ভারতের পরামর্শ প্রত্যাশা নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী ভারতের সদ্য প্রদত্ত মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণ এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের। অন্য কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা পরামর্শ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই এবং এই ধরনের মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা মর্যাদার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত পনেরো বছরে যে নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তার সময় ভারতের নীরবতা ছিল স্পষ্ট। অথচ এখন নির্বাচন সংস্কারের পথে হাঁটতেই পরামর্শ প্রদানকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সচেতন। নির্বাচনের ফল জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক তলব ও পাল্টা তলবকে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। সার্বভৌমত্ব বিষয়ক মতপার্থক্য থাকলে কূটনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি ব্যাখ্যা করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করে সম্প্রতি সামাজিক ও প্রচলিত গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলোকে উসকানিমূলক বলে দাবি করেন তিনি এবং সেসব বক্তব্য বন্ধে বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানাতে পারে, সেটি আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির বিরোধী নয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে হলে উভয়কেই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সহযোগিতাপূর্ণ পর্যায়ে ধরে রাখার দিকে ঢাকা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিষয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, আজকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত পূরণে সক্ষম—এটিও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আগরতলা ও কলকাতায় বাংলাদেশের মিশনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে এবং আগরতলায় হামলাও হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে গণতান্ত্রিক উত্তরণে গোলটেবিল বৈঠক

টুয়াখালীতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তিশালী উত্তরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরের ওই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁ ও পার্টি সেন্টারে, যেখানে রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’—এই মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আলোচনার পুরো সময়জুড়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার নানামুখী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত। বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আজকের সময়ের সবচেয়ে জরুরি চাহিদা। মানুষের অংশগ্রহণমূলক ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সক্রিয় ও সচেতন নাগরিক সমাজ। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন—গণতান্ত্রিক চর্চা কেবল ক্ষমতার বদল নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনমতের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভোটের পরিবেশ ও সাংবিধানিক দায়িত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গগুলো উঠে আসে। বক্তারা মনে করেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ক্ষমতার মালিকানা পুনরুদ্ধার করে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে জনগণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

এসময় আলোচনা হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, নাগরিক নেতৃত্ব বিকাশ, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা নিয়ে। পটুয়াখালীর শিক্ষাবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংবাদকর্মীরা বলেন—গণতন্ত্রকে টেকসই রাখতে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, নাগরিক সমাজকেও সামনে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করাই আজকের বড় চ্যালেঞ্জ।

অংশগ্রহণকারীরা আরও জানান, গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়—বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই অর্জিত হতে পারে। তারা বলেন, জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে সম্মিলিত উদ্যোগে ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন, নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সক্রিয় সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন তারা।

বৈঠক শেষে আয়োজকরা বলেন—এই আলোচনা নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং গণতান্ত্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা, এয়ারপোর্টে ভিড় না করার আহ্বান

লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লন্ডনে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাকে বিদায় জানাতে কেউ এয়ারপোর্টে যাওয়া উচিত নয়

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সঙ্গে আমি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছি। আজ যুক্তরাজ্যে যারা আছেন, বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের প্রতি আমার অনুরোধ—২৫ তারিখে আমি দেশে চলে যাচ্ছি, দয়া করে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, এয়ারপোর্টে ভিড় হলে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। “যারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, আমি ধরে নেব তারা দল ও দেশের সম্মানের প্রতি মর্যাদা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নিজের জন্য নেতাকর্মীদের দোয়া কামনা করেন। দেশে ফেরার ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে

পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর অতিক্রম হলেও আমরা আজও সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখার আয়োজনে শহরের সিও অফিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাবে বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

মাসুদ সাঈদী সমাবেশে বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ। শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে আমাদের বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুঃখজনকভাবে যারা শুধু মুখে স্বাধীনতার চেতনাকে বলেছে, তারা তা অন্তরে ধারণ করেনি। অনেকেই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

মাসুদ সাঈদী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা কোনো ব্যক্তির নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। আমাদের সবার দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে সততা, ন্যায় ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির মামলা নেই, যা প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনার প্রমাণ।”

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শেখ আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আমীর মো: ইসাহাক আলী খান, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি মো: ইমরান খান ও অন্যান্য পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের ছয় আসন: চারটিতে কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

 দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ না থাকায় বরিশালের ছয়টি আসনেই জয় নিয়ে আশাবাদী বিএনপি। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, সহজ পথ পাচ্ছে না দলটি। মাঠে আগে থেকেই সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে অন্তত চারটি আসনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বিএনপি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের সমীকরণে এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক, সংখ্যালঘু ভোট এবং জোট রাজনীতি।


বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া): জটিল সমীকরণ

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের রাসেল সরদার (মেহেদী) এবং জামায়াতে ইসলামীর কামরুল ইসলাম খান মাঠে রয়েছেন। তবে আসনের সমীকরণ জটিল করে তুলেছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান।

মনোনয়ন না পেলেও মাঠে সক্রিয় থাকা সোবাহানকে ঘিরে গুঞ্জন চলছে, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। সংখ্যালঘু ভোট এবং আওয়ামী লীগপন্থি ভোটারদের সমর্থন এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট যেদিকে যাবে, জয়ও সেদিকেই ঝুঁকবে।


বরিশাল-২ (উজিরপুর–বানারীপাড়া): অভির প্রত্যাবর্তন ফ্যাক্টর

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম সরফুদ্দিন সান্টু। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান এবং ইসলামী আন্দোলনের নেছার উদ্দিন।

তবে সব হিসাব পাল্টে যেতে পারে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভি দেশে ফিরতে পারলে। তাঁর ফেরাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনা চলছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী): বহু প্রার্থীর লড়াই

এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতের জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ইসলামী আন্দোলনের সিরাজুল ইসলাম এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এ ছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। ফলে এই আসনে ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন স্থানীয়রা।


বরিশাল-৪ (হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ): বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান। তবে মনোনয়ন ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের অনুসারীদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক যে পক্ষ দখল করতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।


বরিশাল-৫ (নগর ও সদর): সরোয়ারের দুর্গে হানা

বরিশাল-৫ আসনটি বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পাঁচবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবারও প্রার্থী। তবে তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং জামায়াতের মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।

চরমোনাই পীরের বাড়ি হওয়ায় হাতপাখার ভোটব্যাংক এখানে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জোট সমঝোতা হলে এই আসনে ভোটের চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।


বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): সমঝোতার অপেক্ষা

এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের মাওলানা মাহামুদুন নবী তালুকদার এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা হলে ফলাফলের ওপর তার বড় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপি আশাবাদী হলেও বাস্তবে চারটি আসনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারে দলটি। জোট রাজনীতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিত ভোটব্যাংক—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করে দেবে বরিশালের নির্বাচনী ভাগ্য।




মুক্তিযুদ্ধ-ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না: নাহিদ ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ইসলামের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজধানীর শাহবাগে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে জাতি আজও সুস্পষ্ট অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধ যেমন বিভাজনের হাতিয়ার হতে পারে না, তেমনি ধর্মের নামেও দেশকে ভাগ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই—দুটিই জনগণের।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে মুজিববাদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে রেখেছিল। অথচ মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ। প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র বারবার বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর পুরোনো রাজনৈতিক বয়ান ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা থেকে নতুন এক জাতীয় বয়ান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর আঘাত। জনগণের নিরাপত্তা জনগণকেই নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসন যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে এখনো সরকার ও আইনের শাসনের ওপর আস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশজুড়ে গ্রাম, মহল্লা ও পাড়ায় পাড়ায় আধিপত্যবাদ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না, তবুও জনগণ নিজেরাই নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছিল। সেই ঐক্যের মাধ্যমেই সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু, শিশু-তরুণ—সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে। একই সঙ্গে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। এনসিপির লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সিইসির পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উক্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন,ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে সিইসি দায়িত্বে থাকতে পারেন না। এটি প্রত্যাহার করতে হবে। অথর্ব এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন,‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নৈতিকভাবে এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। আগস্টের পর মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলাস্বাভাবিকহয়নি।
 
তিনি বলেন, ‘হাদির ওপর হামলায় বাংলাদেশ আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এবং জুলাই বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ, সেই বার্তা দিতে আজকের এইসমাবেশ।
 
বিজয় দিবসের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ বলেনগোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা গুমখুন করেছে দক্ষতার সাথে। কিন্তু এখন খুনিকে ধরতে পারে না। ডিপস্টেট নিয়ে কথা বলতে হবে। ৭১ সাল থেকে প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল,এখনও চলছে। কাল উৎসব করতে নয়,প্রতিরোধ যাত্রা করব।
 
হাদির ওপর হামলায় ভারতের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন,ভারত যদি মনে করে,আগের মতো হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারচুপি করবে।আমরা সেটি ভুল প্রমাণ করব। 
হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন,‘ভারতের অখণ্ডতা সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল।ভারতকে সাবধান থাকতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মান মর্যাদার সম্পর্ক রাখতে হবে।

 




গভীর নিরাপত্তার সংকটে দেশের রাজনীতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ঐতিহাসিক চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দেশের দ্বার প্রান্তে তখনই দেশে ঘটে গেল এক পৈশাচিক ঘটনা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হলো। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিএনপিঘোষিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এরশাদউল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়।এখন তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে দেশের রাজনীতি কি নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে?

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামগ্রিক নিরাপত্তাকে অবিশ্বাস্য রকমের নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সমর্থক থেকে সর্বস্তরের মানুষ রীতিমতো হতভম্ব।

তাহলে রাজনীতিতে নিরাপত্তাটা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? আর দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বা কোন দিকে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কী হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে?

এ প্রসঙ্গে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, সব রাজনৈতিক নেতারা যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এখানে সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন অন্যতম জুলাই যোদ্ধা এবং এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ধরনের বর্বর হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে। তিনি বলেন, ওসমান হাদি গত ১৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার যে প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং নির্বাচন বানচালের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে অখ্যায়িত করেছেন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা শুরু করেছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে গুলি ও হামলার মতো আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আসন্ন নির্বাচনে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সহিংসতা ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

জানা গেছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এই ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা’কে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা কেউ-ই বিচ্ছিন্ন কিংবা স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁরা সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘটনাটিকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর উপস্থিতিতে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই সভার আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতায় সরব ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয় তরুণ নেতারা। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের নেতাদের হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই মিশন যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপর আঘাত।। তিনি বলেন, ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটা চরিত্র। ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপরে আঘাত।

ওসমান হাদির মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনায় রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, মব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে। জুলাই আন্দোলনের পরও আগের মতো নির্বাচন হলে অভ্যুত্থানের মর্মটাই নষ্ট হয়ে যাবে।




ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জুলাই অভ্যুত্থানের সমর্থক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার ঢাকায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায়  এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে,  তিনি যে আবার কবে আমাদের মাঝে ফিরবেন তা অনিশ্চিত। এদিকে ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণকারী দৃর্বৃত্ত  ভারতে পালিয়ে গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আবার তলব করা হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে ভারতের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। তাঁরা যদি ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষমও হন, তবে তাঁদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত পাঁচবার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির রাষ্ট্রদূতকে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দিল্লিতে থেকে নানা বক্তব্য–বিবৃতি দিয়ে চলেছেন। তা বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় আহ্বান জানানো হলেও নয়াদিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি।

এদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনার আরও বক্তব্য–বিবৃতি আসতে থাকে।

সেই প্রেক্ষাপটে আবার  ও ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাঁকে ডেকে নিয়ে সরকারের পক্ষে উদ্বেগ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

ভারতের হাইকমিশনারকে বলা হয়, পলাতক শেখ হাসিনাকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসন্ন নির্বাচন বানচালে প্ররোচিত করছেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।




ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে আগৈলঝাড়ায় বিএনপির বিক্ষোভ, অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান ও আকন কুদ্দুসুর রহমানের সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ডা. মো. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি একটি সুপরিকল্পিত টার্গেট কিলিংয়ের অপচেষ্টা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ষড়যন্ত্রকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও দেশপ্রেমিক শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। বিএনপি কখনোই সন্ত্রাস ও সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দলের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

সমাবেশে বক্তারা বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিকভাবে ঘোষিত মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়েও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

বক্তারা অবিলম্বে ওসমান হাদির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫