আ.লীগ কখনোই দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেনি: চরমোনাই পীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের লুটপাট ও পাচার করা অর্থ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দেশের মানুষের স্বার্থের প্রতি নজর দেয়নি এবং বিদেশে নিজেদের আখড়া গড়ার জন্য এসব অর্থ ব্যবহার করেছে।

রোববার (২০ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, ভারতের ইসলামবিদ্বেষী সরকার মোদীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের চুক্তিগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন করার কথা বলেন এবং দেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনোই নিজেদের স্বার্থের জন্য ইসলামকে বাদ দিয়ে দেশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করেনি। বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, জনগণ আর দ্বিতীয়বার ভুল করবে না এবং যারা দেশের জন্য কাজ করবে তাদের সঙ্গেই থাকবে।




আওয়ামী লীগকে আর টোকাইয়াও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না: রুমিন ফারহানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেছেন, “আওয়ামী লীগকে আর টোকাইয়াও কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” তিনি রোববার (২০ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন। সভাটি ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল। তখন একটিও কান্না হয়নি। এত বছর পরে ৫ আগস্ট আবার একই ঘটনা ঘটেছে। হাসিনা একদিকে পালিয়েছে, আর মানুষের ঘরে খুশি।” তিনি আরও বলেন, “ভোটের কোনো নিশানা দেখি না। সাবধান করে দেই, এ দেশের মানুষ ভোটের জন্য বারবার আন্দোলন করেছে। মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। মানুষ যাকে খুশি, তাকেই বেছে নেবে।”

সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন বলেন, “বিনা ভোটের সরকার বাংলাদেশে আমরা আর কখনো আসতে দেব না।” আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডেমোক্রেটিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক এবং জেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব আলী আজম। সভা শেষে প্রয়াত অলি আহাদের স্মরণে দোয়া করা হয়।




যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি: আন্দোলনে সক্রিয়, কিন্তু নেতৃত্বহীন!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির প্রবাসী কর্মীরা দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো কমিটি নেই, যা নিয়ে রয়েছে গভীর ক্ষোভ। প্রবাসীদের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের পরও বিএনপির কার্যক্রমে সংগঠনগত শৃঙ্খলার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশেষ করে বিএনপির প্রবাসী কর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের স্লোগানে সোচ্চার থেকেছেন। কিন্তু এতো কর্মকাণ্ডের পরও যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কোনো কমিটি না থাকা, দলের কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, “সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা শীঘ্রই কাউন্সিল করার পরিকল্পনা করছি। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রবাসে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে।”

এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রবাসী ও দলীয় কর্মীদের যৌক্তিক দাবি পূরণে বিএনপি উদ্যোগী হবে।” তিনি বলেন, “প্রতিটি নাগরিকের মত প্রবাসীদেরও মূল্যায়ন করা উচিত, কারণ তারা দেশের ক্রান্তিকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

প্রবাসীদের অধিকার আদায় ও দলের শক্তিশালী অবস্থান পুনরুদ্ধারে বিএনপি কাজ করে যাবে, এমন আশাবাদ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা।




নির্বাচন কমিশন গঠনে দ্রুত সার্চ কমিটি করা হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন গঠন করতে দ্রুত সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম।

তিনি বলেন, এই কমিটি ঠিক করবে কারা নির্বাচন কমিশনার হবেন। কমিশনাররা এসে নির্বাচনের পরবর্তী কাজ শুরু করবেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সবকিছু গঠিত হবে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

অংশীজনদের সঙ্গে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ সংলাপে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এ বিষয়ে মাহফুজ বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দলগুলোর নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের গণহত্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণহত্যার উসকানিদাতা ও বর্তমান দ্রব্যমূল্য বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও শরিক দল নিষিদ্ধের বিষয়েও কথা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, আওয়ামী লীগের তিনটি অবৈধ পার্লামেন্ট নিয়ে আজকের বৈঠকে কথা হয়েছে। এটা বাতিলের বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি নীরব সমর্থন দিয়েছে এবং ভোটে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টি ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গার্মেন্টসের সমস্যা স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন উল্লেখ করে মাহফুজ বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিভিন্ন ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।

ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে শনিবার ড. মুহাম্মদ ইউনূস কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ করেন। এ দফায় গণফোরাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাম মোর্চা, লেবার পার্টি ও জাতীয় পার্টি-বিজেপিকে (পার্থ) সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

গত ৫ অক্টোবর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, হেফাজতে ইসলাম, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে গত ৫ আগস্ট। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সরকার এরই মধ্যে দুই দফা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছে।




জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মালিক নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মালিক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বাংলাদেশকে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলার সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য তাদের দুয়ারে দুয়ারে যাব এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করার সুযোগ নেব। জামায়াতের আমির বলেন, যারা অতীতে মালিক হয়েছেন তাদের পরিণতি আমাদের চোখের সামনে রয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কি হয়, ধোঁকা দিলে কি হয়, মালিক বনলে কি হয়, জলুম করলে কি হয়”-এর থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।

তিনি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “যারা জাতিকে টুকরা টুকরা করে, তারা কখনো জাতির মঙ্গল চান না। আমরা দল-মত নির্বিশেষে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

জামায়াতকে বাংলাদেশের সবচাইতে মজলুম দল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা ও গুম করেছে।”

শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের ১৮ কোটি মানুষের। এই আন্দোলন মানুষের মুক্তির সংগ্রামের আন্দোলন ছিল।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা শাখার আমির খ ম আব্দুল রাকিব। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন ও রাজশাহী অঞ্চল সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।




শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না: নুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা রয়ে গেছে এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ঝিনাইদহ গণ অধিকার পরিষদ এই গণসমাবেশের আয়োজন করে।

নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের তাড়া নেই। প্রশাসনে এখনো আওয়ামী প্রেতাত্মারা রয়ে গেছে। দেশের জনগণ আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে আপনাদের চেয়ারে বসিয়েছে। যদি চালাতে না পারেন, দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিন।

তিনি আরো বলেন, গত আড়াই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করলে কাউকে ছাড়া হবে না।

নুর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

নুরুল হক নুর বলেন, মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এখন মানুষ মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে। এই পরিবর্তন ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

সমাবেশের প্রধান বক্তা গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, আগামী নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় গেলে জেলার চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন এবং বেকার শিক্ষিত যুবকদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।




শেখ হাসিনার পতন: বদরুদ্দীন উমরের মন্তব্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: শেখ হাসিনার পতনের বিষয়টি ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর। তিনি বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক এখন খারাপ।”

শনিবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই, জনগণের সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র চাই’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ভারত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে যে চেষ্টা করেছে, তা থেকে তারা এখন অস্বস্তিতে রয়েছে।

বদরুদ্দীন উমর বলেন, “আওয়ামী লীগের সংগঠনগুলো এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা যদি ভাবেন আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে, তাহলে সেটা বাস্তবসম্মত নয়। ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ যেভাবে শেষ হয়েছিল, ঠিক তেমনই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎও দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি উল্লেখ করেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরে জনগণের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তার জন্য গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে।”

শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা এবং তার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন বদরুদ্দীন উমর। তিনি বলেন, “মুজিবের নামকে ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হয়েছে, যার ফলে এই প্রতিবাদের সৃষ্টি।”

তিনি রাজনৈতিক সংস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না। বিএনপি নির্বাচিত হলেও পূর্বের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”




পটুয়াখালী ধুলাসার ইউনিয়নে মাফিয়া সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে: যুবদল নেতাদের দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর ধুলাসার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাফিয়া সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সভাপতি মো. রাশিদ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের মানুষকে কষ্টে রেখে কোনো স্বৈরাচারী মাফিয়া শক্তি টিকে থাকতে পারবে না।

তারা আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশ ত্যাগ করার পর থেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার শাসনামলের দুর্নীতি, লুটপাট এবং অনিয়মের খবর প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে। কলাপাড়ার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মাফিয়া চক্রের দৌরাত্ম্য রোধ করতে না পারলে, পলাতক স্বৈরাচারী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

সাবেক মাফিয়া সরকারের নেতাকর্মীরা অনেকের সম্পত্তি জবরদখল করেছিল, যা উদ্ধার করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তারা।

জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবং পটুয়াখালীর কৃতি সন্তান আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাফিয়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে তারেক রহমানও জোর দিয়েছেন, দেশের মাফিয়া চক্র ভেঙে না ফেললে সাধারণ মানুষ কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে না।

 




পটুয়াখালীতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএনপির বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিএনপির সকল সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ অক্টোবর ২০২৪, শনিবার সকাল ১১ টায় পৌর নিউমার্কেট চত্বর থেকে পটুয়াখালী জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, মৎস্যজীবিদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি সদর রোড দিয়ে প্রেসক্লাব হয়ে লঞ্চ টার্মিনালের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, “ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার খুনি হাসিনা পালালেও তার দোষর ও পেতাত্মারা শহরে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করে এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে বহু নিরীহ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণের প্রাণ ঝরেছে। জনগণকে শান্তিতে থাকতে দিন। মামলার আসামী হয়ে কিভাবে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শহরে প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড চালায়?”
তিনি আরো বলেন, “প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয়, জনগণ ও ছাত্রজনতা ছাড় দিবে না। আমরা পরিবেশ ঘোলাটে করতে চাই না, বিএনপি নৈরাজ্যে বিশ্বাসী নয়।”
এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে পটুয়াখালী জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, মৎস্যজীবিদলসহ বিএনপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



নির্বাচনের সময় ঘোষণার এখতিয়ার প্রধান উপদেষ্টার: আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, “২০২৫ সালে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হতে পারে,” তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার কেবল প্রধান উপদেষ্টার।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে আসিফ নজরুল বলেন, “সম্প্রতি একটি টিভি আলোচনায় আমি বলেছি, নির্বাচন হয়তো আগামী বছরের মধ্যে সম্ভব হতে পারে, তবে এক্ষেত্রে অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে। সেখানে এসব ফ্যাক্টর পুরোপুরি ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাইনি। তবে আমাদের সরকারের কথা থেকে সবাই বুঝবেন যে নির্বাচনের জন্য সংস্কার ও রাজনৈতিক সমঝোতার কথা বলা হয়। এগুলোই সেই ফ্যাক্টর।”

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সংস্কারের কথা আমি অনুষ্ঠানে বলেছি। আরও কিছু ফ্যাক্টর আমি অনুষ্ঠানটিতে ব্যাখ্যা করেছি, যেমন: সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি। এসব ফ্যাক্টর ঠিক থাকলে নির্বাচন হয়তো হতে পারে আগামী বছর। বলেছি এটাও আমার প্রাথমিক অনুমান। এই শর্তভিত্তিক ধারণা ও অনুমানকে কিছু গণমাধ্যম নির্বাচনের ঘোষণা হিসেবে দেখাচ্ছেন। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, এটা সঠিক নয়। নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পলিসি ডিসিশন। এর সময় সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঠিক হবে। তিনিই একমাত্র এটি ঘোষণার এখতিয়ার রাখেন।”

গত জুলাইয়ের শুরুর দিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে তা দমনে প্রথমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে মাঠে নামানো হয়। এরপর শেখ হাসিনার সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে, যার কারণে ওই আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের আন্দোলনে। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটে, যার ফলে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা, এবং তার সরকারের অনেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনে অনেক শিশু-কিশোরসহ ৭৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বাস্থ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির তথ্য মতে, শহীদের সংখ্যা এক হাজার ৪২৩ জনের বেশি। এ ছাড়া সরকারের হিসাবে আহত হয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি মানুষ, এদের মধ্যে ৪০০ জন চোখ হারিয়েছেন।

হাসিনার সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে ভোটে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে।