গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের বৈঠক বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে ছাত্রনেতারা আগ্রহ নিয়ে সেনাপ্রধানের কাছে গিয়েছিলেন, সেনাপ্রধান তাদের ডাকেননি। তিনি সোমবার (২৪ মার্চ) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক কর্মিসভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, “গণঅভুত্থানে সেনাপ্রধান শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। এখন তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে, আর সেনাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর পেছনে কিছু চক্রান্ত হতে পারে।” তিনি এই ব্যাপারে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এর প্রকৃত রহস্য জাতির সামনে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, “হাসনাত ও সারজিসের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে? কেন তারা সেখানে গিয়েছিলেন? এ বিষয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন। এই বিষয়ের সত্যতা জানানো জরুরি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আরও বলেন, “দেশে যে স্থিতিশীলতা এসেছে, তার জন্য মূলত সেনাবাহিনী কাজ করছে। যদি সেনাবাহিনী না থাকতো, দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারতো। আর গণঅভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান বলেছেন যে, ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।”
তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনরা বলেছেন, “সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু কোন ব্যক্তিকে এমপি-মন্ত্রী বানানোর জন্য নয়।” নুর বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হতেই হবে এবং তা হবে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু। সরকার তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে, এমনটাও তিনি দাবি করেন।
নুরুল হক নুর সাবধান করেছেন যে, “বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজন, এবং জাতির ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” তিনি আরও বলেছেন, “যেমন ১৯৭৫ সালে সামরিক বাহিনীর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছিল, তেমনি আজও সেনাবাহিনীকে টার্গেট করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।”
এছাড়া, তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম