সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসের খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রাত ১০টার দিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার এম এ মান্নানের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

সুনামগঞ্জ শহরে গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা হাফিজ আহমদ নামের এক ব্যক্তি দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় দুই নম্বর এজাহার ভুক্ত আসামি এম এ মান্নানসহ মোট ৯৯ জনকে আসামি করা হয়। বাদীর ভাই শিক্ষার্থী জহুর আহমদ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।

পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, মামলার পির এম এ মান্নানকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে আছেন। ঘটনার বিয়য়ে জানতে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবে পুলিশ।




হামলা-চাঁদাবাজির অভিযোগে মির্জাগঞ্জে বিএনপির ৩ নেতাকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও মারামারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির ৩ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া ও সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অব্যাহতি পাওয়া তিন নেতা হলেন উপজেলার মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা খান ও উপজেলা বিএনপি গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. গোলাম সরোয়ার হাওলাদার।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব স্নেহাংশু সরকার অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির ওই ৩ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাটবাজারে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কেউ কেউ আদালতে মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে গোলাম সরোয়ার হাওলাদার কারণ দর্শানোর কোনো জবাব দেননি। বাকি দুজনের জবাব গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পদ থেকে তিনজনকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া গোলাম সরোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ জানতে পারলাম আমাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে আমি কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাইনি। তা ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।’




গলাচিপায় জামায়াত ইসলামীকে সমর্থন জানিয়ে সদস্য হলেন মন্দিরের সেবক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নয়। পটুয়াখালীর গলাচিপায় সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের সিপাইর হাট সংলগ্ন শ্রী নাগমাতা সেভা শ্রম ও মা মনষা মন্দিরের আঙিনায় মতবিনিময় সভাটি হয়।

সভায় আগামী রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন জানিয়ে ফরম পূরণ করে মন্দিরের সেবক ও সাধক শ্রী আচার্য গোবিন্দ গোস্বামী সহযোগী সদস্য হন।

এছাড়াও সাত থেকে আট জন সহযোগী সদস্য হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন বলে জানা যায়।

মতবিনিময় সভায় আমখোলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ হুমায়ুন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. শাহ আলম।

তিনি বলেন, হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নয়। ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে সার্বিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে দেশে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা মো. শহীদুল ইসলাম আল কায়ছারী, গলাচিপা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক মাওলানা ইয়াহিয়া খান, গলাচিপা উপজেলা জামায়াতে আমির ডাক্তার মাওলানা মো. জাকির হোসেন ও সেক্রেটারি মো. শামীম হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, শ্রী আচার্য গোবিন্দ গোস্বামী। তিনি বলেন, আমাদের যে ভুল ধারণা ও ভয় ছিল সেটি আর নাই। আমরা মনে করি জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিতে থাকবে।

উপজেলা জামায়াতে আমির ডাক্তার মাওলানা মো. জাকির হোসেন জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ।

সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের যে ভুল ধারনা, ভয় ও আতংক ছিলো তা দূর হয়েছে। ফলে অনেক লোক জামায়াতের সমর্থক ও সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে শুরু করেছে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।




ঢাবিতে সব ধরনের রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত




বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ পৌর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

পৌর বিএনপির আহবায়ক নাসির উদ্দিন জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধণ করেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান। প্রধান বক্তা ছিলেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হারুন অর-রশিদ জোমাদ্দার, সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন হাওলাদার।

বক্তব্য রাখেন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমান চুন্নু, আলিম জোমাদ্দার, জাহাঙ্গীর হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল, জিয়াউল আহসান জুয়েল, ইশতিয়া আহাম্মেদ মাসুদ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এনায়েত হোসেন খান বিপু, সদস্য সচিব রুবেল জোমাদ্দার, পৌর যুবদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রোমান, যুগ্ন আহবায়ক ইমরান খান সালাম, সদস্য সচিব মনির হোসেন হাওলাদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহমুদ খান সুমন প্রমুখ।

সম্মেলনে বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির নয়টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের সাথে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।




সেনাবাহিনীকে সবখানে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া সমীচীন হবে না: ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সেনাবাহিনীকে সবখানে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া সমীচীন হবে না জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে সেসব এলাকায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সহায়তা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মানে অন্যরা কাজ করছে না। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সেসব এলাকায় দেওয়া প্রয়োজন যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু যেসব এলাকা শান্তিপূর্ণ আছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই সমস্ত বিষয় নিয়ন্ত্রণ করছেন, সেসব এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সমস্যা তৈরি করা সমীচীন ও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিবেচনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদী হাসিনার সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ১৬ বছরে অনেক অন্যায়-জুলুমের শিকার হয়েছি ও ত্যাগ শিকার করছি। আমরা সবাই অনেক আশাবাদী হয়ে আছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারা জঞ্জালকে দূর করে দেশের এমন একটি পরিবশে তৈরি করবেন, যেখানে সুস্থ উপায়ে ও সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেবেন। সেই নির্বাচনে জনগণের একটি পার্লামেন্ট তৈরি করবেন।

‘সবদিক চিন্তা করে সামনে যেন সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ও পার্লামেন্ট হয়, আর যেন মানুষের প্রতি অন্যায় অত্যাচার না হয়। ছোট ছোট শিশুদের গুলি করে হত্যা ‍করা না হয়, শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য যার যার সঙ্গে কথা বলা ও যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তাই করার জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ বলেন ফখরুল।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শেখ হাসিনার বিচার চেয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম পাকিস্তানের সঙ্গে। ২০২৪ সালে যুদ্ধ করতে হলো দেশের একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। ছাত্র আন্দোলনে ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন শহীদ ও হাজারও মানুষ আহত হয়েছেন। স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১২ সাল থেকে আমাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। সাত শর বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানসহ সাধারণ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিঃস্ব করা হয়েছে। তাদের আমলে ঠাকুরগাঁওয়ে নয়জনকে হত্যা করেছে।




‘আমরা যদি আওয়ামী লীগের মতো শুরু করি, আওয়ামী লীগের মতোই দশা হবে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিএনপি নেতাকর্মীরা যদি আওয়ামী লীগের মতো শুরু করে তাহলে তাদেরও আওয়ামী লীগের মতোই দশা হবে বলে মন্তব্য করেছন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের দাবিতে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিজা ফখরুল বলেন, ‘মনে রাখবেন এই মুক্ত সেই পর্যন্ত মুক্ত থাকবে, স্বাধীন থাকবে, যতদিন আমরা এটাকে স্বাধীন রাখতে পারব। আমরা যদি এখন আওয়ামী লীগের মত শুরু করি, তাহলে কি আমরা টিকতে পারব? আমাদেরও আওয়ামী লীগের মতোই দশা হবে। এ জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আমরা আকুণ্ঠ অনুরোধ থাকবে আপনারা নিজেদেরকে মানুষের কাছে প্রিয় বানান। কারও ওপর অন্যায়-নির্যাতন করবেন না।’

সনাতনী ধর্মের মানুষদের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশাল একটা অংশ রয়েছে যারা সনাতনী ধর্মের মানুষ। তারাতো আমাদের আমানত, আমরা হচ্ছি বৃহত্তর সংখ্যাগোষ্ঠী। তাই এই আমানত রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। সামনে দূর্গাপুজা আসছে, সেই পুজায় যেন শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা হয়, সেগুলো আমাদের দেখতে হবে।’

ভারতের সঙ্গে আমরা ভালোভাবে থাকতে চাই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘পাশেই আমাদের ভারত আছে না, অনেক খারাপ কাজ করে তারা, তাই না। আমাদের লোকজনকে গুলি করে মেরে দেয় সীমান্তে। আমরা ভালো ভাবে থাকতে চাই তাদের সঙ্গে, প্রতিবেশী হিসেবে থাকতে চাই। কিন্তু আমাদের ওপর যদি কোনো অন্যায়-অত্যাচার হয় তাহলে আমরা প্রতিবাদ জানাব।’

ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ কিছু কিছু জিনিসকে এতবেশি খারাপ করে দিয়ে গিয়েছে, যেমন ভোটের ব্যবস্থা, মানুষ ভোট দিতেই পারে না, অতীতে যেগুলো ভোট হয়েছে সেগুলো ভোট হয়নি। এই ভোট ব্যবস্থাকে ঠিক করা দরকার। সবাই যেন ভোট দিতে পারে, যার ভোট সে দিবে, যাকে খুশি তাকে দিবে। সেই ভোটের মাধ্যমে আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত করব। এই ভোট ব্যবস্থাকে ঠিক করার সময় অন্তর্বর্তী সরকারকে দিতে হবে। অন্তবর্তী সরকার কাজ শুরু করেছে, এরা সবাই নিরপেক্ষ মানুষ, কোনো রাজনীতি করে, এরা দেশটাকে ভালোবাসে এবং দেশের জন্য কিছু করতে চায়। আমাদের দায়িত্ব হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনা সবচেয়ে প্রতাপশালী নেতা হয়ে গিয়েছিল, বলা যায় রাজরানী হয়ে গিয়েছিলেন। তাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমাদের তরুণ ছাত্র-যুব ও জনতার আন্দোলনের মাঝখান দিয়ে শেখ হাসিনা চলে যেতে হয়েছে। আজকে সেই প্রতাপশালী শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে একবারে করুণ অবস্থার মধ্যে পরে গেছে। আর যারা আমাদের এখানে দাপটের সঙ্গে শাসন করত, আমাদেরকে জেলে দিত, জুলুম করত, জমি নিয়ে নিতো, ব্যবসা নিয়ে নিতো, আমাদের কাউকে কিছু করতে দিতো না তারা এখন জেলের ভেতরে ঢুকে গেছে।’

ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি বলতেন পালাব না, কিন্তু উনি এখন কোথায়? আবার মাঝখানে আমাকে বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, পালাবে না, যতি পালাতেও হয় দেশের বাইরে যাবেন না। আর আমরা নাম ধরে বলেছিলেন, ‘‘ফখরুল আপনি কি আপনার বাসায় আমাকে জায়গা দেবেন না।” এখন আমি ওবায়দুল কাদেরকে বলতে চাই- আসেন, আমার বাসায় আসেন। আপনি কোথায় চলে গেছেন দেশবাসী জানে না। আবার অনেকে বলে ভারতে নাকি চলে গেছে, কেন ভাই ভারতে কেন, দেশ তো আপনার, আপনি এখানে নির্বাচন করেন, এখানকার নেতা। আপনাকে ভারতে পালাতে হয়েছে কেন? কারণ আপনি এই দেশের মানে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন চুরি করেন তখন মনে থাকে না, যখন অত্যাচার করেন তখন মনে থাকে না। তখন মনে করেন এই ক্ষমতাটা আপনার চীরস্থায়ী। আল্লাহ বলেই দিয়েছেন, ‘‘সীমা লঙ্ঘনকারীকে আমি পছন্দ করি না। তোমরা টেরও পাবে না- আমি কোনদিন থেকে, কোন সময় সীমা লঙ্ঘনকারীদের ধ্বংস করে দিব”।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভয়াবহ এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার এই আন্দোলনের সময় কতগুলো খুন করেছে জানেন? এই আন্দোলনের সময় ২ হাজার মানুষ খুন করেছে। কারও হাত নেই, পা নেই, কারও মাথার খুলি উড়ে গেছে।’

প্রশাসনকে উদ্দেশ্যে করে ফখরুল বলেন, ‘এখানে ইউএনও, ওসি সাহেব আছেন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তরা আছেন। তখন উনারাও অনেক ঝামেলা করেছেন তাই না। এখন ঐ পথ থেকে সরে দাঁড়ান, কোনো খারাপ কাজ করবেন না। আপনারা মানুষজনের পাশে দাঁড়ান। বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা সবাই তাদেরকে সহযোগিতা করবেন। সবাই মিলে দেশটাকে সুন্দর করতে চাই।’

হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীনসহ জেলা, উপজেলা ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এরপর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ও রুহিয়া থানার আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন।




রকিব, হুদা ও আউয়াল কমিশনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন




ফ্যাসিস্টের প্রেতাত্মারা চক্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছেন বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ভিশন ২০২১ দিয়ে গণতন্ত্র টেকসই করার কথা বলেছেন। আর ২০২৩ সালে বিএনপি আবার ৩১ দফা দিয়েছে।

গত ১৬ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে কারাগারে গিয়েছেন। অনেকে গ্রামে না থাকতে পেরে ঢাকায় এসে রিকশা চালিয়েছে। গতকাল আমি পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, ১৩ বছরের একটি ছেলের গুলি লেগে পা হারিয়েছে। এইভাবে গণতন্ত্র-মুক্তির সংগ্রাম চলছে।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের মাধ্যমে আমরা সুযোগ পেয়েছি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা করার। সেই সুযোগ যেন আমরা হেলায় না হারাই। আজ এমন একটা অবস্থা তৈরি করতে হবে যাতে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

সমাবেশে উপস্থিত তরুণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা হচ্ছেন সেই ভ্যানগার্ড, আজ আবার কেউ গণতন্ত্রকে বিপথে নিতে চাইলে রুখে দাঁড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবেন এবং ফিরে আসবেন।

গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদেরর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, ডা. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।




সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে: সেলিমা রহমান

বরিশাল অফিস :: বরিশালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে। নির্বাচন গণতন্ত্রের একটা বড় ধাপ। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এ জন্য দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। 

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টম্বর) দুপুরে নগরীর বান্দ রোডে প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশুপার্কের সামনে বিএনপির বিভাগীয় শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর বিভাগীয় শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে এ কর্মসূচি হয়েছে।

এসময় সেলিমা রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন যেমন দরকার; তেমনি রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, ভোটের অধিকার সংস্কার করে এই সরকার যাতে নির্বাচন দেয় এটি হচ্ছে আমাদের প্রথম ম্যাসেজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র সংস্কার করে জনগণের অধিকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষা, কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে স্বৈরশাসনের দুঃশাসন থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি, জনগণকে রক্ষার জন্য কাজ করছি। এক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ গড়তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার পতনের পর পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন কাউকে দলে জায়গা না দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।