জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ময়দান থেকে পলায়ন করে না – ড. মাসুদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, মেধা ও সততার কবর দিয়ে শেখ হাসিনা ব্যর্থ রাষ্ট্র গঠন করার পাঁয়তারা করেছিলেন। তা ধূলিসাৎ করে আজ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে আমাদের এ দেশ। ভয়ের দিন শেষ, সম্ভাবনার বাংলাদেশ।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটা পৌরসভার পর্যটন কর্পোরেশন হলিডে হোমস মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। কলাপাড়া উপজেলা দক্ষিণ জোন মহিপুর থানা জামায়াতের উদ্যোগে এ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. মাসুদ বলেন, গত ১৬ বছরে এই কুয়াকাটায় অনেকবার আসতে চেয়েছি, কিন্তু বরাবরই বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এমনকি ছোটখাটো মিটিং পর্যন্ত করতে পারেনি কুয়াকাটার জামায়াত নেতাকর্মীরা। মামলা, হামলা, জেল, জুলুম, নির্যাতনের মধ্যেই কেটেছে বিগত ১৬ বছর।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ময়দান থেকে পলায়ন করে না। তারা সাড়ে ১৫ বছর ধরে খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ময়দানে টিকে আছে। খুনি হাসিনা ভেবেছিল জামায়াতের কর্মীদের হত্যা ও খুন করে শেষ করে ফেলবে। রাজনৈতিক কারণে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত এই পর্যটন নগরীকে ধ্বংস করে দিয়েছে তারা।

কুয়াকাটা পৌরসভা জামায়াতের আমির মাওলানা মাইনুল ইসলাম মান্নানের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলার আমির অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আ. সালাম খান, নায়েবে আমির অ্যাড. নাজমুল আহসান, সেক্রেটারি অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল্লাহ, জামায়াতে ইসলামী কলাপাড়া উপজেলার আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম। শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত ইঞ্জিনিয়্যার নিহার রঞ্জন, মিশ্রীপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহারের পুরোহিত উত্তম মাহাথেরসহ অনেক নেতাকর্মী এতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন ওই এলাকার কয়েক হাজার নেতাকর্মী।




বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশাল বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নূরুল আমীন এই আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুমন সেরনিয়াবাতকে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

৪ আগস্ট বরিশালে জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট কোতোয়ালি মডেল থানায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩৮১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৬০০-৭০০ জনকে।

একই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহিদ ফারুক শামীম। তিনি বরিশাল সদর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।




আওয়ামী দুষ্কৃতিকারীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: তানজিম সরোয়ার নির্জন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুস্কৃতিকারিরা আবারো দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। ষড়যন্ত্রকারী দুস্কৃতিকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাতে দায়িত্ব পালনকালে দুস্কৃতকারীদের কতৃর্ক পৈশাচিক কায়দায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. তানজিম সারোয়ার নির্জনকে নির্মমভাবে হত্যা তারই ধারাবাহিকতা। সেনাবাহিনীর একজন তরুণ অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে দুস্কৃতিকারীরা তাদের অবস্থান জানান দিলো। এসব দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে না পারলে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখোমুখি দাঁড়াবে।’

বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ওঁত পেতে বসে রয়েছে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা লুটতে। আর সেজন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুস্কৃতকারীদের দমনে সকল শ্রেণি—পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিবৃতিতে মো. তানজিম সারোয়ার নির্জনকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দুস্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর আহবান জানান।

তিনি নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ পরিবার—পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।




যদি কেউ চাঁদাবাজি করতে আসে তাহলে খাম্বার সাথে বেঁধে রাখবেন : ফয়জুল করীম

বরিশাল অফিস :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নাবেয়ে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন,আজকে এই ভূখণ্ড নিয়ে ষড়যন্ত্র চলতেছে, আপনারা দেখেছেন যে পার্বত্য অঞ্চলের অবস্থাটা কী,স্বাধীন করার জন্য একদল চক্রান্তকারীরা চক্রান্ত শুরু করেছে, আমি অন্তর্বর্তীকালী সরকার কে বলবো, ওদের রুখে দেন,ওদের কঠোর হস্তে দমন করেন যদি আপনারা না পারেন তাহলে আহ্বান করুন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জনগণ বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটি ও রক্ষা করার জন্য তারা জীবন দিবে সবকিছু ঊষর্গ করবে তারপরও একদেশের ১ ইঞ্চি মাটি ও তারা ছাড়বে না।

মঙ্গলবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টার দিকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড-এ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মডেল থানা দক্ষিণের আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন কাফরা সভাপতিত্বে সংখ্যানুপাতিক (চজ) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ ৯ দফা দাবীতে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ এ দেশ থেকে হঠতে বাধ্য হয়েছে। এরপরে আমরা ভেবেছিলাম এবার তাদের অধিকার ফিরে পাবে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে মুক্তি পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম সংখ্যালঘু হিন্দুরা মুসলমানদের অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে না বৈষম্য করছে। এ জন্য ৪৭ সে ইসলাম ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামে একটি দেশ আমরা স্বাধীন করেছিলাম এ অর্জন করেছিলাম। ভেবেছিলাম বৈষম্য দূর হবে মানুষ শান্তি ভাবে মানুষ মুক্তি পাবে কিন্তু আমরা দেখলাম দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়ার পরেও পূর্ব পাকিস্তান মানুষদের মর্যাদা দেয় না তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয় না তাদের স্বাধীনতা হরণ করে আমরা চিন্তা করলাম এই বৈষম্য দূর করার জন্য আমরা স্বাধীন একটা রাষ্ট্র গড়তে পারি।

যাতে মানুষের বৈষম্য দূর করার জন্য পাকিস্তান থেকে আলাদা হতে পারি তাহলে মানুষের অধিকার পাবে শান্তি পাবে । এজন্য ৭১ সালে তৃতীয়বার আমরা আন্দোলন করেছিলাম। ভেবেছিলাম এইবারে মানুষ শান্তি পাবে কিন্তু ৭১ এরপর থেকে এখন ২৪ সাল পর্যন্ত এই ৫৩ বছরে যারা দেশের শাষক ছিল ও ক্ষমতায় ছিল কিন্তু জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কিছু করতে পারে নায়। ইজ্জত মর্যাদা রক্ষা করতে পারে নায়। সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নায়। ২৪ সে ৫ আগষ্ট এদেশের মানুষ হাজার রক্তের ভিত্তিতে হাজারো চক্ষু যাওয়ার ভিত্তিতে আমরা ফ্যাসিবাদ সরকারকে হটিয়ে ভেবেছিলাম এবার আমরা মুক্তি পেয়েছি। আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবার বৈষম্য থাকবে না মানুষ নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবে চলাফেরা করবে ডাকাতি থাকবে না চুরি থাকবে না কোন, আমাদের মা-বোনরা ধর্ষিত হবে না কিন্তু আমরা কি দেখলাম পাঁচই আগস্ট এর পরে আবারও দখলদারি আবারও চাঁদাবাজি আবারো টেন্ডারবাজি আবারো খুন তোফাজ্জলের মত একজন মানুষকে পিটিয়ে যারা হত্যা করেছে চিন্তাও করা যায় না।

নাবেয়ে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন,আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে মিথ্যা মামলা ছিল সয়লাভ ছিল গাইবি মামলা ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে এখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে আজকেও সেই হয়রানি হচ্ছে। তাহলে আমরা কেনো আন্দোলন করেছিলাম। জীবনের মায়া ত্যাগ করে কেন আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম এই দখলদারিত্বের জন্য আমরা রাস্তায় নামি নাই।

মানুষের স্বাধীনতা রক্ষা ও অধিকারের জন্য রাস্তা নেমেছিলাম। কিন্তু অধিকার ফিরে পাচ্ছি না কেন খুঁজে বের করতে হবে। তেঁতুল গাছ লাগিয়ে মিষ্টি ফলের যেমন আশা করা যায় না তেমনি ভাবে চোরের মাধ্যমে চুরি বন্ধ করা যায় না। ডাকাতের মাধ্যমে ডাকাতি বন্ধ করা যায় না।দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধ করা যায় না। যারা ক্ষমতায় যায় নেতা পরিবর্তন হয় কিন্তু নীতি পরিবর্তন হয় না। ওসি পরিবর্তন হয় কিন্তু ঘুষ যায় না, এসপি যায় কিন্তু ডাকাতির পরিবর্তন হয় না। ডিসি যায় কিন্তু দুর্নীতি পরিবর্তন হয় না। কিন্তু নীতি ও আদর্শবান লোকের ওই চেয়ারে বসে না ব্যক্তি পরিবর্তন হয় কিন্তুু ঘুষের পরিবর্তন হয় না।

আপনারা কী বিবেকবান মানুষ হবেন না আপনার আর কত রক্ত দিতে চান কতবার আন্দোলন করতে চান, আপনারা দেখেছেন সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা দেখছেন নতুন বাংলা দেখছেন ডিজিটাল বাংলা কোন বাংলায় মানুষকে শান্তি দিতে পারে নাই এবার আসুন আমরা বাস্তবায়ন করি ইসলামী বাংলা। ইসলামী বাংলায় একমাত্র মানুষকে শান্তি দিতে পারে । ইসলামের মাধ্যমে প্রতিটা শ্রেণি মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন হবে। মহিলারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে এবং মহিলাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। মহিলারা শিক্ষিত হবে মহিলারা বড় বড় ব্যবসায়ী হবে।

এ সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকার ভোট ঢাকাত তথাকথিত অবৈধ মেয়র মাত্র ৮ মাসে ১শ কোটি টাকা চুরি করেছে, মাত্র নতুন চোর পুরাপুরি চুরি শিখে নাই তাতে ১শ কোটি যদি ৫ বছরের চোর থাকতো তাহলে কয়েকশো হাজার কোটি টাকা চুরি করতো।

বরিশালে চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্য করে ফয়জুল করিম বলেন,বরিশালে কোন চাঁদাবাজি থাকবেনা যদি কেউ চাঁদাবাজি করতে আসে তাহলে খাম্বার সাথে বেঁধে রাখবেন, ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে প্রতিহত করবো। কোন চাঁদাবাজ থাকবে না। আপনারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবেন, দালান উঠাবেন কোন চাঁদাবাজ যদি দালান উঠানোর জন্য চাঁদাবাজি করতে আসে খাম্বার সাথে বেঁধে রাখবেন। ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওদের বিচার করবে এবং আইনের হাতে তুলে দেবো ।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা যারা জাতির বিবেক আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ করবো আপনার বিবেকবান হন নীতিবান হন আদর্শবান হন। আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেন আমরা দল চাইনা এ দেশটাকে চাই। আমরা ব্যক্তি চাই না আমরা মানুষের শান্তি চাই। আমরা কোন ব্যক্তির কল্যাণ চাই না এদেশের মানুষের শান্তি চাই। দলকে পিউরিটি না দিয়ে কোন ব্যক্তিকে প্যারিটি না দিয়ে এই ভূখণ্ডকে প্যারিটি দেই।

বিজিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজকে দেখেছি বিএসএফের একজন সদস্যকে তারা আইন অমান্য করার কারণে বিজিবি সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে এজন্য তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেছি। অনেকদিন পর হলেও মানুষ ও মানবতা আপনাদের মধ্যে রয়েছে। কিছুটা হলেও রক্ত আপনাদের মধ্যে রয়েছে এটার প্রমাণ দিয়েছেন। এতদিন তো আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের কাছে মাতা নত করেছিল। বাংলাদের হাজারও মানুষ মারছে ভারত সরকাররের কিছু করতে পারে নায়।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে বিগত দিনে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছে। ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিপক্ষে সর্বদা সোচ্ছার ছিলো, আছে এবং থাকবে। আমাদের কর্মীরা ৫ ই আগস্ট এর পরে হিন্দুদের মন্দির পাহাড়া, বন্যা কবলিত বিভিন্ন ইস্যুতে ত্রান তৎপরতায় সাধ্যের সবটুকু চেষ্টা করছে।

ফয়জুল করীম বলেন, জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং সকল সহযোগী সংগঠনগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এতে সংগঠনের ১৮জন কর্মী শাহাদাত বরণ করেছে এবং প্রায় ৫ শতাধিক কর্মী আহত অবস্থায় এখনো চিকিৎসাধীন আছে। সুতরাং দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইসলামকে বাদ দিয়ে করা যাবেনা। তিনি বিগত দিনে হিন্দু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে দেশ গড়ায় হিন্দু-মুসলিম সহ সর্বস্তরের গণমানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করে দেশ সংস্কারে ৯ দফা দাবী প্রস্তাব করেন। দাবী আদায়ে সকল জেলা, মহানগর এবং উপজেলা পর্যায়ে গণসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্যে অন্তরবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনুসকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষিত পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং নয় দফা দাবী বাস্তবায়নের আহবান করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর সভাপতি প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাছির আহমাদ কাওছার। বরিশাল মহানগর সহ-সভাপতি,
মাওলানা জাকারিয়া হামিদী।

বরিশাল মহানগর মাওলানা আবুল খায়ের সেক্রেটারী আলহাজ্ব মোঃ এনামুল হক শামীম রাঢ়ী,বরিশাল মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম,ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর সভাপতি তানভীর আহমেদ শোভন।

উক্ত গণসমাবেশে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বরিশাল মহানগর, থানা, ও ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।




নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধানের বক্তব্য, যা বলল বিএনপি-জামায়াত

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন যাতে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে হতে পারে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করতে ‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেন’ তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাবেন l

সেনাপ্রধানের বক্তব্যে প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিএনপি-জামায়াত ভিন্ন ভিন্নভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই হওয়া উচিত।

অন্যদিকে সেনাপ্রধানের বক্তব্য নিয়ে দলের সভায় পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ।

বাংলানিউজকে তিনি বলেছেন, সেনাপ্রধান সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচন বিষয়ে আমাদের আমির দলের অবস্থান আগেই তুলে ধরেছেন। তিনি জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচনের কথা বলেছেন। আপাতত এটুকুই এ বিষয়ে দলের বক্তব্য।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তারপর থেকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দ্রুততর সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে আসছে।

নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, পুলিশ বাহিনীসহ ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব কমিশনের ১ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা রয়েছে।

 




দীর্ঘ ১৭ বছর পর কুয়াকাটায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলন আগামীকাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রকাশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামীকাল বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টায় জামায়াতের কলাপাড়া উপজেলা দক্ষিণ জোনের উদ্যোগে কুয়াকাটা পর্যটন ইয়ূথ ইন চত্বরে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহম্মদ শাহ আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম খান, অ্যাড. নাজমুল আহসান, সেক্রেটারি অধ্যাপক এ.বি.এম সাইফুল্লাহ, কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল কাইউম।

সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করাসহ দাওয়াতি কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এসময় কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদ সরকার আমাদের প্রকাশ্যে কোনো ধরনের মিছিল-মিটিং করতে দেয়নি।তাই আমরা এই প্রথমবারের মতো কুয়াকাটায় প্রকাশ্যে কর্মী সম্মেলন করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি সম্মেলনটি সফল ও সার্থক হবে।’




সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম কারাগারে

বরিশাল অফিস : : বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর, লুটের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমকে।

সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে সন্ধ্যার পর শামীমকে বরিশাল জ্যেষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

আদালতে তার পক্ষে শতাধিক আইনজীবী জামিনের প্রার্থনা করে আবেদন জমা দেন।

তবে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুরুল আমিন তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের জিআরও এনামুল হক।

জিআরও এনামুল হক বলেন, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামীমকে এজলাসে হাজির করা হয়। সেখানে ২০ মিনিটের মতো সময় তাকে রাখা হয়। তার জামিন চেয়ে করার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

শামীমের পক্ষের আইনজীবী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অ‌্যাডভোকেট আফজালুল করিম ও অ‌্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর জামিন আবেদনে শতাধিক আইনজীবী স্বাক্ষর করেছি। তাকে জামিন না দিলেও কারাগারে যেন ডিভিশন দেওয়া হয় সেই আবেদনও করা হয়েছে।

জিআরও বলেন, ডিভিশনের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ দেখবে। তারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নে দুই বারের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমকে গত রোববার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১।

গত ৪ আগস্ট বরিশাল নগরীর সদর রোডে জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি তিনি। ওই মামলার বাদী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান ফারুক।




পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ইয়ামিনের মরদেহ ফেলার দৃশ্য ভাইরাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিন। খবর বাসস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তখন নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল পুলিশ। জোহরের নামাজ পড়ে বের হয়ে বাসায় ফিরছিলেন ইয়ামিন। ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে উঠায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের নিথর দেহ পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। আর এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনা দেখে দেশের মানুষ বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যায়। পুলিশের বর্বর নির্মমতার শিকার গুলিবিদ্ধ ইয়ামিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ইয়ামিনের বাবা-মা বর্তমানে সাভার ব্যাংক টাউনে বসবাস করলেও তাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী।

মহিউদ্দিন ও নাসরিন সুলতানা দম্পতির একমাত্র ছেলে ইয়ামিন। অত্যন্ত মেধাবী শান্তশিষ্ট ছিল ইয়ামিন। এমআইএসটির হলে থেকেই পড়াশোনা করত ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুলাই তার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় আবাসিক হলও। ১৭ জুলাই সাভার নিজ বাসায় চলে যান ইয়ামিন। পরদিন স্থানীয় মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হন ইয়ামিন।

ইয়ামিনের মামা মো. আব্দুল্লাহ আল মুন কাদির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছিল ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় সাভার ব্যাংক টাউন এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হয় ইয়ামিন। ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে তুলে নেওয়ার পর নির্মম ও বর্বরোচিত কায়দায় নিচে ফেলে দেয়। ইয়ামিনকে ফেলে দেওয়ার সেই ভয়াবহ দৃশ্য গণমাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নির্মূলে এমন নিষ্ঠুরতম আচরণে দেশের ছাত্র-জনতা তখন প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে।

তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নির্মম এই ঘটনার বিচার চেয়ে ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাধায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা যায়নি। মরদেহ নিয়ে গ্রামেও যেতে দেয়নি পুলিশ।

পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসি থেকে ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ দেহ রাস্তায় ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবার মৃত্যুর কোনো সনদ না দিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইয়ামিনের মরদেহ হস্তান্তর করে। ঢাকা ও সাভার রেঞ্জের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের না করতে ভয়-ভীতি দেখান। সাভার তালবাগ পারিবারিক কবরস্থানে ইয়ামিনের মরদেহ দাফন করতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বাধা দেন। পরে শহীদ ইয়ামিনকে সাভার ব্যাংক টাউন কবরস্থানে দাফন করা হয়।




রপ্তানীতে বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিল চীন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চল‌তি বছরের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেবে বেইজিং।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় চীনা দূতাবাস এক বিবৃ‌তিতে এ তথ্য জা‌নিয়েছে।

চীনা দূতাবাস জানায়, গত ৫ সে‌প্টেম্বর প্রেসি‌ডেন্ট শি জিন‌পিং চীন-আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দি‌য়ে‌ছেন। আগামী ১ ডি‌সেম্বর ২০২৪-এ বাংলা‌দেশ ও চী‌নের কূট‌নৈ‌তিক সম্প‌র্ক স্থাপ‌নের দিন থে‌কে বাংলা‌দেশ শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পা‌বে।

জানা গেছে, ট্যারিফ কোটা ব্যবস্থাপনা সাপেক্ষে পণ্যের জন্য শূন্য-শুল্ক ব্যবস্থাপনা শুধু কোটার পরিমাণের মধ্যে থাকা পণ্যগুলোর জন্য প্রযোজ্য হ‌বে। কোটার পরিমাণ অতিক্রম করা পণ্যে মূল শুল্ক হারের অধীন হবে।

২০২২ সালে চীন ৯৮ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়, যার মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৩৮৩টি নতুন পণ্য ছিল। ২০২০ সালে ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য এ সুবিধা পেত।

২০২০ অর্থবছরে চীন দুই দশমিক চার ট্রিলিয়ন মূল্যমানের পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এই তথ্য এটাই নির্দেশ করছে যে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন, চীনের আমদানি বাজেটের এক শতাংশও যদি বাংলাদেশ থেকে যায়, তাহলেও আমরা বছরে ২৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে পারব।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চীন থেকে ১৮ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হয় ৬৭৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।




উত্তরায় সাবেক এমপি হাবিব হাসানের দুই গাড়ি জব্দ, কোটি টাকা উদ্ধার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানের ছেলে আবির হাসান তামিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে নগদ এক কোটি ১৬ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা, একটি ল্যান্ড ক্রুজার, একটি হ্যারিয়ার গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- শাহজাদা খান সাজ্জাদ, মো. তৌজিদুল ইসলাম ও মো. সাইফুল ইসলাম।

ঢাকা মেট্রোপিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ ও তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা পুলিশকে জানায়, জব্দ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও গাড়ি দুটি সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য জানান।