রাষ্ট্রের ১০ খাতে সংস্কার চায় জামায়াত, ৪১ প্রস্তাবনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা, পররাষ্ট্র এবং শিক্ষাসহ রাষ্ট্রের ১০টি খাতে সংস্কারের জন্য ৪১টি প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে অন্যতম ইভিএম বাতিল, পুলিশি আইন সংস্কার, সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের সময়সীমা ৬২ বছর নির্ধারণ।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এ সময় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জুলাই-আগস্টে যারা জীবন দিয়েছে আল্লাহ তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আওয়ামী লীগ দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিল। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য প্রশাসন, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ কুক্ষীগত করেছিল। হাজার হাজার মামলা দায়ের করে জুলুমের রাজনীতি কায়েম করেছিল।

তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কমিশনের অনেক সংস্কার প্রয়োজন। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করতে হবে। প্রয়োজনে আইনের সংশোধন করতে হবে। একইসঙ্গে সংসদে বিরোধীদলের ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

এর মধ্যে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা কারার প্রস্তাব দিয়ে ডা. তাহের বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আইন সংস্কার করতে হবে। দেওয়ানি মামলা ৫ বছর ও ফৌজদারি মামলা ৩ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল, কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছিল। এখন এটি অন্তর্ভুক্ত করতে এবং ইভিএম বাতিল করতে হবে।

পুলিশের আইন পরিবর্তন করার দাবি জানিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, বদলি ও পদোন্নতির জন্য স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। কোনো সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না। পুলিশে নিয়োগে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। পুলিশ ট্রেনিংয়ের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা রাখতে হবে। পুলিশের কাছে মারণাস্ত্র দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, র‍্যাবে যারা গত ১৫ বছর কাজ করেছেন তাদের ফিরিয়ে আনা যাবে না ও র‍্যাবের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে সংস্কার করতে হবে।

সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি নিয়েও প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির বলেন, সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করতে হবে। চাকরিতে বয়স সময়সীমা আগামী ২ বছরের জন্য ৩৫ ও পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর আর শেষ হবে ৬২ বছর বয়সে।

এ সময় সরকারি চাকরিতে প্রশ্নফাঁস বা দুর্নীতি করে যারা চাকরি পেয়েছে, তাদের নিয়োগ বাতিল করার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে দুদককে শক্তিশালী করে স্বাধীনভাবে কাজ করার ব্যবস্থা করতেও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরপর দুই বারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, এমন প্রস্তাবনা দিয়ে দলের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ব্যবহারে ভাগভাগি থাকতে হবে।

প্রস্তাবনায় শিক্ষা ও দেশের বিনোদন সেক্টর নিয়েও সংস্কারের দাবি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সকল শ্রেণির পাঠক্রমে হজরত মুহাম্মাদ (স.)-এর বিষয় যুক্ত করতে হবে। নাটক, সিনেমা ও কন্টেন্ট অশ্লীলমুক্ত করতে হবে।

ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, চীন, নেপাল ও ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। পররাষ্ট্র বিষয়ে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখতে হবে। হজ ও ওমরার খরচ কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণহত্যায় জড়িত যারা পালিয়ে গেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আগে নির্বাচন, নাকি সংস্কার, এমন এক প্রশ্নে জামায়াত আমির জবাব দেন, দুটি রোডম্যাপ হবে। একটা সংস্কারের, আর একটা নির্বাচনের। তবে সময় যেন অতি দীর্ঘ না হয়, আবার অতি সংক্ষিপ্ত না হয়।




আওয়ামী লীগের নির্বাচনে আসা নিয়ে যে মন্তব্য করলেন জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মতে, আওয়ামী লীগ তো নির্বচন চায় না। তাদের ওপর নির্বাচন চাপিয়ে দিলেতো সেটা জুলুম হবে; একটা বৈষম্য হবে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা’য় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসুক, আমরা চাই কি না — এমন প্রশ্ন এসেছে। তারা কি নির্বাচন করেছিলো, না। তারা ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলো? তারা নির্বাচন চায়নি। এজন্য রাতের অন্ধকারে ভোট করেছিল পুলিশ আর প্রশাসন দিয়ে। যারা নির্বাচন চায় না, তাদের ওপর নির্বাচন চাপায়ে দিলেতো জুলুম হবে। এটাও একটা বৈষম্য হবে।’

আগে নির্বাচন, না আগে সংস্কার — এমন প্রশ্নে জামায়াত আমির বলেন, দুটি রোডম্যাপ হবে। একটা সংস্কারের আর একটা নির্বাচনের। তবে সময় যেনো অতি দীর্ঘ না হয়, আবার অতি সংক্ষিপ্ত না হয়। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে। একটি বর্ণাঢ্য সংসদের জন্য জনগণের কোন ব্যাক্তিকে না ভোট দিতে হবে দলকে।

১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচিত হয়েছিলো তা ভারতে বসে রচিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশে বসেও রচনা করা যেতো। জন্মভূমি হিসেবে সংবিধান বাংলাদেশের ভূখণ্ড পায়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করলাম মুজিব সাহেব থাকা অবস্থায় পার্লামেন্টে ৭ মিনিটের বক্তব্যের পর বাকশাল কায়েম হলো। আমাদের সংবিধান যেনো মতলবি সংবিধান না হয়। শুধু নির্বাচন নয়, সমগ্রিক সমাজ কাঠামো ধরে সংবিধান হতে হবে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, গণহত্যায় জড়িত যারা পালিয়ে গেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।




পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান এক অফিস আদেশ দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

শিগগিরই দুই ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছেন।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে পবিপ্রবি আইনের ধারা ৪৭ (৫) মোতাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ১৪ আগস্ট একটি অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে।




প্রশাসনে স্বৈরাচারের কীটপতঙ্গ থাকলে দেশকে বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে: রিজভী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পতিত স্বৈরাচারের কীটপতঙ্গ প্রশাসনের মধ্যে থাকলে দেশকে তারা বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা মহানুভতা, মানবতা অবশ্যই রাখবেন। কিন্তু যারা নিজেরা মানবতা দেখায়নি, যারা মহানবতা দেখায়নি, যারা শেখ হাসিনাকে উদ্বুদ্ধ করেছে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুলি করতে সেই স্বৈরাচারের কীটপতঙ্গ যদি প্রশাসনের মধ্যে থাকে, তারা আপনাদেরকে প্রতি পদে পদে বাধা দিবে। তাদেরকে অতি দ্রুত চিহ্নিত করে গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে যারা ছিল অথবা যারা নিরপেক্ষ ছিল, তারা যে দলেরই সমর্থক হোক না কেন এ সমস্ত মেধাবী লোকদেরকে আপনারা প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বসান। সেটা না হলে দেশকে তারা বিপদজনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে। কারণ তাদের পিছে একটি বিশেষ পরাশক্তির প্রভু আছে যাদের আশ্রয়ে তারা আছে।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘পতিতো স্বৈরাচারের পুনরুত্থান যাতে না ঘটে। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়, আর যেন কোনো মায়ের সন্তানকে হত্যা না করা হয়। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, শেখ হাসিনার পুনরুত্থান মানে দেশ হবে এক ভয়ঙ্কর বধ্যভূমি। এই বধ্যভূমি যাতে তৈরি না হয়, তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেও অন্তরে সততার আলো নিয়ে খুব দ্রুতগতিতে কাজ করতে হবে। সেই পথ, সেই মত তৈরি করতে হবে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে মাঠ দরকার সেটি তাদেরকে তৈরি করতে হবে। তবে সেটি যেন প্রলম্বিত না হয় দীর্ঘায়িত না হয়।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম উর্মি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লালমনিরহাটের উর্মি, তিনি আবু সাঈদের মত একজন মহিমান্বিত আত্মদানকারী, সাহসী বীর তরুণ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, যে ব্যক্তি অকাতরে নিজের জীবন দিয়েছে, বুক চিতিয়ে হাসিনার পুলিশের গুলি বরণ করেছে, তাকে বলছে সন্ত্রাসী। তাকে বলছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী। এদের মত লোকজনই তো প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় আছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তো প্রশাসনের একটি অংশ, তাহলে আজকে সচিবালয় থেকে শুরু করে আজকে বিচারালয় থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিভাবে এই স্বৈরাচারের দোসররা একটি বিপ্লবের সরকারকে একটি গণআন্দোলনের সরকারকে ব্যর্থ ব্যর্থ করতে চাইবে। সেটা তো আমরা প্রত্যেকেই জানি।’

প্রশাসনে যাদের নতুন প্রমোশন হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘প্রশাসনে যাদের নতুন প্রমোশন হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন এবং যাদের পদায়ন হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আওয়ামী প্রশাসন লুট করেছে জনগনের টাকা। অনেকেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আপনারা বঞ্চিত ছিলেন। আপনাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছিল বিরোধী দলের লোক হিসেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে কায়দায় করেছে তাদের একেকজন সচিব আমরা খবরের কাগজে দেখছি তাদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার কাহিনী। একজন ডিসি বা অ্যাডিশনাল কমিশনার কিংবা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার আমলে যে কাজ করেছে, আপনারাও যদি সেই পথ অনুসরণ করেন, তাহলে আপনাদেরকেও ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। আপনারা যদি মনে করেন আমরা এতদিন বঞ্চিত ছিলাম। এখন ভাগ বাটোয়ারা করে সেটি পূরণ করবো। তাহলে কিন্তু এই জাতি চিরদিনের জন্য অন্ধকারে চলে যাবে এবং ওই যে পতিত স্বৈরাচার এরা নানাভাবে আসার চেষ্টা করবে। ’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা যে মাফিয়া অর্থনীতিতৈরি করেছিল, যার মধ্য দিয়ে মাফিয়া ব্যবসায়ীরা একের পর এক ব্যাংক তারা একত্রীকরণ করেছে। তারা এক ভয়ঙ্কর আতঙ্কের অর্থনীতির মধ্যে দেশকে ঠেলে দিয়েছে। এক এস আলম ৮ থেকে ৯টি ব্যাংক আত্মসাৎ করেছে। এখানে জনগণের টাকা সে আত্মসাৎ করে নিজের বিভিন্ন কাজে লাগিয়েছে এবং বিদেশে পাচার করেছে। এক এস আলম স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন টাকা লোপাট করেছে। এটা তো আজকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে। সুতরাং এই সমস্ত বড় বড় রুই কাতলা যারা জনগণের সঞ্চিত টাকা আত্মসাৎ করে মাফিয়া অর্থনীতি তৈরি করেছে এবং শেখ হাসিনার যে লুণ্ঠনের নীতি, হরি লুটের যে নীতি, এটাকে তারা বাস্তবায়ন করেছে, তারা কিন্তু বসে নেই। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে তারা পাচার করেছে। সেই টাকা দিয়ে তারা নানা ভাবে নানা কায়দায় দেশের মধ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাচ্ছে।’

রিজভী আরও বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় সিঙ্গাপুরে একটি লবিস্ট ফান্ড ভাড়া করেছে তাদের পক্ষে ওকালতি করার জন্য। এগুলো কিন্তু খুব সাধারন কথা নয়। এগুলো অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহি। কারণ ওদের অনেক টাকা আছে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা: জাহিদুল কবির, যুবদল নেতা মেহবুব মাসুম শান্ত, আরিফুর রহমান তুষার, ছাত্রদলের নেতা ডা: আব্দুল আউয়াল মাসুদুর রহমান মাসুদ, রাজু আহমেদ প্রমুখ।




জাতীয় পার্টিকে সংলাপে ডাকা প্রসঙ্গে সারজিস-হাসনাতের ক্ষোভ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সংলাপ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম সোমবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে সারজিস লিখেছেন, জাতীয় পার্টির মতো মেরুদণ্ডহীন ফ্যাসিস্টের দালালদেরকে প্রধান উপদেষ্টা কিভাবে আলোচনায় ডাকে?

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হলে, আমরা সেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও কঠোর বিরোধিতা করব।




আমলাতন্ত্রই হাসিনাকে ফের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে পারে : টাইম ম্যাগাজিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন? গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন ১৫ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা শেখ হাসিনা। গতকাল তার দেশত্যাগের দুই মাস পার হয়েছে। এরই মধ্যে তার বাংলাদেশী পাসপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। হাসিনা এখন ভারতে কোন পরিচয়ে আছেন তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ভারত সরকারও সে দেশে তার অবস্থান নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। খবর বেরিয়েছে হাসিনা এখন অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন।

এ দিকে ৮০ বছরের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কতটুকু তা নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে আলোচনা চলছে। দলের সভাপতির দেশত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রায় সর্বস্তরের নেতারাই দুর্নীতি আর হত্যা মামলা মাথায় নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। নেতৃত্বশূন্য আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক একনিষ্ঠ কর্মী মনে করেন তাদের নেত্রী আবার বাংলাদেশে ফিরে দলের হাল ধরবেন।
কিন্তু রাজনীতিতে হাসিনার ফেরা কি আদৌ সম্ভব? হাজারো শহীদ আর অসংখ্য আহত মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতনের সফল আন্দোলন কি ব্যর্থ হয়ে যাবে?

এ নিয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিন। তাদের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতির যে নেতৃত্বশূন্যতা, সেটিই এক সময় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার পথ এবং রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক এবং বাংলাদেশের নাগরিক মোবাশ্বের হাসান এ প্রসঙ্গে টাইম সাময়িকীকে বলেন, ‘বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারের বৈধতা রয়েছে, জনসমর্থনও রয়েছে; কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত কোনো সরকার নয়। নির্বাচিত সরকারের মতো তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই। শেখ হাসিনা যদি চান, তাহলে এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করে এক সময় দেশে ফিরে আসতে পারবেন। এটা কেবলই সময়ের অপেক্ষা।’

যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাংক সংস্থা উইলসন সেন্টারের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও এমনটা মনে করেন।
টাইম সাময়িকীকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন শুধু সম্ভবই নয়, খুবই সম্ভব। কারণ পরিবারতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুগ যুগ ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি চলে আসছে। মাত্র বাংলাদেশে সহসাই এ সংস্কৃতির অবসান ঘটবে এমনটা প্রত্যাশা করা যায় না। তার পরও হয়তো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেতো, যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হতো। কিন্তু দেশটির যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তাতে এটি একেবারেই সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ এখনও বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান টাইম ম্যাগাজিনকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দেশ থেকে বিদায় নিয়েছেন এবং তার চলে যাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ কোনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা একেবারেই ভিত্তিহীন কল্পনা। অবশ্য এই সরকার যদি সার্বিকভাবে ভেঙে পড়ে, তাহলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’ এবং এই সরকারের ভেঙে পড়ার আশঙ্কা বেশ ভালোভাবেই রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক শহীদুল হক।

টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। পনের বছর কিন্তু অনেক দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পুরো আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনকে নিজের মতো করে সাজিয়েছে দলটি। বর্তমান সরকার কয়েকজন চিহ্নিত আমলা ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পুরো প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো এই সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তা ছাড়া প্রশাসন ঢেলে সাজাতে গেলে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার পারত পক্ষে কোনোভাবেই এ ঝুঁকি নিতে চাইবে না। আর এই প্রশাসন এবং আমলাতন্ত্রই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনাকে ফের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনবে।’

তবে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সচেতন মহল বিষয়টা বুঝতে পেরে নড়ে চড়ে বসার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক মহল দাবি তুলেছে হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগীদের প্রশাসন থেকে দ্রুত সরিয়ে বঞ্চিত ও সৎ লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসানো হোক। সরকারও প্রশাসনে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তার ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন যে, তার মা আর রাজনীতিতে ফিরবেন না। পরে অবশ্য তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে যে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তিনি (জয়) দলের হাল ধরবেন। তিনি সত্যিই এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে টাইম ম্যাগাজিনকে জয় বলেন, ‘আমার কখনওই রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা ছিল না; কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে ভবিষ্যতে কী হয় তা কে বলতে পারে? আমি এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি।’

তবে জয় যদি রাজনীতিতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এই মুহূর্তে সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে কী না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ মীনাক্ষী গাঙ্গুলী।

টাইম সাময়িকীকে মীনাক্ষী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে, দলটির রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার পুরোটা জুড়েই রয়েছেন শেখ হাসিনা। তারা বঙ্গবন্ধু কন্যার বাইরে অন্য কাউকে দলীয় প্রধান বা সরকার প্রধানের পদে দেখতে প্রস্তুত নয়। আওয়ামী লীগ যদি তার ভুলগুলো স্বীকার করে, দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি করে এবং নিজেকে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে, কেবল তাহলেই বর্তমান সঙ্কট থেকে দলটির উত্তরণ সম্ভব।’




বরিশালের সাবেক এমপি শাহে আলমের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন শাহে আলম তালুকদার। নব্বইয়ের দশকে এরশাদ সরকার পতন আন্দোলনের রাজপথ কাঁপানো এই ছাত্রনেতা ২০১৮ সালে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া ও উজিরপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এমপি হওয়ার পর পাঁচ বছরে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দরিদ্রজন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন তহবিল থেকে নেওয়া শতকোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নামে-বেনামে, দেশে-বিদেশে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য গত বছর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও করেছিল বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় নির্মাণের ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমপি হওয়ার পর ভাগ্যবদল ::
সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী অস্থাবর সম্পদের তালিকায় শাহে আলম ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি গাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর অর্ধকোটি টাকা মূল্যমানের নতুন ব্র্যান্ডের গাড়ি নিয়ে এলাকায় আসেন শাহে আলম। এরপর বছর না যেতে তার গাড়িবহরে যুক্ত হয় ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো। শুল্কমুক্ত সুবিধায়ন আনা ওই গাড়ির তৎকালীন মূল্য ছিল প্রায় দুই কোটি টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘এমপি’ নামক আলাউদ্দিনের চেরাগের ঘষায় শাহে আলমের ভাঙা টিনের ঘরেরও পরিবর্তন আসে। বাবা সাইজুদ্দিনের জরাজীর্ণ টিনের ঘর ভেঙে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন প্রাসাদসম ডুপ্লেক্স বাড়ি। একই সময়ে ওই বাড়ির বিপরীতে থাকা তিন শতাংশ সরকারি খাস জমি দখল করে নির্মাণ করে ব্যক্তিগত বৈঠকখানা এবং নিজস্ব কর্মচারী ও ড্রাইভারদের জন্য দ্বিতল ভবন। সরকারি খাল দখল করে নির্মাণ করেন সীমানাপ্রাচীর। এ নিয়ে কয়েকবার উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ::
শাহে আলম এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের মালিকানাধীন এসএম ফাউন্ডেশনের নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প থেকে নেওয়া শতকোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু ঋণের অর্থ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। জনশ্রুতি রয়েছে, ওই টাকাসহ বিপুল পরিমাণের অর্থ তিনি কানাডায় পাচার করেছেন। সেখানে গড়ে তুলেছেন বাড়ি, কিনেছেন গাড়ি। কানাডায় শিক্ষা ভিসা নিয়ে তার দুই ছেলে বসবাস করছেন। মাঝেমধ্যে তিনি সেখানে গিয়ে অবকাশকালীন পার করতে যেতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাহে আলমের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, এর আগে ১৯৯৬ সালেও ওই ফাউন্ডেশনের নামে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ছিলেন আলম। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ওই সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১৯৯৬ সালে নেওয়া শতকোটি টাকার ঋণ মওকুফ আবেদন করেন তিনি।

হিন্দুদের বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা :: 
২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কারণ দেখিয়ে ভেঙে ফেলেন বিপ্লবী কুমুদ বিহারী গুহ ঠাকুরতার সমাধির সীমানা দেয়াল ও স্মৃতিস্তম্ভের একাংশ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি সমাধিটি সংস্কার করেন। ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে জ্যোর্তিময় গুহ ঠাকুরতার পারিবারিক সম্পত্তি দখল করেন শাহে আলম। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি উপজেলার পশ্চিম তেতলা গ্রামে ১২ পরিবারের কয়েক একর জমি দখলের চেষ্টা করেন আলম। জমির দলিল লিখে নেওয়ার জন্য কৃষক রতন ঘরামীকে ঘরে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করে শাহে আলমের বাহিনী। পরের দিন ভোরে ৯৯৯ খবর পেয়ে রতন ঘরামীকে উদ্ধার করে পুলিশ। ২৫ জানুয়ারি দুপুরে লোমহর্ষক সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রতন ঘরামী। ওই ঘটনায় আদালতে রতনের করা মামলার এখনো তদন্ত করছে পিআইবি। এদিকে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল ও নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে একুশের গানের রচয়িতা প্রয়াত ভাষাসৈনিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখেন।

ঠিকাদারি কাজ ভাই-ভাগনে, কমিশন ৫-১৮ পার্সেন্ট :: ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বরিশাল-২ আসনের বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলায় ব্রিজ-কালভার্ট, আয়রন সেতু, সড়ক নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ এবং সংস্কারসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কমপক্ষে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এর অধিকাংশ প্রকল্পের ঠিকাদার ছিলেন তার ভাই, ভাগনে ও চাচাতো ভাইয়েরা।

প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, বানারীপাড়া ঠিকাদারি কাজ করতে হলে ৫-১৮ পার্সেন্ট টাকা শাহে আলমকে দিতে হতো। সে তার ভাই-ভাগনে কিংবা অন্য যে কেউ হোক না কেন। কমিশনের ওই টাকা তিনি সংগ্রহ করতেন প্রকৌশলীদের মাধ্যমে।

রাসেল আহমেদ নামে এক ঠিকাদার বলেন, ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্টের (ইজিপি) কোনো ঠিকাদার কাজ পেলেও তিনি তা করতে পারতেন না। ওই কাজ নিজের পছন্দের লোকদের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করাতেন শাহে আলম। তার চোখ ফাঁকি দিয়ে অন্য কোনো ঠিকাদার কাজ পেলেও সেখানে অংশীদার হিসেবে ভাই-ভাগনেকে রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। তার পক্ষে ঠিকাদারি বাণিজ্যের পুরোটা তদারকি করতেন চাচাতো ভাই নুরুল হুদা তালুকদার ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত কুণ্ডু, আওয়ামী লীগ নেতা সামশুল আলম মল্লিক, ভাই রিয়াজ তালুকদার, ভাগনে রুথেন মোল্লা, চাচাতো ভাই মামুনুর রসিদ স্বপন।

চাঁদাবাজি ছিল শাহে আলমের নিয়মিত ঘটনা ::
বানারীপাড়া ও উজিরপুরের একাধিক ব্যবসায়ী ও ইটভাটার মালিকরা জানান, শাহে আলম এমপি থাকাকালে সলিয়া বাকপুরে আবদুর রব কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নির্মাণ ও বানারীপাড়া সরকারি পাইলট বিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে নামে সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা চাঁদাবাজি করেছেন শাহে আলম। দুই উপজেলার ১০০টির ওপরে ইটভাটা রয়েছে। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে নামে প্রতিটি ইটভাটা থেকে তিনি গড়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়েছেন। এ ছাড়া বছরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে বছরে আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিতেন ইটভাটা থেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য ::
সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে শাহে আলমের বাণিজ্য ছিল ওপেন সিক্রেট। বানারীপাড়া বালিকা বিদ্যালয় ও উজিরপুরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আদালতে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলাও হয়েছিল।

স্থানীয়দের দমাতে হাতুড়ি বাহিনী ::
আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় এবং বিরোধীদের দমন করতে গড়ে তুলেছিলেন হাতুড়ি বাহিনী। ‘এমপি’ শাহে আলমের অকর্মের বিরুদ্ধে কেউ যাতে কথা বলতে না পারেন, সে জন্য সে সময় চাচাতো ভাই নুরুল হুদার নেতৃত্বে এই হাতুড়ি বাহিনী গড়ে তোলেন তিনি।

স্থায়ী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জানান, নুরুল হুদার নেতৃত্বের হাতুড়ি বাহিনীর সদস্যরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলাদ হোসেন সানার লিজ নেওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেটা প্রশাসনের মধ্যে গড়িয়ে দেন সাবেক এমপি শাহে আলম। রাজাকারের লিস্টে তার বাবার নাম থাকা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় চাখার ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য সৈয়দ আতিকুর রহমান বাপ্পিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে একটি পা ভেঙে দেয় শাহে আলমের বাহিনী। এই বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাকির হোসেন, বাইশারী ‍ইউনিয়নের সাবেক সদস্য সোহেল।

সৈয়দ আতিকুর রহমান বাপ্পি বলেন, ‘শাহে আলম গেজেটভুক্ত রাজাকারের সন্তান উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দিলে ২০১৯ সালের ঈদের আগের দিন নুরুল হুদার নেতৃত্বে হাতুড়িপেটা করে আমার ডান পা অচল করে দেয়। এ নিয়ে থানায় মামলা করলে শাহে আলম বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তা তুলে নিতে বাধ্য করেন।’

অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগের নোটিশ :: শাহে আলমের দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভার হয়। সভায় শাহে আলমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ এনে ২০২৩ সালে ৩ অক্টোবর সভাপতি মো. গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাওলাদ হোসেন সানা স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় নির্মাণের ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, উন্নয়নকাজে ৫ ভাগ হারে কমিশন আদায়সহ ১৭টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল সালম বলেন, এ বিষয়গুলো ‍আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছিল।

হতে চেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা :: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারদের তালিকায় এসেছিল শাহে আলমের বাবা ডা. সায়েদ উদ্দিন তালুকদারের নাম। এমপির প্রভাব খাটিয়ে বাবার নাম বাতিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। তাই শাহে আলম নিজেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বেইজ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনী লাল দাসগুপ্তসহ ২০ মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষরিত এক চিঠি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়। এর ফলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্তি হয়নি।

গত ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর শাহে আলম তালুকদারের নানা :: অনিয়ম-দুর্নীতি অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় জনতার হাতে মারধরের শিকার হয়ে গুলশান থানা-পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর গুলশান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।




ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনের টাইমলাইন : প্রেস সচিব




স্বৈরাচারকে নির্বাচনে না নেওয়ার অনুরোধ ইসলামী আন্দোলনের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পতিত স্বৈরাচার যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে প্রধান উপদেষ্টাকে সে অনুরোধ করা হয়েছে।

শনিবার (৫ আগস্ট) রাতে সরকারি বাসভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি রেজাউল করিম বলেন, আজকে আমরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে কথা বলেছি। তাদের সাথে আমরা নির্বাচন সংস্কারের কথা বলেছি। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলো নির্বাচন ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। সংস্কার করতে যতটুকু সময় লাগে সংস্কার কাজ শেষ করে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। স্বৈরাচারীরা যেন কোনভাবে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হতে না পারে সে ব্যবস্থা করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে।

রেজাউল করিম বলেন, আমরা বলেছি এই দেশ ৫ আগস্ট স্বাধীন হয়েছে বহু রক্ত ও জানের বিনিময়ে। আপনাদের সাথে দেশের জনগণ রয়েছে, আপনারা সবচেয়ে শক্তিশালী সরকার। কিন্তু খুনি, অর্থ পাচারকারী, দাগী, অপরাধীরা কীভাবে দেশ থেকে পালালো? আপনারা কেন তাদেরকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সংস্কার কমিশন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ছয় সংস্কার কমিশন ছাড়া ও আরও কয়েকটি কমিশন গঠনের কথা বলেছি।

এর আগে অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।




আগে চাই গ্রহণযোগ্য সংস্কার, তারপরে নির্বাচন :জামায়াতের হেলাল

বরিশাল অফিস ::জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার এসেছে। তাদের আগে রাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্য সংস্কার করতে হবে, তারপরে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। বিগত সরকার জামায়াতকে চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও জামায়াতের অগ্রগতি আগের চেয়েও বেশি হয়েছে।’

শনিবার (৫ অক্টোবর) ঝালকাঠির শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অ্যাড. মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘শেখ হাসিনা ১৫ বছর ধরে যাদের রাজনৈতিকভাবে শত্রু মনে করেছে তাদেরকেই হত্যা করেছেন। জামায়াতের পাঁচ নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে হত্যা করেছেন। তারা হত্যা হয়নি, শহীদ হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশের অসংখ্য মানুষকেই কারাগারে রেখে তিলে তিলে শেষ করেছে। বেশি নির্যাতন করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দের প্রতি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী মরে যায়নি। দেশের জনসাধারণ জামায়াতের প্রতি অতীতের সব সময়ের থেকে এবং অন্যান্য দলের চেয়ে বেশি আস্থাশীল। বাংলাদেশে জামায়াতকে কেন্দ্র করে জনসাধারণ বর্তমানে বিকল্প চিন্তা করছে।’

ছাত্রদের অবদান স্বীকার করে মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘দাবি আদায়ে ছাত্ররা যখন মাঠে নামে তখন আওয়ামী লীগ ঠাট্টা, বিদ্রুপ ও কটাক্ষ করে কথা বলে ছাত্রলীগ-পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে মানুষকে হত্যা করে। হত্যার কবল থেকে শিশুও রেহাই পায়নি। তবুও অধিকারের আন্দোলন থেকে ছাত্ররা একচুল পরিমাণও সরে যাননি। এর কারণেই ন্যক্কারজনকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। ৪৫ মিনিটের আল্টিমেটামে অল্প সময়ের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান জামায়াতের ওই কেন্দ্রীয় নেতা।’

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাড. হাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন: বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য ও বরিশাল জেলা আমির অধ্যাপক আব্দুল জব্বার, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করীম।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ফরিদুল হকের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন: জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট বিএম আমিনুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হাই, শুরা সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, সদর আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামান, পৌর আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামান তালুকদার, নলছিটি আমির মাওলানা শামসুল হক, রাজাপুর আমীর মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন, কাঁঠালিয়া আমীর মাস্টার মজিবুর রহমান।