মাদক ও অস্ত্রবিরোধী সংগ্রামে তরুণদের পাশে জামায়াত নেতা মাসুদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে রক্ষা করতে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বাউফলে উপজেলা জামায়াত ইসলামীর যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “এখনো অনেকের ইশারায় দোকানগুলোতে চা ও চকলেটের চেয়ে মাদক বেশি বিক্রি হয়। আমাদের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার এ ষড়যন্ত্র বন্ধে আমি আজ থেকেই মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। তরুণদের রক্ষা করতে প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণদের হাত থেকে কলম ও খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যারা অস্ত্র ও মাদক তুলে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা এক হাতে তরুণদের খাতা ও কলম দেব, অন্য হাতে কুরআন ও হাদিস তুলে দেব, যাতে তারা দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারে।”

সম্মেলনে মাসুদ তার বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের তরুণ সমাজের জন্য এক কঠিন সময় চলছে। এ সময় তাদের নৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। আমাদের যুবকদের নেতৃত্ব দিতে হবে, যাতে তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অগ্রগামী হয়।”

তিনি বলেন, “মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ আমাদের শেষ নয়। যেকোনো মূল্যেই এ বাউফলকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ করব। এ লড়াইয়ে হয় আমরা জিতব, নয়তো আরও বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। তারা মাসুদের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সম্মেলনের শেষে সকল নেতাকর্মী মাদক ও অস্ত্রমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শপথ করেন।

 




বিএনপিই প্রথম সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল: তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিএনপিই প্রথম সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজ অনেকই সংস্কারের কথা বলছেন, তবে সবার আগে সংস্কারের প্রস্তাব আমরাই দিয়েছিলাম।

এসময় তিনি বলেন, ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র নেতা তরিকুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুধু বইয়ের কতগুলো লাইন পরিবর্তন করলেই সংস্কার হবে। জনগণের ভাগ্যের ভালো পরিবর্তন হলেই তবে তা সংস্কার হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেত্মাতারা রয়ে গেছে, তাই দেশে রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল চলছে।

এ সময় রাজনীতিতে তরিকুল ইসলামের অবদানের কথা তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এমন একজন মানুষ হারিয়েছি বলেই হয়তো আজ আরও ভালো পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। দেশ ও রাজনীতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি




নাজিরপুরে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আ.লীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নাজিরপুরে বিস্ফোরক আইনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুরে আলম সিদ্দিকী শাহিন ও তার মেজো ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম নজরুল ইসলাম বাবুলসহ ৪০ জন আওয়ামী লীগ নেতার নাম উল্লেখ করে ১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. বেলায়েত হোসেন মাঝি বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ বেপারী, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তুহিন হালদার তিমির, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আল-আমীন হোসেন, শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. শান্ত ইসলাম শোভনসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে ১২০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অভিযুক্তরা ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর উপজেলা সদরের শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে থেকে পিস্তল, পাইপগান সহ আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে গুলিসহ হামলা করে। এসময় অনেকেই আহত হন।

এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল ফদি বলেন, বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির দলীয় কার্যালয ভাঙচুরের অভিযোগ করে উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল কবির বাদী হয়ে আদারতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিলে তারা মামলাটি ভিত্তিহীন হিসেবে প্রতিবেদন দাখিল করেন।




মাওলানা সাদকে দেশে আসতে দিলে অন্তর্বর্তী সরকারের পতন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: তাবলীগ জামাতের ইজতেমাকে কেন্দ্র করে যদি স্বঘোষিত আমির মাওলানা সাদ ও তার অনুসারীদের এ দেশে আসতে দেওয়া হয়, তাহলে এই অন্তর্বর্তী সরকারকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাবলীগ জামাতের একপক্ষের নেতারা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামি মহাসম্মেলন থেকে তারা এই হুঁশিয়ারি দেন।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে স্বঘোষিত আমির সাদ ও তার অনুসারীরা বিশৃঙ্খলা করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আমরা কোনোভাবেই সেটি হতে দেব না। তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র যেকোনো মূল্যে আমরা ব্যর্থ করে দেব।




গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চায় আওয়ামী লীগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ প্রয়োজন হলে বিএনপির সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে তার দলের প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার লন্ডনভিত্তিক ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “আমি বিএনপির সাথে অনেক ক্ষেত্রে একমত।

“এবং বিএনপি যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে, সেটির সাথে আমরা একমত এবং প্রয়োজনে বিএনপির সাথে একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা কাজ করব।”

ছাত্র-জনতার তুমুল গণ আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদের দেশ ছাড়ার খবর এসেছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মন্ত্রী ও দলের সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে তিনি কীভাবে বাইরে গেলেন, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে এখনও।

সরকার পতনের পরপরই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছিলেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া আসেনি। দলটির নেতারা আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিরোধের কথা বলছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির বক্তব্যের ধারাও ইদানীং পাল্টেছে। নেতারা দ্রুত নির্বাচন চাইছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক এগারোর মত ‘মাইনাস টু’য়ের চেষ্টা সফল হবে না।




বরিশাল মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:: দেশের ১০টি জেলা ও মহানগরে পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে এই কমিটির ঘোষণা করা হয়।

বরিশালে এবারও আহ্বায়ক হয়েছেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতে যারা আছেন

০১ মনিরুজ্জামান খান ফারুক আহ্বায়ক ০২ জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া সদস্য সচিব ০৩ আফরোজা খানম নাসরীন যুগ্ম আহ্বায়ক ০৪ জসিম উদ্দিন খান যুগ্ম আহ্বায়ক ০৫ আল আমিন যুগ্ম আহ্বায়ক ০৬ আবু মুসা কাজল যুগ্ম আহ্বায়ক ০৭ আব্দুল হালিম মৃধা যুগ্ম আহ্বায়ক ০৮ সাজ্জাদ হোসেন যুগ্ম আহ্বায়ক ০৯ জহিরুল ইসলাম লিটু যুগ্ম আহ্বায়ক ১০ মাহফুজুর রহমান মাফুজ যুগ্ম আহ্বায়ক ১১ এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ যুগ্ম আহ্বায়ক ১২ ওয়ায়ের ইবনে গোলাম কাদির (স্বপন) সদস্য ১৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ সদস্য ১৪ আল মাসুম সদস্য ১৫ মঞ্জুরুল আহসান জিসান সদস্য ১৬ সাইফুল আনাম বিপু সদস্য ১৭ বদিউজ্জামান টলন সদস্য ১৮ রফিকুল ইসলাম মঈন সদস্য ১৯ কামরুল হাসান রতন সদস্য ২০ আহম্মেদ জেকি অনুপম সদস্য ২১ জুলহাস উদ্দিন মাসুদ সদস্য ২২ জাহিদুর রহমান রিপন সদস্য ২৩ খসরুল আলম তপন সদস্য ২৪ আব্দুল হক মাষ্টার সদস্য ২৫ আরিফুর রহমান বাবু সদস্য ২৬ আসাদুজ্জামান মারুফ সদস্য ২৭ সোহেল সিকদার সদস্য ২৮ অ্যাড. কাজী বসির সদস্য ২৯ এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ ইমন সদস্য ৩০ অ্যাড. সরোয়ার হোসেন সদস্য ৩১ অ্যাড. শেখ হুমায়ুন কবির মাসুদ সদস্য ৩২ অ্যাড. মো. তসলিম সদস্য ৩৩ অ্যাড. সুফিয়া আক্তার সদস্য ৩৪ এ্যাড. সাঈদ খোকন সদস্য ৩৫ শামীমা আকবর সদস্য ৩৬ একেএম মিজানুর রহমান (ইঞ্জিনিয়ার) সদস্য ৩৭ নওশদ আহম্মেদ নান্টু সদস্য ৩৮ দুলাল গাজী সদস্য ৩৯ মাসুদ হাওলাদার সদস্য ৪০ আব্দুর রহমান হাওলাদার সদস্য ৪১ হাসিনা কামাল সদস্য ৪২ নুরুল ইসলাম পনির সদস্য




সাবেক সচিবের বাসায় মিলল কোটি টাকা, ১১ আইফোন

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাতে উত্তরার-১১ নম্বর সেক্টরে আমজাদ হোসেনের বাসায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় তাদের বাসা থেকে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা ও ১১টি আইফোন জব্দ করা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাইদ জানান, আমজাদ হোসেনের বাসায় ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বাড়িটির চার, পাঁচ ও ছয় তলার ফ্ল্যাট থেকে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, বেশ কিছু বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি ও ১১টি আইফোন জব্দ করে যৌথবাহিনীএ সময় আমজাদ হোসেন খান ও তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান আবু সাইদ।২০২০ সালে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসর নেন আমজাদ হোসেন খান। তার বাড়ি গাজীপুর সদরে।




পরিবর্তন আনতে তরুণদের স্বপ্ন দেখতে বললেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে এনডিসি ও এফডব্লিউসি কোর্সের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন,প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি বিশেষ করে তরুণদের মনস্থির করতে, চিন্তা করতে ও স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করি। স্বপ্ন হল পরিবর্তনের সূচনা। স্বপ্ন দেখলে পরিবর্তন হবে। আপনি যদি স্বপ্ন না দেখেন তবে এটি কখনোই হবে না।

তরুণদের দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন আমি বিশ্বের জন্য কী করতে পারি? একবার আপনি কী করতে চান তা বুঝতে পারলে আপনি তা করতে পারবেন, কারণ আপনার সেই ক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম এখন সমগ্র মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম। তারা যথেষ্ট স্মার্ট হওয়ার কারণে নয় বরং তাদের হাতে প্রচুর প্রযুক্তি রয়েছে বলে।

প্রযুক্তিকে আলাদিনের চেরাগ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনি যদি ছাত্র বিপ্লবের দিকে তাকান, তবে এটি প্রযুক্তির বিষয়। তারা একে অপরের সাথে খুব দ্রুত যোগাযোগ করতে পারত। তাদের কোন কমান্ড কাঠামো ছিল না।

ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিপ্লব সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের তরুণ যুবকরা একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। তিনি বলেন, তরুণরা রাজনীতিবিদ নয় এবং কোনো রাজনৈতিক স্বার্ধ হাসিলের চেষ্টাও তারা করছে না। তবে তারা নিজেদের জন্য একটি নতুন দেশ চায়।

বিশ্ব শান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেশিরভাগ সময়, মানুষ শান্তির নামে একে অপরকে হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘…কিন্তু আমরা প্রতিদিন, আমাদের সমস্ত উচ্চারণ ও আমাদের সমস্ত দর্শনে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করি। আমরা শান্তি চাই। দেশের ভেতরে .শান্তি, সব দেশের মধ্যে শান্তি এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তার কাছে অত্যন্ত হাস্যকর মনে হয় যে বিশ্বের প্রতিটি সরকারেরই একটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আছে, যা আক্ষরিক অর্থে এটি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়, কিন্তু কোনো শান্তি মন্ত্রণালয় নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি আপনার লক্ষ্য শান্তি হয়, তাহলে আপনার কি শান্তি মন্ত্রণালয় থাকা উচিত নয়?

তিনি প্রতিরক্ষা অ্যাটাশেসহ বৈদেশিক সম্পর্কে শান্তি অ্যাটাশে প্রবর্তনের পরামর্শ দেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি আত্ম-ধ্বংসাত্মক গ্রহ। কেননা ‘আমরা শুধুমাত্র নিজেদের হত্যা করার জন্য প্রস্তুত সবকিছু করেছি।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ গ্রহ ধ্বংস করতে পরিবেশ ধ্বংস করছে। প্রতিদিন মানুষ গ্রহকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একটি ভুল সভ্যতা তৈরি করেছি – আত্মবিধ্বংসী সভ্যতা।




ফ্যাসিস্টরা যাতে ফিরে আসতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আগামী দিনে নির্বাচনে যাতে ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের ছাত্র-জনতা যেভাবে ফ্যাস্টিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে তা আর কখনোই গ্রহণ করা হবে না। দেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জনপ্রিয় নেতা ভোটে প্রতিযোগিতা করে জিতিছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্টরা জোরপূর্বকভাবে সেই ফলাফল কেড়ে নিয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে ধন্যবাদ জানাই তারা ন্যায় বিচারের মাধ্যমে ডা. শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তারা আদালতের রায় মেনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করিয়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার যে ইশতেহার ছিলো চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন হবে গ্রীণ ও ক্লিন সিটি কর্পোরেশন-সেই লক্ষ্য আমি কাজ করে যাবো।

চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ ভুলু, যুগ্ম মহাসচিব মাহমুদ নবী সোহেলসহ চট্টগ্রাম বিএনপি মহানগর ও বিভাগীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




“সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় ড. কামাল হোসেনের ইতিবাচক মনোভাব”

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আস্থা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন। আজ, ২ নভেম্বর, তিনি রাজধানী ঢাকার মতিঝিল এলাকার নিজ কার্যালয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সদস্যরা ড. কামালকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, “সংবিধানকে সমসাময়িক করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।” তিনি সংবিধানকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকের সময় ড. কামাল ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের কথা স্মরণ করেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এদিকে, কমিশনের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ড. কামাল হোসেন উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ বৈঠক সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি ইতিবাচক ধারা সৃষ্টি করবে এবং জনগণের স্বার্থে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।