ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার ও জনগণের ন্যায্য ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ঢাকার মগবাজার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাড়ে ১৫ বছর স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। হাজার হাজার লোক আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন এবং এখনও অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যারা জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তাদের শাহাদাত কবুল করুন।” তিনি আহতদের চিকিৎসার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “দেশের চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনা অন্তরে ধারণ করতে হবে।”

এসময় বৈঠকে নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জামায়াত আমির ২০২৫-২৬ কার্যকালের জন্য নির্বাচিত জেলা ও মহানগর আমিরগণের নাম ঘোষণা করেন।




কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বা সংকট তৈরি কাম্য নয় : বাংলাদেশ ন্যাপ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) বলেছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ঘিরে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না, সেটি আলোচনা করার বিষয় নয়। সংগঠনটি দাবি করেছে, বর্তমানে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার হওয়া উচিত এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন। তারা বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র নিয়ে রাষ্ট্রপতি দুই ধরনের বক্তব্য দিয়ে পদে থাকার নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এ মুহূর্তে কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কাম্য নয়।”

নেতারা আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি তার পদে থাকবেন কি থাকবেন না— এ প্রশ্নটি বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো আইনি বা সাংবিধানিক প্রশ্ন নয়। এটি একেবারেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তাই রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য জরুরি।”

বাংলাদেশ ন্যাপ মনে করে, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার চূড়ান্ত বিজয় রুখতে ষড়যন্ত্রকারী ও ক্ষমতালোভীরা এখনো তৎপর। তাই কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সেই শূন্যতাকে স্বৈরাচারের দোসররা কাজে লাগাতে পারে। এ কারণে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ কর্মপন্থা তৈরি করতে হবে।”




‘ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেই হবে না, আইনের আওতায় আনতে হবে’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেই হবে না, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “সর্বপ্রথম শেখ হাসিনাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তার বিচার করতে হবে।” সেলিমা রহমান অভিযোগ করেন, একটি নির্বাহী আদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নেওয়ার দাবি উঠেছে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি আরো বলেন, “সাধারণ মানুষ আজ স্বস্তি পাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছে।” সেলিমা রহমান অভিযোগ করেন, সরকারের বিরোধী স্বৈরাচারী দোসররা পরিকল্পনা মাফিক দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, যেন সরকার সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা ও সুন্দর নির্বাচন দিতে না পারে।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। কিন্তু বর্তমান সরকার পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।” তিনি দাবি করেন, দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে কাজ করতে হবে।




সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে তাকে আটক করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) তালেবুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মো. জাকির হোসেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদে তিনি শ্রম, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান মো. জাকির হোসেন, এবং বিজয়ী হয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।




নয়াদিল্লির লোধি গার্ডেন এলাকায় আছেন শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা–কল্পনা শুরু হয়। তবে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা দিল্লিতে আছেন। নয়াদিল্লির লোধি গার্ডেনের লুটেনস বাংলো জোনে একটি সুরক্ষিত বাড়িতে রয়েছেন তিনি। ভারত সরকারই তাঁর থাকার জন্য বাড়িটির ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার মর্যাদা অনুসারে তাঁকে থাকার জন্য বেশ বড়সড় বাংলো দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের বাংলো ভারতের মন্ত্রী, পার্লামেন্ট সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে শেখ হাসিনার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্য প্রিন্ট ওই বাংলোর প্রকৃত ঠিকানা বা সড়ক নম্বর প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছাত্র–জনতার বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান
ছাত্র–জনতার বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে চলে যানছবি: সংগৃহীত
সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে যথার্থ প্রটোকল সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা মাঝেমধ্যে লোধি গার্ডেনে হাঁটতে বের হন।

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার জন্য কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাদাপোশাকে ২৪ ঘণ্টা তাঁর চারপাশে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই পর্যায়ের নিরাপত্তা পাচ্ছেন। সূত্র আরও জানায়, তিনি এই বাড়িতে দুই মাসের বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। এখানে তাঁর থাকার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।




ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হত্যা, নির্যাতন, গণরুমকেন্দ্রিক নিপীড়ন, ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং এ সম্পর্কিত প্রামাণ্য তথ্য দেশের সব প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু সন্ত্রাসী ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে। গত ১৫ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে উন্মত্ত ও বেপরোয়া সশস্ত্র আক্রমণ করে শতশত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিকে হত্যা করেছে এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে।

সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে জড়িত আছে।

এই অবস্থায় সরকার ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ এর ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল এবং ওই আইনের তফসিল-২ এ ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামীয় ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসেবে তালিকাভুক্ত করল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লাস

আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এই মুহূর্তে খবর এলো, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলো; মুহূর্তে খবর এলো, সন্ত্রাসী লীগ নিষিদ্ধ হলো; হৈ হৈ রৈ রৈ, সন্ত্রাস লীগ গেলি কই; এই মুহূর্তে খবর এলো, ক্যাম্পাস সন্ত্রাসমুক্ত হলো- ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।




ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় ঢাবিতে আনন্দ মিছিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে, ২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেন। এ সময় তারা সংবিধান বাতিল এবং রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের দাবিও জানান।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে আবার রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এর আগে, বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশও করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ এর দেওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে ছাত্রলীগ নানা ধরনের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং এ সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য দেশের প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, সরকার ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ এর ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।




‘ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করেছে সরকার’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের ওপর আঘাত করেছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। নাছিম বলেন, “বর্তমান সরকার অবৈধ সরকার। এই সরকারের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। তাহলে দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ছাত্রলীগের মতো সংগঠনকে কীভাবে নিষিদ্ধ করা হলো?”

তিনি অভিযোগ করেন যে, অসৎ উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগ নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যোগ করেন, “ছাত্রলীগ এ মাটির সংগঠন এবং আগামী দিনেও থাকবে।”

 




৮ বছরের সাজা থেকে খালাস পেলেন লুৎফুজ্জামান বাবর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ১/১১ এর সময় দায়েরকৃত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা থেকে হাইকোর্ট বিভাগে খালাস পেলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এর ফলে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আট বছরের কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন।

হাইকোর্টের আপীলের রায়ে, ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৮ টাকার অভিযোগে লুৎফুজ্জামান বাবরকে খালাস প্রদান করা হয়। বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার একক বেঞ্চে এ শুনানি হয়। বাবরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বাবরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এরপর তদন্তের পর ১৬ জুলাই আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়, এবং ১২ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।

লুৎফুজ্জামান বাবর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ২০০৭ সাল থেকে কারাভোগ করছেন। তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির আসামি।

তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।




একাত্তরের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব’ – জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “একাত্তরের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।”

তিনি বলেন, জামায়াত তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের দায় নেবে, তবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তার দল ‘এক পাকিস্তানের’ পক্ষে ছিল এবং কিছু সদস্য ব্যক্তিগতভাবে অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, কিন্তু সাংগঠনিকভাবে জামায়াতকে দায়ী করা যাবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, “যদি সন্দেহাতীতভাবে এ ধরনের কোনো ভুল বা অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমা চাইব জাতির কাছে।” তবে তিনি উল্লেখ করেন, “কোনো গোঁজামিল বা মিথ্যা চাপিয়ে দেওয়া হবে, আমি মিথ্যাকে সত্য বলব, এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজাকার, আল বদর ও আল শামসের মতো সংগঠনগুলো জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল, কিন্তু তিনি বলেন, “এটা ব্যক্তির দায়বদ্ধতা।”

শফিকুর রহমান বলেন, “যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা পূর্ব পাকিস্তান জামায়াত ইসলামীর কোনো রেজ্যুলুশনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী দল গঠন হয়ে থাকে, সেটা অবশ্যই জাতি গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সহিংসতা যদি কেউ করে থাকে, স্বয়ং গোলাম আজম করে থাকলেও তার বিচার হোক।”

জামায়াতের আমির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “৪২ বছর পর এসে সবকিছু জামায়াতের ঘাড়ে ফেলে দেওয়া হলো।”

তিনি এও বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধের পর ২৪ হাজার মামলা হয়েছে এবং অনেকেই জেলে গেছেন। “৪২ বছর পর যে লোকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলো, তাদের বিরুদ্ধে তখন একটা অভিযোগ দিতে পারল না কেন?” – প্রশ্ন তোলেন তিনি।