ওবায়দুল কাদেরের সেজো বোন মেহেরুন নেছার ইন্তেকাল

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সেজো বোন মেহেরুন নেছা ইন্তেকাল করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার বাসাবোর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ছেলে ও রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজিস সালেকীন রিমন।

মৃত্যুকালে মেহেরুন নেছার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়ে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মেহেরুন নেছা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মোজাফফর আহমদ মিয়া বাড়ির হোচ্ছাম হায়দারের স্ত্রী।

সালেকীন রিমন জানান, তার মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এবং এর আগে তিনবার ব্রেইন স্ট্রোক করেছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় তার কন্যার বাসায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আজ বাদ আসর তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফখরুলের বক্তব্যে নাহিদ, আসিফ, হাসনাতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত কয়েকমাসে বিএনপি’র সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার ও বৈষম্যবিরোধীদের বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা গেলেও এখন নির্বাচন, সরকার ও রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে রীতিমত মুখোমুখি অবস্থানে দুই পক্ষ।

বুধবার বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ থাকতে না পারলে নির্বাচন করতে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।”

ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে ‘বেরিয়ে আসা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন মি. আলমগীর।

বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।

এছাড়া, একটি আলোচনা সভায়ও তিনি একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

তার বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান সরকারের দুই তরুণ উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ।

প্রতিক্রিয়া জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহও।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম যা বলছেন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা এক এগারো সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার তথ্য উপদেষ্টা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড পেজে লিখেছেন, “১/১১ এর বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিলো। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সামনে আরেকটা ১/১১ সরকার, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার আলামত রয়েছে।”

“ছাত্র এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ই অগাস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ই অগাস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছ, তখন আমাদের আপসকামী অনেক জাতীয় নেতৃবৃন্দ ক্যান্টনমেন্টে জনগণকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে),” যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

“রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন, সংস্কার, নতুন সংবিধান, জুলাই ঘোষণা সব ইস্যুতেই বিএনপি বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে” উল্লেখ করে মি. ইসলাম আরো বলেন, “অথচ এগুলা কোনোটাই ছাত্রদের দলীয় কোনো দাবি ছিল না। কিন্তু দেশের স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর স্বার্থ এবং জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য ছাত্ররা বারবার তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।”

নাহিদ ইসলাম আরও লিখেছেন, “আর এই সরকার জাতীয় সরকার না হলেও সরকারে আন্দোলনের সব পক্ষেরই অংশীদারত্ব রয়েছে এবং সব পক্ষই নানান সুবিধা ভোগ করছে। সরকার গঠনের আগেই ৬ই অগাস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পুলিশের আগের আইজির নিয়োগ হয়েছিল যারা মূলত বিএনপির লোক। এরকমভাবে সরকারের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত নানান স্তরে বিএনপিপন্থী লোকজন রয়েছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতার কথা বললে এই বাস্তবতায়ও মাথায় রাখতে হবে।”




সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর: ইসি আব্দুর রহমান মাছউদ

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ বলেছেন, জাতিকে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিন দিন উন্নতি করছে, যার মাধ্যমে সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে এবং ভোটগ্রহণ হবে ব্যালটের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুন্দরভাবে সৃষ্টি হবে। সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে বা ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় পটুয়াখালীর সকল উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ও সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছে। আজ, বুধবার পটুয়াখালী দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই মামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আজ রাতে শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ও সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিন ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরসভার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও ট্যাক্সের ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগে সাবেক মেয়র ও সাবেক হিসাবরক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বের চরম লঙ্ঘন করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ মামলায় পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক সচিব মো. হেলাল উদ্দিনের নামও রয়েছে। কিন্তু তিনি ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন, ফলে তাঁকে এজাহার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে, মূসক ও ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিন বলেন, “সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলায় উল্লেখিত ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতের অর্থ পৌরসভার ফান্ডে ছিল। আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরে পরবর্তী মেয়র ও কর্তৃপক্ষ টাকা জমা না দেওয়ায় এমনটা হয়েছে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নাজিম উদ্দিন আলম: ‘এখন একটি চক্র আমাকে চরফ্যাসন থেকে উৎখাত করতে চায়’

ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম বলেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কিন্তু তিনি কোন নেতাকর্মীদের খোঁজ নেয়নি। আমি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বিগত ১৭ বছর আপনাদের পাশে ছিলাম এবং চরফ্যাসনের রাজনীতি করে তিন বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। সেই সময়ে চরফ্যাসন ও মনপুরায় অনেক উন্নয়ন করেছি, কিন্তু দুঃখের বিষয় ৩৩ বছরেও আমি দেশী হতে পারলাম না। এখন একটি চক্র আমাকে চরফ্যাসন থেকে উৎখাত করার যড়যন্ত্র করছে।’

বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে চরফ্যাসন প্রধান সড়কে বিএনপির একাংশের আয়োজনে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসরা পালিয়ে গিয়ে ভারতে বসে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এসব অপপ্রচারকারীদের আশ্রয়দাতা ভারতকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না।’

বিএনপির ক্ষমতায় থাকার সময় চরফ্যাসনের উন্নয়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সময় চরফ্যাসনে বিদ্যুৎ ছিল না, তবে এখন চরফ্যাসন উপজেলাকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। আমি কয়েকটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি, পাকা সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করেছি। আমি আপনাদের এমপি নই, আমি আপনাদের সেবক হতে চাই।’

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মীর শাহাদাৎ হোসেন সায়েদের সঞ্চালনায় ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুল মতিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. হুমায়ুন কবির, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুস সাত্তার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, জালিয়াতি, রাতে ভোট নেওয়া এবং অন্যান্য অনিয়ম অনুসন্ধান করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে দুদক জানায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, দিনের ভোট রাতে নেওয়া, ব্যালট জালিয়াতি, কিছু কিছু কেন্দ্রে ৯০% এর বেশি ভোট গণনা দেখানো, ব্যাপক আর্থিক লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রার্থীদের জয়ী করা। এসব অভিযোগ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে এবং দুদকেও কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের প্রধান বেনজির আহমেদ, পুলিশের সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকি, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামসহ স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজসের কথা।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক ৫ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। কমিটি নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিভিন্ন ভিডিও এবং নির্বাচনের ফলাফল সীট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে শফিকুল আলমের বক্তব্য: “ফিরতে পারবে না দলটি”

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে বলে গুঞ্জন থাকলেও, দলটি ফিরতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য দেন। পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা সমর্থনকারী আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভ্রান্তিতে আছেন যে, নির্বাচন আসলে তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে পারবেন। তবে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার না করলে এবং খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এটি সম্ভব নয়।’

এছাড়া, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের সদস্য ও সহযোগীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

পোস্টে শফিকুল আলম আরও জানান, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা প্রায়ই সমঝোতার বিষয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন না। তাদের মতে, অপরাধীরা তাদের অপরাধ স্বীকার না করলে সমঝোতার আহ্বান করা যাবে না। তারা বরং সংস্কার এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করার বিষয়ে বেশি সমর্থন জানিয়েছেন।’

শফিকুল আলম তার পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, রক্ষীবাহিনীর হত্যাকাণ্ড এবং শেখ মুজিবের একদলীয় শাসনের স্মৃতি মুছে ফেলতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম এবার সজাগ হয়ে উঠেছে এবং তারা স্বৈরশাসনের প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সচেতন।’

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




বিএনপি’র কোন্দলের জেরে গঙ্গাপুর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বহিষ্কার

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দলীয় কোন্দলের কারণে একের পর এক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সবুজ বরদারকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. সিহাব উদ্দিন ও সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫.৩০ ঘটিকায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. সম্রাট হাওলাদারকে শারীরিকভাবে আঘাত এবং লাঞ্ছনা প্রদান করেন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সবুজ বরদার। দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং ঘৃণিত অপরাধ হিসেবে এই ঘটনাকে উল্লেখ করে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ সহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ সবুজ বরদার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের শান্তির হাট বাজার সংলগ্ন ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু তাহের বরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্টের পর থেকে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। এই এলাকায় গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার জনগণ শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তারা চান গঙ্গাপুর ইউনিয়নে সকল ভেদাভেদ ভুলে, শান্তির পরিবেশে একসাথে বসবাস করতে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় চাঁদাবাজি বন্ধে বিএনপির মাইকিং

বরগুনার বেতাগীতে চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করেছে উপজেলা বিএনপি। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এ মাইকিং করা হয়। এতে চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে জনগণকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়।

মাইকিংয়ে বলা হয়, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ যদি বিএনপি বা কোনো নেতার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি, সালিশের মাধ্যমে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিন। সেই সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাদের জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।”

পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মে জড়িত থাকে, যাচাইয়ের পর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবার প্রতি সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “চাঁদাবাজি বা দখলদারির বিষয়ে কেউ অভিযোগ জানালে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিএনপির এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই মনে করেন, এটি দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আলোচনায় ইসলামের পক্ষে ‘ভোটকেন্দ্রে এক বাক্স

দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান। বিশেষত জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মধ্যে ঐক্যের ইঙ্গিত জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইতোমধ্যে দল দুটির পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে এক বাক্সে ইসলামপন্থীদের সমর্থন একত্রিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

চরমোনাইতে বৈঠক

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই মাদরাসায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স কেন্দ্রে পাঠানোর প্রচেষ্টা আগেও ছিল এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। এই প্রচেষ্টা সফল করতে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

ঐক্যের আহ্বান

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইসলামী দলগুলোর ঐক্য আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। প্রহসনের নির্বাচন রুখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রয়োজন। নির্বাচনী সংস্কার ও যথাসময়ে নির্বাচন নিশ্চিত হলে আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে শতকরা ৯১ ভাগ মুসলমান। ইসলামের বিধান মেনে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য, যা দুর্নীতি ও অশাসনের অবসান ঘটাবে।”

নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দাবি

দল দুটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির দাবি জানায়। মুফতি রেজাউল করীম এ পদ্ধতিকে দেশের জন্য উপকারী বলে মন্তব্য করেন।

ইসলামের বিধানের প্রতি আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পাইনি। এর মূল কারণ দুর্নীতি ও দুঃশাসন। আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।”

তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, “আল্লাহর বিধান মেনে চললে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম