“নিরপেক্ষ ও শক্ত হাতে দেশ পরিচালনার আহ্বান মির্জা ফখরুলের”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় রাখতে নিরপেক্ষভাবে এবং শক্ত হাতে সরকার পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের জনগণের জন্য একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আপনি যদি এই সরকারের নেতৃত্ব দেন, তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যে, আপনি পক্ষপাতিত্ব ছাড়া শক্ত হাতে দেশের সরকার পরিচালনা করবেন।”

তিনি আরও জানান, অনেকে বিএনপিকে সমালোচনা করছে যে তারা শুধু নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। “আমরা শুধু নির্বাচন নয়, বরং সার্বিক সংস্কারের কথা বলছি। যখনই প্রকৃত নির্বাচন হবে, তখনই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আজকাল নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে, যা দেশের শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর। তবে আমরা আশাবাদী যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধতায় আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের শক্তি, জাতির দুঃসময়ে তারা সবসময় এগিয়ে এসেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এই বাহিনীর সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের নজির।”

মির্জা ফখরুল শেষের দিকে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একত্র হয়ে এবং ধৈর্য ধরে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোট যুদ্ধের আগেই মনোনয়ন যুদ্ধে বরিশালের বিএনপি নেতারা!

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বরিশাল বিভাগের বিএনপির রাজনীতিতে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ দখলে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। একদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের লবিং-তদবির, অন্যদিকে শো-ডাউন ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন চলছে পুরো বিভাগজুড়ে। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ ও ক্ষমতার লড়াই।

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠী-১ আসন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মামলা জটিলতার কারণে ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর বাদ পড়ায় এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম জামাল। প্রথমবারের মত মনোনয়ন পাওয়া জামাল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিএইচ হারুনের কাছে পরাজিত হলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে আলোচনায় ছিলেন।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আমরা সবাই জানি, দলের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ। আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য কাজ করে আসছি এবং আমি নিশ্চিত যে দলীয় মনোনয়ন পাব।

সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিষ্টার ওমর ধানের শীষ ছেড়ে নৌকায় ওঠার পর কপাল খুলে যায় জামালের। ৫ই আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর এলাকায় ফিরে রাজনীতির মাঠ নিয়ন্ত্রনে নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা। তবে সম্প্রতি ৩১ দফার লিফলেট বিতরণের নামে শো-ডাউন করে আলোচনায় এসেছেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়ক মহানগর বিএনপির সভাপতি (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে অবস্থান করা এ নেতা দেশে ফিরে নির্বাচনীয় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যদিও খুব অল্প সময়েই সেলিম রেজা এলাকায় মজবুত অবস্থান করেছেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারী রাজাপুরে লিফলেট বিতরণকালে সেলিম ও তার লোকজনের উপর হামলা চালায় রফিকুল জামাল সমর্থকরা।

এমন অবস্থা শুধু ঝালকাঠীতে নয় বিভাগের ২১ আসনেই ভোট যুদ্ধের আগে মনোনয়ন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে লোকসমাগম করে যার যার অবস্থান থেকে স্থানীয় পর্যায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি নজরে আসতে চাইছেন হাইকমান্ডের। কখনো কখনো জড়াচ্ছেন বিবাদে। সদর ও নলছিটি নিয়ে গঠিত ঝালকাঠী-২ আসনে মনোনয়ন নিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ আসনে ২০০১ সালে প্রথমবারের মত মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা ইলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তাকে দলীয় টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমির হোসেন আমুর কাছে হেরে যান তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ইলেনকে বাদ দিয়ে দলীয় টিকিট দেওয়া হয় জেবা আমীন কে। তিনিও আমুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। সাবেক এ দুই প্রার্থী আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক পেতে জোর লবিং করছেন। তাদের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু। বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরসহ সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একটি বড় অংশ নান্নুর পক্ষে কাজ করছেন।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৫ বছর পর এবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত জানাবে, আর আমি সেই সমর্থনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত।

ঝালকাঠি জেলার এক সাধারণ ভোটার, মালা বেগম বলেন, যে প্রার্থী আমাদের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবে এবং যিনি জনগণের পাশে থাকবেন, তাকে আমরা ভোট দেব। শুধু বড় বড় নেতাদের কথা নয়, আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষদের জন্য কাজ করা প্রার্থীই আমাদের প্রয়োজন।

চরফ্যাশন ও মনপুরা গিয়ে গঠিত ভোলা-৪ আসন। এ আসনে তিনবারের এমপি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাইতো শক্তির জানান দিতে গত ২২শে জানুয়ারী চরফ্যাশনে বিশাল সমাবেশ করেছেন সাবেক এ ছাত্রনেতা। এর ঠিক ৫দিন পর ২৭শে জানুয়ারী সমাবেশের নামে শো-ডাউন করেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। তিনিও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন।

গত ১৯ জানুয়ারী বরিশালের হিজলায় বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ নিয়ে গঠিত বরিশাল-৪ আসনের সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়েদুল হক চাঁন। ওই সমাবেশে এবায়েদুল হক চাঁন এ আসনে আবারও মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদকে মনোনয়ন দেওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। কারণ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েই এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ফরহাদ। ওই নির্বাচনে সরাদেশে মাত্র ২৮টি আসনে জয় পেয়েছিলো বিএনপি। এ আসনে মনোনয়ন পেতে লবিং করছেন স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান। সম্প্রতি তিনি মেহেন্দিগঞ্জে তার অনুসারীদের নিয়ে শো-ডাউন করেছেন।

বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসন বরিশাল-৫। সদর উপজেলা ও মহানগর নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বাধীনতা পরবর্তী ১১টি সংসদ নির্বাচনে সাতবারই জয় পেয়েছিলো বিএনপি। এরমধ্যে চারবার জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। সবশেষ ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছিলো বিএনপি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীমের কাছে পরাজিত হন। যদিও ওই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। দলের অপর উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। হাসিনা সরকার পতনের পর তিনি এলাকায় সময় দেওয়া শুরু করেছেন। সম্প্রতি নগরীর শীতার্থদের মাঝে কম্বলও বিতরণ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। আলাল ২০০১ সালে তৎকালীন উজিরপুর-বাবুগঞ্জ নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসন থেকে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে তাদের মতামত প্রকাশে প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ প্রকৃত প্রতিনিধিকে বেছে নেবে।

বরিশাল সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচনে একজন সৎ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করা প্রার্থী নির্বাচন করবেন। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার উন্নয়ন আটকে আছে, তাই এবার আমরা প্রকৃত উন্নয়ন চাই।

বরিশাল গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন কে কেন্দ্র করে ত্রি-ধারায় বিভক্ত বিএনপি। এখানকার সাবেক এমপি জহির উদ্দীন স্বপন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা। আগামীতেও দলীয় টিকিট নিশ্চিত করতে তিনি মাঠে কাজ করছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। এ আসনে স্বপনের বাইরে মনোনয়ন লাভের আশায় দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন বুনছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। সোবাহান ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুসের কাছে হেরে যান।

বরিশাল উজিরপুর-বানারীপাড়া নিয়ে গঠিত বরিশাল-২ আসনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির টিকিট পেয়েছিলেন। কিন্তু বিজয়ের মালা পরতে পারেননি। যদিও তৎকালীন নির্বাচন ছিলো পুরোটাই প্রশ্নবিদ্ধ। দিনের ভোট রাতে না হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতা। ওই নির্বাচনের পর তিনি দেশ ছাড়েন। ফেরেন ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর। তৃতীয়বারের মতো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ইতিমধ্যে মাঠ গুছিয়েছেন সরফুদ্দীন সান্টু। তবে তার গোছানো মাঠে ধানচাষের স্বপ্ন দেখছেন বিএনপির সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু। তিনিও এ আসনে মনোনয়ন লাভের আশায় কাজ করছেন। এর বাইরে সম্প্রতি বিদেশে পালিয়ে থাকা সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির নেতা গোলাম ফারুক অভি মডেলকণ্যা তিন্নি হত্যা মামলা থেকে খালাশ পাওয়ার পর নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অনেকে বলছেন অভি দেশে ফিরে বিএনপিতে যোগ দেবেন এবং বরিশাল-২ আসনে মনোনয়ন চাইবেন।

এদিকে, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা শরীফ উদ্দিন বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনেক বিবাদ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি, যে প্রার্থী জনগণের জন্য কাজ করবে, তাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।

বাবুগঞ্জ ও মুলাদী নিয়ে গঠিত বরিশাল-৩ আসনে অবশ্য মনোনয়ন নিয়ে দৌঁড়ঝাপ তেমন একটা নেই। এ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি জয়নুল আবেদীনের দলীয় টিকিটপ্রাপ্তির বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফেরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে সেলিমা রহমান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থীর কাছে হেরে যান। ওই নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে জয়নুল আবেদীন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি মাঠে না থাকলে এখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন সেলিমা রহমান।

সদ্য বিদায়ী বছরের ৭ নভেম্বর বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজনের নেতৃত্বে র‌্যালি বের করা হয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৬ আসন। রাজন এ আসনে আগামীতে মনোনয়ন চাইবেন। অপরদিকে এখানকার সাবেক এমপি আবুল হোসেন খানও নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক পদে আছেন। আবুল ও রাজনকে ঘিরে দুই ধারায় বিভক্ত স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আগামী সংসদ নির্বাচনে সাবেক এমপিদের পাশাপাশি নতুন অনেকেই মনোনয়ন লাভের আশায় মাঠে কাজ করছেন। তবে দলীয় সূত্র বলছে চাইলেই যে কাউকে এবার মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ-সম্ভাবনা কোনটাই নেই। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কার কি অবস্থান তার চুলছেড়া বিশ্লেষন করেই সিদ্ধান্ত নেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

উড়ে এসে জুড়ে বসে কিছু দান-খয়রাত করে কেউ এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ আগামী সংসদ নির্বাচন হবে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন দীর্ঘ ১৫ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি। এত বছর পর তাদের সামনে সেই সুযোগ এসেছে। এ কারণে দেখে-শুনে, শত বিচার বিশ্লেষণ করে ভোটাররা যেমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন তেমনি দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার আগে অন্তত দশবার ভাববেন নীতি নির্ধারকরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান মারা গেছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

বিষয়টি করেছেন আবদুল্লাহ আল নোমানের ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল আজিম হিরু।

তিনি বলেন, ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আবদুল্লাহ আল নোমান। পরে দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার জানাজাসহ পরবর্তী কার্যক্রম দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৯১ সালে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি এলাকা থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ষাটের দশকের শুরুতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নোমান যোগ দেন ছাত্র ইউনিয়নে। মেননপন্থি ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্রজীবন শেষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর হাত ধরে যোগ দেন শ্রমিক রাজনীতিতে। পূর্ববাংলা শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ছিলেন। গোপনে ভাসানীপন্থি ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত হন। ১৯৭০ সালে তাকে ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যুদ্ধ শেষে আবারও ন্যাপের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠনের পর ১৯৮১ সালে যোগ দেন দলটিতে।




দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক বিপর্যস্ত: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানিয়েছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এতটা নাজুক যে, এটি স্মরণকালের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

জিএম কাদের বলেন, “শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশে মানুষ আতঙ্কে ঘুমাতে পারছে না। দেশে এখন চোর, ডাকাত এবং ছিনতাইকারীর অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে। এটি যেন এক আতঙ্কের রাজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও জানান, “অপারেশন ডেভিল হান্টের নামে বিরোধী মত দমনে পরিচালিত হচ্ছে, আর নিরাপদ মানুষদের ধরিয়ে অন্যায়ভাবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। অপরাধীরা বুক চিতিয়ে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, “রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি না করে, সকলকে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে জন্মদিনের ফুল, মিষ্টি এবং কেক উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ-খবর নেয় না কেউ: বিএনপি নেতা”

গণমাধ্যমকর্মীরা দেশের উন্নয়ন, সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচন ও মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন, কিন্তু তাদের খোঁজ নেয় না কেউ। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের মূল্যায়ন করা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে দেশে গণতন্ত্র স্থায়ী হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই বক্তব্যগুলো বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ। তিনি ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির (বিআরইউ) কার্যালয়ে সোমবার এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আবু নাসের বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য সম্পর্কে সকলেই অবগত আছেন। দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপরাধমূলক কাজ হলে ছাড় দেয়া হবে না। দেশের সব বিএনপি নেতার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উন্নত দেশে বসবাস করে বিভিন্ন দেশের নিয়ম-কানুন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। যদি দল মনে করে, আমাকে নির্বাচনে মনোনীত করবে, তবে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”

এছাড়া, বিআরইউ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খালিদ সাইফুল্লাহ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল ‘পুলিশ রাষ্ট্র’। দলীয় ক্যাডার স্টাইলে পুলিশ মাঠে সক্রিয় ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদেরসহ নিরীহ মুসল্লিরা জামায়েত-শিবির তকমা দিয়ে গ্রেফতার হয়েছিল। আমি ও আমার পরিবার এই সময়ে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত হয়েছিলাম।”

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিআরইউ সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা, যেমন: রাসেল হোসেন (দখিনের সময়), মো. নূরুজ্জামান (কাগজ), শাহিন হাফিজ (ইত্তেফাক), মাসুদ রানা (নিউ নেশন), সৈয়দ মেহেদী হাসান (ঢাকা পোস্ট), শাওন খান (জাগো নিউজ), রবিউল ইসলাম রবি (বাংলা কাগজ), নাজমুল ফকির (বাংলা টিভি), সিএইচ মাহাবুব রহমান (আমাদের বরিশাল) এবং অনেক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদকর্মী।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআরইউ সাবেক সভাপতি ও ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“আমরা সরকার গঠন করলে দেশে আর ফ্যাসিস্টের জন্ম হবে না”

বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক বলেছেন, “যদি আমাদের সরকার গঠন করা হয়, তবে বাংলাদেশে আর কখনও ফ্যাসিস্টের জন্ম হবে না।” তিনি সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দলের আয়োজিত একটি সমাবেশে এ মন্তব্য করেন।

ফারুক তার বক্তব্যে সব রাজনৈতিক শক্তিকে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা একটি ঐক্য গড়ে তুলি, যাতে দেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিজম ফিরে না আসে। যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তবে দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কখনও বন্ধ হবে না এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।”

এছাড়া, নতুন দল গঠনের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা নতুন দলকে স্বাগতম জানাই, তবে নতুন দল করে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রথমে দিতে হবে, তারপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ঠিক করবে কখন স্থানীয় নির্বাচন হবে এবং কী কী সংস্কার করা দরকার।”

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। যদি না করেন, শেখ হাসিনা আবার দিল্লি থেকে বসে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করবে, আর এটি একমাত্র নির্বাচিত জনগণের সরকারই রুখে দিতে পারবে।”

ফারুক বলেন, “রোজার আগে দ্রব্যের উপর সিন্ডিকেট যেন না হয়, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে।”

প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটনের সভাপতিত্বে, সমাবেশে সংগঠনের মহাসচিব আহমেদুর রহমানসহ অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘জামায়াতের ছুরিকাঘাত: বিএনপির পেছনে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা’ : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত প্রতি সুযোগ পেলেই বিএনপিকে পিছন থেকে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করেছে।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, “যতবারই জামায়াতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ততবারই তারা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান একাদশ জাতীয় নির্বাচন করানোর সুযোগ দিয়েছেন, তবে যাদের বিরুদ্ধে একাত্তর সাল পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাদের উদারতার মাধ্যমে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক দলটি বারবার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”

রিজভী আরও বলেন, “যারা জুলাই আন্দোলনে রিকশা চালাতে না পারলে পরিবারের ভাত জোগাতে পারতেন না, তারা আত্মদান করেছেন। তাদের আত্মত্যাগকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অথচ আজকের সরকার তাদের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেয়নি।”

এছাড়া ছাত্রশিবিরের গতকালকের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে রিজভী মন্তব্য করেন, “ছাত্রশিবির, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন, বিএনপির বিরুদ্ধে আরও ক্ষতিকর বক্তব্য দিয়ে আসছে। এই সংগঠনের অনেক নেতার অবস্থান ছাত্রলীগে রয়েছে, এবং তারা বর্তমানে বিভিন্ন পদ-পদবীও পেয়েছেন।”

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, “দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে মুছে ফেলা যাবে না। বসন্তবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই, এসব চলতে থাকবে।”

এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




 রাজপথে প্রতিপক্ষদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে শিরিন

বিএনপির স্থগিত সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেছেন, কিছু মানুষ তার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে এবং রাজপথে টিকে না পেরে অন্ধকারের মাধ্যমে তার পথরোধ করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, এসব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় তার রয়েছে, এবং তার রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নেতাদের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার, সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিরীন এসব মন্তব্য করেন।

শিরীন বলেন, “আমি একজন নারী হিসেবে রাজপথে প্রতিযোগিতা করে উঠে এসেছি। রাজনীতিতে নারীদের জন্য অনেক বাধা থাকলেও, আমি দলের সহায়তায় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত এসেছি। তবে কিছু নষ্ট-ভ্রষ্ট মানুষ আমার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং আস্থা রয়েছে জিয়া পরিবারের প্রতি, এবং তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং আস্থাই আমাকে চলতে সাহায্য করছে। আমি এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রমাণ করবো, ইনশাআল্লাহ।”

শিরীন বলেন, তিনি বরিশাল বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে ছিলেন, এবং তার উপর একাধিক মামলা, গ্রেফতার এবং কারাবরণ হয়েছে। তিনি বলেন, “বরিশালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করতে গিয়ে আমাকে একাধিক মিথ্যা সংবাদে জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।”

তিনি একাধিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, “এই সকল সংবাদ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে এবং আমার দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

শিরীন দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মিথ্যা খবর প্রচার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাবেক সমন্বয়কদের নতুন সংগঠন, সম্ভাব্য নাম ‘বিপ্লবী ছাত্রশক্তি

সাবেক সমন্বয়কদের নতুন সংগঠন, সম্ভাব্য নাম ‘বিপ্লবী ছাত্রশক্তি’
• কমিটি হতে পারে ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট
• মূল পদে আসবেন ৪ জন
• পদে আসতে হলে ছাত্রত্ব আবশ্যক
• মধ্যমপন্থার রাজনীতিতে গুরুত্বারোপ
বিজ্ঞাপন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বেরিয়ে নতুন ছাত্রসংগঠন করতে যাচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের একটি অংশ। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধুর ক্যান্টিন থেকে এর আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সংগঠনটির নাম হতে পারে ‘বিপ্লবী ছাত্রশক্তি।’

আত্মপ্রকাশের দিনই ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সংগঠনটির বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবারই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের গুঞ্জন উঠলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচন, দলের নামসহ বিভিন্ন বিষয় অমীমাংসিত থাকায় আত্মপ্রকাশের দিন পেছানো হয়।




নয়া দলে যোগ দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চলতি মাসের ২৬-২৭ তারিখে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল। এই দলে যোগ দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দল ঘোষণার আগে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন বাহিনীর সাবেক কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

নতুন দল ঘোষণা নিয়ে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। নতুন দলের আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলামের দায়িত্ব নেয়ায় জোড়ালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দলের সদস্যসচিব পদ নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে আলোচনার ভিত্তিতে দলের শীর্ষ চারটি পদ মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পদগুলোতে কারা থাকছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে আরও দুটি পদের বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে।

এর আগে, জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্যাম্পেইন চালায় সংগঠনটি। এরপর ‘আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি জনমত জরিপও চালালো হয়। সেখানে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম, লোগোসহ বিভিন্ন মতামত জানতে চাওয়া হয়। এদিকে নয়া রাজনৈতিক দলের নাম ইংরেজীতে হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে।