পটুয়াখালীতে বিএনপির কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে, পটুয়াখালী শহরের পুরাতন আদালত মাঠে। এই কর্মী সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল, যাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুস রহমান এবং মাহবুবুল হক নান্নু।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে ছাত্রদল নেতা মো. ফিরোজ আলম খান ইউসুফ এবং যুবদলের সদস্য রিয়াজ, জহির, রাসেল ও হানিফ হাওলাদার উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মী সমাবেশটি জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগদান করতে থাকেন। এ সময় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সমর্থিত গ্রুপ ও স্নেহাংশু সরকারের সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে স্লোগান ও মঞ্চে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে যখন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সমর্থিত গ্রুপ একটি মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ বায়জিদ পান্না মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করলে স্নেহাংশু সরকারের সমর্থিত নেতাকর্মীরা তাকে প্রতিরোধ করেন, যা পরবর্তীতে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ বায়জিদ পান্না ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমি মঞ্চে ওঠার পর ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু সদস্য ডাকাডাকি ও হৈ-হুল্লোড় শুরু করে। তারা মূলত ঝামেলা করতে চেয়েছিল। শান্ত করার জন্য মঞ্চ থেকে নেমে আসি, তখন আমার ছেলেদের ওপর পেছন থেকে হামলা করা হয়, এতে আমাদের চারজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।”

অন্যদিকে, স্নেহাংশু সরকারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আহত হওয়ার কিছু নেই, বর্তমানে সব কিছু ঠিক আছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




গৌরবের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার কারো নেই : মাহবুব উল আলম হানিফ।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতা ও সংবিধান। গৌরবের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগের এই নেতার ব্যক্তিগত সহকারী তারিক-উল-ইসলাম টুটুল পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে হানিফ বলেন, সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে দেওয়া। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় সেটিই ফুটে উঠেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বেশকিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে না রাখার সুপারিশ করেছে। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ‍্য নয়।

সংবিধান সংস্কার বা পরিবর্তন করার কোনো এখতিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই জানিয়ে তিনি বলেন, একমাত্র নির্বাচিত সরকারই পারে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ‍্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার বা পরিবর্তন করতে। পার্লামেন্ট ছাড়া কোনো ব‍্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকার এটি করতে পারে না। তাদের যদি কোনো প্রস্তাবনা থেকে থাকে তাহলে সেটা আগামী সংসদ নির্বাচনের মাধ‍্যমে যে সরকার গঠিত হবে সেখানে উত্থাপিত হবে। এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যদি মনে করেন সংস্কার প্রয়োজন তাহলে সংসদেই সেটা পাস হবে। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস মুছে ফেলার যে ঘৃণ‍্য অপচেষ্টা সেটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।




আজ জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৮৯তম জন্মবার্ষিকী । ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি l
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ। সকাল সাড়ে ৯টায় নেতারা শেরে বাংলা নগরের শহীদ জিয়ার কবরে দোয়া ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এছাড়া বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বাগবাড়িতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ। এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।




কুয়াকাটা পৌর বিএনপি ও শ্রমিক দলের দুই নেতাকে শোকজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি নেতার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি ও শ্রমিক দলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি ও জেলা শ্রমিকদল। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা শ্রমিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন সোহেলের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে তাদের এই নোটিশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) নোটিশে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান এবং কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জসিম মৃধাকে শোকজ করা হয়। বিএনপি নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এবং শ্রমিক দল নেতাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা বিএনপির নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা জেলা বিএনপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভিডিওতে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমানের কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, জেলা শ্রমিক দলের নোটিশে বলা হয়েছে, কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জসিম মৃধার বিরুদ্ধে একাধিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন অন্যায় ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড জেলা শ্রমিকদলের জন্য বিব্রতকর বলে উল্লেখ করা হয়।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান জানান, তিনি নোটিশটি এখনো হাতে পাননি। তবে নোটিশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লিখিত জবাব প্রস্তুত করে জমা দেবেন। তিনি বলেন, ভিডিওটি একটি দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা ছিল, যেখানে পৌর বিএনপির সভাপতি ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওর ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জসিম মৃধা নোটিশ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর জমা দেবেন। তবে এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা উল্লেখ করে অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা হিসেবে অভিহিত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে ‘তাড়াহুড়ো’ চায় না রাজনৈতিক দলগুলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়নের বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতে ইসলাম, বামমঞ্চ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব রাজনৈতিক শক্তি অংশগ্রহণ করেছে।

বৈঠকে তারা জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়ের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো চান না রাজনৈতিক নেতারা। ঐকমত্য থাকলেও সময় নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা। তবে পাঁচ মাস পর ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন ছিল কি না, প্রধান উপদেষ্টার কাছে এমন প্রশ্ন রাখে বিএনপির প্রতিনিধি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আসতে শুরু করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বৈঠক শুরু হয়।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠক শেষে ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ফরেন সার্ভিস একাডেমি থেকে বেরিয়ে যান। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে নানা মতের কথা তুলে ধরেছেন তারা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং আইন উপদেষ্টাও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।




বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন চায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন চায় বলে জানিয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেত্তি। তার মতে, গণতন্ত্র ও নির্বাচন বাংলাদেশে নতুন অধ্যায় খুলতে সহায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউওআইএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরিক গারসেত্তি বলেন, ‘‘আমরা উভয়ই যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চাই। আর এটি বাংলাদেশে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সহায়তা করবে।”

এমন মন্তব্যের মাধ্যমে দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বললেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র একক নীতিতে বিশ্বাস করে। সেটি হলো উভয় দেশই শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চায়। এই মুহূর্তে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র।”




টিউলিপসহ শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি সমন্বিতভাবে তদন্তের নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১১টি তদন্ত দল গঠন করেছে সরকার। এসব দল‌কে টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি অর্থ পাচার, ঘুষ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সমন্বিতভাবে তদন্ত করার কথা বলা হ‌য়ে‌ছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সমন্বয়ে গঠিত দলগুলোর স‌ঙ্গে বৈঠক হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজিত ‘মানিলন্ডারিং অপরাধ অনুসন্ধানে গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা’ বিষয়ক এ বৈঠক হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফআইইউর নতুন প্রধান শাহিনুল ইসলাম, উপপ্রধান এ কে এম এহসান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, জাকির হোসেন চৌধুরী এবং ড. কবির হোসেন।

সূত্র জানায়, মানিলন্ডারিং অপরাধ অনুসন্ধানের জন্য ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। যেসব দল আলাদা-আলাদা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তদন্ত করবে। আগামী সপ্তাহ থেকে তদন্ত কমিটিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অফিস শুরু করবে। ওদের জন্য আলাদা স্থান বরাদ্দ করা হয়েছে।




হাসান মাহমুদ ও তার পরিবারের ৭৭ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৮ টাকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন।

অবরুদ্ধ হওয়া ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে হাছান মাহমুদের নামে ৮টি, তার স্ত্রী নুরান ফাতেমার ১৪টি, মেয়ে নাফিসা জুমাইনা মাহমুদের ৬টি, হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রীর যৌথ অ্যাকাউন্ট ৩টি, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসের ৩৪টি, বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস ৬টি, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সোলার পাওয়ার লিমিটেড ৩টি, সুখি বাংলা ফাউন্ডেশনের ২টি ও বিসমিল্লাহ মেরিন সার্ভিস জেএএস লিমিটেডের ১টি ব্যাংক হিসাব হয়েছে।




সর্বদলীয় সংলাপে যোগ দিতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় সর্বদলীয় সংলাপ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে সংলাপের প্রস্তুতি হিসেবে বিকেল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত হতে শুরু করেন।

বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পরেই, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ দলটির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সংলাপে যোগ দিতে প্রবেশ করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, “বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।” বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণতন্ত্রমঞ্চ, খেলাফত মজলিস, গণপরিষদ এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দও ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপস্থিত হয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গতকাল রাতে জানানো হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংলাপের আয়োজন করেছে। রাত সোয়া আটটার দিকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী ঘোষণাপত্রের খসড়া প্রণয়ন করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে বিএনপির আলোচনা, সময় প্রয়োজন

বিএনপি জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে দলীয়ভাবে এবং শরিকদের সঙ্গে আলোচনা না করায়, এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছে না। দলটি মনে করছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে, বিএনপির পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আজ দেখা করবেন।” বিএনপির শরিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ঘোষণাপত্র নিয়ে মতামত প্রদানে সময়ের অপ্রতুলতার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্বে বলেছিলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সাহেবের কাছ থেকে ঘোষণার খসড়াপত্র পেয়েছি এবং তিনি অনুরোধ করেছেন এ বিষয়ে আমাদের মতামত জানানোর জন্য। কিন্তু এক দিনের নোটিসে তাদের পক্ষে মতামত জানানো সম্ভব নয়।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিষয়টি এত বেশি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ যে, এটা একদিনের নোটিসে করা সম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি, এবং আরও আলোচনা করছি। আমাদের অন্যান্য দলও আছে; তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে, কারণ ঘোষণাপত্রে সংবিধানের ব্যাপারও রয়েছে।”

গতকাল রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ১৬ জানুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র নিয়ে একটি সর্বদলীয় বৈঠক আয়োজন করবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সর্বদলীয় বৈঠক সম্পর্কে জানান, এই বৈঠকের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি দলিল প্রণীত হবে। ওই দিনই স্পষ্ট হবে কবে ঘোষণাপত্রটি জারি করা হবে এবং সরকার কীভাবে ঘোষণাপত্র জারির বিষয়ে ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম