দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে: সরোয়ার

বরিশাল অফিস :: বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতিবিদরা মিলেমিশে কাজ করে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করবেন।

সোমবার ( ১৪ অক্টোবর) বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সরোয়ার আরও বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও হাত ধরে চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাসহ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বরিশালের ‘লৌহ মানব’ ও ‘সিংহ পুরুষ’দের খোঁজ নেই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ ও তার সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকা বরিশালের ৭ এমপি‘দের নিয়ে নানা আলোচনা –সমালোচনার শেষ নেই। ইতোমধ্যে রাশেদ খান মেনন ও বরিশাল সদর আসনের এমপি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক গ্রেপ্তার হয়ে কারান্তরীন হয়েছেন। অন্যদের মধ্যে কেউ আছেন দেশে আত্মগোপনে। আবার কেউ ক্ষমতা ছাড়ার আগে-পরে পাড়ি জমাতে সক্ষম হয়েছেন প্রতিবেশী দেশ সহ বিদেশে। অনেকে আবার দেশত্যাগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হবার দিন কয়েক পরেই।

তবে বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসন ছাড়াও একটি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি কোন দিনই এলাকার নিদিষ্ট লোকদের বাইরে আমজনতা সহ এলাকার উন্নয়ন ও ভালমন্দের তেমন কোন খোজ খবর রাখতেন না বিধায় তাদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি এলাকার রাজনীতিতে এখনো তেমন কোন প্রভাব ফেলেনি। নির্বাচিত ৬ এমপি’র মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত বরিশাল-২ আসনের রাশেদ খান মেনন একাধিকবারের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। তবে তিনি অন্যদের তুলনায় কিছুটা ব্যতিক্রমও ছিলেন। এমপি বা মন্ত্রী অবস্থায় তিনি নিজ এলাকা ছাড়াও নির্বাচনী এলাকা এবং বরিশালের যেকোনো মানুষের উপকারের চেষ্টা করে গেছেন। মহাজোট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে বরিশালের উন্নয়নে সম্ভব সবকিছু করারও চেষ্টা করেছেন মেনন।

তবে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অংগ সংগঠন যাকে এতদিন ‘দক্ষিণাঞ্চলের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করতেন, সেই বরিশাল-১ আসনের এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ছাত্র আন্দোলনের শুরুতেই দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। দীঘ রাজনৈতিক জীবনে আবুল হাসনাত সব সময়ই বিপদের আগাম আঁচ করতে পারেন বলে খ্যাতি আছে। এবারো তিনি আন্দোলনের শুরুতেই মুম্বাইতে মেয়ের বাড়ীতে চলে গেছেন। অতীতে ভারতে অবস্থানকালে তিনি বেশীরভাগ সময়ই আজমির শরিফে অবস্থান করে এবাদত বন্দেগীতে রত থাকতেন। এবারো তার অন্যথা হচ্ছে না বলে ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করছেন। তবে ইতোমধ্যে নিজ এলাকা আগৈলঝাড়াতে এক ছাত্রদল নেতাকে ক্রস ফায়ারে হত্যার দায়ের পুলিশের ডিঅই‌জি ও এসপি সহ কয়েকজনের নামের মামলায় আবুল হাসনাতের নামও উঠে এসেছে।

বরিশাল-৩ আসনে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহপালিত বিরোধী দল জাতীয় পার্র গোলাম কিবরিয়া টিপু’র কোন খোজ নেই। যদিও তিনি ক্ষমতার আমলেও এলাকার তেমন কোন খোজ খবর রাখতেন না। তবে ক্ষমতা হারানো সরকারী দলের কোটায় নির্বাচন করে এমপি হওয়া আস্থা-ভাজন বিরোধী দলের এ নেতাও এখন অনেকটা নিরুদ্দেশ। তিনি দেশে না বিদেশে তাও বলতে পারছেন না ঘনিষ্ঠজনেরা।

এমনকি বরিশাল-৪ আসনের এমপি পংকজ দেবনাথও নিরাপদে ভারতে পালিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তার বিরুদ্ধেও দু বছর আগে বিএনপি অফিসে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ মামলা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাম্মি আহমদ সুপ্রিম কোট থেকে অযোগ্য ঘোষিত হলেও পরে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। শাম্মি আহমদ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানালেও ৫ আগস্টের পরে তার নিশ্চিত অবস্থান নিকটজনদেরও অজানা। অস্ট্রেলিয়ার পাসপোটধারী শাম্মির সন্তানেরা সেখানেই বসবাস করছে বলে জানা গেছে।

বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম গত ২ আগস্ট সর্বশেষ এলাকায় এসে খুব অল্প সময় অবস্থানের পর ঢাকায় ফিরে যান। ৩ আগস্ট তার বাড়ীতে হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। সরকার পতনের পরে ঢাকায় অবস্থান করলেও বরিশাল জেলা এবং মহানগর বিএনপি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মামলায় তাকে সম্প্রতি ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পরে বরিশালে নিয়ে আসা হয়। পরে মহানগর বিএনপি’র শান্তি-সংহতি মিছিল এবং দলীয় নেতা জিয়া-উদ্দিন শিকদার সহ অন্যান্যদের ওপর হামলার অভিযোগে আরো একটি মামলায় জাহিদ ফারুককেও আসামী করা হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসনে প্রথমবার নৌকার টিকিট নিয়ে এমপি হওয়া অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজ মল্লিক-এরও কোন খোঁজ নেই। সরকার পতনের পরে এলাকার ঘনিষ্ঠজনেরও তার অবস্থান জানেন না। এলাকায় অনেকটা বসন্তের কোকিল হিসেবে পরিচিত হাফিজ মল্লিক নির্বাচন এলেই এলাকার মানুষের খোজ খবর রাখতেন বলে খ্যাতি আছে। এখনো তার অন্যথা হচ্ছেনা বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক-গন মনে করছেন। তবে এখনো কোন মামলায় তার নাম আছে বলে জানা যায়নি।

মহানগরীর বগুড়া রোডের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা আমীর হোসেন আমু ঝালকঠী সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি হলেও বরিশালের রাজনীতি সহ সব কিছুতেই সুদূর অতীত থেকে প্রভাব বিস্তার করে ছিলেন। তবে সদ্য পট পরিবর্তনের পরে তারও কোন খোঁজ নেই। ইতোমধ্যে বরিশাল ও ঝালকাঠিতে তার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঝলকাঠীর বাসায় আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীরা নগদ ৫ কোটি টাকাও উদ্ধার করেছেন। পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তুপের শুনশান নীরবতায় দাড়িয়ে আছে বরিশাল ও ঝালকাঠিতে আমীল হোসেন আমুর সুরম্য অট্টালিকা। কেউ বলছেন তিনি ভারতে পালিয়েছেন, আবার কেউ বলছেন দেশেই অবস্থান করছেন।

নিরুদ্দেশ আছেন সাম্প্রতিককালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদেক আবদুল্লাহ’ও। আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পুত্র সাদেক আবদুল্লাহ ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে তার বাসভবনে হামলার আগেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান এরপরে আর কোন সন্ধান নেই। তবে তার বাসায় হামলা ও অগ্নি সংযোগের পরে সেখান থেকে সাবেক কাউন্সিলর লিটু সহ ৩ জনের মৃতুদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এভাবেই নিকট অতীতের একেকজন লৌহমানব ও সিংহ পুরুষেরা ক্ষমতা হারাবার পরে কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে, আবার কেউ নিরাপদে থাকার লক্ষে ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

তবে যেহেতু দল আর ক্ষমতায় নেই, তাই তাদের নামের আগে-পরে এখন আর কোন তকমা নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মহলের মতে, ‘ক্ষমতা কি জিনিষ তা ইতোমধ্যে টের পেতে শুরু করেছেন বরিশালের সিংহ পুরুষ সহ নানা বিশেষণে অভিষিক্ত সদ্য ক্ষমতা হারানো নেতারা। ক্ষমতা এতদিন তাদের উত্থানের চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে গেলেও তার ফলও এখন তারা ভোগ করছেন’ বলেও মনে করছেন বিশ্লেষক-গন।




আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় চরমপন্থি সংগঠন বাংলাদেশে নেই: জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী সংগঠন বাংলাদেশে আর নেই। রবিবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর বলেন, “যারা সবচেয়ে চরমপন্থি, তারাই তাদের সন্তানদের হাতে হাতুড়ি তুলে দিয়েছিল এবং মাথায় হেলমেট পরিয়েছিল। এদের চেয়ে বড় সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি সংগঠন দেশে নেই। এদের শাসনামল ছিল চরমপন্থা ও সন্ত্রাসের উদাহরণ।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসকে ঘৃণা করে এবং আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো প্রতিশোধ নেবে না।

জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডব বাংলাদেশের মানবতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল। ওই দিন থেকেই বাংলাদেশ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।




মির্জাগঞ্জ কৃষক দলের নতুন কমিটি একদিনেই বিলুপ্ত, আলোচনা চলছে দলের মধ্যে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক দলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মাত্র একদিন পরই তা বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার ৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর, শনিবার বিষয়টি বাতিল করার ঘোষণা আসে।

এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মো. রাসেল মোল্লাকে এবং সদস্যসচিব হিসেবে ছিলেন গোলাম রসুল হাওলাদার মিলন। তবে, রাসেল মোল্লা সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তালা প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন, যা দলের নীতির পরিপন্থী।

জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম ইভান বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর। দলীয় নীতির প্রতি অবিশ্বাসের ফলে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন কমিটি গঠনের জন্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”

কমিটি বিলুপ্তির পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কর্মীদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।




ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামছেন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন, এবং এবার তাঁরা নিজেদের অবস্থান জানানোর জন্য সংগঠিত হচ্ছেন।

বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভ করবেন। তাদের দাবি, ছাত্রলীগের অসংগঠিত কার্যক্রম ও সহিংসতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করছে।

বিক্ষোভের নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের বক্তব্য জানাতে চাই এবং ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করব।” শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দেশের ছাত্রসমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা আশা করছেন, প্রশাসন তাদের আন্দোলনে সহানুভূতি দেখাবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।




“আমরা এমন সমাজ চাই, যেখানে মন্দির পাহারার প্রয়োজন হবে না” — ডা. শফিকুর রহমান

**চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:** বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার অবদান, যা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে দেশে পরিবর্তনের সূচনা করেছে। শুক্রবার বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই আন্দোলনের পেছনে আমাদের অনেক শহীদের ত্যাগ রয়েছে। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে মেধাবী সেনা অফিসারদের আত্মত্যাগ যে আন্দোলনের সূচনা করেছিল, তা ৫ আগস্ট হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে সফল হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশে সাময়িক পরিবর্তন এসেছে, তবে স্থায়ী রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসন প্রতিষ্ঠা। আমরা এমন একটি সমাজ গঠন করতে চাই, যেখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না, মসজিদের মতো মন্দিরেরও পাহারার প্রয়োজন হবে না। যদি কেউ আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাহলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।”

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : রাষ্ট্রের ১০ খাতে সংস্কার চায় জামায়াত, ৪১ প্রস্তাবনা

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আরো বলেন, “দেশ সাংবিধানিকভাবে দুবার এবং রাজনৈতিকভাবে তিনবার স্বাধীনতা পেয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী শাসন ও দুর্নীতির মাধ্যমে জাতির ওপর সীমাহীন জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছে। তারা আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দিয়ে শহীদ করেছে, তবে আমাদের আন্দোলনকে দমন করতে পারেনি।”

সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গঠনে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চাই। সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।”

সম্মেলনে ইসলামী সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।




‘বিদেশ ফেরত অনেকে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দলের দুঃসময়ে অনেক নেতাকর্মী বিদেশে গিয়ে শান্তি ও স্বস্তিতে দিনযাপন করেছে। এই দুঃসময়ে অনেকেরই কোনো খবর ছিল না। এখন প্রবাস থেকে ফিরে তারা বিভিন্ন সেক্টরকে কেন্দ্র করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, তারা এখন দেশে ফিরে এসে প্রভাব খাটিয়ে আরও বেশি স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় লিপ্ত। জনপ্রশাসন, পুলিশ ও মিডিয়া হাউসকে টার্গেট করে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ খবরদারি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকবেন। এ সমস্ত ব্যক্তিরা কেউ বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দুর্যোগ মুহূর্তে তাদের জীবন কেটেছে নিরাপদে। অথচ দেশে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে ছিল, আন্দোলনে ছিল। ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনার নির্দেশে বাহিনীগুলোর ছোড়া বুলেট ও ধারালো অস্ত্রে গুরুতর আহত হয়ে এখনো প্রতিদিনই কেউ না কেউ মৃত্যুবরণ করছে। তাদেরকে আমাদের মনে রাখতে হবে।




তারেক রহমান সবার আগে পটুয়াখালী ভিজিট করবেন: কুট্টি সরকার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: `বাংলাদেশে তারেক রহমান আসবেন, নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন, আমি আপনাদেরকে কথা দিতে পারি আমাদের নেতা তারেক রহমান সবার আগে পটুয়াখালী ভিজিট করবেন”-পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত সাংগঠনিক সভার বক্তব্যে এমন কথা বলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি)।

তিনি আরও বলেন,আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহম্মেদ বলেছিল আওয়ামী লীগের লাখো নেতাকর্মীদের বিএনপির নেতাকর্মীরা মেরে ফেলবে। কই আমাদের পটুয়াখালী জেলায় বা কোথাওতো এমন ঘটনা ঘটেনি। কেন ঘটেনি? আমাদের নেতা তারেক রহমান এর কারণে। কারণ তিনি দলের নেতাকর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলতা সংবরণ করার জন্য সামান্য ভুল পেয়ে এখন পর্যন্ত চার পাঁচশোর ওপরে নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। তাঁর দূরদর্শিতাসম্পন্ন নেতৃত্বগুণের কারণে আজ সর্বত্র শান্তি, শৃঙ্খলা বিরাজমান।

১০ অক্টোবর,বৃহস্পতিবার, বিকালে মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী র ই পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্নেহাংশু সরকার (কুট্টি)। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুদ্দিন নান্নু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ও পটুয়াখালী পৌর সভার সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনু, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন, সদস্য দেলোয়ার হোসেন নান্নু, সদস্য মোফাজ্জেল আলী খান দুলাল, পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন,পটুয়াখালী যুবদলের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম লিটন, সদস্য ও সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশফাকুর রহমান বিপ্লব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মশিউর রহমান মিলন, ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. জাকারিয়া হোসেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানউ ল্লাহ পিন্টু সিকদার, সহ-সভাপতি ফারুক মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম শামীম, দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল মুন্সি, প্রচার সম্পাদক সার্জেন্ট (অব) আলমগীর হোসেন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. নাসির উদ্দীন হাওলার, যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান সুজন হাওলাদার, সহিদুজ্জামান সাহিন মুন্সি, সৌরভ মুন্সি, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রাজিব হোসেন রাজু, মো. নাইম ইসলাম, মো. ইব্রাহীম হোসেন প্রমুখ।

এছাড়াও উপজেলা বিএনপি, সহযোগী সংগঠন, ইউনিয়ন ও সর্বস্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। সাংগঠনিক সভা শেষে, অতিথিবৃন্দ সুবিদখালী বন্দর ও মির্জাগঞ্জ সদর পুজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সকলের খোঁজ-খবর নেন।’




“রাষ্ট্র সংস্কারে জামাতে ইসলামী: শরিয়াহ আইন থেকে অর্থনৈতিক নীতি”

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবগুলো মূলত তাদের আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। তারা মনে করে, বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামো ইসলামী আদর্শের পরিপূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয়, তাই এটিকে সংস্কার করা প্রয়োজন। তাদের প্রস্তাবের বিস্তারিত নিম্নরূপ:

১. **শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা**:
জামাতে ইসলামী রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোকে ইসলামের শরিয়াহ ভিত্তিতে ঢেলে সাজানোর পক্ষে। তাদের মতে, সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অপরাধ প্রতিরোধ করতে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। শরিয়াহ অনুযায়ী শাস্তি ও পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি, ইসলামিক আইনব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য বিচার বিভাগকে পুনর্গঠনের প্রস্তাব তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

২. **ইসলামী অর্থনীতির প্রসার**:
জামাতের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে মূলত ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুদমুক্ত ব্যাংকিং সিস্টেম, যাকাতের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা, ধনী-গরিবের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং অনৈতিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপের অবসান। তাদের মতে, ইসলামী অর্থনীতি গ্রহণ করলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়বে।

৩. **শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার**:
তাদের মতে, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা পাশ্চাত্যের অনুকরণে গড়ে উঠেছে এবং এতে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। তারা প্রস্তাব দেয়, পাঠ্যক্রমে কুরআন, হাদিস, ইসলামী ইতিহাস এবং নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি, ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য আনয়ন করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়ার লক্ষ্য তাদের।

৪. **পরিবার ও সামাজিক জীবন**:
জামাতের প্রস্তাবে ইসলামী পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি জোর দেওয়া হয়। তারা চায়, পরিবার কাঠামোকে ইসলামী নিয়মে পরিচালিত করতে হবে, যেখানে নারীদের অধিকার রক্ষিত থাকবে কিন্তু পুরুষের সুরক্ষাকারী ভূমিকা স্বীকৃত হবে। বাল্যবিবাহ, তালাক এবং পলিগ্যামির ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৫. **রাজনৈতিক সংস্কার**:
তাদের মতে, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের জন্য একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভিত্তিতে গড়া রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। জামাতে ইসলামী মনে করে, বর্তমান গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ইসলামের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে না। তাদের দৃষ্টিতে, একটি ইসলামী শূরা (পরামর্শমূলক) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

৬. **সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া সংস্কার**:
তারা মনে করে, বর্তমান সাংস্কৃতিক এবং মিডিয়া ব্যবস্থা ইসলাম বিরোধী চিন্তা ছড়াচ্ছে। তাই, মিডিয়াকে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারে ব্যবহার করতে হবে এবং সব ধরনের অবাধ ও অনৈতিক বিনোদন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জামাতের মতে, সংস্কৃতি এমন হতে হবে, যা সমাজকে ইসলামের দিকে পরিচালিত করে।

৭. **আন্তর্জাতিক সম্পর্ক**:
জামাত একটি ইসলামী বিশ্বব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে, যেখানে মুসলিম দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসলামবিরোধী শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে একটি ইসলামী আদর্শে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দাবি তাদের অন্যতম।

জামাতে ইসলামীর এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংগ্রামের পথে রয়েছে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতায় এসে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে তাদের এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে, বিশেষ করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়ে সমালোচনা হয়।




গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপরিহার্য শর্ত হলো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) শহীদ জেহাদ দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।

তারেক রহমান শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে একটি অবিস্মরণীয় নাম উল্লেখ করেন বলেন, রক্তমাখা ওই আন্দোলন ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, মত প্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে গিয়ে শহীদ জেহাদ পুলিশের বুলেট নিজের বুকে বরণ করে নেন। শাহাদাত বরণ করেন এ অকুতভয় ছাত্রনেতা। তার রক্ত স্রোতের ধারা বেয়েই সে বছর সংঘটিত হয় গণঅভ্যুত্থান, পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের।

তারেক রহমান বলেন, তাই শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণাকে বুকে ধারণ করেই দেশি-বিদেশি অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। গণতন্ত্রের ধারা বহমান রাখতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।