চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথমবারের মতো তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন ।
ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা তিন বাহিনী প্রধান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে আলাদাভাবে মিটিং করেছি। পরবর্তীতে বাকি সব বাহিনী প্রধানসহ সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উপপ্রধানরাসহ মিটিং করা হবে । এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পরিপত্র জারি হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে এই বৈঠকে।
তিনি জানান, তফসিল থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন, দিকনির্দেশনা এবং অপরাপর আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। -বর্বরোচিত এক হামলায় জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সাত-আট দিন আমরা পুরা জাতি শোকে মুহ্যমান ছিলাম এবং আমাদের ফোকাসটা ওদিকেই ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান আছে এবং অন্যান্য জায়গায় নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না। এবং বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ ধরনের কোনো কর্মকান্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন। ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন ধরনের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে ইসির। শিগগির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুকু তথ্য জানা দরকার ছিল বা সেটা কেন পারা গেল না তাও জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- যৌথ বাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের প্রার্থীদের মাঝে, দলগুলোর মাঝে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। এলাকাভিত্তিক চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে বলে জানা যায় সেসব এলাকায়। রিমোট এলাকায় অধিকতর খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।
সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশি নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে ইসিকে। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়ন দিচ্ছেন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছি। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটা প্রোটোকল দাঁড় করানো হয়েছে এবং সেই প্রোটোকল অনুযায়ী যারা যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও যদি কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন তারা পুলিশের কাছে এপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, পোস্টাল ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে পোস্টাল ভোটে যারা ভোট দিতে পারবেন তারা যেন সময় মতো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।
তফসিল ঘোষণার পর গণমাধ্যমে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, এ প্রশ্নগুলো আমরাও জানতে চেয়েছি বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে। এগুলো নিয়ে আমরাও কনসার্ন। আপনারা যেসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আমরাও একইভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এটার সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। তফসিল ঘোষণার পর যাই হোক না কেন, সেটার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব নির্বাচনের পরিবেশের ওপর পড়ে। আপনারা আমাদের অংশীজন ও পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগস্টের পর মানবিক পুলিশিংয়ের নির্দেশনার সুযোগ কেউ কেউ অপব্যবহার করেছে। আমরা ইসির পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে বলেছি, আমরা মানবিক হব, যারা মানবিক আচরণ করবে তাদের প্রতি; কিন্তু যারা দস্যুতা করতে চায়, ভ্যানডালিজম করতে চায়, নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়- তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।