দেশে অট্টালিকা যেমন বেড়েছে, তেমনি ফুটপাতেও মানুষ বেড়েছে: সাকি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, “দেশে অট্টালিকা যেমন বেড়েছে, তেমনি ফুটপাতেও মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ধনবৈষম্য দূর করতে না পারলে বৈষম্যহীন দেশ গড়া সম্ভব হবে না। গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ লুটপাট ও ফ্যাসিস্ট আচরণ করেছে।”

### গণ সংলাপের মূল বক্তব্য:
1. **ধনবৈষম্য দূরীকরণ**
– ধনবৈষম্য দূর করতে হবে, অন্যথায় বৈষম্যহীন দেশ গড়া অসম্ভব।
– আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে লুটপাট এবং ফ্যাসিস্ট আচরণ করেছে।

2. **সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ**
– সাকি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষমতাসীনরা সব ক্ষমতার মালিক হয়ে যান।
– এটি বাতিল করতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রীকে জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা যায়।

আরো পড়ুন : শেখ হাসিনাসহ খুনিদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে: মামুনুল হক

3. **গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রস্তাব**
– রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন।
– সংসদকে দুই কক্ষ বিশিষ্ট করতে হবে এবং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করতে হবে।
– গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো সরকার গণমাধ্যমের ওপর খবরদারি করতে না পারে।

4. **অট্টালিকা এবং ফুটপাতের মানুষ**
– সাকি উল্লেখ করেন, দেশে অট্টালিকা যেমন বেড়েছে, তেমনি ফুটপাতেও মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
– ১৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বন্ধ করতে হবে এবং পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে।

5. **দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি**
– তিনি দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির জন্য সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

 




শেখ হাসিনাসহ খুনিদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে: মামুনুল হক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হাজী আসমত সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক গণসমাবেশে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজারো ছাত্র-জনতাকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাসহ খুনিদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, এবং তাকে দ্রুত দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “পরাজিত শক্তি বসে নেই, তারা এখনো ষড়যন্ত্র করছে। যদি হাজারো ছাত্র-জনতার রক্ত বৃথা যায়, তাহলে দেশ আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়বে।”

গণসমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট দলের একক সম্পত্তি নয়, এবং স্বাধীনতার নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তির একক ইজারাদারি হতে পারে না। জাতির পিতা কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি হতে পারেন না। মামুনুল হক আরও বলেন, “শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, যা দেশে ফেরত এনে জাতীয় কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত।”

আরো পড়ুন :শমসের মবিন চৌধুরী আটক

**গণসমাবেশ ও রাজনৈতিক বক্তব্য**
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভৈরব উপজেলা শাখা আয়োজিত এ গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল্লাহ্ আল আমীন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা। মামুনুল হক তার বক্তব্যের শেষে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের জন্য তার দলের প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহম্মদ, আবদুল আজিজ, নির্বাহী সদস্য মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ হাদি প্রমুখ। সমাবেশে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।




শমসের মবিন চৌধুরী আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: তৃণমূল বিএনপির নেতা শমসের মবিন চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-উত্তর) রবিউল হোসেন ভুঁইয়া তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে।

এর আগে দুপুরে শমসের মবিন চৌধুরীর বনানীর বাসায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এদিকে গতকাল দুপুরে শমসের মবিন চৌধুরীকে বিদেশ যেতে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে শমসের মবিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে যেতে দেয়নি।

উল্লেখ্য, শমসের মবিন চৌধুরী একসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০১৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দেন তিনি। সবশেষ গত ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৃণমূল বিএনপি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন হন তিনি।

তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রয়াত নাজমুল হুদা। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিএনপিকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।




২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় রাশেদ খান মেননের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আওয়ামী সরকারের আমলে ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক। রমনা, মতিঝিল ও সবুজবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

ছিলেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ ৮ বছর।

অভিযোগ, বিগত ১৬ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের একান্ত দোসর ও সহযোগী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, বিমান ক্রয় দুর্নীতি ও অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়ে দেশে এবং বিদেশে ওই সম্পদ গড়েছেন।

অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাশেদ খান মেননের নামে লন্ডনে ২৫টি বাড়ি, কানাডায় স্ত্রীর নামে ৫টি বাড়ি ও আমেরিকায় ২টি বাড়িসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার। অন্যদিকে ঢাকার গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ও বানানীতে ২টি ফ্ল্যাটসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হাজার বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিজ ও আত্মীয় স্বজনের নামে দেড় হাজার কোটি টাকা ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা অনুসন্ধানে অভিযোগের বেশকিছু দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের চলমান দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুদক সদ্য সাবেক ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-এমপি ও আমলাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ চলমান। দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়ায় কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ও এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী হন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হিসেবে অবৈধভাবে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসা, ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়, ক্যাসিনো ব্যবসার চাঁদা, সমাজকল্যাণ ও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, বিমান ক্রয়, অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদান ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে দেশে এবং বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আদেশ অমান্য করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য ব্যক্তিদের সহকারী শিক্ষক, হিসাব রক্ষক উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ দেন। দায়িত্বপালনকালে তিনি ১৮২ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানে ২৭ জন সহকারী শিক্ষক থেকে প্রভাষক পদে অবৈধভাবে পদোন্নতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। অনুরূপভাবে ১৫ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে ২০১২ সনে পদোন্নতি দিয়ে প্রত্যেকের নিকট থেকে ১২ লাখ টাকা করে ১৫ জনের কাছ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। অথচ এডহক কমিটির শিক্ষক/কর্মচারী/পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। এমনকি ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচারে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মেনন চক্র।

অভিযোগ সূত্র আরও বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবৈধভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ৪০ শতাংশ টাকা নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা প্রদান করিয়া প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। অথচ এ ধরনের অবসর সুবিধা বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাই। যেখানে বাংলাদেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীরা ৪ শতাংশ গ্রাইচুইটিবাবদ অবসরভাতা সুবিধা পেয়ে থাকে। অথচ উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরভাতার নামে নিজেরাই হাতিয়ে নিয়েছেন। যা দণ্ড বিধির ৪০৯/৪২০ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সাবেক জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক শ্যামলী হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষরা।

অন্যদিকে ভিকারুননেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০০৯ হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে থাকাকালীন সময়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ এবং ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির বাণিজ্য করে ৮ বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন।

দুর্নীতির মামলায় ডেপুটি পোস্ট মাস্টার মোস্তাক কারাগারে
আর রাশেদ খান মেনন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী থাকাকালে অবৈধভাবে চাকুরিতে নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য, স্বর্ণ চোরাচালান, বিমান ক্রয় অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কমপক্ষে ১৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

রাশেদ খান মেননের যত অবৈধ সম্পদ

সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন লন্ডনে ২৫টি বাড়ি ক্রয় করেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকা। কানাডায় তার স্ত্রীর নামে ৫টি বাড়ি ক্রয় করেছেন। যার মূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা এবং আমেরিকায় ২টি বাড়ি ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার গুলশান-২, রোড-৫, বাড়ি নং-২৭ এ ৪টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন যার মূল্য ১৫ কোটি টাকা। বনানী রোড নং-৪, বাড়ি নং-১৬ তে ৯ কোটি টাকার ২টি ফ্ল্যাট, ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে ৪৫০ কোটি টাকার ১৬০ বিঘা জমি, পূর্বাচলে ১০ কাঠার ১টি ও ৫ কাঠার ৪টি ৪০ কোটি টাকার প্লট ও কেরাণীগঞ্জ দক্ষিণ হাইওয়ে রোডে ২৫০ কোটি টাকার ২০ বিঘা জমিসহ রিসোর্ট ক্রয় করেছেন।

আর ঢাকার বাইরে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৩০০ বিঘা জমি, নিজ নামে, স্ত্রীর নামে, ভাইদের নামে, সন্তানদের নামে ও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা।

গত ২২ আগস্ট বিকেলে গুলশানের বাসা থেকে রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরএম/পিএইচ




মতিয়া চৌধুরীর জানাজা বৃহস্পতিবার, দাফন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অগ্নিকন্যা খ্যাত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর জানাজা বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্বামী প্রয়াত সাংবাদিক বজলুর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হবে।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত মতিয়া চৌধুরীর ভাই মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী।

মাসুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কবরস্থান কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। জায়গা পেলে সেখানে দাফন করা হবে।এলাকার মানুষের দাবি থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মতিয়া চৌধুরীকে নিজের নির্বাচনী এলাকায় নেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুর জেলায় মতিয়া চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

ইডেন কলেজের ছাত্রী থাকাকালীন তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত হন। ১৯৬২ সালে হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে যে প্রবল ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, তারও সম্মুখসারির সংগঠক ছিলেন মতিয়া চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ১৯৬৩ সালে তিনি রোকেয়া হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পরের বছরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়ন মতাদর্শিক কারণে বিভক্ত হলে মতিয়া চৌধুরী এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন। অন্য অংশের সভাপতি হয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। সেই হিসাবে ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

মতিয়া চৌধুরী তার জ্বালাময়ী বক্তৃতার কারণে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসাবে ছাত্র-জনতার কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পর ১৯৬৭ সালেই মতিয়া চৌধুরী যোগ দিয়েছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে। দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে খ্যাতি অর্জন করেন তার বক্তৃতার কারণে।

১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আইয়ুব খানের পতন হলে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক রাজনৈতিক বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মতিয়া চৌধুরীও তখন জেল থেকে বেরিয়ে এসে মাঠের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মতিয়া চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনী গঠনে তিনি একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ন্যাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি-গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ-এই ধারার রাজনীতি থেকে মতিয়া চৌধুরী কখনো বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বামপন্থি রাজনীতিবিদদের ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মতিয়া চৌধুরীও ছিলেন তার পছন্দের তালিকায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠন করলে এর ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মতিয়া চৌধুরীকেও রাখা হয়।

১৯৭৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের যোগ দেন। তিনি দলটির কৃষি সম্পাদক হয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। বর্তমান তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেলে জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন মতিয়া চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও একই দায়িত্ব পালন করেন।




বরিশালে মামুনকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুনকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় খান মামুন সবসময় পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে আসছিলেন।

বরিশালের সাবেক এমপি ও আইনজীবী তালুকদার মোঃ ইউনুচ, লস্কর নুরুল হক, আফজালুল করিম এবং আনিচ উদ্দিন শহিদের মতো বিশিষ্ট নেতাদের সাথে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক জীবনে দলীয়ভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো সুবিধা না পেলেও, জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন করেছেন খান মামুন। তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল মানবসেবা, এবং তিনি বরাবরই অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। করোনাকালীন মহামারী, বন্যা, এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি বরিশালের সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, তাদেরকে সহায়তা করেছেন।

কিছু মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, খান মামুনকে ঘিরে একটি ষড়যন্ত্র চলছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে যে, যারা মাঠ পর্যায়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে যুক্ত ছিল না, তাদের বিরুদ্ধে অহেতুক মামলা দিয়ে হয়রানি না করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে নির্দোষ ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বরিশালের জনগণের মধ্যে খান মামুন একজন দানবীর এবং সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের মাঝেও তার প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অবিচল রয়েছে।




ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র আতিক গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখা উপপরিচালক তালেবুর রহমান।

এর আগে, গত ১৮ আগস্ট গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে গিয়ে জনসাধারণের ধাওয়া খান আতিকুল ইসলাম। ওই সময় তিনি নগর ভবনের পেছনের সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যান।

গত ১৯ আগস্ট ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামসহ দেশের ১২ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে সরকার।

ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৩-১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

 




অগ্নিকন্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::অগ্নিকন্যা খ্যাত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মতিয়া চৌধুরীর মামা সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার।

১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুর জেলায় মতিয়া চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

ইডেন কলেজের ছাত্রী থাকাকালীন তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত হন। ১৯৬২ সালে হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে যে প্রবল ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে, তারও সম্মুখসারির সংগঠক ছিলেন মতিয়া চৌধুরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ১৯৬৩ সালে তিনি রোকেয়া হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পরের বছরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছাত্র ইউনিয়ন মতাদর্শিক কারণে বিভক্ত হলে মতিয়া চৌধুরী এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন। অন্য অংশের সভাপতি হয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। সেই হিসাবে ছাত্র ইউনিয়ন মতিয়া গ্রুপ ও ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

মতিয়া চৌধুরী তার জ্বালাময়ী বক্তৃতার কারণে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসাবে ছাত্র-জনতার কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পর ১৯৬৭ সালেই মতিয়া চৌধুরী যোগ দিয়েছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে। দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে খ্যাতি অর্জন করেন তার বক্তৃতার কারণে।

১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আইয়ুব খানের পতন হলে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক রাজনৈতিক বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পান। মতিয়া চৌধুরীও তখন জেল থেকে বেরিয়ে এসে মাঠের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মতিয়া চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনী গঠনে তিনি একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ন্যাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের রাজনীতি করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি-গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ-এই ধারার রাজনীতি থেকে মতিয়া চৌধুরী কখনো বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বামপন্থি রাজনীতিবিদদের ভালো সম্পর্ক ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মতিয়া চৌধুরীও ছিলেন তার পছন্দের তালিকায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল গঠন করলে এর ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে মতিয়া চৌধুরীকেও রাখা হয়।

১৯৭৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের যোগ দেন। তিনি দলটির কৃষি সম্পাদক হয়েছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। বর্তমান তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেলে জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত হন মতিয়া চৌধুরী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও একই দায়িত্ব পালন করেন।

 




কুয়াকাটা সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জামায়াতে ইসলামীর কুয়াকাটা পৌরসভা শাখার নেতৃবৃন্দ। সোমবার (১৪ অক্টোবর) শেষ বিকেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌর শাখার আমীর মাওলানা মোঃ মাঈনুল ইসলাম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

সভায় জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি আ. কাদির, ৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি পল্লী চিকিৎসক আ. হালিম, শ্রমিক ফেডারেশনের মহিপুর থানা শাখার সভাপতি মারুফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির, প্রভাষক সাইদুর রহমান সাঈদ, আনোয়ার হোসেন আনুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌরসভার আমীর বলেন, “আমরা ৫ আগস্টের আগে কথা বলতে পারিনি। রাজনীতি করতে পারিনি। জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। ৫ আগস্টের পর বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে রাজনীতি করে এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।” এ সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সহযোগিতার আহবান জানান। আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রসহ ইসলামী বই বিতরণ করা হয়।




সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে ডিবি কার্যালয় আনা হচ্ছে।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক।

তিনি বলেন, রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে আজ রাত পৌনে ৮টার দিকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ছাত্র–জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আব্দুর রাজ্জাককে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

সর্বশেষ সংসদে টাঙ্গাইল থেকে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। তিনি খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শেখ হাসিনার সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি।

আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএডিসি) একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০০১ সালে চাকরিজীবন শেষ করেন।