আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে লড়তে প্রস্তুত ১২৫ জন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব-পশ্চিমসহ প্রতিটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
দলটির নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী নির্বাচনে নতুন উদ্যম, সততা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে কাজ করতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিসর বাড়াতে দলটি এবারের নির্বাচনে দ্বিমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে—একদিকে জনমুখী প্রার্থীদের মনোনয়ন, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার ধারা অব্যাহত রাখা। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, আইন পেশা, ব্যবসা ও সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট অনেক পরিচিত মুখ।
উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও জেলার দুই আসনে মো. রবিউল ইসলাম এবং গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে আ হ ম শামসুল মুকতাদির ও ডা. আব্দুল আহাদসহ একাধিক অভিজ্ঞ মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। নীলফামারীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পন ও আবু সায়েদ লিয়নকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগের অন্যান্য আসনেও তালিকায় স্থান পেয়েছেন আল মামুন, আখতার হোসেন, মাহফুজুল ইসলামসহ কয়েকজন তরুণ নেতা।
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন পরিমল চন্দ্র (উরাও), মনিরা শারমিন, অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদিরের মতো শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা। সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও জয়পুরহাটের আসনগুলোতে নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকেও নির্বাচন করেছে দলটি।
দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের তালিকায় রয়েছে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, ফরিদুল হক, আবু সাঈদ মুসা, নুরুল হুদা চৌধুরীর মতো পরিচিত মুখ। উপকূলীয় অঞ্চল পটুয়াখালী-১ আসনে এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এবং পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভোলা, ঝালোকাঠি, পিরোজপুরসহ বরিশাল বিভাগের অন্যান্য constituencies–এও দলটির তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা স্থান পেয়েছেন।
ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে এবার ব্যাপকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। রাজধানীর ঢাকা-১ থেকে ঢাকা-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, নারী নেত্রী এবং উদ্যোক্তাদের মনোনয়ন দিয়েছে পার্টি। এর মধ্যে ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, মেজর (অব) আলমগীর ফেরদৌস, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদসহ একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, যাদের নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু দলটির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। নরসিংদী-১, ২, ৪ ও ৫ নম্বর আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে জনসংযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগেও রয়েছে ব্যাপক উপস্থিতি। চট্টগ্রাম-৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬—প্রায় প্রতিটি আসনেই মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি, যাদের মধ্যে রয়েছে শিক্ষিত তরুণ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী। কক্সবাজারের ১, ২ ও ৪ নম্বর আসনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নতুন প্রার্থীকে। পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে যথাক্রমে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা, প্রিয় চাকমা ও মংসা প্রু চৌধুরীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, ব্যাপকভিত্তিক এই প্রার্থী তালিকা দলটিকে আগামীর রাজনীতিতে দৃশ্যমান অবস্থানে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে ভোটারদের আস্থা অর্জনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, গণসংযোগ ও মাঠপর্যায়ের তৃণমূল নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখারও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম