সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি : মামুনুল হক

বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর ঝাউতলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি তোলেন। পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্বাস আলীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মামুনুল হক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়নি। ১৯৭১ সালে অর্জিত এই ভূখণ্ডে কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “ভারতীয় প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য অধিকার হরণ করা হয়েছে।”

মামুনুল হক অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ সরকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। তিনি পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার উপরও জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে, তেমনি শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দেশের জনগণকে প্রতিশোধের শিকার করেছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দু’বারের বেশি নয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না— এমন প্রস্তাব করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। সেই সঙ্গে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের নয় পৃষ্ঠার সুপারিশ জমা দেয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এমন সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী—

(ক) সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমিত করা।

(খ) সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দুইবার নির্বাচত প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের অযোগ্য করা।

(গ) একই ব্যক্তি একই সঙ্গে যেন দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে না পারেন তার বিধান করা এবং দ্বৈত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বন্ধ করা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—

(ক) দলনিরপেক্ষ, সৎ, যোগ্য ও সুনামসম্পন্ন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিধান করা।

(খ) জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান করা। কার্যকর সংসদের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যদের প্রত্যাহারের বিধান করা।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা—

(ক) সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি, আবাসিক প্লট, সব ধরনের প্রটোকল ও ভাতা পর্যালোচনা ও সংশোধন করা।

(খ) একটি ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বাৎসরিকভাবে সম্পদের হিসাব প্রদান এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়সমূহ ঘোষণা করা।

(গ) সংবিধান লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত থাকার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আনোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলার রায় কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যদেরকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টার পদ থেকে অপসারণ করা।

(ঘ) সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রটোকলের অবসান করা।

৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে আবারও নির্বাচনের প্রস্তাব
সচিব নিয়োগের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে : সংস্কার কমিশন
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ/গণমাধ্যম—

(ক) নিশ্চল পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া, যাতে পর্যবেক্ষকরা সারাদিন কেন্দ্রে থাকতে পারে, কিন্তু ভোটকক্ষে সার্বক্ষণিকভাবে নয়।

(খ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে প্রাক্-নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণের অফিসিয়াল অনুমতি প্রদান করা।

(গ) পক্ষপাতদুষ্ট ভুয়া পর্যবেক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা।

(ঘ) ব্যক্তি পর্যায়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিধান চালু করা ।

(ঙ) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ভবিষ্যতে নির্বাচন ভালো করার জন্য কাজে লাগানোর বিধান করা।

(চ) আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সংস্থার জন্য সুস্পষ্ট করা। সরকারের পরিবর্তে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

(ছ) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকদের সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, দিনে মোটর সাইকেল ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করা।

নির্বাচনী আচরণবিধি—

(ক) ব্যানার, তোরণ ও পোস্টারের পরিবর্তে লিফলেট, ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠান, পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারের সম-সুযোগ প্রদানের বিধান করা।

(খ) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪ মেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার বিধান করা।

(গ) ১৯৯০ সালের তিনজোটের রূপরেখার মতো রাজনৈতিক দলের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা।

কমিশনের সুপারিশগুলো দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে অন্তবর্তী সরকার।




পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে  সবক্ষেত্রে পিআর‌ পদ্ধতির নির্বাচন করতে হবে : শায়খে চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই বলেছেন,আমরা সব ক্ষেত্রে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাই। ৩শত বা ৪শত আসন যাই হোক সব জায়গায় পিআর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পিআর‌ পদ্ধতির নির্বাচন না হলে কোন অবস্থাতেই পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। পিআর পদ্ধতি হলে কোন ব্যক্তিকে নয় প্রতিকে ভোট হবে ।যে প্রতিক যত ভোট পাবে সে অনুযায়ী তাদের প্রতিক সংসদে আসন পাবে । এমন পদ্ধতি নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে।

আজ সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের হোটেল পুস্পদম এ ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব কে এম বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ৫০৫টি আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০৫ আসন আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ, ৩০০ আসন নিম্নকক্ষ ও ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছিলাম কোন সংরক্ষিত থাকবে না। তাই মহিলাদের জন্য সংসদে কোন সংরক্ষিত আসন চাই না। মহিলাদের জন্য আমরা সাধারণ নির্বাচন চাই। মহিলাদের সমান অধিকারের কথা বলে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা মানে তাদেরকে অপমান করা। শায়খে চরমোনাই বলেন, মহিলাদেরকে অযোগ্য মনে করে এটা করা হয়। মহিলাদেরকে অযোগ্য মনে করবেন না। তাদেরকে লড়তে দিন, সংরক্ষিত আসন আমরা চাই না। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন করার অর্থ তাদেরকে দুর্বল করা। কোন মহিলা লড়াই করতে পারবে না এমন প্রস্তাব আমরা করলে প্রশ্ন করা যেত আমি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন চাই না। আমি চাই সকলে সরাসরি ভোটে লড়াই করবে।

তড়িঘড়ি করে নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর বলেন, সংস্কারের পূর্বে কোন নির্বাচন দেওয়া হলে সে নির্বাচন ব্যর্থ হবে। ছাত্র জনতা ও আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়েছিলাম।আমাদের রক্ত ও ত্যাগের উপরে ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশ থেকে হটতে বাধ্য হলেও এখন আবার নব্য ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশকে দখল করেছে। এক চাঁদাবাদ তাড়িয়ে আরেক চাঁদাবাজকে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শায়েখে চরমোনাই বলেন, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন দিলে সে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মানুষ আবারো ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

আমরা অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে সকল ভোটাররা তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সকল ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যেখানে পেশীশক্তি থাকবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি থাকবে না। ভোটাররা যাতে তাদের আদর্শ, নীতিবান মনের মত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ চাই।

তিনি বলেন, বিগত সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এগুলোকে সচল করার মতো কার্যকরী সংস্থার চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার বিভাগে কেউ কেউ খালাস তো দূরের কথা জামিন ও পায়নি। এখন এমন কি হলো ? ফ্যাসিস্ট যাবার সাথে সাথে বড় বড় মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলো ।সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তার অর্থ হচ্ছে বিচার বিভাগে স্বাধীনতা নাই। কোন কোন দলের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের ইঙ্গিত চলছে। এজন্য আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই।

তিনি বলেন, একটি ভালো রাষ্ট্রের বড় প্রমাণ হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রমাণ করতে এটা কোন ফ্যাসিস্ট বা কোন রাষ্ট্র না প্রমাণ করবে এটা কোন ফেসিস্ট বা করাপ্টেট কোন রাষ্ট্র না। স্বাধীন বিচার বিভাগ হলে বিচারকরা আইন অনুযায়ী বিচার করবে। কোন সরকারের পেসারে তারা বিচার করবে না। কারো ইঙ্গিতে তারা বিচার করবে না। আমি চাই এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের কারো বিচার হলে সেখানে যাতে কোনো চাপ প্রয়োগ করা না হয় । আবার যদি আইনের মাধ্যমে আমাকেও আটকে দেওয়া হয় সেখানে যাতে পেশার ক্রিয়েট করা না হয়।
বিচারকরা রায় লিখতে গিয়ে মনের মধ্যে চাকরি থাকা বা না থাকা নিয়ে যাতে ব্রিটিশ সৃষ্টি না করে পদোন্নতি নিয়ে টেনশন না থাকে। বিচারকদের মনে চাকরি থাকা না থাকা ও পদোন্নতি হওয়া না হওয়া টেনশন থাকলে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার হওয়া সম্ভব হবে না।

কমপক্ষে এক জায়গায় নিরপেক্ষ থাকা উচিত তা হলো বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমরা কামনা করি কারো ইঙ্গিতে বিচার হবে না, বরং তার বিবেক বুদ্ধির মাধ্যমে ইনসাফের সাথে বিচার হতে হবে। বিচারকদের আদেল ও ন্যায় বিচারক হতে হবে। বিচারকরা মানিক মার্কা বিদ্বেষ ও ঘৃনায় ভরপুর থাকলে তার পক্ষে ন্যায় বিচার করা সম্ভব হবে না। আমি বিচারকদের নিরপেক্ষতা চাই। আদল ও ইনসাফগার বিচারক হোক এটা চাই।
তিনি বলেন, বিচারক ও বিচারালয় স্বাধীনতা চাই। দেশের বিচারালয় স্বাধীন না থাকলে, সে দেশে কোন মানুষ বসবাস করতে পারে না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জামায়াত আমিরের সঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান আজ বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন এবং অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা। উভয় পক্ষই দেশ দুটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় দেশ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে আশাবাদী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শামীম ওসমান ও নানক পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে, যার মধ্যে শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রথম মামলায় শামীম ওসমান, তার স্ত্রী সালমা ওসমান এবং কে টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডের এমডি তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১৯৩ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ টাকার মানিলন্ডারিং এবং বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক কল মিনিটের মাধ্যমে ২ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৮ মার্কিন ডলার পাচার করেন।

দ্বিতীয় মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, তার স্ত্রী ও রাতুল টেলিকমের চেয়ারম্যান সৈয়দা আরজুমান বানু, তার মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এস আমরীন রাখির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলাগুলো দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে গ্রেপ্তার-আত্মগোপনে আ.লীগ নেতারা, তৃণমূলে হতাশা

বরিশালে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন। একদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্ক, অন্যদিকে আত্মগোপন করে থাকা নেতাদের অনুপস্থিতিতে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা নানা কারণে অদৃশ্য হয়ে গেছেন, যার ফলে তৃণমূলের কর্মীরা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে, আবার অনেকে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন। যারা পালাতে পারেননি, তাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে আছেন। রাজপথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নেতাকর্মীরা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। একসময় যারা ক্ষমতার রশিতে শক্তভাবে ঝুলে ছিলেন, তারা এখন নিজেদের রক্ষা করতে ব্যস্ত।

বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে অনেক নেতা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জমিদখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে সরকারের পতনের পর তারা খুবই অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বরিশালের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, যিনি তার ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান, সেই সময় থেকে বরিশালের রাজনৈতিক মাঠে এক ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, এবং বেশ কিছু এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতারা পালিয়ে গেছেন বা আত্মগোপনে আছেন। শুধু বরিশাল নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।

এদিকে, যারা দেশ থেকে পালাতে চেষ্টা করেছেন তাদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে notable figures যেমন সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল-২ আসনের এমপি রাশেদ খান মেনন, এবং সাবেক এমপি মো. শাহে আলম তালুকদার রয়েছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসব পরিস্থিতিতে খুবই হতাশ। তাদের কেউ কেউ বলছেন, “কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখব জানি না। একসময় আমরা শুধু নেতাদের আদেশ পালন করেছি, আর এখন তারা টাকা ও সম্পদ নিয়ে পালিয়ে আছেন, আর আমরা তাদের জন্য ভয় পেয়ে দিন পার করছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জয় বললেন, এফবিআই’র রিপোর্ট ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’, বিবাহ বিচ্ছেদ ৩ বছর আগে

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর রিপোর্ট নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্কের মধ্যে, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন যে, ওই রিপোর্টটি ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’। তিনি এফবিআইয়ের প্রতিবেদনের কয়েকটি গুরুতর ভুলের কথাও উল্লেখ করেছেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জয় বলেন, “সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে এফবিআই-এর একটি রিপোর্ট ফাঁস করা হয়। তবে তাদের অসাবধানতা ও বোকামির কারণে রিপোর্টটির মিথ্যা প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রিপোর্টে বেশ কিছু গুরুতর ভুলও রয়েছে।”

এফবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, হাসিনা ও জয় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার (৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) পাচার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা জয়ের আর্থিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অনিয়ম উদঘাটন করেছে। এর ভিত্তিতে, বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর হাসিনা ও জয়ের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করবে।

এফবিআই আরও জানায়, তারা জয়ের বিলাসবহুল ৮টি গাড়ি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পেয়েছে। তবে জয় তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, এসব গাড়ি অনেক পুরোনো এবং অধিকাংশই বহু আগে বিক্রি হয়ে গেছে।

এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা হংকং ও কেম্যান আইল্যান্ডে সজীবের ব্যাংক হিসাব খুঁজে পেয়েছে এবং স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও লন্ডনে সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টি জানা যায়। তবে জয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তার কোনো অফশোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তিনি পুরো বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে এসব অভিযোগ প্রমাণ করে দেখানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়া, প্রতিবেদনে সজীব ওয়াজেদের স্ত্রী ক্রিস্টিনের সঙ্গে সন্দেহজনক ব্যাংক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হলেও, জয় তার পোস্টে বলেন, “ক্রিস্টিন এবং আমি আর বিবাহিত নই। আমরা প্রায় তিন বছর আগে আলাদা হয়েছি এবং আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতাকে শোকজ নোটিশ

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারকে শোকজ (কারণ দর্শানোর) নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে, কেন্দ্রীয় বিএনপির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত শনিবার তারা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আয়োজন করেছিলেন, যার জন্য তাদের বিরুদ্ধে এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

১৩ জানুয়ারি, সোমবার, কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো শোকজ নোটিশে উল্লিখিত হয়েছে যে, বরিশাল বিমানবন্দর থেকে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে শহরে প্রবেশ করা হয়। তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় পড়বে না, এ বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। ফারুক এবং সিকদার শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তারা উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির আভ্যন্তরীণ বিরোধে এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে, তবে মহানগরের নেতাদের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি দুই নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আয়োজন করেন, যা দলের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কিছু নেতারা তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানিয়েছেন, দলের শোডাউন নিষিদ্ধ ছিল এবং বরিশালে তা ভঙ্গ করা হয়েছে, যা দলের শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে। সাধারণ জনগণও এতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, এজন্য শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বরিশাল মহানগর বিএনপির মধ্যে সাংগঠনিক সংস্কারের অভাব এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে গেছে। বিভিন্ন গ্রুপ নতুন কমিটির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিছু বড় নেতা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দলের শৃঙ্খলার ক্ষতি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৫ নভেম্বর, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, যিনি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা দিয়েছেন। বর্তমানে বরিশাল মহানগর বিএনপিতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

বর্তমানে বরিশাল বিএনপির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার অভাব এবং একের পর এক বিতর্কিত ইস্যুর কারণে সম্মেলনের প্রস্তুতিতে অন্তর্কলহ দেখা দিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে কেন্দ্রের নির্দেশ ভেঙে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিশাল শোডাউন

বরিশাল নগরীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা অমান্য করে বিশাল শোডাউন করেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার। দলের উচ্চ পদস্থ নেতাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ শোডাউনটি অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক যানজট এবং দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ঢাকার দুই শীর্ষ নেতার আগমন ঘটে, এবং বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে তারা নগরীতে প্রবেশ করেন। তাঁদের বহনকারী দুটি মাইক্রোবাসের পেছনে অসংখ্য মোটরসাইকেলের বিশাল একটি বহর ছিল, যা নথুল্লাবাদসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানজট সৃষ্টি করে।

এভাবে একটি শোডাউন আয়োজনের ফলে জনগণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়, বিশেষ করে যানবাহন শ্রমিক, যাত্রী এবং পথচারীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, যাতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা না আসে।

বরিশালের মহানগর বিএনপির সাবেক নেতারা বলেন, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে এই ধরনের শোডাউন পরিচালনা করা দলের প্রতি অসম্মানজনক।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘‘এ ধরনের শোডাউন বা বিলবোর্ড স্থাপন নিষিদ্ধ, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের এই শোডাউন নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সীমান্তে অস্থিতিশলীতাই প্রমান করে ভারত কোন দিনই আমাদের বন্ধু ছিলো না : পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশের সীমান্তে যে অশান্তি, নির্যাতন ও হত্যার চিত্র দেখা যায়, তা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে ভারত কখনোই আমাদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলেও, সীমান্তে সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় বরিশাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নগর সম্মেলন’২৫ অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর সভাপতি প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই।

তিনি বলেন, বন্ধুত্বের নাম দিয়ে শাসকগোষ্ঠী দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিলেও সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। এর বিপরীতে আমাদের কৃষি, বাণিজ্য, এবং নদীর পানি ব্যবহারসহ নানা ক্ষেত্রে ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে।বাংলাদেশের জনগণ এ অন্যায় কখনো মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। ১৯৪৭-এ রক্ত দিলেও পেয়েছে পাকিস্তানি শোষণ, ১৯৭১-এ রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আনলেও সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ও ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে জনগণ বারবার রক্ত ঝরিয়ে অধিকার চেয়েছে, কিন্তু শাসকেরা লুটেরা ও ফ্যাসিস্টের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে। এ জাতি আর শোষণ নয়, ন্যায়ের বাংলাদেশ চায়।

চরমোনাই শায়েখ মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্যবাদকে পরোয়া করে না। ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা হবে, কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ দিল্লির কূটকৌশলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যদি আবারও কেউ ভারতের মদদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে, জাতি তাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।

তিনি বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থান হাজারো ছাত্র-জনতার ত্যাগের ফল। বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথের দল হিসেবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—দেশের স্বার্থে আপসকারী যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দেব ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ বরিশাল মহানগর, সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহাবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাসির আহমেদ কাওসার, মাওলানা মুহাম্মাদ জাকারিয়া হামিদী, মাওলানা মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান, প্রিন্সিপাল মোঃ ওমর ফারুক সভাপতি জাতীয় শিক্ষক ফোরাম বরিশাল মহানগর, অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসির, সভাপতি ইসলামী আইনজীবী পরিষদ বরিশাল মহানগর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গোমস্তা, সভাপতি, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ বরিশাল মহানগর, মুফতি মুহিবুল্লাহ কাজেমী, সভাপতি, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর, সভাপতি মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর, গাজী মুহাম্মাদ রেদোয়ান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর। এ ছাড়াও নগর, থানা নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়- সভাপতি, প্রফেসর মোঃ লোকমান হাকীম, সহ-সভাপতি, মাওলানা নাছির আহমাদ কাওছারসহ-সভাপতি,মাওলানা জাকারিয়া হামিদী সেক্রেটারী,মাওলানা আবুল খায়ের।