নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন পূর্ণ হবে না: মাসুদ সাঈদী

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের জিয়ানগরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মাসুদ সাঈদী বলেছেন, পতিত স্বৈরশাসক দেশে ভিন্নমত সহ্য করতে পারতো না। তাই বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিদিনই চলতো জেল-জুলুম, নিপীড়ন-নির্যাতন। দেশের গণতন্ত্র মজবুত করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সহাবস্থান। যেটি খুনি হাসিনা বা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কখনও তা করেনি।

বুধবার (২ অক্টোবর) পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার কালাইয়া রাজিয়া রশীদ মহিলা দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গনে সীরাতুন্নবী সা. উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, হাজারো জীবনের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে এখন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি জনগণের সরকার। যে গণতন্ত্রের জন্য বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত তা পরিপূর্ণতা পাবে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন পূর্ণ হবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়েছে। গণ মানুষের স্বপ্ন পূরণে হওয়া গণবিপ্লবোত্তর সরকারকে সবাই সহযোগিতা করতে চায়। কিন্তু প্রশাসনের মধ্যে যদি এমন লোক থাকে যারা শেখ হাসিনার ১৫-১৬ বছর ক্ষমতা থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ লুণ্ঠনে সহায়তা করেছে, তারা এই বিপ্লবের সরকারকে কখনোই সমর্থন দিতে পারে না। তারা যদি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হয়, সচিব হয়, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বসে তাহলে নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে এই সংস্কার বাস্তবায়ন হবে না। এরা সংস্কার ব্যর্থ করে দেবে।

তিনি বলেন, সরকার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করলেও তা উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন। এখনো কেন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলো না সেটি দেশবাসী জানতে চায়। অস্ত্র উদ্ধার না হলে দেশ অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় হবে। দেশে এখনো নির্বাচন হয়নি, আমরা এখনো জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই আজ আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সবাইকে আহ্বান করছি আসুন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অবদান রাখি’, বলেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

কালাইয়া রাজিয়া রশীদ মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জিয়ানগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতে ইসলামী জিয়ানগর উপজেলা আমীর মাওলানা আলী হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী জিয়ানগর উপজেলা সেক্রেটারী তাওহিদুর রহমান রাতুল।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী জিয়ানগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আবু হানিফ, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আব্দুল মান্নান শিকদারসহ স্থানীয় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, পত্তাশী ইউনিয়নের খেজুরতলা বাজারের ব্যবসায়ীদের আয়োজনে মতবিনিময় সমাবেশে মাসুদ সাঈদী বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে কিন্ত তার অনুসারীরা আত্মগোপন করে আছেন। তারা যে কোনো অপকর্ম ঘটিয়ে অতীতের মতো ইসলামপন্থীদের ওপর দোষ চাপাতে পারে। এখনো আওয়ামী লীগ আর তাদের দোসরের বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করছে। সামনে দুর্গাপূজা আসছে। এই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে হাসিনার সন্ত্রাসীরা দেশে নৈরাজ্য ও অশান্তি তৈরি করতে পারে। সেদিকে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের হাজারো জুলুম-নির্যাতনের পরও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এদেশের মানুষের প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে শুধু আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস আর আস্থার কারণে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল কিন্তু জামায়াত ঠিকই বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে আছে আর দিনশেষে ওরাই বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।

হাফেজ মাওলানা মো. হাফিজুল ইসলামের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এবং সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক সরকারি মহিলা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে ও খেজুরতলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সরোয়ার হাওলাদারের সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জিয়ানগর উপজেলা আমীর মাওলানা আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা সোলায়মান খান, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক খান মো. কবির হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন জামায়াত সেক্রেটারি খান মো. সবির হোসেন, পত্তাশী ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য কবির হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য রুস্তম আলী তালুকদার, পত্তাশী প্রি-প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক (অব) নুরুল আলম পান্নু প্রমুখ।




‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেবকের পরিচয় দেবে জামায়াত’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে নিজেদের জনগণের শাসক নয়, সেবক ও খাদেম পরিচয় দেবে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত কর্মীরা আজীবন সমাজকর্মী হয়ে থাকবে।

রাজধানীর বকশীবাজারে কারা কনভেনশন সেন্টারে চকবাজার থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, আওয়ামী লীগ ঘরে ঘরে চাকরি দেবে বলে ঘরে ঘরে মামলা আর লাশ দিয়েছে। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণকেই হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। বিগত ১৫ বছর দেশের প্রতিটি নাগরিক কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগের জুলুমের শিকার হয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা বলে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না, তাদের বলব আওয়ামী লীগ নির্বাচন কবে চেয়েছে? ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচন। ২০১৮ সালে রাতের ভোট, সবশেষ ২০২৪ সালে ডামি ভোট করা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও নির্বাচন বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ভয় পায়, শুধু ভয় নয় চরম ভয় পায়। সে জন্য বিরোধী দলমত সহ্য করতে পারে না। বিরোধী দলমত দমন করে তারা চেয়েছে আজীবন ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা চালিয়েও টিকে থাকতে না পেরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছেড়ে গোষ্ঠীসহ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে।

খুনি হাসিনার ছেলে বলছে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে সংস্কার সম্ভব নয়। যারা দেশ ধ্বংস করেছে তারা দেশ সংস্কারে কীভাবে অংশগ্রহণ করবে প্রশ্ন রেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা দেশের জনগণকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে নিজেদের হেলমেট বাহিনী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যা করেছে, পঙ্গু করেছে, দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, জনগণের ঘাড়ে বৈদেশিক ঋণের বোঝা তুলে দিয়েছে তাদের দিয়ে দেশ সংস্কার সম্ভব নয়। এদের প্রতিহত করা ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। দলমত ভিন্ন হতে পারে তবে জাতীর স্বার্থে এক হয়ে যাব। কোনো বিভাজন সহ্য করা হবে না। যারা বিভাজন সৃষ্টি করবে তারা জাতীয় শত্রু। নির্বাচনী রোডম্যাপের আগে সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাই।

চকবাজার থানা আমির আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন রাজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৫ বছর ৭ মাস ৫দিন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। শুধু রাজনৈতিক দল নয় জনগণকেও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি। স্বাধীন ভূখণ্ডে মানুষকে আওয়ামী লীগ করে রেখেছিল পরাধীন। আওয়ামী লীগ জনগণের কোনো সেবা করেনি, ভারতের সেবা নিয়েই তারা ব্যস্ত ছিল।

নতুন বাংলাদেশকে আর কোন মাফিয়ার হাতে যেতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন,  দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দখলদারমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের জন্য প্রয়োজন আদর্শবান নেতৃত্বের। সেই নেতৃত্বে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে সার্বিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশের এমন কোনো জনগণ নেই যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দমন-নিপীড়নের শিকার হয়নি। এদেশের ছাত্ররা তাদরে ন্যায্য দাবি চাইলে খুনি হাসিনা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে যেভাবে খুন-গুম করেছে একইভাবে ছাত্রদের হত্যা করেছে। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতা এক হয়ে হাসিনার পদত্যাগের ১ দফা দাবি ঘোষণার মাত্র একদিনের ব্যবধানে স্বৈরাচার হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা যখন ক্ষমতায় এসেছে তারাই দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই দুর্নীতিবাজদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না। মানুষ এখন দলে-দলে ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে সুতরাং আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার বাংলাদেশ। এজন্য ইসলাম বিদ্বেষীরা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। সকল অপপ্রচার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে।

ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, নিরস্ত্র সাধারণ ছাত্রদেরকে রাষ্ট্রীয় অস্ত্রে হত্যা করেছে ইতিহাসে কোথাও এমন ঘটনা নেই। কেবলমাত্র ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সেটি করেছে। শুধু ছাত্রদেরকেই নয় বেসামরিক জনগণকেও গণহত্যা চালানো হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী নিজ দেশের জনগণের উপর গুলি চালিয়েছে। কেন এই গণহত্যা চালানো হয়েছে?- কারণ শুধু একটাই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। শেখ হাসিনার ক্ষমতা লাগবে। প্রশাসনকে আওয়ামী বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। তারা শুধু জনগণকে হত্যাই করেনি লাশের সাথে জীবন্ত- আহত মানুষকেও পুড়িয়ে ফেলছে। জুলাই-আগস্টে সংগঠিত ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন পৃথিবীতে ইতিহাস রচনা করেছে।

শিবির সভাপতি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা ছাত্রলীগের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিল।

আওয়ামী লীগের এই পতন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী হওয়ার কল্পনাও করবেন না। তাহলে আওয়ামী লীগের চেয়ে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী গণমানুষের অধিকার আদায়ের বিশ্বস্ত ঘাঁটি। জামায়াতে ইসলাম নিজস্ব কোনো চিন্তা চেতনায় পরিচালিত হয় না। এক আল্লাহর বিধান কায়েমের চেষ্টা করে। যারা আল্লাহর বিধান মেনে নিতে পারে না তারাই গত ১৫ বছর বাংলাদেশকে একটি কারাগারে পরিণত করেছে। মানুষ আজ বুঝতে পেরেছে এবং গর্জে উঠেছে, মানব রচিত বিধানে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।




পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিবের গাড়িতে আগুন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী অহিদুজ্জামান লাভলুর মাইক্রোবাস আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে লাভলুর বাড়ির উঠানে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গাজী অহিদুজ্জামান লাভলু বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ আগুন দেখে চিৎকার করে নিজেরাই আগুন নিভিয়ে ফেলি। আগুনে গাড়ির দুটি টায়ার ও ভেতরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। পুড়ো গাড়িটি পুড়ে না গেলেও গাড়িটি অকেজো হয়ে গেছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপি নেতা লাভলুর ক্ষতি করতে গভীররাতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এমনকি তারা তাদের অবস্থান জানান দিতে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।

জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-চ ১১-৭২৫১ নোয়াহ মডেলের গাড়িটি তার পারিবারিকভাবে ব্যবহারের জন্য। গাড়িটি তার পিরোজপুর পৌরসভার উত্তর পাড়ার বাড়িতে রাখা ছিল।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোবহান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে গিয়েছিলাম। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শেখ হাসিনার উপদেষ্টা কামাল নাসেরসহ ৪ জন গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব ও উপদেষ্টা কামাল নাসের চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানী থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

একই রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন- সাবেক ক্রীড়া সচিব মেজবাহ, এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও বসুন্ধরা গ্রুপের কো-অর্ডিনেটর আদনান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান।

তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব ও উপদেষ্টা কামাল নাসের চৌধুরী, সাবেক যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ, এক্সিম ব্যাংক ও বিএবির সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং বসুন্ধরা গ্রুপের কো-অর্ডিনেটর আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।




বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন- বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্যাতিত ও নিপিড়ীত দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফ্যাসিস্টরা যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী দিনের সংস্কার কাজে অন্তবর্তী সরকারকে সবার সহযোগিতা করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে কল্যাণমূখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। ০১ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপর ১২টায় বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরী আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল জব্বার। উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা হাবিবুর রহমান।

বরিশাল মহানগর কোতয়ালী উত্তর থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, পেশাজীবি থানা সেক্রেটারি শামীম কবিরসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আজকের পরিবর্তনের প্রকাশক ও সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, বরিশাল প্রেসক্লাব সেক্রেটারি এস এম জাকির হোসেন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সাবেক সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, ন্যাশনাল ডেইলিজ ব্যুরো চিফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পুলক চ্যাটার্জি, বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাসানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ।




লেবাননে স্থল হামলা শুরু ইসরায়েলের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আজ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) স্থল হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। যদিও হামলাটি সীমিত এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী স্থল হামলার ব্যাপারে বলেছে, কয়েক ঘণ্টা আগে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে ‘নির্দিষ্ট এবং সীমিত’ স্থল অভিযান শুরু করেছে সেনারা। ব্লু লাইনের কাছে অবস্থিত হিজবুল্লাহর এই অবকাঠামোগুলো ইসরায়েলি শহরগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে লেবাননে স্থল হামলার অনুমোদন দেয় দখলদার ইসরায়েলর নিরাপত্তা পরিষদ। ওই সময় জানানো হয়, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

লেবাননে স্থল হামলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও কামান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময় ধারণা করা হচ্ছিল, স্থল সেনাদের লেবাননে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে এমন তীব্র হামলা চালানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই স্থল হামলা হবে ‘সীমিত, স্থানীয় এবং হিজবুল্লাহর নির্দিষ্ট অবস্থান’ লক্ষ্য করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিষদ লেবাননে সীমিত এবং স্বল্পমেয়াদী স্থল হামলার অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি সেনাদের উত্তর লেবানন দখল করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংবাদমাধ্যমটিতে দাবি করা হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের নতুন স্থল অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন নর্দান অ্যারোস’। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, হামলাটি চালানো হচ্ছে স্থল, আকাশ এবং কামান বাহিনীর সমন্বয়ে।




আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম বিদ্বেষী: মাসুদ সাঈদী

বরিশাল অফিস ::আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম বিদ্বেষী। শুধু আল্লামা সাঈদীকেই নন, অসংখ্য আলেমকে গ্রেপ্তার করে প্রমাণ করেছেন তিনি (হাসিনা) তার পিতার মতোই ইসলাম বিদ্ধেষী, আলেম বিদ্বেষী।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরকারি ইন্দুরকানী কলেজে সিরাতুন-নবী (স.) উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, বিগত জোট সরকারের সময় পিরোজপুর-১ আসনের এমপি আমার পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আহ্বানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল এই কলেজ মাঠেই জিয়ানগর নামে নতুন উপজেলা ঘোষণা করেন। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা কালে আমার স্বাক্ষর জাল করে জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী উপজেলা রাখে আওয়ামী লীগ সরকার। তারপরও এই উপজেলার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।

মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে কিন্ত তার অনুসারীরা আত্মগোপন করে আছেন। তারা যে কোনো অপকর্ম ঘটিয়ে ইসলাম তথা মুসলমানদের ওপর দোষ চাপাতে পারে। সে জন্য সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাই মিলে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচারের দোষরদের কেউ যেন কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় সরকারি ইন্দুরকানী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্জিত কুমার সাহার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ, টগড়া দারুণ ইসলাম কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহীল মাহমুদ, জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী হোসেন, প্রভাষক আল আমিন হোসেন ও উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।




আওয়ামী লীগের সাথে আপোষ নয় দাঁড়াতে হবে মানুষের পাশে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আমরা যদি থাকি সৎ দেশ সংস্কার দ্রুত সম্ভব কিংবা দেশ যাবে কোন পথে ফয়সালা হবে রাজপথে – শ্লোগানে মুখরিত বরিশালের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন। এখানে সাম্য ও মানবিক সমাজ বিনির্মানে  দিক নির্দেশনামূলক যৌথ কর্মীসভার আয়োজন করেছিল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির তিনটি অঙ্গ সংগঠন। মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের আয়োজনে প্রায় হাজারো নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন এই মিলনায়তনে।

এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা এখানে তিনটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হলেও আমাদের মূল রাজনৈতিক দল বিএনপি। আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাই যত যাই ঘটুক সর্বাবস্থায় আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং অনুপ্রবেশকারীদের হতে সাবধান থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।

৩০ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল সাড়ে তিনটায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আহসান, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা বাবু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন সহ আরো অনেকে। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করার বার্তা দিয়েছেন। আমরা এই সরকারকে সহযোগিতা করবো। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে, গণতন্ত্রের অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে বিদেশের মাটিতে তিনি অনেক কষ্ট করেছেন। আওয়ামী লীগের সাথে আপোষ করেননি। তাই আমরাও কেউ আওয়ামী লীগের সাথে কোনোরকম আপোষ করবোনা। আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো অন্যায় করা যাবে না, আওয়ামী লীগের সাথে কোনো আপোষ করা যাবে না।’

 

 

কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হবে উল্লেখ করে মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কাছে বিচার গেলে তাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের কিছু বলতেন না। আমরা কিন্তু কাউকে ছেড়ে দেব না, ম্যাসেজ ক্লিয়ার।’
স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল বলেন, ‘দলে কোনো অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দেওয়া যাবে না। এটা সকল নেতা-কর্মীদের খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কোনো অন্যায় করা যাবে না, আওয়ামী লীগের সাথে কোনোভাবেই আপোষ করা যাবে না।’

 

 

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘১৬ বছর ধরে খুনি হাসিনা সরকারের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও আমাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরাচাররা ক্ষমতা ছেড়েছেন কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া লাগেনি। কিন্তু হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আমরাও এমন কিছু কখনোই করবোনা যা আমাদের নেতা তারেক রহমান পছন্দ করবেন না।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জাহান, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু, স্বেচ্ছাসেবকদল বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু, সদস্য সচিব খান মোঃ আনোয়ার, বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি।




যেভাবে ভারত পালিয়ে যান ওবায়দুল কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ আওয়ামী দোসরদের অনেকেই দেশ ছাড়তে মরিয়া। দালাল সিন্ডিকেটের সহায়তায় কেউ কেউ ভারতে ঢুকতে কোটি টাকাও দিয়েছেন। তবে ২০ লাখের নিচে কেউ ঢুকতে পারেননি। কেউ আবার খুইয়েছেন মোটা অঙ্কের নগদ টাকা ও ডলার। কাউকে দিতে হয়েছে জীবনও। তবু ভারতে পালানোর মিছিল থামছে না। এ সুবাদে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা চিহ্নিত দালালদের পোয়াবারো।

অভিযোগ আছে, ভিআইপিদের অনেকে পার হওয়ার সময় দুদেশের প্রশাসনের লোকজনের সহায়তা নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। আওয়ামী দোসরদের সাজানো প্রশাসন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে অনেকে তাদের নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়তে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন।

হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ৫ আগস্ট মধ্যরাতে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যশোরে চলে যান। সেখানে তাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরদিন তিনি বিশেষ প্রহরায় সীমান্ত অতিক্রম করেন। বিষয়টি যশোর ও বেনাপোলের বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে। তবে তারা পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে নারাজ।

এছাড়া ৭ আগস্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকারসহ আরও বেশ কয়েকজন বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছেন। এমন খবর নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন বিক্ষোভও করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনী নিয়ে মাঠে নামেন যশোর-১ আসনের সাবেক এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা হয়। বর্তমানে তিনি অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন। এছাড়া আত্মগোপনে রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, পৌর মেয়র নাসির উদ্দিন, সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম ওরফে লিটন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদারসহ স্থানীয় নেতাদের অনেকে। এদের বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।

তবে বেনাপোল ছাড়াও বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা পার্শ্ববর্তী পুটখালী ঘাট এলাকা দিয়ে ভারতে ঢোকেন। তাদের কেউ কেউ পুটখালীর দালাল সর্দার হিসাবে পরিচিত নাসিরের সহায়তায় দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে জানা যায়। অনেক আগে থেকে এ ঘাটটি ধুড় পাচারের অন্যতম ঘাট হিসাবে পরিচিত। এছাড়া রঘুনাথপুর এলাকার দালাল বাদশা মল্লিক ও কলারোয়া সীমান্তের ভাদিয়ালি ঘাটে আক্তার চন্দনের সহায়তায় অনেকে ভারতে ঢুকছেন। আওয়ামী লীগের লোকজনকে সীমান্তের ওপারে সহায়তা করছেন কুখ্যাত ভারতীয় দালাল গৌতম দাস l




দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই আটক সুলতান মনসুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কানাডা থেকে দেশে ফিরেই আটক হয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলে ইমিগ্রেশন তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, কিছু অভিযোগের কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব এবং কোথায় কী অভিযোগ আছে তা যাচাই-বাছাই করবো। এরপর আইনগত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান রেজাউল করিম মল্লিক।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, সুলতান মনসুর অনেকদিন ধরেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ভ্রমণে ছিলেন। ছাত্র আন্দোলনের অনেক আগে থেকেই তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা নেই।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, এরপর সিলেট এম সি কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

আশির দশকে সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের জন্য পরিচিতি লাভ করেন এই নেতা। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্রলীগের একমাত্র সভাপতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন।

পঁচাত্তরের কালো অধ্যায় বলে পরিচিত ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরে যে কয়জন প্রতিবাদে সরব হন তাদের মধ্যে সুলতান মনসুর একজন।