মুক্তিযুদ্ধ-ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না: নাহিদ ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ইসলামের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর শাহবাগে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে জাতি আজও সুস্পষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধ যেমন বিভাজনের হাতিয়ার হতে পারে না, তেমনি ধর্মের নামেও দেশকে ভাগ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই—দুটিই জনগণের।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে মুজিববাদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রেখেছিল। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র বারবার বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর পুরোনো রাজনৈতিক বয়ান ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা থেকে নতুন এক জাতীয় বয়ান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর আঘাত। জনগণের নিরাপত্তা জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে এখনো সরকার ও আইনের শাসনের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশজুড়ে গ্রাম, মহল্লা ও পাড়ায় পাড়ায় আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না, তবুও জনগণ নিজেরাই নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছিল। সেই ঐক্যের মাধ্যমেই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, শিশু-তরুণ—সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে। একই সঙ্গে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। এনসিপির লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সিইসির পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উক্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন,ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে সিইসি দায়িত্বে থাকতে পারেন না। এটি প্রত্যাহার করতে হবে। অথর্ব এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন,‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নৈতিকভাবে এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। আগস্টের পর মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলাস্বাভাবিকহয়নি।
 
তিনি বলেন, ‘হাদির ওপর হামলায় বাংলাদেশ আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এবং জুলাই বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ, সেই বার্তা দিতে আজকের এইসমাবেশ।
 
বিজয় দিবসের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ বলেনগোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা গুমখুন করেছে দক্ষতার সাথে। কিন্তু এখন খুনিকে ধরতে পারে না। ডিপস্টেট নিয়ে কথা বলতে হবে। ৭১ সাল থেকে প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল,এখনও চলছে। কাল উৎসব করতে নয়,প্রতিরোধ যাত্রা করব।
 
হাদির ওপর হামলায় ভারতের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন,ভারত যদি মনে করে,আগের মতো হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারচুপি করবে।আমরা সেটি ভুল প্রমাণ করব। 
হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন,‘ভারতের অখণ্ডতা সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল।ভারতকে সাবধান থাকতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মান মর্যাদার সম্পর্ক রাখতে হবে।

 




গভীর নিরাপত্তার সংকটে দেশের রাজনীতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ঐতিহাসিক চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দেশের দ্বার প্রান্তে তখনই দেশে ঘটে গেল এক পৈশাচিক ঘটনা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হলো। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিএনপিঘোষিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এরশাদউল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়।এখন তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে দেশের রাজনীতি কি নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে?

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামগ্রিক নিরাপত্তাকে অবিশ্বাস্য রকমের নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সমর্থক থেকে সর্বস্তরের মানুষ রীতিমতো হতভম্ব।

তাহলে রাজনীতিতে নিরাপত্তাটা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? আর দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বা কোন দিকে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কী হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে?

এ প্রসঙ্গে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, সব রাজনৈতিক নেতারা যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এখানে সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন অন্যতম জুলাই যোদ্ধা এবং এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ধরনের বর্বর হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে। তিনি বলেন, ওসমান হাদি গত ১৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার যে প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং নির্বাচন বানচালের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে অখ্যায়িত করেছেন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা শুরু করেছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে গুলি ও হামলার মতো আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আসন্ন নির্বাচনে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সহিংসতা ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

জানা গেছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এই ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা’কে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা কেউ-ই বিচ্ছিন্ন কিংবা স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁরা সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘটনাটিকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর উপস্থিতিতে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই সভার আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতায় সরব ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয় তরুণ নেতারা। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের নেতাদের হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই মিশন যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপর আঘাত।। তিনি বলেন, ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটা চরিত্র। ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপরে আঘাত।

ওসমান হাদির মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনায় রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, মব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে। জুলাই আন্দোলনের পরও আগের মতো নির্বাচন হলে অভ্যুত্থানের মর্মটাই নষ্ট হয়ে যাবে।




ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার ঢাকায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায়  এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে,  তিনি যে আবার কবে আমাদের মাঝে ফিরবেন তা অনিশ্চিত। এদিকে ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণকারী দৃর্বৃত্ত  ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আবার তলব করা হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ভারতের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। তাঁরা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাঁদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত পাঁচবার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দিল্লিতে থেকে নানা বক্তব্য–বিবৃতি দিয়ে চলেছেন। তা বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় আহ্বান জানানো হলেও নয়াদিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।

এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনার আরও বক্তব্য–বিবৃতি আসতে থাকে।

সেই প্রেক্ষাপটে আবার  ও ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাঁকে ডেকে নিয়ে সরকারের পক্ষে উদ্বেগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ভারতের হাইকমিশনারকে বলা হয়, পলাতক শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসন্ন নির্বাচন বানচালে প্ররোচিত করছেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।




ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ, অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান ও আকন কুদ্দুসুর রহমানের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি একটি সুপরিকল্পিত টার্গেট কিলিংয়ের অপচেষ্টা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ষড়যন্ত্রকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও দেশপ্রেমিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। বিএনপি কখনোই সন্ত্রাস ও সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

সমাবেশে বক্তারা বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিকভাবে ঘোষিত মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়েও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

বক্তারা অবিলম্বে ওসমান হাদির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বর্গীর লাল চোখের খেলায় পাত্তা দেবে না জনগণ: মাস্টার আঃ মান্নান

বরিশালের উজিরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেছেন, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন বর্গীর বড় বড় লাল চোখকে জনগণ পাত্তা দেবে না। যদি কেউ অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তা জনগণ নিজ উদ্যোগে রুখে দেবে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উজিরপুরের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রার্থী এসব কথা বলেন। সভায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মাস্টার আব্দুল মান্নান বলেন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং নারী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া জনগণের অধিকার আদায়ে জাতীয় সংসদে সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা রাখারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রশাসনের জবাবদিহিতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনায় প্রার্থী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিও অঙ্গীকার করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, উপজেলা সেক্রেটারি মো. খোকন সরদার, অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আজম খান, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক সাইয়েদ আহমেদ খান, জেলা মিডিয়া বিভাগের সভাপতি হাফেজ সাইফুল ইসলাম, জেলা ওলামা ও ধর্ম বিষয়ক সভাপতি হাফেজ মাওলানা কাওসার হোসেন, পৌর আমীর মো. আল আমিন সরদার, বড়াকোঠা ইউনিয়ন আমীর আনোয়ার হোসেনসহ জামায়াতে ইসলামী উজিরপুর উপজেলা শাখার অন্যান্য নেতাকর্মীরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বঙ্গোপাধ্যায়: জামায়াতকে সতর্ক করলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা

বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বরগুনা-১ আসনের দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জামায়াতকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা যদি চরিত্র পরিবর্তন না করেন, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে চিরদিনের জন্য আপনারা কবর পাবেন।’

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোডে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নজরুল ইসলাম মোল্লা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতৃস্থানীয় শিক্ষার্থী নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ দায়ের কোনো উত্তরণ না হওয়ায় তারা আবার শিবির রূপে দেশে ফিরে এসেছে। এছাড়া কিছু ইসলামী মৌলবাদী দলও নির্বাচনের পথ বন্ধের চেষ্টা করছে। বর্তমানে জামায়াত-শিবির ভারতের ‘র’ এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে একত্রিত হয়ে জাতীয় নির্বাচনকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

নজরুল ইসলাম মোল্লা আরও বলেন, বিএনপি হিংসায় বিশ্বাস করে না। আমরা শুধু চাই দেশে গণতন্ত্র অক্ষুণ্ণ থাকুক এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। তবে যারা বিএনপির সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে আসবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে। তিনি বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সিনিয়র ও যুগ্ম আহ্বায়করা, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৭২ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন,মাথার আঘাত গুরুতর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তার ভাষায়, হাদির অবস্থা “খুবই ক্রিটিক্যাল” এবং সামনে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদিকে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, হাদির মাথায় বাম কানের ঠিক ওপরে গুলি ঢুকে ডান পাশে বেরিয়ে গেছে। এই গতিপথে মস্তিষ্কের একেবারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচিত। ব্রেন স্টেম জীবনরক্ষাকারী অনেক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।”

এ মুহূর্তে হাদির ওপর কোনো নতুন সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন করা সম্ভব নয় জানিয়ে বিশেষ সহকারী আরো বলেন, রোগীকে শুধু লাইফ সাপোর্টে ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

“আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আশার নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই,” বলেন তিনি।

ডা. সায়েদুর জানান, হাদিকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। তবু “একটুখানি আশার জায়গা” এখনো আছে—কারণ অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শরীরে স্বতঃস্ফূর্ত শ্বাস-প্রচেষ্টার কিছু সাড়া দেখা গেছে।

 




২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

বিএনপির দীর্ঘদিনের নির্বাসিত নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরছেন—এ ঘোষণা আসতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তারেক রহমান দীর্ঘ এক যুগ ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং সমগ্র জাতি তার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে উচ্ছ্বসিত।

তিনি আরও জানান, ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে পা রাখার মাধ্যমে দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হবে বলে দলটি বিশ্বাস করে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দলকে সংগঠিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি

ঢাকা-৮ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী ও সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগরে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ জানান, হাদীর মাথায় গুলি লেগেছে এবং তিনি বর্তমানে গভীর কোমায় রয়েছেন। চিকিৎসকের ভাষায়, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা শুধু অন্যায় নয়, রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও হুমকি। আমাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তবুও আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টির বেশি নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন শরিফ ওসমান হাদী। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ বাড়ছিল, আর অবশেষে ঘটলো এই সশস্ত্র হামলা।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের পরিচয় অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম