জামায়াতের তিন শ’ প্রার্থীই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন শ’ আসনের প্রার্থীরাও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গতকাল রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ্‌ মিলনায়তনে এক দোয়া মাহফিলে গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন। ওসমান হাদির জন্য এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন প্রার্থীকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনা একটা প্যাকেজ প্রোগ্রাম। আরও সিরিয়াল হয়তো করা হয়েছে। ওসমান হাদির পর জুলাই যোদ্ধাদের কে কে টার্গেটে আছেন, তা নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন। তফসিলের পর একজন প্রার্থীর ওপর গুলি করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। ল’ এনফোর্সিং এজেন্সি এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে। প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার দুজনেরই এখানে দায় আছে। এ দায় তারা এড়াতে পারবেন না। গোলাম পরওয়ার বলেন, ইনক্লুসিভ ইলেকশন, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা বলে জাতির মধ্যে আবার ফ্যাসিস্টদের প্রবেশ করিয়ে এই জাতিসত্তাকে ধ্বংস করার সুযোগ দিতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

ওসমান হাদির জানাজায় তার খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসেনি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। ওসমান হাদিকে গুলির পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের কী ভূমিকা ছিল, সরকারপ্রধানের সে খোঁজ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারকে ওসমান হাদির খুনিদের খুঁজে বের করতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অসম্ভব নয়। খুনি বিদেশে চলে গেলে বিদেশি মিশন, অ্যাম্বাসি আছে, ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তিসহ অনেক কিছুই আছে। সবক’টি কাজে লাগাতে হবে। জাতিসংঘ ওসমান হাদির খুনের ঘটনা তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজনে তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নিতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সৎ জীবন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে। তার শাহাদাতের পরে মানুষের মধ্যে যে জোয়ার, জজবা ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে তা এক বিরল ঘটনা। তার নামাজে জানাজায় সরকার প্রধান, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আল্লাহ তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে তাকে দুনিয়ায় অতি উঁচু মর্যাদা দিয়েছেন এবং আমরা আশাকরি আখিরাতেও আল্লাহ তাকে অতি উঁচু মর্যাদা দান করবেন।




আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিন বাহিনী প্রধানের সাথে ইসির বৈঠক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন ।

ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা তিন বাহিনী প্রধান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে আলাদাভাবে মিটিং করেছি। পরবর্তীতে বাকি সব বাহিনী প্রধানসহ সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উপপ্রধানরাসহ মিটিং করা হবে । এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পরিপত্র জারি হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে এই  বৈঠকে।

তিনি জানান, তফসিল থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন, দিকনির্দেশনা এবং অপরাপর আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। -বর্বরোচিত এক হামলায় জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সাত-আট দিন আমরা পুরা জাতি শোকে মুহ্যমান ছিলাম এবং আমাদের ফোকাসটা ওদিকেই ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান আছে এবং অন্যান্য জায়গায় নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত  করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না। এবং বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ ধরনের কোনো কর্মকান্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন। ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন ধরনের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে ইসির। শিগগির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুকু তথ্য জানা দরকার ছিল বা সেটা কেন পারা গেল না তাও জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- যৌথ বাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের প্রার্থীদের মাঝে, দলগুলোর মাঝে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। এলাকাভিত্তিক চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে বলে জানা যায় সেসব এলাকায়। রিমোট এলাকায় অধিকতর খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশি নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে ইসিকে। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়ন দিচ্ছেন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছি। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটা প্রোটোকল দাঁড় করানো হয়েছে এবং সেই প্রোটোকল অনুযায়ী যারা যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও যদি কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন তারা পুলিশের কাছে এপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, পোস্টাল ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে পোস্টাল ভোটে যারা ভোট দিতে পারবেন তারা যেন সময় মতো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।

তফসিল ঘোষণার পর গণমাধ্যমে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, এ প্রশ্নগুলো আমরাও জানতে চেয়েছি বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে। এগুলো নিয়ে আমরাও কনসার্ন। আপনারা যেসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আমরাও একইভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এটার সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। তফসিল ঘোষণার পর যাই হোক না কেন, সেটার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব নির্বাচনের পরিবেশের ওপর পড়ে। আপনারা আমাদের অংশীজন ও পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগস্টের পর মানবিক পুলিশিংয়ের নির্দেশনার সুযোগ কেউ কেউ অপব্যবহার করেছে। আমরা ইসির পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে বলেছি, আমরা মানবিক হব, যারা মানবিক আচরণ করবে তাদের প্রতি; কিন্তু যারা দস্যুতা করতে চায়, ভ্যানডালিজম করতে চায়, নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়- তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বরিশালের ৬ টি আসনেই তীব্র লড়াইয়ের আভাস

গণতন্ত্রের ধারায় উত্তরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়নের পর থেকেই বরিশালের ৬টি আসনে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মনোনয়ন পেয়েই বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রাথীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে শক্ত দল বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে কৌশলে এগুচ্ছেন অন্যান্য দল। মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, জামায়াত ও চরমোনাই পীরের সহোদর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

চরমোনাই দরবার শরীফ বরিশাল সদর উপজেলাধীন হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর বেশ কর্মী-সমর্থক রয়েছে। এছাড়াও বিগত ইউপি, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এ দলটি। বিশেষ করে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিতে জয় পেতে সব দলের শীর্ষ নেতারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বরিশাল-৫ (সদর-সিটি করপোরেশন) এ আসনে নানান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৫ম বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০ বছর বরিশাল বিএনপির রাজত্বে ছিলো মজিবর রহমান সরোয়ার। দীর্ঘ এ সময়ে সরোয়ার বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি, মহানগর সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও উপ-নির্বাচনসহ ৪ বার সংসদ সদস্য হয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিগত কয়েক বছর রাজনীতির মাঠে তিনি কিছুটা কোনঠাসা থাকলেও মনোনয়ন পাওয়ার পর সকলেই একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির তিন গ্রুপ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ পদ বঞ্চিতরাও সরোয়ারকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় সরব রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ধানের শীষ প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বাসসকে বলেন, এ আসনে মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করেছি। জনগণ তাই ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মুখ। ধানের শীষের সদর উপজেলা ও নগরীতে ভোট বেশি। সদর উপজেলায় চরমোনাই পীরের বাড়ি হলেও সব সময় ধানের শীষ বেশি ভোট পেয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বাসসকে বলেন, দেশবাসী পরিবর্তন চায়। ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। এছাড়াও বাসদ নেত্রী বরিশালের সকল পর্যায়ের শ্রমজীবি মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেয়া ডা. মনিষা চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন সদর আসনে। মনিষা চক্রবর্তীও ইতিপূর্বে সিটি, জাতীয় নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে বরিশালে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন।

বরিশাল সদর ও সিটি কপোরেশনের এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭ জন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এ আসনে চতুর্থবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়পারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছাসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জহির উদ্দিন স্বপন বাসসকে বলেন, গৌরনদী ও আগৈলঝড়া উপজেলায় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার হয়ে কাজ করছেন। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু মান-অভিমানের ব্যাপার থাকলেও আমি যেহেতু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী, ফলে আমার সব সহকর্মী মিলেই কথাবার্তা বলে সমাধান করে ফেলেছি।

এ আসনটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মো. রাসেল সরদার মেহেদীকে। এ আসনের রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যানার, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোক মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাদের সমর্থকরা জনগণের দৃষ্টি আর্কষনে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৩ হাজার ৮১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৯ জন।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। এ আসনে সান্টু ইতিপূর্বে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থী তালুকদার মো. ইউনুসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন মাস্টার আবদুল মান্নান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। বাসদ নেতা এ্যাড. তরিকুল ইসলাম তারেক এ ৪ জনই এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবারে দলীয় প্রার্থী ঘোষাণা করলেও দ্বিতীয়বার তাকেই মনোনয়ন দেয় দল। ইতমধ্যে উচ্ছাসিত নেতাকর্মীরা তার পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যাডভোটেক জয়নুল আবেদীন বাসসকে বলেন, নির্বাচনী এ আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত। সকল ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের সাথে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা কাজ করবে।

তিনি বলেন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা এরই মধ্যে গণসংযোগ জোরদার করেছেন। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ফুয়াদের নিজ বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলাধীন হওয়ায় তিনি বাবুগঞ্জ-মুলাদীতে ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকান্ডে সরব রয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই দলটির বরিশাল মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরকে প্রার্থী ঘোষণা করে। জহির উদ্দিন দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলার সভাপতির পদে রয়েছেন।

বাবুগঞ্জ-মুলাদীর এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুয় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন ও নারী ভোটার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৩২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রাজীব মনোনয়ন পাওয়ায় বরিশাল জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জে হওয়ায় তাদের নেতৃত্বে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব চরমোনাই পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৮২ জন। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ আসনে তৃতীয় বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হোসেন খান। এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থী হয়েছেন।

এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৮ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার জন।

আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন।

বরিশালের ৬টি আসনে এনসিপির মনোনয়ন চান ১১ জন: জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনের দুটিতে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও শাপলা কলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এনসিপির মনোনয়ন কিনেছেন ১১ জন।

বরিশাল-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম নিপু। তবে বরিশাল-২ আসনে এখনো চূরান্ত না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপির ঢাকা পল্টন শাখার সদস্য অ্যাড. আলী আকবর তালুকদার ও একই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সংগঠনের বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

এছাড়া বরিশাল-৩ আসনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোক্তার হোসেন, শিক্ষক তানজিল আলম দলটির মনোনয়ন চূরান্ত করেছেন। আর বরিশাল-৪ আসনে এনসিপির বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা চূরান্ত মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া বরিশাল-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নরুল হুদা চৌধুরী দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। বরিশাল-৬ আসনে একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম প্রিন্স মনোনয়ন পেয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বিএনপির মনোনয়নে চমক আসছে যেসব আসনে, সুখবরের অপেক্ষায় একাধিক নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের প্রার্থী তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটির তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মশালায় যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে যাদের ডাকা হয়নি, সেই সব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকা বিএনপির হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। ফলে কয়েকটি আসনে নতুন মুখ বা পরিবর্তিত প্রার্থীর আগমনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।

বিশেষ করে ঝালকাঠি-২, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৬ ও যশোর-৬ আসনে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ঝালকাঠি-২ আসনের ঘোষিত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু এবং চট্টগ্রাম-৬ আসনের গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ কয়েকজনকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আবার চট্টগ্রাম-৪ আসনে পূর্বঘোষিত প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে কর্মশালায় ডাকা হয়, যা রদবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে এখনো ফাঁকা থাকা ২৮টি আসনের মধ্যেও সুখবর পাচ্ছেন কয়েকজন নেতা। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে কর্মশালায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে এই দুই আসনে ধানের শীষে নির্বাচন করবেন তারা—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। বাকি ফাঁকা আসনের কিছু মিত্রদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে শিগগিরই।

বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনেও বিএনপি তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বাগেরহাট-১ আসনে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট-৪ আসনে সোমনাথ দে—এই চারজনই গুলশানে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। এতে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, যাদের ডাকা হয়নি, তা ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। এতে বোঝা যায়—যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তারাই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি শরিক দলগুলোর জন্য ছাড় দেওয়া আসন নিয়েও দ্রুত সমাধান আসবে।

উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রথম দফায় ২৩৬টি আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। মোট ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

কর্মশালাগুলোতে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রার্থীদের নির্বাচনী কৌশল, ভোটার ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, ডিজিটাল প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, এসব কর্মশালার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটারদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা এবং কেন্দ্রভিত্তিক শক্ত অবস্থান তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাতিয়ায় নির্বাচনী হুমকি: প্রধান অভিযুক্ত অমি আটক

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি হত্যার হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক অমি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে, এবং এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ কর্তৃক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Israt Raihan Ome’ ও ‘Rupak Nandi’ নামের আইডি থেকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তাগুলোতে অমি নির্বাচনী মাঠে বাধা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয় প্রশাসন। জিডিতে অমির পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের হুমকির সমর্থন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক অমি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও ঘটনা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে মেসেঞ্জার স্ক্রিনশট, জিডি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মামলার তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান হাতিয়া থানার কর্মকর্তা-ইন-চার্জ মো. সাইফুল আলম।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন হুমকি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন—নির্বাচনী মাঠে ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কেউ যদি গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসনের উচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে—এ ধরনের অপতৎপরতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ করা যাবে না।
এ ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়রা চান—ভোটের মাঠ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকুক এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাস বা হুমকি ছাড়া শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ধ্বংসাত্ক কোনো কিছু করে হাদি ভাইকে ধারণ করা যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ  লেখেন,“কোনো কিছু ধ্বংস করে হাদি ভাইকে ধারণ করা যাবে না” হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে, একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক (কালচারাল) ইস্ট্যাব্লিশমেন্ট গড়ে তুলে, আজাদির প্রশ্নে আপসহীন থেকে এবং জনতার প্রশ্নে সৎ ও স্বচ্ছ থাকার মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পথ ধ্বংসের নয়, পুনর্গঠনের। সবাই শান্ত থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

 




ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন তারেক রহমান

লন্ডনে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানকালীন আইনগত কাগজপত্র সম্পূর্ণ করতে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষও তার দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করছেন, ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় পরিমণ্ডলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনা। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জাতীয় রাজনীতি ও আগামী দিনের আন্দোলন—সবকিছুর সঙ্গে তার ফেরা সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র বলছে, ট্রাভেল পাসের ফরম পূরণ ও দাখিলের বিষয়টি তারেক রহমান নিজে সম্পন্ন করলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দলীয় এক প্রতিনিধির মাধ্যমে তা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলেও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কারণ, ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন মানেই দেশে ফেরার একটি আনুষ্ঠানিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন যে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একই তারিখ নিশ্চিত করেছেন। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশে ফেরার দিন-ক্ষণ ঘিরে শুরু হয়েছে তৎপরতা—রাজনৈতিক উত্তাপ, আইনগত প্রস্তুতি ও গণমাধ্যমের জোরালো আলোচনা।

বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, জাতীয় বিমান সংস্থার একটি নির্ধারিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরবেন, এবং ঢাকায় অবতরণ করার সম্ভাব্য সময় দুপুরের কাছাকাছি। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত সফরসূচিতে রয়েছে লন্ডন থেকে সিলেট, তারপর ঢাকায় পৌঁছানো। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত—এটিও আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিশেষত আগামী দিনের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দল পুনর্গঠন, নেতৃত্ব শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার মতো বিষয়গুলোতে এ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য—তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তন নয়; এটি তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত আন্দোলন-সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে দলটি মনে করছে। একই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হবে নতুন সমীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশ্র অবস্থা। সব মিলিয়ে, তারেকের ট্রাভেল পাস আবেদন ও ফেরা—জাতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিতে পারে—এমনটাই বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ভারতের পরামর্শ প্রত্যাশা নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিবেশী ভারতের সদ্য প্রদত্ত মন্তব্য নিয়ে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণ এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের। অন্য কোনো রাষ্ট্রের নির্দেশনা বা পরামর্শ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই এবং এই ধরনের মন্তব্য বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।

বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা মর্যাদার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিগত পনেরো বছরে যে নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তার সময় ভারতের নীরবতা ছিল স্পষ্ট। অথচ এখন নির্বাচন সংস্কারের পথে হাঁটতেই পরামর্শ প্রদানকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক চর্চা সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পর্কে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সচেতন। নির্বাচনের ফল জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে—এটাই সরকারের অঙ্গীকার। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক তলব ও পাল্টা তলবকে তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। সার্বভৌমত্ব বিষয়ক মতপার্থক্য থাকলে কূটনৈতিকভাবে প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি ব্যাখ্যা করেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করে সম্প্রতি সামাজিক ও প্রচলিত গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলোকে উসকানিমূলক বলে দাবি করেন তিনি এবং সেসব বক্তব্য বন্ধে বাংলাদেশ যে অনুরোধ জানাতে পারে, সেটি আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির বিরোধী নয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে হলে উভয়কেই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সহযোগিতাপূর্ণ পর্যায়ে ধরে রাখার দিকে ঢাকা অঙ্গীকারবদ্ধ।

এদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা বিষয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, আজকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং ভিয়েনা কনভেনশনের শর্ত পূরণে সক্ষম—এটিও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আগরতলা ও কলকাতায় বাংলাদেশের মিশনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে এবং আগরতলায় হামলাও হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে গণতান্ত্রিক উত্তরণে গোলটেবিল বৈঠক

টুয়াখালীতে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তিশালী উত্তরণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরের ওই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁ ও পার্টি সেন্টারে, যেখানে রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’—এই মূল প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আলোচনার পুরো সময়জুড়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার নানামুখী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত। বক্তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষ্ঠু নির্বাচন আজকের সময়ের সবচেয়ে জরুরি চাহিদা। মানুষের অংশগ্রহণমূলক ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সক্রিয় ও সচেতন নাগরিক সমাজ। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন—গণতান্ত্রিক চর্চা কেবল ক্ষমতার বদল নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনমতের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভোটের পরিবেশ ও সাংবিধানিক দায়িত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গগুলো উঠে আসে। বক্তারা মনে করেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ক্ষমতার মালিকানা পুনরুদ্ধার করে। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে জনগণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

এসময় আলোচনা হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, নাগরিক নেতৃত্ব বিকাশ, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা নিয়ে। পটুয়াখালীর শিক্ষাবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংবাদকর্মীরা বলেন—গণতন্ত্রকে টেকসই রাখতে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, নাগরিক সমাজকেও সামনে আসতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করাই আজকের বড় চ্যালেঞ্জ।

অংশগ্রহণকারীরা আরও জানান, গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে নয়—বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই অর্জিত হতে পারে। তারা বলেন, জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে সম্মিলিত উদ্যোগে ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন, নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি সক্রিয় সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন তারা।

বৈঠক শেষে আয়োজকরা বলেন—এই আলোচনা নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে। অংশগ্রহণকারীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং গণতান্ত্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা, এয়ারপোর্টে ভিড় না করার আহ্বান

লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লন্ডনে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাকে বিদায় জানাতে কেউ এয়ারপোর্টে যাওয়া উচিত নয়

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সঙ্গে আমি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছি। আজ যুক্তরাজ্যে যারা আছেন, বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের প্রতি আমার অনুরোধ—২৫ তারিখে আমি দেশে চলে যাচ্ছি, দয়া করে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, এয়ারপোর্টে ভিড় হলে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। “যারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, আমি ধরে নেব তারা দল ও দেশের সম্মানের প্রতি মর্যাদা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নিজের জন্য নেতাকর্মীদের দোয়া কামনা করেন। দেশে ফেরার ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম