বাউফলে যুবদল নেতার বাধায় নির্ধারিত কবরস্থানে নারীর লাশ দাফন ব্যাহত

পটুয়াখালীর বাউফলে এক যুবদল নেতার কারণে নির্ধারিত কবরস্থানে এক নারীর লাশ দাফন করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর অন্য জায়গায় তার লাশ দাফন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

যুবদল নেতার নাম মো. আহাদুল ইসলাম ওরফে টিপু খান (৪৮)। তিনি উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহত পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মদনপুরা গ্রামের চৌকিদার পরিবার ও খান পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মো. মতলেব চৌকিদারের স্ত্রী মোসা. রাশেদা বেগম (৬০) ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বজনরা তাকে মতলেব চৌকিদারের বড় ভাই ও ভাবির কবরের পাশে দাফন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু খবর পেয়ে যুবদল নেতা টিপু খান লোকজন নিয়ে সেখানে বাধা দেন। এতে মৃত নারীর স্বজনরা বাউফল থানায় গিয়ে সুরাহা না পেয়ে শনিবার সকাল ৯টার দিকে আবদুল মতলেব গাজীর জায়গায় লাশ দাফন করেন।

মারা যাওয়া নারীর একমাত্র ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান (৩৫) অভিযোগ করেছেন, তাদের পরিবারের সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মায়ের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে চাচা ও চাচির কবরের পাশে দাফন করা হবে, তবে যুবদল নেতা টিপু খানের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে যুবদল নেতা মো. আহাদুল ইসলাম টিপু খান সাংবাদিকদের বলেন, “যেখানে কবর দিতে চেয়েছিলেন, সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আমি কোনো বাধা দেইনি, তবে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে কোনো কার্যক্রম না করার জন্য বলেছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৫৩ বছরের নির্বাচন পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্টের জন্ম হয়েছে : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “বিগত ৫৩ বছরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন চলছে, সেই পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্ট, খুনি এবং টাকা পাচারকারীর জন্ম হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “বিশ্বের ৯১ দেশে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতির নির্বাচন রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ভোটারের মূল্যায়ন করা হয় এবং সংসদে প্রতিটি দলের অংশীদারত্ব থাকে। এভাবে নির্বাচনে এককভাবে কেউ ফ্যাসিস্টের মতো দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় না।”

আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ব্রজগোপাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যারা এই দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের মাধ্যমে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা নতুন করে আর স্মরণ করিয়ে দিতে চাই না। গত ৫৩ বছরে আমরা দেখেছি, রাস্তায় নামলে গুম হয়ে যায়, আর ঘরে থাকলে খুন হয়ে যায়। আমাদের কষ্টার্জিত টাকাগুলো যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি, যে সকল সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক এবং এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে একটি সুন্দর জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা হোক। আমরা সতর্কতার সাথে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্ট ভারত বিভিন্ন মিটিং করে আমাদের দেশের অশান্তি সৃষ্টির ছক তৈরি করেছে।”

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর উচিত জাতীয় ঐক্য নিয়ে একত্রে কাজ করা। একসাথে থাকলে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু ইউছুফের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা দক্ষিণের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে মাওলানা নূরউদ্দিনকে সভাপতি, মাওলানা গোলাম মোরশেদকে সহ-সভাপতি এবং মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্বৈরাচার যেকোনো সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “স্বৈরাচারের মাথাটা পালিয়ে গেছে। তবে এর কিছু কিছু অবশিষ্ট রয়ে গেছে এবং যেকোনো সময় তা নতুন আঙ্গিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশকে রক্ষা করতে হলে এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আব্বাস উদ্দিন খান সোহাগপুর মডেল কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন তারেক রহমান।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “দেশে যদি পরিবর্তন আনতে হয়, তা হলে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য সত্ত্বেও, আমরা এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের জন্য ৩১ দফা পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষি ও শিল্প খাতে উন্নয়ন করতে চাই।”

তারেক রহমান বলেন, “কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে চাই এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি যেন জনগণের জন্য দুর্বিষহ না হয়, তার জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অচল কল-কারখানাগুলোকে সচল করতে হবে এবং আমাদের অসংখ্য নদী ও খাল খনন করতে হবে। আগামীতে সংসদের মেয়াদ ও সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এসবের ফয়সালা জনগণের ভোটের মাধ্যমেই হবে।”

তারেক রহমান গত ১৫ বছরে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “আমরা ভোটারবিহীন নির্বাচন, ডামি নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন দেখেছি। যদিও কিছু উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে, কিন্তু এই উন্নয়ন ঘটানোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জাতিকে পথ দেখাতে হবে এবং দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যারা দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চায়।”

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো: বরকত উল্লাহ বুলু, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভুইয়া, কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন শ্যামল, এবং বিএনপির জেলা নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ছিল উৎসবের আমেজ। জেলা বিএনপির এই সম্মেলন দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আঙ্গিক নিয়ে আসে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশের কোথাও দখল-চাঁদাবাজিতে জামায়াত জড়িত নয়: জামায়াত আমির

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, তাদের দলের কর্মীরা কোনোভাবেই দখল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে নানা ধরনের জুলুম নির্যাতন সহ্য করলেও আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি এবং কখনও এসব অপকর্মে লিপ্ত হইনি। আমাদের কর্মীরা কখনোই বালুমহাল, জলমহাল, হাট-বাজার, স্ট্যান্ড বা ফুটপাত দখলের চেষ্টা করেনি।”

শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের বালুরমাঠে জামায়াতের আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, এসব কাজ হারাম এবং রাজনৈতিক কর্মীরা কখনোই এমন কার্যকলাপে জড়িত হতে পারে না। যদি কেউ ভুলক্রমে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে থাকে, তবে শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের বিরত থাকা উচিত।”

এ সময় তিনি অতীতের হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার দাবি করেন, তবে এটাকে প্রতিশোধ হিসেবে না দেখে মানব সমাজকে কলংকমুক্ত করতে চান বলে জানান। জামায়াত আমির আরও বলেন, “আমরা অতীত নিয়ে প্রতিশোধ নিতে চাই না, তবে যারা মানুষ হত্যা ও গুম করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দল্লাহ। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের দ্রুত তদন্ত নির্দেশ

সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে কুমিল্লায় যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আজ (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে সরকারের এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে কোনো ধরনের নির্যাতন ও হত্যার কঠোর নিন্দা জানায়। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুমিল্লায় গতকাল গভীর রাতে আহত অবস্থায় তৌহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে তার বাড়ি থেকে আটক করার পর তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন।

তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং এই ঘটনায় দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া সংস্কারের জন্য সরকার ইতোমধ্যে একাধিক কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের বেশিরভাগই তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সরকার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ, অপরাধ ব্যবস্থাপনা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমস্ত সুযোগ নির্মূল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ করবে। এই সংস্কার কর্মসূচি কার্যকর করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে প্রেস উইং জানায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্রলীগ নেতা শোভন আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্রলীগ নেতা সালমান ফারসি শোভনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পাঁচটায় পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠ থেকে পাবনা সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব চলছিল। শোভন বিকেলে বাইক নিয়ে এডওয়ার্ড কলেজে ঘুরতে যান। এ সময় কিছু ছেলে তাকে চিনতে পেরে আটক করে। তারা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পাবনা সদর থানায় ফোন দিয়ে জানায় নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে শিক্ষার্থীরা আটক করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেন।

থানায় ছাত্রলীগ নেতা শোভনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেলে তিনি সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বাইক নিয়ে ঘুরতে যান৷ এ সময় শিবিরের এক নেতা তাকে ডাক দিয়ে কথা বলেন। কথা বলার সময় পেছন থেকে ১৫-২০ জন ছেলে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এরপর পুলিশ ডেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তারা।

এ বিষয়ে পাবনা শহর শিবিরের সভাপতি ফিরোজ হোসেন বলেন, এডওয়ার্ড কলেজে আমাদের প্রকাশনা উৎসব চলছিল। এ সময় মাঠে আমরা ঝামেলা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাই। এরপর পুলিশ এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিবিরের কেউ জড়িত নয়। আমাদের প্রোগ্রামের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য পুলিশকে ফোন দেওয়া হয়। তার ফোন ও বাইক কে নিয়ে গেছে সে বিষয়েও আমরা কিছু বলতে পারব না।




৫ দিনের রিমান্ডে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ

রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মাহমুদুল হাসান মুন্না হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দেবী রানী রায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলেও বিচারক শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে, গতকাল (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ ডাক অফিসের গলিতে তার বোনের বাসা থেকে নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও জনতা তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান।

উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান আহমেদ পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দফায় প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে লালমনিরহাটে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছাত্ররা নিজেরাই দল গঠন করবে: ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্ররা নিজেরাই একটি দল গঠন করবে। ছাত্ররা প্রস্তুত, তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দেশজুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে এসব কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান বৈদেশিক বিষয়ক ভাষ্যকর গিডেয়েন র‌্যাচম্যানের উপস্থাপনায় একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ‘র‌্যাচম্যান রিভিউ’ নামের ওই পডকাস্টের কথোপকথন লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তিনি নির্বাচনের সম্ভাব্য যে দুটি সময়ের কথা বলেছেন, তা ভালো সময়।

কারণ, তিনি জাতীয় ঐক্য ধরে রাখছেন। তিনি এটা থেকে বিচ্যুত হতে চান না।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, একটি সম্ভাবনা হলো, ছাত্ররা নিজেরাই একটি দল গঠন করবে। শুরুতে যখন তারা উপদেষ্টা পরিষদ সভা গঠন করছে, তখন আমি তিনজন ছাত্রকে আমার উপদেষ্টা পরিষদে নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি তারা দেশকে ‘জীবন’ দিতে পারে, তাহলে তারা উপদেষ্টা পরিষদে বসতে পারে এবং জীবন দেওয়ার জন্য কী করছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা ভালো কাজ করছে। এখন ছাত্ররা বলছে, কেন আপনি আপনার–আমাদের নিজস্ব দল গঠন করেন না, আমরা একটা সুযোগ নেব। তারা বলেছে, আপনার কোনো সুযোগ নেই, এমনকি সংসদে আপনার একটিও আসন থাকবে না। কেন? কারণ, কেউ আপনাকে চেনে না। আমি তাদের বললাম, পুরো জাতি তাদের চেনে। তারা যা করতে চায়, সে বিষয়ে তাদের একটা সুযোগ দিই। সুতরাং, তারা এটা করবে।

ড. ইউনূস বলেন, দল গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে হয়তো তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এটাও একটা বিপদ। কারণ, রাজনীতি শুরু করলে সব ধরনের রাজনীতিবিদ তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। তাই আমরা জানি না তারা আমাদের দেশে যে রাজনীতি, তা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে কি না। এ ধরনের সুযোগ আছে, যা আমাদের নিতে হবে। তবে ছাত্ররা প্রস্তুত। তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দেশজুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে।

পডকাস্টে উপস্থাপক গিডেয়েন র‌্যাচম্যানে বলেন, ভারতীয়রা যেসব বিষয় বলছেন, তার একটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তারা বলছে, বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। অধ্যাপক ইউনূস হয়তো না–ও ঠিক থাকতে পারেন। কিন্তু সেখানে ইসলামিস্টরা রয়েছে, যারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা এমন লক্ষণ দেখি না। অন্তত আমি এখন কোনো লক্ষণ দেখি না। তরুণেরা সত্যিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের খারাপ কোনো কিছুর সঙ্গে সংস্পর্শ নেই বা নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছানোর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নেই। তারা এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল গঠন করছে বা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। এটা দরকার। কারণ, রক্ত দিয়ে তারা যেগুলো অর্জন করেছে, সেগুলো তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো সেই সব ব্যক্তি নিয়ে যাবে, যারা বিগত প্রশাসন ও অন্যান্যের মতো সব কিছুর পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ খুঁজছে। এটাই বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ। সুতরাং তারা এটা রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাই আমি বলব, ছাত্রদের স্বচ্ছ অভিপ্রায় থাকবে।




রাঙ্গাবালীতে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় ফেলাবুনিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা দলীয় নেতা-নেত্রীদের ছবি, ব্যানার, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কিছু সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, দীর্ঘদিন বড়বাইশদিয়ায় বিএনপির কোনো কার্যালয় ছিল না। বর্তমান সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট ফেলাবুনিয়া বাজারে দলীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেনের ছবি টাঙানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে কিছু দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে নতুন কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি চক্র রাতের আঁধারে সেখানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমারৎ হোসেন জানান, “এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চাঁদা চাওয়ার ঘটনায় দুমকীর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বহিষ্কার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. অলিউর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি ফোন রেকর্ড ভাইরাল হয়, যাতে তিনি জাকিয়া বেগম টিয়ার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছেন। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে।

গত ২৯ জানুয়ারি, বুধবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল পটুয়াখালী জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অলিউর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মতিউর রহমান মিলন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেন মোহন এর সিদ্ধান্তে দুমকি উপজেলা শাখার সদস্য মো. অলিউর রহমানকে তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও দলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সম্প্রতি, অলিউর রহমানের ফোন রেকর্ডটি ভাইরাল হলে স্থানীয় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এতে দাবি করা হয় যে, তিনি জাকিয়া বেগম টিয়ার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, কিন্তু টিয়া ২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই ঘটনার পর দুমকি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম