১০ বিষয়ে একমত বিএনপি-ইসলামী আন্দোলন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া ও ইসলাম বিরোধী কথা না বলাসহ ১০ বিষয়ে একমত হয়েছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।

যে সব বিষয়ে দুটি দল একমত হয়েছে

১. আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ মুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম টেকসই রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
২. দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও টাকা পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৩. ভোটাধিকারসহ সব মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
৪. ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
৫. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সব অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করে নিয়ে আসা।
৬. আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব শক্তি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
৭. ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে কথা না বলা।
৮. আগামীতে যেন আওয়ামী লীগের মতো আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
৯. ইসলামী শরিয়াহ্বিরোধী কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ইসলাম বিরোধী কোনো কথা না বলা।
১০. প্রশাসনে এখনো বিদ্যমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ার বরকতউল্লাহ বুলু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।




ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরে তফসিল ও আইন সংশোধনের প্রয়োজন : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা ও আইন-কানুন, বিধি-বিধান সংস্কারের কাজ শেষ করতে হবে।

আজ রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ‘আরএফইডি-টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (আরএফইডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরএফইডি’র সভাপতি একরামুল হক সায়েম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ূন কবীর। সিইসি ছাড়াও আরও কয়েকজন কমিশন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, “ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে হলে অক্টোবরের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংস্কারের কাজ শেষ করতে না পারলে সঠিক সময়ে নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে। আমাদের লক্ষ্য, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ করা।”

তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন হবে। তবে জুন মাসে বর্ষা থাকায় এর আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কিছু প্রস্তাব প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “সংসদীয় স্থায়ী কমিটির হাতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা গেলে ইসির স্বাধীনতা খর্ব হবে। আমরা স্থায়ী কমিটির মুখাপেক্ষী হতে চাই না। সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ভোটার হালনাগাদের কাজে ইসির ক্ষমতায় অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।”

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) লজিস্টিক সাপোর্টের কারণে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান সিইসি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, “রুলস অব দ্য গেম না থাকায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও সীমানা নির্ধারণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই আইন সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “ইসির ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ না করার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বাতিল করতে হবে। সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ ইসির নিজস্ব এখতিয়ার।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকার কোনো দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া বাতলে দেবে না: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া বাতলে দেবে না, বরং এটি দলের নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গ্রিন রোডে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় উপদেষ্টা বলেন, “বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যে বক্তব্য দিচ্ছে, তা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সতর্কবার্তা হতে পারে। তবে, উপদেষ্টা পরিষদের কেউ যদি রাজনৈতিক দল গঠন করেন, তবে তা তারা সরকারের উপদেষ্টা পদ ছাড়াই করবেন, যা আমি নিশ্চিত।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান থেকে কিছু বলতেই পারে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো বার্তা দেওয়া হবে না।”

পরে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো অনাস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়, উপদেষ্টা বলেন, “বিএনপি বলেছে, এখনও কোনো অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে, ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এই সময়সীমা সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যদি সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম সম্ভব হয়, তবে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে। তবে, এটি প্রক্রিয়াকেন্দ্রিক এবং নির্দিষ্ট সময়সীমায় এটি করা সম্ভব হবে, তবে তা কবে হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।”

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে না।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ছাত্রনেতারা সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলে যোগ দেবে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক বা ছাত্রনেতারা সরকারে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে ছাত্রনেতাদের (বা গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে) কোনো দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি কাম্য নয়। এতে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল এ কথা বলেন।

পোস্টে আইন উপদেষ্টা বলেন, ছাত্রনেতারা সরকারে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না বা এতে যোগ দিতে যাচ্ছেন না। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি। একইসঙ্গে জুলাই ঘোষণাপত্র হবে একটি রাজনৈতিক দলিল। এটি প্রণয়নে গনঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মতামত আন্তরিকভাবে প্রতিফলনের ইচ্ছা ছাত্রনেতাদের রয়েছে। সেই জায়গায় সবার সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন।

‘গত দু’দিন ফেসবুক ছেয়ে গিয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতাদের পলায়নের গুজবে। এই গুজবের উন্মত্ততায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতা করার চেষ্টা করেছে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে আমার কাছে দু-একজন ফোন করেছেন, ঘটনা কী জানার জন্য’।

আসিফ নজরুল লেখেন, আমি যতোটুকু জানি আর বিশ্বাস করি তাতে বিএনপি ষড়যন্ত্র বা ১/১১ ধরনের কিছুতে আগ্রহী নয়। ছাত্রনেতারা সরকারে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না বা এতে যোগ দিতে যাচ্ছেন না।

বিএনপি ও ছাত্রনেতারা এমনকি নির্বাচন-কেন্দ্রিক বৃহত্তর সমঝোতার বিষয়েও অনাগ্রহী নন (এর ধরন ও ফর্মুলা আলোচনা সাপেক্ষে)। তাই বিরোধের কোনো কারণ নেই। সবাইকে বরং বুঝতে হবে ঐক্য ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই।

তিনি লেখেন, গণহত্যাকারীদের দল আওয়ামী লীগের হাতে রয়েছে লুটের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা, অনেক অন্ধ স্তাবক ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী, শক্তিশালী প্রচারণা নেটওয়ার্ক, তাদের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাশালী ভিন্ন রাষ্ট্র।

এদেরকে রুখতে হলে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে মনে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু তা বাংলাদেশের শত্রুদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হয়ে ওঠার পর্যায়ে যেন না যায়।




হাসপাতাল থেকে তারেক রহমানের বাসায় গেলেন খালেদা জিয়া

যুক্তরাজ্যের দ্যা লন্ডন ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় গিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বাসায় থেকেও তার চিকিৎসা ডা. প্যাট্রিক ক্যানেডি ও ডা. জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চলবে।

১৮ দিনের চিকিৎসা শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে কিংস্টনের বাসার উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “এভাবে উন্নতি হলে দ্রুত দেশে ফিরবেন তিনি। তবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওষুধের মাধ্যমেই আপাতত চিকিৎসা চলবে।”

বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সূত্র জানিয়েছে, লন্ডনের কিংস্টনে তারেক রহমানের বাসায় খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাসায় থেকেই তিনি যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, ও আর্থ্রাইটিসসহ দীর্ঘমেয়াদী নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। করোনার সময় নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেলেও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি মেলেনি।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি ঘটে। মুক্তির পর তার সাজা বাতিল করা হয় এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যাত্রা শুরু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শেয়ার বিজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলামের দুই সাবেক আমির আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে নতুন দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের।

এ উপলক্ষে শুক্রবার হাটহাজারী মাদরাসায় জুম’আর নামাজ আদায় করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের রাজনৈতিক প্রধান আনিছুর রহমান ও সহকারী সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইমামুল হক।

বাদ জুম’আ তারা জামেয়ার কবরস্থানে হাফেজ ক্বারি ইলিয়াস, আল্লামা মুফতি নুর আহমদ, হেফাজতের দুই সাবেক আমিরসহ বুজুর্গদের কবর জিয়ারত করেন।

পরে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সাংগঠনিক সফর শুরু করেন আনিছুর রহমান। এ আসনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সংসদ সদস্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইমামুল হক।

সফরকালে আনিছুর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ ইমামুল হক বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ফটিকছড়ি উপজেলার আহ্বায়ক মাস্টার সন্তোষ কুমার দে-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, চট্টগ্রাম-২ আসনের উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষায় সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

আনিছুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম সফরকালে জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের ছাত্রজনতার সঙ্গে তিনি একাধিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর চট্টগ্রাম মহানগর, থানা, জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন শুরু হবে।




অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ অধ্যাপক ইউনূসের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলছেন, বাংলাদেশে নাগরিকরা যেন কোনো ধরনের বাধা বা হুমকি ছাড়াই অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই প্রক্রিয়া তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি এ কথা বলেন সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ডব্লিউইএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে এক বৈঠকে।

ড. ইউনূস গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে বৈষম্য দূর করার দাবিতে রাস্তায় নেমে ছিল। তাদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দেশে পরিবর্তনের আলো দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেয়ালের গ্রাফিতিতে প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ একেবারেই হয়নি, যা একটি দুর্ভাগ্যজনক বিষয়।

বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “সরকার যদি জানতে না পারে জনগণ কিভাবে নির্বাচন চায়, তবে এটি আয়োজন করা সম্ভব হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হলেও, জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী ধরনের সংস্কার চায়। যদি তারা দ্রুত সংস্কার চায়, তবে এ বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন হতে পারে, তবে দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের প্রয়োজন হলে আরো ছয় মাস সময় লাগবে।

বর্তমান প্রজন্মকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে বর্তমান প্রজন্ম শুধুমাত্র বাংলাদেশি নয়, বরং সারাবিশ্বের তরুণ প্রজন্মের অংশ হয়ে উঠেছে।”

তিনি বলেন, এই তরুণ প্রজন্ম পুরনো বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায় না, তাদের একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। এজন্য, তিনি জানান, তরুণদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং সেই কমিশন সকল রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সংগঠনের মতামত নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করবে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও জানান, তার সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা সচল হয়েছে।

ড. ইউনূসের বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে ক্লাউস শোয়াব আধাঘণ্টার আলোচনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হবে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবে : আলতাফ হোসেন চৌধুরী

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, তারেক জিয়া খুব শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন এবং খুব শীঘ্রই একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, বিএনপি আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়েই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবে এবং নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ বায়জিদ পান্না মিয়া সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি : ডা. জাহিদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনের ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিক’ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ডা. জাহিদ বলেন, বেগম জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সেই রিপোর্ট পাওয়া যাবে। যদি রিপোর্টে সবকিছু ঠিক থাকে, তবে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় ফিরতে পারেন। বাসায় থেকেও তিনি চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, গত ১৭ দিনে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে লিভার প্রতিস্থাপন নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে তাদের কিছু সময় লাগছে। কারণ, বেগম জিয়ার বয়স এবং অতীতের চিকিৎসা সংকট এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

ডা. জাহিদ বলেন, “দ্যা লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা মনে করেন, আরও আগে যদি তাকে বিদেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া যেত, তবে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সহজতর হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা চালানো হবে।”

এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খালেদা জিয়ার বাসায় ফেরার সম্ভাবনা

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে লন্ডনের দ্য লন্ডন ক্লিনিক হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার নতুন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট শুক্রবার পাওয়া গেলে খালেদা জিয়ার হাসপাতাল থেকে ছুটি হতে পারে। এরপর তিনি বাসায় ফিরে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।

চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার লিভার প্রতিস্থাপন নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বয়স এবং স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার যে পদ্ধতি চলছে, তাতে লন্ডনের দ্য ক্লিনিক ও যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা একমত হয়েছেন।

গত ১৭ দিনে বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হয়েছে। কয়েকটি রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। কিছু পরীক্ষা লন্ডনের বাইরে করাতে হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো আছেন বলে জানান চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়া লন্ডনে আসেন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তাকে দ্য লন্ডন ক্লিনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।

তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম