সীমান্তে অস্থিতিশলীতাই প্রমান করে ভারত কোন দিনই আমাদের বন্ধু ছিলো না : পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তে যে অশান্তি, নির্যাতন ও হত্যার চিত্র দেখা যায়, তা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে ভারত কখনোই আমাদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলেও, সীমান্তে সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বরিশাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নগর সম্মেলন’২৫ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর সভাপতি প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই।

তিনি বলেন, বন্ধুত্বের নাম দিয়ে শাসকগোষ্ঠী দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিলেও সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। এর বিপরীতে আমাদের কৃষি, বাণিজ্য, এবং নদীর পানি ব্যবহারসহ নানা ক্ষেত্রে ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে।বাংলাদেশের জনগণ এ অন্যায় কখনো মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৪৭-এ রক্ত দিলেও পেয়েছে পাকিস্তানি শোষণ, ১৯৭১-এ রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আনলেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ও ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে জনগণ বারবার রক্ত ঝরিয়ে অধিকার চেয়েছে, কিন্তু শাসকেরা লুটেরা ও ফ্যাসিস্টের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। এ জাতি আর শোষণ নয়, ন্যায়ের বাংলাদেশ চায়।

চরমোনাই শায়েখ মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদকে পরোয়া করে না। ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা হবে, কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ দিল্লির কূটকৌশলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যদি আবারও কেউ ভারতের মদদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে, জাতি তাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।

তিনি বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থান হাজারো ছাত্র-জনতার ত্যাগের ফল। বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথের দল হিসেবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—দেশের স্বার্থে আপসকারী যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দেব ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বরিশাল মহানগর, সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহাবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাসির আহমেদ কাওসার, মাওলানা মুহাম্মাদ জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান, প্রিন্সিপাল মোঃ ওমর ফারুক সভাপতি জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বরিশাল মহানগর, অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসির, সভাপতি ইসলামী আইনজীবী পরিষদ বরিশাল মহানগর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গোমস্তা, সভাপতি, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বরিশাল মহানগর, মুফতি মুহিবুল্লাহ কাজেমী, সভাপতি, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর, সভাপতি মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর, গাজী মুহাম্মাদ রেদোয়ান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর। এ ছাড়াও নগর, থানা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়- সভাপতি, প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম, সহ-সভাপতি, মাওলানা নাছির আহমাদ কাওছারসহ-সভাপতি,মাওলানা জাকারিয়া হামিদী সেক্রেটারী,মাওলানা আবুল খায়ের।




‘অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে’: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো সফলতা নেই। তিনি আরও বলেন, নতুন করে শতাধিক পণ্যে ভ্যাট বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে, যা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে।

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের এসব কার্যক্রম দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, নতুন পাঠ্যবইয়ে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি বইয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভুল তথ্য তুলে ধরেছে, যেখানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও পাঠ্যবইয়ে আওয়ামী লীগকে হিরো আর বিএনপিকে হেয় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “এটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

নতুন পাঠ্যবইয়ে আওয়ামী লীগের বন্দনা এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যে ধরনের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে, তা দ্রুত সংশোধন করার দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, “এটি আওয়ামী দোসরদের একটি নীলনকশা, যা বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি বিশেষায়িত ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলে বিএনপি ঘরানার নেতারা জানিয়েছেন।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের মেরিলিবন রোডে অবস্থিত ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিক’-এ ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি প্রখ্যাত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. প্যাট্রিক কেনেডির অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ১৫ বার চিকিৎসা নেওয়ার পর মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাডভান্স সেন্টারে তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে কাতার হয়ে বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে তাঁকে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তাঁর সেবায় নিয়োজিত আছেন। জানা গেছে, বেগম জিয়া পুত্রবধূর নিজ হাতে তৈরি নাস্তা ও খাবার গ্রহণ করছেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলানো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি মেলে। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতারা তাঁর সুস্থতার জন্য নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছেন। তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

বরিশাল নগরীর গোরস্থান রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার সাচিব রাজিব (৪৭)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে রাজিব আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

রাজিবের বোন শাহীনা আজমিন জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে পুরোনো বিরোধ ছিল। এ কারণেই সেই ব্যক্তি এবং একজন অজ্ঞাত সঙ্গী রাজিবের ওপর হামলা চালিয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, রাজিবের হাতে, পায়ে এবং বুকে প্রায় ১২টি আঘাত রয়েছে। অবস্থার গুরুতর অবনতির কারণে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুই দুর্বৃত্ত ধারালো দা হাতে নিয়ে রাজিবকে ধাওয়া করে। এরপর তাকে কুপিয়ে আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে, এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

এই নৃশংস হামলার ঘটনা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চাই: ডা. মিতু

জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেছেন, “নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চাই। আমাদেরকে এটা দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের ম্যানডেট জনগণের হাতে, তারা জানাবেন কারা সংবিধান তৈরি করবেন। আমরা সংস্কার, গণপরিষদ নির্বাচন, তারপর নির্বাচন হবে, এই আমাদের দাবি।”

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল নগরের সদর রোডে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের লিফলেট বিতরণের সময় এসব কথা বলেন ডা. মিতু।

ডা. মিতু বলেন, “গত ১৬ বছরে আমরা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। গুম, খুন, অন্যায়-অবিচারের একটি প্রথা গত ১৬ বছর ধরে চলে আসছিল। সেই ১৬ বছরের অবসান ঘটিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সব ধরনের মানুষ। এই আন্দোলনে ২ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে, প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ এখনও চিকিৎসাধীন। তাদের অনেকেরই হাত নেই, পা নেই এখনও হাসপাতালে বেডে কাতরাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই মানুষগুলোর একটি স্বীকৃতি প্রয়োজন এবং যারা রাজপথে ছিলাম, আমরাও মনে করি আমাদের একটা স্বীকৃতি দরকার। আমরা মনে করি, আমাদের এই স্বীকৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বৈধতা ঘোষণা করবেন।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের সংবিধান আমরা মানি না। ফ্যাসিস্ট তৈরির যে সংবিধান রয়েছে, সেটিকে আমরা অবৈধ ঘোষণা করতে চাই এবং সেটিকে বাদ দিয়ে গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে সংবিধান ঘোষণা আমাদের দাবি।”

ডা. মিতু আরও বলেন, “সরকার আমাদের সঙ্গে সম্মত হয়েছে জুলাইয়ের প্রেরণা অনুযায়ী প্রোক্লেমেশন তথা ঘোষণাপত্র দিয়ে দেবেন। এটা এ মুহূর্তে আমাদের বড় পাওয়া বা অর্জন। এই প্রোক্লেমেশন তথা ঘোষণাপত্র সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও ১৫ তারিখের মধ্যে যাতে পাই সেই দাবিতে এবং জনগণের কথা শুনতে রাস্তায় এসেছি।”

বিকেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে যৌথভাবে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সাহেদ, মুখপাত্র ইসরাত জাহান মায়া, শাহাদাত ইসলাম হোসাইন আল সোহানসহ জাতীয় নাগরিক কমিটির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো. আহসান হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বরিশাল




আ.লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, বাকস্বাধীনতাকে হ*ত্যা করেছে: রহমাতুল্লাহ

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেছেন, “আমার মৌলিক স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতাকে কেউ যাতে কোনোদিন হত্যা না করতে পারে, সেজন্যই স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতিহাস থেকে জানি, ১৯৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমান সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে আজীবনের জন্য রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছিলেন। সে সময় গণতন্ত্র হত্যা করেছিল আওয়ামী লীগ। এরপর আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা হত্যা করেছে।”

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে প্রচেষ্টা সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র ও রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রহমাতুল্লাহ বলেন, “গত ১০-১৫ বছরে আপনাদের কেউ ভোট দিতে পারেননি। মানুষের ভোট তাদের লাগেনি, তাই তারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা (আওয়ামী লীগ) আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চেয়েছিল, তারা তারেক রহমানকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আল্লাহর হাতে তো সব ফয়সালা। তিনি ফয়সালা করে দিলেন, খালেদা জিয়া সম্মানিত হবেন, তারেক রহমান বেঁচে থাকবেন—আর তাই হলো। কিন্তু আপনি (শেখ হাসিনা) ভারতে গিয়ে পালিয়েছেন। আপনার সহকর্মীরা বনে-জঙ্গলে, ভারতে, বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। কারা করেছে? আল্লাহর পাঠানো আবাবিল পাখি সেটা করেছে। যেমন আল্লাহ কাবাঘর রক্ষা করেছেন আবাবিল পাখি দিয়ে, তেমনি বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছেন ছোট ছোট বাচ্চাদের রাজপথে নামিয়ে দিয়ে।”

রহমাতুল্লাহ বলেন, “আল্লাহ যেমন মানুষের জন্য পরীক্ষার সময় দান করেন, ঠিক তেমনই তিনি আমাদের রক্ষা করেছেন এবং আগামীতে দেশের গণতন্ত্র হত্যা না হতে পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া খুব অসুস্থ, তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য জীবনবাজি রেখে গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান করেছেন। তার অবস্থানের কারণে হাসিনা সরকার তাকে মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে এবং তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে।”

রহমাতুল্লাহ বলেন, “বিএনপির বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা যেন আমাদের মনের মতো, আশার মতো, আকাঙ্ক্ষার মতো একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি, সেই ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে তারেক রহমান যেন আমাদের মধ্যে এসে আগামীর নির্বাচনে নেতৃত্ব দিতে পারেন, সেজন্য সবাই দোয়া করবেন।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিএনপির দুই নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর

বরিশাল মহানগর বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা—মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটু এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আকবরের বাড়িতে বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা একযোগে হামলা চালায়।

সৈয়দ আকবর জানান, ৩০-৪০ জনের একটি মোটরসাইকেল বহর তার বাড়িতে হামলা চালায়। হেলমেট ও টুপি পরিহিত হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি এবং হকিস্টিক দিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তাদের চিহ্নিত করতে না পারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, নাজিরের পোল এলাকা থেকে ১২টি মোটরসাইকেল এবং থ্রি-হুইলার নিয়ে দুর্বৃত্তরা জহিরুল ইসলাম লিটুর খান ভিলা নামের বাসায় হামলা করে। তারা বাসার গেট, ভেতরের মোটরসাইকেল এবং আশপাশে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় বিএনপি নেতা লিটু বাসায় ছিলেন, যার ফলে তার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মহানগর বিএনপির নেতারা, যেমন—মীর জাহিদুল কবির, কেএম শহীদুল্লাহ, মহসিন মন্টু এবং আনোয়ারুল হক তারিন। নেতারা হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় না পাওয়া গেলেও, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে এ হামলা হতে পারে। তবে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পৌঁছানোর পর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাড়ি চালিয়ে লন্ডন ক্লিনিকে নিয়ে গেছেন বড় ছেলে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি কালো গাড়িতে (রেঞ্জ রোভার) খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। গাড়িটি নিজেই চালাচ্ছেন তারেক রহমান। তার পাশের সিটে বসে আছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। আর পেছনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। তারা খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

রাজনৈতিক নানা ঘাত-প্রতিঘাতের বলি হয়ে দীর্ঘ সময় মায়ের স্নেহ-ভালোবাসা ও সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দূর পরবাসে বসে হয়ত মায়ের সেই আদর-শাসন এত দিন মিস করেছেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।




লন্ডনের ক্লিনিকে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু

উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের একটি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ। চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন পর লন্ডনে যাত্রা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে দীর্ঘ সাত বছর পর মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান। তিনি নিজেই খালেদা জিয়াকে ড্রাইভ করে ক্লিনিকে নিয়ে যান।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া লন্ডনে যান। উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে দেখা করা তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




শেখ হাসিনাসহ ৭৫ জনের পাসপোর্ট বাতিল

জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৫ জনের পাসপোর্ট বাতিল করেছে সরকার। এছাড়া গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ২২ জনের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

তিনি বলেন, “ই-পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে প্রবাসীরা এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য পাবেন। এ উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

পাসপোর্ট অফিসগুলোকে দালালমুক্ত করার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব। তিনি বলেন, পাসপোর্ট অফিসের পাশে দোকানগুলোর আশেপাশে গড়ে ওঠা দালাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে আবেদন করার সুযোগ তৈরি করা হবে।

চলতি মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বই ছাপার কাজ শেষ হবে বলে জানান আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, “বই পেতে দেরির জন্য সরকার আন্তরিকভাবে দুঃখিত। দেশেই সব বই ছাপানোর কারণে সময় লেগেছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম