বরিশালে আওয়ামী লীগের ১০৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা

বরিশাল অফিস ::বরিশালের মুলাদীতে বিএনপির সমাবেশে হামলা-ভাঙচুরের দুই বছর পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ওই মামলা করেন মুলাদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম সিকদার।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমাইয়া রিজভী মৌরি নালিশি অভিযোগ এজাহার হিসেবে রুজু করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুলাদী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস জানিয়েছেন।

মামলায় মুলাদী পৌরসভার ছাত্রলীগের সভাপতি তিলক খান, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, পৌর যুবলীগের সভাপতি মো. রাসেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আহম্মেদ জুয়েল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেনসহ ৫৯ জন নামধারী ও ৪০ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।

বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস নালিশির বরাতে জানান, ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট বিকেলে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা বাজারে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে উপজেলা বিএনপি সভার আয়োজন করে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর ও মঞ্চে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে অভিযোগের কপি ছিনিয়ে নিয়ে যায় নেতাকর্মীরা। পরে আদালতে মামলা করেছেন বাদী।




বরিশালে সাবেক কাউন্সিলর জামাল হোসেন নোমানকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার

বরিশাল অফিস ::বরিশাল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জামাল হোসেন নোমানকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নগর গোয়েন্দা শাখা।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে তার নিজ বাসভবন থেকে পালানোর সময় গ্রেফতার হন তিনি।
জামাল বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য। তার ভাই ৯ নম্বর ওয়া‌র্ডের কাউ‌ন্সিলর হুমায়ন ক‌বির লিংকু। সি‌টি নির্বাচ‌নের সময় মহানগর যুবদ‌লের সহ সভাপ‌তি পদ থে‌কে ব‌হিষ্কার করা হয় তা‌কে।

 

 

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা ওসি  মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, একটি চাঁদাবাজির মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছে জামাল হোসেন নোমান। তাকে বরিশালে আনতে কার্যক্রম চলমান আছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট ৭৫ বছর বয়স্ক মালতী রাণী নাথের জমি, দোকান দখল, লুটপাট করার পাশাপা‌শি চাঁদাবাজী ক‌রে জামাল হোসেন নোমানসহ তার বাহিনী। ওই ঘটনায় বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন বরিশাল নগরীর চকবাজারের দেবনাথ বস্ত্রালয়ের মালিক দেবাশীষ দেবনাথ। মামলার পর থেকেই আসামিরা পালিয়ে ছিলেন।

 

 

 

 

মামলার বাদী দেবাশীষ দেবনাথ বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পত‌নের পরের দিন ৬ আগস্ট অবৈধভাবে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেয় বিএনপি নেতা নোমান ও তার ভাই কাউন্সিলর লিংকুসহ ১০/১২ জন। সেই ঘটনায় জামাল হোসেন নোমান ঢাকায় গ্রেফতার হলেও বাকি আসামিরা এখনও অধরা রয়েছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।



সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::রাজধানীর বারিধারা থেকে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমকে গ্রেফতার করেছে র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস।

তিনি বলেন, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর রাজধানীর বারিধারা থেকে জাহিদ ফারুককে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস। তাকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।




যে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যাচ্ছে ইলিশ, জানালেন উপদেষ্টা




মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দেশে রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির পথও বের করতে হবে। যদি আমরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে আমরা অর্থনৈতিকসহ সব দিক থেকেই মুক্তি পেতে সফল হব।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেলকুচি, চৌহালী ও এনায়েতপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, অল্প লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। সামনে আরও অনেক পথ বাকি আছে। সেই পথ পাড়ি দিতে পারলে মানুষের ভোটের অধিকারও নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, যতদিন আমরা আমাদের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে শুরু করে সব ফসল ঘরে না তুলতে পারি, ততদিন আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম যে মানুষগুলো আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ আপনাদের প্রতি তাকিয়ে আছে, তাই দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীদের সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, কোন অবস্থাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র গণআন্দোলনে বীর শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার নিশ্চিত ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের পাশে থাকতে হবে। যাতে জনগণ আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারে। কোন অবস্থায় আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না, কেউ আইন হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলার বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা এবং এনায়েতপুর থানা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক আমিরুল ইসলাম খান আলীম সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু ও প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর এম এ মুহিত প্রমুখ।




অন্তর্বর্তী সরকারকে বিপাকে ফেলতে দেশকে অস্থির করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা ইস্যুতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে মনে করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব সংবিধান সংশোধন, সংস্কার কার্যক্রম, দেশের রাজনীতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ঘটনাকে আমি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করি না। এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত আছে। একদিকে শূন্যতার সুযোগ নেওয়া, অন্যদিকে জিও পলিটিক্সে যে পরিবর্তন ঘটছে মিয়ানমারকে কেন্দ্র করে আশপাশের অঞ্চলে, ওইদিকে ভারতবর্ষের মনিপুরের যে বিদ্রোহ এসবগুলোকে যদি আপনি আনেন, জিওপলিটিক্সের এ ঘটনাগুলো ভেরি সিগনিফিকেন্ট বলে আমি মনে করি। যেহেতু এখন কমেন্ট করাটা ঠিক হবে না। তবে আমি মনে করি যে, এটা নিঃসন্দেহে একটা সরকারকে ডিস্টার্ব করা, বাংলাদেশের পলিটিক্সকে ডি-স্টেবেলাইজড করা। অর্থাৎ এখন যে প্রক্রিয়াটা চলছে অন্যভাবে যে, আপনার এটাকে (পরিবর্তনটা) যারা বিপ্লব বলছেন, একটা প্রতিবিপ্লব ঘটানো, যে সুফল আমরা অর্জন করেছি সেই সুফলটাকে নষ্ট করা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, একটা বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়াকে শুরু করার চেষ্টা করা।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশে থেকে যে সমস্ত কথা বলছেন সেগুলো কতটুকু সত্য-মিথ্যা আমি জানি না। তবে সে কথাগুলো এখানে বড় ইম্পেক্ট তৈরি করছে। সব মিলিয়ে বিষয়গুলো খুব কমফোর্টেবল না, বেশ আন-কমফোর্টেবল… বলা যায় যে, উদ্বিগ্ন হবার কারণ আছে।

গত ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর সচিবালয়ে আনসার বাহিনীর ঘেরাও, বিভিন্ন সংগঠনের নানা দাবি-দাওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মব লিঞ্চিং’, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার বিভিন্ন ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে সরকারকে অস্থিতিশীল করতেই করা হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার মেইন ঘটনাটা ঘটছে। আমাকে আমাদের দলে যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন দীপেন দেওয়ান…উনি আগে এমপি প্রার্থী ছিলেন… তিনি আমাকে ফোন করে বললেন যে, স্যার ইমিডিয়েটলি কারফিউ দিতে বলেন… কারফিউ ছাড়া একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তখন আমি জানার পরে যাদের চিনি তাদের জানানোর পরে কারফিউ হয়নি… ১৪৪ ধারা দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। ঠিক এফেক্টিভ কনট্রোল তারা করতে পারেনি… এর মধ্যে এটা (ঘটনা) বিস্তারলাভ করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার খুবই সিরিয়াস। তারা করতে চান, তারা সব কিছু করতে পারেন। আমার কথা হচ্ছে, আমরা সহযোগিতা করি। ইতোমধ্যে তারা অনেক বড় বড় কাজে হাত দিয়েছেন সেগুলো আমরা দেখি।’

এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির পরামর্শ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, রেগুলার পলিটিক্যাল পার্টির সাথে বিশেষ মেইন পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সাথে কথা বলতে হবে। পাবর্ত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে হলো, পাবর্ত্য চট্টগ্রামে তো আমাদের চুক্তি আছে, এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। এখানে শুধু পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সমস্যা তা নয়, সামাজিক সমস্যা আছে। এই সমস্যাগুলো দীর্ঘকাল ধরে আমরা সমাধান করিনি। আওয়ামী লীগ সরকার এতো কথা বলেছে, চুক্তি করেছে কিন্তু সমস্যার সমাধান করেনি। এটা তো একদিনে হবে না, ওদের সাথে বসতে হবে, কথা বলতে হবে, বিষয়গুলোকে আলাপ-আলোচনা করে একটা জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।

 




‘নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করলে মূল্য দিতে হতে পারে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করলে সরকারকে তার মূল্য দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।

ডা. শফিক বলেন, বিচার, প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।

সম্প্রতি দলটির নেতাদের কিছু বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের আমিরের কাছে প্রশ্ন ছিল, কেন এত সমালোচনা? ছাত্র-জনতার খুনিদের সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া প্রসঙ্গটির ব্যাখ্যা কী? ক্ষমতার পালাবদলে দায়িত্ব নেওয়া অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ কতেদিন হতে পারে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারের করণীয় কী? এসব প্রশ্নেরও উত্তর দেন ডা. শফিকুর রহমান।

আমীরে জামায়াত বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি, তবে মাথায় রাখতে হবে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে তার খেসারত গুনতে হতে পারে সরকারসহ পুরো জাতিকে।

 জাতীয় স্বার্থে সব মত ও পথের মানুষকে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ্য হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান স্বৈরচার শেখ হাসিনা। পতন হয় আওয়ামী দুঃশাসনের দেড় দশকের কালো অধ্যায়ের। তার ঠিক পাঁচ দিন আগে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করে সরকার।




খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও রাঙামাটি শহরে ১৪৪ ধারা জারি : পাহাড়ে সংঘর্ষে নিহত ৪

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালি দফায় দফায় সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এ সময় শতাধিক দোকানপাট, বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও রাঙামাটি শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে পরস্পরকে দুষছে দুপক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত খাগড়াছড়িতে। সেখানে বুধবার মামুন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকালে দুপক্ষের সংঘর্ষ বাধে। রাতভরও দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে তিনজন নিহত হন। শুক্রবার এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে রাঙামাটিতেও। সেখানে কয়েক দফা হামলা-সংঘর্ষে আরেকজন নিহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে বান্দরবানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

তিন পার্বত্য জেলার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএসপিআর। আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পরিদর্শনে যাবেন।

এদিকে পাহাড়ে হামলা, হত্যা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। রাজধানী ঢাকায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘বিক্ষুব্ধ জুম্ম ছাত্র জনতা’। শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।




তিন পার্বত্য জেলায় সংঘর্ষ নিয়ে যা জানালো আইএসপিআর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তিন পার্বত্য জেলায় সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উচ্ছৃঙ্খল জনগণের গণপিটুনিতে মো. মামুন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হন। পরবর্তীতে সদর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দীঘিনালা কলেজ হতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজার অতিক্রম করার সময় ইউপিডিএফের (মূল) সন্ত্রাসীরা মিছিলের ওপর হামলা করে ও ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধ জনতা বোয়ালখালী বাজারের কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে।

আইএসপিআর আরও জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হলে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় আগুন নেভায়।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালা, পানছড়ি ও আশেপাশের এলাকা সমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ক্রমেই পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনাকর করে তোলে।

দ্রুততার সঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জরুরি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, দীঘিনালা ও পানছড়িসহ সকল উপজেলায় যৌথভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে টহল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটি লিডারদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সকল পক্ষকে সহিংস কার্যকলাপ হতে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করতে বলা হয়।

একই রাতে (১৯ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি জোনের একটি টহল দল  সাড়ে ১০টায় একজন মুমূর্ষু রোগীকে স্থানান্তরের সময় খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর এলাকায় পৌঁছালে অবস্থানরত উত্তেজিত জনসাধারণ ইউপিডিএফের (মূল) নেতৃত্বে বাধা সৃষ্টি করে। এক সময় ইউপিডিএফের (মূল) সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলের সদস্যদের ওপর গুলি করে এবং আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এ গোলাগুলির ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়।

আইএসপিআর জানায়, একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়িতে স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল জনসাধারণ কয়েকজন যুবকের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের ওপর হামলা ও লাঠিপেটা করে। সেই সঙ্গে উত্তেজিত জনসাধারণ ইউপিডিএফের (মূল) নেতৃত্বে ফায়ার ব্রিগেডের অফিসে ভাঙচুর করা হয়।

আজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পিসিজেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা সদরে সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে স্থানীয় জনসাধারণ রাঙ্গামাটি জিমনেশিয়াম এলাকায় সমবেত হয়। এ সময় ৮০০-১০০০ জন উত্তেজিত জনসাধারণ একটি মিছিল বের করে বনরুপা এলাকার দিকে অগ্রসর হয় এবং বনরুপা বাজার মসজিদ, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সিএনজি- অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং বেশকিছু দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে উভয় পক্ষের বেশকিছু লোকজন আহত হন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত ঘটনাসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান উত্তেজনা তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ দাঙ্গায় রূপ নিতে পারে। অনতিবিলম্বে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। যথাযথ তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের সনাক্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।




বরিশালে দুই বিএনপি নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি

বরিশাল অফিস ::বরিশাল মহানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সাগর উদ্দিন মন্টি ও সদস্য সচিব আরমান সিকদার নুন্নাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও সদস্য সচিব মো. জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়ার সই করা এক স্মারকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

স্মারকে উল্লেখ করা হয়, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সাগর উদ্দিন মন্টি ও সদস্য সচিব আরমান সিকদার নুন্না হাইকমান্ডের নির্দেশনা অমান্য করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো গুরুতর অপরাধ করেছেন এবং তা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মহানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সাগর উদ্দিন মন্টির বিরুদ্ধে বরিশাল বারের সাবেক সভাপতি ও সদররোডস্থ জামে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবলুকে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মুসল্লিদের উদ্যোগে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধনও করা হয়।

অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর সদস্য সচিব আরমান সিকদার নুন্নার বিরুদ্ধেও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।