রাঙ্গাবালীতে বিএনপি নেতার অভিযোগ: হাসিনা খুন-গুম করে পালিয়েছেন

শেখ হাসিনা মানুষ খুন, গুম ও টাকা চুরির সাথে জড়িত থাকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। জনসভাটির আয়োজন করে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

এবিএম মোশাররফ বলেন, “স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা হারানোর পরও দেশ ছেড়ে পালায়নি, অথচ শেখ হাসিনা ভারতে গিয়ে মোদীর আতিথ্য গ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা মামলার ভয়ে লুকিয়ে আছেন। আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কেমন নেতার দল করেছেন?” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর ২ শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যেগুলো বিএনপি করেনি; বরং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মামলা করেছে।”

মোশাররফ আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, তার জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন—আমরা আওয়ামী লীগের মতো সহিংসতার রাজনীতি করবো না।”

তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “তোফায়েল বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে একদিনে অন্তত ৫ লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিহত হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। কারণ, বিএনপি গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, সদস্য মোস্তাক আহমেদ পিনু, জাফরুজ্জামান খোকন, এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক হারুন হাওলাদারও বক্তব্য দেন।

ছয়টি ইউনিয়ন থেকে আসা অন্তত ২০ হাজার বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক এই জনসভায় অংশ নেন।

প্রতিবেদন: মো. আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ড. ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর মানবজমিনের
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে এই অভিযোগ করা হয়।
লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়াও ৬২ অভিযুক্তের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম ও আবু বকর মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র প্রমাণস্বরূপ যুক্ত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুজ্জাম চৌধুরী বলেন, আমার মনে হয় আমিই প্রথম (অভিযোগ) শুরু করলাম। প্রায় ১৫ হাজার ভিক্টিম আছেন যারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে সরকার পতনের পর লাপাত্তা হন সিলেটের তৎকালীন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। পরে জানা যায় তিনি লন্ডনে পালিয়ে গেছেন।

 

 




ইমামতি কোনো পেশা নয় এটি একটি মহান দায়িত্ব : হোসাইন সাঈদী

 চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইমামতি কোনো পেশা নয় বরং এটি একটি মহান দায়িত্ব মন্তব্য করে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ও জিয়ানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘ইমামের কাজের প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাসুল স: ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য এই বলে দোয়া করেছেন, ‘ইমাম হলেন জিম্মাদার আর মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার।’

এ সময় তিনি দেশের সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বেতন কাঠামো ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সিরাজুল হক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি আয়োজিত উপজেলা ইমাম সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

এ সময় সভা শেষে ২৫ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘আমরা যদি প্রতিটি মসজিদকে নবীজির দেখানো সেই মসজিদে নববীর রোল মডেল রূপে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর হবে। সমাজে জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মসজিদের ইমাম যেমন জাতির আমলগত সংস্কারের জিম্মাদার তেমনি আকিদাগত সংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করারও দায়িত্বশীল। বাতিল আকিদা ও মতবাদকে খণ্ডন করা এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার মূলোৎপাটন করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। যদি রাষ্ট্রে আল্লাহর একত্ববাদ পরিপন্থী কোনো আওয়াজ উঠে অথবা রাসুলের স: রিসালাতের অবমাননা করা হয় তাহলে বাতিল শক্তির এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করা ও প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করা ইমামদের কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় ইমাম সমিতি নাজিরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হাফেজ হাবিবুল্লাহ বেলালীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা আবু দাউদের সঞ্চালনায় উপজেলা ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অধ্যক্ষ মো: জহিরুল হক, জাতীয় ইমাম সমিতি পিরোজপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা মুফতি আব্দুল হালিম, জাতীয় ইমাম সমিতি পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় ইমাম সমিতি নাজিরপুর উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা কাজী মো: মোসলেহ উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




রাঙ্গাবালীতে বিএনপি সভাপতির আহ্বান, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে আলোচনার ঝড়

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজী সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। গত শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে ফরাজীকে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিএনপিতে আমন্ত্রণ জানাতে দেখা গেছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, শনিবার রাঙ্গাবালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ উপলক্ষে গত ৬ নভেম্বর বিকেলে রাঙ্গাবালী বাজার এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় আবদুর রহমান ফরাজী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “রাঙ্গাবালীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপি দলে স্বাগত জানানো হবে। আমি, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজী, আপনাদের পাশে আছি।” তার এই বক্তব্য ভিডিও আকারে ধারণ করে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

ফরাজীর আহ্বান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “এটি মূলত বিএনপির একটি রাজনৈতিক কৌশল। আমাদের দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের কোনো প্রশ্নই আসে না।” অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, ফরাজীর বক্তব্য আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে আবদুর রহমান ফরাজী বলেন, “আমি বিষয়টি ওভাবে বলিনি। আমি শুধুমাত্র নিরীহ ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। যারা সন্ত্রাসে লিপ্ত, তাদের কোনো ছাড় নেই। আমরা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী, তাই নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

রাঙ্গাবালী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। ফরাজী সাহেবের বক্তব্য আমাদের দলের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। আমরা আশা করি, আওয়ামী লীগের নির্যাতিত কর্মীরা বিএনপিতে যোগদান করে আমাদের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবেন।”

এই ভিডিও ভাইরালের পর রাঙ্গাবালীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্রতর হচ্ছে। ফরাজীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে আলোচনা হচ্ছে এবং দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, “আমরা এই ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত আছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। কোনো পক্ষ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করে, তবে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”

এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ফরাজীর এই আহ্বান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ, আবার কেউ কেউ ভাবছেন, ফরাজী হয়তো সত্যিই আওয়ামী লীগের নিরীহ কর্মীদের রক্ষা করতে চান।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাজনীতির মাঠে এমন আহ্বান নতুন কিছু নয়। তবে আগামী নির্বাচনের আগে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। আমরা আশা করি, দুই দলই সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিডিয়ার একাংশ অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ দেখতে পায় না”: মির্জা ফখরুলের মন্তব্য

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গত তিন মাসে অন্তর্বর্তী সরকার অনেক কাজ করেছে, তবে মিডিয়ার কিছু অংশ তা দেখতে পায় না।” শনিবার সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত বাংলাদেশ ইউথ পার্লামেন্ট-২০২৪-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই সংস্কারের অনেক উদ্যোগ নিয়েছে এবং কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে সবকিছু একসঙ্গে সম্ভব নয়। তরুণদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজের জন্য সময় দিতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “কিছু মিডিয়া নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে ফ্যাসিবাদীদের উত্থানকে উসকে দিচ্ছে। এটি কখনোই জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। যারা এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করছি, এই প্রচারণা বন্ধ করুন।”

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন; এই ঐক্যবদ্ধ সাফল্য যেন টিকে থাকে, সে জন্য কাজ করুন। সংস্কার ও নির্বাচনের জন্য আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

মাও সেতুং-এর একটি উক্তির উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “যুবকদের ঘাড়ের মধ্যে বৃদ্ধদের মাথাটা বসাও। অর্থাৎ, বয়স্কদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে গ্রহণ করো এবং যুবকদের শক্তি দিয়ে নতুন কিছু গড়ে তুলো।”




বরিশালে বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির সমাবেশ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশালে সমাবেশ ও র‍্যালির আয়োজন করেছে বিএনপি।

শনিবার ( ৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল মহানগর বিএনপির উদ্যোগে সদর রোডের বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ শেষে দলটির নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‍্যালি বের করে, যা শেষ হয় পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। এছাড়াও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনসহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সকালের দিকে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হয়। এসময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি সমাবেশের পরিবেশকে উদ্দীপ্ত করে তোলে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ নভেম্বর জিরো পয়েন্টে আসার ডাক আওয়ামী লীগের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশে অপশাসন চলছে অভিযোগ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ১০ নভেম্বর রাজধানীর জিরো পয়েন্টে আসার ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। শনিবার (৯ নভেম্বর) দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এ ডাক দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে লেখা হয়েছে, ১০ নভেম্বর আসুন – নূর হোসেন চত্তরে জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, ঢাকা। আমাদের প্রতিবাদ দেশের মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে, আমাদের প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রাকে ব্যহত করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে। অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে আপনিও অংশ নিন।

১০ নভেম্বর ‘শহীদ নূর হোসেন দিবস’। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হন নূর হোসেন। দিবসটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূটি পালন করে থাকেন।




মির্জাগঞ্জে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর ফরাজী বহিষ্কার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর ফরাজীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর ফরাজীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর ফরাজীর বাড়ি তল্লাশি করে। এ সময় বাড়ির দুটি ভিন্ন কক্ষে লুকিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক ৭ দশমিক ৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

পরে অস্ত্র আইনে মামলা করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মোতালেব ফরাজীর ছেলে জাহাঙ্গীর ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক চিঠির কারণে গলাচিপা-দশমিনার রাজনীতি উত্তপ্ত

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হাসান মামুন বলেছেন, হঠাৎ একটি চিঠির কারণে গলাচিপা-দশমিনার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ওই চিঠির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জোটের নেতারা বৈঠক করেছেন এবং তারা অভিযোগ করেছেন, তারা কোথাও জনসভা বা জনসংযোগ করতে পারছেন না। এর পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা একে অপরের ওপর হামলা করছে।

হাসান মামুন আরও বলেন, “গলাচিপা-দশমিনায় কখনো কোনো জোটের নেতা-কর্মী বিএনপির দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছে?” তিনি এসব মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, “যারা জাতীয়তাবাদী দলকে ছোট করতে চায়, তারা এবং যারা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গলাচিপা-দশমিনাকে দাঁড় করাতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকবেন, বিশেষ করে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত।”

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপায় অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বাইরে থেকে কাউকে এই আসনে মনোনয়ন দিলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা, জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ারা শাহজাহান এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শামীম চৌধুরী, সদস্যসচিব জাকারিয়া হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমীন হাওলাদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন, সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহন প্রমুখ।

এদিকে, গত ২২ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুরকে (ভিপি নুর) পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) এলাকায় সহযোগিতা করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ২৯ অক্টোবর নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংস্কারের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুল আলম বলেন, এই তিন মাসে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ সফলতার সাথে কাজ করেছে। এতে যথেষ্ট সফলতাও দেখিয়েছে। এখন সব ঠিক হচ্ছে। আগে সংস্কার হবে, সংস্কার শেষ হলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে আওয়ামী লীগ যে ভঙ্গুর অবস্থা রেখে গেছে, তার থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আগের চেয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেক ভালো।

ওষুধ উৎপাদন, বাজার বিপণন ও দাম নিয়ে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই টাস্কফোর্স এসব পুনর্মূল্যায়ন করবে বলেও জানিয়েছেন প্রেস সচিব।