২৪-এর অভ্যুত্থানে শহীদরা দেশের সম্পদ: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা কোনো দলের সম্পদ নন, তারা পুরো দেশের সম্পদ। তিনি আরও বলেন, ২৪-এর এই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া সকল পরিবার তাদের কাছে ঋণী।

রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল সফরের অংশ হিসেবে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মহানগর জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

পথসভায় শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী থাকার কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেড় বছর আগে চিন্তাও করিনি যে বাংলাদেশের কোনো খোলা ময়দানে দাঁড়িয়ে দোয়া চাইতে পারব।”

তিনি আরো বলেন, “২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে গুম-খুন করা হয়েছে, সারা বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছিল। দফায় দফায় মানুষকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। হাজার হাজার আলেম-ওলামাকে কোমরে দড়ি বেঁধে টানা হয়েছিল।”

ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, “জামায়াতের সাড়ে পাঁচশত সাথীকে ২৪-এর অভ্যুত্থানের আগেই গুম করা হয়েছিল।”

পথসভায় জামায়াতের আমীর বলেন, “ন্যায় বিচার ঘরে আসবে না, লড়াই করে আনতে হবে। অধিকারের দরজা খুলেছে, বাকিটা লড়াই করে আনব। কোনো দুর্নীতিবাজদের দিয়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।”

তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতি, দখলদার, চাঁদাবাজ থাকবে না, অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাবে না। এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার দায়িত্ব আমরা মালিক নয়, সেবক হয়ে পালন করব।”

শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সারা বাংলাদেশকে একটি কারাগারে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বহু মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে। বহু মানুষকে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল শুধুমাত্র সত্যের পক্ষে থাকার জন্য। প্রবীণ ও বিজ্ঞ আলেমদেরও তারা জেলে দিতে দ্বিধা বোধ করেনি। তাদের পায়েও ডান্ডা বেড়ি পরিয়েছিল। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে তারা তিলে তিলে খুন করেছে। আমাদের সিপাহী সালার বহু নেতাকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে।”

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠি মহিলা দলের শারমিন আক্তার মুক্তা বহিষ্কার

ঝালকাঠি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন আক্তার মুক্তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চাঁদাবাজি, দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শারমিন আক্তার মুক্তাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে, তাঁর সঙ্গে মহিলা দলের কোনো নেতা-কর্মীকে যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শারমিন আক্তার মুক্তা বলেন, “আমাকে ষড়যন্ত্র করে দল থেকে সরানো হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে মহিলা দলে কাজ করছি। ২০২১ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই। দলের জন্য অনেক ত্যাগ করেছি। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছি। এমনকি আমার পেটের সন্তানও হারিয়েছি। তবুও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তবে জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী মতিয়া মহফুজ জুয়েল বলেন, “সেন্ট্রাল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মহিলা দলের কোনো প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেননি। তবে কেন তাঁকে বহিষ্কার করা হলো, তা সেন্ট্রাল কমিটিই ভালো জানে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা : তারেক রহমান-বাবরসহ সব আসামি খালাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে রোববার (১ ডিসেম্বর) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে চার দিন আপিলের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল।

জজ আদালত এ মামলায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিল।

রায়ে আদালত বলেছেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার ছিল অবৈধ। আইনে এটা টেকে না। রায়ে বলা হয়েছে, যে চার্জশিটের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত বিচার করেছিলেন তা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না।

এর আড়ে বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা শুরু হয়। ১১টা ৪৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ হয়। রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।

আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তারা এই মামলা শুরু থেকে আসামিপক্ষে শুনানি করেছেন। আদালতে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন খোকন, ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে চার দিন আপিলের ওপর শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

পরে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার বিচারিক আদালতের রায় প্রয়োজনীয় নথিসহ হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় এসে পৌঁছায়।




নতুন বাংলাদেশের পথে নুরুল হক নুরের প্রতিশ্রুতি: “কোনো বিভাজন হবে না”

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, নতুন বাংলাদেশের কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন জনপ্রতিনিধিরা। তিনি আরও বলেন, তারা শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করবেন এবং দলের সঙ্গে থাকা কেউ যেন কোনো মানুষের ক্ষতি না করে।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, “মানুষ প্রত্যাশা করে তাদের পাশে যেন থাকি, নেতাকর্মীদের সময় দিচ্ছি। কোনো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হবে না।” তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণ অধিকার পরিষদকে সম্মান জানানো হয়েছে। স্থানীয় মানুষের সমর্থন ছাড়া অন্য নেতাদের সমর্থন গ্রহণের সমালোচনা করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলার আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম ফাহিম, বরিশাল মহানগর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আবু নাঈমসহ গণ অধিকার পরিষদ ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণফোরামের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

৩০ নভেম্বর, রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ’ গণফোরামের সপ্তম জাতীয় সম্মেলনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে ড. কামাল হোসেনকে ইমেরিটাস সভাপতি, মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে সভাপতি এবং ডা. মো. মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সভাপতি পরিষদ সদস্য হিসেবে অ্যাডভোকেট এসএম আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আবদুল কাদের, মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোশতাক আহমেদ, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম, হারুনুর রশিদ তালুকদার, রতন ব্যানার্জী, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, আবুল হাসনাত, অ্যাডভোকেট নিলেন্দু দেব, গোলাম হোসেন আবাব, অ্যাডভোকেট কাজী মেজবাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী বাদল। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শাহ নূরুজ্জামান।

সম্পাদক পরিষদের সদস্য হিসেবে আছেন আয়ুব খান ফারুক, অধ্যক্ষ মো. ইয়াছিন, লতিফুল বারী হামিম, রফিকুল ইসলাম পথিক, মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, অ্যাডভোকেট একেএম রায়হান উদ্দিন, আলীনূর খান বাবুল, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম সজল, মো. নাজমুল ইসলাম সাগর, মামুনূর রশিদ মামুন, মির্জা হাসান, মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, আব্দুল হামিদ মিয়া, অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলী, অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন তালুকদার, তাজুল ইসলাম, রনজিদ সিকদার, আজিজুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, অ্যাডভোকেট সানজিদ রহমান শুভ, আজাদ হোসেন, প্রভাষক বকুল ইমাম, মোমেনা আহমেদ মুমু, খনিয়া খানম ববি, আশরাফুল ইসলাম, তৌফিকুল ইসলাম পলাশ, মো. আলী লাল, অ্যাডভোকেট সাইফুলইসলাম, মজিবুর রহমান শিবলু, মাহফুজুর রহমান মাসুম, এবং ফারুক হোসেন।

নতুন এই কমিটি দলটির আগামী কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের হাতে প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ

পটুয়াখালীতে ফেসবুক লাইভে এসে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) ভোরবেলায় পটুয়াখালী সদর রোডস্থ জোনাকি হোটেলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি সদর রোড হয়ে লঞ্চঘাট চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব চত্বরে এসে অবস্থান নেয়। মিছিল শেষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ফেসবুকে ‘দেশে চলমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে প্রতিবাদ মিছিল’ শিরোনামে ভিডিও প্রচার করে। ভিডিওটি পটুয়াখালীতে দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিছিলকারীরা ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘ষড়যন্ত্রে দেশটা শেষ-কোথায় আমার বাংলাদেশ’, ‘শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে’, ‘পটুয়াখালীর মাটি-শেখ হাসিনার ঘাটি’, ‘৭১ এর হাতিয়ার-গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘তুমি কে আমি কে-বাঙালি বাঙালি’, ‘অবৈধ সরকার-মানি না মানবো না’, ‘ইউনুস শুড রিজাইন’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আদনান হাবিব খান ও পটুয়াখালী পৌর ছাত্রলীগ নেতা মো. আমিনুর রহমান সিফাত খান। এ মিছিলটি ছিল পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের প্রথম মিছিল, যা ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে, ফেসবুক লাইভে এসে শেখ রাসেলের জন্মদিনে দুস্থ ও গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করার পর পৌর ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান সিফাত খান ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শামীম চৌধুরী বলেন, “ছাত্রলীগ নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা সন্ত্রাসী এবং সিফাত খান বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে থাকা উচিত। কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনায় আমি আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও ছাত্রদলের প্রতিবাদ

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ পটুয়াখালীতে ঝটিকা মিছিল করেছে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে শহরের থানাপাড়া এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আদনান হাবিব খান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আমিনুর রহমান সিফাত খান।

মিছিলটি সদর রোড হয়ে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মিছিলকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের পদত্যাগের দাবিতে তার ছবি ও ব্যানার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, “মিছিলের খবর পেয়েছি। মিছিলকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের প্রতিবাদ

ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল-আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই মিছিলটি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সদর থানার সামনে অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভে ছাত্রদলের নেতারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানি গাজী ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি ছাত্রদল নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ছাত্রলীগের মিছিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আপনাদের সহায়তা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ব্যাংকার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার কলাপাড়া আদালতে ভুক্তভোগী মো.জুয়েল মৃধা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার নং ১৫৫৭/২০২৪।

এ মামলায় আসামি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান মহিব, টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু, ব্যাংকার তরিকুল ইসলাম হিরন, সাবেক এপিএস তরিকুল ইসলাম, ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ তালুকদার, ধুলাস্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. নুরুদ্দিন, মো. মোস্তাক হাং, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক তালুকদার, লালুয়া ইউপি সদস্য মো. লিটন সাউগার, মো. কামাল তালুকদার, বাদল মিয়া, মো. জাকির মৃধা সহ ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, লালুয়া ও ধানখালী এলাকার পায়রা বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিগ্রহণকৃত জমি ও ঘর মালিকদের জিম্মি করে ২০% হারে চাঁদা দাবি করা হয়। এ টাকা উত্তোলন করার জন্য বাদী ও স্বাক্ষীদের চাপ দেয়া হয় এবং রাজি না হলে খুন-জখমের হুমকি দেয়া হয়। বাদীকে আটক করে অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয় এবং তাদের ঘরের বরাদ্দকৃত ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে চান্দুপাড়া মৌজার ৪২৭/৪২৮ খতিয়ানে বাদীর ১২ একর ভূমির অধিগ্রহণের ৬ কোটি টাকা এলএ অফিস থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কৃষক লীগ নেতা আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক লীগ নেতা আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী, দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসনে-হেনা নামের এক মহিলা, জানিয়েছেন যে, আবু জাফর তাকে নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত নলকূপ না দেওয়ায় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

প্রায় ৪ মাস আগে কৃষক লীগ নেতা আবু জাফর ওই মহিলাকে নলকূপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু এ পর্যন্ত কিছুই প্রদান করেননি। টাকা ফেরত চাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগী মহিলা হাসনে-হেনা বলেন, “নলকূপ তো দিলেনই না, বরং আমার ৪০ হাজার টাকা ফেরতও দিচ্ছে না। টাকা চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখান।”

অভিযুক্ত কৃষক লীগ নেতা আবু জাফর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এটা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আমি কারও কাছে টাকা নিয়ে নলকূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

Tags: পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ, কৃষক লীগ, আবু জাফর, প্রতারণা, নলকূপ, অভিযোগ, কৃষক লীগ নেতা, প্রতিকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হাসনে-হেনা

 




ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ আটক, মামলা অজ্ঞাত

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]

ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউনুছকে পল্টন থানা পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মো. ইউনুছের নামে ভোলায় কোনো মামলা ছিল না। তবে ঢাকায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে চিহ্নিত নয়, অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আটক করে দেখানো হয়েছে।

ইউনুছের ভাইয়ের ছেলে মো. মনির জানান, তার চাচা স্থানীয়ভাবে তিনবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল। এছাড়া, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা হলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জেলা প্রশাসকের উন্নয়ন সভায় ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেন মো. ইউনুছ।

এ বছরের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেড় মাস ভোলায় ছিলেন। চিকিৎসাজনিত কারণে এক মাস ধরে তিনি ঢাকায় তার মেয়ের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে পল্টন থানা পুলিশ এবং ভোলা থানার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম