাসের তরুণ ছাত্রসমাজের উত্থাল আন্দোলন এবং রক্তের মধ্য দিয়ে দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার এসেছি, নতুন বাংলাদেশ গড়তে অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে জামায়াত।

‘দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাবো, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সৃষ্টির জন্য যে স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার, সরকারকে জনগণ সে কাজের জন্য সহযোগিতা করুক।’

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি যৌক্তিক সময়, না অতি স্বল্প আবার দীর্ঘও নয়। সমস্ত কাজ সাধন করতে গেলে আবার লম্বা সময় প্রয়োজন হবে। মিনিমাম একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমাদের যতটুকু সংস্কারের প্রয়োজন। সে সংস্কারটুকু শেষ করে একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার মধ্যদিয়ে এই দেশের শহীদদের স্বপ্নকে পূরণ করা হোক।

চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দল-মত-নির্বিশেষে পুরো জাতিকে এক হতে হবে। সাম্প্রদায়িক হানাহানি, বিশৃঙ্খলা দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে আমরা আছি।

সভাপতির বক্তব্যে এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা শাহজাহান বলেন, সর্বস্তরে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। জনগণের সেবায় জনগণের দোড়গোরায় পৌঁছে যেতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে হবে। পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই পরিবর্তনের জন্য আমাদের যেমন মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে, তেমনিভাবে মাঠে ভূমিকা রাখার জন্য এগিয়ে যেতে হবে। জাতির কল্যাণে আমরা যেন যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারি আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দান করেন।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন প্রমুখ।




পটুয়াখালীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর ঝাউতলা ফোরলেন ওয়াকওয়েতে অনুষ্ঠিত হয় এ সম্মেলন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল বশর আজিজী।

ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৩ জন শহীদ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হয়েছে। আমরা আজকের এই দিনে তাদের স্মরণ করছি এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি আমরা এই ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক সংগঠনকে আজীবনের জন্য বাংলার জমিনে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি, কারণ এই খুনি দলের রাজনীতি করার কোনো অধিকার বাংলার জমিনে নেই।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রশিদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মুফতি মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মাওলানা আর আই এম অহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ড পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. আনসার উল্লাহ আনসারী এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ জসিম উদ্দিন জাফর।

অনুষ্ঠানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম, বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে যা বললেন জয়শঙ্কর




পটুয়াখালীতে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির নামে যুবলীগ নেতার মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে জেলা কৃষকদল নেতার সহায়তায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান।

বুধবার(১১ সেপ্টম্বর) পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন সিকদার ও তার ভাই একই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য জাকির সিকদার সহ মোট ১০ জনকে আসামি দায়ের করা হয়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, হাবিবুর রহমান একজন মুদি মনোহরী ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভাড়া দেয়ার ব্যবসা করেন। তার কাছে বশির সিকদার সহ আসামীরা তার কাছে ১২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি এই চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে পরবর্তীতে পুনরায় চাঁদা দাবি ও মারধোর করে। এক পর্যায়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা হাবিবুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আসামিরা তাকে মারধর করে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও প্রায় এক লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায় আসামিরা। পরে তিনি আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলা দায়ের করতে সহায়তা করায় আদালত প্রাঙ্গণে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জেলা কৃষক দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান টিটু।

জেলা কৃষক দলের সভাপতি মনিরুজ্জামান টিটু বলেন, আমি আদালতের এজলাসের মধ্যে বসে ছিলাম। আর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বশির সিকদার, তার বড় ভাই জাকির সিকদার, ভাইয়ের ছেলে জাহিদুল, শহিদুল, আরিফ, রাব্বি, সিফাত এরা এজলাসের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন এজলাস থেকে এ্যাডভোকেট কবির আমাকে জোর করে বাইরে বের করতে চেষ্টা করে। এরা কোনদিন বিএনপি করে নাই। ওরা আওয়ামীলীগের সাথে মিলে আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ বিষয়ে মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন সিকদার বলেন, আমার সাথে টিটু ২০১০ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখানে আমি ৩১০০ ভোট পাই আর টিটু ৫০০ এর মতো ভোট পায়। মূলত ওই থেকেই শত্রুতা। আমার পরিবার বিএনপি দল গঠনের সময় থেকেই বিএনপি করে আসছি। আর ও আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে আসছে। টিটু আমার নামে শত্রুতা করে আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।