বর্গীর লাল চোখের খেলায় পাত্তা দেবে না জনগণ: মাস্টার আঃ মান্নান

বরিশালের উজিরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেছেন, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন বর্গীর বড় বড় লাল চোখকে জনগণ পাত্তা দেবে না। যদি কেউ অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তা জনগণ নিজ উদ্যোগে রুখে দেবে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উজিরপুরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রার্থী এসব কথা বলেন। সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জনগণের অধিকার আদায়ে জাতীয় সংসদে সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা রাখারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রশাসনের জবাবদিহিতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনায় প্রার্থী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিও অঙ্গীকার করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, উপজেলা সেক্রেটারি মো. খোকন সরদার, অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আজম খান, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক সাইয়েদ আহমেদ খান, জেলা মিডিয়া বিভাগের সভাপতি হাফেজ সাইফুল ইসলাম, জেলা ওলামা ও ধর্ম বিষয়ক সভাপতি হাফেজ মাওলানা কাওসার হোসেন, পৌর আমীর মো. আল আমিন সরদার, বড়াকোঠা ইউনিয়ন আমীর আনোয়ার হোসেনসহ জামায়াতে ইসলামী উজিরপুর উপজেলা শাখার অন্যান্য নেতাকর্মীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গোপাধ্যায়: জামায়াতকে সতর্ক করলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা

বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বরগুনা-১ আসনের দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জামায়াতকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা যদি চরিত্র পরিবর্তন না করেন, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে চিরদিনের জন্য আপনারা কবর পাবেন।’

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নজরুল ইসলাম মোল্লা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতৃস্থানীয় শিক্ষার্থী নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ দায়ের কোনো উত্তরণ না হওয়ায় তারা আবার শিবির রূপে দেশে ফিরে এসেছে। এছাড়া কিছু ইসলামী মৌলবাদী দলও নির্বাচনের পথ বন্ধের চেষ্টা করছে। বর্তমানে জামায়াত-শিবির ভারতের ‘র’ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে একত্রিত হয়ে জাতীয় নির্বাচনকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

নজরুল ইসলাম মোল্লা আরও বলেন, বিএনপি হিংসায় বিশ্বাস করে না। আমরা শুধু চাই দেশে গণতন্ত্র অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। তবে যারা বিএনপির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে আসবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র ও যুগ্ম আহ্বায়করা, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৭২ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন,মাথার আঘাত গুরুতর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তার ভাষায়, হাদির অবস্থা “খুবই ক্রিটিক্যাল” এবং সামনে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদিকে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, হাদির মাথায় বাম কানের ঠিক ওপরে গুলি ঢুকে ডান পাশে বেরিয়ে গেছে। এই গতিপথে মস্তিষ্কের একেবারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচিত। ব্রেন স্টেম জীবনরক্ষাকারী অনেক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।”

এ মুহূর্তে হাদির ওপর কোনো নতুন সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন করা সম্ভব নয় জানিয়ে বিশেষ সহকারী আরো বলেন, রোগীকে শুধু লাইফ সাপোর্টে ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

“আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আশার নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই,” বলেন তিনি।

ডা. সায়েদুর জানান, হাদিকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। তবু “একটুখানি আশার জায়গা” এখনো আছে—কারণ অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শরীরে স্বতঃস্ফূর্ত শ্বাস-প্রচেষ্টার কিছু সাড়া দেখা গেছে।

 




২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

বিএনপির দীর্ঘদিনের নির্বাসিত নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন—এ ঘোষণা আসতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তারেক রহমান দীর্ঘ এক যুগ ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং সমগ্র জাতি তার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে উচ্ছ্বসিত।

তিনি আরও জানান, ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে পা রাখার মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হবে বলে দলটি বিশ্বাস করে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দলকে সংগঠিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি

ঢাকা-৮ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী ও সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগরে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ জানান, হাদীর মাথায় গুলি লেগেছে এবং তিনি বর্তমানে গভীর কোমায় রয়েছেন। চিকিৎসকের ভাষায়, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা শুধু অন্যায় নয়, রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও হুমকি। আমাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তবুও আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টির বেশি নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন শরিফ ওসমান হাদী। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ বাড়ছিল, আর অবশেষে ঘটলো এই সশস্ত্র হামলা।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের পরিচয় অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে ইসির প্রজ্ঞাপন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের  তফসিল ঘোষণা করার পর সকল সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ  স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭ এর দফা (১) ও (২) অনুসারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৫ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে  নির্বাচনি এলাকাসমূহের জন্য বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করিতেছে।’

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং তিনজন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মকর্তাসহ (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে এক ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ জানিয়ে দেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব ও পরিধিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করার শেষ দিন ১১ জানুয়ারি, আর এসব আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা রাখা হয়েছে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, আর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, এরপর নীরবতা পর্ব কার্যকর হবে।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়, যা আজ প্রচারিত হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আসন বিন্যাস, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ অন্তত ২০টি পরিপত্র জারি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রজ্ঞাপনসহ সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংবিধানিক পরিবর্তনসহ নানা কারণে বেশ কয়েকটি সংসদ তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদই কেবল পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন, প্রচারণা, জোট রাজনীতি, মাঠপর্যায়ে সমর্থন—সব মিলিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসী ভোটারে রেকর্ড নিবন্ধন—‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ৩ লাখ ছাড়াল সংখ্যা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো ডাকযোগে ভোট গ্রহণের সুযোগ তৈরির পর থেকেই ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের হার আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ইসি’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়—এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৯ জন পুরুষ এবং ২৩ হাজার ২২৮ জন নারী। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের সরাসরি নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা হওয়ায় এটি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রবাসীদের মধ্যে সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৮৪ হাজার ৬০০ জন, এরপর ক্রমানুসারে কাতার ২৫ হাজার ২৫৭, যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার ৭৫৫, সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯ হাজার ৮৫২, মালয়েশিয়া ১৮ হাজার ১৫৬, সিঙ্গাপুর ১৫ হাজার ২৯৪, যুক্তরাজ্য ১৩ হাজার ৬৬৩, ওমান ১২ হাজার ৬২৫, ইতালি ৯ হাজার ৯৬৫, কানাডা ৯ হাজার ৮৫২, দক্ষিণ কোরিয়া ৯ হাজার ৬০২, অস্ট্রেলিয়া ৮ হাজার ২২১, কুয়েত ৮ হাজার ২০৪ এবং জাপান ৭ হাজার ৬৮ জন নিবন্ধন করেছেন।

এদিকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী কাজে যুক্তদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। ইসি জানিয়েছে, বিশেষ দায়িত্বে থাকা পুলিশ, সেনা কিংবা আনসার সদস্যদের নিবন্ধন পরবর্তী সময়ে আলাদাভাবে সম্পন্ন করা হবে।

ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান—বিদেশে অবস্থানকারীদের সুবিধার্থে ‘আউট অব কান্ট্রি’ ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করে প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিরা তাদের ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এর পাশাপাশি সৌদি আরবসহ সাতটি দেশে প্রবাসীরা ঠিকানা সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত এবং বাহরাইন—এই সাত দেশের ভোটাররা ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ঠিকানা আপডেট করতে পারবেন।

ইসি প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে—অ্যাপে নিবন্ধনের সময় অবশ্যই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা প্রদান করতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ ঠিকানা দিলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে কর্মস্থল বা পরিচিত ব্যক্তির ঠিকানাও ব্যবহার করা যাবে।

১৯ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধনের পর থেকে ১৪৮টি দেশে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করে বিদেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হচ্ছে প্রবাসীদের।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নিবন্ধনে ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসি মনে করছে—এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ হতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই পুরো এলাকায় অস্বাভাবিক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মনোনয়ন ঘোষণার পর টানা তিন দিন—৭, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর—বাউফলের ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে ‘প্রার্থী পরিবর্তন চাই’ স্লোগানে মুখর ছিলেন নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাউফল বিএনপি এখন প্রায় তিনভাগে বিভক্ত। সবচেয়ে বড় অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন। আরেকটি শক্তিশালী অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশ বর্তমান মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে মাঠে রয়েছে। যদিও মুনির হোসেন ও ফারুক সরাসরি মিছিল না করলেও তাদের অনুসারীরা বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

মুনিরপন্থী নেতাদের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। অপরদিকে, ফারুকপন্থীদের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী পলাশ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, শহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তারা জানান, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘড়ি মার্কায় নির্বাচন করা থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে বিএনপির অফিসিয়াল প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস মার্কায় সমর্থন দেওয়া—এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বারবার দলের ক্ষতি করেছেন। এমনকি ২০১৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে নিজের ভাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেও মাঠে নামিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীত মেয়াদে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও স্মরণ করিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সব কারণে বাউফলের নেতাকর্মীদের বড় অংশ মনে করেন—তালুকদারকে পুনরায় মনোনয়ন দিলে স্থানীয় বিএনপি আরও ভাঙনের মুখে পড়বে। তাই মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে গ্রুপভিত্তিক মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তারা। শনিবার থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী দুই গ্রুপ। তাদের দাবি—”বাউফলের বাস্তব অবস্থার আলোকে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা হোক।”

এদিকে, প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক বিরোধের মধ্যেও মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল পাবলিক মাঠে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব পেয়েছি দল থেকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চাই।” তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাউফল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ সংকটে রূপ নেবে কিনা—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এনসিপির নির্বাচনী চমক: ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে লড়তে প্রস্তুত ১২৫ জন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব-পশ্চিমসহ প্রতিটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দলটির নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী নির্বাচনে নতুন উদ্যম, সততা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাজ করতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিসর বাড়াতে দলটি এবারের নির্বাচনে দ্বিমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে—একদিকে জনমুখী প্রার্থীদের মনোনয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার ধারা অব্যাহত রাখা। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইন পেশা, ব্যবসা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট অনেক পরিচিত মুখ।

উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও জেলার দুই আসনে মো. রবিউল ইসলাম এবং গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে আ হ ম শামসুল মুকতাদির ও ডা. আব্দুল আহাদসহ একাধিক অভিজ্ঞ মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পন ও আবু সায়েদ লিয়নকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনেও তালিকায় স্থান পেয়েছেন আল মামুন, আখতার হোসেন, মাহফুজুল ইসলামসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পরিমল চন্দ্র (উরাও), মনিরা শারমিন, অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদিরের মতো শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জয়পুরহাটের আসনগুলোতে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকেও নির্বাচন করেছে দলটি।

দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের তালিকায় রয়েছে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, ফরিদুল হক, আবু সাঈদ মুসা, নুরুল হুদা চৌধুরীর মতো পরিচিত মুখ। উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালী-১ আসনে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এবং পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভোলা, ঝালোকাঠি, পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য constituencies–এও দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা স্থান পেয়েছেন।

ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। রাজধানীর ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, নারী নেত্রী এবং উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে পার্টি। এর মধ্যে ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, মেজর (অব) আলমগীর ফেরদৌস, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদসহ একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, যাদের নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু দলটির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নরসিংদী-১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগেও রয়েছে ব্যাপক উপস্থিতি। চট্টগ্রাম-৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬—প্রায় প্রতিটি আসনেই মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি, যাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী। কক্সবাজারের ১, ২ ও ৪ নম্বর আসনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নতুন প্রার্থীকে। পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, প্রিয় চাকমা ও মংসা প্রু চৌধুরীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, ব্যাপকভিত্তিক এই প্রার্থী তালিকা দলটিকে আগামীর রাজনীতিতে দৃশ্যমান অবস্থানে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা অর্জনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, গণসংযোগ ও মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম