জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ; আহ্বায়ক নাহিদ, সদস্য সচিব আখতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের তরুণদের নেতৃত্ব গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করেছে। আর এ নতুন দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে আখতার হোসেনকে।

শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন রাজনৈতিক দল ও আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবের নাম ঘোষণা করেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন রাব্বীর বোন মীম আক্তার।

মীম আক্তার বলেন, ইতিহাসে দেখিনি বোনের কাঁধে ভাইয়ের লাশ। আমরা দুই বোনের কাঁধে ছিল ভাইয়ের লাশ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু
পরে সদস্য সচিব আখতার হোসেন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।

এতে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন শামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদিল, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হয়েছেন ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সরওয়ার রিভা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হয়েছেন সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হয়েছেন আবদুল হান্নান মাসউদ।

বিকেল ৪টার পর নতুন দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির আহমেদ আলী কাসেমী, বিকল্পধারার নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্য জোটের সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কূটনৈতিকদের মধ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পক্ষে একজন কাউন্সিল অংশ নিয়েছেন বলে মঞ্চ থেকে জানানো হয়।




বিএনপির বর্ধিত সভায় ১০ সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপির এবারের বর্ধিত সভা বিশেষ অর্থ বহন করছে বলে মনে করেন দলটির নেতাকর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলের মাঠে বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতারা এতে অংশ নেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৬ বছর পর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিএনপির বর্ধিত সভায় ১০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির পক্ষে থেকে জানানো হয়, স্বৈরাচার বিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী রাজনৈতিক দল সমূহের যুগপৎ এক দফা আন্দোলনের পথ ধরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছে।

সভায় মহান একুশে, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার/ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ ১৬ বছরের অবিরাম আন্দোলন এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। আহত, পঙ্গু, দৃষ্টিহীন ও নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে সব প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়ন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সুচিকিৎসা ও দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনির্বাচিত অবৈধ সরকার বিচারের নামে প্রহসন করে মিথ্যা অভিযোগে কারারুদ্ধ করবে তা নিশ্চিত জেনেও আপোষহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে কারারুদ্ধ হয়েছে। সেই অবস্থায় সরকারি ষড়যন্ত্রে ভুল চিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থ হয়েও বিএনপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল সমূহকে নৈতিক শক্তি যুগিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মূল প্রেরণা হিসাবে ভূমিকা পালন করায় সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। বিএনপি এবং এই দলের সর্বস্তরের গর্বিত নেতা-কর্মীরা দেশনেত্রীর দ্রুত পূর্ণ আরোগ্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছে।

বর্ধিত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য অবৈধ সরকার খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করার পর দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ, বিএনপি ও অঙ্গদল-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যখন দেশ, দল ও জনগণের আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তখন স্বৈরাচারী সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়ে অসুস্থ অবস্থায় প্রবাসে থাকতে বাধ্য হওয়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। এমন কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়ে তিনি দিন রাত অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে দলকে সুসংহত করে আন্দোলনকে বেগবান করে তা অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অসংখ্য রাজনৈতিক দলের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ১ দফা দাবি আদায় করে ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা বাস্তবায়নের যুগপৎ আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ও সফল ধারার সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের পথ ধরেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হাজারো ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়, অবৈধ সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি স্থাপন ও শক্তিশালী করণের মাধ্যমে বিজয়ী করার লড়াইয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কৌশলী, সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রশংসা অর্জন করেছে।

বর্ধিত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, ২০১৫ সালে খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন ২০৩০ এবং যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গৃহীত ২০২৩ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব দল/সংগঠনের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করা সময়ের দাবি। ঐক্যমত্যে গৃহীত যেসব সংস্কার প্রস্তাব নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন সম্ভব তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং যেসব সংস্কারের জন্য আইন কিংবা সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজন তা নির্বাচিত জাতীয় সংসদে অনুমোদনের লক্ষ্যে পেশ করার জন্য সভা প্রস্তাব করছে।

বিএনপির সিদ্ধান্তের মধ্যে আরও রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জনকল্যাণমূলক সব দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সাফল্য নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণকে তাদের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বাগ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা সব গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব। কাজেই এই সভা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

সভায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অযৌক্তিক ঊর্ধ্বগতির এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির পক্ষে থেকে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন, গায়েবি মামলাসহ সীমাহীন গণবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল অবৈধ সরকার প্রধানসহ তার চিহ্নিত সহযোগীরা কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং এখনও অসংখ্য অপরাধী অবাধে বিচরণ করছে তার একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সরকারের কাছে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে সভা পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এবং তাদের সহযোগী ১/১১ সরকারের দায়ের করা সব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।

বিএনপিকে জন আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সভা দলের এবং অঙ্গ দল ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের মধ্যে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দলীয় নীতি, আদর্শ, কর্মসূচি বাস্তবায়নে অবহেলা এবং দুর্নীতি-অনাচারসহ গণবিরোধী সব কর্মকাণ্ড ও আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকার জন্যও সবাইকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।




এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আ.লীগ-জাপা বাদে সব দল আমন্ত্রিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ-জাপা বাদে সব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদেরও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রকাশ করা হতে পারে দলের লোগো-মনোগ্রাম-পতাকাও।

নতুন এই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বড় জমায়েতের প্রচেষ্টা রয়েছে দলটির। এজন্য আগের সিদ্ধান্ত বদল করে গতকাল দলের উদ্যোক্তারা ঢাকার বাইরে থেকেও নেতাকর্মীকে অনুষ্ঠানে আসার নির্দেশনা দেন।

দলটির অন্যতম প্রধান নেতা ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে আগামীকাল সারা বাংলাদেশ থেকে ব্যানার আসবে। এই নামে মুখরিত হোক বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় যমুনায় গিয়ে সরকারপ্রধানের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন এনসিপির নেতারা।

এদিকে, গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের দল গঠনে সরকারের সহায়তার পাশাপাশি ছাত্রদের দলকে ‘কিংস পার্টি’ বলেও আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কিছু দলের। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিধায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেয়েছেন কেউ কেউ। তাই বিতর্ক এড়াতে উপদেষ্টাদের কেউ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে থাকবেন না বলে জানা গেছে। এমনকি দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও যাচ্ছেন না অনুষ্ঠানে।

এদিকে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শরিক ৩৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অনুষ্ঠানে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ৫১ দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকদের। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিক এবং জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জাতীয় নাগরিক পার্টির এ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে।




গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি‌।

কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিব পদপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার। অন্যান্য পদপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মহির আলম, মুখপাত্র আশরেফা খাতুন, ঢাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, সদস্য সচিব আল আমিন সরকার প্রমুখ।

এদিকে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরীকে। অন্য দুজন হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সংগঠক নাঈমা আবেদীন।

তদন্ত কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বলে জানান আবু বাকের মজুমদার।

সংবাদ সম্মেলনে বাকের মজুমদার বলেন, গতকাল আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ঘিরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে‌। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কখনোই আমরা চাই না যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। গতকাল একটা অংশ এসে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। আমরা কমিটি ঘোষণার আগেই এই পরিস্থিতি করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, অনেক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অছাত্র হওয়া সত্ত্বেও কমিটিতে থাকে। আমরা যে জরিপ করেছি সেখানে ছাত্ররা বিভিন্ন মতামত দিয়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সংগঠনে ২৮ বছরের বেশি বয়সের কেউ থাকবে না। দেশের অন্যান্য ছাত্র সংগঠন রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি করলেও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ কখনো লেজুরবৃত্তি করবে না।

আবু বাকের বলেন, সারা দেশের স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা সব প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আমরা করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গতকাল প্রকাশ করতে পারিনি। আহ্বায়ক কমিটিতে হাজার-হাজার মানুষকে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আহ্বায়ক কমিটির কাজ হচ্ছে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটভিত্তিক কমিটি করা। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কমপক্ষে ৬ মাস সময় লাগবে সারা দেশের কমিটি করতে।

সারা দেশে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে যোগ দেওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা দেখতে পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির সদস্য সচিব জাহিদ আহসান বলেন, কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, কে নর্থ সাউথে পড়ে, কে ব্র্যাকে পড়ে সেটা আমরা দেখব না। জুলাই স্পিরিটকে ধারণ করে দেশের জন্য যারা কাজ করতে চায় আমরা তাদেরকে গুরুত্ব দেব। জুলাইতে যেহেতু আমরা এই বিভাজনটা করিনি, আজকেও আমরা এটার পক্ষে নই।




নতুন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে যারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির সমম্বয়কদের উদ্যোগে ‌‘শিক্ষা, ঐক্য, মুক্তি’ স্লোগান নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)’। তবে আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে নতুন দলের কমিটিতে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। তাদের বিক্ষোভের ফলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে ক্যাম্পাসে।

আজ বুধবার বিকাল ৩টায় মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের কথা ছিল।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তা পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ও মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে দুটি গ্রুপে নতুন ছাত্র-সংগঠনের নেতৃত্বে আসা বাকের-জাহিদও সংগঠনের নামে স্লোগান দেন। অন্যদিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে আরেকটি গ্রুপ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

এসময় তারা ‌‘ঢাবির সিন্ডিকেট ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘ঢাবির কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘প্রাইভেটের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘প্রাইভেট ছাড়া কমিটি, মানি না মানবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রশীদুল ইসলাম রিফাতকে নিয়েও স্লোগান দেন তারা। তাদের বলতে শোনা যায়, ‘দুঃসময়ের রিফাত ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘রিফাত ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’।

একদিকে কমিটি ঘোষণা আটকানোর চেষ্টা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কমিটি ঘোষণা দিতে তৎপরতা।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষে শুরু হয় উত্তেজনা। দুই পক্ষের হাতাহাতির মধ্যেই আবু বাকের মজুমদার ঘোষণা দেন নতুন ছাত্র সংগঠনের। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হন। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রস্থান করে উভয়পক্ষের লোকজন। তবে মধুর ক্যান্টিনের আশপাশেও বিশৃঙ্খলভাবে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সোয়া ৬টা) ক্যাম্পাসের হল পাড়া ও মধুর ক্যান্টিনের পাশে অবস্থান নিতে দেখা যায় উভয়পক্ষের লোকজনকে।
নতুন ছাত্র-সংগঠনের একাধিক উদ্যোক্তা জানান, মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রশীদুল ইসলাম রিফাত (রিফাত রশিদ) এর শীর্ষ পদে আসা নিয়ে বিভক্তির সূত্রপাত। রিফাত রশিদ শীর্ষ চারপদের একটিতে আসতে চান। কিন্তু সংগঠনের নারী সদস্যদের বিরোধিতার কারণে তাকে শীর্ষ পদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে রিফাত রশিদের অনুসারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

বিক্ষোভরত অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে ঢাকা কলেজের ইন্টারমেডিয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ হক বলেন, আমি রিফাত রশিদ ভাইয়ের জন্য আসছি। যখন ৬ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজতে তখন কোটি টাকার প্রলোভনের মুখেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এখন রিফাত রশিদকে মাইনাস করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে জানতে রশীদুল ইসলাম রিফাতকে (রিফাত রশীদ) একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




সরে দাঁড়ালেন জোনায়েদ ও রাফে




সাবেক সমন্বয়কদের নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশ বিকেলে




চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে দুই গ্রুপের হাতাহাতি, ককটেল বিস্ফোরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির এক সমাবেশে দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বাইরের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্কে বিএনপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা দাবি ও প্রতিবাদের কথা বলা হয়, যেমন: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পথে উত্তরণের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা।

তবে, সমাবেশে একটি বিতর্ক দেখা দেয় যখন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল হককে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা চেয়ার ভাঙচুর করে এবং সমাবেশস্থলের বাইরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান মিঞা এবং প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশ-ঈমান রক্ষা ও ‘ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের শপথ

ঝালকাঠির নেছারাবাদ দরবারের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ঈসালে-সওয়াব ওয়াজ-মাহফিলের সমাপনী দিনে দেশ-ঈমান রক্ষা এবং ‘ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের শপথ গ্রহণ করা হয়েছে। বাদ ফজর শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী এই মাহফিলের শেষ দিনে সভাপতিত্ব ও আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের গদিনশীন পীর ছাহেব, আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর।

মাহফিলের আগের দিন, রোববার সকাল ১০টায় দেশের খ্যাতনামা পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ জলসা অনুষ্ঠিত হয়। এই জলসায় আলেমসমাজের ঐক্য এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে একটি গণমুখী ইসলামী সরকার কায়েমের ব্যাপারে উপস্থিত লাখো মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইসলামী জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, যা সাধারণত অন্যান্য মাহফিলে দেখা যায় না।

সমাপনী বয়ানে হযরত নেছারাবাদী পীর ছাহেব হুজুর দেশ ও ঈমান রক্ষা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “ইসলামের বাস্তবতা হলো, সৃষ্টির সবকিছু স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ইসলাম মেনে নিয়েছে। তবে মানুষের ইচ্ছাশক্তির উপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করেন। সুতরাং আমাদের জীবনকে মাওলার ইচ্ছাধীন করে জান্নাতের মুস্তাহেক হতে হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন মাওলানা গাজী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাদির আল-মাদানী, মাওলানা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ আযীযাবাদী, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকী, মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ বোখারী, মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, প্রফেসর ড. মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল হক সহ দেশের বিশিষ্ট আলেমরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কিছুদিন ধরে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা সরকার গঠনের সময় থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করে এসেছি, কারণ আমরা চেয়েছি তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কিন্তু এখন তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে বিভেদ তৈরি করা যাবে না। বিভেদের ফলে গণতন্ত্র ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে, যাতে গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া যায়।”

তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে, তাহলে মানুষ ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি বিএনপির অতীত আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের দলে পরিণত হয়েছে। আমরা সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, “নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। কুমিল্লাসহ সারাদেশে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের অনেক সহকর্মী গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট প্রদানের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে এবং সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।”

সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ গঠনের সময় এখনই। সবাই মিলে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কে দেশ পরিচালনা করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে আমাদের অটল থাকতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম