আমু হয়ে উঠেছিলেন গডফাদার, ‘বিশেষ চাপ’ দিয়ে করতেন জমি দখল

বরিশাল অফিস :: বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র। জাতীয় নেতা হলেও তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি সবচেয়ে বেশি ছিল ঝালকাঠিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল জেলায়, যারা আমুর হয়ে জেলার সব ধরনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ–বাণিজ্য, কমিটি গঠন, নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রি করত। এই চক্রের মাধ্যমে আমু হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির গডফাদার।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ (মালেক) থেকে। এর পরের যত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিয়েছিল, সব কটিতেই দলের প্রার্থী ছিলেন তিনি। ২০০০ সালের উপনির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে দায়িত্ব পান শিল্পমন্ত্রীর। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হন আমু।

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গত ১৬ বছর সব সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন আমির হোসেন আমু। নৈশপ্রহরী থেকে শুরু করে সব চাকরিতে আমুকে টাকা দিতে হতো। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারেননি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। এরপর আমুর ঝালকাঠির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ওই বাড়ি থেকে পোড়া-অক্ষত মিলিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এর আগেই আমু পালিয়ে যান। এর পর থেকে আমুর অবস্থান সম্পর্কে জানে না কেউ। তাঁর নামে একাধিক মামলা হয়েছে। ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশনায় তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল জেলায়, যারা আমুর হয়ে জেলার সব ধরনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ–বাণিজ্য, কমিটি গঠন, নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রি করত। এই চক্রের মাধ্যমে আমু হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির গডফাদার।

ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা দখল করে আমির হোসেন আমু নিজের মা-বাবার নামে আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রায় ছয় একর জমি জোর করে নামমাত্র মূল্যে লিখে নেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেছেন, আমু নিজেই পুলিশের ভয় দেখিয়ে লোক দিয়ে জমি দখল করেন।

কলেজের পাশে ঝালকাঠি শহরের লবণ ব্যবসায়ী ফজলুল হক হাওলাদারের ৩৬ শতক জমি ছিল। তাঁর জামাতা প্রবাসী আতিকুর রহমানের আরও ৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে ফজলুল হক যৌথভাবে হাওলাদার ফিলিং স্টেশন নামে একটি পাম্প নির্মাণ শুরু করেন। স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে ৩৬ লাখ টাকা খরচ করেন। কিন্তু আমু তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলেজের জন্য সেই জমি লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। ফজলুল হক অস্বীকৃতি জানানোয় আমুর ‘খলিফা’ জিএস জাকিরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা প্রায়ই তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জমি লিখে দিতে হুমকি দিয়ে আসতেন। একদল পুলিশ প্রায়ই তাঁর ছেলে রিয়াজুল ইসলামকে তুলে নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখত। ভয় দেখাত ‘ক্রসফায়ারের’।

ফজলুল হক বলেন, ‘একদিন আমুর বরিশালের বগুড়া রোডের বাসায় আমাকে ও আমার জামাতাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বসে তিনি বলেন, “আমার নামে জমি লিখে না দিলে তোমাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ।” পরে ভয়ে আমি ও আমার জামাতা তাঁর বাসায় বসে জমি লিখে দিই। সেদিন রাত ১২টার দিকে ঝালকাঠি সদর সাবরেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাঁর বাসায় বসে জমি রেজিস্ট্রি হয়। আমাকে কাঠাপ্রতি তিন লাখ টাকা নামমাত্র মূল্য দেওয়া হয়। অথচ এ জমির প্রতি কাঠার মূল্য ১০ লাখ টাকা। জমি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য একজন দলিল লেখক সব সময় প্রস্তুত থাকতেন। এ কাজে সহায়তা করতেন জিএস জাকির ও পিপি আবদুল মান্নান রসুল।’

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছিল জেলায়, যারা আমুর হয়ে জেলার সব ধরনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ–বাণিজ্য, কমিটি গঠন, নির্বাচনী মনোনয়ন বিক্রি করত। এই চক্রের মাধ্যমে আমু হয়ে উঠেছিলেন ঝালকাঠির গডফাদার।

ব্যবসায়ী ফজলুল হক আরও বলেন, ‘আমার ব্যবসায়ী অংশীদার সালেক শরীফের সঙ্গে একটি লবণের মিল নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই মিলে আমি প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু সালেক শরীফের ছেলে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফ (এক ‘খলিফা’) আমাকে মিলের অংশ দিতে অস্বীকার করেন। পরে সব তথ্যপ্রমাণ দেখানো সত্ত্বেও মীমাংসার নামে আমু পুরো মিলের মালিকানা সালেক শরীফকে দিয়ে দেন। আমার পক্ষে কথা বলবেন বলে আমু আমার কাছ থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা নেন। সেই টাকাও আজ পর্যন্ত ফেরত পাইনি।’

আওয়ামী গডফাদার তাহেরের ‘সাম্রাজ্যে’র নতুন অধিপতি ছিলেন ছেলে টিপু
খলিলুর রহমান নামে অপর এক জমির মালিক বলেন, ‘আমার অনেক কষ্টে জমানো টাকায় ৬ শতক জমিতে একটি পাকা টিনশেড ঘর তৈরি করি। সেই জমি লিখে নিতে জাকির চাপ সৃষ্টি করেন। পরে আমার বাড়ির প্রবেশপথ কলেজের সীমানাপ্রাচীর দিয়ে আটকে দেন আমু। কিছুদিন আমি ও আমার স্ত্রী মই দিয়ে প্রাচীর টপকে বাড়িতে প্রবেশ করতাম। আমুর ঢাকার বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রী কিছুদিন গৃহকর্মীর কাজ করেছে, যাতে জমিটি লিখে দিতে না হয়। কিন্তু আমুর মন গলেনি। একপর্যায়ে মাত্র আট লাখ টাকার বিনিময়ে বাড়িসহ ছয় শতক জমি লিখে দিতে বাধ্য হই।

একইভাবে আমু তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলেজের জন্য আবদুর রাজ্জাক, পাদুকা ব্যবসায়ী সম্রাট শু হাউসের মালিক পরিমল চন্দ্র দে, সাবিহা কেমিক্যাল ওয়ার্কসের মালিক মো. সামসুল হক ও তাঁর ভাই-বোনদের ৩৬ শতকসহ অনেকের জমি দখল করে নেন। এসব জমি ভরাটের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়।

আমুর ঢাকার বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রী কিছুদিন গৃহকর্মীর কাজ করেছে, যাতে জমিটি লিখে দিতে না হয়। কিন্তু আমুর মন গলেনি। একপর্যায়ে মাত্র আট লাখ টাকার বিনিময়ে বাড়িসহ ছয় শতক জমি লিখে দিতে বাধ্য হই
খলিলুর রহমান।

২০১৫ সালে আমুর নির্দেশে জেলা প্রশাসন পরিচালিত কালেক্টরেট স্কুল ভবনের দুটি কক্ষ ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদারের লোকজন। কালেক্টরেট স্কুলের পাশেই আমুর স্ত্রীর নামে বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য এ ভাঙচুর চালানো হয়। ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সুগন্ধা নদীর তীরে কালেক্টরেট স্কুলটি নির্মাণ করা হয়।

বিদ্যালয়টির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জেলা প্রশাসন সামনেই একটি পুকুর ও চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে। কালেক্টরেট স্কুলটির পাশেই নির্মাণ করার কথা ছিল বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভবন। পরে সেখানে আর সেই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়নি, যদিও জমি দখলে রয়েছে। পরে ওই জমির পেছনে ২০২৩ সালে বেগম ফিরোজা আমু হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়।

জানতে চাইলে বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, ‘কলেজের ভবন নির্মাণের জন্য যে জমির প্রয়োজন, সমঝোতার মাধ্যমে একটু জমি নিয়েছি। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

কালেক্টরেট স্কুলের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বলেন, ‘আমি এ জেলায় নতুন যোগ দিয়েছি। বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে ব্যবহার করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝালকাঠিতে উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ মানেই আমুকে কমিশন দিতে হতো। এ কাজে নিজের একটি বাহিনী তৈরি করেছিলেন তিনি। আমুর হয়ে বেশির ভাগ কাজ করতেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান সুরুজ ওরফে রাঙ্গা ভাই, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির ওরফে জিএস জাকির এবং জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফ।

স্থানীয়ভাবে তাঁরা ‘চার খলিফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমুর ভায়রা ও এপিএস ফখরুল মজিদ কিরণ, ঢাকার বাসার আমুর ব্যক্তিগত সহকারী শাওন খানকেও কিছু ভাগ দিতে হতো। আমুর নামে তাঁরা ৩০-৪০ শতাংশ কমিশন নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের কাছে দরপত্র বিক্রি করে দিতেন।

এলজিইডির অন্তত তিনটি সূত্রে জানা গেছে, ‘চার খলিফা’র নেতৃত্বে ঢাকার এলজিইডি ও সওজ অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয় থেকে অপ্রয়োজনীয় কালভার্ট ও সেতুর প্রকল্প তৈরি করে নিয়ে আসা হতো। অনেক সময় ভালো সেতু ভেঙেও নতুন সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ আনা হতো। আমুর আধা সরকারি চিঠির (ডিও লেটার) মাধ্যমে নেওয়া এসব কাজে অতিরিক্ত বরাদ্দ ধরা থাকত। পরে এসব কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশনে বিক্রি করে দেওয়া হলেও ঠিকাদারের লাভ থাকত।

ঝালকাঠি সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঠিকাদার নির্বাচনে আমুর সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। ই-টেন্ডার চালু হওয়ার পর দরপত্র (গুচ্ছ) নেওয়া গেলেও জমা দিতে দরপত্রের কাগজ তুলে দিতে হতো চার খলিফার হাতে। কথা না শুনলে সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল বদলি নয়, হেনস্তা করা হতো। সড়ক বিভাগের মতো এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর, গণপূর্ত, জেলার চার উপজেলা প্রকৌশলী, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই ছিল একই নিয়ম।

ঝালকাঠি এলজিইডির ঠিকাদার মেসার্স মনোয়ারা এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে এলজিইডিতে কাজ করছি। লটারির মাধ্যমে কয়েকটি কাজ পেয়েও আমুকে ৫ পার্সেন্ট হারে কমিশন দিতে হতো। টাকা না দিলে কাজ করা সম্ভব হতো না। আমার কাছ থেকে ৬৮ লাখ ও ৩৩ লাখ টাকার দুটি কাজের বিপরীতে প্রায় ৪ লাখ টাকা কমিশন নেওয়া হয়েছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তালুকদার ওরফে মনির হুজুর ছিলেন আমুর বিশ্বস্ত সহচর। মনিরুলের বাবা লিয়াকত আলী তালুকদার ছিলেন পৌরসভার মেয়র। পৌরসভার সব ঠিকাদারির কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন মনিরুল। তিনি প্রতিটি ঠিকাদারি কাজ শুরু করার আগেই আমুর কমিশনের ভাগ হিসাব করে ঢাকায় পাঠিয়ে দিতেন। তাঁর পরিবার কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে।

দলীয় মনোনয়ন ও কমিটি নিয়ন্ত্রণ
নিজের আসন ঝালকাঠি-২ তো বটেই, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের রাজনীতিতেও আমুর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। প্রতিটি সাংগঠনিক কমিটিতে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিরা স্থান পেয়ে এসেছেন। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিএনপিপন্থী ব্যক্তিদের বড় পদে বসানোর অভিযোগ রয়েছে। সাবেক বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী তালুকদারকে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে, ২০০৪ সালে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহাবুব হোসেনকে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে এবং সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রশিদকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বসান আমু।

পদবঞ্চিত অন্তত পাঁচ নেতা বলেন, ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে দ্বিতীয়বারের মতো সরদার মো. শাহ আলম সভাপতি ও খান সাইফুল্লাহ সাধারণ সম্পাদক হন। সম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ৪টি উপজেলা, ২টি পৌরসভাসহ ৩২টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে একমাত্র আমুর মনোনীত নেতারাই স্থান পেয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস করতেন না। কারণ, সামান্য প্রতিবাদেও শেষ হয়ে যেত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। আমুর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে জেলা আওয়ামী লীগের একসময়ের দাপুটে দুই নেতা সাবেক মেয়র আফজাল হোসেন ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান দল থেকে ছিটকে পড়েন। আমুর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পৌরসভায় আফজাল হোসেন এবং উপজেলা পরিষদে সুলতান হোসেন নির্বাচন করে পরাজিত হন।

নগদ টাকা ছাড়া নিতেন না :
জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, সব টাকাই নগদে দিতে হতো আমুকে। লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন তাঁর ভায়রা কিরণ। কিরণের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হ‌ুমায়ূনের ছোট ভাই কিরণ তাঁর নিজের এলাকা বাদ দিয়ে পড়ে থাকতেন ঝালকাঠিতে। কেবল কমিশন আদায় নয়, নির্বাচনী এলাকায় আমুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতেন তিনি। নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগের এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো কিরণের। নলছিটির সব কাজের ভাগ-বাঁটোয়ারা করতেন তিনি।

ঝালকাঠির রোনালস রোডের বাড়ি, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডের আলিশান বাংলোবাড়ি ও ঢাকার ইস্কাটনে বাংলোবাড়ি রয়েছে আমুর।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ব্যাংকে টাকা না রেখে আমু বাড়িতেই রাখতেন। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট। আমুর ঝালকাঠির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে আগুন নেভানোর সময় কয়েকটি পোড়া লাগেজ থেকে টাকার বান্ডিল বেরিয়ে পড়ে। তখন সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা এসে ওই টাকার লাগেজগুলো উদ্ধার করেন। এর মধ্য থেকে তাঁরা গণনা করে একটি লাগেজে অক্ষত ১ কোটি এবং অপর লাগেজগুলো থেকে গণনা করে আংশিক পোড়া ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধার করেন। এ ছাড়া সেখানে ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যমানের মুদ্রা ছিল বলে জানায় পুলিশ।

ঝালকাঠির রোনালস রোডের বাড়ি, বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডের আলিশান বাংলোবাড়ি ও ঢাকার ইস্কাটনে বাংলোবাড়ি রয়েছে আমুর। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ব্যাংকে টাকা না রেখে আমু বাড়িতেই রাখতেন। যার প্রমাণ মেলে ৫ আগস্ট।
নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ, মামলা, হয়রানি
প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে এলাকায় অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করতেন আমু। ঝালকাঠিতে ‘এক ভোটের চেয়ারম্যান’ বলে একটি কথার প্রচলন রয়েছে। এর মানে হলো নির্বাচনে জিততে একজন প্রার্থীকে কেবল আমুর ভোট পেতে হতো। আমুকে টাকা দিয়ে যিনিই নৌকার মনোনয়ন পেতেন, তিনি নিশ্চিত বিজয়ী হতেন। নির্বাচনের মৌসুম এলেই ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাতায়াত বেড়ে যেত।

অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সম্পদ বিবরণীতে যে তথ্য আছে, তা তাঁর প্রকৃত সম্পদের সামান্য অংশ।

ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল মান্নান রসুল আমুর প্রভাব বিস্তার করে জেলা আইনজীবী সমিতিতে টানা ১১ বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমুর নির্দেশে আবদুল মান্নান রসুল বিএনপি ও ভিন্নমতের নেতা–কর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে ফাঁসাতেন। আমুর পরেই তিনি ছিলেন ঝালকাঠির অঘোষিত সম্রাট। সরকারি মামলায় টাকা না দিলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি করতেন তিনি। সাধারণ আইনজীবীরা তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন। জেলা জজ আদালত ও চিফ জুডশিয়াল আদালতে গত ১৬ বছরে সব ধরনের নিয়োগ–বাণিজ্যে আমির হোসেন আমুর নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবদুল মান্নান রসুলের বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের হলফনামায় দেখা যায়, আমুর কৃষিজমি, বাড়ি, দোকান, চাকরি ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ৬০ লাখ ৩০ হাজার ৬০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও স্থায়ী আমানত ২৩ লাখ ৭০ হাজার ২৩৫ টাকা।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় আমুর নগদ অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছিল পাঁচ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩ টাকা। ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তাঁর নগদ অর্থ বেড়ে হয় দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখানো হয় আট কোটি টাকা।

২০১৮ সালের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আমুর বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ওই সময়ে তাঁর আবাসিক ভবন ছিল দুটি, যার মূল্য ছিল ৯৪ লাখ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ছিল ১২টি। ২০২৪ সালের হলফনামায় দেখা যায়, আমুর কৃষিজমি, বাড়ি, দোকান, চাকরি ও অন্যান্য উৎস থেকে বার্ষিক আয় ৬০ লাখ ৩০ হাজার ৬০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও স্থায়ী আমানত ২৩ লাখ ৭০ হাজার ২৩৫ টাকা। তাঁর বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেলের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া আসবাবসহ অন্যান্য খাতে আরও ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার ৮৩৮ টাকার সম্পদ আছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তাঁর আবাসিক ভবন রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটির মূল্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাকি দুটির মূল্য অজানা লেখা হয়েছে।

ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত বলেন, হলফনামার বিবরণীতে আমুর সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সম্পদ বিবরণীতে যে তথ্য আছে, তা তাঁর প্রকৃত সম্পদের সামান্য অংশ।




কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বিএনপি : ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপি দেশের কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার আমরা কারা? এ বিষয়ে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটা আরেকটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা ও কূটনীতিক সাবিহ উদ্দিন আহমদের স্মরণসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, দেশে একটা অনিশ্চয়তা আবার শুরু করার জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। যেটা কোনো ইস্যু না, সেটাকে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। আমি মনে করি এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সচেতন হওয়া দরকার।




বিপ্লবে ঐক্যবদ্ধ জাতিকে বিভক্তে ষড়যন্ত্র চলছে: জামায়াত আমির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে ঐক্যবদ্ধ জাতিকে বিভক্ত করার কঠিন ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ বিভক্ত জাতি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়। তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) কাকরাইলের ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের নবনির্বাচিত আমিরের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের ওপর বিচারের নামে জুলুম চলতে দেওয়া উচিত নয়। তিনি আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা সাধারণ মানুষকে পশুর মতো হত্যা করেছে, এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ফলে অনেক মানুষ নিহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যেখানে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা সদস্য নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্র প্রকাশ করেছে।

গণমাধ্যমকে তিনি আহ্বান জানান যে, তারা যেন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন করে, যাতে সমাজে সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়। সাংবাদিকতা একটি মহান দায়িত্ব এবং জনগণের স্বার্থে সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দ্বীনের পথে যারা থাকে, তারাই পরস্পর ভাই। আগামী দুই বছর দায়িত্বশীলদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।

শপথ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




জাতীয় পার্টির সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির ডাকা শনিবারের (২ নভেম্বর) সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে জাতীয় পার্টি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে (সভাস্থল) পাইওনিয়ার রোডের ৬৬ নম্বর ভবন, কাকরাইলসহ আশপাশের এলাকায় যেকোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

জাতীয় পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ
কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
বিজ্ঞাপন

পরবর্তী কর্মসূচি জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর কাকরাইলে মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয় দলটি। চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ছাড়াও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ সমাবেশ ডেকেছিল জাতীয় পার্টি। একইদিন জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণপ্রতিরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতা। এ অবস্থায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর কাকরাইল ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।




চিকিৎসা শেষে আবারও কী দলের হাল ধরবেন খালেদা জিয়া?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রত্যাশা, বিদেশে চিকিৎসা শেষে বেগম খালেদা জিয়া আবারও দলের হাল ধরবেন। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে যুক্তরাজ্যে নিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, কানাডা থেকে আসা একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ৮ নভেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারেন বেগম জিয়া।

বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারে ৯ মাস পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়, কিন্তু ১ মাস ২ দিন পর আবারও কারাগারে নেয়া হয়।

২ বছর ৩ মাসের কারাজীবনে বেগম জিয়াকে কয়েক দফা বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার বিদেশে চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সনের লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সরকারিভাবে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে ৭ বার আবেদন করা হয়, যা প্রত্যেকবারই নাকচ হয়।

গত ৬ আগস্ট মুক্তির পর বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। জানা গেছে, ৮ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার সব প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। কানাডা থেকে আসা বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন যাবেন তিনি। তার সঙ্গী হবেন মেডিকেল বোর্ডের ৭ চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যসহ ১৫ জনের একটি দল।

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তার বড় পুত্র তারেক রহমান ও পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন থাকার পর, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হবে বেগম খালেদা জিয়াকে। বিএনপির নেতাদের প্রত্যাশা, চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি আবারও দলের হাল ধরবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আরও সাত বছর আগে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা করানো দরকার ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সে সুযোগ দেয়নি। যদি আগে চিকিৎসা করানো যেত, তাহলে তিনি সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারতেন। আমরা আশা করছি, এবার সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে তিনি আবারও পুরোপুরিভাবে দলের হাল ধরবেন।”

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।




শ্রমিক দলনেতা হাসান মাহমুদ হত্যা মামলায় মহিলা লীগ নেত্রী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সাংবাদিক হাসান মাহমুদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং পটুয়াখালী জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানাকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মামলার বাদী ফাতেমার স্বামী হাসান মাহমুদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সড়ক পরিবহন শ্রমিক দলের সভাপতি এবং পেশায় একজন সাংবাদিক ছিলেন। তিনি গত ৩১ জুলাই রাত দেড়টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে রাতে আর ফিরেননি। তার স্ত্রী ফাতেমা অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর জানতে পারেন, সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী ৫০ থেকে ৬০ জন লোক তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে, তিনি জানতে পারেন তার স্বামী গোড়ান ছাপড়া মসজিদের সামনে রাস্তায় পড়ে আছেন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ফাতেমা ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গত ৩০ আগস্ট খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলিস্থানের পীর ইয়ামিন হোটেলের একটি কক্ষ থেকে জাকিয়া সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ওই নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




জনগণের রায়েই নির্ধারিত হবে আগামী সরকারের গঠন: হাসনাত আবদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “পরবর্তীতে সরকারে কে আসবে, সেটা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।” শুক্রবার (১ নভেম্বর) দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১২ শহিদ পরিবারের সদস্য ও ৪০ জন আহতদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ যোগ করেন, “আপনারা যদি এমন কাউকে নির্বাচিত করেন যারা পূর্বের মতো ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠা করবে, তাহলে এর দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।” তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন, কাকে আগামীতে ক্ষমতায় আনবেন।”

তিনি শহিদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের বলে উল্লেখ করে বলেন, “আজকে যে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে দেয়া হচ্ছে। তবে একটি পরিবারও পুনর্বাসন ছাড়া থাকবে না।”

দেবিদ্বার উপজেলা নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে কোনভাবেই চাঁদাবাজিকে স্থান দেওয়া হবে না।” এছাড়া, দেবিদ্বারের যানজট নিরসনে রোড ডিভাইডার নির্মাণ এবং বাজার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “পৌর ব্যবসায়ী সমিতিকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন ব্যবসায়ীবান্ধব কমিটি গঠন করা হবে যাতে সিন্ডিকেট করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে।”

অন্যদিকে, বিকেলে “ফ্যাসিবাদ পরবর্তী আগামী দেবিদ্বার” বিষয়ে জনগণের ভাবনা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় বক্তব্য রাখেন বুয়েটের শিক্ষক ড. খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবিদ্বার উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পারভেজ সরকার, জাতীয় গণ অধিকার পরিষদের কুমিল্লা জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, এবং ভিপি ময়নাল হোসেন প্রমুখ।




বরিশালে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ বিচারের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বরিশালের ভাটারখাল কলোনীতে বিএনপি কর্মী ও সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে বিএনপির ১০ নং ওয়ার্ড ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। আজ (১ নভেম্বর) শুক্রবার বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর বিচারের দাবিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বরিশাল মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ, ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহাদৎ হোসেন তোতা, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল, মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলমাস, এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত নারী কর্মী লিপি বেগমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা সরকারের’ ছত্রছায়ায় থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ভাটারখাল কলোনীতে নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে চলছে মাদককারবার ও চাঁদাবাজি। বিএনপি কর্মী হওয়ায় গতরাতে ভাটারখাল এলাকায় রেডক্রিসেন্ট অফিসের পেছনে লিপি বেগমের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে অনেক পরিবার এখনও ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। কলোনীবাসী যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই দাবিতে তারা বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, এবং সেনা কমান্ডার বরাবর স্মারকলিপির মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।




জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন-ভাঙচুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে কয়েক শতাধিক মানুষ এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিভিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নেওয়াজ খান বাপ্পী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি মিছিল নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু মিছিল পাটির কার্যালয়ের সামনে আসতেই আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এতে অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন।




জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুল ইসলাম: কচুক্ষেতের ঘটনা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::রাজধানীর কচুক্ষেতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুরে গার্মেন্টস শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “শ্রমিকদের যদি কোনো ন্যায্য দাবি-দাওয়া থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধান করবেন। কিন্তু বিক্ষোভকালে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে দেখার কোনোই সুযোগ নেই।”

এর আগে, রাজধানীর মিরপুর-১৪ এর কচুক্ষেত এলাকায় সকালে ডায়না গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকরা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষায় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরা সেনাবাহিনীর গাড়ি ও পুলিশের লেগুনা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এই ঘটনায় দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন এবং আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ ফয়সাল।