পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর

পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সামনে ও র‍্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই জেলা পরিষদের সামনে ভিড় জমতে থাকে। পরে একত্রিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙতে শুরু করেন। এরপর তারা একটি মিছিল নিয়ে র‍্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় যান এবং সেখানকার ম্যুরালেও ভাঙচুর চালান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, “এই প্রতীকগুলো নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের চিহ্ন। এগুলো থাকার অর্থ হলো ২০২৪-এর গণআন্দোলনকে কলুষিত করা। আমাদের শহরে এসবের কোনো স্থান নেই। ভবিষ্যতে যে কোনো স্বৈরাচারকে এভাবেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াতকে মুনাফিক বললেন রিজভী

ইসলামের নামে রাজনীতি করে জনগণের সঙ্গে মুনাফিকি করছে জামায়াত, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র হলো বিষমাখানো দুধের মাখনের মতো। নির্বাচনে যাবেন না বললেও, বিগত সময়ে শেখ হাসিনার আঁচল ধরে নির্বাচনে গেছেন। প্রতিটি সময় জামায়াত জনগণের সঙ্গে মুনাফেকি করছে।’’

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সোনাগাজী ছাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‘আপনারা ইশারা ইঙ্গিতে বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ জানে কারা নিজেদের আঙ্গিকার রক্ষা করে। খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, তারেক রহমান দেশ ছেড়েছেন, তবুও দেশকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নির্যাতিত ও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা বিএনপি পরিবার। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আগে ছিল একজন শত্রু পক্ষ, এখন অনেক শত্রু পক্ষ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তা লিফলেট বিতরণ করেছে, অথচ আওয়ামী দোসরদের বিচারের আওতায় না আনার কারণে তারা এরকম কাজ করার সাহস পায়। বর্তমান সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স বসিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করব না?’’

সমাবেশে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজনে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে বিএনপি নির্যাতিত শহীদ পরিবার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপিসহ আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় ছাত্র–জনতার ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশাসহ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিরঙ্গল গ্রামের বাদল হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার এবং হাতেম আলী সরকারি কলেজের অনার্স ৪ বর্ষ ইংরেজি বিভাগের ছাত্র বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, হেমায়েত উদ্দিন হিমু, আমিনুল ইসলাম, আশিক শরীফ, মিঠু খান, বায়জিদ, মুন্না বিশ্বাস, আলিম খান, জাকির খান, কাওসার খলিফা, শাকিল খলিফা, আবুল হোসেন, সাব্বির খান, আকাশ খান, সুমন হাওলাদার, আরিফ হাওলাদার, সেলিম হাওলাদার, সোহেল ফকির প্রমুখ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন শেষে বরিশাল থেকে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশার নেতৃত্বে অভিযুক্তরা ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ অর্ধশতাধিক ছাত্র–জনতাকে মারধর এবং কোপানোর মাধ্যমে রক্তাক্ত জখম করে। তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় নামধারী ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে *যায়যায়দিন* কে জানান, ছাত্র–জনতার ওপর হামলা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে আরিফ হাওলাদার নামে এক শিক্ষার্থী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আ’লীগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে: এ্যানি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে এবং জনগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জিম্মি করে নির্বাচনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া রাম রতন বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এ্যানি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের গভীর সম্পর্ক ছিল, যা আজও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার আপোষহীন নেতৃত্ব এবং দেশের মানুষের প্রতি তার দরদ জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, তার কথাতেই পরিস্কার, তিনি কাউকে প্রশ্রয় দেবেন না। এখানেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পার্থক্য দেখা যায়। তারেক রহমান ও বিএনপি চাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, যা কেবল বিএনপির পক্ষেই সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দত্তপাড়া রাম রতন বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগের স্লোগান! কীসের ইঙ্গিত?

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় থানার দেয়াল ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে লেখা হয়েছে “জয় বাংলা, শেখ হাসিনায় আস্থা”—যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ দেয়াল লিখন করা হয়েছে বলে ধারণা করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এতে যুবলীগ নেতা ও টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শিমু মীর ও শাহদাৎ নামে দুটি নাম লেখা হয়। তবে শাহদাৎ নামে আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোনো পরিচিত নেতার অস্তিত্ব না থাকায় বিষয়টি ঘিরে নানা জল্পনা চলছে।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনের লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কলাপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম জানান, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি কোনো কৌশলী রাজনৈতিক চাল।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ আর চাই না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কারাগারে বন্দি সাবেক বেসামরিক ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খানের ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া একটি পোস্ট নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। কারাগারে অবস্থান করে কীভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ফারুক খান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘অনেক চেষ্টা করে অনলাইনে এসেছি। জেলের চার দেয়াল আমাদের নিজ সত্তার সামনে দাঁড়া করায়। অনেক কিছু বলতে চাই, কিন্তু এখন সবই বলতে পারছি না। এতটুকুই বলবো, শেখ হাসিনাকে নেত্রী মেনেছিলাম, কিন্তু আজকে তার হঠকারীতার জন্যই আমাদের দলের এই পরিণতি। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং সর্বস্তরে শুদ্ধি অভিযান ব্যতীত কোনও ধরনের রাজনীতিতে ফেরা উচিত হবে না। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ আর চাই না। বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ফেরত চাই। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’

ফারুক খানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এই স্ট্যাটাস নিয়ে নানামুখি আলোচনা চলছে। যদিও ফেসবুক পেজটি আবারও ডিজেবল করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্ট্যাটাসের পর অ্যাকাউন্টটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।




গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা, এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, গুমের ঘটনাগুলো তদারকির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন ও অভিযোগ

সংস্থাটির ‘আফটার দ্য মনসুন রেভ্যুলিউশন: এ রোডম্যাপ টু লাস্টিং সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা গুমের ঘটনা তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় কমিশনের প্রথম প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ৩,৫০০-এর বেশি জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে।

গোপন আটক কেন্দ্র ও নির্যাতনের বিবরণ

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম হওয়া ব্যক্তিদের গোপন আটক কেন্দ্রে আটক রাখা হতো, যা বন্দীদের জন্য “মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর” অভিজ্ঞতা তৈরি করত। আইনজীবী মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেছেন, যেখানে তাকে রাখা হয়েছিল সেটি পরিকল্পিতভাবে নির্মিত নির্যাতন কেন্দ্র ছিল।

এইচআরডব্লিউ দাবি করেছে, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর গোপন আটক কেন্দ্র থেকে তিনজনকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাদের বিষয়ে সরকার বছরের পর বছর ধরে আটক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল।

র‍্যাব ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও গুমের জন্য দায়ী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ভেঙে দেওয়া উচিত। জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারকে এই বাহিনী বিলুপ্ত করার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, র‍্যাব প্রধান এ কে এম শহীদুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, বাহিনীর গোপন আটক কেন্দ্র রয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে র‍্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।

মানবাধিকার সংস্থার সুপারিশ

এইচআরডব্লিউ বলেছে, বিভেদমূলক রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যেও ঢুকে গেছে। তাই স্বাধীন বেসামরিক তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আটকের স্থানগুলোতে স্বাধীন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ আইন লঙ্ঘন করলে তাকে দায়ী করা হবে—এমন নীতিমালা তৈরি করা উচিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশে নির্যাতিত প্রবাসীদের পুনর্বাসনের আহ্বান জামায়াতের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কারা নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “জুলাই ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা আন্দোলনে অংশ নেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও মতামত প্রকাশ করে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করেন। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীরা ব্যাপক মিছিল ও কর্মসূচি পালন করে এবং এক পর্যায়ে সরকারকে চাপ দিতে রেমিট্যান্স বন্ধের কর্মসূচি নেয়।”

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “এ কর্মসূচি চলাকালীন বহু প্রবাসীকে গ্রেফতার করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে সাজা দেওয়া হয়। বিশেষত সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে আওয়ামী লীগের দোসররা আন্দোলনকারীদের তালিকা করে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে, যার ফলে অনেক প্রবাসী গ্রেফতার হয়ে সাজা পান।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের উদ্যোগে বেশ কয়েকশত প্রবাসী মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। তবে, এই প্রবাসীরা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বিদেশে যেতে চাওয়া প্রবাসীদের সহায়তা, দেশে চাকরির সুযোগ তৈরি, ব্যবসা করতে ইচ্ছুকদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং বয়স্কদের সরকারি ভাতার আওতায় আনার মাধ্যমে পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলাপাড়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শত শত একর জমি দখলের অভিযোগ

সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমানের বিরুদ্ধে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শত শত একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘গামছা বাহিনী’, যা ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও জমি দখলের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

ক্ষমতা থেকে দখলদারিত্ব

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, মুহিববুর রহমান ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রেখা মিলে প্রায় ২০০ একর জমি দখল করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, সরকারি খাসজমি, জলাভূমি ও ঘের। এমনকি তার ভাই, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমানের নামেও বেশ কয়েক একর জমি নথিভুক্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ভুক্তভোগী মাহাবুব আলম বলেন, “আমার বাবা মসজিদের ইমাম ছিলেন। কষ্ট করে জমি কিনেছিলেন। আমি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ও ঢালাই কাজ করে দুই একর জমি কিনেছিলাম। কিন্তু মুহিববুর রহমান আমাদের জমি জোর করে দখল করে নেয়। পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমাদের সেখানে যেতে দেয় না।”

আরেক ভুক্তভোগী প্রিন্স খলিফা বলেন, “বাবার ২ একর ৩৭ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে তিনতলা ভবন বানিয়েছেন মুহিববুর রহমান। আমি প্রতিবাদ করায় আমার নামে ৮টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”

ধুলাস্বর ইউনিয়নের ছলেমান বিশ্বাস বলেন, “আমাদের তিন একর ৩৩ শতাংশ জমি দখল করে নেয়া হয়েছে। একসময় সিকদার রিসোর্টে ডেকে নিয়ে জাকাত হিসেবে ৮০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। রাজি না হলে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হয়। আমাদের বাড়িঘর কুপিয়ে দিয়েছে, ফলে আমরা পলাতক জীবনযাপন করছি।”

আইনি পদক্ষেপ

পটুয়াখালী জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি.) অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, “মুহিববুর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আইনের আশ্রয় নিলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মুহিববুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জমি দখলের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। তবে প্রশাসন এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। বর্তমানে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থাকার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ নামে বা তাদের মতাদর্শে আর রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ফ্যাসিবাদী নীতির ওপর চলেছে, যার ফলে গণহত্যা পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে। যারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন, তাদের উচিত এই আদর্শ ত্যাগ করা। তবে তাদের রাজনৈতিক বা নাগরিক অধিকারে কোনো বাধা নেই। তারা চাইলে নতুন দল গঠন করতে পারেন বা অন্য দলে যোগ দিতে পারেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, কারণ তাদের দৃশ্যমান রাজনৈতিক অবস্থান নেই। তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, যা বিভিন্ন স্থানে গুপ্ত হামলা ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্ত অনেক নেতা সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখান থেকেই বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার যদি সহযোগিতা না করত, তাহলে তারা এসব করতে পারত না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভারত ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করবে।

এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না—এটি একটি জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়। আদালত, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে। তবে অভ্যুত্থানকারীদের দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি নেই।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম